যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কলেজগুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কলেজ পরিবর্তন বা ছাড়পত্রের (টিসি) মাধ্যমে ভর্তির আবেদনের শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর। নির্ধারিত জিপিএ, আসন শূন্য থাকা এবং সংশ্লিষ্ট দুই কলেজের প্রধানের সম্মতি সাপেক্ষে বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। গত ৬ সেপ্টেম্বর এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বোর্ডের এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানে আসন শূন্য থাকা, নির্ধারিত জিপিএ এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সম্মতিক্রমে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কলেজ পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারবে। ছাড়পত্রের (টিসি) মাধ্যমে এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে ভর্তির অনুমতি এবং আন্তঃবোর্ডের ছাড়পত্রের মাধ্যমে ভর্তির অনুমতির জন্য অনলাইনে আবেদন করার শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর। শিক্ষার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান কলেজের ইনস্টিটিউট প্যানেল থেকে আবেদন দাখিল করতে হবে এবং ভর্তিচ্ছু কলেজ তা ‘একসেপ্ট’ করবে। আবেদন বোর্ড থেকে অনুমোদিত হলে ইনস্টিটিউট প্যানেলে অনুমতিপত্র পাওয়া যাবে। ছাড়পত্র প্রদানের অনুমতি পাওয়ার পর বর্তমান কলেজ থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করে ১৫ দিনের মধ্যে ভর্তির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ছাড়পত্র দেয়ার সময় কলেজে সংরক্ষিত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট শিক্ষার্থীকে ফেরত দিতে হবে এবং ভর্তি গ্রহণকারী কলেজ তা অধ্যক্ষের নিজ হেফাজতে সংরক্ষণ করবে। ছাড়পত্র প্রদানকারী কলেজ যে মাস পর্যন্ত ছাড়পত্র দেবে সেই মাস পর্যন্ত বেতনাদি গ্রহণ করবে এবং নতুন ভর্তি গ্রহণকারী কলেজ আগের কলেজে যে পর্যন্ত বেতন পরিশোধ আছে তার পরবর্তী মাস থেকে বেতনাদি গ্রহণ করবে। আবেদন ফরম বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘ডাউনলোড’ মেনুতে পাওয়া যাবে এবং সেখানে বিস্তারিত নির্দেশাবলি দেওয়া আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র বা আন্তঃবোর্ডের ছাড়পত্রের মাধ্যমে ভর্তির অনুমতির জন্য আবেদন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।
নভেম্বরের শুরুতেই টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় এ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছুটির নিয়ম এক নয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর (শনিবার) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং ৮ নভেম্বর (রোববার) শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকবে। এর আগে ৬ নভেম্বর (শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন। একই সঙ্গে দেশের ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হবে। পরদিন ৮ নভেম্বর রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে এ পূজা পালিত হবে। সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটি ও ধর্মীয় উৎসবের ছুটি মিলিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে ছুটির বিষয়টি আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত নিজস্ব ছুটির তালিকা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্যও এ ছুটি প্রযোজ্য হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির উল্লেখ নেই। কালীপূজা বা শ্যামাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ পূজা দেবী কালীর উদ্দেশে নিবেদিত। হিন্দু পঞ্জিকার কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত এ উৎসব পালিত হয়। শ্যামাপূজার দিন দীপাবলি উৎসবও উদ্যাপিত হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, আসাম ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এ উৎসব ব্যাপক জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশ হতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র। সম্ভাব্য এ তারিখে ফল প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর আলোচনা হতে পারে। ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইনে ও মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জানতে পারবেন। গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ২৯ অক্টোবরকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ওই দিনই ফল প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ফল সংগ্রহের জন্য শিক্ষা বোর্ড বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যেতে হবে না। অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে। ১. অনলাইনে ফলাফল দেখার নিয়ম ব্যক্তিগত ফলাফল দেখতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://educationboardresults.gov.bd এরপর ওয়েবসাইটের ‘Result’ বিভাগে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে- পরীক্ষার নাম নির্বাচন করতে হবে। পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর (Roll Number) দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর (Registration Number) দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নাম নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ফলাফল দেখার অপশনে ক্লিক করতে হবে। এভাবে সহজেই ব্যক্তিগত ফলাফল দেখা যাবে। পাশাপাশি মার্কশিটও ডাউনলোড করা যাবে। ২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল সংগ্রহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ইআইআইএন (EIIN) ব্যবহার করে শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। এ পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীর ফলাফল একসঙ্গে ডাউনলোড করা যাবে। ৩. মোবাইলের এসএমএসে ফলাফল দেখবেন যেভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফলাফল জানতে যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে নির্ধারিত নিয়মে খুদে বার্তা পাঠাতে হবে। এসএমএস লেখার নিয়ম: HSC Board Name (First 3 Letters) Roll 2026 বার্তাটি পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে লিখতে হবে: HSC DHA 123456 2026 এরপর বার্তাটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানা যাবে। এইচএসসি পরীক্ষার আদ্যোপান্ত চলতি বছর দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, গত ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষাও চূড়ান্তভাবে শেষ হয়। ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা চলবে ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. শহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার সমাপ্তির সময় প্রবেশপত্রে উল্লেখিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষাকেন্দ্রের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্র গুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ। সবশেষে বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি সতর্কতা এবং দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা নিষিদ্ধ। পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে বই, নোট বা অন্য কোনো লিখিত সামগ্রী বহন করতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রবেশপত্রে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রকে উপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ের ৩ হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ জানান, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ‘শিক্ষক নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদারকি আরও কার্যকর করতে ১১ ধাপের বিদ্যালয় পরিদর্শন পদ্ধতি ও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং প্রথম অর্থবছরেই এ খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। পাশাপাশি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা এবং ভর্তি থেকে সনদ সংগ্রহ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সেবা অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে ‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তর’ শীর্ষক কর্মশালায় এ পরিকল্পনার কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ভর্তি, ফি জমা, হলের আসনসংক্রান্ত তথ্য ও সনদ সংগ্রহের সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি কমানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ করতে সমন্বিত সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। কর্মশালায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. আসলাম হোসেন এবং হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বক্তব্য দেন।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এ সমঝোতার আওতায় দেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, যৌথ শিক্ষা কর্মসূচি চালু, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের তিয়াঞ্জিনের মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সম্মেলনে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে এতে সমর্থনকারী দেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টির বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। সেখানে বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্টের পাশাপাশি চীনের বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র, লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ-চীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সম্মেলনের যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এতে স্বাক্ষর করেন। সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেলের আলোকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া ২+২ ও ৩+১ মডেলে যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসংস্থান ও বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে একটি নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি ও অন্যান্য প্রদেশের খ্যাতনামা কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
‘ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬’-এ অষ্টম স্থান অর্জন করায় উত্তরা ইউনিভার্সিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, উপাচার্য, উপদেষ্টা ও শিক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ অভিনন্দন জানান। গুণগত উচ্চশিক্ষার ওপর গুরুত্ব সাক্ষাৎকালে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলতে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পরিবর্তিত কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা বৈঠকে উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এতে একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং দক্ষ স্নাতক তৈরির উদ্যোগের বিষয়গুলো স্থান পায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আবিদ আজিজ গবেষণা সংস্কৃতি জোরদার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অগ্রযাত্রা ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর উত্তরা ইউনিভার্সিটির ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. এম. আজিজুর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অগ্রগতির প্রশংসা করেন। পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস, টেকসই উন্নয়ন এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে উত্তরা ইউনিভার্সিটির এই অর্জন দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য ইতিবাচক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোতে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধিভুক্ত ও অধীন পরিচালিত সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় যেকোনো ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবং অধ্যক্ষদের কাছে নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ বন্ধের কারণ জানানো হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনায় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোকে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন ও সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণকে (টিভেট) প্রধান হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং শিল্প চাহিদার সামঞ্জস্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আজ শুক্রবার চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’- এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপনকালে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন। তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘টিভেট: পরিবর্তনকে যৌথভাবে গ্রহণ, যৌথভাবে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা এবং যৌথভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণ’। উচ্চপর্যায়ের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী, ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল, ইউনেস্কোর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান এবং কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি।’ তিনি টিভেটকে এমন এক অপরিহার্য সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে কেবল একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত এবং ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য। বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি কেবল নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেখানে পাঠ্যক্রম বাস্তবভিত্তিক শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; শিক্ষকরা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের নিয়মিত হালনাগাদ রাখবেন; শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিল্প-সংযুক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে; এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো সরাসরি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা। গত জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উভয় দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের টিভেট খাতকে আধুনিকায়ন, শিল্প-প্রতিষ্ঠান সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের আলোকে শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানান। ১. উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করা। ২. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক মানদণ্ড নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের আলোকে অভিযোজিত করতে পারা। ৩. সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং তরুণ সমাজকে অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা। চীন-বাংলাদেশ যৌথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব সম্মেলনের ফাঁকে শিক্ষামন্ত্রী মিলন চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে একটি ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।
দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। কমিটি বলেছে, পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিল রেখে ‘বছরভিত্তিক’ সুনির্দিষ্ট মান পরিমাপ পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। একই সাথে শিক্ষা খাতের বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কৌশল গ্রহণ, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়া, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ‘একগুচ্ছ’ প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যবিবরণীতে দেশের শিক্ষা খাতের জন্য নতুন এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সাথে ৭০ লাখ মেয়ে শিক্ষার্থীকে ৪ হাজার কোটি টাকার বৃত্তির আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংকে পাঠানোর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ জানানো হয়। কার্যবিবরণীর সারসংক্ষেপে আরও জানানো হয়, শর্তপূরণকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রবীণ শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তি, ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা, মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার কারণ জানতে গবেষণা, সংসদ সদস্যদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ডের প্রধানদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষা খাতে শুধু সংখ্যার দিক বা পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নয়। আমরা চাই দেশে শিক্ষার আসল গুণগত মান নিশ্চিত হোক। তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে কমিটির প্রথম সভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেলাতে হলে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের বিকল্প নেই। তাই আমরা চাই শুধু বছরব্যাপী নয়, তিন মাস অথবা ছয় মাস অন্তর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হওয়া প্রয়োজন। কমিটির আগামীর সভায় শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে আরও দফাওয়ারী সুপারিশ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার রোডম্যাপ নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।’ শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বছরভিত্তিক মূল্যায়ন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর পর্যালোচনা করা হয়। কেবল পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না বলেও উল্লেখ করা হয়। প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের ওপর জোর দেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। একই সাথে মালয়েশিয়ার মডেলের ন্যায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়, যাতে সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামো বারবার পরিবর্তন না হয়। সভায় কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য সুনির্দিষ্ট বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তন জরুরি। বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২.৭ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড স্পর্শের অংশ হিসেবে মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসার ও ঝরে পড়া রোধে ৭০ লাখ ছাত্রীকে ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল বৃত্তির আওতায় আনা হচ্ছে। কমিটির কার্যবিবরণীতে বলা হয়, শিক্ষকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও দীর্ঘদিনের বকেয়া নিরসনে ইতিহাস সৃষ্টি করে বর্তমান সরকার এবারই প্রথম ইএফটি (ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ও আইবাস++ পদ্ধতিতে দেশের প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ধাপে গড়ে প্রত্যেক শিক্ষককে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় সংসদীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সেখানে আরও বলা হয়, অতীতে রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে জোর দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদী ও মো. মুজিবুর রহমান এমপিওভুক্তির সকল শর্ত পূরণকারী নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান ও দীর্ঘদিন ধরে বিনাবেতনে সেবা দেওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের বিষয়টি মাথায় রেখে অগ্রধিকারভিত্তিতে দ্রুত এমপিওভুক্তির জোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ফাইলের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে শিক্ষক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বিগত সময়ে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ সকল শিক্ষার্থীরা কোথায় যাচ্ছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার কারণ এবং বর্তমানে তারা কি করছে- তা চিহ্নিত করতে একটি সময়োপযোগী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বৈঠকে জোর দেওয়া হয়। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) সামসুর রহমান খান জানান, ২০২৫ সাল পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ১৯ দশমিক ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা ৩০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। শিক্ষার সার্বিক মান ও নীতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে সংসদ সদস্যরা সরেজমিনে স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করবেন এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ড ও বিভাগীয় দপ্তর প্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সুপারিশমালা সংসদীয় কমিটি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে বছরভিত্তিক পরিমাপ পদ্ধতি তৈরি করা। শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়তে সংসদীয় কমিটির সদস্যগণ কর্তৃক স্কুল-কলেজ পরিদর্শন। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাবোর্ড ও অধীনস্থ দপ্তর প্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ। হজ্জযাত্রী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের বকেয়া দ্রুত মেটাতে আলাদা তালিকা তৈরি। বাজেট সাপেক্ষে বকেয়া ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা। সংসদীয় কমিটির এই উদ্যোগ ও সুপারিশকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, পাসের হারের কৃত্রিম সূচক বাদ দিয়ে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের যে তাগিদ সংসদীয় কমিটি দিয়েছে, তা শিক্ষার গুণগত রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এতে প্রতিটি শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস। নীতিমালার ২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছর বা তার বেশি ধরে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স সাত বছর পর্যন্ত হতে পারবে। নীতিমালায় উল্লেখ করা বয়সসীমা অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ছয় বছর এবং সর্বোচ্চ আট বছর হতে হবে। তৃতীয় শ্রেণিতে সাত থেকে নয় বছর, চতুর্থ শ্রেণিতে আট থেকে ১০ বছর এবং পঞ্চম শ্রেণিতে নয় থেকে ১১ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়স হতে হবে ১০ থেকে ১২ বছর। সপ্তম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ বছর, অষ্টম শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪ বছর এবং নবম শ্রেণিতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর বয়স যাচাইয়ের জন্য ভর্তির আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ১ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। এ ছাড়া প্রতিটি শ্রেণির একটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশ শ্রেণি অর্থাৎ প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে এ নীতিমালার আওতায়।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, অক্টোবরের ২৫ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে যে কোনো এক দিন ফল প্রকাশের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ৯ সেপ্টেম্বর এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় এসব পরীক্ষা। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বর্ণিল আয়োজনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে প্রশাসন ভবনের দক্ষিণ গেটের সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমানের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলুন ও পায়রা ওড়ানো হয়। বাদ্যের তালে তালে শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর হয়ে ক্যাডেট কলেজের মোড় প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এক আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মো. মাসুদ রানা, প্রক্টর মো. ইসমাইল হোসেন, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেকসহ বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে ১ নম্বর খেলার মাঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিকেলে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আলোচনাসভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোকসজ্জাসহ নানাভাবে সাজানো হয় ক্যাম্পাস।
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি নতুন কর্মপদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, এসব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রাথমিক তহবিল এবং প্রয়োজনে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগসহ একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনভেনশন ২০২৬’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণস্বাক্ষরতা অভিযান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষামন্ত্রী এবং সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এবার এসএসসিতে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত না করতে পারলে কোনো উন্নয়নই অর্থবহ হতে পারে না। তিনি জানান, যাদের কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে আগ্রহ রয়েছে তাদের নিজ এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) সাথে যুক্ত করা হবে। কারো ভালো ব্যবসায়িক উদ্ভাবনী ধারণা থাকলে তাদের জন্য ছোট পরিসরে প্রাথমিক তহবিলের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া জাপানি, কোরিয়ান, চীনা ও ইউরোপীয় ভাষা শিক্ষার মতো ৩ থেকে ৬ মাসের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে সরাসরি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এক বছর অপেক্ষা না করে অকৃতকার্য বিষয়ে ৩ মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এক বছরের বদলে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আমরা সামনে এ বিষয়ে পরিবর্তন আনার ব্যাপারে আশাবাদী। শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ খাতা পুনঃনিরীক্ষণ চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল মেধার ঘাটতি নয়; আর্থিক অসঙ্গতি, শিক্ষক বা ক্লাসরুমের সংকট কিংবা পরীক্ষার আগে পারিবারিক সমস্যার কারণেও ফল খারাপ হতে পারে। সমন্বিত উদ্যোগে এসব সংকট কাটাতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাহদী আমিন বলেন, এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনের ব্যর্থতা নয়। সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করে জীবন বিচার করা যায় না। একটি বিষয়ে খারাপ করার কারণে কারো মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয় না। গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস ও ডা. আরিফুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামসহ চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। উপাচার্য জানান, গত ৪ অক্টোবর রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যরা তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিবেদন তৈরি করেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের প্রস্তাব পাওয়া চার শিক্ষার্থী হলেন—রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম। এ ছাড়া রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম এবং ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও প্রমাণাদি আরও যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। অন্যদিকে, ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান ও শরীফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর উপাচার্য কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নয়, কর্মক্ষেত্রে সফল হতে তরুণদের ব্যবহারিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) আয়োজিত দ্বিতীয় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে টেসলবিডি ও ইউল্যাব। ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা প্রয়োজন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ইংরেজি শিক্ষা ও চর্চায় এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত জ্ঞানের বড় একটি অংশ ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। ভাষাগত দুর্বলতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে পারেন না। একই সঙ্গে বাংলা ভাষায় জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা সহজলভ্য করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তরুণদের উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এ জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান, স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মমুখী শিক্ষা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলি ইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক এবং সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক।
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১৬ গবেষক স্থান পেয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চসংখ্যক গবেষক স্থান পাওয়ার দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার যৌথভাবে বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের এই তালিকা প্রকাশ করে। গত বছর এ তালিকায় বাকৃবির ১২ জন গবেষক স্থান পেয়েছিলেন। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহলেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৭ জন গবেষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তালিকায় স্থান পাওয়া বাকৃবির গবেষকেরা হলেন—প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হান্নান, ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর, অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফজলে রোহানী, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম লুৎফুল কবির, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম দস্তগীর এবং প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাহজিব-উল-আরিফ। এ ছাড়া অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. টুম্পা রানী সরকার, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান এবং প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২২ জন গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।
৫০তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত গুগল ফর্মটি যারা এখনও পূরণ করেননি, তাদের ১২ অক্টোবরের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পিএসসি সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রার্থীকে একটি গুগল ফর্ম পূরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও ফর্মটি দাখিল করেননি। যেসব প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুগল ফর্মটি পূরণ করতে পারেননি, তাদের কারণ দর্শানোসহ ২ অক্টোবরের মধ্যে আবশ্যিকভাবে এই লিংকে গিয়ে ফর্মটি জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এ–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পিএসসি সচিবালয়ের সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী ও দক্ষ করে তুলতে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। আজ বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল' (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাঙ্গণ ও শিল্পখাতের মেলবন্ধন: গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং শিল্পায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে কেবল বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করা কঠিন। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, চাকরির প্রস্তুতি, যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতায় শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করে তুলতে হবে। তিনি জানান, এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ইউজিসির ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (হিট) প্রজেক্টের অধীনে আগামী জানুয়ারি থেকে ‘ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ‘এমপ্লয়েবিলিটি স্কিল’ এবং ‘এথিক্স অ্যান্ড প্রফেশনালিজম’ শীর্ষক তিনটি বিশেষ কোর্স চালু করা হবে। ড. মামুন আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মমুখী পরিকল্পনায় তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, শিক্ষা-শিল্পখাত সংযোগ (ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন) এবং শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সহায়তা করবে। তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন হাব, ইনকিউবেশন সেন্টার ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। কর্মসংস্থান ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারের নানামুখী উদ্যোগ তুলে ধরে ড. মামুন বলেন, প্রযুক্তি খাতে বছরে দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার ফান্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের বিকাশে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত (১০ লাখ টাকা ঋণ ও ১০ লাখ টাকা অনুদান) অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’- পুরস্কার পাওয়ার জন্য ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করা আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে দেশের মোট ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীকে মনোনীত করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ৭ জন শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের জন্য মনোনীত রুয়েটের তিন সাবেক শিক্ষার্থী হলেন- পুরকৌশল বিভাগের সুমাইয়া তাবাসসুম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের মিফতাহুল মবিন চৌধুরী এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মহিউদ্দিন আহমেদ। ২০২০ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তামান্না সুলতানা স্বর্ণা। এ ছাড়া ২০২১ সালের জন্য মনোনীত তিন শিক্ষার্থী হলেন- মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাহিনুর আলম, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের মো. মাইনুল ইসলাম এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জাহিদ হাসান। রুয়েটের শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।