শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) কমিশন মামলা দুটির অনুমোদন প্রদান করে। একই দিন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রথম মামলাটিতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ছাড়া আসামি হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (আবাসিক) ডা. নুসরাত জামান ও সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব। অপর মামলাটির আসামিরা হলেন—পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি (এনএফটি) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিমুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান এবং সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ। মামলার বিষয়ে জানতে যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, দুদক মামলা করবে বলে শুনেছি। বিভাগে গিয়ে সার্বিক বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারব। বিভাগের অপর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিমুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার যে অনিয়ম, সেটি আমিই প্রথম চিহ্নিত করেছিলাম। প্ল্যানিং কমিটির কাজ ছিল কেবল আবেদন যাচাই করে ভাইভার জন্য কার্ড দেওয়া। চূড়ান্ত নিয়োগের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নিয়োগ বোর্ডের। অথচ যে অনিয়ম আমি ধরিয়ে দিলাম, এখন আমাকেই ফাঁসানো হচ্ছে। সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ জানান, আমাদের এনএফটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের প্ল্যানিং কমিটির কাজ ছিল বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা ও ভাইভার জন্য কার্ড ইস্যু করা। অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসানের ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও পিএইচডি ডিগ্রি থাকায় তাকে ভাইভার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তার আবেদনপত্রে তথ্য রদবদলের অভিযোগ উঠলে দুদক আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমি লিখিতভাবে জানিয়েছি, আবেদনের সূক্ষ্ম ভুল ধরা প্ল্যানিং কমিটির পক্ষে সম্ভব ছিল না। চূড়ান্ত নিয়োগ বোর্ডে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকে না। এদিকে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান বহু আগেই চাকরি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত জামানের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ -২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন দুটি বিভাগ চালু হতে যাচ্ছে। বিভাগ দুটি হলো-কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ইংরেজি বিভাগ। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ইংরেজি বিভাগ চালু করার সক্ষমতা আছে কিনা আজ শুক্রবার তা যাচাই বাছাই করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের একটি টিম। টিমের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আসলাম হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক (পাবলিক বিশ্ব বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগ) এবং সিনিয়র সহকারী পরিচালক নূর ইসলাম চৌধুরী। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আসলাম হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৩ (বদলগাছি-মহাদেবপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মো. ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের সিন্ডকেট সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. ইকবাল আজিজ খান ও রাঃ বিঃ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আমেনা আক্তার, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তিথি চৌধুরী এবং হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাসিফ আরশাদ। প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আসলাম হোসেন বাসসকে বলেছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা অনেক ভালো। নিজস্ব ভবন না হলেও অফিস কক্ষ, রিডিং রুম, শ্রেণিকক্ষগুলো অনেক পরিপাটি এবং সুন্দর। নতুন দুটি বিষয়ে পাঠদানে উপযোগী অবকাঠামো এবং পারিপার্শ্বিকতা বিদ্যমান আছে। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সেন্টার এবং পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবারও প্রক্টর পদে পরিবর্তন এসেছে। অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রক্টর ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিমকে ১ অক্টোবর অপরাহ্ন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন প্রক্টর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। অধ্যাপক হালিম জানিয়েছেন, আগামী রোববার তিনি দায়িত্ব নেবেন। এর আগে চলতি বছরের ২৯ জুলাই প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম পদত্যাগ করার পর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনকে সাময়িকভাবে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রায় দুই মাসের মধ্যেই ওই পদে আবার পরিবর্তন হলো। নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চান তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য। অধ্যাপক হালিম আরও বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো ইস্যু বা আকস্মিক পরিস্থিতি তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাদের সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা থাকবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং ও আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীদের পৃথক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক বছরের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাসের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে প্রথমবারের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সে জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ হলে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি। শাস্তির আওতায় আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯ জন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ জন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দ্বিগুণ হারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, র্যাগিংয়ের ঘটনায় মোট ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। ‘র্যাগিংয়ের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ওই চার বিভাগের শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।’ আরেকটি বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ না থাকায় পুনরায় তদন্ত করতে বলা হয়েছে জানিয়ে প্রক্টর বলেন, নামসহ পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (টিএইচই)-এর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং-২০২৭ প্রকাশিত হয়েছে। এ র্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টিএইচই প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের ১১৮টি দেশের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল্যায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। র্যাঙ্কিংয়ের তালিকা থেকে জানা যায়, ১১৮টি দেশের প্রায় আড়াই হাজার বিশ্ববিদ্যালয় যাচাই করে তৈরি এই তালিকায় ১ হাজারের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। জাবি ছাড়াও এই তালিকায় ১ হাজারের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে সেরা এক হাজারের তালিকায় ভারতের ৪০টি এবং পাকিস্তানের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এছাড়াও তালিকার পরবর্তী ধাপে (১০০০ থেকে ১২০০-এর ঘরে) রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। পড়াশোনার মান, গবেষণা আর সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তালিকার একদম এক নম্বরে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। দুইয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি এবং যৌথভাবে তিন নম্বরে রয়েছে প্রিন্সটন ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। আর প্রতিবেশী দেশ ভারতের সেরা হয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (২৫৪তম)। এদিকে ১০০১ থেকে ১২০০ অবস্থানে রয়েছে দেশের আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেগুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া ১২০১ থেকে ১৪০০ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এছাড়া ১৪০১ থেকে ১৬০০ অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮০১ থেকে ২০০০ অবস্থানে রয়েছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। উল্লেখ্য, বিভিন্ন মানসম্মত পারফরম্যান্স সূচক ব্যবহার করে শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব, ইন্ডাস্ট্রি সংযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা এই গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ক্ষেত্রে টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যঙ্কিং বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অবস্থান প্রকাশ করে থাকে।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র তিনজন নিয়মিত শিক্ষক দিয়ে। এর মধ্যে একজন শিক্ষক বিএড প্রশিক্ষণে রয়েছেন। অনুমোদিত ১২টি শিক্ষক পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৯টি। পরিস্থিতি সামাল দিতে চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের দক্ষিণ শিবপুর মহল্লায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৭ সালের শেষ দিকে জাতীয়করণ করা হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ছিল ১১টি। পরে আইসিটি বিষয়ের আরও একটি শিক্ষক পদ যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে শিক্ষক পদ দাঁড়ায় ১২টি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও শরীরচর্চা ও ক্রীড়া শিক্ষকসহ নিয়মিত শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। ইংরেজি বিষয়ের একজন শিক্ষক বিএড প্রশিক্ষণে থাকায় কার্যত নিয়মিত পাঠদানে শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি, বাংলা ও ধর্ম বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বাধ্য হয়ে চারজন খণ্ডকালীন অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি কর্মচারীর সংকটও রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অনুমোদিত চারটি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন নৈশপ্রহরী। ২০১৫ সাল থেকে অফিস সহকারী এবং ২০২১ সাল থেকে দপ্তরি পদ শূন্য রয়েছে। নেই কোনো আয়া বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত ছয়তলা ভবনটিতে বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে। অন্যান্য ভবনগুলো বোর্ড পরীক্ষার সময় ব্যবহার করা হলেও বাকি সময় পরিত্যক্ত থাকে। কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় ভবন ও এর আশপাশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি শৌচাগারের অবস্থাও নাজুক বলে জানায় তারা। একসময় নারী শিক্ষায় সুনাম থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকসংকট ও পাঠদানের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে ৫ শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করছে। নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী অনিকা সরকার জানায়, শিক্ষক না থাকায় উচ্চতর গণিতের ক্লাশ নিয়মিত হয় না। বিজ্ঞানাগার থাকলেও শিক্ষকসংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবহারিক কার্যক্রম হচ্ছে না। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম মৃধা জানায়, শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাশ ব্যাহত হয়। ঘাটতি পূরণে বাইরে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতির অভিভাবক আব্দুল গফফার মোল্যা বলেন, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকট দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। শিক্ষকসংকটের কারণে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। খণ্ডকালীন শিক্ষক বিউটি পারভীন বলেন, সারা মাস পাঠদান শেষে বিদ্যালয় থেকে সামান্য সম্মানী দেওয়া হয়। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এই সম্মানী অত্যন্ত কম। বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা ও ক্রীড়া শিক্ষক মাসুদুল ইসলাম বলেন, ১২ জন শিক্ষকের কাজ সামলাতে খণ্ডকালীন চারজন শিক্ষক, তিনি ও প্রধান শিক্ষকসহ মোট ছয়জনকে প্রতিদিন একাধিক পিরিয়ড নিতে হচ্ছে। একটি ক্লাশ শেষ করেই আরেকটি ক্লাশে যেতে হয়। ফলে পাঠদানের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায় না। এতে কাঙ্ক্ষিত মানের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকান্ত চন্দ্র মণ্ডল বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এখানে যোগদানের পরই শিক্ষক-কর্মচারীর সংকটের বিষয়টি লিখিতভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালককে জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউএনওকেও জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয়ভাবে তহবিল সংগ্রহ করে অতিথি খণ্ডকালীন শিক্ষকদের সামান্য সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানান তিনি। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে জানিয়েছি। শিক্ষকসংকট নিরসনে আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই শূন্য পদে শিক্ষক দেওয়া হবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ফল প্রকাশ, নির্বাচন নিশ্চায়ন, মাইগ্রেশন ও চূড়ান্ত ভর্তির সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বাচন নিশ্চায়ন না করা এবং ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন না করায় সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবেন যারা আগে আবেদন করেননি কিংবা আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হননি। এ ছাড়া চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পরও নিশ্চায়ন করতে না পারা বা নির্ধারিত সময়ে কলেজে ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। ভুল কোটা নির্বাচনের কারণে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও ভর্তি হতে পারেননি—এমন শিক্ষার্থীরাও এ ধাপে আবেদনের সুযোগ পাবেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, কলেজের আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ রাখতে হবে। দ্বিতীয় ধাপের নতুন সময়সূচি দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদন গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আবেদন করা যাবে ১ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদনকারীদের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ৫ অক্টোবর রাত ৮টায়। ফল প্রকাশের পর থেকে ৮ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। দ্বিতীয় ধাপে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পছন্দক্রম অনুযায়ী যাদের মাইগ্রেশন হবে, তাদের ফল প্রকাশ করা হবে ৯ অক্টোবর রাত ৮টায়। এরপর ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আবেদন ফি নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে ২২০ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে না। এসব শিক্ষার্থী ভর্তি-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজের পছন্দক্রম নির্বাচন বা প্রয়োজন অনুযায়ী তা সম্পাদনা করতে পারবেন। তবে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সময় কোটার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিজ নিজ কোটার যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ফি পরিশোধ করে নির্বাচিত কলেজে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে পড়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চার জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে পড়াকে কেন্দ্র করে আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালমান পাটোয়ারী আবির ও ওমর ওসমানের সঙ্গে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর সাকিবের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে লাইব্রেরি থেকে বের হওয়ার পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তানভীর সাকিব, ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তাসিন এবং বাংলা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের হামিদের হাতাহাতি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রক্টর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেওয়া হলে তারা প্রকৌশল অনুষদে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে অপর পক্ষ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে কমপক্ষে ১০ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে চার জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কুবি মেডিক্যাল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘মারামারিতে মোট ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।’ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা তালা খুলে দেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রক্টর কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের উপস্থিতিতে দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রক্টরিয়াল অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দুপুরে ঘটনাটি একবার মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৫ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া যশোরের ৯২ জনকে অবশেষে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জিএম আলমগীর কবীর পৃথক চিঠিতে তাদের নিয়োগপত্র ইস্যু করেন। এর আগে শনিবার যশোর জেলার চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৬ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি—এমন দাবি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নেন প্রার্থীরা। একদিন পর তাদের মধ্যে ৯২ জনের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হলো। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জিএম আলমগীর কবীর জানান, প্রথম দফায় ১০৬ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু বাকি ছিল। তাদের মধ্যে ১৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ৯৩ জনের মধ্যে ৯২ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। একজনের নামে মামলা থাকায় তার নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। তিনি জানান, নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজ নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করবেন। জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যশোর জেলায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হন ২৯০ জন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। বাকি ১০৬ জনকে নিয়োগপত্র না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা। রোববার ওই ১০৬ জনের মধ্যে ৯২ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। ১৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় এবং একজনের নামে মামলা থাকায় তার নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করবেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে তাদের পদায়ন করা হবে।
সরকারের অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব উপযোগী স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো এক আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, সরকারি অফিসে সৌরবিদ্যুতের অধিকতর ব্যবহার নিশ্চিতকরণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রের আলোকে বিদ্যুৎ বিভাগ অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উক্ত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব উপযুক্ত স্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগে ‘ওপেক্স’ মডেলে কিংবা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় অপরাপর সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস চ্যালেঞ্জ (ডব্লিউএসডিজি) ২০২৬’-এ গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) দুই শিক্ষার্থী মো. আল রিয়াদ ও ওয়াসিফ আজান নাফিজ। ‘ডিজাইনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার-ইন্ডিপেনডেন্ট মেশ কমিউনিকেশন উইথ এন্ড-টু-এন্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড রিয়েল-টাইম হেলথ মনিটরিং ফর মিলিটারি পার্সোনেল সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক উদ্ভাবনী প্রকল্পের জন্য তারা এ পুরস্কার অর্জন করেন। প্রকল্পটিতে অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা ছাড়াই নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামরিক সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তিগত সমাধান তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ইউএফটিবির ইন্টারনেট অব থিংস অ্যান্ড রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আক্তার এবং একই বিভাগের প্রভাষক মো. আশিকুচ্ছালেহীন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি, সাইবারজায়ার তুন চ্যান্সেলর হল-এ ‘ডব্লিউএসডিজি ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডিং সেরেমনি’তে দুই শিক্ষার্থীর হাতে গোল্ড অ্যাওয়ার্ডের সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থবহ সমাধান তৈরির স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী চিন্তা ও উদ্ভাবনের চর্চাকে উৎসাহিত করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করায় শিক্ষার্থী মো. আল রিয়াদ ও ওয়াসিফ আজান নাফিজকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউএফটিবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। শনিবার এক অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য বলেন, দুই শিক্ষার্থীর এ আন্তর্জাতিক অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। নিরাপদ যোগাযোগ, তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং অবকাঠামোবিহীন প্রযুক্তি ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক অর্জন শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানে আরও উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতা তুলে ধরতেও এ অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ড. মামুন বলেন, বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই পরস্পরনির্ভর হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলে তাদের একাডেমিক, পেশাগত ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, জার্মান, কোরিয়ান ও আরবিসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান ইউজিসির এই সদস্য। এ কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় ও বিদেশি ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে ইউজিসি কাজ করবে বলে জানান তিনি। ম্যান্ডারিনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে চীনা দূতাবাসের সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ড. মামুন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ভাষা শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদেশে শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা ফেলোশিপ, সামার স্কুল ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষক-গবেষক বিনিময় এবং যৌথ ও দ্বৈত ডিগ্রি চালুর বিষয়েও ইউজিসি কাজ করছে। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাণিজ্য, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস, প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। নিজস্ব বিষয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি ভাষা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক দক্ষতা থাকলে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে স্নাতকদের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিসি ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি, বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৬-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, উপাচার্য পদে তার মেয়াদ হবে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর। তবে এর আগেই তার অবসর গ্রহণের বয়সসীমা পূর্ণ হলে সেই সময় পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকতে পারবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অধ্যাপক লুৎফর রহমান সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। জানা গেছে, অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একই উপজেলা ও একই নামে একাধিক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জন্য পৃথক কোড বরাদ্দের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। বিষয়টি যাচাই করতে ৪৭টি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রসহ বোর্ডে সশরীরে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বোর্ডের মাদ্রাসা পরিদর্শক মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষর করা চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বোর্ডের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম, জেলা ও উপজেলা একই হলেও তাদের নামে একাধিক কোড রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকার ১ থেকে ২৫ নম্বরে থাকা মাদ্রাসাগুলোর প্রধান শিক্ষকদের আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৫০৪ নম্বর কক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে হবে। ২৬ থেকে ৪৭ নম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) একই সময়ে একই কক্ষে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকার বকশীবাজারে ২ নম্বর অরফ্যানেজ রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের। প্রধান শিক্ষকদের ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রথম স্বীকৃতি এবং সর্বশেষ স্বীকৃতি নবায়নের মূল কপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা জমির মূল দলিল, অনলাইন পর্চা এবং হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদও প্রদর্শন করতে হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সত্যায়িত শিক্ষক ও কর্মচারীর তালিকাও সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শুনানির সময় সব মূল কাগজপত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতিটি নথির এক সেট ফটোকপি জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রধান শিক্ষক শুনানিতে উপস্থিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ও অফলাইনের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর সুবিধা। তবে তাদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে বলে জানা গেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির পৃথক গেজেট জারি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে মৌখিকভাবে আলোচনা হয়েছে। তবে এই আলোচনা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের কোনো অংশ নয়। আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা দেশে না থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেলের পৃথক গেজেটের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।
শিক্ষা ও উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্পের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ, রোবটিক্স এবং ব্লু ইকোনমিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব। বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা ও সক্ষমতার ওপর। বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য একটি বড় জনমিতিক সুযোগ। তাদের আধুনিক জ্ঞান ও কর্মমুখী দক্ষতায় গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীনের শিল্প-শিক্ষা সংযোগের উদাহরণ তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করা যেতে পারে। তিনি জানান, চীনের সহযোগিতায় কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। পাশাপাশি চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করতে হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রিক যান এবং সবুজ প্রযুক্তির মতো খাতেও দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে একটি ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ যাতে দেশে ফিরে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আরও একটি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করতে চীন সহযোগিতায় আগ্রহী বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও জুয়া খেলা প্রতিরোধে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়েছে, একটি নিরাপদ ও সুস্থ শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মাদক ও জুয়া-সংক্রান্ত কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। ইতোমধ্যে ফল প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের লিখিত পরীক্ষা দেরিতে শেষ হলেও অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে নির্ধারিত সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে। এ লক্ষ্যে ফল প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা কিছুটা দেরিতে শেষ হয়েছে। তবে ফল প্রস্তুতের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এদিকে, লিখিত পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় ফল প্রস্তুতের কাজেও বাড়তি তৎপরতা নেওয়া হয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন। সারা দেশে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হামলা এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তির মধ্যে রয়েছে এক শিক্ষাবর্ষ (দুই সেমিস্টার) ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করা, কঠোরভাবে সতর্ক করা এবং অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি অবহিত করা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সিন্ডিকেট সদস্যের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে ৩ জন এবং জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগে ১ জনসহ মোট ১৮ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া র্যাগিংয়ের দায়ে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পেলে অধিকতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে উল্লিখিত শাস্তির বিষয়ে অবহিত করা হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের ৭ জন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ৪ জন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের ৪ জন, অর্থনীতি বিভাগের ২ জন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের ১ জন রয়েছেন। সব মিলিয়ে মোট ৯৯ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী র্যাগিং, বিভাগের মারামারি এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে শুনেছি। তবে আমি সিন্ডিকেটের সদস্য না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না। তিনি বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ বহাল থাকলে র্যাগিংয়ের ঘটনায় কেউ কঠোর শাস্তি, কেউ সতর্কতামূলক শাস্তি এবং কারও হলের আবাসিকতা স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে চিঠি দিয়ে তাদের সন্তানদের বিষয়ে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রক্টর আরও বলেন, শাস্তির উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করা নয়, বরং ভুল থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করার সুযোগ দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত রাখতে চায়। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, র্যাগিংয়ের ঘটনায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত গতকাল সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় শত শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও কঠোর সতর্কতাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি রয়েছে। উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা থাকবে র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করবে না বর্তমান প্রশাসন। এ ছাড়া আরও বেশকিছু বিভাগ উপকমিটিতে তদন্তনাধীন রয়েছে, পরবর্তী সিন্ডিকেটে তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান এ উপাচার্য।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্যভাবে ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি জানান, নভেম্বরের ৭ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে ফল প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ওই বোর্ডের পরীক্ষা অন্যদের তুলনায় কিছুটা পরে শেষ হয়। তবে ফল প্রস্তুতের কাজ দ্রুত শেষ করতে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সম্ভাব্য সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এরপর দ্রুতগতিতে ফল তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে তাদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। তারা পরীক্ষা দেন ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে। এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৩৯৩ জন, যারা ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন। এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামীকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ছুটি থাকবে। এদিন কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশোধিত বাৎসরিক ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। তবে, এ ছুটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। ফলে আগের সেই ছুটির তারিখ পরিবর্তন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধন করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের তারিখ সংশোধন করে ২৩ সেপ্টেম্বর করা হলো। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর এ ছুটি নির্ভর করে। দিবসটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকলে সাধারণত আগে নোটিশ দেওয়া হয়। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী ‘ইয়াজদাহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ অর্থ ১১তম দিনের ফাতিহা বা ফাতেহা শরিফ। প্রতি হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে দিবসটি পালন করা হয়। বড়পির হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)- এর ওফাত (মৃত্যু) দিবস হিসেবে এটি পালিত হয়। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। একে অনেক সময় ‘গেয়ারভি শরিফ’ বলা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।