আন্তর্জাতিক

সবচেয়ে উঁচুতে বিমান অবতরণ করিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের দাবি ভারতের

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করে। ছবি: এক্স
পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করে। ছবি: এক্স

পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ)। বাহিনীর দাবি, বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ বিমানের এটিই সর্বোচ্চ উচ্চতার অবতরণ।


এ অর্জন দুর্গম উচ্চ উচ্চতায় ভারী পরিবহন বিমান পরিচালনার সক্ষমতা তুলে ধরেছে এবং অঞ্চলটিতে ভারতের কৌশলগত আকাশপথে পরিবহনক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে।


এক্স-এ দেওয়া পোস্টে আইএএফ লেখে, ১৩,৬২৯ ফুট। বিমান চলাচলের ইতিহাসে নতুন উচ্চতা। পোস্টে আরও বলা হয়, ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি আইএল-৭৬এমডি ন্যোমায় সফল অবতরণের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ বিমানের সর্বোচ্চ উচ্চতার অবতরণ।


প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) কাছে অবস্থিত ন্যোমা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী বিমানঘাঁটিগুলোর একটি। অগ্রবর্তী এলাকায় সেনা, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দিয়ে এটি সামরিক অভিযানে সহায়তা করে।


এত উচ্চতায় ভারী বিমান নামানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। উঁচু এলাকায় পাতলা বাতাস ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা, ওঠার শক্তি (লিফট) ও অবতরণের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। এ জন্য সতর্ক পরিকল্পনা ও অসাধারণ উড়ান-দক্ষতা প্রয়োজন। বাহিনী জানায়, বিমানটির স্থায়ী সক্ষমতার এক অসাধারণ প্রদর্শন, যার পেছনে রয়েছে ক্রুদের অসামান্য দক্ষতা, নিখুঁত নির্ভুলতা ও পেশাদারি মনোভাব।


আইএএফ জানায়, এ সফল অভিযান ক্রুদের নির্ভুলতা ও পেশাদারির পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিমান চলাচল পরিবেশে কাজ করার আইএল-৭৬এমডির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। রুশ বংশোদ্ভূত আইএল-৭৬এমডি চার ইঞ্জিনের একটি ভারী পরিবহন বিমান, যা কয়েক দশক ধরে আইএএফের আকাশপথে পরিবহন বহরে সেবা দিয়ে আসছে। এটি সামরিক কর্মী, ভারী সরঞ্জাম, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় রসদ দীর্ঘ দূরত্বে বহন করতে পারে।


এ সফল অবতরণ দুর্গম ভূখণ্ডে সামরিক অভিযানে সহায়তায় বিমানটির ভূমিকা এবং উচ্চ উচ্চতার এলাকায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ভারতীয় সক্ষমতা তুলে ধরেছে। আইএএফ বলেছে, এক মাইলফলক, যা ভারতের কৌশলগত আকাশপথে পরিবহন সক্ষমতাকে আরও জোরদার করেছে। সীমা ঠেলে এগোনো। সীমারেখা নতুন করে টানা। ইতিহাস গড়া।


সূত্র: উইয়ন নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করে। ছবি: এক্স
সবচেয়ে উঁচুতে বিমান অবতরণ করিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের দাবি ভারতের

পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিতে ১৩ হাজার ৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি ভারী পরিবহন বিমান সফলভাবে অবতরণ করিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ)। বাহিনীর দাবি, বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ বিমানের এটিই সর্বোচ্চ উচ্চতার অবতরণ। এ অর্জন দুর্গম উচ্চ উচ্চতায় ভারী পরিবহন বিমান পরিচালনার সক্ষমতা তুলে ধরেছে এবং অঞ্চলটিতে ভারতের কৌশলগত আকাশপথে পরিবহনক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে আইএএফ লেখে, ১৩,৬২৯ ফুট। বিমান চলাচলের ইতিহাসে নতুন উচ্চতা। পোস্টে আরও বলা হয়, ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি আইএল-৭৬এমডি ন্যোমায় সফল অবতরণের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো স্থানে এ বিমানের সর্বোচ্চ উচ্চতার অবতরণ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) কাছে অবস্থিত ন্যোমা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী বিমানঘাঁটিগুলোর একটি। অগ্রবর্তী এলাকায় সেনা, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দিয়ে এটি সামরিক অভিযানে সহায়তা করে। এত উচ্চতায় ভারী বিমান নামানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। উঁচু এলাকায় পাতলা বাতাস ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা, ওঠার শক্তি (লিফট) ও অবতরণের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। এ জন্য সতর্ক পরিকল্পনা ও অসাধারণ উড়ান-দক্ষতা প্রয়োজন। বাহিনী জানায়, বিমানটির স্থায়ী সক্ষমতার এক অসাধারণ প্রদর্শন, যার পেছনে রয়েছে ক্রুদের অসামান্য দক্ষতা, নিখুঁত নির্ভুলতা ও পেশাদারি মনোভাব। আইএএফ জানায়, এ সফল অভিযান ক্রুদের নির্ভুলতা ও পেশাদারির পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিমান চলাচল পরিবেশে কাজ করার আইএল-৭৬এমডির সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। রুশ বংশোদ্ভূত আইএল-৭৬এমডি চার ইঞ্জিনের একটি ভারী পরিবহন বিমান, যা কয়েক দশক ধরে আইএএফের আকাশপথে পরিবহন বহরে সেবা দিয়ে আসছে। এটি সামরিক কর্মী, ভারী সরঞ্জাম, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় রসদ দীর্ঘ দূরত্বে বহন করতে পারে। এ সফল অবতরণ দুর্গম ভূখণ্ডে সামরিক অভিযানে সহায়তায় বিমানটির ভূমিকা এবং উচ্চ উচ্চতার এলাকায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ভারতীয় সক্ষমতা তুলে ধরেছে। আইএএফ বলেছে, এক মাইলফলক, যা ভারতের কৌশলগত আকাশপথে পরিবহন সক্ষমতাকে আরও জোরদার করেছে। সীমা ঠেলে এগোনো। সীমারেখা নতুন করে টানা। ইতিহাস গড়া। সূত্র: উইয়ন নিউজ

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে কি ফের হামলা চালাবেন ট্রাম্প, বাড়ছে জল্পনা?

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে সহায়তার অভিযোগ, কানাডার ৮ প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ থামাতে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেন-রাশিয়ার নেতারা

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, কঠিন পরীক্ষায় প্রেসিডেন্ট হারজগ

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনও পক্ষই পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।    ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট- দু’জনই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন।   রবিবার সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে হারজগের। পার্লামেন্টের ১২০ সদস্যের মধ্যে ৬৭ জন আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন। তবে আইজেনকটের এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা এসেছে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থনে। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এসব দল রেকর্ড ১৯টি আসন পেলেও তাদের নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন আইজেনকট।   বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের পরামর্শ বৈঠক শেষ হয়। তবে হারজগ এখনও কাউকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাননি। তার মতে, আসনসংখ্যার হিসাবে পরিস্থিতি স্পষ্ট মনে হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ ও পারস্পরিক বিরোধের কারণে সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে।   ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোটের আসন ৫৩টি। আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া চারটি ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলের আসন ৪৮টি। অন্যদিকে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন ১৯টি।   আইজেনকট আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে সরকারে নিতে রাজি নন। তবে উগ্র অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রশ্নে ছাড় দিলে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস- এই দুই ধর্মীয় দলের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তার আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছাবে। যদিও শাস ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছে।   অন্যদিকে নেতানিয়াহুকে সরকার গঠন করতে হলে বিরোধী শিবিরের কোনও দলকে নিজের পক্ষে টানতে হবে। দুই নেতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীত্ব ভাগাভাগি করে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর অধীনে সরকারে যোগ দিতে অনিচ্ছুক তার বিরোধী অনেক নেতা।   আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর মধ্যে রা’আম আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী। তবে জয়েন্ট লিস্ট সরকারে যোগ না দিলেও বাইরে থেকে তাকে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছে। এসব দলের সমর্থনের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও উসকানি বন্ধ, অপরাধ দমন এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।   সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া প্রার্থী প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে তা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তিনি ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় প্রার্থীকে একইভাবে ২৮ দিন দেওয়া হবে। এরপরও সমাধান না হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় কাউকে মনোনীত করতে পারবেন। শেষ দফায় তিনি ১৪ দিন সময় পাবেন।   তাতেও সরকার গঠন সম্ভব না হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু।   ইসরায়েলবিষয়ক বিশ্লেষক নেহরু জামহুরের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়াই সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি। তার দাবি, নতুন নির্বাচন হলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করা এবং ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু। সূত্র: আল-জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনে বড় ধাক্কা, পদত্যাগ করলেন তিন কর্মকর্তা

যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য পেতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

তারেক রহমানের জায়গায় শেখ হাসিনার নাম, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদের ভুলে অস্বস্তিতে জাপানি মন্ত্রী

ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর অটো-অনুবাদ ফিচারের ভুলে বড় ধরনের কূটনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী রিয়োসেই আকাজাওয়া।    গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন রিয়োসেই আকাজাওয়া। বৈঠকের ছবিসহ তিনি জাপানি ভাষায় একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে স্পষ্টভাবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু এক্স-এর স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ ফিচার সেই পোস্টটির ইংরেজি সংস্করণে তারেক রহমানের পরিবর্তে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম বসিয়ে দেয়।   শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাপানি মন্ত্রী আকাজাওয়া বলেন, ‘এটি আসলে অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। এই ভুলের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মনে এমন ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে যে, জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী হয়তো বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নামই জানেন না!’   জাপানি মন্ত্রী জানান, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও দু’বার এক্স-এর অনুবাদের কারণে তিনি এমন বিপাকে পড়েছেন: ১. কুয়েতের তেলমন্ত্রী তারেক আল-রুমির সঙ্গে অনলাইন বৈঠকের পোস্টটি অনূদিত হয়ে কাতারের জ্বালানি মন্ত্রীর নাম দেখায়। ২. মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিকের সঙ্গে বৈঠকের পোস্টে অনুবাদের সময় ভুল নাম উঠে আসে।   এভাবে তিন-তিনবার একই ভুলের মুখোমুখি হয়ে দ্রুত প্ল্যাটফর্মটির অনুবাদ ফিচারটি সংশোধন ও পর্যালোচনা করার জোর দাবি জানান মন্ত্রী আকাজাওয়া। তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি যোগাযোগ করলেও এক্স-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: কুয়েত টাইমস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের ৭ শর্ত

ছবি: সংগৃহীত

এক শতকে জেরুজালেমে খ্রিস্টান জনসংখ্যার হার কমেছে ২৩.৪৪ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

আরও চার দেশের নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসার সুযোগ বাড়াল সৌদি আরব

0 Comments