শিক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
এবার কি সময়মতো বই মিলবে শিক্ষার্থীদের?

বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজে যে ছেদ ঘটেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা কি উতরাতে পারবে বিএনপি সরকার?   প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির বই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যেই আহ্বান করা হয়েছে। তবে দরপত্র উন্মুক্ত ও চূড়ান্ত করা, মূল্যায়ন, মন্ত্রণালয়ে ও সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের পর বই ছাপার কাজ শুরু হতে সেপ্টেম্বর গড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   যদিও বছরের অর্ধেক চললেও পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের কাজ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বছর যে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হতে যাচ্ছে, সেগুলোর লেখার কাজও এখনো শেষ হয়নি।   এমন বাস্তবতায় বই ছাপা শেষে করে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলছেন, এবার বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছবে।   তার ভাষ্য, বার্ষিক পরীক্ষার সময়ই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নতুন শ্রেণির পাঠ্যবই হাতে পাবেন।   সরকার নভেম্বরের মধ্যেই বই ছাপার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।   নানা জটিলতা থাকলেও সেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে বই ছাপানো ও সরবরাহের তদারকি প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।   প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বড়দিনের আগেই পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এজন্য প্রচলিত সময়ে যে কাজে যতটুকু সময় প্রয়োজন হতো তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।   “আশা করছি, আমরা নির্ধারিত সময়ে বই ছাপার কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারব। এজন্য সব মহলের সহযোগিতা চাই।”   শিক্ষাক্রম পরিমার্জন চূড়ান্ত হয়নি, নতুন বই লেখাও বাকি বিদ্যমান ২০১২ সালের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম আরও পরিমার্জন করে আগামী বছরে শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়া হবে। আর ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বিস্তরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।   শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ এখনো চলছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর এবং সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ইকবাল হায়দার।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে অধ্যাপক ইকবাল হায়দার বলেন, “আমাদের শিক্ষক্রম পরিমার্জনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ অনেকটা গুছিয়ে এনেছে।   পরিমার্জন চূড়ান্ত হলে তা জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি-এনসিসিসিতে অনুমোদনের পর তা বই ছাপার কাজ শুরু হবে।”   অগাস্টের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।   নতুন শিক্ষাক্রমে নতুন চারটি বিষয় চালুর পরিকল্পনা করেছিল সরকার; তবে তা এগিয়ে এনে আগামী বছরই চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এ নতুন বইগুলো লেখার কাজ এখনও শেষ হয়নি।   এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন বইগুলো লেখার কাজ করছে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের যে কমিটি গঠন করেছে, তারা।   তাদের মাধ্যমে এনসিটিবি এ কাজটি করছে। বই ছাপার শুরু আগে যথাসময়ে পরিমার্জন ও নতুন বই লেখার কাজ শেষ হবে।   “এরপর এনসিসিসির সামনে আমরা পরিবর্তনগুলো তুলে ধরব। তাদের অনুমোদন পাওয়ার পর ছাপার কাজ শুরু হবে।”   মুদ্রাকররা কী বলছেন বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাঠ্যবইয়ের বিষয়ে এনসিটিবির যে প্রস্তুতি তাতে ঈশান কোণে মেঘ দেখছি। জুনে এসে পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র আহ্বান করা হলেও পাঠ্যবই সংশোধন চূড়ান্ত হয়নি।   “এদিকে এবার লটের আকার বাড়িয়ে সংখ্যা কমানো হয়েছে। এর ফলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাবে না। আর সেপ্টেম্বরে আগে ছাপার কাজ শুরুর কোনো আলামত দেখছি না। অগাস্টের শুরুতে টেন্ডার মূল্যায়নের পর মন্ত্রণালয় ও ক্রয় কমিটির মূল্যায়নে সময় যাবে আরও এক মাস।   “এরপর চুক্তির পর প্রকাশকরা কাজ শুরু করতে আরও ২৮ দিন সময় পাবেন। সেপ্টেম্বরে একসঙ্গে সবাই কাজ শুরু করলে কাগজের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”   চলতি বছরে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো বইয়ের বাড়তি ফর্মার বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ছাপাখানার। এ বিল এখনও পাননি মুদ্রাকররা। যদিও এনসিটিবি দ্রুত এ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   ব্যাংক ঋণ পাওয়া নিয়ে মুদ্রাকরদের আশঙ্কা রয়েছে বলে ভাষ্য রূপালী প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী তোফায়েল খানের।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বছরের বইয়ের বাড়তি ফর্মার বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা এখনও পরিশোধ করেনি এনসিটিবি।   “এ পরিস্থিতিতে তারা নতুন করে ব্যাংক ঋণও পাবেন কি না তা নিয়েও আশঙ্কা আছে। এমন বাস্তবতায় বই ছাপার কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা আছে।”   বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এনসিটিবির পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে অগাস্টের শুরুতে তারা চুক্তি সই করবেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমরা কাজ শুরু করতে পারব।   অগাস্টের শুরুতে চুক্তি হলে ১০ অগাস্টের মধ্যে আমরা ছাপা শুরু করতে পারব।”   বই ছাপানোর কাজ সম্পন্ন হতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে দোহার প্রিন্টিং প্রেসের এ স্বত্বাধিকারী বলেন, “এবার আমাদের মেশিনগুলো ঠিক আছে, নতুন মেশিনও যুক্ত হয়েছে। বই ছাপার কাজ করতে এবার তিন মাসের বেশি সময় লাগবে না।” ৩০ কোটি বই ছাপাতে ব্যয় হবে ১৯০০ কোটি টাকা আগামী বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ কোটি ২৭ লাখ বই ছাপা হবে। এজন্য ১ হাজার ৮৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু।   তিনি জানান, ১৪১টি লটে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার কপি বই ছাপানো হবে। পিডিআই ও পিএলআই মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।   আর এবতেদায়ী স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ৫৩৫টি লটে ছাপা হবে ২২ কোটি ৫ লাখ ৫৫ হাজার ২৫২ কপি বই। পিডিআই ও পিএলআই মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৬০১ টাকা।   সবস্তরে বই ছাপার দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। এনসিটিবি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দরপত্র উন্মুক্ত করার পর সেসব মূল্যায়ন হবে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের পর প্রকাশকদের সঙ্গে চুক্তি করবে এনসিটিবি। তারপর শুরু হবে ছাপার কাজ।   অগাস্টের প্রথম দিকেই বই ছাপার কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   এনসিটিবি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু মনে করছেন, সেপ্টেম্বর নাগাদ বই ছাপানোর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। যা বলছে সরকার নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক বছরের শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই ধরনের আশার কথা শুনিয়েছেন এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকুও।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বই ছাপার কাজ করতে আড়াই মাস সময় প্রয়োজন। সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হলেও বই ছাপাতে দেরি হওয়ার কথা নয়। তবে প্রকাশকদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।”   বছর শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি পাঠ্যবইয়ের বকেয়া বিল বাবদ ১৮ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   অধ্যাপক ফখরুল মাওলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছি। তারা দ্রুতই ওই টাকা পরিশোধ করবেন। আমরা দ্রুতই ওই টাকা পরিশোধ করে দেব।”   আগামী বছরের পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে ৮০ হাজার টন কাগজের প্রয়োজন। কাগজের সংকট যেন না হয় তা নিয়ে কাগজকলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে গেল সোমবার বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।   ওই বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের জন্য কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট ছাড়াই বাজারমূল্যে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সব কাগজ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন দেশের পেপার মিল মালিকরা।   এহছানুল হক মিলন বলেন, “বিগত বছরগুলোতে শেষ সময়ে এসে প্রেস মালিকদের প্রায়ই অভিযোগ থাকত যে তারা সময়মতো কাগজ পাচ্ছেন না কিংবা বাজারে কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। এই সমন্বয়হীনতা ও সিন্ডিকেট দূর করতেই এবার দেশের খ্যাতনামা পেপার মিল মালিকদের ডাকা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন—বাজারে কাগজের দাম বাড়াবেন না, নির্ধারিত বাজারমূল্যেই সঠিক সময়ে কাগজ সরবরাহ করবেন।   “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী, আমরা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। দেশীয় মানসম্মত কাগজে যেন বই ছাপা হয়, সেটাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। পেপার মিল মালিকদের এই আশ্বাসের পর এবার মুদ্রণ খাতের প্রেস মালিকদের সাথেও বৈঠক করা হবে। এবার একটি আইনি ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় চুক্তি করা হবে, যেন মাঝপথে কেউ চুক্তির ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ না পায়।   দেশের পেপার মিলগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী এই বিপুল পরিমাণ কাগজ আগামী দুই মাসের মধ্যেই সরবরাহ করা সম্ভব দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পেপার মিল মালিকরা প্রতি মাসে ন্যূনতম ৫৫ হাজার টন মানসম্মত কাগজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।   এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের ডিএমডি মুস্তাফিজুর রহমান, মেঘনা পেপার মিলস লিমিটেডের জিএম ইয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ, টি কে কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের জিএম মোস্তফা কামাল, বেস পেপারস লিমিটেডের জিএম জব্বার।   এছাড়াও যথাসময়ে বই ছাপানোর কাজ সফল করতে সরকারকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সুইস কোয়ালিটি পেপার বিডির প্রতিনিধি শাখওয়াত হোসেন, ক্রিয়েটিভ পেপার মিলসের পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, এথিক্যাল পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসের মাসুদ কামাল রানা ও পারটেক্স পেপার মিলসের লুৎফর রহমান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে পড়তে কোন কোন পরীক্ষা লাগবে? জেনে নিন ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম

জার্মানিতে ২০২৬ সালে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কোর্স, শিক্ষার স্তর ও পাঠদানের ভাষাভেদে বিভিন্ন ভর্তি ও ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা দিতে হতে পারে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অ্যাপটিটিউড টেস্ট অথবা একাডেমিক ইভ্যালুয়েশন সেন্টার (এপিএস) সনদও সংগ্রহ করতে হবে। . ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সে আবেদনকারীদের সাধারণত আইএলটিএস বা টোয়েফল পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয়। অন্যদিকে জার্মান ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তি হতে হলে টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ (TestDaF বা DSH) পরীক্ষার মাধ্যমে জার্মান ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়।   স্নাতক পর্যায়ের ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টেস্টঅ্যাস (TestAS) নামে একটি অ্যাপটিটিউড পরীক্ষার ফলাফল চায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) প্রোগ্রামে অনেক সময় জিআরই পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া কিছু বিজনেস স্কুলের এমবিএ ও ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তির জন্য জি–ম্যাট স্কোর চাওয়া হয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শর্ত ভিন্ন জার্মানির প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ভর্তি নীতিমালা অনুসরণ করে। তাই আবেদন করার আগে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ভর্তি-সংক্রান্ত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।   অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফলকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যয়ন কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সব মাদ্রাসার জন্য বোর্ডের জরুরি দুই নির্দেশনা

জুলাই শহীদ দিবস ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশের সব মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সোমবার (১৩ মে) বোর্ডের পৃথক দুই বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    জুলাই শহীদ দিবস পালন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুলাই শহিদদের স্মরণে সুবিধাজনক সময়ে স্মরণ সভা এবং বিশেষ মোনাজাত আয়োজন করার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।   নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনী অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের অন্বেষণ, বিকাশ এবং ক্রীড়ামুখী মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ক্রীড়া পরিদপ্তরের আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম ঢাকায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।   এতে আরও বলা হয়, এ অনুষ্ঠানকে উৎসবমুখর, প্রাণবন্ত ও সাফল্যমন্ডিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরে অবস্থিত বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসে স্বত:স্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কোমরপানি ঠেলে ভেজা কাপড়ে পরীক্ষা, বদলে গেল কুমিল্লার সেই কেন্দ্র

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কুমিল্লা নগরীর একটি কেন্দ্র পরিবর্তন করেছে শিক্ষা বোর্ড।   সোমবার সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীকে কোমর পানি ভেঙে হলে গিয়ে ভেজা কাপড়ে তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অনেকে সময়মত পৌঁছাতে পারেননি।   পরীক্ষা শেষে কুমিল্লা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা নগরীর অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়ে পরীক্ষা দেবে। পরবর্তীতে অন্যান্য পরীক্ষার জন্য যে সিদ্ধান্ত হয়, সেটি আবারও জানিয়ে দেওয়া হবে।”   পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বলেন, ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কুমিল্লাতে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতি ভারি বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।   এর মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দুটি নৌকা ও দুটি ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়।   কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সামনে দিয়ে সদর হাসপাতালে আসা-যাওয়াকারীদেরও পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।   পরীক্ষা চলার সময় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কাজী আপন তীবরানি বলেন, “যখন পরীক্ষা শুরু হচ্ছিল তখন বৃষ্টিও হচ্ছিল। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রচুর পানি জমে যায়। যে কারণে পরীক্ষার্থীদের আসতে দেরি হওয়ায় আমরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে ৩০ মিনিট বেশি পরীক্ষা নিয়েছি এই কেন্দ্রে।”   পরীক্ষা শেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থী মাহিন আহমেদ বলেন, “আজকে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। বাসা থেকে রিকশা নিয়ে এসে ঠিক কেন্দ্রের সামনে কোমর সমান পানিতে ভিজে গেছি। এই নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। জ্বর উঠে গেছে। অনেকেরই একই অবস্থা।”   একই কলেজের শিক্ষার্থী সামন্তর রহমান বলেন, “মেয়ে পরীক্ষার্থী যারা বোরকা পরে এসেছে, তাদের অবস্থা আরও বেশি খারাপ। সারাক্ষণ ভেজা জামা-কাপড় পরে থাকায় অনেকেরই শরীর খারাপ করেছে। এভাবে পরীক্ষা দিতে এসে মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না।”   সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে শত শত অভিভাবককে দেখা গেছে, পানিতে দাঁড়িয়ে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করতে।   একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে অভিভাবক মনোয়ারা বেগম বলছিলেন, “শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসে মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছে। আর যারা দীর্ঘক্ষণ পরীক্ষা দিয়েছে তাদের শরীর ও খারাপ করবে। কিছুই করার নাই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে কথা। তবে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের উচিত যেসব কেন্দ্র এমন পানির নিচে তলিয়ে যাবে, সেগুলোর বিষয়ে আগে থেকেই চিন্তাভাবনা করে রাখা।”   কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “করপোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি অপসারণের। ভারি বৃষ্টিপাতে এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। আমি এবং আমার সিটি করপোরেশনের দল সারাক্ষণ মাঠে আছে।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি বার্তা

রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।   রোববার (১২ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এতে বলা হয়, বর্ষা মৌসুম ও টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকার বেশ কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সকালের দিকে প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা আগে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় তৎপর রয়েছেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে রাস্তায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তা নেওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আবহাওয়া দেখে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত: শিক্ষামন্ত্রী

‎ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।   ‎শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি), শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হবে।   রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকার বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। গতকাল থেকেই ৬৪ জেলার ডিসি ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কোথায় কী পরিস্থিতি রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   প্রশ্নফাঁসের গুজব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে না। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একটি চক্র ভুয়া প্রশ্নপত্রের নামে প্রতারণা করছে।   সংবাদমাধ্যমকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে—এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রতারক চক্রই উৎসাহিত হয়। বরং স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, প্রশ্নফাঁস হয়নি।   তিনি জানান, এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে আইন আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ‎   ‎পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোলার চরফ্যাশনের একটি কেন্দ্রের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে কুমিল্লায় শিক্ষক নিজের পরিবর্তে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ঘটনায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।   ‎মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
প্রাথমিক বৃত্তির ফল আজ, জানা যাবে এসএমএস ও অনলাইনে

  দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নীতিগত বিতর্ক ও একাধিকবার পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে আজ (রোববার) দুপুর ১২টায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে দুপুর ১২টায় প্রেস ব্রিফিং করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।   ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইন, এসএমএস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।   শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই তা অনলাইনে উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানার সুযোগ থাকবে।   প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো মোবাইল অপারেটর (টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক) থেকে মোবাইলের মেসেজ অপশনে DPE লিখে একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে লিখতে হবে DPE 123456 এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।   এছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিস্তারিত ফলাফল দেখতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অপশন নির্বাচন করে শিক্ষার্থীর রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে ‘সাবমিট’ বা ‘ফল দেখুন’ বাটনে ক্লিক করলে মার্কশিটসহ ফলাফল দেখা যাবে।   এর আগে গত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের কথা থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়।   এমনিতেই নীতিমালা নিয়ে আইনি জটিলতা, পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া এবং ফল প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার ফল অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে ‘ফল ফাঁস’ বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়।   প্রাথমিকভাবে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে ঈদুল ফিতরের আগে, এরপর ঈদের পরে এবং সর্বশেষ জুন মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হলেও প্রতিবারই তা পিছিয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ৯ জুলাই ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে ফল আগাম উন্মুক্ত হওয়ার নজিরবিহীন ঘটনায় সেটিও স্থগিত করা হয়। সব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত, চলবে ক্লাস

চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে যাতায়াতে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হওয়ায় রোববার (১২ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস চলবে। হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক পরীক্ষার্থী।   শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতিতে যাতায়াতের অনিশ্চয়তা সম্পূর্ণ দূরীভূত না হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখের সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। তবে ক্লাসসমূহ যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।   আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ক্লাস প্রতিনিধি মাহবুব আলম বলেন, মূল সমস্যা ছিল নগরীতে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিয়ে। অনেক এলাকায় এখনও পানি জমে রয়েছে। আগামীকালের পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তখন তেমন কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু রাতে হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা ধারণা করেছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তাই কতগুলো পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, তার আলাদা তালিকা করা হয়নি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করেছে, তাই কোনো বিভাগ চাইলে নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা নিতে পারবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা আজ, প্রতি আসনে লড়বেন ৫ জন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ শনিবার থেকে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার বিকেলে ৩ থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিটে আসন রয়েছে ৪৪৯৮টি। ২৩ হাজার ৩৬৫ জন ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছেন। প্রতি আসনে লড়বেন ৫ জন পরীক্ষার্থী।   যেসব নির্দেশনা মানতে হবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত ৭ কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৪০ নম্বর প্রয়োজন।   তবে কাঙ্ক্ষিত বিষয় পেতে হলে নির্ধারিত বিষয়ে অন্তত ৫ নম্বর পেতে হবে। ব্যবসা শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা দুই শিফটে ১৭ জুলাই হবে। এ দিন সকাল ১১-১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিজ্ঞান ইউনিটের আর বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষার পরীক্ষা হবে। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আসন বিন্যাস ১৪ জুলাই থেকে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।   আবেদনের মধ্যে বিজ্ঞান ইউনিটে মোট পড়েছে ৩১ হাজার ৫৫৩টি যা মোট আবেদনের ৪৮ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় মোট আবেদনের ১১ হাজার ২৪৪টি যা মোট আবেদনের ১৭শতাংশ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান, কলা ও সমাজবিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা এই তিন ইউনিটের বিভিন্ন বিভাগে ৪ বছর মেয়াদি প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।   ভর্তিচ্ছুরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে (www.dcu.ac.bd) থেকে সব তথ্য জানতে পারবে। মোট আসন ১১ হাজার ২৯০টি। এর মধ্যে কলাও সমাজ বিজ্ঞানে ৪৪৯৮ টি, বিজ্ঞানে ৪৭৯৫ টি, ব্যবসায় ১৯৯৭ টি আসন রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস নিয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস নিয়ে দেশের সব সরকারি স্কুল ও কলেজকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। বুধবার (৮ জুলাই) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. এনায়েত করিমের সই করা এক অফিস আদেশ এসব তথ্য জানানো হয়।     আদেশে বলা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায় থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আওতায় ১০টি ইভেন্টের প্রতিযোগিতা আগামী সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলা পর্যায়ে শুরু হবে। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম ১ জুলাই শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।    শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে একটি করে রেজিস্ট্রেশন বুথ স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের দায়িত্বে একজন শিক্ষককে মনোনীত করতে হবে।   এ ছাড়া নির্ধারিত ছক অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর, মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখ করে ফরম পূরণ করে আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

মারিয়া রহমান জুলাই ১১, ২০২৬
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অবহেলা রোধে আসছে ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’

  পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষকদের অবহেলা, কিংবা নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে ওভার ও আন্ডার মার্কিং ঠেকাতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে শিক্ষা প্রশাসন। ফল পুনঃনিরীক্ষার প্রচলিত নিয়মের বাইরে সরাসরি উত্তরপত্রের মূল্যায়ন মান যাচাই করতে ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’ বা বিশেষ অডিট ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।   নতুন এই নিয়মে ‘র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা দৈবচয়ন পদ্ধতিতে পরীক্ষকদের জমা দেওয়া খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই এই ব্যবস্থা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন থেকেই এই নতুন ব্যবস্থা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষকদের খামখেয়ালি রুখতে চালু করা হচ্ছে এক ধরনের ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’ বা বিশেষ অডিট ব্যবস্থা।   এই ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ‘র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা দৈবচয়ন পদ্ধতি। এর আওতায় পরীক্ষকেরা উত্তরপত্র বোর্ডে জমা দেওয়ার পর, সেখান থেকে লটারির মতো করে নির্দিষ্টসংখ্যক খাতা বাছাই করা হবে। এরপর বোর্ড মনোনীত বিশেষজ্ঞ বা প্রধান পরীক্ষকদের মাধ্যমে সেগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় যদি প্রথম ও দ্বিতীয় মূল্যায়নের নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিক কোনো পার্থক্য বা অযৌক্তিক ওভার/আন্ডার-মার্কিং ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কোনো পরীক্ষা নয় বরং পরীক্ষকদের কাজের মান যাচাইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা। এতদিন একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দেওয়ার পর সেটি সাধারণত আর যাচাই করা হতো না। ফলে মূল্যায়নে কোনো ভুল, অবহেলা বা অসঙ্গতি থাকলেও তা অনেক সময় ধরা পড়ত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।   শিক্ষা বোর্ডগুলোর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নানা ধরনের অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়েও এমন অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে তথ্য গোপন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত খাতা নেওয়ার অভিযোগে তিন পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।   বোর্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, একজন পরীক্ষকের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিধান থাকলেও রাজবাড়ীর কালুখালীর লাড়ীবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষক মো. খোরশেদ আলম তথ্য গোপন করে ৯০০টি উত্তরপত্র গ্রহণ করেন। এছাড়া নরসিংদীর মাধবদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষক মো. মনির হোসেন এবং নরসিংদী বিয়াম জিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একই বিষয়ের পরীক্ষক মো. মশিউর রহমান নির্ধারিত ৩০০টির পরিবর্তে ৪৫০টি করে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব নেন।   বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করলে মূল্যায়নের গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অভিযুক্ত তিন পরীক্ষকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আবার শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, অনেক পরীক্ষক নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি উত্তরপত্র নিয়ে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে মূল্যায়ন করেন। কোথাও কোথাও নিজে না দেখে অন্যের মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগও রয়েছে। অতীতে নম্বর হেরফের, মূল্যায়নে অসঙ্গতি এবং দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও শিক্ষা প্রশাসনের নজরে এসেছে। তাদের মতে, এমন অনিয়ম ঠেকাতেই এবার র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং বা ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’ পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   পুনঃনিরীক্ষা নয়, এবার লক্ষ্য ‘প্রকৃত’ পুনর্মূল্যায়ন   বোর্ড পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিবছরই হাজার হাজার শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করেন। অনেকেরই ধারণা, আবেদন করার পর তাদের উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। বর্তমানে চালু থাকা পুনঃনিরীক্ষা ব্যবস্থায় উত্তরপত্রের মূল্যায়ন পুনরায় করা হয় না; কেবল কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয় যাচাই করা হয়।   বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষার সময় মূলত পাঁচটি বিষয় পরীক্ষা করা হয়। এগুলো হলো— কোনো প্রশ্নের উত্তরে নম্বর দেওয়া বাদ পড়েছে কি না, উত্তরপত্রের ভেতরের নম্বর কভার পৃষ্ঠায় তুলতে কোনো ভুল হয়েছে কি না, নম্বরের যোগফলে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের নম্বর বৃত্ত (ওএমআর) ভরাটে ভুল হয়েছে কি না এবং পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর যথাযথভাবে ট্যাবুলেশন শিটে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না।   তবে বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক যে নম্বর দিয়েছেন, তা কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ নেই। অর্থাৎ পুনঃনিরীক্ষার সময় উত্তর সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়েছে কি না, বেশি বা কম নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না কিংবা মূল্যায়নে কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না, এসব বিষয় যাচাই করা হয় না। এমনকি বর্তমান আইনে পরীক্ষার্থী, তার অভিভাবক বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে উত্তরপত্র দেখানোরও কোনো বিধান নেই।   ফলে এতদিন পুনঃনিরীক্ষা কার্যক্রম মূলত নম্বর গণনা ও প্রশাসনিক ভুল সংশোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করলেও বা ভুলভাবে নম্বর দিলেও সেই মূল্যায়ন পুনর্বিবেচনার সুযোগ কার্যত ছিল না।   এই বাস্তবতায় পরিবর্তন আনতেই পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংশোধিত আইনে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এখন থেকে শুধু নম্বর গোনাই নয়, প্রয়োজন হলে উত্তরপত্রের মূল্যায়নের মানও যাচাই করা হবে। অর্থাৎ একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দিলেই তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। প্রয়োজন মনে করলে বোর্ড সেই মূল্যায়ন পুনরায় পরীক্ষা করতে পারবে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থায় একটি কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একইসঙ্গে পরীক্ষকদের মধ্যেও দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা বাড়বে। কারণ, যেকোনো সময় তাদের মূল্যায়িত উত্তরপত্র দৈবচয়ন পদ্ধতিতে পুনরায় যাচাই করা হতে পারে।   তবে পরীক্ষার্থীরা আবেদন করলে তাদের উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে কি না, কিংবা তারা নিজের উত্তরপত্র দেখতে পারবেন কি না, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।   ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান বোর্ড আইনে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র দেখানোর কোনো বিধান নেই। তবে সরকার চাইলে প্রজ্ঞাপন বা প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর হাতে সরাসরি উত্তরপত্র তুলে দেওয়ার পরিবর্তে বোর্ড মনোনীত অভিজ্ঞ পরীক্ষক বা বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে পুনঃনিরীক্ষা ব্যবস্থারও পরিবর্তন আসতে পারে। শুধু নম্বর গণনা বা যোগফল যাচাইয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উত্তরপত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন পুনরায় করার সুযোগ যুক্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আইন সংশোধন ও পরবর্তী বিধিমালা প্রণয়নের পর।   সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের মাধ্যমে শুধু পরীক্ষা পরিচালনা নয়, উত্তরপত্র মূল্যায়নেও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।   মন্ত্রী বলেন, অতীতে একজন পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দেওয়ার পর সেটি সাধারণত আর কেউ যাচাই করতেন না। ফলে মূল্যায়নে গাফিলতি, ওভার-মার্কিং, আন্ডার-মার্কিং কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম হলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই ধরা পড়ত না। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষা বোর্ডগুলো দৈবচয়ন (র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং) পদ্ধতিতে নির্দিষ্টসংখ্যক উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করবে। এতে কোনো পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   তিনি বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নয় বরং পরীক্ষকদের কাজের মান যাচাইয়ের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। কোনো শিক্ষক নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন কি না, কোথাও অযৌক্তিকভাবে বেশি বা কম নম্বর দেওয়া হচ্ছে কি না কিংবা মূল্যায়নে দায়িত্বে অবহেলা হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ই এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।   মন্ত্রী আরও বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। একজন পরীক্ষার্থীর প্রাপ্য নম্বর যেন কোনোভাবেই ভুল মূল্যায়নের কারণে কমে বা বেড়ে না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বাড়ছে পরীক্ষক, থাকছে না ‘মানবিক নম্বর’   উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান আরও উন্নত করতে এবার পরীক্ষকদের ওপর কাজের চাপও কমানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং জনপ্রতি মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত উত্তরপত্রের সংখ্যাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে একজন পরীক্ষক আগের তুলনায় আরও বেশি সময় নিয়ে প্রতিটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।   একইসঙ্গে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় তথাকথিত ‘মানবিক নম্বর’ বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত নির্দেশিকা অনুযায়ী উদারভাবে নম্বর দেওয়া যাবে, তবে সেটি অবশ্যই নির্ধারিত মূল্যায়ন নীতিমালার মধ্যেই হতে হবে।   এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো উত্তরের একটি অংশ সঠিক হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আংশিক নম্বর (পারশিয়াল মার্কিং) দিতে হবে। কিন্তু কোনো পরীক্ষার্থীকে শুধু পাস করিয়ে দেওয়া বা ফল উন্নত করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ মূল্যায়ন হবে সম্পূর্ণ উত্তরভিত্তিক; কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা ‘মানবিক নম্বর’ বিবেচনায় নেওয়া হবে না।   মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। অনেক পরীক্ষক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যতগুলো উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব, তার চেয়ে বেশি খাতা নিয়ে যান। ফলে শেষ পর্যন্ত সব উত্তরপত্র সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না। অতীতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে এমন কিছু ঘটনাও ঘটেছে, যা শিক্ষা বোর্ডের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হই। অনেক শিক্ষক নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি খাতা নিয়ে যান। ফলে মূল্যায়নের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতীতে দু-একটি উদ্বেগজনক ঘটনাও আমরা দেখেছি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই মন্ত্রণালয় র‌্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে কিছু উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচিত উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পর যদি প্রথম ও দ্বিতীয় মূল্যায়নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এই উদ্যোগটি বিশেষ করে যেসব শিক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বে অবহেলা করেন, তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি মনে করি, এর ফলে যারা এতদিন দায়িত্ব পালনে কিছুটা উদাসীন ছিলেন, তারাও আরও সতর্ক হয়ে নিয়ম মেনে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন।   শিক্ষার্থীরা কি উত্তরপত্র দেখতে পারবে?   পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ উত্তরপত্র দেখার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।   তিনি বলেন, বর্তমান বোর্ড আইনে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র দেখানোর কোনো বিধান নেই। তবে সরকার চাইলে প্রজ্ঞাপন জারি বা প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার ব্যক্তিগত মত হলো, শিক্ষার্থীর হাতে সরাসরি উত্তরপত্র তুলে দেওয়ার পরিবর্তে বোর্ড মনোনীত অভিজ্ঞ শিক্ষক বা বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা অধিকতর গ্রহণযোগ্য হবে।   তার মতে, এতে একদিকে যেমন উত্তরপত্রের গোপনীয়তা বজায় থাকবে, অন্যদিকে মূল্যায়নের নিরপেক্ষতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।   নির্দেশনার অপেক্ষায় শিক্ষা বোর্ড   ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক নাজনীন ফেরদৌস বলেন, নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনো বোর্ডের হাতে পৌঁছেনি। নির্দেশনা পাওয়ার পরই বোর্ড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।   তিনি বলেন, একটি পরিবর্তন আসছে, এটি আমরা জানি। আশা করছি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হাতে পাব। নির্দেশনা পাওয়ার পর কোন কোন বিষয় বাস্তবায়ন করতে হবে, সে অনুযায়ী বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।   বর্তমানে চালু থাকা পুনঃনিরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষার সময় মূলত নম্বর গণনা, নম্বর স্থানান্তর এবং কোনো প্রশ্নে নম্বর দেওয়া বাদ পড়েছে কি না, এসব বিষয়ই যাচাই করা হয়। পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর পরিবর্তনের কোনো সুযোগ বিদ্যমান বিধিমালায় নেই।   ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, বিদ্যমান বোর্ড আইনে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের কোনো বিধান নেই। বর্তমানে পুনঃনিরীক্ষার যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেটিই কার্যকর। আইন বা বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এলে বোর্ড সেই অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত কুবি রেজিস্ট্রার হাইকোর্টের আদেশে পুনর্বহাল

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত মজিবুর রহমান মজুমদার রেজিস্ট্রার পদে ফিরেছেন। অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে হাইকোর্টের সর্বশেষ স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের অনুমতি দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসন।   গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার দলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (সাময়িক বরখাস্ত) মজিবুর রহমান মজুমদারের আবেদন এবং হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে রেজিস্ট্রার পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   তবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তাকে পুনরায় একই পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়ায় চলছে সমালোচনা।   কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মজিবুর রহমান মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম ও জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯ অনুযায়ী রেজিস্ট্রার পদটি তৃতীয় গ্রেডভুক্ত। কিন্তু অর্গানোগ্রাম সংশোধন ছাড়াই দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি গ্রহণ করেন তিনি। এই প্রক্রিয়ায় নিজের পদোন্নতির ফাইলে নিজেই স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে পদোন্নতি-সংক্রান্ত রিভিউ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অথচ প্রশাসনিক বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নিজের নিয়োগ, পদোন্নতি বা তদন্ত-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হতে পারেন না। এ ছাড়া শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। অডিট মেমো-১০ অনুযায়ী, তৃতীয় গ্রেডের পরিবর্তে দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন-ভাতা গ্রহণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ লাখ ২৭ হাজার ৯৮০ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা ফেরতযোগ্য।   অডিট মেমো-১১তে শিক্ষা ছুটির চুক্তিপত্র ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে পিএইচডি সম্পন্ন না করেই চাকরিতে যোগদান এবং ছুটিকালীন বেতন-ভাতা নেওয়ায় আরও ২০ লাখ ১৪ হাজার ১৪০ টাকা ক্ষতির তথ্য উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ছুটি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা ছুটি অসম্পূর্ণ রেখে যোগদান করলে ছুটিকালীন বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার বিধান থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩ মার্চ তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।   জানা যায়, বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর অফিস আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন মজিবুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বাধ্যতামূলক ছুটির আদেশের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। পরে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানা যায়। পরে তিনি পুনরায় উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি হাইকোর্ট থেকে রায় নিয়ে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করতে পারে। তবে পুনরায় আপিল না করা এবং কোন বিবেচনায় তাঁকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।   উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল বলেন, মজিবুর রহমান এর আগেও দুই দফা হাইকোর্টের রায় নিয়ে এসেছেন। সর্বশেষ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শুক্র ও শনিবারের সব পরীক্ষা স্থগিত

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত বিভিন্ন প্রোগ্রামের ১০ ও ১১ জুলাইয়ের (শুক্রবার ও শনিবার) অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদের স্বাক্ষর করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   এতে বলা হয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে এমএ ও এমএসএস (প্রিলিমিনারি) প্রোগ্রামের টার্ম-২৪২-এর দ্বিতীয় সেমিস্টার, বিএজিএড প্রোগ্রামের ২৫২ টার্মের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ সেমিস্টার, এমপিএইচ পরীক্ষার ২৫২ টার্মের প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টার, মাস্টার অব এডুকেশন (এমএড) পরীক্ষা-২০২৫ (২৫২ টার্ম)-এর প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার এবং বিবিএ পরীক্ষা-২৪১ টার্মের প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম লেভেল।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ ও সময়সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিস্তারিত তথ্য ও পরবর্তী হালনাগাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তিন দফা মেয়াদ বাড়লেও অর্থাভাবে আটকে কুবি নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ

তিন দফা পিছিয়েও শেষ হয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর সম্প্রসারণ প্রকল্পাধীন নতুন ক্যাম্পাসের নির্মাণ। প্রকল্পের সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ হলেও বর্তমানে অর্থাভাবে আটকে আছে নির্মাণকাজ।   একনেকে আরডিপিপি অনুমোদনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যেই ক্যাম্পাস হস্তান্তরের আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ব্যাটালিয়ন ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনী ভূমি উন্নয়ন ও ভৌত কাজ শুরু করে। তৎকালীন সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।   তবে দ্বিতীয় মেয়াদেও সম্পন্ন না হওয়ায় তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত। ইতোমধ্যেই ২০২৬-এর জুন মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। কারণ হিসেবে জানা যায়, অর্থাভাবে কাজ শেষ হয়নি এখনো। বর্তমানে আরডিপিপি প্রকল্পের আওতায় ২৪২ কোটি টাকার একটি বাজেট আটকে রয়েছে।   প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই-বাছাই শেষ করে বর্তমানে পরিকল্পনা দপ্তরে যাচ্ছে। এর আগে একবার ছাড় পেলেও বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি যায়। বর্তমানে পরিকল্পনা দপ্তরের ছাড়পত্র পেলেই প্রকল্পটি একনেকে উঠতে পারে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আরডিপিপি প্রকল্প অনুমোদন পেলেই পরবর্তী একবছরের মধ্যে কাজ শেষ করে নতুন ক্যাম্পাস হস্তান্তরযোগ্য হওয়ার আশ্বাস পেয়েছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।   এদিকে প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতিও সন্তোষজনক বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানা যায়, অনুমোদিত ডিপিপি প্রকল্পটির মোট পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সেখানে প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। যা মোট অনুমোদিত অর্থের ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ, ক্রমপুঞ্জিভূতব্যয়ের অগ্রগতি এখানে ৮৬ শতাংশ।   আরো জানা যায়, প্রকল্পাধীন নির্মিতব্য ভবনগুলোর সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে কাজ সম্পন্ন এবং হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে, উপাচার্যের বাসভবন, মেডিক্যাল ও ডে-কেয়ার সেন্টার এবং একটি প্রধান ফটক, সাব-স্টেশন। এ ছাড়া ছাদ ঢালাই শেষে ফিনিশিংয়ের কাজ চলমান ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রী হল-২, কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবন, স্কুল ভবন, দ্বিতীয় প্রশাসনিক ভবন, দ্বিতীয় প্রধান ফটক, সুইমিং পুল, দ্বিতীয় প্রধান ফটক এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ।   তা ছাড়া নির্মাণকাজ চলমান ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে, দুটি ছাত্র হলের (১০ তলা ভবন ভবন) ছাত্র হল-১ এর অষ্টম তলার ছাদ ঢালাই ৫০ শতাংশ এবং ছাত্র হল-২ এর ষষ্ঠ ও সপ্তম তলার ছাদ ঢালাই ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্রী হল-১ (১০ তলা) এর ষষ্ঠ তলার ছাদ ঢালাই ৫০ শতাংশ, শিক্ষকদের বাসভবন (১০ তলা)- এর ১০ম তলার ছাদ ঢালাই শেষে ফিনিশিংয়ের কাজও ৯০ শতাংশ সম্পন্ন, ডরমিটরি ভবন (১০ তলা)-এর ১০ম তলার ছাদ ঢালা সম্পন্ন এবং বাকি কাজ আরডিপিপি অনুমোদনের পর শেষ করা হবে, প্রকৌশল অনুষদ ভবন (১০ তলা)-এর ষষ্ঠ তলার ছাদ ঢালাই ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, টিএসসি কেন্দ্র (পাঁচ তলা)-এর ফাউন্ডেশনের কাজ সম্পন্ন এবং বাকি আরডিপিপি অনুমোদনের পর সম্পন্ন করা হবে।   এ ছাড়া রয়েছে অডিটরিয়ামের (তিনতলা) দ্বিতীয় তলার ছাদ, আন্তর্জাতিক কমপ্লেক্স (ছয় তলা) তৃতীয় তলার ছাদ, স্পোর্টস কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত জিমনেসিয়াম ও খেলার মাঠ, সীমানাপ্রাচীর, শেডসহ গাড়ির ওয়ার্কশপ, আরসিসি রোড, সারফেস ড্রেন, লেক খনন ও জলাধার নির্মাণ, বহিঃবিদ্যুতায়ন কাজ, গ্যাস লাইন সংযোগ ওভারহেড ট্যাংক ও গভীর নলকূপ। ৮৬ শতাংশ কাজের অগ্রগতি নিয়েও আটকে আছে প্রকল্পের আছে। সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশনটির পক্ষ হতে জানানোর হয়েছে, আরডিপিপি প্রকল্প অনুমোদন হলেই অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নের শুরু করতে পারবেন। নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ শেষ হলে বর্তমান ক্যাম্পাসের ৫০ একরের সাথে নির্মাণাধীন ১৯৪ একর যুক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন গিয়ে দাঁড়াবে ২৪৪ একরে।   নতুন ক্যাম্পাসের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘আরডিপিপি প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য কাজ আটকে রয়েছে। একনেকে এটি পাস হয়ে এলেই শীঘ্রই কাজ শেষ হয়ে।’   উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘অনেকবার পিছিয়েছে সর্বশেষ এ বছর শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু টাকার জন্যে আটকে রয়েছে। একটা প্রকল্প গিয়েছে, সেটা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলেই তারা (সেনাবাহিনী ২৪ ব্যাটালিয়ন) কাজ শুরু করতে পারবে।’

মারিয়া রহমান জুলাই ০৮, ২০২৬
উত্তরপত্রে নম্বর কম-বেশি দিলে বছরের জেল

পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদানকারী পরীক্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।   সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।   সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের অপরাধে শাস্তি দিতে হলে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসঙ্গতি নিশ্চিত করতে হবে।   সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’-কে সময়োপযোগী করে হালনাগাদ করা হয়েছে।   এ আইনে অনুমতি ছাড়া পরীক্ষার ডাটাবেজে প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য বিকৃত করা বা পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজিসহ যেকোনও ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি, পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা এবং অন্যান্য ডিজিটাল কারসাজির বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৭, ২০২৬
পাবলিক পরীক্ষা আইনের সংশোধনী পাস, ডিজিটাল জালিয়াতিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড

  ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষার ডাটাবেজে জালিয়াতি, সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ এবং নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে অনুমতি ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।   সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।   সংশোধিত আইনটি ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’-কে সময়োপযোগী করে হালনাগাদ করেছে। প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত এ আইনটি পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।   সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া পরীক্ষার ডাটাবেজে প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য বিকৃত করা বা পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজিসহ যেকোনও ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।   আইনে ‘অর্গানাইজড এক্সামিনেশন ক্রাইম’ নামে সংঘবদ্ধ পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা কিংবা এমন প্রস্তাব দেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।   এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। সংঘবদ্ধভাবে নকল বা প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টাও একই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।   সংশোধিত আইনে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করে পরীক্ষা কেন্দ্র বা পরীক্ষার হলে প্রবেশ কিংবা প্রবেশের চেষ্টাকেও অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।   ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। তবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ড দিতে হলে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসঙ্গতি নিশ্চিত করতে হবে।   পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতাও আইনে নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনও প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে, যোগসাজশে লিপ্ত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রাখলে তাদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, লাইসেন্স স্থগিত, কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি (ডিবারমেন্ট) বা কালো তালিকাভুক্তির (ব্ল্যাকলিস্ট) ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।   সংশোধিত আইনে তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষার ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এ সুরক্ষা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।   আইনে আরও বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে কোনও শিশু অপরাধে জড়িত হলে তার বিচার প্রাপ্তবয়স্কদের মতো না করে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।   মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সংশোধিত আইনের অধীন সব অপরাধকে আমলযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং মহানগরের বাইরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এসব মামলার বিচার করবেন। বিচার কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।   এ ছাড়া, আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।   বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির কারণে ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনটি সময়োপযোগী ছিল না। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংঘটিত অপরাধকে আইনের আওতায় আনতেই এ সংশোধন আনা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছুটি শেষে চবি শিক্ষকদের কর্মস্থলে না ফেরার অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে রয়েছেন ১২৮ জন শিক্ষক। তাদের মধ্যে ১৮ জনের ছুটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কয়েকজন ছুটির জন্য আবেদন করেছেন। আর কয়েকজন এখনো ছুটি বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করেননি এবং কর্মস্থলেও যোগ দেননি। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া এই ১৮ জন শিক্ষকের ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখায় এসে পৌঁছেনি।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্ট মাসে আরও ৪৪ জন শিক্ষকের ছুটির মেয়াদ শেষ হবে।   ছুটিতে থাকা ১২৮ শিক্ষকের মধ্যে ১১১ জন পিএইচডি, ৭ জন পোস্টডক্টরাল, ৬ জন মাস্টার্স, ২ জন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম এবং ২ জন কোনো ধরনের ডিগ্রি প্রোগ্রামে না থেকেও ছুটিতে রয়েছেন।   পদমর্যাদা অনুযায়ী ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন অধ্যাপক, ৩৫ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৭৯ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৮ জন প্রভাষক।   বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১০ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগে। এছাড়া ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ৮ জন করে, রসায়ন ও অর্থনীতি বিভাগে ৭ জন করে, চারুকলা, ব্যবস্থাপনা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৬ জন করে এবং ফার্মেসি বিভাগে ৫ জন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। বাকি বিভাগগুলোতে ছুটিতে থাকা শিক্ষকের সংখ্যা ৪ জনের কম।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক বলেন, ‘অনেকেই ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও ফিরে আসেন না। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও বারবার ছুটির সময় বৃদ্ধি করেন।’   বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. ইসকান্দর সিরাজ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষক পিএইচডির জন্য বেতনসহ ৪ বছর ও বেতন ছাড়া আরও অতিরিক্ত ২ বছর ছুটি নিতে পারেন। এছাড়া ১ বছরের মাস্টার্সের জন্য ২ বছর এবং ২ বছরের মাস্টার্সের জন্য ৩ বছর ছুটি নিতে পারেন।  বর্তমানে নিয়মের বাইরে কেউ ছুটিতে নেই। তবে যাদের মেয়াদ বৃদ্ধির তথ্য আসেনি, এর মূল কারণ হতে পারে এটা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে। আমাদের কাছে তাদের তথ্যটা এখনো আসেনি।’   বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যদি কারও ছুটি শেষ হয়, তাকে ১ মাসের মধ্যে যোগদান করতে বলা হয়। এরপরও কেউ যোগদান না করলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে শাস্তির বিধান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বেতন বন্ধ বা চাকরিচ্যুতও করা হয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত আমরা দেখিয়েছি।’   উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘কারও ছুটির মেয়াদ শেষ হলে তাকে নোটিশ পাঠানো হয়। এরপরও যদি তিনি কর্মস্থলে না ফেরেন, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনের বাইরে গিয়ে ছুটিতে থাকার সুযোগ নেই।’

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বার্ষিক পরীক্ষার সময়ই নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী

নতুন বছরের পাঠ্যবই এ বছরের ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষার সময়ই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে বলে আশা করছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   তিনি বলেছেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই আমাদেরকে রেডি থাকতে হবে নতুন পাঠ্যপুস্তক নিয়ে।"   পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।   তিনি বলেন, "নতুন বছরের শুরুতেই যেন পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে যায়। আমরা আশা করছি যে ডিসেম্বরের যে ফাইনাল এক্সাম হবে, তখনই তাদের হাতে আমরা বইগুলি পৌঁছে দেব।”   পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমরা ওয়ার্ক অর্ডার অগাস্টের প্রথম সপ্তাহের ভেতরে সব দিয়ে দেব। এরপর তারা (প্রকাশকরা) ছাপার কাজ শুরু করবে।   "আর এ বিষয়ে যা তদারকি করার দরকার রয়েছে, তা আমাদের মন্ত্রণালয়ের টিম রয়েছে, এনসিটিবি রয়েছ…। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আগামী দিনে সুন্দরভাবে বই দেওয়ার জন্য।"   আগামী বছরের শিক্ষাক্রমে কিছুটা পরিমার্জন আসছে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা: ফুলছড়িতে কেন্দ্র সচিবসহ ৯ জন অব্যাহতি

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে একটি কেন্দ্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) ও ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।    সোমবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান।    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)  উপজেলার ‘ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ’ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।    অব্যাহতি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) আসাদুল হক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ার হোসেন। তিনি ওই কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন। এ ছাড়া অন্যরা হলেন, কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য তিনজন (শিক্ষক) ও দুই কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষক।   ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য  ও দুই কক্ষে দায়িত্বরত চার শিক্ষকসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।   ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মনিরুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে সেদিন ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের অনিয়মিতদের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং পক্ষান্তরে ২০২৫ সালের অনিয়মিতদের প্রশ্নে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এটি অনেক বড় দায়িত্বহীনতা।   এ সময় তিনি বলেন, সেদিন এমন ঘটনার শুরুর দিকে আমাকে  মিস ইনফরমেশন (অসত্য তথ্য) দেওয়া হয়েছিল। আসলে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ৬১ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ৫০ জন এবং ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলো ১১ জন।   এর আগে গত বৃহস্পতিবার জেলার  ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাংলা ১ম পত্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দেয় ৫০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী এবং ২০২৬ সালের প্রশ্নে অনিয়মিত ১১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। পরে পরীক্ষা শেষে বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষার ফলাফল কি হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।   পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফলাফল শঙ্কার কথা জানিয়ে অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিবের কক্ষে কথা বলতে যান। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ফলাফলে কোনো সমেম্যা হবে না বলে জানান। এক পর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।    একইদিন দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি পত্রে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দিতে নির্দেশনা দিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি পত্র দেন। পরদিন ৩ জুলাই জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক পত্রে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ, প্রফেসর এস.এম আশাদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।    একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ওই কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।   এ ছাড়া ওই পত্রে ট্যাগ অফিসার ও পরিক্ষা কমিটির আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্ট কক্ষের সব কক্ষ প্রত্যাবেক্ষককে অব্যহতির কথা জানানো হয়।   প্রসঙ্গত, ২ জুলাই ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারা দেশে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলে ১টা পর্যন্ত। তবে, এসময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয় পৃথক প্রশ্নপত্রে।    প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি)-এর বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় গাইবান্ধায় জেনারেল, মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭১ জন। 

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ক্যাডেট কলেজের আদলে গড়ে উঠবে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ক্যাডেট কলেজের আদলে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ছেলেদের জন্য একটি এবং মেয়েদের জন্য একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হবে আবাসিক এবং তাতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।   সরকারের নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। ‘নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করা হয়েছে।   দেশে এখন পুরোপুরি আবাসিক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। অল্প কিছু পুরোনো স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রাবাস রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে অনেক আবাসিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। সেগুলোর সংখ্যা কত, সে হিসাব পাওয়া যায়নি।   ক্যাডেট কলেজ আছে ১২টি। তার মধ্যে ৯টি ছেলেদের এবং ৩টি মেয়েদের। ক্যাডেট কলেজ আবাসিক। সেখানে সপ্তম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পড়াশোনা হয় এইচএসসি পর্যন্ত।   শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেকে মনে করছেন, সরকারিভাবে আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এর মাধ্যমে স্বল্প ও সীমিত আয়ের পরিবারের সন্তানদের আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে; কিন্তু কোথায় কোথায় এ ধরনের আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, সেটির সমীক্ষা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জের মতো হাওরাঞ্চল, চরাঞ্চল কিংবা দুর্গম ও শিক্ষাবঞ্চিত এলাকা এবং জনবহুল এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আবাসিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে তা ইতিবাচক ফল দিতে পারে।   নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, শিখনঘাটতি কাটিয়ে ওঠা, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে জোরালো উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনেকে।   জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি পর্যায়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সে লক্ষ্যেও কাজ করা হবে।   বেসরকারি খাতের কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাতেও একই ধরনের মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সরকারি পর্যায়েই উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।   জমি ৩ একর, ভবন ১০ তলা মাউশির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় তিন একর জমি প্রয়োজন হবে। জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ৬০০টি একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ভবন হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং প্রতিটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। এ খাতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।   প্রস্তাবিত প্রকল্পে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য মোট ৬০০টি হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটির ব্যয় ১০ কোটি টাকা হিসাবে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ৬০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।   প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে পাঁচ বছরে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে। এ প্রকল্পের প্রশাসনিক খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, মূলধন ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণসহায়তা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।   মাউশি বলছে, দেশের সব অঞ্চলে, বিশেষ করে গ্রামীণ, অনগ্রসর ও অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকায় এখনো সমমানের আধুনিক শিক্ষাসুবিধা পৌঁছায়নি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।   মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা এলাকায় মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রকল্পের ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা ও বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।   মাধ্যমিকে কত শিক্ষার্থী বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ৯৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে ১৯ হাজারের বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রায় ৭৮ লাখ; আর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংখ্যা (এসব প্রতিষ্ঠানেও মাধ্যমিক স্তরে পড়ানো হয়) ১ হাজার ৫১৪। এগুলোতে শিক্ষার্থী আছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি।   এর বাইরে মাদ্রাসাগুলোতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সেই হিসাব সরকারি সংস্থার কাছে নেই। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে ২৯ হাজারের মতো শিক্ষার্থী।   দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমোদিত পদ ১৫ হাজার ২৯৩টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য, অর্থাৎ ১৮ শতাংশের বেশি পদে শিক্ষক নেই।   মাউশির পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখার গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে দক্ষতা অর্জনে বেশ পিছিয়ে। এমনকি বাংলায়ও শিক্ষার্থীদের অবস্থা কাঙ্ক্ষিত মানের নয়। মূলত বিদ্যালয়গুলোতে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোচিং ও গৃহশিক্ষকের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়।   অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, শিক্ষকেরা ক্লাসে ভালোভাবে পড়ানোর বদলে প্রাইভেট পড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেন। ফলে খরচের বোঝা পড়ে পরিবারগুলোর ওপর।   জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০২৩ সালে এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে বলেছিল, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ব্যয়ের ৭১ শতাংশই বহন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।   শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সব প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষকসংকট বা ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। এ কারণে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে আগের উদ্যোগগুলোর সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।   জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হয়তো ভালো। তবে এখানে মূল প্রশ্ন প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা নিয়ে। দেশের সব এলাকায় আবাসিক মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন আছে কি না, সেটি আগে বিবেচনা করা দরকার। তাঁর মতে, বর্তমানে বিদ্যমান প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অবশ্য প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে।   মুহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ বলেন, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নিয়ে কিছুটা সময় নিয়ে পুরো শিক্ষা খাত সামনে রেখে সমন্বিত পরিকল্পনা করা উচিত। যাতে সীমিত সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে বেশি সুফল পাওয়া যায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
শিগগিরই এক লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

দেশে এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক এবং বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছে। আদালত সরকারের আপিল গ্রহণ করায় এখন এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার পথ খুলে গেছে।   তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য বড় একটি সুসংবাদ। এর সঙ্গে বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষকও নিয়োগের আওতায় আসতে পারেন।”   পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়ে পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আগে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার একটি প্রচলন ছিল, তবে এখন সহকর্মীরা মনে করছেন—এ ধরনের পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই। এটি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।   উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হলেও তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। সাধারণ ধারায় প্রায় ৩৩ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলার সময় এই চিত্র আমাদের জন্য ভালো খবর নয়। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”   শিক্ষা খাতে বরাদ্দের অর্থের অপচয় বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ ও অনুদানের অর্থ নেওয়া হলেও সেগুলো সবসময় সঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি। ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতের প্রতিটি বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হবে।   মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরের লড়াই, কবে ও কখন?

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৮, ২০২৬