দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও বিপ্লবের সুফল বিএনপি ভোগ করে, পরে দলটি আবার আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার মতে, বিএনপি হচ্ছে একটা ‘ফেইলড আওয়ামী লীগ’।
এনসিপির নেতা বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার পেছনে আওয়ামী লীগ হওয়ার প্রবণতা কাজ করেছে। ব্যক্তির মধ্যে ‘হাসিনাপনা’ থাকলে তিনি যে দলেরই হোন, আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য ধারণ করবেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আলোচনা সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সবসময় বিপ্লবে জনগণের অংশগ্রহণের যেসব ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে, বিপ্লবগুলো হয়, সবগুলোর সুবিধা বিএনপি নেয়। নেওয়ার পরে বিএনপি আবার আওয়ামী লীগ হতে চায়। আওয়ামী লীগ তো একটা খাসিলত, একটা চরিত্র বা কিছু বৈশিষ্ট্যের বিষয়। আপনি যে দলই করেন না কেন, পেছনে যে দলের ব্যানারই লাগান না কেন, আপনার মধ্যে সেই বৈশিষ্ট্য থাকলে আপনি আওয়ামী লীগ হয়ে যাবেন। আপনি টি-শার্ট বা বিএনপির জার্সি গায়ে লাগালেন, কিংবা এনসিপির জার্সি গায়ে লাগালেন, কিন্তু আপনার নিজের মধ্যে হাসিনাপনা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো আপনার জার্সি বা পোশাক বিএনপির, কিন্তু আপনার নিজের মধ্যে আওয়ামী লীগের খাসিলত থাকবে। আওয়ামী লীগকে পথ দেখিয়েছে বিএনপি। ৯০ সালে, ৯৬ সালে এবং আবার ২০০৬ সালে পথ দেখিয়েছে। বিএনপি হচ্ছে একটা ফেইলড আওয়ামী লীগ, আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটা সফল আওয়ামী লীগ।’
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনা করে এনসিপির এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রজেক্টগুলো বিএনপি করতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ যা করতে চেয়েছে, তা করে সফল হয়েছে। এগুলো বিএনপি করতে চেয়েছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করতে চেয়েছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে।’
বিএনপির রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এখন নিয়ত বা নাফসানিয়তের জায়গাটিতে বিএনপির মধ্যে আমরা কোনো ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু জাতির প্রয়োজনে, সামগ্রিক প্রয়োজনে একটি জাতি এতবার রক্ত দিতে পারে না, এত কম সময়ের মধ্যে এত রক্তপাত সহ্য করতে পারে না। আমরা মাঝে মাঝে বলি, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত। একটি জাতি কয়বার রক্ত দেবে বলেন? প্রত্যেকটি প্রজন্ম কি রক্ত দেবে? ৯০-এর প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, এই প্রজন্মও রক্ত দিয়েছে। তাহলে প্রত্যেকটি প্রজন্ম যদি রক্ত দেয়, একটি রাষ্ট্র বা জাতি হিসেবে আমরা তো গড়ে উঠতেই পারব না।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা আর কত রক্ত দেব? কতবার রক্ত দেব? তার মানে কি এই দেশের প্রত্যেকটি প্রজন্ম শেষ হবে, আরেকটি প্রজন্ম আসবে, সে আবার রক্ত দেবে। সে আবার একটি ঐতিহাসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাবে, নিজের পরিচয় খুঁজবে, নিজের জায়গা খুঁজবে।’
প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরিচয় সংকটে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এভাবে কত বছর পরিচয় খুঁজবে? খুঁজতে খুঁজতে একটি প্রজন্ম আবার শেষ হয়ে যাবে। নতুন একটি প্রজন্ম আসবে, সে আবার নিজের পরিচয় সংকটে ভুগবে। নিজের পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করবে। পুরো বিশ্বের মধ্যে নিজের পরিচয় কোথায়, সেটি খুঁজতে খুঁজতেই তার প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও বিপ্লবের সুফল বিএনপি ভোগ করে, পরে দলটি আবার আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার মতে, বিএনপি হচ্ছে একটা ‘ফেইলড আওয়ামী লীগ’। এনসিপির নেতা বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার পেছনে আওয়ামী লীগ হওয়ার প্রবণতা কাজ করেছে। ব্যক্তির মধ্যে ‘হাসিনাপনা’ থাকলে তিনি যে দলেরই হোন, আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য ধারণ করবেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সবসময় বিপ্লবে জনগণের অংশগ্রহণের যেসব ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে, বিপ্লবগুলো হয়, সবগুলোর সুবিধা বিএনপি নেয়। নেওয়ার পরে বিএনপি আবার আওয়ামী লীগ হতে চায়। আওয়ামী লীগ তো একটা খাসিলত, একটা চরিত্র বা কিছু বৈশিষ্ট্যের বিষয়। আপনি যে দলই করেন না কেন, পেছনে যে দলের ব্যানারই লাগান না কেন, আপনার মধ্যে সেই বৈশিষ্ট্য থাকলে আপনি আওয়ামী লীগ হয়ে যাবেন। আপনি টি-শার্ট বা বিএনপির জার্সি গায়ে লাগালেন, কিংবা এনসিপির জার্সি গায়ে লাগালেন, কিন্তু আপনার নিজের মধ্যে হাসিনাপনা আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো আপনার জার্সি বা পোশাক বিএনপির, কিন্তু আপনার নিজের মধ্যে আওয়ামী লীগের খাসিলত থাকবে। আওয়ামী লীগকে পথ দেখিয়েছে বিএনপি। ৯০ সালে, ৯৬ সালে এবং আবার ২০০৬ সালে পথ দেখিয়েছে। বিএনপি হচ্ছে একটা ফেইলড আওয়ামী লীগ, আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটা সফল আওয়ামী লীগ।’ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনা করে এনসিপির এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রজেক্টগুলো বিএনপি করতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ যা করতে চেয়েছে, তা করে সফল হয়েছে। এগুলো বিএনপি করতে চেয়েছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করতে চেয়েছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে।’ বিএনপির রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এখন নিয়ত বা নাফসানিয়তের জায়গাটিতে বিএনপির মধ্যে আমরা কোনো ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু জাতির প্রয়োজনে, সামগ্রিক প্রয়োজনে একটি জাতি এতবার রক্ত দিতে পারে না, এত কম সময়ের মধ্যে এত রক্তপাত সহ্য করতে পারে না। আমরা মাঝে মাঝে বলি, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত। একটি জাতি কয়বার রক্ত দেবে বলেন? প্রত্যেকটি প্রজন্ম কি রক্ত দেবে? ৯০-এর প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, এই প্রজন্মও রক্ত দিয়েছে। তাহলে প্রত্যেকটি প্রজন্ম যদি রক্ত দেয়, একটি রাষ্ট্র বা জাতি হিসেবে আমরা তো গড়ে উঠতেই পারব না।’ এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা আর কত রক্ত দেব? কতবার রক্ত দেব? তার মানে কি এই দেশের প্রত্যেকটি প্রজন্ম শেষ হবে, আরেকটি প্রজন্ম আসবে, সে আবার রক্ত দেবে। সে আবার একটি ঐতিহাসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাবে, নিজের পরিচয় খুঁজবে, নিজের জায়গা খুঁজবে।’ প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরিচয় সংকটে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এভাবে কত বছর পরিচয় খুঁজবে? খুঁজতে খুঁজতে একটি প্রজন্ম আবার শেষ হয়ে যাবে। নতুন একটি প্রজন্ম আসবে, সে আবার নিজের পরিচয় সংকটে ভুগবে। নিজের পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করবে। পুরো বিশ্বের মধ্যে নিজের পরিচয় কোথায়, সেটি খুঁজতে খুঁজতেই তার প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে।’
৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ৯টায় শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার। মিছিলে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ মাঝি, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শামছুল আলম সূর্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। মিছিল শেষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার কড়া প্রতিবাদ জানান নেতারা। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। এর আগে, আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটায় চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে চট্টগ্রামে লিফলেট বিতরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় তিনি এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জীবন রক্ষায় এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি এরশাদ উল্লাহ প্রমুখ। এ সময় চমেক হাসপাতালের আশপাশের দোকানপাট, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়। হাসপাতালের সামনে থাকা দোকানদার, পথচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যেও এসব প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চসিকের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব বিটিআই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ঢাকার তুলনায় সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা কম। ডেঙ্গু সেলগুলোতে বিনা মূল্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন ও সিবিসি পরীক্ষা, প্রতিটি শয্যায় মশারির ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওষুধের মজুত রাখা হয়েছে।