শিক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
অক্টোবরে এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষা, বোর্ড পরীক্ষা কবে?

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় বসতে হবে। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শুধু দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।   চলতি বছরের ১০ নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনি পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর শুরু হবে বোর্ড পরীক্ষার ফরম পূরণ। তবে ঠিক কবে এসএসসি ও সমমানের বোর্ড পরীক্ষা শুরু হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।   গত মে মাসে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছিলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সম্ভাব্য সময়সূচিও সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। তাতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল।   তবে ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষার শুরুর যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসার চিন্তা-ভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর এবং অভিভাবকদের মতামতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জানুয়ারির পরিবর্তে দুই মাস পিছিয়ে মার্চে এ পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।   মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক উইংয়ে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, রোজা এবং ঈদুল ফিতরের ছুটি ও অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা মার্চে শুরু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।   ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী- স্কুলে টেস্ট পরীক্ষা হবে। বোর্ড পরীক্ষা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটা জানিয়ে দেওয়া হবে।’   ধোঁয়াশা বা বিভ্রান্তি এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতো করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
আমরা ১১ মাসে যা করেছি, ঢাবিতে ১০৫ বছরে কেউ তা করেনি: সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘১১ মাসে আমরা প্রমাণ করেছি, কীভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়। শিক্ষার্থীরাই বলেন যে, আমরা গত ১১ মাসে ডাকসুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর যে কাজ করেছি, তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ১০৫ বছরেও কেউ করতে পারেনি।’   শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   সাদিক কায়েম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মতামত অনুযায়ী আমরা অনেক সার্ভে করেছি। ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসে নারীরা সবচেয়ে নিরাপদে রয়েছেন। ক্যাম্পাসের মধ্যে সব ধরনের মারামারি, হানাহানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানি শূন্যের কোটায় নিয়ে এসেছি।’     ডাকসুর ভিপি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা, চিন্তা, প্রশ্ন করা এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন। এ জন্য দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ মাসে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করেছি।’    দেশের তরুণ প্রজন্মকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত ৫৫ বছর দেশে যারা নেতৃত্ব ছিল তারা আমাদেরকে নিয়ে যেভাবে ভাবা দরকার ছিল- তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে, তাদেরকে যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার ছিল, সেটা তারা দিতে পারেনি।’   তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ ব্যর্থতার কারণেই জাতি একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশের নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। দেশে তাদের মেধার যথাযথ বিকাশ ও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।’   দুই সেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম সেশনে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩৬ ও ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ১৬৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে তাদের হাতে ক্রেস্ট, স্কুল ব্যাগ ও কলম তুলে দেন অতিথিরা।   এ সময় পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিররের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
একাদশে ভর্তি শুরু হতে পারে ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৪ সেপ্টেম্বর

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হতে পারে। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর প্রস্তাব রয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে প্রস্তাবিত সূচির বিষয়টি জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।   তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় বাঁচাতে একাদশে ভর্তির কার্যক্রম এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে খসড়া সূচি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রমের তারিখ চূড়ান্ত হবে।   প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে আবেদন গ্রহণ করা হবে। একই দিন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের প্রস্তাব রয়েছে।   প্রথম ধাপের আবেদন শেষে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।   এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।   অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর আবেদন ও ক্লাস শুরুর তারিখ চূড়ান্ত হবে। এবার কয় ধাপে একাদশে ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে, সেটিও মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।   সাধারণত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তিন ধাপে আবেদন নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে নির্বাচিত না হওয়া বা নির্বাচিত হয়েও ভর্তি নিশ্চায়ন না করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে চতুর্থ ধাপেও আবেদন নেওয়ার নজির রয়েছে।   তবে এবার শিক্ষার্থীদের সময় সাশ্রয়ের জন্য আবেদনের ধাপ কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যান্য নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি।   বরাবরের মতো এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবেন এবং পরীক্ষার ফল ও নম্বরের ভিত্তিতে আসন খালি থাকা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হবেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাবির সমাবর্তনে অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ সময় তিনি আগামী জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় সম্ভাব্য ৫৪তম সমাবর্তনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদানে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।   ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।   সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ, বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচালিত যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিসহ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।   উপাচার্য এসময় মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবময় অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ মর্যাদা প্রাপ্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।   এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফান্ড বৃদ্ধি, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক উন্নয়ন ও অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তৃতীয় ভাষা, জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি ও রোবোটিক্স বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন আবাসিক হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।   তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অ্যালামনাইদের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’’   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সকল ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।   এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক, সিন্ডিকেট সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে বন্যার কারণে স্থগিত এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা শুরু আজ

বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় স্থগিত হওয়া উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাগুলো বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) থেকে আবার শুরু হচ্ছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন স্থগিত এইচএসসির ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন স্থগিত আলিমের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আজ থেকে এসব পরীক্ষা শুরু হবে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, স্থগিত পরীক্ষাগুলো ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।  চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন যেসব বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ভূগোল প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, আরবি ও পালি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, ইতিহাস প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, অর্থনীতি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং প্রকৌশল অঙ্কন ও ওয়ার্কশপ প্র্যাকটিস প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র।  সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আজ ২০ আগস্ট ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২২ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ২৪ আগস্ট পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র এবং ২৭ আগস্ট পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে। ২৯ আগস্ট সকালে ভূগোল প্রথম পত্র এবং বিকেলে আরবি ও পালি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩১ আগস্ট সকালে ভূগোল দ্বিতীয় পত্র এবং বিকেলে আরবি ও পালি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে। ২ সেপ্টেম্বর রসায়ন প্রথম পত্র, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, ইতিহাস প্রথম পত্র, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন প্রথম পত্র এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব বিষয়ের দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে ৫ সেপ্টেম্বর। এ ছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর অর্থনীতি প্রথম পত্র এবং প্রকৌশল অঙ্কন ও ওয়ার্কশপ প্র্যাকটিস প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ৯ সেপ্টেম্বর অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র এবং প্রকৌশল অঙ্কন ও ওয়ার্কশপ প্র্যাকটিস দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষা শেষ হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, সকালের শিফটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা এবং বিকেলের শিফটের পরীক্ষা বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ছিল। তবে দেশের অন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলেছে। বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় এসব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন স্থগিত হওয়া আলিমের ১১টি বিষয়ের পরীক্ষাও আজ থেকে শুরু হচ্ছে। স্থগিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, আরবি দ্বিতীয় পত্র, হাদিস ও উসূলুল হাদিস, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বালাগাত ও মানতিক, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, তাজবিদ প্রথম পত্র এবং আল ফিকহ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র। নতুন সূচি অনুযায়ী, আজ বাংলা দ্বিতীয় পত্রের (বিষয় কোড ২৬৭) পরীক্ষা হবে। এরপর ২২ আগস্ট ইংরেজি প্রথম পত্র (২৬৮), ২৪ আগস্ট ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র (২৬৯), ২৭ আগস্ট আরবি দ্বিতীয় পত্র (২০৬), ২৯ আগস্ট হাদিস ও উসূলুল হাদিস (২০২) এবং ৩১ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (২৪০) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৫ সেপ্টেম্বর বালাগাত ও মানতিক (সাধারণ বিভাগ, বিষয় কোড ২১০), পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র (তত্ত্বীয়, ২২৪) এবং তাজবিদ প্রথম পত্র (মুজাব্বিদ মাহির বিভাগ, ২৩২) পরীক্ষা হবে। ৭ সেপ্টেম্বর আল ফিকহ প্রথম পত্র (২০৩) এবং ৯ সেপ্টেম্বর আল ফিকহ দ্বিতীয় পত্র (২০৪) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষার এসব বিষয় স্থগিত করা হয়েছিল। গত ৯ আগস্ট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিত পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ প্রয়োজনে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারবে। আলিম পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে নির্ধারিত কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষার সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২৫ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে বোর্ডে পাঠাতে হবে। স্থগিত আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষা গ্রহণের দিনই বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যে গত ১৯ আগস্ট দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরীক্ষা শেষে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে উত্তরপত্র একই দিনে সংশ্লিষ্ট জেলা পোস্ট অফিসের (জিইপি) মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বকশীবাজার, ঢাকা-১২১১ ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছে। উত্তরপত্র যথাযথভাবে প্যাকেটজাত ও সিলগালা করে নির্ধারিত নিয়মে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। উত্তরপত্র পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বোর্ডকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ১৩ আগস্ট জারি করা আগের পত্রটি বাতিল করা হয়েছে।  ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অধ্যক্ষের কাছ থেকে জেনে নিতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে উল্লিখিত কেন্দ্র কোড ব্যবহারিক উত্তরপত্রে লেখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২০, ২০২৬
ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. জালিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদি। বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মৌলায়ী আরানি তার সঙ্গে ছিলেন।       বৈঠককালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান যৌথ সহযোগিতামূলক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম জোরদার করার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ফারসি ভাষা কার্যক্রমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নিয়েও তারা আলোচনা করেন।       ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সৌর প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও ফার্মেসিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের ওপর তারা জোর দেন। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও আলোচনা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি ভিজিটিং প্রফেসর, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।     উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এবং ইরানের মধ্যে বহু বছর ধরে একটি চমৎকার ঐতিহাসিক, সামাজিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও বন্ধন বিদ্যমান রয়েছে। আগামী দিনে বিভিন্ন একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   ইরানের রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদি শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ইরানি অধ্যাপক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।       উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর এবং এর সঙ্গে যৌথ সহযোগিতামূলক একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণে গভীর আগ্রহ প্রদর্শনের জন্য ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।       এর আগে, ইরানি রাষ্ট্রদূত টিএসসি মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।     ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মৌলায়ী আরানি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সদস্য সচিব মেহেদী হাসান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয়, শিক্ষায় আসছে পরিবর্তন

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তিনটি ও পরের বছর আরও একটি পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতেও যুক্ত হবে ‘খেলাধুলা’ বিষয়।       মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।       শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের জন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করবে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শেখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।     তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে তাড়াহুড়ো করে চতুর্থ শ্রেণিতে এ কার্যক্রম শুরু করা হলেও আগামীতে প্রথম শ্রেণি থেকেই এটি চালু করা হবে।         শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সাল থেকে কারিকুলামে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য নতুন করে চারটি বই পরিমার্জন ও সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কারিকুলাম কমিটি গঠনের পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে।       শিশুদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিশুদের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন।     কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের জটিল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে ‘খেলায় খেলায় শিক্ষা’র গুরুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি চীন ও জাপান সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব দেশের কারিকুলামে নির্দিষ্ট শ্রেণি ও বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়েও কোন খেলাধুলা বা খেলনার মাধ্যমে কোন বিষয় শেখানো হবে, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।       শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালুর বিষয়েও সরকার ভাবছে। শিক্ষকদের মর্যাদা ও দায়িত্ব বিবেচনায় তাদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষকরা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন উল্লেখ করে তাদের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়নের কথাও বলেন তিনি।       এ ছাড়া রাজধানীর পূর্বাচলে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নতুন আরও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন

নতুন আরো একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ‘ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইইউএসটি), ঠাকুরগাঁও’। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা হতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি কয়েকটি শর্তে সাময়িক সরকারি অনুমোদন লাভ করে।   সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। ইএসডিও কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে। জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদরের পূর্ব নারগুন নামক জায়গায় অস্থায়ীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার করবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।   শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ধারা-০৬ অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত শর্তগুলো প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রস্তাবিত ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (ইইউএসটি), ঠাকুরগাঁও-এর স্থাপন ও পরিচালনার জন্য এই আইনের ধারা-৭ অনুযায়ী সাময়িক অনুমতি দেয়া হলো।   শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: সাময়িক অনুমতির মেয়াদ হবে অনুমতি দেয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৭ বছর। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এ বর্ণিত সব বিধান ও শর্ত মেনে চলবে। সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্ট, ১৮৬০ অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজ রেজিস্ট্রেশন সম্পাদন করে তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে-এ পাঠাতে হবে। পাঠদানের জন্য প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, মিলনায়তন, সেমিনার কক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষার্থীদের পৃথক কমনরুম এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কক্ষের জন্য পর্যাপ্ত স্থান ও অবকাঠামো থাকতে হবে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যূন ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তনবিশিষ্ট নিজস্ব বা ভাড়াকৃত ভবন থাকতে হবে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম ৩টি অনুষদ এবং এই অনুষদের অধীন অন্যূন ৬টি বিভাগ থাকতে হবে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক আগে অনুমোদিত হতে হবে। প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগ, প্রোগ্রাম ও কোর্সের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক পূর্ণকালীন যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।   উদ্যোক্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু ডিগ্রি দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক গবেষণা ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির একটি মূল কেন্দ্র (হাব) হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটির মূল দর্শন নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবন থেকে কর্মসংস্থান।   শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৮, ২০২৬
কর্মমুখী প্রশিক্ষণে পুরুষকে ছাড়িয়ে নারী

কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা অর্জনে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে সরকারের ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ বা অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায়। এর মধ্যে নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যাই বেশি। মোট প্রশিক্ষণার্থীর ৫৭ দশমিক ৯০ শতাংশ নারী।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।     প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে নারী ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ জন এবং পুরুষ ৯৪ হাজার ৮৬৬ জন। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ৬০৪ জন বেশি। প্রশিক্ষণ নেওয়াদের মধ্যে ৪ হাজার ৮০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য এবং ৭৭৯ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।     কর্মসংস্থানের বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পটির আওতায় দুই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর একটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ, অন্যটি শিল্প ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ।   প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণে ২১ হাজারের বেশি   ৩৬০ ঘণ্টার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ২১ হাজার ৭০২ জন। সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিশেষায়িত সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচিত বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।   এ প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে কাজ শেখানো, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং বিভিন্ন পেশার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে নারী ছিলেন ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।   কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণেও নারীর অংশগ্রহণ বেশি   অন্যদিকে শিল্পখাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৬৩৪ জন। তাদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৯৩ শতাংশই নারী।   দেশের বিভিন্ন শিল্প দক্ষতা কাউন্সিল, শিল্প সমিতি এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে এসব প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে।   প্রশিক্ষণের ধরন অনুযায়ী কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরো কার্যক্রমই শিল্পকারখানার বাস্তব কর্মপরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে এবং বাকি ৫০ শতাংশ শিল্পকারখানায় শিক্ষানবিশির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।   মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা নির্দিষ্ট পেশার কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।   কর্মদক্ষতা অর্জনে নারীদের আগ্রহ   প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণে নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে নারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এসেছে।   প্রশিক্ষণ শেষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের মূল্যায়ন ও সনদায়ন করা হচ্ছে।   ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়লো প্রকল্পের মেয়াদ   এদিকে প্রকল্পের অর্জন ধরে রাখা এবং পুনর্গঠিত কর্মপরিকল্পনার আওতায় বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অ্যাসেট প্রকল্পের মেয়াদ আরও ১৮ মাস বাড়ানো হয়েছে।   সরকারের গত ২৬ এপ্রিলের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুলাই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়। ফলে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।   ‘মুখস্থনির্ভরতা নয়, খেলতে খেলতেই শিখবে শিশুরা’ বর্ধিত সময়ে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও নিবন্ধনে স্বচ্ছতা, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৯, ২০২৬
ঢাবি শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অকৃতজ্ঞতার রাজনীতি: ছাত্রদল-বামদের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষকের ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাবি শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।      সোমবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মোনামি লেখেন, আমি আমার পারসোনাল প্রোফাইল থেকে, একান্তই পারসোনাল এক্সপিরিয়েন্সের একটা ছবি ও পোস্ট দিলাম; যেটা সম্পূর্ণ জাতীয় ও রাজনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু আমার ছবি শেয়ার করে এরকম অমার্জিত ও নির্লজ্জ পোস্ট দেওয়া একমাত্র ছাত্রদল দিয়েই সম্ভব।  অবশ্য আমি এতে অবাক হইনি।      তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলকে অন্যদের চেয়ে ভালো ভাবার কোনো কারণ দেখি না।  যারা সুশীল, তাদের সুশীলতা কেবল লীগ (মায়াকান্না) আর দলের (বিশিষ্ট) শিক্ষকদের জন্যই। আর কোনো শিক্ষক এর আওতায় পড়ে না। আর যদি জামায়াত ট্যাগ থাকে, তাহলে তো হলোই।  যেমন আমি।     ঢাবির এই শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাকসুর পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আর বামদের এসব কেবল চুপ করে দেখে যাচ্ছি। নিজেকে সান্ত্বনা দিই, আমি যেহেতু শিক্ষক, আমি ওদের না হয় ক্ষমাই করে দিই। কিন্তু মানুষ হিসেবে, কষ্ট পাওয়াটা সাভাবিক।      ‘আমি কেবল ভাবি, এতে ওদের কী লাভ হয়? দলের কাছে বাহবা পাওয়া নাকি নিজেকে খুব নির্লজ্জ হিসেবে জাহির করা? করলেই বা কি, এসব উদ্ধত আচরণ দিয়ে জীবনে কেউ খুব বেশি কিছু করতে পারে না। যাগগে, পারিবারিক শিক্ষা না থাকলে আর রাজনীতিকে একমাত্র পেশা বানাতে চাইলে হয়তো এসব করতে হয়’, যোগ করেন তিনি।        মোনামির ওই পোস্টের নিচে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘একটা লাইফলেস বাম আছে। বিদেশ গেছে, তাও সভ্য হতে পারে নাই বিন্দুমাত্র।  অযথা এমন ব্যক্তিগত ছবি, অভিব্যক্তি শেয়ার দেয়। ওদের টার্গেট আপনি বেশি, কারণ আপনাকে খারিজ করে দেওয়া যাচ্ছে না কোনো ফ্রেম করে।’       জবাবে মোনামি একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামের এক বড় নেত্রীর অনেক বড় একটা সাহায্য করেছিলাম, সহকারী প্রক্টর থাকাকালে। সব দরজা যখন তার জন্য বন্ধ, তখন প্রক্টর অফিসে এসে কেঁদেছিল, ব্যবস্থা না করলে ওর পড়ালেখা হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। আমি ওর জন্য কত দৌড়ঝাঁপ দিলাম।  অবশেষে ওকে সাহায্য করতে পারলাম। ওকে বললামও, সবকিছুর পাশাপাশি এবার পড়াশোনাটা শেষ করো কিন্তু।  আমাকে জড়িয়ে ধরলো। সেই একই মেয়ে কিছুদিন পর রাজুতে দাঁড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে ভাষণ দিলো। আমি কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি, আমি বলে বোঝাতে পারব না। আল্লাহ হয়তো এর উত্তম প্রতিদান আমাকে দেবেন, মানুষ থেকে কৃতজ্ঞতা আশা করা ভুল, এরা অকৃতজ্ঞ এবং কৃতঘ্ন হবে এটাই হয়তো সাভাবিক।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ফলাফল পেয়ে কাদির মোল্লা স্কুলছাত্রীদের উল্লাস।
শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ায় নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জন করা নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।     শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।     রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।     নোটিশে বলা হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নরসিংদী সদর উপজেলার নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ‘নিয়ম-বহির্ভূত কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগটি শিক্ষা বোর্ডের নজরে আসে।     অভিযোগের সার্বিক সত্যতা যাচাই ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে নোটিশে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে।     এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, বিভাগ ও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমতিপত্র প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।       নোটিশ অনুযায়ী, এসব তথ্যসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ওঠা অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অধিভুক্ত কলেজে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ দেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে ক্যারিয়ার সেন্টার চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।     তিনি বলেন, ক্যারিয়ার সেন্টার কেবল চাকরির প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন কার্যক্রমও যুক্ত করা হবে।     সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়েবিলিটি রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (NUERI)-এর ‘ব্রিজিং অ্যাসপিরেশন টু অ্যাচিভমেন্ট’ শীর্ষক ক্যারিয়ার সেন্টার প্রকল্পের গ্র্যাজুয়েশন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।       ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতন করে তোলা। ক্যারিয়ার সেন্টারের মাধ্যমে তারা নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারবে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে। এর মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।’     তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে শুধু দেশের শ্রমবাজারে নয়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এআই, রোবোটিকস, ডাটা সায়েন্স, হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টসহ সময়ের চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।       তিনি বলেন, ‘এখনই যদি আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সংস্কার করতে না পারি, তাহলে আগামী ২০ বছরেও হয়তো এই সুযোগ আসবে না। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের যখন কেউ দায়িত্ব পায়, তাদের অনেক ধরনের এজেন্ডা থাকে। কিন্তু আমাদের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। আমাদের একটাই লক্ষ্য—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।’     ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ও উন্নয়ননীতির বড় অংশ এখনো শহরকেন্দ্রিক। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিপুলসংখ্যক কলেজ মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এসব কলেজের শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছে।’       তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, মফস্বলের কলেজগুলোর মান বাড়ানো সহজ কাজ নয়। কিন্তু চ্যালেঞ্জ আছে বলেই আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’     ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ‘ক্যারিয়ার সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান এবং অন্যান্য সফট স্কিল অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।’     তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু একটি সনদ নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে না; বরং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেও তারা আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।     অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খলেভনয়। লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমীন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।       অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম, উপাধ্যক্ষ ড. বিলকিস বেগম, বিওয়াইএলসির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ ও সিনিয়র ম্যানেজার হাবিবুল্লাহ তামিম, বিওয়াইএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন ভাইস চ্যান্সেলর।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালের আলিম পরীক্ষার প্রশ্ন হবে পরিমার্জিত আরবি বই থেকে

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আল-লুগাতুল আরাবিয়াতুল ইত্তিসালিয়্যাহ’ পাঠ্য বইয়ের পরিমার্জিত সংস্করণ বাজারজাত করা হয়েছে। নতুন সংস্করণ অনুযায়ী ২০২৭ সালের আলিম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের পরিমার্জিত পাঠ্যবই অনুসরণ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।   সম্প্রতি বোর্ডের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এফ এম শাকিরুল্লাহর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, পরিমার্জিত সংস্করণের বইটির একমাত্র পরিবেশক আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স।   বোর্ড জানিয়েছে, নতুন সংস্করণে পুরোনো বইয়ের অনেক অপ্রাসঙ্গিক তথ্য বাদ ও সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ ও জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যপুস্তকটির বিষয়বস্তু হালনাগাদ করা হয়েছে।   পরিমার্জিত সংস্করণে পুরোনো বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়টি নবম অধ্যায়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া পুরোনো নবম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠ নতুন সংস্করণে চতুর্থ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পাঠ হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে।   নতুন সংস্করণের চতুর্থ অধ্যায়ের প্রথম ও তৃতীয় পাঠ নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকের মূল বিষয়বস্তু ঠিক রেখে বিভিন্ন তথ্যগত ভুলও সংশোধন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পরিমার্জিত সংস্করণ অনুযায়ী ২০২৭ সালের আলিম পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করা হবে।   এ কারণে শিক্ষার্থীদের ওই পরীক্ষার প্রস্তুতি নতুন সংস্করণ অনুসারে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মাদরাসার অধ্যক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদন ২১ আগস্ট শুরু করার পরিকল্পনা

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন গ্রহণ আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু করার পরিকল্পনা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।       রবিবার (১৬ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে এক বৈঠকে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এ বিষয়ে আলোচনা করেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিজ্ঞপ্তির আনুষ্ঠানিক খসড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে মাউশি।       প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ২১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে বদলির আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। আবেদন জমা নেওয়ার জন্য মোট সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।       এরপর পরবর্তী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রক্রিয়াটি শেষ হলেই চূড়ান্তভাবে শিক্ষকদের বদলি কার্যকর করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকরা নির্ধারিত তিনটি এলাকার বাইরে অন্য কোথাও বদলির আবেদন করতে পারবেন না। নির্ধারিত এলাকার বাইরে আবেদন করতে গেলে ‘আবেদন যোগ্য নন’ বলে নোটিফিকেশন দেখাবে সফটওয়্যার।     মাউশি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোথাও বদলি আবেদন করা যাবে না। এই এলাকাগুলোর বাইরে আবেদন নেবে না সফটওয়্যার। সফটওয়্যারটি সেভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৬, ২০২৬
নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এবং যেকোনো সময় ঘোষিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।   রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।   মুখ্য সচিব বলেন, গত ১১ বছর পে-স্কেল না হওয়ায় ১৮ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মুদ্রাস্ফীতির চাপে আছেন। জনগণের জন্য কষ্টকর হলেও সরকারি চাকুরিজীবীদের জীবনযাত্রার সমন্বয় করতে হবে।   তিনি বলেন, সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। সংকট সমাধানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।   মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং পূর্ববর্তী সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার কারণে বর্তমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।   তিনি বলেন, রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সাপ্লাই চেইন তৈরির চেষ্টা করছে সরকার।   প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ রোববার, এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেন তিনি। এছাড়া মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অধিভুক্ত কলেজের স্নাতক (সম্মান) কোর্সে এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৫টি বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ বিবেচনায় এসব শিক্ষার্থীকে আরো একবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) কোর্সের যেসব শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তারা বিশেষ সুযোগে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুরের মূল ক্যাম্পাসে একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৩ জন সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া ঠেকাতে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সিজিপিএ ২.২৫-এর নিচে পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব সভায় বিবেচনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষ করার পথ আরো সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ফার্মেসি ও ল শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ল এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসির যৌথ উদ্যোগে ফল-২০২৬ সেমিস্টারের নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বর্ণাঢ্য নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।   বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিনোভিয়া ফার্মা পিএলসির চিফ অপারেটিং অফিসার মো. মঈন উদ্দিন মাজুমদার। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্কুল অব ল-এর ডিন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারহানা হেলাল মেহতাব নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন।   পরে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার উইং কমান্ডার রফিকুল ইসলাম (এলপিআর) এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসির অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা।   অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম মোফাজ্জল হোসেন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।   বক্তারা নবাগতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য শুধু ভালো ফল অর্জন নয়; বরং নৈতিক মূল্যবোধ, পেশাদারিত্ব, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   তারা শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী মনোভাব বজায় রাখা, কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন, অন্যের প্রতি সহমর্মী হওয়া এবং একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ১৫, ২০২৬
‘সমকামিতার’ অভিযোগে ঢাবির হল থেকে ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘সমকামিতা’র অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাদের উভয়েকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হল প্রোভোস্ট ড. মো. আখতারুজ্জামান।   তিনি জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই স্থায়ীভাবে শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল ও বহিষ্কার করা হয়েছে। হলের পক্ষ থেকে এটাই প্রশাসনিক ব্যবস্থা।   এদিকে এ ঘটনায় মুজিব হলের হাউজ টিউটর ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম সোহাগকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে হল প্রশাসন।   বিষয়টি নিয়ে মুজিব হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ স্টার নিউজকে জানান, অভিযুক্ত দুইজনই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তারা এই বিষয়টির স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এ ঘটনায় দুইজন সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে তাদের সিট বাতিল করে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   প্রশাসনিক ব্যবস্থার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় উভয়কে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং স্থানীয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।   তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী স্টার নিউজকে বলেন, এই ঘটনা অনেকটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি এমন কোন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমার রুমমেট একজন আমাকে বিগত কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্ন করছিল। আর যেহেতু আমার বাসা গোপালগঞ্জ, সে আমাকে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করতো। এখন বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ আমলের কারণে মানুষের মনে এমন ধারণা হয়েছে যে গোপালগঞ্জ মানে খারাপ কিছু। গোপালগঞ্জ পরিচয় দেওয়ার পরে অনেকে আমার দিকে নেতিবাচকভাবে তাকিয়ে থাকে। যে ভিডিও বা ছবি প্রমাণ হিসাবে দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমার সেই রুমমেট করেছে এবং হল সংসদের জিএস এর সাথে তার ভালো সম্পর্ক।   আর সেই রুমমেটই এই ছবি ভিডিওগুলো জিএসকে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।   রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমাকে ছাত্রদলের কর্মী বলে প্রচার করা হয়েছে। এটা গুজব। আমি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এসএসসিতে শূন্য পাস ৩১২ প্রতিষ্ঠান: শোকজ বোর্ডে, ঝুঁকিতে এমপিও সুবিধা

এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় কেন ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি সেটি খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি সেসব মাদরাসা প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। কালবেলা এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকে ফল বিপর্যয়ের কারণ জানার চেষ্টা করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সদুত্তর দিতে না পারলে এমপিও সুবিধা বাতিল হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চলতি বছর দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এবার ১৭৮টি বেড়েছে। গত বছর শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭টি, যা গতবার ছিল ৪৮টি। মাদরাসা বোর্ডে এবার শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ২২৬টি। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৮৬টি। এ ছাড়া গতবার কারিগরি বোর্ডে কোনো শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান ছিল না। এবার এ সংখ্যা বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে।   বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই এমপিওভুক্ত। তবে সেগুলোতে কাঙ্ক্ষিতসংখ্যক শিক্ষার্থী নেই। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক স্কুল ও মাদরাসা গড়ে উঠেছে শুধু সরকারি অনুদান পাওয়ার আশায়। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক সময় অন্য স্কুলের ফেল করা ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে এনে নিজেদের পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করানো হয়। পড়াশোনার দিকে শিক্ষকদের নজর না থাকায় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব মাদরাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় যেসব মাদরাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি সে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে লিখিত বক্তব্যসহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। এ জন্য অঞ্চলভেদে মাদরাসাপ্রধানদের উপস্থিতির সময়সূচিও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদরাসাপ্রধানদের আগামী ১৬ আগস্ট, রাজশাহী অঞ্চলের ১৭ আগস্ট এবং রংপুর অঞ্চলের প্রধানদের ১৮ আগস্ট উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের প্রধানদের ১৯ আগস্ট, খুলনা ও কুমিল্লা অঞ্চলের ২০ আগস্ট এবং বরিশাল অঞ্চলের প্রধানদের ২৩ আগস্ট লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাস ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। বোর্ডটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানে আসলে শিক্ষার্থী হাতেগোনা। কোনোটিতে একজন, কোনোটিতে তিন-চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এক কথায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা। তাদের শিগগির ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘এ শিক্ষার্থীরা করোনাকালে পড়াশোনা না করেই প্রাথমিক পাস করেছিল। মাধ্যমিকেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দুই বছর পড়াশোনা হয়নি। ২০২৫ সালের বই পেয়েছে এপ্রিলে। এসব সংকটের মধ্যেও তাদের এ ফলাফল অনেক ভালো। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘কেন এত শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। তবে তার ব্যক্তিগত মত, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে কড়াকড়ির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ফেল করেছে।’ এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার শূন্য পাস আছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র, উঠছে নানা প্রশ্ন

এবার বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যম থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা উচ্চশিক্ষায় বৈষম্যকে উসকে দেবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।   এ সিদ্ধান্তের ফলে ইংরেজি পাঠ্যক্রমের বাজার লাভবান হবে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।   আবার ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র হলে মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কেন নয়, সেই প্রশ্নও উঠেছে।   গত ২ অগাস্ট ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সূচি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   সেদিন সাধারণ ভর্তি কমিটির সভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।”   আলাদা প্রশ্নপত্র করার সিদ্ধান্ত হলেও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের আবেদনের যোগ্যতা কী হবে কিংবা তাদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো নীতিমালা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা।   জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আবদুল করিম বলেন, “এখন পর্যন্ত শুধু আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো মিটিং হয়নি; কোনো নীতিমালাও হয়নি; আস্তে আস্তে সব হবে।”   এখন পর্যন্ত কোনো নীতিমালা না হওয়ার কথা বলেছেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য অধ্যাপক উপমা কবির।   বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটা আমাদের জানিয়েছে। বুধবার হয়ত আমাদের মিটিং হতে পারে। সেখানে হয়ত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।”   নীতিমালা তৈরির আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রশ্ন তো অবশ্যই উঠবে। তবে সেটার উত্তর নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে থাকবে।”   কোনো নীতিমালা ছাড়া নতুন এ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, “আমরা (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। এটার নীতিমালা প্রণয়ন করবে ভর্তি কমিটি। আর, আমাদের বর্তমান যে নীতিমালা আছে, এটাও সেভাবে হবে।"   দুটি প্রশ্নকে কীভাবে সমমান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, " এটা ভর্তি পরীক্ষা কমিটি ঠিক করবে। তারা বৈষম্য যেন হয়, সেভাবে প্রশ্ন তৈরি করবেন নিশ্চয়। আর এ সিদ্ধান্ত বৈষম্য দূর করার জন্যই নেওয়া হয়েছে, বৈষম্য তৈরি করার জন্য নয়।”   একটা পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে হলে বৈষম্য সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এখানে কোনো বৈষম্য হবে বলে মনে করি না।"   এক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কেন আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হবে না জানতে চাইলে এ অধ্যাপক বলেন, "এটা তো মিটিংয়ে আলোচনায় আসেনি। যদি সামনে আলোচনায় আসে, তখন সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।"   সিদ্ধান্ত নিতে নিয়মের ব্যত্যয়! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়ে নতুন নিয়ম প্রণয়নের প্রধান ফোরাম হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভর্তি কমিটির সাধারণ সভায় ২ আগস্ট এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেটাকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক উপ-উপাচার্য বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটা প্রথমে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হবে। সেখান থেকে সেটা পাস হলে তারপর ভর্তি কমিটির সভায় সেটার পদ্ধতি নিয়ে আলাপ করবে। একাডেমিক কমিটির সুপারিশ ছাড়া এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র বডি হচ্ছে একাডেমিক কাউন্সিল। সেখানে আলোচনা ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণ ভর্তি কমিটি, যারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ভালো বলতে পারবে।”   এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, “গত ডিনস কমিটির মিটিংয়ে এ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ আসে। পরে একাডেমিক কমিটি থেকে তা চূড়ান্ত হয়ে আসে।”   ডিনস কমিটি নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ মোতাবেক কোনো কমিটির কথা বলা নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন যারা ডিনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ নির্বাচিত নন। এ অবস্থায় তারা সুপারিশ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।   এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুস সালামের ব্যাখ্যা হলো, “ডিনস কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। আমরা সে অনুযায়ী নিয়েছি।"   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া, পরীক্ষা ও শিক্ষার মান কেমন হবে— তা নিয়ন্ত্রণ, দেখভাল এবং এ বিষয়ে সিন্ডিকেটকে পরামর্শ দেওয়ার জন্যই একাডেমিক কাউন্সিল গঠিত হয়।   অধ্যাদেশের ৩য় খণ্ডের ২ নম্বর ধারায় সাধারণ ভর্তি কমিটির কাজের বিষয়ে বলা হয়েছে, ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করার একটা কমিটি, যা মূলত একাডেমিক কাউন্সিল দ্বারা গঠিত।   এক্ষেত্রে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা ছাড়া এরকম নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য আবদুস সালাম বলেন, "এটা একাডেমিক কাউন্সিলে যাবে। সেখান থেকে পাস হয়ে আসবে।"   এক্ষেত্রে একাডেমিক কমিটিতে যাওয়ার আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়েছে সেটা নিয়মের ব্যত্যয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নিয়মের ব্যত্যয় হওয়ার আগে কিছু কিছু বিষয়, যেটা সময় ও অন্যান্য বিবেচনা করেও করা যেতে পারে, যা পরে একাডেমিক কাউন্সিলে সম্পূরক অনুমোদন নেওয়া যায়।"   যা বলছেন বিজ্ঞরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ১০ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে।   তাদের ভাষ্য, ভর্তি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো নিয়ম সংযোজন বা বিয়োজন করতে হলে দুই থেকে তিন বছর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়; তারপর সেই নিয়ম বা নীতি যুক্ত করা যায়। নয়ত নতুন নিয়ম নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম তালুকদার বলেন, "এবার ভর্তি পরীক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়ে আমাদের একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে আমরা আলাদা না করে ন্যাশনাল ও ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যক্রমকে সমন্বয় করে পরীক্ষা নিতে বলেছি। তা না করলে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।   “একটা পরীক্ষা আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে সেখানে সমান প্রতিযোগিতা ও প্রশ্নের মানকে সমমান করা সম্ভব হয় না। এটা আমাদের বিভাগের সর্বসম্মত সুপারিশ ছিল। তবে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা একাডেমিক কাউন্সিল।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “একটি পরীক্ষা দুটি আলাদা প্রশ্নে নেওয়া হলে কেউ কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন। কারণ, একটা পরীক্ষার দুটি প্রশ্নপত্রে সবসময় বৈষম্যের আশঙ্কা থেকে যায়।”   এই অধ্যাপকের পরামর্শ হলো, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী যা যা শেখে, তার ভিত্তি করে একটা ব্যাসিক প্রশ্নপত্র করতে পারে। সেটা হলে কেউ বঞ্চিত হবে না।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, “আমরা নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এখন পলিসির উপরেই নির্ভর করবে এ পরীক্ষা বৈষম্য সৃষ্টি করবে, নাকি সাম্য প্রতিষ্ঠা করবে।”   নতুন এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন আবদুল্লাহ জামান, যিনি ইংরেজি মাধ্যমের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ।   সম্প্রতি এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, “আমি নিজেই দুটি আন্তর্জাতিক (ইংরেজি মাধ্যম) বিদ্যালয় পরিচালনা করি। বাস্তবতা হলো, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা সুবিধা সৃষ্টি করে, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে সেটি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হতে পারে। আরও বেশি অভিভাবক ইংরেজি মাধ্যমের দিকে ঝুঁকবেন, শিক্ষার্থী বাড়বে, বাজার সম্প্রসারণ হবে।   “কিন্তু দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় বলে মনে করি। যে নীতি আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হলেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেই নীতিকে সমর্থন করা নৈতিকভাবে সঠিক নয়।”   তার মতে, এটি উচ্চশিক্ষায় একক একাডেমিক মানদণ্ড ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: পৃথক প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষার জন্য কী বার্তা দেবে’ শিরোনামের এ নিবন্ধে তিনি লেখেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের পাঠ্যবই পরীক্ষা করে না। এটি প্রার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ধারণাগত দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা এবং উচ্চশিক্ষার উপযোগিতা যাচাই করে।   “সুতরাং প্রশ্ন হওয়া উচিত—‘কোন বোর্ডে পড়েছ?’ নয়; বরং ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছ কি না?’ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মানদণ্ড এক হয়, তবে মূল্যায়নের মানদণ্ডও এক হওয়া উচিত।”   আবদুল্লাহ জামান মনে করেন, “আজ যদি ইংরেজি মাধ্যমের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র হয়, আগামীকাল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডও একই দাবি করবে। তাদের যুক্তিও হবে,‘আমাদের পাঠ্যক্রম আলাদা।’ এরপর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একই দাবি তুলবে।”   যা বলছেন শিক্ষার্থী-অভিভাকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অবশ্যই সবাইকে সুযোগ দেয়া উচিত। তবে আলাদা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সেটা নিশ্চিত করবে না।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসির শিক্ষার্থী তন্ময় আহমদ বলেন, “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের প্রান্তিক ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় এখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। কিন্তু কাউকে এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বৈষম্য। “উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সব পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এক। ইংরেজি মাধ্যমের এমন কোনো শিক্ষার্থী নেই, যারা বাংলা মিডিয়ামের প্রশ্ন উত্তর দিতে পারবে না। এক্ষেত্রে তাদের যেহেতু ভাষাগত সমস্যা আছে, সেক্ষত্রে ইংরেজি ভাষায় প্রশ্নপত্র হতে পারে।”   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ রাফী বলেন, "এক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে পাঁচ হাজার, আরেকটায় দেড় লাখ। এখানে কীভাবে সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে? বরং এটা হলে দেখা যাবে ইংরেজি মাধ্যম থেকে ভর্তি হবে এক হাজার; আর বাংলা মাধ্যম থেকে ৫০০। তাহলে বৈষম্য আরও উসকে দেওয়া হবে।"   উত্তরার এক এইচএসসি শিক্ষার্থীর মা সৈয়দা রেজাউন্নাহার শিফন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের পাঠ্যক্রম থেকে লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ পাওয়া উচিত।   “তবে বর্তমানে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার, তাতে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের বৈষম্যের শিকার হবেন বলে আমি মনে করি।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু, চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত

ফলাফল প্রত্যাশামতো না এলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য শুরু হয়েছে খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।   এবার নতুন পদ্ধতিতে প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে অনলাইনে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে।   ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ড্রপডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তী ধাপে একটি মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরেই এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে।   যেভাবে আবেদন করবেন আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পর শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যেসব বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা।   কোনো বিষয়ের দুটি পত্র থাকলে এবং উভয় পত্রের ফল পুনঃনিরীক্ষণ করতে চাইলে দুটি পত্রের জন্যই আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।   যেভাবে ফি পরিশোধ করবেন বিষয় নির্বাচন করার পর পরবর্তী স্ক্রিনে মোট ফি-এর পরিমাণ দেখানো হবে। এরপর বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত নির্দেশনা পুনঃনিরীক্ষণ পোর্টালেই পাওয়া যাবে।   ফি পরিশোধের পর আবার আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।   পরে নতুন বিষয় যুক্ত করার সুযোগ একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থী চাইলে একই প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো বিষয় পুনঃনিরীক্ষণের জন্য যুক্ত করতে পারবেন। তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।   অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের জন্য এখনো ফি দেওয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে।   তবে একবার কোনো বিষয়ের ফি পরিশোধ হয়ে গেলে সেটি আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।   আবেদন চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এবার কোনো ধরনের ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই ফল মনমতো না এলে দেরি না করে নির্ধারিত অনলাইন পদ্ধতিতে খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে ভবিষ্যৎ অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৯, ২০২৬