দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও বৈষম্য দূরীকরণের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার কমন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাশাপাশি আইনি জটিলতা কাটিয়ে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জট কেটে যাবে এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে।’ শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সিলেবাস ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক। আগামী দিনে মাদ্রাসার এবং সাধারণ শিক্ষার যেসব বিষয় কমন (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, ইকোনমিক্স ও সোসিওলোজি)-সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে।’ মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে সেখানেও কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি এডুকেশনসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এ ছাড়া, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড একযোগে একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের একটি মামলার কারণে সারা দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ থমকে আছে। ফলে বহু সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি না পেয়েই অবসরে যাচ্ছেন। তিনি জানান, ‘সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনা এবং ৩০০ বিধিতে আমার বক্তব্যের পর বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে আদালত এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এটি হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা আরও ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব।’ শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ‘অটোমেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবস্থার সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ১০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রজেক্ট ৮০ কোটি টাকায় ঠেকলেও তা শেষ হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সঠিক ইএফটি ডাটাবেজ না থাকায় বেতনের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নির্ধারণে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। বর্তমান সরকার এই জটিলতা নিরসনে দ্রুত কাজ করছে। জনসংখ্যাকে অভিশাপ না ভেবে সম্পদে পরিণত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আল্লাহ মানুষের মাঝে মেধার কোনো বৈষম্য করেননি। উন্নত বিশ্ব মেধার চর্চা করে এগিয়ে গেছে। আমাদের শিশুদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী স্কুলগামী শিশুদের জুতো, মোজা, ড্রেস, ব্যাগ, বই এবং মধ্যাহ্নভোজ (মিড-ডে মিল) দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। একই সাথে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চাকে সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদ্যাপন এবং ‘ডিনস ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের অনগ্রসর শিক্ষাব্যবস্থাকে অধিক গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নিয়েছিল। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, তাদের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দেশের ভবিষ্যত্ উন্নয়নে শিক্ষাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো বৈষম্য থাকুক। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার যেসব বিষয় অভিন্ন-যেমন বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান রয়েছে, সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সারা দেশের স্কুলগামী শিশুদের জুতা, মোজা, পোশাক, ব্যাগ, বই ও মধ্যাহ্নভোজ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ স্থানে একটি বীজ বপন করেছিলেন। সেই বীজ আজ এ অঞ্চলের শিক্ষাকে আলোকিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় সব ধরনের সহযোগিতায় করার আশ্বাস দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৫১ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসির (উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট) শনিবারের পরীক্ষা নিয়ে সব জেলা প্রশাসককে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেভেন্থ ডে এভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের শনিবারের পরীক্ষা ভিন্ন সূচিতে নেয়ার বিষয়ে তাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি সব জেলার জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সেভেন্থ ডে এভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষার্থীরা ধর্মীয় বিধি নিষেধের কারণে সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলোতে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে। তবে শর্ত থাকে যে, এ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত পরীক্ষার্থীরা শনিবার সকাল ১০টার আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হবে ও পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করবে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পর তাদের সাথে প্রবেশপত্রে বর্ণিত দ্রব্যের বাইরে কিছু থাকবে না। কোন অবস্থাতেই তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না এবং বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না। শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অন্তত ২৪ শিক্ষক। কিন্তু পড়াশোনা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেননি, ফেরতও দেননি শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া বেতন-ভাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের কাছে জাবির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসব শিক্ষক মাস্টার্স, পিএইচডি বা পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন। জাবি শিক্ষক নিয়োগ ও কর্মসংস্থান বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষকদের ৩০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় নিজ নিজ পদে যোগ দিতে হয়। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানের সময়ের অতিরিক্ত অন্তত তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি এ শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া সব বেতন-ভাতা প্রচলিত ব্যাংক হারে সুদসহ এককালীন পরিশোধ করতে হয়। জাবির টিচিং সেকশনের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল কবির গত ১৪ জুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এই শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনকে অবসরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের মধ্যে অধিকাংশকে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে আবার বরখাস্তও করা হয়েছে। তাদের শিক্ষাছুটিতে যাওয়ার তারিখ থেকেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্র জানায়, অধিকাংশ শিক্ষককে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর প্রশাসনের একাধিক নোটিশ ও ব্যাখ্যা চাওয়ার পরও সাড়া না দেওয়ায় কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়। রেজাউল কবির বলেন, বকেয়া অর্থ ফেরত ও ব্যাখ্যা চেয়ে শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানায় অন্তত তিনটি করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ইমেইলও করা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই কোনো জবাব দেননি। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম আবদুর রব জানান, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষাছুটি-সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্যের (একাডেমিক) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমরা প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখব এবং বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। পাওনা টাকা এখনও অপরিশোধিত ২০২৬ সালের ১৯ মে পর্যন্ত জাবির পাওনা ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকারও বেশি। এর অর্ধেকের বেশি বকেয়া রয়েছে মাত্র ছয়জন সাবেক শিক্ষকের কাছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে দর্শন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল জামালের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার দেনা ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৮০ টাকা।জাবির নথি অনুযায়ী, ফয়সাল ২০১৫ সালে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য তার শিক্ষাছুটি ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, তিনি ২০২২ সালের জুনে দেশে ফিরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করেন এবং কিছুদিন পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে না। যোগাযোগ করা হলে ফয়সাল বলেন, পড়াশোনা শেষ করে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলাম এবং কিছুদিন কাজও করেছি। পরে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করি। আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম, আমার পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সঙ্গে বকেয়া সমন্বয় করে বাকি অর্থ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু তারা আগে পুরো টাকা পরিশোধ করতে বলেছে। এককালীন এত বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক প্রবাল দত্ত। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার বকেয়া ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ১৭ টাকা। বর্তমানে ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ভাসায় ডক্টরাল গবেষক হিসেবে কর্মরত প্রবাল ইমেলের মাধ্যমে বলেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি জাবিতে আর যোগ দেননি।তিনি বলেন, আমি জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে ফিরব এবং শিক্ষাছুটিকালে পাওয়া অর্থ পরিশোধ করব। পরিসংখ্যান ও ডেটা সায়েন্স বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক ফেরদৌস খানের কাছে জাবির পাওনা ৪৪ লাখ ৯ হাজার ৩২৬ টাকা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করা তারেক ইমেলে বলেন, এখনও পুরো টাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছি। একই বিভাগের আরেক সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমানের কাছে জাবির পাওনা ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৭১ টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট থেকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদকের ইমেলের জবাবে আজিজ বলেন, তিনি তার পরিস্থিতি রেজিস্ট্রার অফিসকে জানিয়েছেন এবং বকেয়া পরিশোধের জন্য একটি যৌক্তিক সময়সীমা নির্ধারণের অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরো অর্থের ব্যবস্থা করতে পারলে বাংলাদেশে এসে বকেয়া পরিশোধ করব। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক নওরীন তাবাসসুমের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার জন্য তিনি ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাছুটিতে ছিলেন। পরে ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করার জন্য ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। এরপর তাকে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতনহীন বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি জাবিতে ফেরেননি। কম্পট্রোলার অফিসের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে তার জামিনদার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ অবসরে গেলে তার গ্র্যাচুইটি তহবিল থেকে ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৫ টাকা আটকে রাখা হয়। এরপরও নওরীনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা রয়েছে ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭২৫ টাকা। জাবির কম্পট্রোলার মো. মোসানুল কবির বলেন, নওরীন বকেয়া পরিশোধ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার জামিনদারের গ্র্যাচুইটির একটি অংশ আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বকেয়া পরিশোধ করলে ওই অর্থ অধ্যাপক আজাদকে ফেরত দেওয়া হবে। অধ্যাপক আজাদ বলেন, আমি একাধিকবার নওরীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি সব যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তার স্থায়ী ঠিকানা ও ইমেলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদকের পাঠানো ইমেলেরও তিনি জবাব দেননি। জাবির আরেক সাবেক সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ফজলুর রহমানের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি অনুযায়ী বকেয়া ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২ টাকা। গণিতের এই শিক্ষককে ২০০৭ সালের ১১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামে বায়োস্ট্যাটিস্টিকসের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ফজলুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উল্লেখ করা অঙ্কটি সঠিক নয়। ইমেইলে তিনি জানান, প্রকৃত বকেয়ার তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় তিন গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর আমি কম্পট্রোলার অফিসে একটি চিঠি দিয়েছিলাম, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকা আমার সব তহবিলের বিস্তারিত হিসাব চেয়েছিলাম। সেই তথ্য পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। এ বিষয়ে কম্পট্রোলার অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রচলিত ব্যাংক হারে সুদ যুক্ত হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বকেয়ার পরিমাণ বেড়েছে। করণীয় কী ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেননি এবং পাওনা পরিশোধ করেননি, তারা শিক্ষক হিসেবে নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন। এটি প্রতারণার শামিল। তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি দুর্নীতির আওতায় পড়ে। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। বর্তমানে কেউ বিদেশে অবস্থান করলে প্রচলিত আইনের আওতায় অনুপস্থিতিতেও তাদের বিচার করা যেতে পারে। জাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার বলেন, শিক্ষকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা অত্যন্ত অনৈতিক। তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পারি না। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষে কেউ কেউ আর ফিরে আসতে চান না। জাবির সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদেশে অবস্থানকালে শিক্ষাছুটির সুবিধা পাওয়া শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নে অবদান রাখা। তিনি বলেন, কোনো কারণে যদি তারা ফিরতে না পারেন, তাহলে অন্তত জনগণের অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত। তা না করা অনৈতিক।
শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব রোধ করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুলের ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে নরওয়ে। একই সঙ্গে বড় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোইরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জোনাস স্টোইরে জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে, অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্টের শেষ ভাগ থেকে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। এআই ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট বয়সেই এআই ব্যবহার করলে শিশুরা পড়াশোনার মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। স্কুলের মূল লক্ষ্যই হলো আমাদের সন্তানদের সঠিকভাবে পড়তে, লিখতে ও গণিত শেখানো। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ঠিক রাখতে ও পরীক্ষার ফলাফলে ক্রমাগত অবনতি ঠেকাতে ২০২৪ সালে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নরওয়ে সরকার। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শিক্ষকদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এআই ব্যবহারের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে ইউরোপের দেশটি। প্রধানমন্ত্রী জোনাস স্টোইরে জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে, অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্টের শেষ ভাগ থেকে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত (৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার না করার কথা। নিম্নমাধ্যমিক স্তরের (১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সঙ্গে এআই টুল ব্যবহার করতে পারবে। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে (১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী) শিক্ষার্থীদের উপযুক্তভাবে এআই ব্যবহারের দক্ষতা শেখানো হবে, যেন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে নরওয়ে ১৯৯০-এর দশক থেকে শ্রেণিকক্ষে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করে। পরে ২০১০ সালের পর আইপ্যাড চালুর মাধ্যমে ট্যাবলেটের ব্যবহার বাড়ে, ফলে বই ও হাতের লেখার ওপর নির্ভরতা কমে যায়। গত শুক্রবার প্রকাশিত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে আরও বেশি বই ব্যবহারের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে তারা নতুন আইনের প্রস্তাব করবে। এর মাধ্যমে ট্যাবলেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার প্রবণতা থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিল নরওয়ে। এ বছরের এপ্রিলে নরওয়ে সরকার ঘোষণা দেয়, ১৬ বছর বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমাতে অস্ট্রেলিয়া–যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের অনুসৃত নীতির ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড এখন অনেকের কাছে পড়াশোনার অন্যতম গন্তব্য। যাঁদের পছন্দের তালিকায় আছে দেশটি, তাঁদের জন্য সুখবর। পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা–ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে এবং কিছু বিদ্যমান সুবিধার যোগ্যতা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম। ১৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে যেসব শিক্ষার্থী নিউজিল্যান্ডে লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন এবং নিউজিল্যান্ড বা বিদেশ থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী, তাঁরাও পোস্ট–স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার জন্য যোগ্য হবেন। আবেদনকারীকে পূর্ণকালীনভাবে পুরো গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি স্নাতক সনদ ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ ছয় মাসের জন্য প্রযোজ্য। লেভেল ৭ গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারীরা এক বছরের ওয়ার্ক ভিসা পেতে পারেন, তবে শর্ত হলো স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে বা কোর্সটি গ্রিন লিস্টের পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। নতুন ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’— সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ‘শর্ট-টার্ম গ্র্যাজুয়েট ভিসা’ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করেছে নিউজিল্যান্ড। যেসব শিক্ষার্থী দীর্ঘমেয়াদি পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতা পূরণ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে যোগ্য গ্র্যাজুয়েট ব্যক্তিরা নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ ছয় মাস অবস্থান করে প্রায় যেকোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন। যোগ্যতার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১. নিউজিল্যান্ডে লেভেল ৫ থেকে ৭ পূর্ণকালীন কোর্স সম্পন্ন করতে হবে ২. কোর্সের মেয়াদ কমপক্ষে ২৪ সপ্তাহ হতে হবে ৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ৫,০০০ নিউজিল্যান্ড ডলার (৩,২৫,০০০ থেকে ৩,৭৫,০০০ টাকা) থাকতে হবে ৪. স্টুডেন্ট ভিসা শেষ হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। তবে এই ভিসায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গ্র্যাজুয়েট ব্যক্তিরা এই ভিসার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না, পরিবারকে স্পনসর করতে পারবেন না এবং এটি একবারই পাওয়া যাবে।
লেখাপড়াকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫ ব্যাচ) স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিভিন্ন অনুষদের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এ বি এম আজিজুর রহমান নবীন শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অনুষদের ডিনদের কাছে পাঠক্রম সম্পাদনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ডিনরা শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানটির শেষভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের জাবির ঐতিহ্য ও গৌরব বজায় রাখার শপথ বাক্য পাঠ করান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদানকেন্দ্রের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আফসানা হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দীন রুনু। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম রাশিদুল আলম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি মেনে চলে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি আমাদের সবারই দায়বদ্ধতা রয়েছে। তোমাদের বুঝতে হবে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে শিক্ষিত তরুণ সমাজের ওপর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এই বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করার দায়িত্ব আমাদের সবার, বিশেষ করে তোমাদের মতো শিক্ষার্থীদের। তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ জনসংখ্যাগত সংকটের মুখোমুখি হলেও আমরা সেই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করতে পারি। সঠিক শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বপরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হতে পারে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব। এ ছাড়া, জাকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটিকে উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুক্রবার (১৯ জুন) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মূলত শিক্ষিত তরুণ সমাজের ওপর নির্ভর করছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশ তার বৃহৎ জনসংখ্যাকে উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে। সঠিক শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ বৈশ্বিক পরিসরে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম রাশিদুল আলম শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার শপথ পাঠ করান। এ সময় উপ-উপাচার্যবৃন্দ, কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানজুড়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ে স্বাগত জানানো হয়।
শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করছে এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন পাস হওয়ায় এখন থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নকলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবাইকে উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করে বেকারত্ব বাড়ানো যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের সাজার বিধান যুক্ত করে ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘লিডার্স ট্রেনিং সেমিনার’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সবাইকে শুধু উচ্চশিক্ষা দিয়ে দেশে ‘বেকারত্বের কারখানা’ তৈরি করা যাবে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিতে পারে। সরকার সেভাবেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। বর্তমান সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামীতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পাঠ্যবইয়ে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। শুধুমাত্র অনার্স-মাস্টার্স বা উচ্চশিক্ষার পেছনে না ছুটে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য শূন্যপদের ভুল তথ্য জমা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৩৭টি শূন্যপদের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাউশির তদন্তে যেসব অনিয়ম উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে—প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে নিয়োগ চাহিদা পাঠানো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও পদ দেখানো, ভুল তথ্য প্রদান, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ই-রিকুইজিশন জমা দেওয়া, শিক্ষক প্রয়োজন না থাকলেও পদ খালি দেখানো এবং সময়মতো তথ্য সরবরাহ না করা। নোটিশে সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কেন এমপিও সুবিধা স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ ছাড়া গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামতও চাওয়া হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, প্রাপ্ত জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা স্থগিত বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো অধিকাংশ মানুষ শুধু জিপিএ-৫ অর্জনকে গুরুত্ব দেন, কিন্তু সৃজনশীল ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কম। আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানবসম্পদ রয়েছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে। এজন্য কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও জানান, সরকার ধীরে ধীরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় হচ্ছে, যা আগামীতে ৩.৫ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে এক বছরের মধ্যে আবাসিক হল নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়েও কাজ করার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে দেশে ২৭টিরও বেশি শিক্ষার ধারা বিদ্যমান। তবে মাদরাসা, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ভিন্ন ভিন্ন ধারার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। এজন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা দরকার, যাতে সব শিক্ষার্থীই সমান সুযোগ ও সমমানের যোগ্যতা অর্জনের অধিকার পায়। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নির্ধারণ করেছে। এ ভিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও শিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।হারা শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য চারটি মূল স্তম্ভ ও একটি নতুন উপাদানের কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, স্ট্রিমসমূহের অ্যালাইনমেন্ট (সমন্বয়), প্রযুক্তির সংযোজনের (এআই ও ফিউচার জবস) ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার -টেকসই উন্নয়নের জন্য চারটি মূল স্তম্ভে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা চলতে পারে না।
আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএস (IELTS)-এর ফলাফলে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থার ভুলের কারণে বিশ্বজুড়ে ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় আইইএলটিএসের অন্যতম অংশীদার প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটি ৪২ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা) জরিমানা করেছে যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকোয়াল (Ofqual)। অফকোয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে আইইএলটিএস পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল। এ সময় বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৯৩ হাজার ৮৬৫টি উত্তরপত্র ভুলভাবে মূল্যায়িত হয়, যার ফলে হাজারো পরীক্ষার্থীর ফলাফলে প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধন করা হয়। সংশোধিত ফলাফলে ২০ হাজার ৬০০ জনের বেশি পরীক্ষার্থীর ব্যান্ড স্কোর বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, ১ হাজার ১১৫ জনের ক্ষেত্রে ভুলবশত বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছিল, যা পরে প্রকৃত স্কোর অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১ হাজার ১০৮ জন যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ‘সিকিউর ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট’ (SELT) দিয়েছিলেন। এর মধ্যে চারজন পরীক্ষার্থীর ভিসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে পরে তারা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জন করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ত্রুটিটি কেমব্রিজ ইংলিশের নিজস্ব মনিটরিং সিস্টেমেও ধরা পড়েনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিস্টেম আপডেট করার সময় বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে এবং তারা তাৎক্ষণিকভাবে অফকোয়ালকে বিষয়টি জানানো হয়। অফকোয়ালের ডেলিভারি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আমান্ডা সোয়ান বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ এই পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে পরীক্ষার্থী এবং ফল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান—উভয় পক্ষই বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছে। আমাদের এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা সেই গাফিলতিরই প্রতিফলন।’ এদিকে কেমব্রিজ ইংলিশ তাদের এই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছে এবং দুঃখ প্রকাশ করেছে। ত্রুটি সংশোধন, পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সার্বক্ষণিক কাস্টমার সাপোর্ট হাব পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংস্থাটি ইতিমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডেরও (প্রায় ৯০ কোটি টাকা) বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে আবারও পরীক্ষা দেওয়া অথবা সম্পূর্ণ ফি রিফান্ড (ফেরত) করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আইইএলটিএস পরীক্ষা যৌথভাবে পরিচালনা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত পরিচালন বাজেটের আওতায় মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য দেশের ৪ হাজার ৪৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৬৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২৪০২০৯০০০০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ এর কোড ৩২৫৮১০৮ অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে দুইশত চার কোটি টাকা হতে সংযুক্ত তালিকা অনুসারে ৪৪৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৬ কোটি নব্বই লাখ টাকা শর্তসাপেক্ষে ব্যয়ের নিমিত্ত বরাদ্দ ও মঞ্জুরী তার নিয়ন্ত্রণাধীনে প্রদান করা হলো এবং সংশ্লিষ্ট আয়ন-বায়ন কর্মকর্তাকে (উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) উক্ত অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষমতা প্রদান করা হলো। ৩৮.০০৬.০২০.০৭.০০.০৪৫,২০০৯-১৩৮ শর্তসমূহ: ক) এ অর্থ ব্যয়ে সরকারের সকল আর্থিক বিধি-বিধান ও অনুশাসনাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে; খ) মন্ত্রণালয়ের ২০/০৫/২০১৩ তারিখের ৩৮.০০৬.০২০.০৭.০০.০৪৫,২০০৯-১৩৮ নং স্মারক এবং ২২/০৫/২০১৯ তারিখের ৩৮.০০, ০০০০.০০৬.২০.০৪৫.১৯,২৩৩ নং স্মারকে জারীকৃত নীতিমালার আলোকে এবং বিভাজন অনুসরণ ব্যতীত অর্থ ব্যয় করা যাবে না; গ) এই ব্যয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত পরিচালন বাজেটের আওতায় ১২৪০২০৯০০০০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ এর কোড ৩২৫৮১০৮ অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে বরাদ্দকৃত ২০৪ কোটি টাকা হতে মিটানো হবে; ঘ) ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে; ঙ) আগামী ৩০.০৬.২০২৬ তারিখের মধ্যে মেরামত ও সংস্কারের কাজ সমাপ্ত করতে হবে; চ) নীতিমালার ১১(ট) শর্তের আলোকে ২০২৫ এর মধ্যে অর্থ বরাদ্দ, অর্থ ব্যয়, অব্যয়িত অর্থ উল্লেখপূর্বক ব্যয়িত অর্থের হিসাব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে; ছ) সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ২০.০৫.২০১৩ তারিখের নীতিমালার ১(৭) শর্ত প্রযোজ্য হবে; জ) নিবিড় তদারকীর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ সমাপ্ত করতে হবে। ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক ও কমিটির (এসএমসি) উপর দায়-দায়িত্ব বর্তাবে; ঝ) সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা; জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা; উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি কার্যক্রম তদারকী করবেন; ঞ) অডিটের প্রয়োজনে সকল বিল-ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে; চ) অব্যয়িত অর্থ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জামা দিতে হবে।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বুধবার(১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ডিনস আওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইউনেস্কো কমিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অতীতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ধাপে ধাপে এ বরাদ্দ বৃদ্ধি করছি। আগামী বছর তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৪ শতাংশ এবং ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের জন্য শুধু পাঠ্যক্রম নয়, বিতর্ক ও খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একাডেমিক কাঠামোর মধ্যেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আমরা ২০২৭ সালে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার শুরু করব এবং ২০২৮ সালে একাডেমিক সিলেবাস হালনাগাদ করা হবো’ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অতীত পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছিলেন, তিনি উপাচার্যের চেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি কি জাতির জন্য লজ্জাজনক নয়? শিক্ষার জন্য লজ্জাজনক নয়? তারা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি।’ বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা যে নেতৃত্ব পেয়েছি, এমন নেতৃত্ব বারবার পাওয়া যায় না। দায়িত্ব পাওয়ার পর এমন কোনো দিন ছিল না, যেদিন আমি ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। দেশের উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রগতির জন্য সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উৎকর্ষ পুরস্কার ও মানোন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, আমাদের দেশের একটা বিশাল জনসংখ্যা আছে, এটি আমাদের সম্পদ এবং এটিকে জনসম্পদে পরিণত করতে পারেন শিক্ষকেরাই। বুধবার (১৭ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ডিন অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ শতাংশ বাজেট দিয়েছেন, যেটাকে আমাদের কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে একটা বিশাল জনসংখ্যা আছে, এটি আমাদের সম্পদ এবং একে জনসম্পদে পরিণত করতে পারেন শিক্ষকেরাই। আমাদের এটিতে গুরুত্ব দিতে হবে। এটির জন্য শুধু উচ্চশিক্ষা নয় প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাও। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া। আজকে যারা এ পুরস্কার পেলেন তারা অনুপ্রাণিত হলো। একাডেমিক অ্যাক্সিলেন্স থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে এটি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্বলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তবু আমরা কাজ করছি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার ক্ষমতায় এসে কাজ করা হচ্ছে। যেন শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো আঘাত না আসে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা খাতে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিভাগে আরও মনোনিবেশ প্রয়োজন, আমরা এসব থেকে অনেক পিছিয়ে আছি-এ কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সিলেবাস ও কারিকুলাম পরিবর্তনে কাজ শুরু করেছি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার চেয়েছিল শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিতে, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। আজকে আমরা যে নেতা পেয়েছি তা আমরা আর পাব কিনা জানি না। সারা দেশকে আনন্দ মুখর পরিবেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে যেতে চাই। আমরা সেই লক্ষ্যই কাজ করছি। হল, ছাত্রাবাস তৈরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও সুন্দর হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হবে বলেও জানান তিনি। এদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ১০৪ জনকে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। কলা অনুষদের ২১ জন, বিজনেস স্টাডিজ থেকে ১৬, বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ১৭, লাইফ অ্যান্ড আর্ট সায়েন্স ২৯, আইন অনুষদ তিনজন, চারুকলা থেকে তিনজনকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে উদ্ধৃত করে ‘প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচ্য অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মূলত বলেছিলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ তাদের এলাকায় হাই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ নিয়ে আসেন। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশ করেন না।’ মন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে আরো বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’ এ ধরনের অসত্য সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য ৪টি মূল স্তম্ভে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, নতুন কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, স্ট্রিমগুলোর অ্যালাইমেন্ট, প্রযুক্তির সংযোজন গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত আয়োজিত ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড লঞ্চ ইভেন্টে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নির্ধারণ করেছে। এই ভিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ২৭টিরও বেশি ধরনের শিক্ষা ধারা বিদ্যমান। এসব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মাদ্রাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমমানের সুযোগ পায়। চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি শিক্ষক ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে পারে না। তিনি জানান, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে ক্যামব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্রিটিশ হাইকমিশন, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (১৫ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে উদ্ধৃত করে ‘প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচ্য অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মূলত বলেছিলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ তাদের এলাকায় হাইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ নিয়ে আসেন। কিন্তু, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশ করেন না।’ মন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’ এ ধরনের অসত্য সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সঙ্গে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি। সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। শিক্ষাব্যবস্থাকে সেশনজটমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৮ সালের পর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। ফল প্রকাশের পরপরই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।’ পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা হাতে পাবে নতুন বই। শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠদানের পাশাপাশি এসব কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।