মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার (মাইআইএমএমএস) হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০৬টি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। একই সঙ্গে এসব পাসধারী বিদেশি কর্মীকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান শুক্রবার (৩১ জুলাই) মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এসপিআরএম) সদর দপ্তরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মাইআইএমএমএস সিস্টেমে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যেসব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অবৈধভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, সেগুলো থেকে সরকারের কোনো রাজস্ব আসেনি। তাই এসব কর্মী পাস অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদিত সব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করা। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা শনাক্ত করা হবে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, কারণ এতে তারা পালিয়ে যেতে পারেন।
তিনি আরও জানান, এসব বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের ভেতরের কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। কারণ, অভিযুক্তরা বিভাগের কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের ‘ডংল’ (ইউএসবি ডিভাইস) ও নির্দিষ্ট সফটওয়্যার স্থাপন করে প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) আইডি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মী পাস অনুমোদন দেন।
তার ভাষায়, যারা সিস্টেম সম্পর্কে জানতেন এবং অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ঘটনা ঘটতে পারে না।
তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়া-এর সঙ্গে যৌথ ফরেনসিক তদন্তে দেখা গেছে, ইমিগ্রেশন সিস্টেমটি বাইরে থেকে হ্যাক করা সম্ভব হয়নি। বরং অভ্যন্তরীণ অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই সিস্টেমের অপব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে মালয়েশিয়ার হারিয়ান মেট্রো জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিশেষ ধরনের ডংল ব্যবহার করে মাইআইএমএমএস সিস্টেমে প্রবেশ করে অবৈধভাবে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেয়। সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা পরীক্ষা, নেটওয়ার্ক বাইপাস বা যোগাযোগ সংকেত অনুকরণের মতো কাজে ব্যবহৃত বিশেষ হার্ডওয়্যার হিসেবেও এ ধরনের ডংল পরিচিত।
জাকারিয়া শাবান জানান, গত মে মাস থেকেই ইমিগ্রেশন বিভাগ এ চক্রের তৎপরতা শনাক্ত করেছিল। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ‘অপস ক্র্যাক’ পরিচালনা করে চক্রটিকে ভেঙে দেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমান জানান, অভিযানে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, তিনজন বিদেশি নাগরিক, ইমিগ্রেশন বিভাগের চার কর্মকর্তা, বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার দুই কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি এসব সন্দেহভাজনকে বৃহস্পতিবার বিকাল ২টা থেকে ৫টার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তর এবং পেনাং ইমিগ্রেশন দপ্তর থেকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০১১ সালের কর্মী কোটার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ ছাড়াই ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস ইস্যু করেছে। এতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি আবেদনকারী। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার মাত্র ৭.৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে মাত্র সাতজন শরণার্থী মর্যাদা বা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পাচ্ছেন। ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর (অফপ্রা)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা এবং পুনরায় খোলা আবেদন মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন শরণার্থী মর্যাদা অথবা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পেয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদনের বিষয়ে প্রত্যাখ্যানমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। অফপ্রা এবং ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত (সিএনডিএ)-এর সম্মিলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ৭.৪ শতাংশ। ফ্রান্সে আশ্রয় আবেদনকারীদের নিজ দেশে নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, যুদ্ধ কিংবা গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয় ইউরোপে প্রবেশ বা বসবাসের সহজ কোনো পথ নয়। প্রতিটি আবেদন কঠোর আইনি যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব, দুর্বল দাবি কিংবা অসঙ্গত তথ্যের কারণে অনেক আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশকে নিরাপদ উৎস দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের নতুন আশ্রয়ের আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ঝুঁকির প্রমাণ ছাড়া আবেদন সফল হওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় সীমিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৫.৫ শতাংশ। এ সময় দেশটিতে ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন এবং সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার দাঁড়িয়েছে ৪১.২ শতাংশ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক আশ্রয় একটি গুরুতর আইনি বিষয়। এখানে বাস্তব ঘটনা, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে আবেদন করলে শুধু আবেদনকারীর নিজের ক্ষতি হয় না, দেশের মানুষের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পথ বেছে নেওয়া জরুরি। মানবপাচারকারী বা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ভুল তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের চেষ্টা করলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মালয়েশিয়ায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করতে দেশটির মানবপাচার দমন সংক্রান্ত দপ্তর এটিপসম (ATIPSOM)-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। গত ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা। মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন এটিপসম-এর পরিচালক আসানী বিন লাদজানি। বৈঠকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে দুই দেশের সব স্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়। বিশেষ করে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষত নারী ভিকটিমদের উদ্ধার, আশ্রয়, পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া মানবপাচার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং যৌথ কর্মসূচি আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন— শ্রম কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, কাউন্সিলর (কনস্যুলার) ফিরোজ রাব্বানী, ফার্স্ট সেক্রেটারি ফাল্গুনী বাগচী।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স’ এর অভিষেক অনুষ্ঠান। রোববার (২৬ জুলাই) একটি অভিজাত হলরুমে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এই অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষ্যে সংগঠনের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক সত্তার আলী সুমন শাহ আলম কমিটির নাম ঘোষণা করেন। এতে রানা রহমান সভাপতি এবং কামাল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। পরে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান টিপু এবং এস. কে. শামিম যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. কে. শামিম সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা শুভ্রত শুভ, রিয়াদ আহমেদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, জিতু তালুকদার, মিয়া মস্তফা এবং হান্নান হাওলাদারসহ অন্য অতিথিরা। এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। পরে তাদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্লাবের পক্ষ থেকে ব্যাজ ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে প্যারিসের জনপ্রিয় শিল্পী মৌসুমী চক্রবর্তী ও নিশিতা বড়ুয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পী ইলিয়াস, উপমা ও আরাব খান সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা প্রাণবন্ত এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক সত্তার আলী সুমন শাহ আলম বলেন, ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সেতুবন্ধন। আমি আশা করি, এই ক্লাব ভবিষ্যতে প্রবাসীদের কল্যাণে এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা বাংলাদেশের হৃদপিণ্ড, ঢাকা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। প্রবাসের মাটিতে ঢাকাবাসীকে সেই গুরুত্ব উপলব্ধি করে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে রানা রহমান বলেন, ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। বাংলাদেশের সব অঞ্চলের মানুষের জন্য এ ক্লাবের সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দল, মত ও ভৌগোলিক বিভেদ ভুলে প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি মাহমুদ রেজা আসাদ, ইয়া নাসির মুন্না, রেজাউর রহমান বিপুল, জয়নুল আবেদীন, বাদশা করিম রুবেল, সঞ্জয় বনিক সাজ্জাদুল বারী সাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন, মাসুদ জিলান, রনি রাজ পলাশ দাশ, শাহাদত হোসেন, লাবু চৌধুরী স্বপন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, মমিন আলী মোড়ল, হোসেন বেপারী সুজন, আহসান মজুমদার, ইমাম হোসেন, আতাউর রহমান, আজিজুল খান, খান খমিনি, আলম খান জয় কামাল প্রমুখ। কমিটিতে আরও রয়েছেন— কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, সহ কোষাধক্ষ্য সরদার আনিস, প্রচার সম্পাদক মারুফ ফয়সাল, দপ্তর সম্পাদক সুমন মোল্লা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রনি, ক্রীড়া সম্পাদক ইমরান সিকদার, সহ ক্রীড়া সম্পাদক মো. বাবু, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আবু শাহেদ রনি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নাহিদ, প্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান শাওন, শিক্ষা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মহসিন তালুকদার, যোগাযোগ সম্পাদক সৈয়দ হেলাল, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক গণেশ সাহা, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক শহীদ রহমান প্রমুখ।