দেশের সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছে সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনুসরণ করা হবে এই পদ্ধতি। ভর্তি পরীক্ষা ও শিক্ষার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যে একটি খসড়া নীতিমালাও প্রস্তুত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলেই নীতিমালা আকারে জারি করা হবে এটি। ডিসেম্বরে এ পদ্ধতি অনুসরণ করেই নেওয়া হবে ভর্তি পরীক্ষা। খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, লটারির পরিবর্তে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে মেধা যাচাইয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তিন বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। মেধাতালিকা অনুযায়ী স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে মাউশির মাধ্যমিক শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত তিন বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে, এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে মন্ত্রণালয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করা হবে।
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের ফের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ও আগামীকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত এ সুযোগ থাকছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের সংশোধিত ফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থী আগে আবেদন না করে থাকলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর যারা এরই মধ্যে আবেদন করেছেন, তারা নিজেদের আবেদন পরিমার্জনের সুযোগ পাবেন। এছাড়া গত ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীরাও ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন গত ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অনলাইন আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ও রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদনকারীরা তাদের পছন্দক্রম পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং তার আগের দুই বছরের শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণের পর আবেদনের সুযোগ পাবেন। এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা — যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগ ছাড়াও পরস্পরের বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন। ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ—মোট ২ শতাংশ আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকবে। কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধা তালিকা থেকেই ওই আসন পূরণ করা হবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে। সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে পাওয়া নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করা হবে। স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন। ভর্তির ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। অন্যান্য মহানগরে বাংলা মাধ্যমে ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা, জেলা সদরে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। শিক্ষার্থীর প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু বা শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিল করা হতে পারে।
এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৭৯ জন পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২ জন। এ ছাড়া পুনঃনিরীক্ষণের পর ১ হাজার ৫ জন পরীক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট এবং ৩ হাজার ১১৮ জনের প্রাপ্ত নম্বরে পরিবর্তন এসেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবার বরিশাল বোর্ডের ১৭ হাজার ২৮৩ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। পুনঃনিরীক্ষণের পর ৭৯ জন ফেল থেকে পাস করেছে এবং ১১২ জন নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৫ জন পরীক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তন হয়েছে। নম্বরের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে ৩ হাজার ১১৮ জনের। এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এবার বরিশাল বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৫১৫টি বিদ্যালয়ের মোট ৮২ হাজার ৯০১ জন পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে ৮০ হাজার ৪৫৮ জন ২১৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন। এসএসসি পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডে ২৪ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষা ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ পরীক্ষার্থী। আরগ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষা ও পুনর্মূল্যায়নের এই ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। নতুন করে পুরো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন চলে ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ৬২ গবেষকদের একজন অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর এবার শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শকৃবি) প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গবেষণায় তার ২৯১৭টি সাইটেশন রয়েছে। তিনি জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে তিনি ইউনাইটেড ন্যাশন্স ইউনিভার্সিটি, টোকিও থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। টোকিওতে অবস্থানকালে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইয়োশিনোরি ওসুমির সঙ্গে গবেষণা কাজ করেছেন। এ ছাড়া দেশি বিদেশি একাধিক খ্যাতনামা জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে গত ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ধারা ১৯(১) অনুযায়ী অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক শেখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক। গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ৬২ জন অধ্যাপককে সংবর্ধনা দিয়েছে, তিনি তাদের একজন। গবেষণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। দেশি-বিদেশি একাধিক খ্যাতনামা জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো উপাচার্য পেল শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পড়ল অধ্যাপক শেখরের ওপর। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তার অবসর গ্রহণের তারিখ—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। বর্তমানে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টারি কনজ্যুমারস ট্রেইনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটির (ভোক্তা) সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রাণরসায়ন ও অণুজীববিদদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। এ ছাড়া তিনি বৈজ্ঞানিক জার্নাল বায়োরিসার্স কমিউনিকেশন্সের প্রধান সম্পাদক। এ ছাড়া শেখর বেশ কিছু জার্নালের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য, এরমধ্যে প্লস ওয়ান, ফন্টিয়ারস ইন মলিকুলার বায়োসাইন্সেস, বায়োমেড রিসার্স ইন্টারন্যাশনাল ও স্প্রিঞ্জার-এর ডিস্কোভার টক্সিকোলজি উল্লেখযোগ্য। তিনি খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গ্লোবাল ফোরাম অন ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন-এর সক্রিয় সদস্য। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে শেখরের ১১০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ফাংশনাল ফুডস ফ্রম বাংলাদেশ শিরোনামে ইংরেজি ভাষায় একটি উল্লেখযোগ্য বই রচনা করেন। এছাড়াও তিনি স্প্রিঞ্জারে প্রকাশিত বায়োটেকনোলজিক্যাল এডভান্সেস ইন হেলথোমিক্স শিরোনামের একটি বই যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। এ ছাড়া তিনি টোকিওতে অবস্থানকালে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইয়োশিনোরি ওসুমির সঙ্গে কাজ করেছেন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হবে।’ তিনি জানান, এবার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সীমাবদ্ধ ছিল না। আবেদন করা খাতাগুলোও আবার মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর আগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। নতুন করে পুরো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন চলে ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। এ কারণে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে। সব মিলিয়ে আবেদন হয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন, সিনিয়র শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের কোনো বিরোধিতা বা মন্তব্য নেই। একই সঙ্গে ব্যাচের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির বিতর্কিত বক্তব্যের দায়ও নেবে না ২০২৫ ব্যাচ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ ব্যাচের পক্ষ থেকে তাদের সামষ্টিক অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের যোগদান ও পদায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবরের মধ্যে পদায়ন হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, সিনিয়র শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই তারা স্পষ্ট করতে চান যে, বদলি সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে ২০২৫ ব্যাচের কোনো বিরোধিতা নেই। তারা আরও জানান, সম্প্রতি একজন ব্যক্তি ২০২৫ ব্যাচের নাম ব্যবহার করে যে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এর সঙ্গে পুরো ব্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে কেউ ব্যাচের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা বিতর্কিত বক্তব্য দিলে তার দায়ও ২০২৫ ব্যাচ নেবে না। চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের একটি ব্যাচের সামষ্টিক অবস্থান কোনো একক ব্যক্তির বক্তব্য দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। তাদের মূল অবস্থান হলো—সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যে বিভাজন নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের পরিবেশ বজায় রাখা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিনিয়র শিক্ষকদের কোনো যৌক্তিক সমস্যা বা উদ্বেগ থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সংগঠন ও দায়িত্বশীল নেতারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন—এটাই ২০২৫ ব্যাচের প্রত্যাশা। এ ধরনের গঠনমূলক উদ্যোগে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে পাশে থাকবেন। পদায়নের আগে বদলি স্থগিতের উদ্যোগ: এদিকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষকদের ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবরের মধ্যে পদায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৭(২)(ক) ধারার উল্লেখ করে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে থানাভিত্তিক হবে। তবে গত ২১ জুনের ৩৫০ নম্বর প্রজ্ঞাপনের আলোকে বদলি কার্যক্রম চলমান থাকায় কিছু উপজেলা বা থানায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্য পদ নেই। অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষকদের পদায়নের আগে বদলি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন এলাকায় পদায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের পদায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্থগিত রাখা প্রয়োজন। এ অবস্থায় ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষককে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে সনদ সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করে সনদ ডাউনলোড করতে হবে শিক্ষকদের। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় এ অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শিক্ষককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পন্ন করতে হবে। মাউশির নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষণ কোর্সটি চালু রয়েছে। শিক্ষকরা নিজ নিজ পিডিএস আইডি ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে লগইন অথবা রেজিস্ট্রেশন করে কোর্সে অংশ নিতে পারবেন। প্রশিক্ষণে মোট ছয়টি মডিউল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ মডিউলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কার্যক্রম শেষ করার পর সেটির ছবি বা ভিডিও নির্ধারিত অনলাইন লিংকে জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয়েছে। ছয়টি মডিউল ও নির্ধারিত শ্রেণি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর শিক্ষকরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। সনদে মাউশি ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অ্যাকাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালকদের স্বাক্ষর থাকবে। মাউশি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
কৃষি গুচ্ছভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভর্তি পরীক্ষা আগামী বছরের ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ভর্তি কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেছেন, কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে। জানা যায়, কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণসহ পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, আসনসংখ্যা, পরীক্ষার সময় ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হবে। কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকে। ফলে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। সর্বশেষ গত শিক্ষাবর্ষে মোট ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। এরমধ্যে ছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২৬-২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে ইবতেদায়িসহ দেশের সব মাদ্রাসায় সরকারের মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মৌলভীবাজার-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও খাদ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।’ এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সহায়তা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসইডিপি (সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) কর্মসূচির আওতায় মাদ্রাসা শিক্ষা উৎকর্ষ সহায়তা কর্মসূচি (এমইইএসপি) প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬-২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালু করা হবে। এর আওতায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোও থাকবে।’ এর আগে, প্রশ্নে সংসদ সদস্য জানতে চান, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল সুবিধা প্রদান করলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে অবহেলিত এতিমখানার শিক্ষার্থীরা কেন এ সুবিধা পাচ্ছে না।
Bangla Tribune হোমশিক্ষা ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ আজ, দেশে সাক্ষরতার হার কত বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস (ছবি: বাসস) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস (ছবি: বাসস) আজ ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এ বছরের প্রতিপাদ্যে সাক্ষরতাকে কেবল পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার মৌলিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা না করে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাক্ষরতা বিস্তারে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে একই সঙ্গে এখনও একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ থেকে বাইরে রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের প্রথাগত বর্ণমালা চেনার সীমা অতিক্রম করে প্রয়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার ছায়াতলে আনাই এখন সরকারের মূল অগ্রাধিকার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাক্ষরতা দিবসের আলোচনা শেষ হবে। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায় ছাড়াও দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সমন্বয়ে আলোচনা সভা ও দিবসটি উদ্যাপনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়েও ছোট পরিসরে আলোচনা সভা, র্যালি ও সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালিত হবে। এর বাইরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিও দিবসটি উপলক্ষে নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৬৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি এবং এখনো নিরক্ষরতার সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া লাখো মানুষের সংগ্রামকে তুলে ধরতে দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
কর্মস্থলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অফিস শুরুর পর পরিচালিত এ পরিদর্শনে ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তর ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার সময় উপাচার্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, দাপ্তরিক কাজের অগ্রগতি এবং অফিসের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নিয়মিত ও যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ২২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক করেন উপাচার্য। ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক ও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও সময়ানুবর্তিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে এ ধরনের পরিদর্শন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান বেরোবি উপাচার্য।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওইদিন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা হবে। তবে ভর্তির আবেদন শুরুর তারিখ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সেখানে জানানো হয়নি। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এন এম গোলাম জাকারিয়া বলেন, এবার কত আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হবে–সেসব বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের একাডেমিক কাউন্সিলে পরীক্ষার তারিখটি নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।” গত বছর বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা ছিল না। কেবল লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তিযোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়েছিল। ভর্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে (www.buet.ac.bd) প্রকাশ করা হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে তার প্রথম সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো। এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচনের প্রত্যাশা আরও জোরালো হলো। এর আগে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণের পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরে সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সফরের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। পরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে সেখানে জড়ো হন হাজারো মানুষ। মাঠের পাশাপাশি আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন ভবনের ছাদেও ছিল মানুষের ভিড়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের এই জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তার।
বুয়েটের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে আগামীকাল রবিবার বৈঠকে বসছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই বৈঠকে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সভা শেষে পরে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বুয়েটের ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আগামীকাল আমরা বসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। এদিকে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। তবে প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে আগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার নজির থাকা বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নরসিংদীর মাধবদীতে নিজে আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করানোর অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পরীক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সব ধরনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার গদাইরচর আছিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষক নিজে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে তার এক ছাত্রকে দিয়ে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করাচ্ছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে নাসির উদ্দিন তার ছাত্রদের দিয়ে সেগুলো মূল্যায়ন করিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংশ্লিষ্টদের অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় মামলা করেন। পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর অধীনে মামলাটি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে এ ধরনের অনিয়ম শুধু পরীক্ষার সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়াতে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ‘স্ট্রেনদেনিং অ্যাগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (এসএটিইপি)’ নামে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এডিবির প্রতিনিধিদলের একটি পরামর্শ সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে (বাকৃবি) কৃষি গবেষণার উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে এডিবি ১০৫ মিলিয়ন এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক বা ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (কেএক্সিম/ইডিসিএফ) ৫৫ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশ সরকার দেবে। প্রকল্পের আওতায় কৃষি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষি শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাঠ্যক্রম ও অ্যাকাডেমিক কাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি গবেষণার অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষক ও গবেষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ থাকবে। বাকৃবিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণার জন্য একটি আধুনিক ইন্সট্রুমেন্টেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে জলবায়ু, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রকল্পে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রিমোট সেন্সিং, জিপিএস, জিআইএস, ড্রোন, ডিজিটাল টুইন, আবহাওয়া বিশ্লেষণ, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, বায়োটেকনোলজি ও রোবটিকসের মতো প্রযুক্তি রয়েছে। গবেষণার ফলাফল কৃষি খাত ও বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে। গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব এবং গবেষণা-শিল্প-উদ্যোক্তার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রি-স্টার্টআপ, স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন পর্যায়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় এডিবির সিনিয়র সোশ্যাল সেক্টর ইকোনমিস্ট ও মিশন লিডার রিওতারো হায়াশি বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে বাকৃবির শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাকৃবির সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের পাশাপাশি প্রযুক্তি উন্নয়ন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, কৃষি, উচ্চশিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে ইউজিসি কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান সক্ষমতার পার্থক্য কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা তৈরির অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পটি শিক্ষার্থীদের আধুনিক দক্ষতায় দক্ষ করে কর্মবাজারের উপযোগী করে তুলতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতেও এটি ভূমিকা রাখবে। সভায় ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান ভূঁইয়া, বাকৃবির প্রকল্প ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম ভূঁইয়া, ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক সুরাইয়া ফারহানাসহ ইউজিসি, বাকৃবি ও এডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কওমি ও আলিয়া ধারার শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে নতুন দুটি প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। ‘নিশ-৩’ নামের এ দুটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে কওমি ধারার আগ্রহী শিক্ষার্থী এবং আলিয়া ধারার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা বাউবির মাধ্যমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ পাবেন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাউবির ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রে ‘বাউবিতে এসএসসি (নিশ-৩) ও এইচএসসি (নিশ-৩) প্রোগ্রামের সিলেবাস ও রেগুলেশন’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু হয়েছে। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এবং প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য দ্বিতীয়বার শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে এসএসসি নিশ-৩ ও এইচএসসি নিশ-৩ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ধর্মীয় শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রেখেই জাতীয় ও মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। উপাচার্য আরও বলেন, নিশ-৩ প্রোগ্রামের সিলেবাস ও রেগুলেশন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কর্মশালায় শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে তা আরও সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী করা হবে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ প্রোগ্রাম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ সফল হলে বাউবির শিক্ষা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে। বয়স, লিঙ্গ, পেশা ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত রেখে বাউবি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। ওপেন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোছা. শিরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাউবির প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে আজ। শিক্ষার্থীরা ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে। আবেদন ফি ২২০ টাকা। ভর্তির সব কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে হবে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে। ভর্তির যোগ্যতা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে। ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে ভর্তি করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবে। পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফলে ফল পরিবর্তিত হলে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। একই সময়ে পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। নির্বাচনের পর ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ক্লাস। আবেদন করার জন্য যা যা লাগবে আবেদন শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি তথ্য হাতের কাছে রাখা ভালো। যেমন- এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের বছর, নিজের সচল মোবাইল নম্বর, পছন্দের কলেজগুলোর তালিকা, যে বিভাগে ভর্তি হতে চান সেই বিভাগের তথ্য। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য ও পরীক্ষার তথ্য ভুল দেওয়া হয়েছে কি না, সাবমিট করার আগে ভালোভাবে মিলিয়ে নিতে হবে। ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারীকে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হতে হবে। ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে এবং মূল কপি দেখাতে হবে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কেউ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করলে নির্বাচিত হলেও কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। যেমন, মুক্তিযোদ্ধার নাতি বা নাতনিরা এই কোটায় আবেদন করার যোগ্য নয়। শিক্ষা কোটায় যারা আবেদন করতে পারবেন শিক্ষা কোটার দুটি ভাগ রয়েছে-ইকিউ–১ ও ইকিউ–২। ইকিউ–১: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সন্তানেরা এই কোটায় আবেদন করতে পারবে। ইকিউ–২: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ২৮টি দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানেরা এই কোটায় আবেদন করতে পারবে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি স্কুল, সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সরকারি শিক্ষা অফিসে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানেরাও এই কোটার সুবিধা পাবে। এই কোটাগুলোতেও নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে আবেদন করা যাবে না। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আবেদন করে নির্বাচিত হলেও কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে না। জিপিএ সমান হলে মেধাক্রম যেভাবে একাধিক শিক্ষার্থীর জিপিএ সমান হলে মোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। মাদ্রাসা, কারিগরি ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ ও মোট নম্বর সমান হলে প্রথমে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান ফল হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। এক বিভাগের শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে আবেদন করলেও জিপিএ সমান হলে মোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। জটিলতা দেখা দিলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলার নম্বর বিবেচনা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড.আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিন জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ট্রাইবুনালের গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তাদর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রোভিসি বলেন, তিনি ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন। কিন্তু সংগীত বিভাগে লেকচারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ড. জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স ও মাস্টার্স এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বাড়াতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। পাশাপাশি গবেষণা খাতে বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টেকসই গবেষণা পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইউজিসির ১৭৯তম পূর্ণ কমিশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি জানান, ইউজিসির নিজস্ব পিএইচডি স্কলারশিপ বর্তমানে ৭৫টি থেকে বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগও ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর অংশ হিসেবে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে আগামী অর্থবছরে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ইউজিসি। সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষ ও মানসম্পন্ন শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় দেশীয় ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গবেষণাবান্ধব ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় ইউজিসি। শুধু গবেষণার সংখ্যা বাড়ানো নয়, গবেষণার মান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাও কমিশনের অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, দক্ষ গবেষক তৈরি, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং গবেষণার ফলাফল বাস্তবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। সভায় ‘ইউজিসি প্রমোশনাল অ্যান্ড একাডেমিক স্টাফ ডেভেলপমেন্ট গবেষণা প্রকল্প নীতিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।