বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের গণ্ডিকে বলা হয় জীবনের প্রাণকেন্দ্র। এর গতিবিধিই নির্ধারণ করে দেয় একজন শিক্ষার্থী কিভাবে তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে, কিভাবে আঁকবে তার ভবিষ্যতের রূপরেখা। কিন্তু সেই চিত্রপটে সহসাই ধূসর আঁচড় ফেলতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনঃ ভর্তি। কারো জন্য এই ব্যাঘাত সাময়িক হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘ মেয়াদের দুঃস্বপ্ন। যা পথভ্রষ্ট করতে পারে শিক্ষার্থীদের। ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত, এই পুনঃ ভর্তির খপ্পরে পড়ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগে সর্বশেষ চার শিক্ষাবর্ষে মোট ২৭৮ জন শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি হয়েছেন। যা গড়ে প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৭০ জন এবং শতকরা হিসেবে এটি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাতজনে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহায়ক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে পুনঃ ভর্তির হার। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখা থেকে জানা যায়, সর্বশেষ চার শিক্ষাবর্ষের মধ্যে ২০২২-২৪ শিক্ষার্বর্ষের সর্বোচ্চ মোট ৯২ জন। সবচেয়ে কম হয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৪৭ জন। এছাড়া ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ৫১ জন এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৮৯ জন। এখানে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই চার শিক্ষাবর্ষের হিসেবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি ছিল ৫১ জন। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ জনে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় এখানে প্রায় ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ পুনঃ ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পুনঃ ভর্তির সংখ্যাটা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৪৭ জন। অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৪৮.৯১% হ্রাস পেয়েছে। যা কিছুটা স্বস্তির হলেও পুনরায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ জনে। ফলে এখানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় প্রায় ৮৯.৩৬% বৃদ্ধি ঘটেছে। আরো জানা যায়, এরমধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ ১৭ জন। যেখানে লোক প্রশাসন বিভাগে পাঁচজন, প্রত্নতত্ত্বে ৫ পাঁচজন, অর্থনীতিতে চারজন, নৃবিজ্ঞানে দুইজন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে একজন। পরবর্তীতে বিজ্ঞান অনুষদের ১৪ জনের মধ্যে গণিত বিভাগে চারজন, রসায়নে চারজন, পদার্থবিজ্ঞানে তিনজন, ফার্মেসীতে দুইজন এবং পরিসংখ্যানে একজন। এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ১৩ জনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে ছয়জন, একাউন্টিংয়ে এবং মার্কেটিংয়ে তিনজন করে, ফিনান্সে একজন। এ ছাড়া আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে একজন, প্রকৌশল অনুষদভুক্ত আইসিটি বিভাগে পাঁচজন এবং কলা ও মানবিক অনুষদভুক্ত ইংরেজি বিভাগে একজন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি হয়েছেন। পরবর্তী ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোট ৯২ জনের মধ্যে শুধু বিজ্ঞান অনুষদেরই ৩৬ জন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি নিয়েছেন। এর মধ্যে গণিতে ১৩ জন, রসায়ন এবং পরিসংখ্যানে সাতজন, পদার্থবিজ্ঞানে ছয়জন এবং ফার্মেসীতে তিনজন করে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২২ জনের মধ্যে লোক প্রশাসন বিভাগে সাতজন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ছয়জন, অর্থনীতিতে পাঁচজন, প্রত্নতত্ত্বে তিনজন এবং নৃবিজ্ঞানে একজন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ১৮ জনের মধ্যে মার্কেটিংয়ে সাতজন, একাউন্টিং এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগে চারজন করে এবং ফিনান্সে তিনজন। এছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদের সাত জনের মধ্যে বাংলায় চারজন এবং ইংরেজিতে তিনজন করে, প্রকৌশল অনুষদভুক্ত আইসিটিতে পাঁচজন এবং আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে চারজন। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মোট ৪৭ জনের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞানে সাতজন, গণিতে ছয়জন, রসায়নে তিনজন এবং পরিসংখ্যানে একজন নিয়ে মোট ১৭ জন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১২ জনের মধ্যে অর্থনীতি এবং প্রত্নতত্ত্বে পাঁচজন করে এবং লোক প্রশাসন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় একজন করে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাতজনের মধ্যে একাউন্টিং এবং মার্কেটিংয়ে দুইজন করে ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় তিনজন। এ ছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদের পাঁচজনের মধ্যে বাংলায় তিনজন এবং ইংরেজিতে দুজন। প্রকৌশল অনুষদের চারজনের মধ্যে সিএসইতে তিনজন এবং আইসিটিতে একজন এবং আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে একজন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মোট ৮৯ জনের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের গণিত বিভাগে ১০ জন, পদার্থবিজ্ঞান ও ফার্মেসীতে নয়জন করে এবং পরিসংখ্যান ও রসায়নে ৪ জন করে মোট ৩৬ জন। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২৪ জনের মধ্যে প্রত্নতত্ত্বে নয়জন, লোক প্রশাসন, নৃবিজ্ঞান ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় চারজন করে এবং অর্থনীতিতে তিনজন। এছাড়াও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৯ জনের মধ্যে মার্কেটিংয়ে ৪ জন, ব্যবস্থাপনায় ৩ জন এবং ফিনান্সে ২ জন এবং কলা ও মানবিক অনুষদের ৮ জনের মধ্যে বাংলায় ৫ জন, ইংরেজিতে ৩ জন, আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে ৮ জন, প্রকৌশল অনুষদের ৪জনের মধ্যে আইসিটিতে ৩ জন, সিএসইতে ১ জন। এখানে ৪ শিক্ষাবর্ষের তথ্য বিশ্লেষণে আরো পাওয়া যায়, অনুষদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুনঃ ভর্তির ঘটনা ১০৩টি ঘটেছে বিজ্ঞান অনুষদে বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫ টি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। পরবর্তী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৭৫ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২ জন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৪৭ জনের মধ্যে মার্কেটিং এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৬ জন করে। প্রকৌশল অনুষদের ১৮ জনের মধ্যে আইসিটি বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪ জন এবং আইন অনুষদের একমাত্র বিভাগ আইনে ১৪ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুনঃ ভর্তির যাত্রা শুরু হয় সেকেন্ড টাইম প্রস্তুতি দিয়ে। প্রথম বর্ষে পুনঃ ভর্তি প্রবণতার সবচেয়ে বড় একটি কারণ এটি। ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রথম বর্ষের পরিস্থিতি। অনেকেই ভালো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ভালো বিষয়ের আশায় শুরুতে একাডেমিকের বাহিরের পড়াশোনায় মনোযোগী থাকে, ফলে পরবর্তীতে পুনঃ ভর্তি ছাড়া দ্বিতীয় কোন সুযোগ থাকে না। বিজ্ঞান অনুষদের বেশি পুনঃ ভর্তির কারণ সম্পর্কে জানা যায়, কঠিন ও সময়সাপেক্ষ সিলেবাস, ল্যাবভিত্তিক ক্লাস ও পরীক্ষার চাপ, কোর্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার হার বেশি, পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতির দ্বৈত চাপ, দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, পরীক্ষা ও প্রজেক্টের চাপে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে ইত্যাদি। এছাড়া সার্বিকভাবে আরো কারণের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বহিষ্কার, আর্থিক অসচ্ছলতা, মানসিক অবসান, হতাশা, অসুস্থতা, ইংরেজি ভার্সনে পড়াশোনা, এক বিভাগে পড়াশোনা করে থেকে অন্য বিভাগের সাবজেক্টে ভর্তি হওয়ায় তৈরিকৃত চাপ। এছাড়া রয়েছে অ্যাকাডেমিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারা এবং ভাষাগত সমস্যা ইত্যাদি। এই সমস্যাটির সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এবং পুনঃ ভর্তি পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা সামলানোর জন্য প্রয়োজন হয় মানসিক উন্নতির গাইডলাইন। যা তাদেরকে সাহায্য করতে পারে হতাশা কমানোতে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থানে। এখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক দেখভালের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে শেষ কবে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সভা-সেমিনার কিংবা কাউন্সেলিং ক্যাম্পেইন হয়েছে বলা দুষ্কর। ফলে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাওয়ার কিছুই নেই। নাম এবং শিক্ষাবর্ষ প্রকাশ না করার শর্তে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রিএড আমার জন্য এখনো দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে। হুট করে জুনিয়রদের সাথে ক্লাস করতেও শুরুতে খুব অস্বস্তি লাগতো। সেকেন্ড টাইম প্রিপারেশনের জন্য এখানে ক্লাস-পরীক্ষা কিছুই করি নাই। এখন বুঝতে পারছি, তখন ভুল করেছিলাম। তখন অন্তত ক্লাসগুলো করা থাকলে ইয়ার লস খেতাম না।’ পুনঃ ভর্তি হওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা নতুন অনেককিছুই বুঝতে পারে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি তাদের সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি পরিকল্পনায় রেখেছি। আমরা নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে ধাপে ধাপে কাজ করা পরিকল্পনা করেছি। শুরুতে তাদেরকে একটি ফর্মে প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের মানসিক অবস্থা গুলো জানার চেষ্টা করব। তারপর ধাপে ধাপে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী গাইডলাইন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এতে করে প্রথম বর্ষে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়ক হবে। আমরা পরিকল্পনা করেছি, সামনে সেগুলো বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।’
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি আবারও পরিবর্তন হতে পারে। মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনাতে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় সমালোচনা হচ্ছে। অংশীজনরা চাইলে পরীক্ষার সূচি আবারও পরিবর্তন হতে পারে। এর আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এসময় সেশন জোট কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি।
গবেষণার উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে ১ কোটি টাকার একটি এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়াত প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর ময়নুল হক এবং তাঁর এমএস গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ড. জন আলফ্রেড ট্যালেন্ট-এর স্মৃতি সংরক্ষণে ‘মীর ময়নুল হক এন্ড জন ট্যালেন্ট মেমোরিয়াল এনডাউমেন্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রয়াত মীর ময়নুল হকের ছোট ভাই ড. মীর মুবিনুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম-এর কাছে ১ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেন। ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম এ লতিফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া, প্রয়াত মীর ময়নুল হকের সহোদর মীর মফিদুল হক, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, ভূতত্ত্ব অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং দাতা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এনডাউমেন্ট ফান্ডের মোট অর্থের ৩০ শতাংশ ব্যয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগে ‘ময়নুল-ট্যালেন্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থের লভ্যাংশ থেকে গ্র্যাজুয়েট গবেষকদের পিএইচডি ও এমফিল গবেষণা, এমএস ফেলোশিপ, স্কলারশিপ এবং ফিল্ডওয়ার্ক-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠনের জন্য দাতা পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ অনুদান ভূতত্ত্ব বিভাগের গবেষণা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি ড. মীর মুবিনুল হকের এই উদ্যোগকে অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য অ্যালামনাইদের প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারন্যান্স (আইসিওজি-ডিইউ) এবং চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফি (এফআইও)-এর যৌথ উদ্যোগে আজ দেশের উপকূলীয় জলসীমায় আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশগত মডেলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে দিনব্যাপী এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। হীট এটিএফ সাব- প্রজেক্ট ১৩০২৫-এর আওতায় আয়োজিত এ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এসময় আরও বক্তৃতা করেন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, হীট প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড ক্যাপুয়ানো, এফআইও - এর বিজ্ঞানী ড. শুমিন জিয়াং। স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিওজি - এর পরিচালক অধ্যাপক ড. কে. এম. আজম চৌধুরী। এছাড়া, সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির বিজ্ঞানীরাও উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে আইসিওজি-ডিইউ ও এফআইও -এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে ক্রেস্ট বিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রবিজ্ঞান, উপকূলীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে চলমান বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উপাচার্য আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক বাংলাদেশের অর্থনীতি, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। এ প্রেক্ষাপটে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির সঙ্গে পরিচালিত যৌথ গবেষণা কার্যক্রম দেশের সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি জানান, আন্দামান সাগরে জিএনএসএস বয়া সফলভাবে স্থাপন এবং মেঘনা মোহনায় সিএনএসএস বয়া স্থাপনের চলমান উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এসব প্রযুক্তি উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা, নৌ-নিরাপত্তা, দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি, জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উপাচার্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুমোদিত ‘ডিপ প্রেজেন্ট’ প্রকল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এ অর্জন দেশের গবেষকদের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রকল্পটির গবেষণালব্ধ ফলাফল টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী দিনের সামুদ্রিক ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষণার নেতৃত্ব তাদেরই দিতে হবে। জ্ঞান, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুস্থ সমুদ্র পরিবেশ এবং জলবায়ু সহনশীল বিশ্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে এফআইও -এর বিজ্ঞানীরা আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, সামুদ্রিক ভূ-ঝুঁকি এবং উপকূলীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া হীট প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রকল্পের মডেলিং কাঠামো এবং জিএনএসএস বয়া ডেপলয়মেন্ট প্রজেক্ট -এর ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আওতায় অত্যাধুনিক মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তি ও সংখ্যাগত মডেলিংকে সমন্বিত করা হয়েছে। ডেলফট ৩ ডি মডেলিং সিস্টেম ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূষণের গতিশীলতা, বিষাক্ত পদার্থের বিস্তার এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দূষণ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করা হবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ পরিবেশগত ডেটাবেইস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষকদের জন্য রিয়েল-টাইম বয়া তথ্য বিশ্লেষণ, সমুদ্রবিজ্ঞান ভিত্তিক মডেলিং, উপকূলীয় ঝুঁকি পূর্বাভাস এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু ও তেল দূষণের প্রভাব মূল্যায়ন এবং তা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে।
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ফের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিলম্ব ফিসহ আগামী ১৫ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত আগ্রহীরা ফরম পূরণ করতে পারবেন। সোমবার (১ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ আগামী ১৫ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো এবং ‘সোনালী সেবার’ মাধ্যমে ফি পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ ১৬ জুন নির্ধারণ করা হলো। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
ইতালিতে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকার ইতালি দূতাবাস। ঢাকায় দেশটির ভিসা প্রক্রিয়াকারী প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল সোমবার (১ জুন) এই নির্দেশনার কথা জানায়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটি পোর্টালে নিয়মিত নিবন্ধন করেছেন, তাদের সঙ্গে ভিএফএস গ্লোবাল ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে। যোগাযোগের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। আলাদা করে শিক্ষার্থীকে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে না। ইউনিভার্সিটিতে তাদের নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীরা যে ইমেল ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন, সেই একই ইমেইলে ভিএফএস যোগাযোগ করবে। শিক্ষার্থীদের স্পন্সর কারা হতে পারবেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়। এতে বলা হয়েছে, বাবা-মায়ের পাশাপাশি দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা-ফুপু, মামা-খালা এবং কাজিনের আর্থিক গ্যারান্টিও গ্রহণ করা হবে। এমনকি ইতালিতে বসবাসরত আত্মীয়রাও স্পনসর হতে পারবেন। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভাষাগত দক্ষতা সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। ভাষার ক্ষেত্রে দূতাবাস কেবল বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট গ্রহণ করবে, যেখানে মৌখিক বোধগম্যতা, লিখিত বোধগম্যতা, কথা বলা এবং লেখার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ভাষাগত দক্ষতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকতে হবে। এ ছাড়া, আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারীর অধ্যয়নের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে সিআইএমইএ কিংবা ডিক্লেয়ারেশন অব ভ্যালু জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক-তালিকাভুক্তির জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ২৯ অক্টোবর।
পাকিস্তানের কমস্যাটস বিশ্ববিদ্যালয় ওআইসি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে কয়েকটি প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ দিচ্ছে। এ বৃত্তির আওতায় কোনো টিউশন ফি ছাড়াই স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিসের ওপর মাস্টার্স অব সায়েন্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ২৫টি বৃত্তি দেবে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়টি। কমস্যাটস বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ পাকিস্তানের একটি ফেডারেল চার্টার্ড পাবলিক সেক্টর বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৮ সালে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আবেদনের যোগ্যতা স্নাতকোত্তরে ১৬ বছরের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। স্নাতকোত্তরের জন্য একাডেমিক ক্যারিয়ারে ন্যূনতম সিজিপিএ–২ দশমিক ৫ (৪–এর মধ্যে বা ৫৫ শতাংশ নম্বর) পেতে হবে। পিএইচডির জন্য ১৮ বছরের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। একাডেমিক ক্যারিয়ারে ন্যূনতম সিজিপিএ–৩ (৪–এর মধ্যে বা ৬০ শতাংশ নম্বর) পেতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ৩১ মে ২০২৬ অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের বিস্তারিত জানতে এ আবেদনের পদ্ধতি দেখতে এখানে ক্লিক করুন https://internationaladmissions.comsats.edu.pk
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে কোনো স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় প্রভাব চলবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে নিয়োগ। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সকালে শহরের তাঁতিপাড়া কালিবাড়ী বড় মাঠের পশ্চিম পাশের এলাকায় এই কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল। পরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে যেতে হবে।এজন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে কোনো দলীয় প্রভাব চলবে না, কোনো স্বজনপ্রীতিও চলবে না। যাদের সর্বোচ্চ যোগ্যতা থাকবে, তারাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে উপাচার্য নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. ইসরাফিল শাহীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন প্রমুখ।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঢাবি’র জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় ঈদুল আযহার দু’টি জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন জ্যেষ্ঠ ইমাম খতিব হাফেজ মাওলানা নাজীর মাহমুদ এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের জ্যেষ্ঠ মোয়াজ্জিন এম এ জলিল। এছাড়াও, ঈদের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৭টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল লনে সকাল ৮টায় এবং ফজলুল হক মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইউনিসেফ-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন চাইল্ড প্রোটেকশন’ শীর্ষক একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে। প্রোগ্রামটি চালু করার লক্ষ্যে রোববার উপাচার্যের সভাকক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিসেফ-এর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানা, ইউনিসেফ-এর শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ন্যাটালি ম্যাককুলি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠককালে সমাজকর্মী, মনোসামাজিক পরামর্শক এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীসহ বর্তমান সমাজসেবা কর্মীদের কারিগরি দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিসেফ এই যৌথ সহযোগিতামূলক একাডেমিক প্রোগ্রাম গ্রহণে ঐকমত্য প্রকাশ করেন। তারা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু, নারী ও পরিবারকে কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের পেশাজীবীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালুর ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান। এই প্রোগ্রাম জাতীয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সমাজসেবা কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শনিবার (২৩ মে) থেকে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৬ জুন পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলো খোলা হবে না। আগামী ৭ জুন থেকে বিদ্যালয়সমূহে নিয়মিত ক্লাস ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি আদেশে বলা হয়েছিল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২৫ মে থেকে ৩১ মে অফিস বন্ধ থাকবে এবং ২৩ ও ২৪ মে বিদ্যালয় খোলা থাকবে। এ কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। অনেকে সমালোচনা করেছেন, ছুটির আগে কয়েকদিন বিদ্যালয় খোলা রাখার মাধ্যমে উপস্থিতি বা পাঠদানে কোনো কার্যকর প্রভাব পড়বে না। মন্ত্রণালয় দ্রুত এই বিষয়টি সমাধান করে নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, ২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
জাপানে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে দেশটিতে পড়াশোনা করতে গেলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই হয় না—পেরোতে হয় একাধিক প্রক্রিয়া। জাপান সরকার পরিচালিত ‘স্টাডি ইন জাপান’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে জাপানে আবাসন নিবন্ধন পর্যন্ত ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। যোগ্যতার সনদ কী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি হলো যোগ্যতার সনদ (Certificate of Eligibility)। এটি প্রমাণ করে যে শিক্ষার্থী জাপানে দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনার জন্য নির্ধারিত অভিবাসন শর্ত পূরণ করেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী বা তার জাপানে অবস্থানরত প্রতিনিধি আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন সার্ভিস ব্যুরোর মাধ্যমে যোগ্যতার সনদের আবেদন করতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে গ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এই আবেদনপ্রক্রিয়ায় প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করে। আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বাধ্যতামূলক জাপানে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। ‘স্টাডি ইন জাপান’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সঞ্চয়পত্র, আগের বছরের আয় সনদ এবং অর্থের উৎস–সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব নথি শিক্ষার্থী নিজে অথবা তাঁর আর্থিক অভিভাবকের নামে হতে পারে। শিক্ষার্থী ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে যোগ্যতার সনদ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের জাপানি দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন করতে পারবেন। সরকারি নির্দেশনায় যেসব নথি উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো— – বৈধ পাসপোর্ট – ভিসা আবেদন ফরম – পাসপোর্ট সাইজের ছবি – যোগ্যতার সনদ – প্রয়োজনে অতিরিক্ত সহায়ক নথি রেসিডেন্স কার্ড তিন মাসের বেশি সময় জাপানে অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি রেসিডেন্স কার্ড বা ‘জাইরিউ কার্ড’ দেওয়া হয়। বড় বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করলে সাধারণত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সময়ই এই কার্ড দেওয়া হয়। ছোট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশকারীরা পাসপোর্টে সিল পান এবং পরে স্থানীয় নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর কার্ড সংগ্রহ করেন। আবাসিক ঠিকানা নির্ধারণের ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় পৌর কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। জাপানে অবস্থানের সময় এই কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। মাই নাম্বার (My Number) কী? জাপানে অবস্থানকারী বিদেশিদের একটি ১২ সংখ্যার সামাজিক নিরাপত্তা ও কর শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হয়, যা ‘My Number’ নামে পরিচিত। স্থানীয় নিবন্ধনের পর এই নম্বর ইস্যু করা হয় এবং এটি প্রশাসনিক কাজ, ব্যাংকিং সেবা ও খণ্ডকালীন চাকরির নথিপত্রে ব্যবহৃত হয়। ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা নিয়ম— শুধু ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে জাপানে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের Temporary Visitor Visa-এর আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেবেন সেখান থেকে ইস্যুকৃত পরীক্ষার ভাউচার দেখাতে হবে। জাতীয়তা ও ভিসার ধরন অনুযায়ী অস্থায়ী দর্শনার্থীরা ১৫, ৩০ অথবা ৯০ দিন পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করতে পারেন।
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ ও স্কুল অ্যান্ড কলেজ) নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি এবং সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একইসঙ্গে জাতীয় তথ্য বাতায়নের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের সব শিক্ষা অফিসকেও আগামী ৪ জুনের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে একটি নির্দিষ্ট গুগল ফরমে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় তথ্য বাতায়নের অধীনে মাউশির আওতাধীন আঞ্চলিক কার্যালয়, জেলা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিস এবং অধীনস্থ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়েবসাইট চালু থাকলেও সেগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে না। এছাড়া, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদকরণের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বনির্ধারিত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি দপ্তরের ওয়েবসাইটে কর্মরত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর, টেলিফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় কনটেন্টসমূহ নিয়মিত দৃশ্যমান ও হালনাগাদ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের অনেক অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিয়মিত আপডেট করছে না, যা অত্যন্ত জরুরি ও আবশ্যকীয় বিষয়। এই পরিস্থিতিতে, আগামী ৪ জুনের মধ্যে মাউশির আওতাধীন সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা অফিস এবং সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজসমূহকে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি অথবা বিদ্যমান ওয়েবসাইট হালনাগাদ নিশ্চিত করতে হবে। ওয়েবসাইট প্রস্তুত ও হালনাগাদ করার কাজ শেষ করে একটি নির্ধারিত গুগল ফরম লিংকে (https://forms.gle/RbTAqoNqi3FVdg5u7) ক্লিক করে সেই সংক্রান্ত তথ্য সাবমিট করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে মাউশি কর্তৃপক্ষ।
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের দীর্ঘ ছুটি শুরুর আগের দিন, অর্থাৎ আগামীকাল শনিবার দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শনিবার অন্য দিনের মতোই ক্লাস ও নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোজা ও ঈদের ছুটির কারণে ক্লাসের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে আগেই ১০টি শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। সেই হিসাব অনুযায়ী আগামীকাল প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা। তবে জটিলতা তৈরি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘মিড ডে মিল’ পরিবেশনের একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে। সেখানে আগামীকাল থেকেই প্রাথমিকে খাবার বিতরণ বন্ধের কথা বলা হয়েছিল, যা পরোক্ষভাবে ওইদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার ইঙ্গিত দেয়। দুই বিপরীতমুখী নির্দেশনার কারণে শনিবার বিদ্যালয় খোলা থাকবে নাকি বন্ধ—এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেতে হয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে। কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় মাঠপর্যায়ের জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাও শিক্ষকদের নির্ভুল তথ্য দিতে পারছিলেন না।
অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ কমানো এবং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২০ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। সাধারণত একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় একবার এবং পরে নবম শ্রেণিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবার রেজিস্ট্রেশন করে। সেই প্রেক্ষাপটে অষ্টম শ্রেণিতে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। একইসঙ্গে এটি অভিভাবকদের মাঝেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সব দফতর এবং দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) চার অনুষদে উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে পুনরায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব হিসেবে চার শিক্ষককে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট কর্তৃক নতুন ডিন নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন, বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান, প্রকৌশল অনুষদে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। এ ছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদে ডিনের দায়িত্বে থাকবেন স্বয়ং উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। অফিস আদেশে ছুটি, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে ডিনের পদ শূন্য থাকায় উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে চারজন শিক্ষককে ডিনের রুটিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ১১ই মে একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে ছয়জন শিক্ষককে আইনি মতামত না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব হিসেবে ছয়টি অনুষদে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেটিকে 'বিধিবহির্ভূত এবং 'নিয়ম ব্যত্যয়কারী' দাবি করে তৎকালীন সময়ে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। তাদের মতে, উক্ত নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কিংবা বিভাগ রোটেশনের নিয়ম- এ দুটোকে অগ্রাহ্য করে পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী ইচ্ছেমতো নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ করেছেন। ফলে গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দ্বিতীয় কার্যিদবসের মধ্যেই গত ১৮ মে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম পূর্ববর্তী প্রশাসনের অফিস আদেশ বাতিল করেন। গত ১৮ মে প্রচারিত বাতিলের অফিস আদেশ অনুযায়ী, ছয়টি অনুষদেরই ডিনের দায়িত্ব উপাচার্য নিজে গ্রহণ করেন। একই দিনে পৃথক আরেকটি অফিস আদেশের মাধ্যমে উপাচার্যের উপর অর্পিত আইন অনুষদের দায়িত্ব অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশনস বিভাগের অধ্যাপক ড. বেলাল উদ্দিনের উপর ন্যস্ত করা হয়। এবার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কলা ও মানবিক অনুষদ রেখে বাকি চার অনুষদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, 'সদ্য সাবেক উপাচার্য আইন বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়া ডিন নিয়োগ দেওয়ায় আগের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। পরে ডিনের দায়িত্ব উপাচার্যের কাছে যায়। প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পাঁচটি অনুষদে সাময়িকভাবে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট ও আইন বিশেষজ্ঞের মতামত না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন।' উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ ধারা ২২(৬) অনুযায়ী এ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিধি মোতাবেক দায়িত্বভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আগামী ২১ মে থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, চাকরির বাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলমান ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’-এর সাইডলাইনে বুধবার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ‘ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড’-এর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন স্ট্র্যাটেজি ডেলিভারি লিড জোনাথন লেজার। বৈঠকে কেমব্রিজ পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের পিয়ারসন এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিবৃন্দও অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। তারা বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, তাদের চাকুরির বাজারের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ (ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিঙ্কেজ) জোরদার করা এবং বাজার-চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক কারিকুলাম ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি জোনাথন লেজার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় চাহিদা এবং অগ্রাধিকারের সাথে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে তাদের কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে, দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে যুক্তরাজ্যের উন্নত প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বুধবার (২০ মে) নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব-নীতি সংলাপ : উচ্চশিক্ষায় দায়িত্বশীল ও উদ্ভাবনী এআই একীকরণের রূপরেখা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ইউনেসকোর পৃষ্ঠপোষকতায় ইউনেসকো কাঠমাণ্ডু, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়, এডিবি এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা উদ্ভাবন কেন্দ্র যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নেপালের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী শাসমিত পোখারেল, নেপালে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিং, নেপালের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক দেব রাজ অধিকারী এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর আর্নড কশোইস। এ ছাড়া ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দীপক আরিয়াল, নেপালে ইউনেসকো প্রতিনিধি জ্যাকো ডু টোইটাএবং ইউনেসকো-আইসিএইচইআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক জিন লি সম্মেলনে বক্তব্য দেন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি ও শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পরিমার্জিত নির্ভুল পাঠ্যবই সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। তিনি বলেন, ‘২০২৭ শিক্ষাবর্ষে যথাসময়ে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত জাতীয় জীবনে যার যতটুকু প্রাপ্তি ও অবদান রয়েছে, তা কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই প্রকৃত ইতিহাস বইয়ে তুলে ধরা হচ্ছে।’ আজ সকালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কার্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা সচিব। ইতিহাস বইয়ের পরিমার্জন ও নতুন কনটেন্ট সংযুক্তি সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা সচিব বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান যুক্ত করা হচ্ছে। মাধ্যমিকের সকল শ্রেণিতে ৭ নভেম্বর : ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ তথা ‘সিপাহী জনতার বিপ্লব’ সম্পর্কে বিবরণ যাচ্ছে। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রেক্ষাপট এবং ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের বিস্তারিত ঘটনাপ্রবাহ পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সচিব বলেন, একইসঙ্গে প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিকের নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে তাঁর ঐতিহাসিক জোট গঠন, কারাবরণ, গৃহবন্দি দশা এবং রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্বদানের আপসহীন ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব জানান, বিশেষ করে মাধ্যমিকের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান এবং স্বাধীনতার ঘোষণার বিস্তারিত বিবরণসহ মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন সেক্টর ও ফোর্সের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তা যুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষা সচিব সাংবাদিকদের আরো জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ যেন কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সেজন্য এনসিটিবি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘এনসিটিবি’র বিশেষজ্ঞরা এই রোডম্যাপ অনুযায়ী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। চলতি মাসের মধ্যেই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত বই চূড়ান্ত করা, বই বাছাই এবং বইয়ের কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। এই কর্মযজ্ঞ সফল করার পথে যদি কোনো প্রশাসনিক বাধা থাকে, তবে মন্ত্রণালয় তা দূর করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’ শিক্ষা সচিব বলেন, ‘অতীতে যারা খারাপ কাজ করেছে বা শেষ মুহূর্তে এসে নিম্নমানের বই দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের এ বছর বই ছাপার কাজ দেওয়ার আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। পাঠ্যবই মুদ্রণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা (ট্রান্সপারেন্সি) নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ পর্যালোচনা সভায় এনসিটিবি চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের অন্যান্য সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ জালিয়াতি, জাল সনদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের সনদই জাল। এর মধ্যে কলেজ শাখার ৬১ শিক্ষক-কর্মচারীর সবার সনদই জাল। এই সনদ দিয়ে চাকরি করে সরকারের সাড়ে ৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ শাখায় কর্মরতরা ৪ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং স্কুল শাখার শিক্ষক-কর্মচারীরা ১ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮০১ টাকা বেতন-ভাতা বাবদ নিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন ডিআইএর পরিদর্শক সনজয় চন্দ্র মন্ডল, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার এবং অডিটর মো. সিরাজুল ইসলাম। গত রবিবার প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এত শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা মন্ত্রণালয়কে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক ২০০০ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু নিয়োগের সময় তার প্রয়োজনীয় বিএড সনদ ও অভিজ্ঞতা ছিল না। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতা সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া যায়। পরে তিনি শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে বিএড সনদ নেন, যা তদন্ত কর্মকর্তারা গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো মো. ইমদাদুল হকের স্নাতকোত্তর সনদের সঙ্গে তার প্রকৃত পরিচয়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, সংশ্লিষ্ট সনদধারীর পিতার নাম ‘Md Asir Uddin’ এবং মাতার নাম ‘Mrs Ahmeda Khatun’, অথচ ইমদাদুল হকের এসএসসি, আলিম ও চাকরির কাগজপত্রে পিতার নাম ‘মো. আজহার আলী’ এবং মাতার নাম ‘মমিরন নেছা’ উল্লেখ রয়েছে। ফলে সনদটিকে জাল বলে অভিহিত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। জাল সনদ ব্যবহার করে অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক ৪১ লাখ ২১ হাজার ২৬১ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৮৫৪ টাকা এবং অধ্যক্ষ হিসেবে ১৬ লাখ ১০ হাজার ৪০৭ টাকা উত্তোলন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানে কোনো স্টক রেজিস্টার নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি মালামালের হিসাব সংরক্ষণ এবং নিয়মিত স্টক যাচাই করা হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ এডহক কমিটি দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়েছে। গভর্নিং বডির কার্যক্রমেও নানা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড ও এমপিও নীতিমালা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং এক পদে কর্মরত থেকে অন্য পদের বেতন উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা অধিশাখা) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো আমার কাছে আসেনি। প্রতিবেদন পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কলেজ শাখায় কার কাছ থেকে কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে: অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক: ৪১,২১,২৬১ টাকা অন্যান্য প্রভাষক ও শিক্ষক-কর্মচারী: ২ লাখ থেকে ১২ লাখ পর্যন্ত প্রত্যেকের হিসাব অনুযায়ী ফেরত স্কুল শাখায় কার কাছ থেকে কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে: সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আরিফ রব্বানী: ৯,০১,৮৭৭ টাকা অন্যান্য সহকারী শিক্ষক, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী: ৫ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৩২ লাখ পর্যন্ত প্রত্যেকের হিসাব অনুযায়ী ফেরত
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ১৯৯০ (২০০২ এ সংশোধিত) এর ধারা-৬ এর বিধান অনুযায়ী এই ট্রাস্টের ‘১২তম ট্রাস্টি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। ২১ সদস্যবিশিষ্ট এই নতুন ট্রাস্টি বোর্ড আগামী ৩ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবগঠিত ১২তম ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালককে কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে। কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বগুড়ার শেরপুরের শালফা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ আলী। পদাধিকারবলে বোর্ডের সদস্যরা হলেন- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-৩) বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা, মাউশি অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অর্থ বিভাগের একজন উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তা। পরিষদে শিক্ষক ও কর্মচারী প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন- ঢাকার মিরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপক আবু সাঈদ, সিলেটের নুরজাহান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদার, টাঙ্গাইলের কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের সহকারী অধ্যাপক এ. কে. এম আব্দুল আওয়াল, কিশোরগঞ্জ সদরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়ার শিক্ষক এ. কে ফজলুল হক, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম টিপু, চাঁদপুরের কচুয়ার সাচার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, ঢাকার শাহ আলীর মসজিদুল আকবার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন মুন্সি, টাঙ্গাইলের বাংলাবাজার চামাদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক আব্দুল আলীম আকন্দ এবং ভোলার দক্ষিণ মাদ্রাজ-এর হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কারিগরি ও কর্মচারী প্রতিনিধি হিসেবে কুমিল্লার গৌরীপুরের আকবার আলী খান টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজের ইনস্ট্রাক্টর মো. হারুনুর রশিদ, ঢাকার সায়েদাবাদের রেজাউল করিম চৌধুরি কলেজের প্রধান সহকারী মো. কামরুজ্জামান মিজান, ঢাকার সূত্রাপুরের ঢাকা সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুলের হিসাব রক্ষক এ. এম গোলাম ছরোয়ার এবং ঢাকার গেন্ডারিয়ার মনিজা রহমান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অফিস সহায়ক মো. মতিউর রহমান-কে সদস্য করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী বাসস-কে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটির সচিবকে আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হবে। এরপর থেকে নবগঠিত এই পরিচালনা পর্ষদ বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বিবিধ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।