বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী উত্তাল হয়ে যাওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, রাতভর কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো মাঝারি আবার কখনো ভারী বৃষ্টি হয়। সকাল ৬টার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো বাতাস শুরু হলে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল আবার শুরু হলেও, পরবর্তীতে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হয়ে নদী উত্তাল হয়ে পড়ে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক নূর আহমেদ ভূঁইয়া জানান, হঠাৎ নদীতে ঝড়ো বাতাসের কারণে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দৌলতদিয়া প্রান্তে ৬টি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হবে। এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরিচা-কাজিরহাট রুটেও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
রাত থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা। ভোর হতেই হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজে যায় রাজধানী। দিনের শুরুতেই এমন বৃষ্টিপাতে একদিকে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, বাইরে বের হওয়া মানুষের জন্য তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় ভোগান্তির কারণ। বৃষ্টির প্রভাবে সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে জলজট সৃষ্টি হয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা। অনেকেই প্রস্তুতি ছাড়াই বের হওয়ায় ভিজে যান, কেউ কেউ আশ্রয় নেন পাশের দোকান বা ভবনে। ছাতা থাকা সত্ত্বেও অনেকের পোশাক ও জুতা ভিজে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, অন্তত দুপুর পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তর, মধ্যাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা বেশি রয়েছে।
দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া এসব অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি সারা দেশেই বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পরবর্তী দিনগুলোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্তও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত চলমান থাকতে পারে। এ সময় ঢাকাসহ ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একই সঙ্গে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও শনিবারের দিকে কিছুটা বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের পর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তীব্র গরমের পর কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হতে পারে। রোববার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে কখনো অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭১ শতাংশ। শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। সারাদেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। ঢাকা, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান ও ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকায় বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দেশের ছয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে তীব্র ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে। রোববার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বগুড়া ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬১ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ২ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার আরেক পূর্বাভাসে জানানো হয়, রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পাশাপাশি ঢাকা, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান ও ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকায় বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রাজধানী ঢাকায় আজ আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে সার্বিকভাবে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৮৭ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি। অন্যদিকে, ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এদিকে ঢাকা, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, বান্দরবান, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের চার বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, সেসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য দিয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ,বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বিরাজমান তাপ প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহর শুরুতে দেশের ১৪ জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অধিদপ্তর জানিয়েছে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর,লক্ষ্মীপুর, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে এ তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘চলমান তাপপ্রবাহ শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে, সেদিন দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে।’ গ্রীষ্মের শুরুর এ সময়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাপপ্রবাহ বইছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল ছিল শতাব্দীর উষ্মতম। সে তুলনায় আবহাওয়া এ বছর যথেষ্ট সহনশীল।’ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনভর রোদের উত্তাপ ছিল রাজধানী ঢাকাতেও। ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করেছেন পথচারী আর শ্রমজীবী মানুষ। ঢাকায় এদিন তাপমাত্রার পারদ উঠেছে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে। এ জেলায় তাপমাত্রার পারদ ওঠে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বুধবার ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুএক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। বিরাজমান তাপ প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের কয়েকটি অঞ্চলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দমকা ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এমন তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় ওইসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশজুড়ে তাপমাত্রার পারদ বাড়তে থাকায় গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতেই দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। তবে এর মধ্যে স্বস্তির খবর দুপুরের মধ্যে দেশের ৩ বিভাগে বইতে পারে প্রচণ্ড বেগের ঝড়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পৃথক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই তাপপ্রবাহ কেবল অব্যাহতই থাকবে না, বরং আগামী কয়েক দিনে তা আরও কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় দেখা গেছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সন্ধ্যায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫৯ শতাংশ।
বৈশাখের শুরুতেই কিছুটা স্বস্তি মিললেও দেশের তাপমাত্রা এখনো ৩৬ ডিগ্রির ঘরেই ঘোরাফেরা করছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বৃষ্টি, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। শনি ও রোববার (১৮-১৯ এপ্রিল) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। এই দুই দিনে দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তাপমাত্রার দিক থেকে শনিবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। রোববার আবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে না। সোম ও মঙ্গলবার (২০-২১ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সোমবার দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ সময়ে সোমবার তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও মঙ্গলবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অন্যান্য স্থানে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এই সময়েও তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে সর্বোচ্চ ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নীলফামারীর ডিমলায় ৪ মিলিমিটার, সিলেটে ২ মিলিমিটার এবং নারায়ণগঞ্জে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সারা দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে দেশজুড়ে গরমের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানা গেছে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায়। প্রথমদিনের পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। আজ সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। রাজধানীতে আজ বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। আজ সন্ধ্যায় ৬টা ২১ মিনিটে সূর্যাস্ত হবে এবং আগামীকাল ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে সূর্যোদয় হবে। শনিবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিনও বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। রোববারের আবহাওয়াও প্রায় একই রকম থাকবে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। সোমবার থেকে আবহাওয়া কিছুটা উত্তপ্ত হতে শুরু করবে। এ দিন ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক স্থানে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পঞ্চম দিন মঙ্গলবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তবে এ দিনও তাপমাত্রা আরও সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সংকেত দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত অবস্থায় জানানো হয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সোমবার রাত ১টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, পহেলা বৈশাখে সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যাওয়ায় চৈত্রের শেষদিনে তাপমাত্রার পারদ উঠেছে ৩৭ ডিগ্রিতে। সর্বত্রই তীব্র গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। এই অবস্থার মধ্যেই খানিকটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতের মধ্যেই দেশের ২ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় ও বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এ তথ্য জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা। তিনি জানান, ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা এবং সিরাজগঞ্জ জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের নিকলীসহ কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হলে সেটি মৃদু তাপমাত্রা ধরা হয়। ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি তাপমাত্রা। ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপমাত্রা এবং ৪২ ডিগ্রি অতিক্রম করলে অতি তীব্র তাপমাত্রা ধরা হয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করেছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এবং চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। ঢাকায় দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫৯ শতাংশ। সকাল ৯টায় ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরের রাজারহাটে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের মধ্যে সিলেটে সর্বোচ্চ ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শহরগুলোর তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে শুধু তাপপ্রবাহ বা জলবায়ু পরিবর্তন নয়, প্রতিদিনের যানজটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বলছে, স্বাভাবিক দিনেও যানবাহন থেকে উৎপন্ন তাপ শহরের বাতাসকে গরম করে তুলছে এবং এতে মানুষের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ও ফ্রান্সের তুলুজ শহরে যানবাহনের তাপ গ্রীষ্মে গড়ে প্রায় দশমিক ২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং শীতে দশমিক ৬৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই বৃদ্ধি তেমন বড় মনে না হলেও, যখন শহর আগে থেকেই তাপে থাকে, তখন এটি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির ইঞ্জিন, এক্সহস্ট পাইপ, ব্রেক এবং টায়ার থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি তাপ হিসেবে নির্গত হয়। এই তাপ সরাসরি রাস্তার আশপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনগুলো সেটি আটকে রাখে। ফলে তাপ সহজে বের হতে পারে না এবং শহর আরও গরম হয়ে ওঠে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ঝংহুয়া ঝেং জানান, এই তাপ শুধু রাস্তার উপরেই সীমাবদ্ধ থাকে না; আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন মডেল ব্যবহার করে গবেষকরা দেখিয়েছেন, যানবাহনের তাপ কীভাবে শহরের বাতাস, ভবন ও রাস্তার সঙ্গে মিশে একটি বড় প্রভাব তৈরি করে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, তাপ শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও প্রবেশ করে। ম্যানচেস্টারে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা প্রায় দশমিক শূন্য ৯°ফা. এবং তুলুজে দশমিক ৪৯°ফা. পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ঘরের কুলিং সিস্টেমের ওপর চাপ বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের গঠনও এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, সরু রাস্তা এবং কম সবুজায়ন থাকলে তাপ বেশি আটকে যায়। অন্যদিকে, খোলা জায়গা, গাছপালা এবং ভালো নগর পরিকল্পনা তাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সব ধরনের যানবাহন সমান তাপ তৈরি করে না। পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি বেশি তাপ ছাড়ে, যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ি তুলনামূলক কম তাপ উৎপন্ন করে। তাই পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ালে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় এখনই নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। যানজট কমানো, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো ও সবুজায়ন বাড়ানো—এসব উদ্যোগ শহরকে ঠান্ডা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জার্নাল অব অ্যাডভান্সেস ইন মডেলিং আর্থ সিস্টেমে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নতুন তথ্য ভবিষ্যতে শহরের তাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে সহায়তা করবে। তথ্যসূত্র : আর্থডটকম
দেশের সাতটি জেলায় আজ সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে, যার প্রভাবে আবহাওয়ায় এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টিপাতের কারণে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। তবে অস্থায়ী দমকায় এর গতি ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন এই ধরনের পরিবর্তনশীল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশের অন্তত ১০টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোতে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি এসব অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ চমকানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তাপমাত্রা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃষ্টির কারণে দিনের গরম কিছুটা কম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সকাল থেকে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হলেও, মাঝে মধ্যে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। এর আগে বুধবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে।
ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগে কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার রাত থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এই কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে বলে সতর্কতা দেয় আবহাওয়া অধিদপ্তর । আজ বুধবার আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কবার্তা শীর্ষক এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বুধবার রাত ৮ টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম বা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। একইসাথে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বজ্রপাত ও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা পাঁচ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা (১-২) সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।