প্রবাস

প্যারিসে ‘ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স’-এর অভিষেক অনুষ্ঠিত

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স’ এর অভিষেক অনুষ্ঠান।

 

রোববার (২৬ জুলাই) একটি অভিজাত হলরুমে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এই অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এ উপলক্ষ্যে সংগঠনের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক সত্তার আলী সুমন শাহ আলম কমিটির নাম ঘোষণা করেন। এতে রানা রহমান সভাপতি এবং কামাল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

 

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। পরে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান টিপু এবং এস. কে. শামিম যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

 

স্বাগত বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. কে. শামিম সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা শুভ্রত শুভ, রিয়াদ আহমেদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, জিতু তালুকদার, মিয়া মস্তফা এবং হান্নান হাওলাদারসহ অন্য অতিথিরা।

 

এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। পরে তাদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্লাবের পক্ষ থেকে ব্যাজ ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয়।

 

 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে প্যারিসের জনপ্রিয় শিল্পী মৌসুমী চক্রবর্তী ও নিশিতা বড়ুয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পী ইলিয়াস, উপমা ও আরাব খান সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা প্রাণবন্ত এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন।

 

অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক সত্তার আলী সুমন শাহ আলম বলেন, ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সেতুবন্ধন। আমি আশা করি, এই ক্লাব ভবিষ্যতে প্রবাসীদের কল্যাণে এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা বাংলাদেশের হৃদপিণ্ড, ঢাকা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। প্রবাসের মাটিতে ঢাকাবাসীকে সেই গুরুত্ব উপলব্ধি করে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে রানা রহমান বলেন, ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। বাংলাদেশের সব অঞ্চলের মানুষের জন্য এ ক্লাবের সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দল, মত ও ভৌগোলিক বিভেদ ভুলে প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য।

 

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি মাহমুদ রেজা আসাদ, ইয়া নাসির মুন্না, রেজাউর রহমান বিপুল, জয়নুল আবেদীন, বাদশা করিম রুবেল, সঞ্জয় বনিক সাজ্জাদুল বারী সাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন, মাসুদ জিলান, রনি রাজ পলাশ দাশ, শাহাদত হোসেন, লাবু চৌধুরী স্বপন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, মমিন আলী মোড়ল, হোসেন বেপারী সুজন, আহসান মজুমদার, ইমাম হোসেন, আতাউর রহমান, আজিজুল খান, খান খমিনি, আলম খান জয় কামাল প্রমুখ।

 

কমিটিতে আরও রয়েছেন— কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, সহ কোষাধক্ষ্য সরদার আনিস, প্রচার সম্পাদক মারুফ ফয়সাল, দপ্তর সম্পাদক সুমন মোল্লা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রনি, ক্রীড়া সম্পাদক ইমরান সিকদার, সহ ক্রীড়া সম্পাদক মো. বাবু, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আবু শাহেদ রনি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নাহিদ, প্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান শাওন, শিক্ষা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মহসিন তালুকদার, যোগাযোগ সম্পাদক সৈয়দ হেলাল, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক গণেশ সাহা, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক শহীদ রহমান প্রমুখ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাস

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ সাত দেশের ৩১২ অভিবাসীর বিচার শুরু

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশিসহ সাত দেশের ৩১২ জন বিদেশি নাগরিককে বিশেষ দায়রা আদালতে হাজির করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। দেশটির অভিবাসন বিভাগ তাদের আদালতে নেয়।   শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জোহরের পেকেনানাস অভিবাসন আটককেন্দ্রে স্থাপিত বিশেষ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের প্রসিকিউশন কার্যক্রমে অংশ নেয় সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর। আদালতে হাজির হওয়া অভিযুক্তদের বয়স ১৯ থেকে ৫৬ বছরের মধ্যে। তারা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও চীনের নাগরিক।   অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩১২ জনের মধ্যে ১৯৬ জনের বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট বা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকার অভিযোগে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ৬(১)(সি) ধারায় মামলা করা হয়। আদালতে তারা সবাই নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। পরে প্রত্যেককে গ্রেফতারের তারিখ থেকে কার্যকর চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।   অন্যদিকে, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অভিযোগে আরও ১১০ জনের বিরুদ্ধে একই আইনের ১৫(১)(সি) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। তারাও আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত প্রত্যেককে গ্রেফতারের তারিখ থেকে কার্যকর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।   এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের ৫৫(১) ধারায় মামলা করা হয়। তিনিও দোষ স্বীকার করলে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।   তবে বৈধ পাসপোর্ট বা অনুমতিপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অভিযোগে একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের ও মিয়ানমারের দুই পুরুষ নাগরিক আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র হস্তান্তরের জন্য আদালত তাদের মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৯ নভেম্বর ও ৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।   আদালতের পুরো কার্যক্রম নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগ বা আইন প্রয়োগ শাখার পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।   জোহর রাজ্য অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের (পিএটিআই) উপস্থিতি ও তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।   বিভাগটির মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জোহর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তাদের কঠোর অবস্থান প্রতিফলিত হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তন: আইএলআর সময়সীমা বাড়ল ১০ বছর

মো. আনিসুর রহমান

অর্থসংকটে দেশে ফিরছে না তাইওয়ানে মারা যাওয়া আনিসুরের লাশ

ছবি: সংগৃহীত

ডিসেম্বরে ঢাকায় বসছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় ভিসা জটিলতায় হাতছাড়া হচ্ছে গ্রিসের শ্রমবাজার, পিছিয়ে বাংলাদেশ

গ্রিসের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন ইমন মিয়া। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পেয়েছিলেন ওয়ার্কপারমিটও। প্রস্তুতি শেষে বাকি ছিল শুধু ভিসা নিয়ে গ্রিসে যাত্রা। কিন্তু সেই পথেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভারতীয় ভিসা। গ্রিসের ভিসার জন্য সাক্ষাৎকার দিতে দিল্লি যাওয়ার প্রয়োজন হলেও ভারতীয় ভিসা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি তাঁর। শুধু ইমন নন, এমন ভিসা জটিলতায় আটকে যাচ্ছে গ্রিসে কাজ করতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশির স্বপ্ন। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিসের শ্রমবাজারে রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। বিপরীতে ফিলিপাইন, ভারত ও নেপাল থেকে ক্রমেই বাড়ছে কর্মী নিয়োগ। ফলে সম্ভাবনাময় এই শ্রমবাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।   গ্রিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিলিপাইন থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৪৩। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৭৯-এ। একই সময়ে ভারত থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগ ৭ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯৪৭। নেপাল থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী নিচ্ছে গ্রিস। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও গ্রিসের শ্রমচুক্তির আওতায় গত দুই বছরে ৮ হাজার কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকলেও দেশটিতে বৈধ পথে গেছেন ৫০০ জনেরও কম।   জানা গেছে, বাংলাদেশে গ্রিসের পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস না থাকায় ভিসার জন্য আবেদনকারীদের দিল্লির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ভারতীয় ভিসা পাওয়া, যাতায়াত এবং নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার জটিলতায় অনেকেরই চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। নিয়োগকর্তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় তাঁরা অন্য দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিসে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি খামার থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টের মালিকরা নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশিরা কাজেও দক্ষ। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে সেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রদূত জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি মাসেই গ্রিসের পররাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি। বাংলাদেশে নিয়মিত কনস্যুলার টিম পাঠানো কিংবা অন্য কোনো দেশের গ্রিক দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনের সুযোগ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা আইনসম্মতভাবে গ্রিসে আসতে চাইলেও ভারতীয় ভিসার জটিলতায় অনেকেই দিল্লিতে যেতে পারছেন না। অথচ গ্রিক নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মী চান। সময়মতো কর্মী না পেলে তাঁরা অন্য দেশ থেকে লোক নিয়োগ করেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রতি বছর সর্বোচ্চ চার হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা হারাচ্ছেন বাংলাদেশিরা, অন্যদিকে গ্রিসের নিয়োগকর্তারাও বিকল্প শ্রমবাজারের দিকে ঝুঁকছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে নিয়মিত গ্রিক কনস্যুলার কার্যক্রম চালু, বিকল্প দেশে ভিসা আবেদন ও সাক্ষাৎকারের সুযোগ এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রিসের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই কর্মী পাঠানোর সুযোগ ধরে রাখতে দ্রুত বাস্তবসম্মত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির মরদেহ আসছে আজ

সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: শনিবার দেশে আসছে বাকি ৭ বাংলাদেশির মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে ফিরিয়ে আনা হলো আরও ১৭২ বাংলাদেশিকে

ছবি: সংগৃহীত
দূতাবাসের পরিচয়ে ওটিপি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের লক্ষ্য করে দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। টিকা দেওয়ার সিরিয়াল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ধরনের প্রতারণা থেকে নিজেদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রবাসীদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।   মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. বাবুর ইসলাম চৌধুরী নাম ব্যবহার করে এক ব্যক্তি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফোন করছেন। নিজেকে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি ভ্যাকসিনের সিরিয়াল দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে আসা ওটিপি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   তবে দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মো. বাবুর ইসলাম চৌধুরী নামে কোনো ব্যক্তি প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত নেই। ফলে ওই পরিচয়ে যোগাযোগ করা ব্যক্তির সঙ্গে দূতাবাসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।   দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বর্তমানে তারা কোনো ধরনের টিকা বা ভ্যাকসিন প্রদানসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তাই দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে ভ্যাকসিনের নিবন্ধন, সিরিয়াল কিংবা এ ধরনের সেবা দেওয়ার প্রস্তাব পেলে তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া ফোনকলের পাশাপাশি ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও দূতাবাসের পরিচয়ে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।   প্রবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দূতাবাস জানিয়েছে, অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি ফোন করলে তার কাছে পাসপোর্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর কিংবা মোবাইলে আসা কোনো ওটিপি প্রকাশ করা যাবে না।   বিশেষ করে দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য সরবরাহ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক নম্বর থেকে ফোন এলে প্রয়োজনে সেটি ব্লক করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা চক্র বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করলে কিংবা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।   এ জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের mission.paris@mofa.gov.bd ইমেইল ঠিকানায় অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস।   প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দূতাবাসের পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ার দারনায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশে রাষ্ট্রদূত, দেওয়া হলো কনস্যুলার সেবা

ছবি: সংগৃহীত

এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

0 Comments