মতামত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা

নাসির উদ্দিন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি, ট্রাম্পের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মার্কিন ক্যাপিটল ভবন এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অবস্থানের প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা

সদ্যসমাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল আসন-গণনার ফল নয়; এটি রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির নীতি এবং রাজনৈতিক ভাষার বিরুদ্ধে ভোটারদের একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসও দখলের পথে, যা ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে তাঁর আইনসভা-নিয়ন্ত্রণকে কার্যত দুর্বল করবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।

এ নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের সিনেটে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চারটি আসনে জয় দরকার ছিল; শেষ পর্যন্ত তাঁরা সাতটি আসন জয় করে সিনেটে ৫৪-৫০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। টেক্সাস, ক্যানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনায় দশকের পর দশক পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হওয়া এই ফলাফলের তাৎপর্য আরও বাড়িয়েছে।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের বিজয় এই নির্বাচনের অন্যতম ঐতিহাসিক দিক। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই চিকিৎসক রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন। তাঁর জয় শুধু ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের প্রতীক নয়; এটি দেখায়, ইসলামবিরোধী প্রচারণার মুখেও ভোটাররা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির রাজনীতিকে গ্রহণ করেছেন।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান আবের কাওয়াসের জয়ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি নিউইয়র্ক আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ও হিজাব-পরা নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।  একই সঙ্গে ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব পঞ্চমবারের মতো হাউসে নির্বাচিত হয়েছেন; এবার অন্তত সাতজন মুসলিম কংগ্রেসে জায়গা করে নিয়েছেন।  এটি প্রমাণ করে, মার্কিন রাজনীতিতে বৈচিত্র্য ক্রমশ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের রূপ নিচ্ছে।

এই নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রার্থী ও বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মোট ব্যয় প্রায় ১১.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২২ সালের ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।  বাইরের গোষ্ঠীর ব্যয় প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার এবং ‘ডার্ক মানি’ প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার—এই সংখ্যাগুলো নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থের ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরে।  গণতন্ত্রের জন্য প্রশ্ন হলো, এত বিশাল প্রচারণা-ব্যয় কি ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করছে, নাকি ক্ষমতাধর অর্থের প্রভাব বাড়াচ্ছে?

ট্রাম্পের সামনে এখন নতুন বাস্তবতা। কেননা কংগ্রেসে উভয় কক্ষ হারানো ট্রাম্পের আইন, বাজেট ও নিয়োগ নীতিকে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত আইনসভার যাচাইয়ের মুখে ফেলবে। তবে ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসকিউরের সতর্কবাণী অনুযায়ী, পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব এখনো অনিশ্চিত ও অপ্রত্যাশিত থাকতে পারে।  বিদেশি কূটনীতিকরা মনে করছেন, দুর্বল ট্রাম্প বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত নীতিতে আরও বেশি বিঘ্নজনক ভূমিকা নিতে পারেন।

ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই জয় স্বস্তির, কিন্তু আত্মতৃপ্তির নয়। ভোটাররা কেবল ট্রাম্প-বিরোধিতার জন্য নয়, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির জন্যও ভোট দিয়েছেন।  প্রতিনিধিত্বের এই বিজয় তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির কার্যকর নীতিতে রূপান্তরিত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি, ট্রাম্পের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মার্কিন ক্যাপিটল ভবন এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অবস্থানের প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা

সদ্যসমাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল আসন-গণনার ফল নয়; এটি রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির নীতি এবং রাজনৈতিক ভাষার বিরুদ্ধে ভোটারদের একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসও দখলের পথে, যা ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে তাঁর আইনসভা-নিয়ন্ত্রণকে কার্যত দুর্বল করবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। এ নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের সিনেটে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চারটি আসনে জয় দরকার ছিল; শেষ পর্যন্ত তাঁরা সাতটি আসন জয় করে সিনেটে ৫৪-৫০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। টেক্সাস, ক্যানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনায় দশকের পর দশক পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হওয়া এই ফলাফলের তাৎপর্য আরও বাড়িয়েছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের বিজয় এই নির্বাচনের অন্যতম ঐতিহাসিক দিক। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই চিকিৎসক রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন। তাঁর জয় শুধু ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের প্রতীক নয়; এটি দেখায়, ইসলামবিরোধী প্রচারণার মুখেও ভোটাররা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির রাজনীতিকে গ্রহণ করেছেন। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান আবের কাওয়াসের জয়ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি নিউইয়র্ক আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ও হিজাব-পরা নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।  একই সঙ্গে ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব পঞ্চমবারের মতো হাউসে নির্বাচিত হয়েছেন; এবার অন্তত সাতজন মুসলিম কংগ্রেসে জায়গা করে নিয়েছেন।  এটি প্রমাণ করে, মার্কিন রাজনীতিতে বৈচিত্র্য ক্রমশ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের রূপ নিচ্ছে। এই নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রার্থী ও বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মোট ব্যয় প্রায় ১১.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২২ সালের ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।  বাইরের গোষ্ঠীর ব্যয় প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার এবং ‘ডার্ক মানি’ প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার—এই সংখ্যাগুলো নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থের ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরে।  গণতন্ত্রের জন্য প্রশ্ন হলো, এত বিশাল প্রচারণা-ব্যয় কি ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করছে, নাকি ক্ষমতাধর অর্থের প্রভাব বাড়াচ্ছে? ট্রাম্পের সামনে এখন নতুন বাস্তবতা। কেননা কংগ্রেসে উভয় কক্ষ হারানো ট্রাম্পের আইন, বাজেট ও নিয়োগ নীতিকে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত আইনসভার যাচাইয়ের মুখে ফেলবে। তবে ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসকিউরের সতর্কবাণী অনুযায়ী, পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাব এখনো অনিশ্চিত ও অপ্রত্যাশিত থাকতে পারে।  বিদেশি কূটনীতিকরা মনে করছেন, দুর্বল ট্রাম্প বিশেষ করে ইরান-সংক্রান্ত নীতিতে আরও বেশি বিঘ্নজনক ভূমিকা নিতে পারেন। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই জয় স্বস্তির, কিন্তু আত্মতৃপ্তির নয়। ভোটাররা কেবল ট্রাম্প-বিরোধিতার জন্য নয়, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির জন্যও ভোট দিয়েছেন।  প্রতিনিধিত্বের এই বিজয় তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির কার্যকর নীতিতে রূপান্তরিত হবে।

নাসির উদ্দিন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
এলপিজির দাম বাড়ছেই, সাধারণ মানুষের স্বস্তি কোথায়?

এলপিজির মুল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতিঃ জনস্বার্থ রক্ষায় চাই কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গায় একই সড়ক নির্মাণকাজ ঘিরে দুই দফা উদ্বোধনী আয়োজন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি

উন্নয়নের উদ্বোধন নয়, জনসেবার জবাবদিহিতা দরকার

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শ্রমিকদের আন্দোলন, ন্যায্য মজুরি ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব

ইনফোগ্রাফিকঃ এআই
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জাপান সফর, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের জাপান সফর ঘিরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ সফর বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। তবে এসব উদ্যোগের কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বিগ-বি’কে (BIG-B) ‘শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির ধারণায় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত। এ উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মাতারবাড়ী–মহেশখালী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যোগাযোগ, জ্বালানি, লজিস্টিকস ও শিল্পায়ন এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সংযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে জাপান আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সরবরাহে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ পেয়েছে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তা। অবকাঠামো খাতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু এবং ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং জাপানি বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতাও সফরের উল্লেখযোগ্য দিক। বাংলাদেশকে একটি প্যাট্রোল ভেসেল দেওয়ার ঘোষণা এবং জাপানের অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি প্যাট্রোল বোট সরবরাহের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এসব সহায়তা বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় নজরদারি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পরিবেশ-জলবায়ু খাতে সহযোগিতা বাড়াতে পাঁচটি দলিলে সমঝোতা হয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল অবকাঠামো ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ না থেকে বহুমাত্রিক অংশীদারত্বের দিকে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘোষিত বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রাকে তাৎক্ষণিক অর্থপ্রাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে ঋণ সহায়তা, অবকাঠামো প্রকল্প এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহের ঘোষণা বাস্তব সুফলে পরিণত হতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের তাৎপর্য কেবল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বা কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রাধিকারে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতাকে ঘিরে ঢাকা–টোকিও সম্পর্কের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনাই এর বড় প্রাপ্তি। এখন দেখার বিষয়-- সফরে ঘোষিত উদ্যোগগুলো কত দ্রুত, কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়িত হয়। প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব ফলাফলে পৌঁছাতে পারলেই এ সফরকে প্রকৃত অর্থে সফল বলা যাবে।

নাসির উদ্দিন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ–জাপান অংশীদারত্ব: প্রতিশ্রুতি থেকে সমৃদ্ধির পথে

ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ও কক্সবাজারের পর্যটন নিরাপত্তা সংকট

ইনানীর ট্র্যাজেডি: কক্সবাজারে পর্যটনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আঘাত?

রেল সেবা অ্যাপে টিকিট কেনার পরামর্শ রেলওয়ের

দুর্গাপূজা উদযাপনে পুলিশের দিকনির্দেশনা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—   পূজা মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা গেট ব্যবহার করতে হবে।   দর্শনার্থীদের লাইনে দাঁড়িয়ে ধাপে ধাপে প্রবেশ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মণ্ডপে অবস্থানকালে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি এড়িয়ে চলতে হবে।   কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করতে হবে।   মণ্ডপ এলাকায় আতশবাজি, পটকা ফোটানো, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে।   পূজা মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   মহিলাদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর রাখার জন্য আলাদা স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে বলা হয়েছে।   যাতায়াতের সময় যানজট এড়াতে নির্ধারিত রুট মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এ ধরনের কোনো তথ্য পেলে তা যাচাই না করে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনো উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা মেনে চললে সবার জন্য আনন্দঘন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।  

Admin সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫

২২ দিন ইলিশ ধরা যাবে না

হজের তিন প্যাকেজ, কমছে খরচ

0 Comments