আবহাওয়া

ঢাকার আকাশ। ছবি : সংগৃহীত
আজ ঢাকায় কেমন থাকবে তাপমাত্রা

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, এ সময় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৯ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
১৯ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, সাগরে নিম্নচাপের প্রভাব

কমছে না শীতের দাপট। দেশের ১৯ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আজ রোববারও শীতের এই তীব্রতা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তরাঞ্চল থেকে উপকূলীয় এলাকা পর্যন্ত সর্বত্র কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারা দেশের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। রোববার রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সোমবার দিনের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গল ও বুধবারেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি বর্তমানে দুর্বল হয়ে উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করছে। এর প্রভাবে দেশের আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে, তবে বড় কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কিছুটা বেড়েছে, ফলে কোথাও কোথাও শীতের অনুভূতি তুলনামূলক কম লাগতে পারে। তবে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ রোববারও অব্যাহত থাকবে। জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের প্রভাব থাকবে বলেও তিনি জানান। অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, রোববার তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সোমবার থেকে আবার কমতে শুরু করবে। আগামী দুদিন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শৈত্যপ্রবাহ পুরোপুরি কেটে যাবে না। তার মতে, ২০ জানুয়ারির পর থেকে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় এলাকাজুড়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে হলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় টানা ছয় দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় পুরো জেলা কাঁপছে। এদিকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে বীজতলার চারাগুলো হলদে হয়ে যাচ্ছে, বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও চারা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে নির্ধারিত সময়ে ধান রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা জানান, কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না পাওয়া এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় চারাগুলো স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় শীতের প্রভাব আরও বেড়েছে। পৌর এলাকার কৃষক শরিদুল ইসলাম বলেন, “এই শীত আর কুয়াশায় চারা টিকছে না। প্রতিদিন মাঠে এসে দেখি ক্ষতি বাড়ছে। এমন থাকলে নতুন করে বীজতলা বানাতে হবে।” কৈমারী ইউনিয়নের কৃষক কাজি আখেরুজ্জামান অন্তু বলেন, “পলিথিন আর খড় দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছি, তবুও তেমন কাজে আসছে না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।” নেকবক্ত ইউনিয়নের কৃষক আজহার জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশায় তার বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেছে। তার ভাষায়, “বীজতলাই ঠিক না থাকলে পরে ধান রোপণ করাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।” কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জলঢাকা উপজেলায় প্রায় ৮৪২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে। তবে রোদ উঠলে ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে। তিনি বীজতলার সুরক্ষায় বিকেলে হালকা সেচ দেওয়া, সকালে জমির পানি বের করে দেওয়া, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা এবং প্রয়োজন হলে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস

রাজধানী ঢাকায় আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। একই সঙ্গে শীতের অনুভূতি কিছুটা বেশি থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও সার্বিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, যা দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৮ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এ ছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৯ মিনিটে এবং আগামীকাল ভোরে সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৪৪ মিনিটে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
শৈত্যপ্রবাহ বইছে ২৪ জেলায়, সপ্তাহ জুড়ে থাকবে শীতের দাপট

তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ, হিমেল হাওয়ায় নাকাল মানুষ।২৪ জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিন শীত কমার সম্ভাবনা নেই। । অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকবে। এ সময় এর বিস্তৃতি কমবেশি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাতদিন দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভবনা নেই । যেসব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে তার মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া। পাশাপাশি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ পাঁচ দিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকেতে বারে।মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পাশাপাশি সারাদেশের রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ কিছু কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। রোববার ( ১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আগামী সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।  এ কয়েকদিন সারাদেশের রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

ঢাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আকাশ মূলত শুষ্ক থাকবে এবং মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দক্ষিণ/দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬–১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।   ঢাকায় সকালকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৮৮ শতাংশ। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দেশের জন্য দেওয়া ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড, ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস

হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে শীতে তাপমাত্রা কমে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, যা চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এটি চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১০–১২ কিলোমিটার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ। উত্তরের হিমেল বাতাস ও কুয়াশার কারণে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। অনেক যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ঘন কুয়াশার চাদরে প্রকৃতি ঢাকা পড়লেও জীবিকার তাগিদে সাত সকালেই কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দুদিন ধরে বয়ে চলা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়েছে। মাঘ মাসের এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ছিন্নমূল, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। পাথর শ্রমিক সোহরাব আলী বলেন, রাত থেকেই কুয়াশা বৃষ্টির মতো ঝরছে। প্রচণ্ড শীত আর ঠান্ডা বাতাসে সকালে কাজ করা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। হাত একেবারে বরফ হয়ে যাচ্ছে। কাজ না করলে খাবার জুটবে না, তাই বাধ্য হয়েই কাজে নামতে হয়। উপজেলা সদরের ভ্যানচালক আইনুল হক বলেন, সকালে ভ্যান নিয়ে বের হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরের কনকনে বাতাসে ভ্যান চালানোই দায় হয়ে পড়ছে। এদিকে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার (০৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন তা কমে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। বর্তমান তাপমাত্রা অনুযায়ী তেঁতুলিয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শৈত্যপ্রবাহ–কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।   বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলাসহ রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এদিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি সারা দেশে কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এদিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।   রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় শীতের দাপট, তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিতে

হিমেল হাওয়া ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে ঢাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে কুয়াশার দাপট। সব মিলিয়ে রাজধানীতে জেঁকে বসেছে শীত। আজ বুধবার সকালে ঢাকায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১২ ডিগ্রির ঘরে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সকাল ৬টায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯১ শতাংশ।   ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নওগাঁয় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

নওগাঁয় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে জেলার আবহাওয়া অফিস এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে।   তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে এ জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের কারণে দিনের বেলাতেও অনেক সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, যখন কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাড়কাঁপানো শীত, ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সতর্কতা জারি

দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ আরও দীর্ঘ সময় চলতে পারে। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত ও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিডব্লিউওটি ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, দুপুরের পর দেশের অধিকাংশ এলাকায় কুয়াশা সরেছে এবং রোদের দেখা মিলেছে। তবে বগুড়া, গাইবান্ধা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় কুয়াশার প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আজ রাতে কুয়াশা আবার বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে কুয়াশা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, ফলে বুধবার (৭ জানুয়ারি) পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত রোদের দেখা মিলতে পারে। অন্যদিকে, দেশের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে কুয়াশার প্রভাব তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে কুয়াশা কমে আসার কারণে আগামী দুই দিন রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। যদিও মাঝে মাঝে তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে, তবে ১০ ও ১১ জানুয়ারি রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে দেশজুড়ে ‘কনকনে’ শীত অনুভূত হবে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় কোথাও কোথাও রাতের তাপমাত্রা ৬-৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিডব্লিউওটি সবাইকে শীতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তাপবস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। শীত ও কুয়াশার এই তীব্রতায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। হাড়কাঁপানো শীতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য সব সময় সচেতন থাকতে হবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে, শীত নিয়ে নতুন বার্তা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্নের কাছাকাছি। হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি, বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাত ও ভোরের দিকে কুয়াশা ঘন হচ্ছে এবং শীতের অনুভূতি বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও বাতাসে ঠান্ডার কারণে শীতের প্রভাব কমছে না। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিম্নআয়ের মানুষেরা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে বেশি কষ্টে রয়েছেন। এদিকে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগ জানিয়েছে, শীতার্তদের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ চলাকালে সবাইকে গরম কাপড় পরা, ভোরে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে শীতের এই পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মৃদু শৈত্যপ্রবাহে পঞ্চগড়, তাপমাত্রা নেমেছে ৮ ডিগ্রিতে

তীব্র শীত ও কনকনে হিমশীতল বাতাসে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিম বাতাসে গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। আজ হঠাৎ করে তা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রির ঘরে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।   মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। এর আগের দিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, হিমালয় সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় চারদিক কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিনমজুর, চা শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা শীতের তীব্রতায় কাজে যেতে পারছেন না। ফলে তাদের দৈনিক আয় কমে গেছে। শীতের প্রকোপে জেলার শীতার্ত ও ছিন্নমূল মানুষের রাত কাটছে চরম কষ্টে। প্রতিটি রাত যেন তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এদিকে টানা শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।   আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিন সকাল ও সন্ধ্যার পর ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত, সূর্যের দেখা নেই

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। রোদের উত্তাপ না থাকায় উত্তরের মৃদু হিমেল বাতাস ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। কনকনে ঠাণ্ডা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। একই সঙ্গে হাসপাতালে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।   এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে উত্তরের জেলা পাবনা। গতকাল সোমবার পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টায় সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালও দেশের এক বিভাগ ও চার জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলা এবং রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ছিল। আজ মঙ্গলবারও তা অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে, যদিও কোথাও কোথাও সূর্যের দেখা মিলতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আজ ও আগামীকাল মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পাবনা: টানা শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। গ্রাম ও শহরের অলিগলিতে আগুন জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে জেঁকে বসেছে শীত। এক দিনের ব্যবধানে স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমেছে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি কম। এক দিনে এত বড় তাপমাত্রা হ্রাস এই শীতে বিরল। প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় শীতের পোশাক কিনতে বিভিন্ন বাজারে ছিল ভিড়। বগুড়া: সারা দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। দিনভর ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূলরা। ঠাণ্ডাজনিত জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গতকাল বগুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন। চুয়াডাঙ্গা: এক দিনের বিরতির পর আবার মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। দিনাজপুর ও বীরগঞ্জ: দিনাজপুরে এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। কুয়াশা ও তীব্র শীতে জনজীবন কাহিল। বীরগঞ্জে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূলরা। আশ্রয়হীন পথের কুকুর ও তাদের ছানাদের অবস্থাও করুণ। গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী): ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। টানা প্রায় সাত ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। ধামইরহাট (নওগাঁ): শীতার্ত ভিক্ষুকদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে ৫৫ জন ভিক্ষুকের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।   এ ছাড়া রংপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, গোপালগঞ্জ, জামালপুর, ফরিদপুরের মধুখালী এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শীতে মানুষের দুর্ভোগের খবর পাওয়া গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় আংশিক রোদ, কুয়াশার আভাস

ঢাকায় দিনের বেলায় কিছুটা রোদের দেখা মিললেও আগামী কয়েক ঘণ্টায় আবারও কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য দেওয়া হয়। ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৩ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যাস্ত আজ সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে। গত ছয় ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শৈত্যপ্রবাহের দাপটে দেশ, আজ তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে

শৈত্যপ্রবাহের কারণে সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন বিভাগে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। তিনি জানান, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে আগত কুয়াশার বলয় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করেছে। এর ফলে রোববার সন্ধ্যার পর থেকে দেশব্যাপী কুয়াশার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সকাল ৬টার দিকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। তিনি আরও জানান, কুয়াশার চিত্র বিশ্লেষণে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর কুয়াশার উপস্থিতি দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় ঘন থেকে অতিঘন কুয়াশা বিস্তারের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্য তিন বিভাগের জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ঘনত্বের কুয়াশা থাকতে পারে। সোমবার সকালে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় দুপুর ২টার আগে সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে সকাল ১০টার আগেও সূর্যের দেখা মিলতে নাও পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় শীত আরো বাড়ল, তাপমাত্রা নেমে ১২.৩°

রাজধানী ঢাকায় আরও কমেছে তাপমাত্রা। তার সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও আর্দ্র বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় নগরবাসী তীব্র শীত অনুভব করছেন। তবে আজ রোববার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এ সময় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। এ ছাড়া উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পৌষের শীতেই কাঁপছে দেশ

সারা দেশে অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে দিনের তাপমাত্রা। সূর্যের দেখা প্রায় মিলছেই না। চারপাশজুড়ে ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় ঢাকা পড়েছে জনজীবন। পৌষের এমন শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না, ফলে কমে গেছে স্বাভাবিক চলাচল। শীতজনিত সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষ।   ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগে বারবার বিঘ্ন ঘটছে। বিপাকে পড়েছেন খামারি ও কৃষকরা; ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। শীতের পোশাকের বিক্রি বাড়লেও ঠান্ডার কারণে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকান নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশে শীতকালের সময়কাল কমে গেলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগে বৃষ্টিপাত হলে কুয়াশা কেটে আকাশ পরিষ্কার হতো। কিন্তু বর্তমানে তীব্র বায়ুদূষণের কারণে কুয়াশা সহজে কাটছে না। সহসা বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে ৪ থেকে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২–৩টি মাঝারি এবং একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কুয়াশাবলয় দীর্ঘস্থায়ী হওয়া এবং সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে না পৌঁছানোর কারণেই শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। জানুয়ারি মাসজুড়ে এই পরিস্থিতি ওঠানামা করতে পারে। আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, দেশের শীতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। ঘন কুয়াশার প্রবণতা বেড়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় যে মাত্রার ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে, তা গত ২০ বছরে দেখা যায়নি। সেদিন ঢাকার তাপমাত্রা নেমে আসে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যেখানে কয়েক দিন আগেও তাপমাত্রা ছিল ২৮–২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও বলেন, শৈত্যপ্রবাহ নিজেই বড় সমস্যা নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এবং সূর্যের আলো পাওয়া গেলে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নেমে এলেও শীত কম অনুভূত হয়। আশা করা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। এদিকে শনিবার দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত রানওয়ে দৃশ্যমান না থাকায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণে সমস্যা দেখা দেয়। প্রায় এক ডজন ফ্লাইট ২ থেকে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় পৌঁছায়। তীব্র শীতের প্রভাবে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মেহনাজ বলেন, এ সময় সবাইকে পর্যাপ্ত শীতের পোশাক ব্যবহার করতে হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাদ্য গ্রহণ জরুরি। কৃষকরাও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কৃষক মো. সালিম জানান, তীব্র শীতে ইরি ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক চারা সাদা হয়ে মারা যাচ্ছে, যা রোপণ মৌসুমে সংকট তৈরি করতে পারে। উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সূর্যের দেখা না মেলায় এবং কুয়াশা ঝরতে থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং নওগাঁ-জয়পুরহাট অঞ্চলে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।   বরিশালেও তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতা ছিল খুবই কম। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ডিসেম্বরজুড়ে বরিশালে সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

সারা দেশে আজও ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে বিশেষ করে উত্তরের জনপদে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা তিন দিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক মানুষ। শুক্রবার দেশের ২১টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই শীত নিয়ে নতুন করে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে আবারও শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে দেশের কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এদিকে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। শুক্রবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ মৌসুমে চার দিন যশোরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও বিমান যোগাযোগেও ব্যাঘাত ঘটছে। গতকাল সকালে কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নয়টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়, যেগুলো চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে পাঠানো হয়। সড়কেও একাধিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবারও নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা বেশি। আজও দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিমান চলাচল, নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই কনকনে শীত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, জনজীবন স্থবির

১৬ নদ-নদীবেষ্টিত অবস্থিত সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে এ জেলার মানুষ।   এবারের শীত মৌসুমের শুরুতেই রাতভর বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে ঘন কুয়াশা। বিকেল থেকেই শুরু হচ্ছে কুয়াশার দাপট, যা জেলায় পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকছে। কয়েকদিন ধরে দেরিতে সূর্যের দেখা মেলায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষে।   শনিবার (০৩ ডিসেম্বর) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ ভাগ।   কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আব্দুল খালেক বলেন, কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। কাজ না করলেও চলে না। তবুও এই শীতে কাজ করতে বেরিয়েছি। কাজ করলে হাত-পা যন্ত্রণা করে, শরীর কামড়ায়।   মোগলবাসা ইউনিয়নের জয়নাল আবেদিন বলেন, অতিরিক্ত শীত ও ঠান্ডার কারণে আমার ছোট সন্তানের কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। দেখি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাবো।   ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আলম মিয়া বলেন, যে শীত আর ঠান্ডা শুরু হইছে এতে বেগুনের আবাদের খুব ক্ষতি হবে। ধারদেনা করে এতো আবাদ করেছি যদি বেগুন না হয় তাহলে ক্ষতির মুখে পড়বো।   কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ ভাগ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকবে রাজধানী, বাড়বে শীত

দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকতে পারে রাজধানী ঢাকা। কমতে পারে দৃশ্যমানতাও। সেই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতিও আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।   এতে বলা হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সঙ্গে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।   আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ।   পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।   এ ছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল রোববার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে।   অন্যদিকে, গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। বর্তমানে গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছু কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে।    তবে এ সময় সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ধেয়ে আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

নতুন বছরের শুরুতেই হাড়কাঁপানো শীতের বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে একাধিক তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধেয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দেশের কোনো কোনো এলাকায় পারদ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেয়া হয়। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও নদী অববাহিকার অঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসবে, যার ফলে দেশজুড়ে শীতের তীব্র অনুভূতি আরও বাড়বে।   আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের আশঙ্কা নেই । এর আগে গত ডিসেম্বর মাসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সারা দেশে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৯৯.৩ শতাংশ কম। গত ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও শৈত্যপ্রবাহের দিনগুলোতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।  

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০২, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0