বাংলাদেশ পুলিশের সাতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন ও বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এক সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুমকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, স্পেশার ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকার মো. জাকিরুল হাসানকে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আসহাবকে এসবি ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দীনকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।তিনি পড়াশোনা শেষে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় রিপোর্ট করেছিলেন।
এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল হককে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কোটচাঁদপুর সার্কেল, ঝিনাইদহে বদলি করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলমকে বদলি করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে এসবি, ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার সুশান্ত মজুমদারকে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরএমপি) বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি করা কর্মকর্তাদের আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ৪ অক্টোবর থেকে তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিসড) হিসেবে গণ্য করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বিশেষ কমিটি। এ লক্ষ্যে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়েছে কমিটি। ইতোমধ্যে ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কমিটি। কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অধিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেন। এমনকি রাষ্ট্রপতির আদেশ কার্যকরের প্রক্রিয়াতেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা এককেন্দ্রিক হয়ে পড়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও বিভিন্ন মতামত পেয়েছে কমিটি। অন্যদিকে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন। তবে এ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে রয়েছে একাধিক প্রস্তাব। অংশীজনদের কেউ কেউ জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া যুক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়েও মতামত এসেছে। এ ছাড়া উচ্চকক্ষে উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি করে তাঁকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও মতামত দিয়েছেন কেউ কেউ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আপাতত বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত সংগ্রহ করছে কমিটি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে খসড়া তৈরির সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রথম পর্যায়ে পাওয়া মতামতগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবগুলোর আইনি দিক বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আবারও মতামত নেওয়া হতে পারে। সব প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনার পর একটি খসড়া তৈরি করবে কমিটি। এরপর তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে সংবিধান সংশোধনের খসড়া সংসদে প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হবে। কমিটির এক সদস্য জানান, সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সেসব বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে একটি যুগোপযোগী সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যেই কাজ করছে কমিটি। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে খসড়া প্রস্তাব তৈরিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে ১০টি বৈঠক করেছে। গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কমিটিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তবে কমিটিতে বিরোধী দলের কোনো সদস্য নেই। বিরোধী দলের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নাম চাওয়া হলেও তারা তা দেয়নি। এর আগে বিরোধী দল কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছিল। আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংক্ষিপ্ত সময়ের এ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপিত হচ্ছে না। কারণ, এখনো সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেনি বিশেষ কমিটি।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আয়োজিত গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে অংশ নিতে ঢাকায় এসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জামশেদ আলী (৪৮) নামে এক দফাদার। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের প্রবেশপথে এ ঘটনা ঘটে। সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য প্রবেশপথের কাছে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান জামশেদ। পরে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জামশেদ আলী রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়নের দফাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরিবারের সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মহাসমাবেশে অংশ নিতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বদরগঞ্জ উপজেলা থেকে ৮৪ জন সদস্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাদের সঙ্গে ছিলেন জামশেদ আলীও। শনিবার সকালে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রবেশপথের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান জামশেদ। এ সময় ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত বিমান বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। রংপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শরীফুল আলম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামশেদ আলীর মরদেহ ঢাকা থেকে রংপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি ও মুক্তিকামী জনতা এক রক্তপাতহীন বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তার স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও চেতনা ধরে রাখতে দিবসটির সরকারি মর্যাদা ও ছুটি বহাল রেখেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান থাকবে না। প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতা। পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বনির্ভরতা এবং সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ধর্মমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতি অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।