জাতীয়

সংবিধান সংশোধনে ক্ষমতার ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় জোর

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বিশেষ কমিটি। এ লক্ষ্যে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়েছে কমিটি।

 

ইতোমধ্যে ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কমিটি।

 

কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অধিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

 

বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেন। এমনকি রাষ্ট্রপতির আদেশ কার্যকরের প্রক্রিয়াতেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা এককেন্দ্রিক হয়ে পড়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও বিভিন্ন মতামত পেয়েছে কমিটি।

 

অন্যদিকে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন।

 

সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন। তবে এ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে রয়েছে একাধিক প্রস্তাব।

 

অংশীজনদের কেউ কেউ জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া যুক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়েও মতামত এসেছে।

 

এ ছাড়া উচ্চকক্ষে উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি করে তাঁকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও মতামত দিয়েছেন কেউ কেউ।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আপাতত বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত সংগ্রহ করছে কমিটি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে খসড়া তৈরির সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রথম পর্যায়ে পাওয়া মতামতগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবগুলোর আইনি দিক বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

 

প্রয়োজন হলে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আবারও মতামত নেওয়া হতে পারে। সব প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনার পর একটি খসড়া তৈরি করবে কমিটি। এরপর তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে সংবিধান সংশোধনের খসড়া সংসদে প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হবে।

 

কমিটির এক সদস্য জানান, সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সেসব বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে একটি যুগোপযোগী সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যেই কাজ করছে কমিটি। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে খসড়া প্রস্তাব তৈরিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

 

সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে ১০টি বৈঠক করেছে। গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কমিটিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

 

তবে কমিটিতে বিরোধী দলের কোনো সদস্য নেই। বিরোধী দলের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নাম চাওয়া হলেও তারা তা দেয়নি। এর আগে বিরোধী দল কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

 

আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংক্ষিপ্ত সময়ের এ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপিত হচ্ছে না। কারণ, এখনো সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেনি বিশেষ কমিটি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : সংগৃহীত
প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়স কমানোর প্রস্তাব দেব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে কমিয়ে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব দেবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এ প্রস্তাব আনা যেতে পারে।   শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়স ৬৫ বছর করা হলে কেমন হয়, এমন প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৬ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িতে করে বঙ্গভবনে ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।   ২০০১ সালের সরকারের মেয়াদ শেষে সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের কারণে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।   তিনি বলেন, একজনকে প্রধান উপদেষ্টা করার সুযোগ তৈরির জন্য অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করা হয়েছিল।   ইতিহাস একদিন এ বিষয়টির বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করবে। তবে এখন তিনি নিজেও মনে করেন, বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর না করলেই ভালো হতো।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই সিদ্ধান্তের সুবিধাভোগী বিচার বিভাগ কখনো ৬৫ বছর বয়সে ফিরে যাওয়ার কথা বলেনি। ভবিষ্যতে অবসরের বয়সসীমা আবার ৬৫ বছর করার প্রস্তাব দেবেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, সব দোষ শুধু বিএনপির ওপর চাপানো হয়। পরবর্তী সময়ে অন্যরাও চাইলে অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারতেন। ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীকে বিচারপতি খায়রুল হক অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছিলেন। কিন্তু ওই সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের যেসব সুবিধা যুক্ত হয়েছিল, সেগুলোর একটিও বাদ দেওয়া হয়নি। অবসরের বয়সসীমাসহ বিভিন্ন সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করা হলে বর্তমানে বহাল থাকা এবং যাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত হয়নি, এমন বিচারকদের বিষয়টিও সামনে আসবে।   তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও বেশি নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার প্রস্তাব আনা ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধনে ক্ষমতার ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় জোর

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নতুন সতর্কতা: ভিসার শর্ত মেনে চলার কঠোর নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান

সংগৃহীত ছবি
ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের: সালাহউদ্দিন আহমদ

অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বাসনা ছিল, যে যেখানে যাবে, সেখানেই চিরস্থায়ী হবে।   শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।     সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যমুনার অন্দরে এক দল, যমুনার কিনারে ছিল আরেক দল। সমস্ত কিছু দখল করে, সংস্কার-বিচারের কথা বলে তাদের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া। তখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতা ছিল না।   ’ তিনি বলেন, শুধু ৩৬ দিনের আন্দোলনে জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি। ইলিয়াস এখনো ফিরে আসেননি। গুম হওয়া যারা এখনো ফিরে আসেননি, তাদের পরিবার জানে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আসতে কত ত্যাগ-তিতিক্ষা করতে হয়েছে।     স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা যেমন একক কারো কৃতিত্ব নয়, তেমনি ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানও কারো একার নয়।     কেউ যদি এর একক মালিকানা দাবি করতে থাকেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত কারো মালিকানাই থাকবে না।   তিনি আরো বলেন, ‘চব্বিশের মালিকানা যারা দাবি করতে থাকবেন, তাদের এই নবীনদের রাজনীতি নবীনই থেকে যাবে, কোনো দিন বড় হতে পারবে না। যারা ইতিহাস জানে না, তাদের সঙ্গে তর্ক করা আহাম্মকের কাজ।’     সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের প্রয়োজন নেই। সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাজ দেশসেবা করা।     রাজনৈতিক চাপ, লোভ কিংবা ভয়ের কারণে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের কারণে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আরো দুই-একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই নির্বাচনব্যবস্থা বিশুদ্ধ হয়ে উঠবে। এর মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সূচনা হয়েছে।     স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেই সরকার, যারা পাঁচ বছর পরপর ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যয় রাখি। কারণ, পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়, কোনো সরকার চিরস্থায়ী নয়। ৫১ ভাগ মানুষ যেখানে যাবে, তারাই সরকার হবে।’

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে প্যারেড গ্রাউন্ডের ফটকে দফাদারের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত

মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান শামা ওবায়েদের

ছবি: সংগৃহীত
৭ নভেম্বরের চেতনা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা: পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনাকে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রেরণা ও পথনির্দেশক হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।   শনিবার (৭ নভেম্বর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণের প্রচেষ্টা প্রতিহত হয়েছিল।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় ইতিহাসের সংকটময় সময়ে ভূমিকা রাখার জন্য দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।   সংগঠনটি জানায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তার নেতৃত্ব, সাহস ও দেশপ্রেম জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালনের চেতনাই সংগঠনটির প্রেরণার উৎস।   এ ছাড়া বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্য এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটি উল্লেখ করে, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

নভেম্বরেই দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ

0 Comments