সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণে ‘ব্যাডটাচ’-এর অভিযোগ তুলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তোলা তার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশ্য নেটিজেনদের বেশিরভাগই সেই সাংবাদিকের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পরীমনিকে ওই সাংবাদিকের দ্বারা কোনো ‘ব্যাডটাচ’-এর শিকার হতে দেখেছেন এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও পাওয়া যায়নি।
ঠিক এই সময়েই পরীমনির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আরেক আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। তবে পরীমনির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে প্রভা নিজেও পড়েছেন সমালোচনার মুখে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সাদিয়া জাহান প্রভা। ভিডিওতে তাকে বেশ আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ মনে হয়েছে।
শুরুতেই প্রভা বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে, যা এড়িয়ে না গেলে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারি না, অপরাধী মনে হয়, বিবেকের কাছে ছোট হয়ে যাই।’ এরপরই তিনি পরীমনির ঘটনার সূত্র ধরে ওই সাংবাদিককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা তাকে সমর্থন করবেন না। আমরা এটার মুখোমুখি হই।’
পরীমনিকে সমর্থন জানাতে গিয়ে প্রভা নিজের জীবনেরও একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে তিনিও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
ঘটনা বর্ণনা করে প্রভা বলেন, ‘আমি একটা প্রসাধনীর ফেয়ার ইভেন্টে গিয়েছিলাম। তখন কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে ঘিরে ধরেছিলেন।’ খানিকটা থেমে নিজের রাগ চেপে রেখে তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বাস করেন, তিনি যদি সাংবাদিক না হতেন, আমার নিজের স্যান্ডেল দিয়ে তাকে প্রহার করতাম! আমি তাকে হেসে হেসেই বলছিলাম, আপনি বুঝতে পারছিলেন না, আমি আনকমফোর্টেবল ফিল করছি?’
প্রভার অভিযোগ, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এক সাংবাদিক একাধিক মাইক্রোফোন নিয়ে তার শরীরের প্রায় কাছাকাছি (বুকের দিকে ইঙ্গিত করে) চলে এসেছিলেন। তিনি যতই পেছনের দিকে সরছিলেন, ওই সাংবাদিকের হাত ততই তার কাছাকাছি আসছিল। অভিনেত্রীর মতে, ওই মুহূর্তে একটু এদিক-সেদিক নড়াচড়া হলেই একটি ‘ব্যাডটাচ’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ঘটে যেতে পারত।
পরীমনি কাণ্ডে ওই সাংবাদিককে বয়কট বা তার পাশে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত দাবি করেন প্রভা। কিন্তু তার এই সহানুভূতিশীল ভিডিও বার্তাটি সাধারণ নেটিজেনদের অতটা মন জয় করতে পারেনি। বরং প্রভার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যঘরে শুরু হয়েছে তীর্যক সমালোচনা।
অনেকেই প্রভার এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণে ‘ব্যাডটাচ’-এর অভিযোগ তুলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তোলা তার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশ্য নেটিজেনদের বেশিরভাগই সেই সাংবাদিকের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পরীমনিকে ওই সাংবাদিকের দ্বারা কোনো ‘ব্যাডটাচ’-এর শিকার হতে দেখেছেন এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও পাওয়া যায়নি। ঠিক এই সময়েই পরীমনির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আরেক আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। তবে পরীমনির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে প্রভা নিজেও পড়েছেন সমালোচনার মুখে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সাদিয়া জাহান প্রভা। ভিডিওতে তাকে বেশ আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ মনে হয়েছে। শুরুতেই প্রভা বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে, যা এড়িয়ে না গেলে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারি না, অপরাধী মনে হয়, বিবেকের কাছে ছোট হয়ে যাই।’ এরপরই তিনি পরীমনির ঘটনার সূত্র ধরে ওই সাংবাদিককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা তাকে সমর্থন করবেন না। আমরা এটার মুখোমুখি হই।’ পরীমনিকে সমর্থন জানাতে গিয়ে প্রভা নিজের জীবনেরও একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে তিনিও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ঘটনা বর্ণনা করে প্রভা বলেন, ‘আমি একটা প্রসাধনীর ফেয়ার ইভেন্টে গিয়েছিলাম। তখন কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে ঘিরে ধরেছিলেন।’ খানিকটা থেমে নিজের রাগ চেপে রেখে তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বাস করেন, তিনি যদি সাংবাদিক না হতেন, আমার নিজের স্যান্ডেল দিয়ে তাকে প্রহার করতাম! আমি তাকে হেসে হেসেই বলছিলাম, আপনি বুঝতে পারছিলেন না, আমি আনকমফোর্টেবল ফিল করছি?’ প্রভার অভিযোগ, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এক সাংবাদিক একাধিক মাইক্রোফোন নিয়ে তার শরীরের প্রায় কাছাকাছি (বুকের দিকে ইঙ্গিত করে) চলে এসেছিলেন। তিনি যতই পেছনের দিকে সরছিলেন, ওই সাংবাদিকের হাত ততই তার কাছাকাছি আসছিল। অভিনেত্রীর মতে, ওই মুহূর্তে একটু এদিক-সেদিক নড়াচড়া হলেই একটি ‘ব্যাডটাচ’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ ঘটে যেতে পারত। পরীমনি কাণ্ডে ওই সাংবাদিককে বয়কট বা তার পাশে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত দাবি করেন প্রভা। কিন্তু তার এই সহানুভূতিশীল ভিডিও বার্তাটি সাধারণ নেটিজেনদের অতটা মন জয় করতে পারেনি। বরং প্রভার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যঘরে শুরু হয়েছে তীর্যক সমালোচনা। অনেকেই প্রভার এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ ঢাকায় পোল্যান্ডের সমৃদ্ধ শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের দর্শক ও পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দিতে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হবে পোলিশ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও নোবেলজয়ী পোলিশ সাহিত্যিকদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা। ‘Polish Culture in Bangladesh’ শীর্ষক এ আয়োজন যৌথভাবে উপস্থাপন করছে নয়াদিল্লির পোলিশ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশে পোল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনস্যুলেট জেনারেল। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রথম দিনের আয়োজন ৬ নভেম্বর, এদিন সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে বিশ্বখ্যাত পোলিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা আন্দ্রেজ ভাইদা (Andrzej Wajda) পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আফটারইমেজ’ (Afterimage/Powidoki)। ২০১৬ সালে নির্মিত চলচ্চিত্রটি পোল্যান্ডের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ভ্লাদিস্লাভ স্ত্রেমিনস্কির (Władysław Strzemiński) জীবন ও শিল্পসাধনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত। চলচ্চিত্রটিতে একজন শিল্পীর সৃজনশীল স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত আদর্শ এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সঙ্গে শিল্পের জটিল সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। শিল্প ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও একজন শিল্পীর নিজস্ব আদর্শে অবিচল থাকার সংগ্রাম চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রধান বিষয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। তাঁর আলোচনায় চলচ্চিত্রটির শিল্পভাবনা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং চলচ্চিত্রমাধ্যমে স্বাধীন সৃজনশীলতার গুরুত্ব উঠে আসবে। এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেবেন ইতিহাসবিদ ও শিল্পসমালোচক মোস্তফা আনোয়ার প্রিন্স। তিনি চলচ্চিত্রটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শিল্পভাবনা এবং পোল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে ৭ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ‘Literary Talk: Nobel Laureates of Poland’ শীর্ষক সাহিত্য আলোচনা। বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে পোলিশ সাহিত্যের একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। দেশটির নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের রচনায় মানবিক মূল্যবোধ, ইতিহাস, স্বাধীনতা, যুদ্ধ, স্মৃতি, সমাজ ও ব্যক্তিমানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। হেনরিক সিয়েনকিয়েভিচ, ভ্লাদিস্লাভ রেইমন্ট, চেস্লাভ মিউওশ, ভিস্লাভা শিম্বোরস্কা এবং ওলগা তোকারচুকের মতো নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম পোলিশ সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশের স্বনামধন্য অনুবাদক, কবি ও সাহিত্যসমালোচকগণ ‘Literary Talk: Nobel Laureates of Poland’ পর্বে আলোচনায় অংশ নেবেন। তাঁদের অংশগ্রহণে পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের সাহিত্যদর্শন, সৃজনশীলতা, বিশ্বসাহিত্যে তাঁদের অবদান এবং অনুবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা-- এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী, সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের পোল্যান্ডের শিল্প-সাহিত্য সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেবে।
জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা মীর সাব্বিরের পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘খুব চেনা গল্প’। পারিবারিক সম্পর্ক, ভালোবাসা ও মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে তৈরি এই নাটকটি আগামী নভেম্বর থেকে এমএসএম ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হবে। মীর সাব্বিরের নিজস্ব গল্প ভাবনায় নির্মিত ধারাবাহিকটির চিত্রনাট্য লিখেছেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ। এতে অভিনয় করেছেন ডলি জহুর, শাহেদ আলী, দীপা খন্দকার, কাজী রাজু, তাহমিনা সুলতানা মৌসহ একঝাঁক অভিনয়শিল্পী। নতুন নাটক প্রসঙ্গে মীর সাব্বির জানিয়েছেন, মানুষের প্রতিদিনের জীবন, পারিবারিক বন্ধন ও মূল্যবোধের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এই ধারাবাহিকে। পরিচিত জীবনের অনেক ঘটনা ও সম্পর্কের গুরুত্ব মানুষ প্রায়ই উপলব্ধি করতে পারে না। সেই চেনা অনুভূতিগুলোই নাটকের গল্পে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ডলি জহুর। মীর সাব্বিরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, অভিনেতা হিসেবে সাব্বির যেমন দায়িত্বশীল, পরিচালক হিসেবে তার আন্তরিকতা ও মনোযোগ আরও বেশি। এর আগেও তার পরিচালিত একাধিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি। অন্যদিকে অভিনেতা শাহেদ আলীও মীর সাব্বিরের পরিচালনাশৈলীর প্রশংসা করেছেন। তার মতে, কাজের প্রতি সাব্বির অত্যন্ত মনোযোগী ও নিবেদিতপ্রাণ। পারিবারিক জীবনের পরিচিত ঘটনা ও সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে নির্মিত ‘খুব চেনা গল্প’ দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আবেগের প্রতিচ্ছবি।