প্রবাস

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত, আটক ১

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের লিঙ্গি এলাকায় সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

 

নেগেরি সেম্বিলানের পুলিশ প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে তামান লিঙ্গির একটি বাড়িতে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অপরজনকে গুরুতর অবস্থায় রেম্বাউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী লাডাং সুয়া মাঙ্গিস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ও অভিযুক্তরা একই বাড়িতে বসবাস করতেন এবং একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। কী কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশ এখনো নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। আটক ব্যক্তিকে পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের আবেদনসহ হাজির করা হয়েছে।

 

মামলাটি মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাস

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তন: আইএলআর সময়সীমা বাড়ল ১০ বছর

ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন, আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।   তবে উচ্চ আয়ের কর্মী, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য পাঁচ বছরের পথ বহাল থাকছে। বিশেষ অবদান রাখা উচ্চ আয়ের কর্মী ও নির্দিষ্ট দক্ষতা কর্মসূচিতে আসা অভিবাসীদের তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।      অন্যদিকে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্যও পাঁচ বছরের পথ বজায় রাখার ঘোষণা এসেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।   ব্রিটিশ সরকারের নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি আর শুধু নির্দিষ্ট সময় দেশটিতে অবস্থানের ভিত্তিতে দেওয়া হবে না। বরং অভিবাসীর আর্থিক ও সামাজিক অবদান, কর্মসংস্থান, চরিত্র এবং আইন মেনে চলার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।    সরকারের ভাষায়, স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জন করতে হবে অবদানের মাধ্যমে। নতুন নীতির আওতায় যারা অভিবাসন আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনে অন্তত ২০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।   যারা পাবেন তিন ও পাঁচ বছরের সুযোগ : ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী সর্বোচ্চ করদাতাদের তিন বছরে আইএলআর আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সুযোগ থাকবে সরকারের সর্বোচ্চ দক্ষতাভিত্তিক ট্যালেন্ট কর্মসূচিতে আসা অভিবাসীদের জন্য। বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। অন্যদের জন্য সাধারণ যোগ্যতার সময়সীমা হবে ১০ বছর।     কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য বিশেষ ছাড় :  নতুন নীতিতে সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে আসা বা সংশ্লিষ্ট ভিসায় পরিবর্তন করা কেয়ার ওয়ার্কারদের মধ্যে যারা ভিসার শর্ত পূরণ করেছেন এবং সামাজিক পরিচর্যা খাতে বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেছেন, তারা পাঁচ বছর পর আইএলআর আবেদন করতে পারবেন।   অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যে আসা বা ভিসা পরিবর্তন করা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেননি। তাদের জন্য আরো পাঁচ বছরের নতুন কেয়ার ভিসার সুযোগ রাখা হচ্ছে। নতুন ভিসায় তারা আগের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না। পাঁচ বছরের নতুন ভিসার মেয়াদ শেষে তারা আবার স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। একই ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের নির্দিষ্ট কিছু কর্মীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।     আইএলআরের জন্য কঠোর শর্ত : স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য চারটি বাধ্যতামূলক শর্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমুক্ত রেকর্ড, উচ্চমানের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ব্রিটিশ সরকারের কাছে কোনো অনাদায়ী ঋণ না থাকা এবং অন্তত তিন বছরের ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স (এনআই) কন্ট্রিবিউশনের রেকর্ড। যাঁরা সরকারি সুবিধা বা বেনিফিট গ্রহণ করেছেন, তাদের আবেদন করার আগে টানা পাঁচ বছর রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না থাকার শর্তও পূরণ করতে হবে।     শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন : সরকার অনুমোদিত নিরাপদ ও বৈধ পথে আসা শরণার্থীদের পাঁচ বছরে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্য শরণার্থীদের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০ বছর হতে পারে। তবে কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত হলে নির্দিষ্ট শর্তে তা ১০ বছর পর্যন্ত কমতে পারে। ছোট নৌকা বা গোপন অবৈধ পথে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ বছর অপেক্ষা যুক্ত হওয়ায় সময়সীমা ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।     তবে ব্রিটেনে ইতিমধ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকার বাতিল করা হবে না। ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারের সদস্য, হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) ভিসাধারী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং উইন্ডরাশসহ কিছু পুরোনো রুটের অভিবাসীদের জন্য বর্তমান পথ বহাল থাকবে।     ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা :  গত সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬-এ ঘোষিত সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পরিবর্তনগুলো ডিসেম্বর থেকে ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ২০২৭ সালে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা অনেক অভিবাসীর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।      স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, আইএলআরের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় নয়, বরং আবেদন নিষ্পত্তির সময় কার্যকর নিয়ম বিবেচনা করা হবে।     প্রসঙ্গত, ২ নভেম্বরের ঘোষণা হাউস অব কমন্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীতিগত বিবৃতি, এটি নতুন আইন হিসেবে সংসদে চূড়ান্ত ভোটে পাস হয়নি। পরিবর্তনগুলো ইমিগ্রেশন রুলসের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
মো. আনিসুর রহমান

অর্থসংকটে দেশে ফিরছে না তাইওয়ানে মারা যাওয়া আনিসুরের লাশ

ছবি: সংগৃহীত

ডিসেম্বরে ঢাকায় বসছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় ভিসা জটিলতায় হাতছাড়া হচ্ছে গ্রিসের শ্রমবাজার, পিছিয়ে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির মরদেহ আসছে আজ

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ আজ শনিবার দেশে আনা হচ্ছে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ৯ আগস্ট ভয়াবহ আগুনে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় বাকি সাতজনের মরদেহ তাত্ক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।   পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।   দূতাবাস জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দায় নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।   শনাক্ত হওয়া নিহত সাতজন হলেন নওগাঁ সদরের মো. শাহিন, আত্রাইয়ের মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব, মো. সাগর আলী, নাটোরের নলডাঙ্গার মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬

সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: শনিবার দেশে আসছে বাকি ৭ বাংলাদেশির মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে ফিরিয়ে আনা হলো আরও ১৭২ বাংলাদেশিকে

ছবি: সংগৃহীত

দূতাবাসের পরিচয়ে ওটিপি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেকে দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।    ফেরত আসা এসব বাংলাদেশির অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এসব বাংলাদেশিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে।   মঙ্গলবার সকালে দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা। দেশে ফিরে আসা এসব নাগরিকের লিবিয়ায় অবস্থানকালীন অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে বিদেশযাত্রা এবং সেখানে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।   প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অনেকেই সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মানবপাচারকারীদের সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে তাদের অনেকে সেখানে নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়েন। কারও কারও ক্ষেত্রে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। তাদের এই অভিজ্ঞতা অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি এবং মানবপাচারকারীদের প্রতারণা সম্পর্কে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি, মানবপাচারকারীদের প্রলোভন এবং বিদেশে গিয়ে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তাদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   এদিকে দেশে ফেরত আসা প্রত্যেক বাংলাদেশির প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাদের যাতায়াতের খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে দেশে ফেরার পর তারা জরুরি সহায়তা পেতে পারেন।   লিবিয়ায় এখনো বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে কাজ করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ার দারনায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশে রাষ্ট্রদূত, দেওয়া হলো কনস্যুলার সেবা

ছবি: সংগৃহীত

এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ায় মামুনুল হকের সমাবেশে প্রবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি

0 Comments