হলিউডের জনপ্রিয় তারকা টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার বিয়ে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। নিজেদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন এই তারকা জুটি।
এবার তাদের বিয়েকে ঘিরে সামনে এসেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের সারে এলাকায় তিন দিনব্যাপী জমকালো বিয়ের আয়োজন করেছিলেন টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া। এই আয়োজনে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ রুপি।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা।
এই বিয়ের আয়োজনে প্রায় ২৫০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অতিথিদের তালিকায় হলিউডের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় তারকার নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, টিমোথি শ্যালামে ও কাইলি জেনার।
সারের বিলাসবহুল প্রাসাদে আয়োজন
টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে ইংল্যান্ডের সারে এলাকার বিলাসবহুল একটি প্রাসাদ ও আবাসিক স্থাপনায়।
জায়গাটি বর্তমানে পাঁচতারকা হোটেল ও গ্রামীণ অবকাশকেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
টম হল্যান্ডের বেড়ে ওঠার জায়গা কিংস্টন আপন টেমসের কাছাকাছি হওয়ায় অনুষ্ঠানস্থলটির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগসূত্রও রয়েছে।
তিন দিনের আয়োজন শুরু হয় বিয়ের আগের নৈশভোজ দিয়ে। পরদিন সন্ধ্যায় মূল বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সূর্যাস্তের সময় গাছপালায় ঘেরা একটি মনোরম পরিবেশে টম ও জেন্ডায়া একে অপরকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল। এর মধ্যে ছিল ক্রোকেট খেলা ও সুইমিংপুলে আয়োজন। অতিথিদের জাপানি খাবারও পরিবেশন করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অতিথিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
বিয়ের পুরো আয়োজন গোপন রাখতে টম ও জেন্ডায়া কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত কর্মীদেরও মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে বিয়ের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, টম ও জেন্ডায়া কোনো তথ্য বা ছবি যাতে বাইরে চলে না যায়, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন।
এ কারণেই এত বড় আয়োজন হলেও অনুষ্ঠান থেকে এখন পর্যন্ত খুব বেশি ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।
সাজসজ্জায় ছিল স্পাইডার-ম্যানের ছোঁয়া
টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার প্রেমের গল্পের সঙ্গে স্পাইডার-ম্যান চরিত্রের সম্পর্ক বেশ গভীর। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে তাদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
তাই বিয়ের আয়োজনেও স্পাইডার-ম্যানের স্মৃতি রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন জায়গায় লাল ও নীল আলোর ব্যবহার করা হয়। স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে পরিচিত এই দুটি রংয়ের মাধ্যমে তাদের প্রথম একসঙ্গে কাজ করা সিনেমাটির প্রতি বিশেষ ইঙ্গিত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছিলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, টিমোথি শ্যালামেসহ অনেকে
প্রায় ২৫০ অতিথির এই আয়োজনে হলিউডের বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকা উপস্থিত ছিলেন বলে খবর।
টম হল্যান্ডের ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমার সহ-অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়রও অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া টিমোথি শ্যালামে ও কাইলি জেনারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
টমের ছোট ভাই স্যাম হল্যান্ড তার বেস্ট ম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানা গেছে।
আবেগঘন ছিল টম-জেন্ডায়ার বক্তব্য
বিয়ের অনুষ্ঠানে টম ও জেন্ডায়া দুজনেই বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্য একই সঙ্গে হাস্যরসপূর্ণ ও আবেগঘন ছিল বলে জানিয়েছেন একটি সূত্র।
সূত্রটির দাবি, তাদের বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। টম ও জেন্ডায়াকে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও চমৎকার মানুষ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।
তিন দিনের এই আয়োজন তাদের জন্য একটি বিশেষ বছরকে আরো স্মরণীয় করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওই সূত্র।
লন্ডনে বিয়ের আংটি পরে দেখা গেল দুজনকে
বিয়ের আয়োজন শেষ হওয়ার পর টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়াকে লন্ডনে দেখা যায়। তাদের দুজনের হাতেই ছিল বিয়ের আংটি।
এর আগে জেন্ডায়াকে আংটি পরা অবস্থায় দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে টমকেও বিয়ের আংটি পরে দেখা যাওয়ায় ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে দুজন একসঙ্গে নাশতা করেন বলেও জানা গেছে। পরে তারা নিজেদের পোষা কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
এর আগেই গোপনে বিয়ে করেছিলেন তারা
তবে সারে এলাকায় অনুষ্ঠিত এই তিন দিনের আয়োজনই টম ও জেন্ডায়ার প্রথম বিয়ে নয় বলে জানা গেছে।
এর আগে তারা খুবই ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ে করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে টম হল্যান্ডও এক সাক্ষাৎকারে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এমনকি ‘দ্য ওডিসি’ সিনেমার প্রচারের সময় তিনি প্রকাশ্যে জেন্ডায়াকে তার স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সারে এলাকার এই তিন দিনের অনুষ্ঠানটি মূলত তাদের বিয়েকে ঘিরে বন্ধু, পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে বড় পরিসরের উদ্যাপন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ থেকে সম্পর্কের শুরু
২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ সিনেমার সেটে টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার প্রথম পরিচয়।
সিনেমায় টম অভিনয় করেন পিটার পার্কার বা স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে। অন্যদিকে জেন্ডায়া অভিনয় করেন মিশেল জোন্স-ওয়াটসন চরিত্রে, যিনি এমজে নামে পরিচিত।
সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের নজর কাড়ে। পরে বাস্তব জীবনেও তাদের সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা।
২০২১ সালে দুজনের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
এরপর তারা ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ এবং ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন।
এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বিয়ের ছবি
এত বড় আয়োজন হলেও টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া এখনো তাদের বিয়ের কোনো ছবি প্রকাশ করেননি। পুরো আয়োজনটি ব্যক্তিগত রাখার ব্যাপারে তারা শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন বলে জানা গেছে।
অতিথি ও কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনুষ্ঠানটির ছবি বা ভিডিও খুব বেশি ছড়িয়ে পড়েনি।
তবে টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া নিজেরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য বা ছবি প্রকাশ না করা পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন নিয়ে প্রকাশিত অনেক তথ্যই সংবাদমাধ্যমের সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন হিসেবে থাকছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় ক্রাইম সিরিজ ‘সিআইডি’র নির্মাতা ও বর্ষীয়ান প্রযোজক-পরিচালক ব্রিজেন্দ্র পাল সিং আর নেই। বিপি সিং নামেই পরিচিত এই নির্মাতা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর সকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অশোক পণ্ডিত। ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘সিআইডি’। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া এই অপরাধভিত্তিক ধারাবাহিকে মুম্বাইয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের নানা রহস্যজনক ঘটনার কিনারা করতে দেখা যেত। জটিল অপরাধের তদন্ত, নাটকীয় মোড় এবং চরিত্রগুলোর অভিনয়—সব মিলিয়ে ধারাবাহিকটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। শুধু অপরাধভিত্তিক কাহিনি নয়, ভৌতিক ও রহস্যধর্মী ধারাবাহিক নির্মাণেও বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন বিপি সিং। তার নির্মিত ‘আহট’ একসময় টেলিভিশন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সম্প্রচারিত এই ধারাবাহিক ভৌতিক গল্পের উপস্থাপনায় স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করে। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিপি সিং এমন কিছু টেলিভিশন নির্মাণ করেছেন, যা কয়েক প্রজন্মের দর্শকের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে ‘সিআইডি’ ও ‘আহট’-এর মতো ধারাবাহিকের মাধ্যমে অপরাধ, ভৌতিক ও রহস্যধর্মী গল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। তার প্রয়াণে ভারতীয় টেলিভিশন জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বলিউড অভিনেতা ইমরান খান এখন খবরের পাতায় প্রায় শিরোনামে আসছেন। ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দিল্লির বিক্ষোভে অংশগ্রহন করে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া সম্প্রতি তাকে ভারত ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার আরও একটি নতুন খবরে এলেন তিনি। তার প্রথম স্ত্রী অবন্তিকা বিচ্ছেদের নেপথ্য সত্য সামনে আনলেন। প্রায় ১৮ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ও ৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিক। সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের সঙ্গে এক খোলামেলা আড্ডায় বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। অবন্তিকা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলাদা হওয়ার প্রথম প্রস্তাবটি ইমরান খানের পক্ষ থেকেই এসেছিল। সোহা আলি খান যখন অবন্তিকাকে জিজ্ঞাসা করেন যে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তটি কার ছিল, তখন অবন্তিকা সোজাসাপ্টা ইমরানের নাম নেন। অবন্তিকা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে সিদ্ধান্তটা ওরই ছিল। আমি হয়তো নিজের ক্ষতি করে হলেও কখনও আলাদা হওয়ার কথা ভাবতাম না। এটি সম্পূর্ণ ওর সিদ্ধান্ত ছিল।’ অবন্তিকা আরও জানান, প্রথমে ইমরান কিছুদিন আলাদা থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। টানা ছয় মাস আলাদা থাকার পর তারা যৌথভাবে ডিভোর্সের (Divorce) সিদ্ধান্ত নেন। জন্মদিনে চমক দিলেন পরীমণি, আসছে ‘ফারজানা’জন্মদিনে চমক দিলেন পরীমণি, আসছে ‘ফারজানা’ দীর্ঘ ১৮ বছরের সঙ্গী এবং সংসারের ইতি টানাকে এক পরম বেদনার অভিজ্ঞতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন অবন্তিকা। অবন্তিকা বলেন, ‘এই বিচ্ছেদটা আমার কাছে একটা মৃত্যুর মতো ছিল। নিজের ভবিষ্যৎ জীবনটাকে যেভাবে কল্পনা করেছিলাম, যেভাবে সাজাতে চেয়েছিলাম—সেই সমস্ত স্বপ্নের মৃত্যু। জীবনের সবথেকে ঘনিষ্ঠ একটি সম্পর্কের সমাপ্তি এটি।’ ২০১৯ সালে আলাদা হওয়ার পর ইমরান খান বর্তমানে অভিনেত্রী ও শিল্পী লেখা ওয়াশিংটনের (Lekha Washington) সঙ্গে প্রেমে রয়েছেন। ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিক।
বিনোদন জগতের মডেল-অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা তুলনা আল হারুন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ... রাজিউন)। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক ও বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তুলনার ছোটভাই আয়াজ তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিকসূত্রে জানা গেছে, তুলনার ব্রেন টিউমার থেকে ক্যানসার ধরা পড়ে। এর আগে অস্ত্রোপচার করে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবার আরও জানিয়েছে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ পিসিকালচার হাউজিংয়ের ৩ নম্বর রোডে জানাজা শেষে তাকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এদিকে তুলনার মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার সহকর্মী, দেশের নামিদামি ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার, ডিজাইনারসহ ভক্ত-অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই তার চলে যাওয়াকে দেশের মডেলিং ও বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, মডেল-অভিনেত্রী তুলনা আল হারুন তার দীর্ঘ কর্মজীবনে মডেলিং, অভিনয় ও উপস্থাপনায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট হিসেবেও তিনি ছিলেন সমানভাবে প্রশংসিত। ব্যক্তিগতজীবনের কঠিন লড়াই আড়ালে রেখেও সামাজিক মাধ্যমে সবসময় প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও ইতিবাচক মনোভাব দিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি।