আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের দলেই বিভক্তি, বিকল্প জোটের ভাবনায় ভ্যান্স

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গড়ার চেষ্টা করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। 

 

স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) ফক্স নিউজ ডিজিটালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নেন ভ্যান্স। এ সময় পররাষ্ট্রনীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন তিনি।

 

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রশাসনের সবাইকে একই ধরনের বার্তা দেওয়ার বিষয়ে সমন্বয় করাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে আরেকটি সূত্র বৈঠকটিকে নিয়মিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সভা বলে বর্ণনা করেছে।

 

বুধবার নিজের এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন, এই যুদ্ধের বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো সার্থক ছিল, তাহলে তিনি সেই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন। বলুন, এই মূল্য দেওয়া যৌক্তিক ছিল। একমত হোন বা দ্বিমত পোষণ করুন, অন্তত সেটি হবে সৎ আলোচনা।’

 

ভ্যান্সের ভাষায়, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা সবাই জানেন। এখন সামনে কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে সেখান থেকেই।’

 

পোস্টে ভ্যান্স জানান, তার পরিচিত একজন রাজনৈতিক জরিপকারী এবং রাজনীতির সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের একজন রিপাবলিকানদের ভোটারদের কাছে ফিরিয়ে আনতে চারটি করণীয় তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, এই চারটি বিষয়ই ভ্যান্সের ‘নিউ রাইট’ বা নতুন ডানপন্থি জোটের মূল বার্তা। এই জোট বলতে এমন একদল রিপাবলিকানকে বোঝানো হচ্ছে, যারা ট্রাম্পের মূল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের নীতির সঙ্গে একমত। তাদের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়, দেশটিকে আমেরিকান পরিবারগুলোর বসবাস ও সন্তান লালন-পালনের জন্য সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে এবং সীমান্ত বন্ধ করতে হবে।

 

ওই কর্মকর্তার মতে, এই ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প ইসরাইলের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছেন।

 

মার্কিন ডানপন্থিদের একটি অংশের কাছে ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের প্রভাব এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

 

তবে প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ভ্যান্সের এই বার্তার অর্থ ট্রাম্পের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার পর ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়ে তার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। ভ্যান্সের অবস্থান তেমন নয়। বরং ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, কিন্তু তার পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে একমত নন কিংবা নিজেদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মনে করেন, এমন রিপাবলিকানদের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চান তিনি।

 

ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ভ্যান্সের বার্তা হলো, ‘ভ্যান্সই আমাদের নেতা।’

 

বৈঠক কিংবা নির্বাচন-পরবর্তী ভ্যান্সের বক্তব্য সম্পর্কে ফক্স নিউজ ডিজিটালের মন্তব্য চাওয়ার পরও হোয়াইট হাউস কোনো জবাব দেয়নি।

 

গত দুই বছর ধরে ভ্যান্স ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের পছন্দের বক্তব্য থেকে খুব বেশি সরে যাননি। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা প্রশাসনের অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে তিনি অন্যতম। যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ইরান সংঘাত নিয়ে ভ্যান্সের নিজের বক্তব্য ও অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে।

 

চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পও স্বীকার করেছিলেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে শুরু থেকেই ভ্যান্স হয়তো খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না।

 

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ভ্যান্সকে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও আলোচনায় রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৪, আহত বেশ কয়েকজন

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি ও বিমান হামলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।   বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল।   তিনি জানান, মধ্য গাজার আল-বুরুজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১২ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। একই এলাকার কয়েক কিলোমিটার দূরে আল-জাওয়াদা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুজন।   আল-আকসা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।   এদিকে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন।   এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বক্তব্য জানতে চাইলে তারা জানায়, হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে খান ইউনিসে নারী নিহত হওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাস চুক্তি লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে হামাসের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ৬০০ জন নিহত হয়েছেন।   সূত্র: এএফপি

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

চার দেশের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান

সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্পের দলেই বিভক্তি, বিকল্প জোটের ভাবনায় ভ্যান্স

এআই নির্মিত প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাশুল, সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হলো যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব হারানোর শঙ্কা ইউরোপের: মেলোনি

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় ইউরোপের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি   তার মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং পৃথক পৃথক আলোচনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে একজন একক প্রতিনিধি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ওই প্রতিনিধির হাতে আলোচনার জন্য সুস্পষ্ট ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।   বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা বলেন মেলোনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   চিঠিতে মেলোনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও পক্ষের উদ্যোগে একাধিক আলোচনার কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এতে ইউরোপের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে এবং মনে হচ্ছে, কোনো সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপ কার্যত গুরুত্ব হারাতে পারে।   তিনি বলেন, আলোচনার ধরন বা কাঠামোর চেয়ে চূড়ান্ত ফলাফল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ফলাফলে কার্যকর প্রভাব রাখতে হলে ইউরোপকে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে। এ জন্য কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তাঁর আলোচনার ক্ষমতা কতটুকু হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   মেলোনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি নিজে কিংবা ইতালির জন্য আলোচনার টেবিলে কোনো বিশেষ আসন চাইছেন না। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়া কোনো প্রতিনিধি সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা করলে তা মেনে নেবে না রোম।   ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। কোথাও কয়েকটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠক করছেন, কোথাও ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। আবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর মধ্যে পৃথক আলোচনা চলছে। মেলোনির মতে, এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় ইউরোপের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠছে।   তিনি বলেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এমন পক্ষগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে, যারা যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চায়। মানুষের জীবন এবং ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত থাকায় এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তিন দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।   এর আগে বুধবার ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রাসেলসে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও ন্যাটোর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পৃথক আলোচনা হয়েছে।   মেলোনি চান, আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় কাউন্সিলের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসুক। এরপর যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ডিসেম্বরের সম্মেলনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।   ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় আর্থিক ও সামরিক সহায়তাকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় জোটটির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইউরোপের অবস্থান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মেলোনির সাম্প্রতিক চিঠি সেই উদ্বেগকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প, হরমুজ প্রণালিতে জ্বলছে ৫ ট্যাংকার

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ১৯টি বিমানে বোমা হামলার হুমকি, ভুয়া বলছে যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত

মদিনার দিকে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদি জোটের

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। নবনির্বাচিত নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে দুই দিনব্যাপী পরামর্শের অংশ হিসেবে বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বৈঠক করেন হারজগ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা অব্যাহত থাকে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন সংসদ সদস্যকে প্রথমে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।   টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ও ওতজমা ইয়েহুদিত তাকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে ইয়াশার, দ্য ডেমোক্র্যাটস, বি’ইয়াচাদ ও রা’আম দল গিদেওন সা’আরের পরিবর্তে গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কোনো প্রার্থীর নাম সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টও এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসন ৫৩টি। অন্যদিকে আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানানো বিরোধী দলগুলোর আসন ৪৮টি। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের মোট আসন ১৯টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ আসনের সমর্থন। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম বিরোধী জোটের সঙ্গে যুক্ত হলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আসনের সমর্থন তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নির্বাচিত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী দুই জাহাজ ও টাগবোটে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

ভ্যান্সকে জুয়াড়ির সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ ইরানের স্পিকারের

ছবি: সংগৃহীত

লাখো মানুষের বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা

0 Comments