আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগের মতোই কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে এসব তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, এবারও একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়ায় তেমন পরিবর্তন আসছে না। গতবারের মতো ফল বা নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম রেখে আমরা নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আগামী ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। প্রথমে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবেন। উচ্চমাধ্যমিক কলেজ-মাদ্রাসাগুলোতে ফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম চললেও নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজের মতো চার্চ পরিচালিত কলেজগুলোতে বেশ কয়েক বছর আগে দেওয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। ফলে বরাবরের মতো এবারও একাদশ শ্রেণির বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকবে।
চলতি আগস্ট মাসে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ১২ দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছুটির পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগস্টে ৯ দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। এর সঙ্গে রয়েছে তিনটি সরকারি ছুটি। এগুলো হলো- ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির পঞ্জিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর- এই দুই মাসে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ২৩ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। একই সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোট ৩৮ দিন শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেবেন। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ১১ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ওই মাসে ১৯ দিন শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে।
দেশের সব সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সিসিটিভি (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কুষ্টিয়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাসে চুরির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র জানায়, গত ১৩ জুলাই অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় দেশের সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, কুষ্টিয়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বন্ধ থাকার সময় ছাত্রাবাস থেকে কয়েকটি বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান) চুরির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি হলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সব প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ৩০ জুলাই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) প্রকৌশলী মো. জয়নাল আবেদীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। নির্দেশনাটি দেশের সব আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও ফরিদপুরের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সরকারি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট, বগুড়া ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং সব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এদিকে একই সমন্বয় সভায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জীবনধারা বিষয়ক ‘হেলথ ক্যাম্প’ আয়োজন এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষকের জন্য ট্যাব সরবরাহের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে ট্যাবের মানসম্মত সাধারণ স্পেসিফিকেশন চূড়ান্ত করে দ্রুত অনুমোদনের জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) চলমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা প্রণয়ন এবং তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। রোববার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের নামে ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের কাছে শাস্তির দাবি জানানো এবং অভিযোগ প্রমাণের আগেই কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের আদেশ, একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়ার পরিপন্থী। শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি, যারা অতীতে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা, নিপীড়ন বা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরোধিতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই আইন, প্রমাণ এবং প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে; রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা মতাদর্শগত শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কেবল রাজনৈতিক মত, পরিচয় বা সমর্থনের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া কিংবা চাকরিচ্যুত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক প্রশাসনের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত অভিযোগ নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা, অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া, ১৯৭৩ সালের আদেশ অনুযায়ী শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নেওয়া সব শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে হবে। সংগঠনটির মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিহিংসার জায়গা নয়; এটি মুক্ত জ্ঞানচর্চা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠান। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব সিদ্ধান্ত আইন, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন নীল দলও তাদের এক বিবৃতিতে নীল দল নিষিদ্ধের দাবি, তদন্ত কমিটি গঠন এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপ্রসূত আখ্যা দিয়ে সেগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সর্বশেষ বিবৃতিতেও একই ধরনের যুক্তি ও দাবি উঠে এসেছে।
আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই দুই মাসে সাপ্তাহিক ছুটি ও বিভিন্ন সরকারি ছুটি মিলিয়ে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ২১ দিন ছুটি থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই ছুটি উপভোগ করবেন। আগস্ট মাসে সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৯ দিন। এর বাইরে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ১২ আগস্ট আখেরি সাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আরও তিন দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ফলে আগস্টে মোট ছুটির সংখ্যা দাঁড়াবে ১২ দিন। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৮ দিন। এছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে এক দিন ছুটি থাকবে। তবে মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়া শনিবার পড়ায় এ দুটি উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি মিলবে না। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে মোট ছুটি থাকবে ৯ দিন। দুই মাস মিলিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোট ২১ দিনের ছুটি পাবেন।
সরকারি কলেজের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের তিনটি কমিটির মাধ্যমে বদলির বিধান রেখে নতুন নীতিমালা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সহযোগী অধ্যাপকদের বদলি পদায়ন করা হবে। আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে অধিদপ্তর, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় এবং কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের বদলি পদায়নের বিধান রাখা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) নতুন এ নীতিমালাটি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে বদলি ও পদায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্য হিসাবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট জেলার এডিসি (শিক্ষা)। ওই অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ কমিটি দপ্তর ও সংস্থার পদ ছাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলি ও পদায়নের আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপকদের বদলি-পদায়নের কমিটির সদস্য হিসাবে থাকবেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (কলেজ)। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ) এ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ কমিটি ঢাকা মহানগর, দপ্তর, সংস্থার পদ ছাড়া কলেজগুলোতে সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করবে। বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পদ, কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদের বদলি ও পদায়নের আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব দিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্য হিসাবে থাকবেন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ও যুগ্মসচিব (কলেজ)। এ কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন উপসচিব (কলেজ)। এ কমিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থার সব পদে, কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে বদলি-পদায়ন সংক্রান্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলি-পদায়নের আদেশ জারি করবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রভাষকরা চাকরির দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তারা একই কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। তবে কোনো গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্র বিশেষে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তারা বদলির আবেদন করতে পারবেন। যৌক্তিকতা সাপেক্ষে আবেদন বিবেচনার এখতিয়ার সরকারের থাকবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকরিজীবী হলে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বা নিকটতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন। সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। অবসরের প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়ার এক বছর আগে কোনো শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা বদলির জন্য আবেদন করলে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। বদলির আবেদন মূল্যায়নে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা, পেশাগত সমস্যা, আবেদনকারী ও তার পরিবারের সদস্যদের দুরারোগ্য অসুস্খতা, নিজ জেলা থেকে কর্মস্থালের দূরত্ব ইত্যাদি বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।
হাতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের ঝকঝকে সনদ, অথচ চাকরির বাজারে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ নেই। সীমিত কর্মসংস্থানে তীব্র প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন তরুণরা, বাড়ছে বেকারত্ব ও হতাশা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা-প্রশিক্ষণই কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কার্যকর সমাধান হতে পারে। এমন কর্মমুখী শিক্ষায় জীবন বদলাচ্ছেও অনেকের। খাগড়াছড়ির এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান আমানত শাহ। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। ছয় সদস্যের পরিবারের বড় স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সবসময় সহজ ছিল না। এইচএসসি শেষ করার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন- শুধু সার্টিফিকেট নয়, জীবনে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন বাস্তবমুখী দক্ষতা। নিজের এলাকায় বা বাইরে কম্পিউটার অপারেশন কোর্স করতে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়, যা অনেক পরিবারের পক্ষেই বহন করা কঠিন। ঠিক তখনই আমানত শাহ জানতে পারেন ‘ইউসেপ মিরপুর টিভেট ইনস্টিটিউটের’ কথা। দেশের অন্যতম মানসম্পন্ন এই কারিগরি প্রতিষ্ঠানে তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছয় মাসের কম্পিউটার অপারেশন কোর্সে ভর্তি হন। পাঁচ মাস তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এক মাসের ইন্টার্নশিপ তাকে প্রস্তুত করেছে বাস্তব কর্মজীবনের জন্য। আমানত বলেন, ‘এখানকার সুন্দর ক্যাম্পাস, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষকদের আন্তরিকতা আমাকে প্রতিদিন নতুন করে শেখার অনুপ্রেরণা দেয়। ইউসেপে শুধু কম্পিউটার নয়, কেয়ারগিভিং, অটোমোবাইলসহ মোট ২২টি ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।’ পাবনার মেয়ে আফসানা খানমের গল্পটাও প্রায় একই রকম। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তারও স্বপ্ন ছিল একটি সম্মানজনক চাকরি। কিন্তু বাস্তবতা তাকে ভিন্ন এক সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আফসানা বলেন, ‘শুধু সাধারণ বিষয়ে ডিগ্রি থাকলেই আজকাল চাকরি পাওয়া সহজ নয়। প্রায় প্রতিটি নিয়োগেই দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বামীর এক বন্ধুর মাধ্যমে ইউসেপ সম্পর্কে জানতে পেরে ক্যাম্পাস পরিদর্শনের পর আমি কেয়ারগিভিং ট্রেডে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’ এখানকার শিক্ষকদের আন্তরিকতা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পদ্ধতি এবং কর্মমুখী পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি। তরুণদের উদ্দেশে আফসানার আন্তরিক আহ্বান- ‘অকারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা আড্ডায় সময় নষ্ট করবেন না। একবার ইউসেপ বাংলাদেশে এসে দেখুন। একটি দক্ষতা অর্জন করুন। কারণ একটি দক্ষতাই আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।’ আমানত শাহ বা আফসানার মতো এই তরুণ-তরুণীদের গল্প কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের আলোর পথ দেখাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ইউসেপ। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক লিন্ডসে অ্যালান চেইনির হাত ধরে বাংলাদেশে যাত্রা করে সংস্থাটি। সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও যুবসমাজকে সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইউসেপ। ইউসেপের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইউসেপের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর না করলে কেবল সনদের জোরে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। আমরা স্বল্প ও মানসম্মত খরচে বা ক্ষেত্রবিশেষে বিনামূল্যে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলছি। তরুণদের এই কর্মমুখী শিক্ষায় আরও বেশি আগ্রহী হতে হবে।’ প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউসেপ বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২ লাখ ৮৫ হাজার ২৬ জনকে বিভিন্ন ট্রেডে পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এর মধ্যে সফলভাবে কর্মসংস্থান বা চাকরি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯৯ জন। শুধু কারিগরি প্রশিক্ষণই নয়, এর পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত ৪ লাখ ৩ হাজার ৯৫৭ জনকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাও প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার বেকার, যার আনুপাতিক হার ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই ডিগ্রি আছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা নেই- তরুণ প্রজন্মের এই শূন্যতা পূরণে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে ইউসেপ বাংলাদেশ আজ এক নতুন সম্ভাবনার নাম। তাদের হাত ধরে চাকরির দুয়ার খুলছে লাখো তরুণ-তরুণীর।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ জানা গেল। চূড়ান্ত হওয়া তারিখ অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট একযোগে সব শিক্ষাবোর্ডের ফল প্রকাশ করা হবে। সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, কেন্দ্র সচিব এবং জনসাধারনের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এসএসসি/সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল আগামী ১০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে সারা বাংলাদেশে একযোগে প্রকাশ করা হবে। ফলাফল প্রাপ্তির নিয়মাবলি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের নিয়মানুযায়ী প্রথমে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের অফিসিয়াল লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। পরবর্তীতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ফলাফল প্রস্তুতের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশের আরও একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে আজ সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ আগস্ট তারিখটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ৮ জুন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০ জুলাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে, পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়া নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৬ টাকা। তবে নির্ধারিত সময় পার হলে বিলম্ব ফি ১৪০ টাকাসহ মোট ৩৩৬ টাকা পরিশোধ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। বোর্ড জানায়, কেবল অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও নিবন্ধনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স অবশ্যই ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে ভুল এড়াতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিশিক্ষকসহ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে তথ্য পাঠানোর আগে ভর্তি ফরমের সঙ্গে সব তথ্য মিলিয়ে দেখার দায়িত্ব থাকবে এই কমিটির। তথ্যগত কোনো ভুল হলে তার দায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের বহন করতে হবে। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে কোনো শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত না করার নির্দেশও দিয়েছে বোর্ড। বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) নির্বাচন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সম্মতিতে চূড়ান্ত করতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেও বিভাগ নির্ধারণ করতে পারবে। এ ছাড়া বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হলে বা কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বহন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফি বোর্ডে এসে জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে ‘eSIF’ পূরণ করেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। সেই স্বপ্নের কথা কাউকে জানালেই প্রথম যে পরামর্শটি শোনা যায়, সেটি হলো- ‘আগে আইইএলটিএস দাও।’ অনেকের কাছেই মনে হয়, ভিসা আর পাসপোর্টের মতোই বিদেশে যাওয়ার জন্য আইইএলটিএসও একটি অপরিহার্য ধাপ। কিন্তু কেন? আসলে আইইএলটিএস শুধু একটি পরীক্ষা নয় বরং এটি বিশ্বজুড়ে আপনার ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার স্বীকৃতি। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগকর্তা কিংবা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানতে চায়, আপনি ইংরেজিতে কতটা সাবলীলভাবে কথা বলতে, শুনতে, পড়তে এবং লিখতে পারেন। সেই দক্ষতারই নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন করে আইইএলটিএস। আইইএলটিএস কী? আইইএলটিএস বা ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা। এটি মূলত অ-ইংরেজিভাষী দেশের নাগরিকদের জন্য, যারা বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা অভিবাসনের পরিকল্পনা করছেন। এই পরীক্ষায় চারটি দক্ষতা যাচাই করা হয়— লিসেনিং (শোনা) রিডিং (পড়া) রাইটিং (লেখা) স্পিকিং (কথা বলা) আইইএলটিএসের ধরন আইইএলটিএস অ্যাকাডেমিক : যারা বিদেশে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করতে চান, তাদের জন্য এই পরীক্ষা। আইইএলটিএস জেনারেল ট্রেনিং: যারা বিদেশে চাকরি, অভিবাসন বা স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই সংস্করণ। কেন নেয়া হয় এই পরীক্ষা? যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষাই প্রধান মাধ্যম। সেখানে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী বা কর্মী যেন সহজে যোগাযোগ করতে পারেন, পড়াশোনা বুঝতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন—তা নিশ্চিত করতেই আইইএলটিএসের মতো পরীক্ষা নেয়া হয়। আইইএলটিএসের সুবিধা বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশের হাজারো বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণ করে।বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড, মেলবোর্নসহ বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে ভালো আইইএলটিএস স্কোর প্রয়োজন হয়। ভিসা ও ইমিগ্রেশনে সহায়ক- স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের স্থায়ী বসবাসের আবেদনেও আইইএলটিএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেশাগত স্বীকৃতি- চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট বা প্রকৌশলীর মতো অনেক পেশায় বিদেশে কাজ করতে ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস প্রয়োজন হয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়- আইইএলটিএসের প্রস্তুতির সময় শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বাস্তব জীবনে ইংরেজিতে কথা বলা, বোঝা ও যোগাযোগ করার দক্ষতাও অনেকটাই উন্নত হয়। আইইএলটিএসকে শুধু বিদেশে যাওয়ার টিকিট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের যোগাযোগ দক্ষতায় গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলা, নিজের ভাবনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা এবং বৈশ্বিক পরিবেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলার জন্যও আইইএলটিএসের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির পরিকল্পনা থাকুক কিংবা না-ই থাকুক, নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আইইএলটিএস হতে পারে ব্যক্তিগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) নতুন তিনজন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী চার বছরের জন্য তাদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছ। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী নাঈমা খন্দকার। নতুন নিয়োগ পাওয়া তিন সদস্য হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. মেহেদী খান, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, ১৯৭৩ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১০/৭৩)-এর সংশোধিত আইন, ১৯৯৮-এর ৪ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী নিম্নোক্ত তিনজনকে কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো- তাদের নিয়োগের মেয়াদ হবে ৪ বছর। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দিতে পারবেন। এছাড়া তারা অব্যবহিত পূর্ব পদে সর্বশেষ আহরিত বেতনভাতা প্রাপ্য হবেন; কমিশনের সদস্য হিসেবে তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধাদি পাবেন এবং এ নিয়োগ তাদের যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। তিন সদস্যকে সরিয়ে দিলো ইউজিসি এদিকে, নতুন তিনজনকে নিয়োগের আগেই ওই তিন পদে দায়িত্বরত তিনজন সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অব্যাহতি পাওয়া তিন সদস্য হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২২টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম গণপূর্ত অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক মো. মাহাবুব হোসেনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আজ রবিবার রাতে আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। ‘অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে কম্পিউটার চুরির সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে’— জানিয়েছেন উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এই সচিব। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ২৩ জুলাই রাত ৮টার মধ্যে কোনো একসময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ২২টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, র্যাম, কুলারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়। চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা। ‘চুরির ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে অফিস সহায়ক মিজানুর রহমানকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে’— উল্লেখ করা হয় অভিযোগে। এ ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ওই ভবনের ১৭-তলায় কম্পিউটার চুরির সঙ্গে কাপ-পিরিচসহ আরও কিছু মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে।
ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে নতুন করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অর্থে কেনা শিক্ষার্থী পরিবহনের বাসগুলো স্কুলের নামে নিবন্ধনের পরিবর্তে স্ত্রীসহ নিজের নামে নিবন্ধন করিয়ে সেগুলোর আয় ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করছেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্কুলের অর্থে ক্রয় করা বাসগুলো প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত হওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার নামে নিবন্ধন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বাস থেকে আদায় করা অর্থও প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না হয়ে তার ব্যক্তিগত হিসাবে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য চালু করা বাসগুলো সাপ্তাহিক ছুটির দিন—শুক্রবার ও শনিবার—বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, যেমন বিয়ে, পিকনিক ও ভ্রমণে ভাড়া দেওয়া হয়। প্রতিটি বাসের জন্য ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এসব ভাড়ার অর্থ স্কুলের হিসাবে জমা না হয়ে সরাসরি অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত হিসাবে চলে যায়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্রে বাস পরিচালনায় লোকসান দেখানো হয়। এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও দূরত্বভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিবহন ফি নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি বাস থেকে মাসে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার বেশি আয় হলেও তার প্রতিফলন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাবপত্রে নেই। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো ভিত্তিহীন। তবে বিআরটিএর নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাসগুলো তার নামে নিবন্ধিত থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, বাস কেনার সময় প্রতিষ্ঠানের টিআইএন (TIN) সনদ না থাকায় সাময়িকভাবে তার ব্যক্তিগত টিআইএন ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেন বাসগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠানের নামে হস্তান্তর করা হয়নি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ছাড়া বাস পরিচালনা থেকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখতে চাইলেও তিনি তা দেখাতে সম্মত হননি।
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান বর্জন করেছে ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। শুধু ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন তারা। আজ রবিবার ক্যাম্পাসের টিএসসি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ববর্তী কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেছেন, ‘নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান; এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ জুলাইয়ের পূর্বের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’ তার ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সকল ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেছেন, ‘এদেশে জুলাই এসেছিল বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন আবারও বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অতীতে যেমন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বাইরে কাউকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্থান দেওয়া হতো না, আজও আমরা একই ধরনের চিত্র দেখলাম। শুধুমাত্র ছাত্রদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বক্তব্যের সুযোগ না থাকলে কারওই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব সংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি দলকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্য। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।’ ছাত্রদল ছাড়া অন্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বললেন, ‘সময়ের স্বল্পতার কারণে আমরা অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে পারিনি। তাদের আগের রাতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, অনুষ্ঠানে তাদের বক্তব্যের কোনো অংশ থাকবে না। এত বড় একটি আয়োজনে ছাত্রদের এভাবে আচরণ করা ঠিক হয়নি।’
বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে অংশ নিতে পারেননি অনেক পরীক্ষার্থী। তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এসব পরীক্ষার্থীদের নতুন করে নিবন্ধনের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু। এতে বলা হয়, পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে পরীক্ষার্থীদের এই তথ্য আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড বাদে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের যেসব পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, কেবল তাদের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারায় বা পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে সমস্যায় পড়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা দিতে পারেনি। তাদের শিক্ষা জীবন সুরক্ষায় বোর্ড কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
৫০তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা-২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এ পরীক্ষায় মোট ৬ হাজার ১৬৫ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে (প্রভিশনালি) উত্তীর্ণ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা গত ৯ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের অনুমোদনক্রমে পরীক্ষায় মোট ৬ হাজার ১৬৫ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পিএসসি জানিয়েছে, ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬’ অনুমোদন হয়েছে। এর মাধ্যমে বগুড়ায় প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলো। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার আরও উন্মুক্ত করবে। এদিকে, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল অনুমোদন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া আনন্দ মিছিল মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতমাথায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের আগে কলেজ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এমআর হাসান পলাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহসভাপতি মামুদুর রহমান সানজাদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আসাদ সিদ্দিকী রাকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক শামস ইসলাম সাগর প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বগুড়া দীর্ঘদিন ধরেই রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম সেরা ফলাফল অর্জন করে আসছে। তাই বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়োপযোগী ও জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন। সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান। এদিকে, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস শাজাহানপুর উপজেলার জামালপুর এলাকায় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জামালপুর এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের জন্য ইন্ট্রোডাক্টরি ট্রেনিং ফর প্রাইমারি টিচার্স (আইটিপিটি) কার্যক্রমের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ভার্চুয়াল সভা ডেকেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে জুম প্ল্যাটফর্মে এ সভা হবে। সোমবার (২০ জুলাই) নেপের এক নোটিশে এ তথ্য জানা যায়। নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি চলছে। এতসংখ্যক শিক্ষকের প্রশিক্ষণের জন্য অনেক প্রস্তুতি দরকার। আমরা একটা জুম মিটিং করবো। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো।’ এদিকে, নেপের নোটিশে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জুম প্ল্যাটফর্মে একটি সভা হবে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শাহীনা ফেরদৌসী। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। সভায় সংশ্লিষ্ট সব সদস্যকে নির্ধারিত সময়ে জুম প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই)। বিভীষিকাময় ওই দিনের ভয়ংকর স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে। আকাশে বিমানের শব্দ বা আগুন দেখলেও আঁতকে উঠছে তারা। কী ঘটেছিল সেদিন ২০২৫ সালের ২১ জুলাই, দিনটি ছিল সোমবার। দুপুরে সোয়া ১টা নাগাদ স্কুলের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে যায় ছোট শিশুদের কোমল শরীর। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু। সেদিন প্রাণ হারান পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও। শোক কাটেনি, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো পরিবারগুলো এক বছরেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। শোকের সঙ্গে ক্ষোভও আছে তাদের। বিশেষ করে দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ না দেখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া বলেন, সকালবেলা যে সন্তানকে নিজের হাতে স্কুলে দিয়ে এসেছিলাম, দুপুরে তাকে ফিরে পেয়েছি লাশ হিসেবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। আগে দুই ছেলেকে প্রতিদিন সকালে স্কুলে নিয়ে আসতাম। এখন শুধু ছোট ছেলেকে নিয়ে আসি। স্কুলে যখন আসি, শত শত ছাত্রছাত্রীর মাঝে আমি আমার তানভীরকে খুঁজে বেড়াই, কিন্তু কোথাও পাই না। শুধু ওর শেষদিনের হাসিমুখ আর স্মৃতিগুলো বুকে ধাক্কা দেয়। আজকে একটা বছর পার হয়ে গেছে, বড় ছেলের সেই হাসি আমার চোখে এখনো ভাসে।’ দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বলেন, ‘ছেলেটার পড়ার টেবিলটা এক বছর ধরে একইভাবে পড়ে আছে। বই সরেনি, খাতা সরেনি। প্রতিদিন ওর মা বইগুলো মুছে দেয়, গুছিয়ে রাখে। মাহতাবকে ছাড়া আমরা কেউ ভালো নেই। আমাদের বাসাটা আগে প্রাণবন্ত ছিল, হাসি-খুশি ছিল। এখন এ বাসা কবরস্থানের মতো।’ নিহত তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘সরকার ২০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিল। আমরা এক টাকাও ছুঁই নাই। টাকা দিয়ে আমি কী করবো? সারা দুনিয়া এনে দিলেও কি আমার আয়মান ফিরে আসবে? আমি তো বলেছিলাম, আমি উল্টো টাকা দিই, আমার আয়মানকে এক সেকেন্ডের জন্য আমার বুকে এনে জড়িয়ে ধরতে দেন।’ ‘সরকারের কাছে আমার আর কোনো চাওয়া নেই, শুধু একটাই চাওয়া- স্কুলটা এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হোক। এখনো স্কুলের ওপর দিয়ে বিমান যায়। রানওয়ে আগে হইছে, স্কুল পরে। এটা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। আমার আয়মান তো চলে গেছে, কিন্তু ওর মত শত শত আয়মান এখনো ওই স্কুলে পড়ে। আমি চাই না আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হোক,’ যোগ করেন তিনি। উড্ডয়ন বন্ধ হয়নি, বিমান উড়লেই বাড়ে আতঙ্ক এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় বিমান উড্ডয়ন চালু রাখা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে অভিভাবক ও স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, এতবড় দুর্ঘটনার পরও এ এলাকায় বিমান উড্ডয়ন বন্ধ হয়নি। তানভীরের বাবা রুবেল মিয়ার ভাষ্য, ‘প্রশিক্ষণ বিমান এখনো ওদের শিডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এখন আগের থেকে বেশি বিমান প্রশিক্ষণের মহড়া হচ্ছে। আমরা তো সবসময় আতঙ্কে থাকি, সবসময় ভয়ে থাকি, না জানি আবার একটা ঘটনা ঘটে যায়।’ যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কাজও এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রস্তুত রাখতে নিয়মিত মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। দুইদিনের কর্মসূচি ট্রাজেডির এক বছর উপলক্ষে দুইদিনের কর্মসূচি দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে রয়েছে স্মরণ অনুষ্ঠান, দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি ও নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত। এদিকে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলটি মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম খান। তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থলে স্কাউট ও রোভার সদস্যরা গার্ড অব অনার দেবেন। নিহত ব্যক্তিদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে এবং পরে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া স্মৃতিচারণার আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের ছবি, বন্ধুদের লেখা স্মৃতিকথা ও বিভিন্ন বার্তা প্রদর্শন করা হবে। এ আয়োজনে অভিভাবকরাও উপস্থিত থাকবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এদিকে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটেও পৃথকভাবে নানা আয়োজন করা হচ্ছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে স্মারক সংকলন প্রকাশ, সেমিনার, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলও নিজস্ব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ২৪ জুলাই, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ২৪ ও ২৫ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ২৫ জুলাই, শামসুন নাহার হল ২৬ জুলাই, রোকেয়া হল ৩০ জুলাই, শেখ মুজিবুর রহমান হল ১ থেকে ৪ আগস্ট এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল ৫ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে। এ উপলক্ষে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে। এছাড়া অমর একুশে হল ২৩ থেকে ২৫ জুলাই, বিজয় একাত্তর হল ২৩ জুলাই, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ২৫ জুলাই এবং নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাস ২২ জুলাই বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৫টি ক্ষুদ্র গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। সে লক্ষ্যে আগ্রহী গবেষকগণের ৪ বিষয়ে গবেষণা প্রস্তাবনা আহ্বান করেছে নেপ। সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্বখাতে প্রাথমিক শিক্ষার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকগণের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত ৫টি ক্ষুদ্র গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সে লক্ষ্যে আগ্রহী গবেষকগণের কাছ থেকে নিম্নোক্ত বিষয়/থিমসমূহে গবেষণা প্রস্তাবনা আহ্বান করা যাচ্ছে। বিষয়সমূহ হলো: ক) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা (বাংলা ও ইংরেজি) উন্নয়নে কোনো পদ্ধতি, কৌশল, এক্টিভিটি বা মডেলের কার্যকারিতা নির্ণয় বিষয়ক গবেষণা। খ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণিতের চ্যালেঞ্জিং কোনো বিষয়বস্তু উপস্থাপনার জন্য কোনো পদ্ধতি, কৌশল, এক্টিভিটি বা মডেলের কার্যকারিতা নির্ণয় বিষয়ক গবেষণা। গ) পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি)। ডিপিএড প্রশিক্ষণের তথ্যপুস্তক, ম্যানুয়াল, শিক্ষাক্রম ইত্যাদির কার্যকারিতা, সামঞ্জস্যতা ইত্যাদি বিষয়ক গবেষণা। ঘ) প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাক্রম, পাঠ্যবই, শিক্ষক সহায়িকার কার্যকারিতা (Effectiveness), সামঞ্জস্যতা (Alignment) ইত্যাদি বিষয়ক গবেষণা। ঙ) প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সহজীকরণে বিশেষ কোনো উদ্যোগ/ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নির্ণয় বিষয়ক গবেষণা। এ বছর পরীক্ষামূলক গবেষণাকে অধিকতর উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে উল্লেখ করে শর্ত হিসেবে নেপ-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন টিম লিডার এবং এক বা একাধিক সহযোগী গবেষকের সমন্বয়ে 'গবেষণা দল' গঠন করতে হবে। পিটিআই, ইউপিইটিসি, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ গবেষক হিসেবে গবেষণা দল গঠন করতে পারবেন। গবেষণাদল গঠনপূর্বক নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী 'গবেষণা প্রস্তাবনা' আগামী ১৫ আগস্ট, ২০২৬ তারিখের মধ্যে হার্ড কপি "অনুষদ প্রধান, গবেষণা ও শিক্ষাক্রম উন্নয়ন অনুষদ, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহ" ঠিকানায় এবং সফট কপি (পিডিএফ এবং ওয়ার্ড ফাইল) nape.research@gmail.com ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। প্রতিটি ক্ষুদ্র গবেষণা কার্যক্রমের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দকৃত বাজেট ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ টাকা মাত্র) টাকা, যা নেপ এর রাজস্বখাতের আওতাভুক্ত গবেষণা উপখাতে বরাদ্দ অর্থ থেকে পরিশোধ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।