সারাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে সরকার

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে সরকার। নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্রে কেনাকাটার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহক, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তিন পক্ষের চুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি, ক্ষতিসাধন ও অবৈধ সংযোগের জন্যও শাস্তির বিধান রয়েছে।   গত ১৯ অক্টোবর ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। ওই দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে।   অধ্যাদেশে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি কোম্পানি এবং বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ভবনের ছাদ, আঙিনা, সংলগ্ন অব্যবহৃত জমি ও জলাশয় এবং চা বাগানে এ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। এর আওতায় রয়েছে সৌরচালিত সেচপাম্প, হিমাগার, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জ কেন্দ্র, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিকাজের সঙ্গে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। প্রতিটি ব্যবস্থার উৎপাদনক্ষমতা সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট হতে পারবে। তবে বড় ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এ অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না।   বেসরকারি বিনিয়োগে অগ্রাধিকার   সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে দুটি পদ্ধতি রাখা হয়েছে। প্রথমটিতে বেসরকারি বিনিয়োগকারী নিজের অর্থে ব্যবস্থা স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। উৎপাদিত বিদ্যুতের বণ্টন ও মূল্য চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ফলে গ্রাহককে শুরুতেই পুরো প্রকল্পের খরচ বহন করতে হবে না।   দ্বিতীয় পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করবে এবং মালিকানা নিজের কাছে রাখবে। নিজস্ব তহবিল বা নিয়মিত আয় রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতি বেছে নিতে পারবে। জেলাভিত্তিক যোগ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেবাদাতা নির্বাচন করা যাবে। তালিকার বাইরের প্রতিষ্ঠানকেও উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্র নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ক্ষেত্রে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেনায় সীমিত দরপত্র ব্যবহার করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি অনলাইন ক্রয়ব্যবস্থা ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। চুক্তি অনুমোদন করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এক ধাপ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। চুক্তির মেয়াদ সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।   গ্রাহক, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তিন পক্ষের চুক্তি করতে হবে। এতে বিদ্যুতের বণ্টন, গ্রাহকের ন্যূনতম প্রাপ্য, অতিরিক্ত বিদ্যুতের মূল্য, বিল পরিশোধ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতির মান ও নিরাপত্তা, যন্ত্রাংশ বদল, চুক্তি বাতিল এবং বিরোধ নিষ্পত্তির শর্ত থাকবে। ব্যবহারের অনুপযোগী যন্ত্রপাতি ফেরত নেওয়া ও বর্জ্য নিরাপদে অপসারণের ব্যবস্থাও চুক্তিতে উল্লেখ করতে হবে।   প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পরিষদ সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রমের নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বিভিন্ন সংস্থার  সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় নীতিনির্ধারণী পরিষদ গঠনের বিধান রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। উপজেলা কমিটি প্রতি মাসে জেলা কমিটিতে এবং জেলা কমিটি প্রতি তিন মাসে জাতীয় পরিষদে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাবে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও সেগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করবে।   চুরি ও ক্ষতিসাধনে শাস্তি সৌরবিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি কিংবা চোরাই যন্ত্রাংশ কেনাবেচা ও হেফাজতে রাখার জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।   যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধনে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। লিখিত অনুমতি ছাড়া অবৈধ সংযোগ দেওয়া এবং স্থাপন, পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বাধা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধে সহায়তা, ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনার জন্যও শাস্তি হতে পারে। এসব অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির বা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হবে। মোবাইল কোর্ট আইনের তপশিলভুক্ত অপরাধের বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালতেও করা যাবে।   দেশে সৌরবিদ্যুতের বর্তমান অবস্থা স্রেডার প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, দেশে সৌরবিদ্যুতের মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় এক হাজার ৮৫২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ৪৭৪ মেগাওয়াট জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। বাকি প্রায় ৩৭৯ মেগাওয়াট গ্রিডের বাইরে ব্যবহৃত হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রধান উৎস সৌরবিদ্যুৎ হলেও দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় এর অংশ এখনও সীমিত। সরকারি হিসাবে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ছিল প্রায় ৪১৮ মেগাওয়াট। ছোট ছোট স্থাপনাসহ হিসাব করলে এ সক্ষমতা আরও বেশি হতে পারে। ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। ফলে বাড়ি, কারখানা ও বাণিজ্যিক ভবনের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।   প্রণোদনা ও সম্প্রসারণের লক্ষ্য ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনাও ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে নির্দিষ্ট শর্তে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যাবে। এ সুবিধার জন্য ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। যোগ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ মূল্য ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।   সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চার হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা অর্জন। এ লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় সংযোগ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বাধা দূর করতে হবে। নতুন অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কেনাকাটার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি চুক্তি, তদারকি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা হয়েছে।   কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসার জরুরি। প্রতি ইউনিট চার থেকে চার টাকা ১৫ পয়সা ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিদ্যুতের উৎস হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যন্ত্রপাতি কেনা ও প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের বাধা, অনিয়ম ও অপচয় দূর করে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডাকাতের কবলে ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতের কবলে পড়েছেন ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি।   রোববার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় ডাকাতের কবলে পড়েন তিনি। তবে তার কাছ থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এ তথ্য জানান।   জানা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় ওয়াজ মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে রফিকুল ইসলাম মাদানি ডাকাতের কবলে পড়েন। তাৎক্ষণিক তিনি ফেসবুক লাইভে এসে তাকে রক্ষা করার আকুতি জানান।   তিনি লাইভে এসে জানান, সড়কের মধ্যে বড় বড় পাথর ফেলে গাড়ির গতিরোধ করে ডাকাতি করা হচ্ছে। তার গাড়ি একটু দূরে থাকায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন। ডাকাতরা রামদা নিয়ে ডাকাতি করছেন। এসময় অন্য একটি গাড়ির চালকের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে গেছে ডাকাতরা।   তিনি আরও জানান, ডাকাতদের দেখে তার গাড়িচালক গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে তারা রক্ষা পেয়েছেন।   সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ডাকাতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডাকাতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৬, ২০২৬
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।    আজ সোমবার বেলা ১১টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।    বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরায়ণ ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে যানজটের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন।   তিনি বলেন, বর্তমানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ৪টি থানার মাধ্যমে নগরবাসীকে সেবা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে থানার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পুলিশ যাতে যথাযথভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।   বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ৪ টি থানার মাধ্যমে পুলিশি সেবা দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাবনা রয়েছে।   তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও ৪টি থানা যুক্ত করে মোট ৮টি থানার মাধ্যমে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে পুলিশি সেবা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি ৮) অধিনায়ক মোহাম্মদ জাকিউল করিম, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান ও সুশান্ত সরকার, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।    অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।   উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৮শ’ পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৬, ২০২৬
পহেলা নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন

আগামী পহেলা নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন দ্বীপটিতে যেতে পারবেন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক। পর্যটকদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।   পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্ট মার্টিনে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল অব্যাহত থাকবে।   পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলোও বহাল থাকবে।   প্রজ্ঞাপনে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে নভেম্বর মাসে সেন্ট মার্টিনে রাত যাপন করা যাবে কিনা প্রজ্ঞাপনে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু বলা হয়নি।   পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. জমির উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'নভেম্বর মাসে রাত যাপন করা যাবে কিনা এ ব্যাপারে আমারও জানা নেই।'   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ সীমিত করা হয়। গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ওই মাসে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারেননি। নভেম্বরে দ্বীপে রাত্রিযাপনেরও সুযোগ ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই দুই মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ ও সেখানে রাত্রিযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তেজগাঁওয়ে আমার দেশ পত্রিকার প্রেসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ২

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নিজস্ব প্রেসের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন।   আহতরা হলেন প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন ও প্রেসের সামনের পানের দোকানি রিনা খানম। ঘটনার পর তারা দুজনই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।   জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা আমার দেশ পত্রিকার নিজস্ব প্রেসের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় এক দোকানি আহত হন। তবে অপর ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ন্যানো ইউরিয়া
কৃষিতে বিপ্লবের সম্ভাবনা: অনুমোদন পেল যবিপ্রবির ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট

দীর্ঘ পাঁচ বছর দুই মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। আজ রোববার বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস তার উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন দিয়েছে। দেশের কৃষি খাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে এ অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।     বাংলাদেশে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণার বিকাশে অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।      গবেষকের দাবি, এক বিঘা জমি চাষ করতে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকার ন্যানো ইউরিয়া। যেখানে ভর্তূকিসহ বর্তমানে খরচ প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসেবে প্রচলিত সারের চেয়ে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ কমবে প্রায় ৮২ শতাংশ। দীর্ঘ গবেষণার পর মাঠ পর্যায়ে এ সার ব্যবহারেও মিলেছে সাফল্য। প্রতি কেজি ইউরিয়া সরকার ৯০-৯২ টাকা দরে আমদানি করে। সেই হিসেবে বস্তাপ্রতি দাম পড়ে প্রায় ৪,২০০ টাকা। তবে বিঘা জমি চাষে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকা। এটি স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে।   ড. জাভেদ হোসেন খানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করেন তিনি। পেটেন্ট অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ পেটেন্টের অনুমোদন পেয়েছি। এ অর্জনের পেছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’    এ গবেষক আরও বলেন, ‘দেশের মাটি, কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, সারের অপচয় হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে।’     সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন উদ্ভাবনটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা যাচাই এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবনটি কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গেলে 

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কাল থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলবে মহানগর এক্সপ্রেস

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ এবার যাবে কক্সবাজার পর্যন্ত। সোমবার ঢাকা থেকে ট্রেনটির যাত্রা শুরু হবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এর আগে ট্রেনটির সম্প্রসারিত যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।   মহানগর এক্সপ্রেসকে সম্প্রসারিত করার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী চার জেলা নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর যাত্রীরা এবার ট্রেন পরিবর্তন না করেই সরাসরি কক্সবাজারে যেতে পারবেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে রেলওয়ের দুই জোড়া বিরতিহীন ট্রেন আগে থেকেই চলাচল করছে। এগুলো হলো ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। ট্রেন দুটি ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়ে ফিরতি ট্রেন হিসেবে ফের ঢাকায় ফিরে আসে। মহানগর এক্সপ্রেসও ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়ে ফের ঢাকা ফিরে আসবে।   রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত সেবা চালুর জন্য এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নতুন চালু করা মহানগর এক্সপ্রেস রাত ৮টা ৩০ মিনিটে রওনা হয়ে পরদিন সকাল ৬টায় পৌঁছাবে কক্সবাজার স্টেশনে। ফিরতিপথে ট্রেনটি সকাল ৮টায় কক্সবাজার ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের মধ্যে কক্সবাজার এক্সপ্রেস রাত ১১টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছায়। অন্যদিকে পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে কক্সবাজার পৌঁছায় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে।   রেলওয়ে ভাড়ার হার অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে আসনভেদে সর্বনিম্ন ভাড়া ৬৮৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ১ হাজার ৫৭০ টাকা। ১৬ বগি (কোচ) থাকবে ট্রেনটিতে, যাতে ৭০৬ থেকে ৭৩৬ জন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খিলক্ষেতে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের ঘটনায় ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি, মুক্তির দাবি

রাজধানীর খিলক্ষেতে একটি বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ২৬ জন নারীসহ অন্তত ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার ও সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা আটক ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি, অভিযানের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইন লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।   রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাঁরা এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর ভোরে খিলক্ষেতের ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। কাদের নির্দেশে, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে, কারা গ্রেপ্তার ও দণ্ডাদেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে হবে। তদন্তে আইন লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।   বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার পুরুষদের ৩০ দিন এবং নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তার পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।   বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানের’ নামে পুলিশ ক্যামেরা নিয়ে ব্যক্তিগত আয়োজনে হাজির হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে তাঁদের ছবি ও পরিচয় সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাঁদের মাদকসেবী হিসেবে উপস্থাপন করে শনাক্তযোগ্য ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করছে। জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের জন্য এসব ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ কতটা প্রয়োজনীয়, তা বিবেচনা না করে এমন প্রচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষায় গুরুতর হস্তক্ষেপ।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নাগরিককে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য নির্বিচারে প্রকাশের অনুমতি দেয় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থী। কাউকে জনসমক্ষে হেয় করা কার্যত বিচারের আগেই সামাজিক শাস্তি দেওয়ার শামিল।   বিবৃতিদাতারা উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত পরিসরে আড্ডা দেওয়া, গান শোনা, নাচ করা কিংবা নারী-পুরুষের একসঙ্গে সামাজিক আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের আইনে কোনো অপরাধ নয়। কারও পোশাক, জীবনযাপন বা বিনোদনের ধরন নিয়ে ব্যক্তিগত অপছন্দকে রাষ্ট্রীয় শাস্তির ভিত্তি করা যায় না। আইন প্রয়োগের অজুহাতে নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিকভাবে হেয় করার এই চর্চা ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নৈতিকতার নামে স্বেচ্ছাচারী হস্তক্ষেপের প্রকাশ।   বিবৃতিতে সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, এসব অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ, ব্যক্তিস্বাধীনতা, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ এবং বিচার ও দণ্ডের ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৪৩ অনুচ্ছেদে নির্ধারিত সীমার মধ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ ও তল্লাশির বিরুদ্ধেও সুরক্ষা রয়েছে। আইন প্রয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে এসব সাংবিধানিক নিশ্চয়তা মানতে হবে।   বিবৃতিতে চার দফা দাবি বিবৃতিদাতাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, আটক ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া; এজাহার, জব্দতালিকা ও দণ্ডাদেশের অনুলিপি অবিলম্বে সরবরাহ এবং দণ্ডাদেশের জরুরি বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করা। আইনগত ভিত্তি বা প্রয়োজনীয় প্রমাণের অভাব কিংবা আইন লঙ্ঘন প্রতিষ্ঠিত হলে দণ্ডাদেশ বাতিল ও মুক্তিসহ উপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।   এ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের ছবি, ভিডিও ও পরিচয়সহ ব্যক্তিগত উপাত্ত বেআইনিভাবে সংগ্রহ, সরবরাহ বা প্রকাশের জন্য দায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং সংবাদমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব তথ্যের প্রচার বন্ধ এবং ইতিমধ্যে প্রকাশিত শনাক্তযোগ্য ছবি, ভিডিও ও পরিচয় অপসারণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযান ও ৮৫ জনকে কারাবন্দি করার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার বা অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা দ্রুত, স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। কাদের নির্দেশে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারণ করে দায়ী নির্দেশদাতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।   বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, নাগরিকের স্বাধীনতা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নৈতিকতার অজুহাতে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রতিষ্ঠা ছাড়াই গণহারে শাস্তি দেওয়ার চর্চা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।   বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন শিক্ষক ও নাট্যকর্মী ড. সামিনা লুৎফা, শিক্ষক ও লেখক ফাহমিদুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শর্মি হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা, শিক্ষক ও সংগঠক নির্ণয় ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ এম শাহান, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক প্রাপ্তি তাপসী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী লায়েকা বশীর, শিক্ষক মিথিলা মাহফুজ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফজিলা বানু লিলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. তাসলিমা ইয়াসমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রুশাদ ফরিদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তানজীমউদ্দিন খান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা।   বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল, প্রিয়া আহসান চৌধুরী, ফারান মোঃ আরাফ, অনামিকা হক, দিলরুবা শরমিন, মাঞ্জুর আল মতিন, আবেদা গুলরুখ ও মোহাম্মদ আব্দুল হালিম; আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী নাফিউল আলম সুপ্ত; আইনজীবী আবিদ হোসেন আনসারি ও আব্দুল কাদের জিলানী; সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, ড. শরীফ ভূঁইয়া ও আনিতা গাজী রহমান।   লেখক ও সাংবাদিক বাধন অধিকারী, সাংবাদিক রঞ্জন কুমার দে ও সাদিক মাহবুব ইসলাম, কবি ও সাংবাদিক রহমান মুফিজ, সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ, সর্বজনকথার সম্পাদক আনু মুহাম্মদ, গণমাধ্যমকর্মী তানজিনা ইসলাম এবং লেখক ও সাংবাদিক মনোরম পলক।   উন্নয়ন গবেষক ড. ইমরান মতিন, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট অরুণিমা তাহসিন, গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট আবু রায়হান, গবেষক ফাহাদ বিন সিদ্দিক, গবেষক ইসাবা শুহ্রাত, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও লেখক ড. তীব্র আলী, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী নাদিরা নওশের, গবেষক আদিবা আফরোজ, গবেষক ও নাট্যকর্মী হাসনে আরা ডালিয়া, জার্মান ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ মেট্রলজির পিএইচডি গবেষক নাফিসা রায়হানা, চিকিৎসক, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট শাহেদ ইকবাল, গবেষক ও শিল্পী তারান্নুম নিবিড়, গবেষক মিম আরাফাত মানব, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী নওশিন নূর, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী মোঃ জারিফ রহমান ও শেখ মজিবুল হক, লেখক ও সংগঠক সুস্মিতা পৃথা, লেখক রেহনুমা আহমেদ ও কল্লোল মোস্তফা, প্রকাশনা ও থিয়েটারকর্মী নাজিফা তাসনিম খানম তিশা, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা সজীব তানভীর, সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহদি সায়ান, শিল্পী ও কিউরেটর কাজী তাহসিন আগাজ অপূর্ব, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, সংস্কৃতিকর্মী তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, শিল্পী শাহেলা আক্তার উমামা, মানবাধিকারকর্মী মো. সাইফুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, তাসাফফী হোসেন ও জয়া সিকদার, উন্নয়নকর্মী দূর্দানা ফরিদ, মানবাধিকারকর্মী সামিনা ইয়াসমিন, নাদিয়া নওশের, ইজাজুল ইসলাম, উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকর্মী ওয়ারদা আশরাফ, মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী মোশফিকুর রহমান জোহান, মানবাধিকারকর্মী আমিনা সুলতানা ও নূর খান লিটন, অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মী সুমাইয়া ইসলাম, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা, রেড ফেমিনিস্ট ব্লকের সদস্য সুরাইয়া ইয়াসমিন পলি, এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, নারীবাদী সংগঠক ও ফিউচারিস্ট তৃষিয়া নাশতারান, গ্রীণ বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট সুলতানা বেগম, ভয়েস ফর রিফর্মের ফাহিম মাশরুর, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক স্কাইয়া ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ, অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের আহ্বায়ক জাকিয়া শিশির, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবা কামাল, বহ্নিশিখার পরিচালক আনিকা টি করিম, মেহনাজ রহমান, রুকসাত আলম, নাশিতা শরীফ ও নিউ নকরেক, এমপাওয়ারিং আওয়ার ফাইটার্সের সভাপতি কলি আখতার, অভয়ারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন রুবাইয়া আহমেদ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নাফিস ফুয়াদ, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নারীবাদী ও মানবাধিকারকর্মী এবং নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চুয়েটে শাটডাউন প্রত্যাহার, শর্তসাপেক্ষে ক্লাসে ফিরছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

অবশেষে শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরুর ৩৩ দিন পর তাঁরা এ ঘোষণা দিলেন। তবে আগের উপাচার্য পুনর্বহাল ও নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাহারের আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে এক খোলা চিঠিতে প্রথমে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এ চিঠির পর দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা হয়। বেলা দুইটায় এ সভা শেষ হয়। এ সভা শেষেও একই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।   খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থায় তাঁদের শিক্ষাজীবন ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। তাঁরা আর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান না। ক্লাসে ফিরে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে চান। তবে ক্লাসে ফিরতে চাওয়ার অর্থ আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের এই সম্মিলিত আন্দোলনের এক দফা দাবি মানতে হবে। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।   চিঠিতে আরও বলা হয়, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আবারও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যৌক্তিক দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।   শাটডাউন প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাইন মিহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। আমরা সংঘাত নয়, সংকটের সম্মানজনক সমাধান চাই। আশা করি, আমাদের শিক্ষাজীবন সচল রাখার পাশাপাশি দাবির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’   জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চান বলে তাঁরা জানিয়েছেন। আর বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে। ক্লাস শুরু কবে হবে এটা স্ব স্ব বিভাগে ঠিক করবে।   গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে ।   শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের মধ্যেই ১২ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। তবে বিষয়টি জানতে পেরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেন তাঁরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর তাঁরা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।   ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ভেতরে ১১ জন আটকে পড়েন। পরদিন অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান উপাচার্য। তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যান দুই চিকিৎসক। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তিনি গত বৃহস্পতিবার ফেরেন। এরপর গত শুক্রবার নগরের সার্কিট হাউসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডাকেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
নিহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম। ফাইল ছবি
কুবির সাবেক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পাশে চিরকুট

নারায়ণগঞ্জর একটি বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।  শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভূইগড় কবরস্থান সড়কের দেলোয়ারের মালিকানাধীন তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। নিহত ফারজানা ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মুসুল্লিবাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। আটক স্বামী নাজমুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার নুরপুর গ্রামের তালুকদারবাড়ি এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, ফারজানার শয়নকক্ষের বিছানার ওপর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে স্বামীর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীর কটূক্তি ও মন্তব্যের কথাও চিরকুটে লেখা ছিল বলে জানা গেছে।  ফারজানার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালে পারিবারিক সম্মতিতে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নাজমুল কর্মহীন থাকায় তাদের পরিবারই দম্পতির সংসারের ব্যয় বহন করত। প্রায় দেড় বছর আগে নাজমুল চাকরিতে যোগ দেন এবং মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। আরিফুলের অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জে থাকার সময় থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তার বোনকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বর্তমান ঠিকানায় চলে আসেন। ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।  ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগসহ সার্বিক বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় শয়নকক্ষ থেকে একটি চিরকুটও জব্দ করা হয়। সেখানে পারিবারিক কলহ ও স্বামীর আচরণের কারণে আত্মহত্যার কথা লেখা ছিল। তিনি বলেন, নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজের কাজ উদ্বোধনের পরিকল্পনা

আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন এবং কারিগরি বিষয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।   মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্যয় হতে পারে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা।   তিনি বলেন, নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং কৃষিজমিতে সেচের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো, পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নৌযোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ীর সঙ্গে সংযোগ রেখে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাবনা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের ১৯টি জেলার মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।   প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ব্যারাজের ৭৮টি গেট খোলা রাখার ব্যবস্থাও প্রকল্প পরিকল্পনায় রয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় সহায়তা মিলতে পারে।   আলোচনা সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা বাড়াতে সহায়তা করা। তবে প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফল নির্ভর করবে নির্মাণকাজ, কারিগরি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
হোসেনপুর থানা, কিশোরগঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত
ইউপি নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ ও মো. আজহারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে হোসেনপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম রহিদ বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান কুদ্দুছের লোকজন ও নতুন চেয়ারম্যান প্রার্থী আজহারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পুর্নবাসন করা হবে: রাসিক প্রশাসক

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, রাজশাহী মহানগরীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। নাগরিকদের স্বাচ্ছ্যন্দে ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতকরণে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ভদ্রা, মহিলা কলেজ রোড ও মেডিকেলের সামনের একাংশে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর, জিরোপয়েন্ট, সোনাদিঘি মোড়, রেলগেট ও গণকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পর্যায়ক্রমে পুর্নবাসন করা হবে।   ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারস্থ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।   রাসিক প্রশাসক সিটি কর্পোরেশনের মার্কেটের সাহেব বাজার কাঁচা বাজার, মাছপট্টি, মাংসপট্টি, কসাইখানা এবং উক্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিভিন্ন পরিত্যক্ত দোকান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।   পরিদর্শন শেষে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহী মহানগরীকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করতে চাই। মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হয়ে আমিও কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই।   রাসিক প্রশাসক আরো বলেন, সাহেব বাজার কাঁচাবাজার ও মাছপট্টির দ্বিতীয় তলায় ৮৯টি দোকান অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সেই লক্ষ্যে বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি।   পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু, রাজস্ব কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন খোকন এবং উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ফরিদপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ২ কোটি টাকার পাট

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অগ্নিকাণ্ডে সাতটি পাটের গুদাম ও তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে পাটের গুদামে থাকা তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে।   শনিবার রাত ৮ টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে ঘটনাটি ঘটে।   আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সদস্যরা দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮ টার দিকে ফলিয়া বাজারের একটি পাটের গুদামে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা বাজারের আরো কয়েকটি গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে একে একে সাতটি পাটের গুদাম ও দুটি কাঁচা মালের দোকান, একটি চায়ের দোকান সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়।   আগুন লাগার খবর পেয়ে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। আগুন নেভানোর আগেই পাটের গুদামসহ দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।   বাজারের ব্যবসায়ী কাশেম মন্ডল জানান, "রাত ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি পাটের গুদামে আগুন দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি, গুদামগুলোতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। এতে সাতটি গুদামে থাকা প্রায় তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে। এসব পাটের বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।"   ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, "আগুন লাগার খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।"

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
রাজউকের ডিজিটাল পারমিট সেবায় ৭ মাসে ১১ হাজারের কাছাকাছি আবেদন

রাজধানীতে ভবন নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন আটটি জোনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমেছে।   একইসাথে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি এবং আবেদনে কোনো ঘাটতি থাকলে মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে তা জানানোর ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সেবায় গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ছে।   রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের আটটি জোনে প্লানিং পারমিটের জন্য অনলাইনে মোট ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩৯৩টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য অনলাইনে ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদন জমা পড়ে এবং এর মধ্যে ২ হাজার ৬০০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সাত মাসে দুই ধরনের পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে এবং ৭ হাজার ৯৯৩টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।   রাজউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্লানিং পারমিট নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবেদনকারীর দাখিল করা কাগজপত্র ও নকশা সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো কাগজপত্রে ঘাটতি বা আবেদনে ত্রুটি থাকলে তা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।   রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, অতীতে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট নিতে সেবাগ্রহীতাদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হতো। এ জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে যেতে হতো এবং এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতে হতো। সেবাগ্রহীতাদের এ ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতেই প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, আগে এসব সেবা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার জন্য সময়সীমা কমিয়ে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।   রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, নকশা অনুমোদন আগে থেকেই অনলাইনে দেওয়া হতো। তবে আগের সময়ে এর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল না। বর্তমানে কনস্ট্রাকশন পারমিট ও প্লানিং পারমিট অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটিতে আবেদন উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং বিষয়টি রাজউক মনিটর করছে।   তিনি আরও বলেন, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকেও অনলাইন সেবা নিয়ে ইতিবাচক ফিডব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। তারা সেবা পাওয়ার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।   রাজউক চেয়ারম্যান জানান, রাজউকের সব ধরনের সেবা ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। দরপত্র, এস্টেট কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদা জানান, মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্লানিং পারমিটের জন্য জোন-১ এ ১ হাজার ৫৯টি, জোন-২ এ ৭৯৭টি, জোন-৩ এ ১ হাজার ৩০টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ৬৬৩টি, জোন-৫ এ ৫০৩টি, জোন-৬ এ ১ হাজার ১৭০টি, জোন-৭ এ ৪৮৩টি এবং জোন-৮ এ ৩৫০টি আবেদন জমা পড়েছে।   এসব আবেদনের মধ্যে জোন-১ এ ৮৭৮টি, জোন-২ এ ৫৮৯টি, জোন-৩ এ ৭৪১টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ৬০৯টি, জোন-৫ এ ৩০৫টি, জোন-৬ এ ৭৬৭টি, জোন-৭ এ ২২৮টি এবং জোন-৮ এ ২৭৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো কাগজপত্রের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।   একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জোন-১ এ ৭০৭টি, জোন-২ এ ৪১৩টি, জোন-৩ এ ৫২৬টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ১৮৯টি, জোন-৫ এ ২২৯টি, জোন-৬ এ ৪৬১টি, জোন-৭ এ ১৮৮টি এবং জোন-৮ এ ২১৭টি আবেদন জমা পড়ে।   এর মধ্যে জোন-১ এ ৪০১টি, জোন-২ এ ২২৫টি, জোন-৩ এ ৩৬৫টি, জোন-৪ এ ৭৫৩টি, জোন-৫ এ ৯৭টি, জোন-৬ এ ৪০৫টি, জোন-৭ এ ১৪৮টি এবং জোন-৮ এ ২০৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক জানান, যেসব আবেদনে ত্রুটি বা কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আবেদনকারী ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় দাখিল করলে তা অনলাইনেই অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।   তবে রাজউকের পারমিট ব্যবস্থা অনলাইনে করা হলেও পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি। নকশা অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণকালীন তদারকির কাজ এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের আগে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি সংগ্রহ করতে হয়।   ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশন এবং কেপিআইডিসিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি নিতে হয়। এসব সংস্থার অনেক ক্ষেত্রেই অনাপত্তিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো ম্যানুয়াল। ফলে রাজউকের নিজস্ব অনুমোদন ব্যবস্থা অনলাইন হলেও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে পুরো অনুমোদন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত গতি সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না।   রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাংকের আইএফসি অর্থায়নে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। প্রথমে শুধু জোন-৫, অর্থাৎ ধানমন্ডি এলাকায় ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু করা হয়। পরবর্তীতে রাজউকের আওতাধীন আটটি জোনে এ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।   তিনি বলেন, ঢাকা আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের আওতায় ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম চালু হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।   প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, প্লানিং পারমিট বা নকশা অনুমোদনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে ওয়ান উইন্ডো সেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একই ছাতার নিচে এনে সেবা দিতে পারলে অনুমোদনের সময় আরও কমবে এবং জনভোগান্তিও কমবে।   রাজউকের কর্মকর্তাদের মতে, তাদের আট জোনে পারমিট আবেদন ও অনুমোদন অনলাইনে হওয়ায় সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। তবে পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবায় রূপ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অনাপত্তি প্রদান, নির্মাণকালীন পরিদর্শন এবং অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হলে ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময় ও জনভোগান্তি আরও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরে পুলিশের অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নাটোরের লালপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের চার নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।   গ্রেফতাররা হলেন, লালপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), যুবলীগকর্মী হাফিজুর রহমান (৩৫), উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি ও লালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম (৫২) এবং লালপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইমন আহম্মেদ ওরফে আগুন (২২)।   লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে লালপুর থানার পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পরে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আসামি চারজনকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাঈদীর মামলার বাদী মানিকের মৃত্যু, অবশেষে দাফনের প্রস্তুতি, খোঁড়া হচ্ছে কবর

পিরোজপুরে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী মানিক পশারীর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। তার দাফন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কবর খোঁড়া হচ্ছে।   দিনভর অনিশ্চয়তা ও দাফন নিয়ে জটিলতার পর অবশেষে মানিক পশারীর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তার বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাঁকে দাফনের জন্য নিয়ে আসি। কিন্তু দাফন করতে না পারায় আমরা বিপাকে পড়ি। এখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, কবর খুঁড়ছি।’   ‎পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।   ‎মৃত্যুর পর শনিবার দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসা হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য মরদেহ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে মরদেহ দাফন ও গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে বাধার সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশি পাহারায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি পিরোজপুর পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেখানে সাংবাদিকসহ অন্যদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে কখন এবং কোথায় তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ‎পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মরদেহ দাফনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।   মানিক পশারীর মেয়ের জামাই ফারুক হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে তারা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে গার্ড অব অনারের কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ রাখার পর গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এরপর মরদেহ কোথায় দাফন করা হবে, তা নিয়ে পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়ে।   স্থানীয় সূত্রের দাবি, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর নিজ বাড়িতে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক আবারও জড়ো হয়ে বাধা দেন। পুলিশ লাইন থেকে শংকরপাশা যাওয়ার বিভিন্ন পয়েন্টেও লোকজনের জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া যায়।   ‎পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে তাদের দাবি। তাকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে তার মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।   পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।   ‎সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য, ‎মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় সন্ধানী ক্লিনিকে সন্ত্রাসীদের গুলি ও ভাঙচুর

খুলনায় সন্ধানী ক্লিনিক লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরীর বাবুখান রোডে খুলনা থানাধীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত না হলেও ক্লিনিকের রোগী, স্বজন ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে করে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত ক্লিনিকের সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পরে তারা ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকে প্রফেসর ডা. মো. কুতুব উদ্দিন মল্লিকের চেম্বার ও রিসেপশন এলাকায় ভাঙচুর চালায়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।   ক্লিনিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা রাস্তা থেকে সন্ধানী ক্লিনিক লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।   তিনি আরও জানান, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী গ্রুপের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলায় পলাশ (২৮) ও তোতা মিয়া ওরফে রাব্বিকে (২২) গ্রেফতার করেছে এসআরবি-২। মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শনিবার রায়েরবাজার ও বোটঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।   শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান এসআরবি-২-এর উপপরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। গ্রুপটির সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে দলবদ্ধভাবে শক্তির মহড়া দিতেন। পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।   এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর মিঠু মিয়া (২০) নামে গ্রুপের এক সদস্যকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে।   এসআরবি-২ জানায়, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রায়েরবাজার এলাকা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি পলাশ এবং বোটঘাট এলাকা থেকে চার নম্বর আসামি তোতা মিয়া ওরফে রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাব্বির বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, পলাশের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় দস্যুতা, গুরুতর আঘাত ও হত্যার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।   গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
( বাঁ থেকে) রাশেদ খাঁন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও শাহজালাল রুমি ছবি : সংগৃহীত
রুমিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল পুলিশ

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় ছয় বছরের শিশুশিক্ষার্থীকে চুমুকাণ্ডে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পুলিশ। পুলিশ প্রথমে রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা জানালেও এখন বলা হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।   ওই পোস্টে তিনি লেখেন,গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনায় শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তার করার কোনো সিদ্ধান্ত পুলিশ নেয়নি এবং পুলিশ কোনো অভিযানও পরিচালনা করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও গ্রেফতারের কোনো পরামর্শ পুলিশকে দেওয়া হয়নি। কতিপয় মিডিয়াতে শাহজালাল রুমির গ্রেফতারের অভিযানের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।   তবে এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন।   তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছরের এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় করা মামলায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।   গ্রেপ্তার মোসলেম আহমদের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকায়। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।   অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর অভিযোগ, একদল লোক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলাতেই শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।   এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির বাবা রুমিকে উদ্দেশ করে ধর্মীয় বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরিফের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই বক্তব্যে রুমিকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   উল্লেখ্য, শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগে রুমিসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। একই ঘটনায় শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে গেছেন মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাদ্রাসাশিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় রুমিকে গ্রেপ্তার করতে চায় পুলিশ

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় ছয় বছরের শিশুশিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তারের পর এবার শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ওই শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগে রুমিসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। একই ঘটনায় শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে গেছেন মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।   শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন।   তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছরের এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় করা মামলায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।   গ্রেপ্তার মোসলেম আহমদের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকায়। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।   অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর অভিযোগ, একদল লোক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলাতেই শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।   এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির বাবা রুমিকে উদ্দেশ করে ধর্মীয় বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরিফের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই বক্তব্যে রুমিকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ভারতে বাড়ছে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ। সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক

জেন-জি আন্দোলনে চাপে মোদি ও বিজেপি, সংকট বহুমাত্রিক

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৫, ২০২৬