লাইফস্টাইল

অস্বাস্থ্যকর খাবার কি ক্যানসার চিকিৎসার কার্যকারিতা কমায়? যা বলছে গবেষণা

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

খাদ্যাভ্যাস ও ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যে এক অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব খাবার সাধারণত অস্বাস্থ্যকর বা ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়, সেসব খাবারের কিছু ইঁদুরের শরীরে ক্যানসারের একটি প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।

 

এই আবিষ্কার থেকে গবেষকেরা ধারণা করছেন, ক্যানসার চিকিৎসার সাফল্য শুধু অন্ত্রে কী ধরনের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং এসব ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকতে ও বেড়ে উঠতে কী ধরনের খাবার পাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং রোজালিন্ড অ্যান্ড মরিস গুডম্যান ক্যানসার ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড্যানিয়েলা কুয়েল বলেন, ‘আমাদের পরিপাকতন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া এবং আমরা যে খাবার খাই, তাদের মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সঠিক সমন্বয় থাকলেও সেগুলোকে পুষ্টি জোগাতে আমরা কী ধরনের খাবার খাচ্ছি, তার ওপর নির্ভর করতে পারে চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার বিষয়টি।’

 

কুয়েল ও তার সহকর্মীরা গবেষণাটিতে পরীক্ষা করেছেন, খাদ্যাভ্যাস কীভাবে ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর নামের ওষুধের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এসব ওষুধ ক্যানসার ইমিউনোথেরাপিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। এগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

 

গবেষণায় ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী লোগান ওয়ালশ এবং সিআর-সিএইচইউএমের গবেষক বার্ট্রান্ড রুতি ও অ্যারিয়েল এলক্রিফও যুক্ত ছিলেন। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার-এ প্রকাশিত হয়েছে।

 

অস্বাস্থ্যকর খাবারে কেন মিলল ইতিবাচক ফল?

গবেষণার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, ওজন বাড়ায় এমন কিছু খাদ্যাভ্যাস ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। এই ফলাফল পুষ্টি ও ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

 

ড্যানিয়েলা কুয়েল বলেন, ‘আমাদের গবেষণার ফলাফল বিস্ময়কর। কারণ, এতে দেখা গেছে, স্থূলতা বাড়াতে পারে—এমন কিছু খাদ্যাভ্যাসেরও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এটি প্রমাণ করে, ক্যানসার চিকিৎসায় খাদ্যের ভূমিকা শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ব্যায়াম করার পরামর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিষয়টি আরও জটিল।’

 

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে ক্যানসার রোগীদের ওজন বাড়ায় এমন খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ওজনের কারণে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তা ছাড়া ইঁদুরের ওপর পাওয়া এই ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর হবে, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

 

গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো, বিভিন্ন ধরনের খাবার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা বোঝা। 

 

স্থূলতা নিয়ে ক্যানসার গবেষণায় নতুন ব্যাখ্যা

গবেষণাটি শুরু হয়েছিল ক্যানসারবিষয়ক একটি দীর্ঘদিনের রহস্যের সূত্র ধরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি অবেসিটি প্যারাডক্স বা স্থূলতার আপাতবিরোধী প্রভাব নামে পরিচিত।

 

সাধারণভাবে স্থূলতা ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং ক্যানসারে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ায়। কিন্তু কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ক্যানসার রোগীর বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) তুলনামূলক বেশি, তারা কখনো কখনো ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর চিকিৎসায় ভালো সাড়া দেন।

 

এই রহস্যের কারণ খুঁজতে গবেষকেরা ইঁদুরের ওপর ১২ ধরনের খাদ্যাভ্যাস পরীক্ষা করেন। এতে দেখা যায়, স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু খাদ্যাভ্যাস ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়িয়েছে। এমনকি অল্প সময় ধরে এসব খাবার খাওয়ানোর পরও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে।

 

গবেষকদের ধারণা, স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ক্যানসার চিকিৎসায় ভালো সাড়া পাওয়ার পেছনে শুধু অতিরিক্ত শারীরিক ওজন দায়ী নয়। বরং খাদ্যাভ্যাস ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সম্মিলিত প্রভাব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিবর্তন করতে পারে, যা চিকিৎসার কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে।

 

এই পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে স্থূলতার স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই ইমিউনোথেরাপির ইতিবাচক প্রভাব পাওয়ার নতুন উপায় বের করা সম্ভব হতে পারে।

 

সূত্র: সাইন্স ডেইলি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

লাইফস্টাইল

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
অস্বাস্থ্যকর খাবার কি ক্যানসার চিকিৎসার কার্যকারিতা কমায়? যা বলছে গবেষণা

খাদ্যাভ্যাস ও ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যে এক অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব খাবার সাধারণত অস্বাস্থ্যকর বা ওজন বাড়ানোর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়, সেসব খাবারের কিছু ইঁদুরের শরীরে ক্যানসারের একটি প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।   এই আবিষ্কার থেকে গবেষকেরা ধারণা করছেন, ক্যানসার চিকিৎসার সাফল্য শুধু অন্ত্রে কী ধরনের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং এসব ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকতে ও বেড়ে উঠতে কী ধরনের খাবার পাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং রোজালিন্ড অ্যান্ড মরিস গুডম্যান ক্যানসার ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড্যানিয়েলা কুয়েল বলেন, ‘আমাদের পরিপাকতন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া এবং আমরা যে খাবার খাই, তাদের মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সঠিক সমন্বয় থাকলেও সেগুলোকে পুষ্টি জোগাতে আমরা কী ধরনের খাবার খাচ্ছি, তার ওপর নির্ভর করতে পারে চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার বিষয়টি।’   কুয়েল ও তার সহকর্মীরা গবেষণাটিতে পরীক্ষা করেছেন, খাদ্যাভ্যাস কীভাবে ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর নামের ওষুধের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এসব ওষুধ ক্যানসার ইমিউনোথেরাপিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। এগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।   গবেষণায় ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী লোগান ওয়ালশ এবং সিআর-সিএইচইউএমের গবেষক বার্ট্রান্ড রুতি ও অ্যারিয়েল এলক্রিফও যুক্ত ছিলেন। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার-এ প্রকাশিত হয়েছে।   অস্বাস্থ্যকর খাবারে কেন মিলল ইতিবাচক ফল? গবেষণার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, ওজন বাড়ায় এমন কিছু খাদ্যাভ্যাস ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। এই ফলাফল পুষ্টি ও ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।   ড্যানিয়েলা কুয়েল বলেন, ‘আমাদের গবেষণার ফলাফল বিস্ময়কর। কারণ, এতে দেখা গেছে, স্থূলতা বাড়াতে পারে—এমন কিছু খাদ্যাভ্যাসেরও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এটি প্রমাণ করে, ক্যানসার চিকিৎসায় খাদ্যের ভূমিকা শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ব্যায়াম করার পরামর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিষয়টি আরও জটিল।’   তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে ক্যানসার রোগীদের ওজন বাড়ায় এমন খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ওজনের কারণে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তা ছাড়া ইঁদুরের ওপর পাওয়া এই ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর হবে, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।   গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো, বিভিন্ন ধরনের খাবার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা বোঝা।    স্থূলতা নিয়ে ক্যানসার গবেষণায় নতুন ব্যাখ্যা গবেষণাটি শুরু হয়েছিল ক্যানসারবিষয়ক একটি দীর্ঘদিনের রহস্যের সূত্র ধরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি অবেসিটি প্যারাডক্স বা স্থূলতার আপাতবিরোধী প্রভাব নামে পরিচিত।   সাধারণভাবে স্থূলতা ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং ক্যানসারে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ায়। কিন্তু কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ক্যানসার রোগীর বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) তুলনামূলক বেশি, তারা কখনো কখনো ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর চিকিৎসায় ভালো সাড়া দেন।   এই রহস্যের কারণ খুঁজতে গবেষকেরা ইঁদুরের ওপর ১২ ধরনের খাদ্যাভ্যাস পরীক্ষা করেন। এতে দেখা যায়, স্থূলতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু খাদ্যাভ্যাস ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়িয়েছে। এমনকি অল্প সময় ধরে এসব খাবার খাওয়ানোর পরও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে।   গবেষকদের ধারণা, স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ক্যানসার চিকিৎসায় ভালো সাড়া পাওয়ার পেছনে শুধু অতিরিক্ত শারীরিক ওজন দায়ী নয়। বরং খাদ্যাভ্যাস ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সম্মিলিত প্রভাব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিবর্তন করতে পারে, যা চিকিৎসার কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে।   এই পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে স্থূলতার স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই ইমিউনোথেরাপির ইতিবাচক প্রভাব পাওয়ার নতুন উপায় বের করা সম্ভব হতে পারে।   সূত্র: সাইন্স ডেইলি

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ফাইল ছবি

ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন নারীরা, কারণ কী?

ছবি: সংগৃহীত

সকালে নাক বন্ধ ও গলা ব্যথা? সুস্থ থাকতে করণীয়

সংগৃহীত ছবি

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহজ উপায় জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

সংগৃহীত ছবি
সকালের মাথাব্যথা কি স্ট্রোকের লক্ষণ? বিশেষজ্ঞের সতর্কতা ও করণীয়

রাতভর ঘুমানোর পর সকালে ঘুম ভেঙেই মাথাব্যথা। কারও ক্ষেত্রে মাথা ভার হয়ে থাকে, কারও আবার কপাল বা মাথার এক পাশে শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা।   এমন হলে অনেকেই প্রথমে ভাবেন, ঘুম ঠিকমতো হয়নি কিংবা শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে। আবার কেউ কেউ ভয় পেয়ে যান, এটি স্ট্রোকের কোনো আগাম সংকেত নয় তো? বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে মাথাব্যথা হলেই তা স্ট্রোকের লক্ষণ, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে কিছু উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও অবহেলা করা উচিত নয়।     হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে সতর্ক করেছেন ভারতের গুরুগ্রামের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের এমএআইআইএনএসের চেয়ারম্যান ও নিউরোলজিস্ট চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্ত।     তিনি কিছু ভুল ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন। এগুলো হলো-    মাথাব্যথা ছাড়াও হতে পারে স্ট্রোক  অনেকের ধারণা, স্ট্রোক হলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হবেই। কিন্তু চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্তের মতে, সব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা হয় না। অনেক সময় কোনো ব্যথা ছাড়াই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই শুধু মাথাব্যথার অপেক্ষায় থাকলে স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।   তরুণদেরও স্ট্রোক হতে পারে  স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের রোগ এমন ধারণাও ভুল। চিকিৎসকের মতে, বর্তমানে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত ঘুমের মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।   তাই বয়স কম বলে স্ট্রোকের ঝুঁকি নেই, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।   উপসর্গ কমে গেলেও বিপদ কেটে যায় না হঠাৎ কয়েক মিনিটের জন্য মাথা ঘোরা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। অনেকেই তখন বিষয়টি আর গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এমন সাময়িক উপসর্গও মিনি স্ট্রোক বা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাকের (টিআইএ) লক্ষণ হতে পারে। টিআইএকে অনেক সময় বড় স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়। এর উপসর্গ সাময়িকভাবে চলে গেলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকতে পারে।      ঘুমিয়ে বা ঘরোয়া উপায়ে স্ট্রোকের চিকিৎসা নয় মাথাব্যথা কিংবা শরীরে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করলে অনেকেই বিশ্রাম নেন, ঘুমিয়ে পড়েন কিংবা ঘরোয়া উপায়ে উপশমের চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এমন অপেক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে।     চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্তের মতে, স্ট্রোকের সময় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। যত দেরি হয়, মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতির আশঙ্কা তত বাড়ে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসা বা বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।     যে ৫ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন চিকিৎসকের মতে, কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। বিশেষ করে— হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা: কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই আচমকা প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হওয়া, বিশেষ করে জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা মনে হলে। শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া: হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশের শক্তি কমে যাওয়া। কথা জড়িয়ে যাওয়া: হঠাৎ কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন: হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, এক বা দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া কিংবা দৃষ্টি হারানো। বিভ্রান্তি, বারবার বমি বা খিঁচুনি: মাথাব্যথার সঙ্গে হঠাৎ বিভ্রান্তি, বারবার বমি কিংবা খিঁচুনি দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।   এ ছাড়া কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।     স্ট্রোকের লক্ষণ চিনতে মনে রাখুন BE-FAST   স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা BE-FAST পদ্ধতির কথা বলেন। এতে ছয়টি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়।   B (Balance): হঠাৎ ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া। E (Eyes): হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হারানো। F (Face): মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া। A (Arms): এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা তুলতে না পারা। S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া। T (Time): এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া।   প্রতিদিন সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙলে প্রথমেই এর ধরন ও কারণ বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, রাতে পানি কম পান করছেন কি না, অতিরিক্ত মানসিক চাপ রয়েছে কি না এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা জরুরি।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।

তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ছে গর্ভকালীন জটিলতা, ঝুঁকিতে কোটি মা ও শিশু

ব্রেন স্ট্রোক ও মিনি-স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে

স্ট্রোকের আগে শরীরে দেখা দিতে পারে যেসব বিপৎসংকেত

ছবি: সংগৃহীত

লিভারে জমা চর্বি কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ উপকারী খাবার

সংগৃহীত ছবি
আট ঘণ্টা ঘুমই কি যথেষ্ট? দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন পরামর্শ

দীর্ঘদিন ধরে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতি রাতে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দীর্ঘায়ু ও সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে শুধু ঘুমের মোট সময় নয়, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ঘুমবিষয়ক গবেষকেরা।     অর্থাৎ, পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি ঘুমের সময়সূচিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। খবর রিয়েল সিম্পল আধুনিক জীবনযাত্রায় নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস ধরে রাখা অনেকের জন্যই কঠিন। কাজের চাপ, সামাজিক ব্যস্ততা, সকালে ব্যায়াম কিংবা রাত জেগে বিনোদন দেখার কারণে ঘুমানোর সময় প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। অনেকেই কর্মদিবসে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে বেশি সময় ঘুমানোর মাধ্যমে আগের ঘুমের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন।     কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারে না।     ঘুমের সময়ের ধারাবাহিকতা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে প্রথমে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির ভূমিকা জানতে হবে।       শরীরের জৈবঘড়ির সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক মানবদেহে একটি অভ্যন্তরীণ সময় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রয়েছে, যা সার্কাডিয়ান রিদম নামে পরিচিত। এটি শরীরের ঘুম ও জেগে থাকার স্বাভাবিক চক্র নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।     পাশাপাশি হরমোন নিঃসরণ, বিপাকক্রিয়া এবং কোষের পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিদিন ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার সময় ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হলে শরীরের এই স্বাভাবিক ছন্দে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও শরীরের অভ্যন্তরীণ সময়সূচি ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের মধ্যে সমন্বয় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।     রিব্যালেন্স হেলথের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাস্টিন হাইয়ের মতে, শরীর নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে ভালোভাবে সাড়া দেয়। কারণ, অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ি শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে পরিচালিত করতে সাহায্য করে।     তাই প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটা ধরে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেয়ে শরীরের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ঘুমের রুটিন তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার সময় নিয়মিত রাখার অভ্যাস এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।     ঘুমের সময়ের অনিয়ম যেভাবে স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে ঘুমের সময় প্রতিদিন পরিবর্তিত হলে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক কার্যক্রমের সঙ্গে দৈনন্দিন রুটিনের অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ।     জাস্টিন হাইয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীর কখন সজাগ থাকবে এবং কখন ঘুমের প্রস্তুতি নেবে, তা নির্ধারণে কর্টিসল ও মেলাটোনিনের মতো হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।     সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। এটি শরীরকে জেগে উঠতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, মেলাটোনিন শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সংকেত দেয়।       কিন্তু ঘুমানোর ও ঘুম থেকে ওঠার সময় নিয়মিত পরিবর্তিত হলে এসব হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণের সময়েও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে শরীরের ঘুম ও জেগে থাকার স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।     দীর্ঘদিনের অনিয়মিত ঘুমের সঙ্গে হৃদ্‌রোগ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সমস্যার মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ঘুমকে কেবল শারীরিক বিশ্রাম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘুমের সময় শরীরের বিভিন্ন জৈবিক পুনর্গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও সম্পন্ন হয়।     শুধু বেশি সময় ঘুমালেই কি ঘুমের ঘাটতি পূরণ হয়? অনেকের ধারণা, সপ্তাহের কর্মদিবসে কম ঘুমালেও ছুটির দিনে দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কর্মদিবসে চার-পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সপ্তাহান্তে বেশি সময় ঘুমালে সাময়িকভাবে ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে। তবে এতে পুরো সপ্তাহের অনিয়মিত ঘুমের প্রভাব দূর হয়ে যায় না।     ঘুমবিষয়ক গবেষণায় নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসকে স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জাস্টিন হাইয়ের উল্লেখ করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত্যুঝুঁকি অনুমানের ক্ষেত্রে ঘুমের মোট সময়ের তুলনায় ঘুমের নিয়মিততা আরও শক্তিশালী নির্দেশক হতে পারে।     তবে এর অর্থ এই নয় যে কম ঘুমিয়েও শুধু নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চললেই সুস্থ থাকা সম্ভব। ঘুমের নিয়মিততা এবং পর্যাপ্ত ঘুম, দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।     সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখা উচিত। একই সঙ্গে সপ্তাহান্তেও ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার সময় যথাসম্ভব কাছাকাছি রাখা প্রয়োজন।       নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করতে বড় ধরনের পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। বরং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মানানসই কয়েকটি সহজ নিয়ম অনুসরণ করলেই ধীরে ধীরে ঘুমের সময়সূচিতে ধারাবাহিকতা আনা সম্ভব।     প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্দিষ্ট করুন ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করা কঠিন হলে প্রথমে প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করুন। এমন একটি সময় বেছে নিন, যা আপনার কাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।     সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দিনের আলোতে কিছুটা সময় কাটান। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়িকে স্বাভাবিক ছন্দে রাখতে সহায়তা করে। ফলে শরীর কখন সজাগ থাকবে এবং কখন ঘুমের প্রস্তুতি নেবে, তা বুঝতে সুবিধা হয়। এ জন্য খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত বজায় রাখা সম্ভব, এমন একটি সময় বেছে নেয়াই মূল বিষয়।     ঘুমানোর আগে অন্তত ৩০ মিনিট প্রস্তুতির সময় রাখুন সারাদিনের কাজ শেষ করেই বিছানায় গিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলে অনেক সময় শরীর ও মন দ্রুত বিশ্রামের অবস্থায় যেতে পারে না। এ জন্য ঘুমানোর আগে অন্তত ৩০ মিনিটের একটি শান্ত রুটিন তৈরি করা ভালো।     এ সময় ঘরের আলো কমিয়ে দেয়া, মোবাইল ফোন দূরে রাখা, বই পড়া কিংবা পছন্দের গান শোনার অভ্যাস করতে পারেন। চাইলে হালকা গরম পানিতে গোসলও করতে পারেন। এসব অভ্যাস দিনের ব্যস্ততা থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে ঘুমের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।     ক্যাফেইন ও স্ক্রিন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনুন বিকেলের শেষ ভাগে কফি পান এবং রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বিকেলের পর ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দেয়া এবং ঘুমানোর আগে কিছু সময়ের জন্য ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।     পছন্দের বিনোদন পুরোপুরি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কখন এবং কতক্ষণ এসব ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।     ঘুমের রুটিন নিয়ে অতিরিক্ত চাপ নেবেন না ঘুমের নিয়মিততা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিকে নতুন কোনো মানসিক চাপের কারণ বানানো উচিত নয়। কোনো কারণে একদিন দেরিতে ঘুমাতে গেলে পরদিন পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।     জাস্টিন হাইয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়সূচি বজায় রাখার চেয়ে পর্যাপ্ত ঘুমকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। এরপর সুযোগমতো আবার স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসতে হবে।     দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর অভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘুমের উন্নতির জন্য ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন কিংবা জটিল পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। বরং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুম থেকে ওঠা এবং ঘুমানোর আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি করার মতো সাধারণ অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।     সব সময় নিখুঁতভাবে ঘুমের নিয়ম মেনে চলা সম্ভব নয়। তবে অধিকাংশ দিন একটি নির্দিষ্ট রুটিন বজায় রাখতে পারলে শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ির সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনের সমন্বয় রাখা সহজ হয়।   দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের আলোচনায় তাই শুধু রাতে কত ঘণ্টা ঘুমানো হচ্ছে, সেই হিসাবের পাশাপাশি ঘুমের সময়সূচি কতটা নিয়মিত রাখা যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পেশি গঠনে সহায়ক ৭ খাবার, রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়

প্রতীকী ছবি

স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও জীবনরক্ষাকারী হাতিয়ার সময়

সংগৃহীত ছবি

পুরুষের তুলনায় নারীদের আয়ু বেশি হওয়ার পেছনে কী কারণ?

0 Comments