প্রবাসী

এক সপ্তাহে মালদ্বীপে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, উদ্বেগে প্রবাসী কমিউনিটি

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে গত এক সপ্তাহে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে।

 

হাইকমিশন সূত্র জানায়, কয়েকজন প্রবাসী কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২৩ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম রওশন কর্মস্থলে মিক্সার মেশিন দুর্ঘটনায় নিহত হন। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ২১ বছর বয়সী সোলাইমান মাতব্বর ভুলবশত রাসায়নিক পদার্থ পান করার পর মারা যান বলে জানা গেছে।

 

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ৩৭ বছর বয়সী বদিউর রহমান নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করছে।

 

এ ছাড়া স্ট্রোক ও হৃদরোগে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—

 

  • হুমায়ুন কবির (৪৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • সায়েদ মোল্লা (৪৪), শরীয়তপুর
  • মকবুল মিয়া (৪৭), কুমিল্লা
  • মো. শেখ ফরিদ (৪৫), ফেনী
  • দেলোয়ারা নবী (৭০), বরিশাল

 

হাইকমিশন জানিয়েছে, হুমায়ুন কবির ও সায়েদ মোল্লার মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 

প্রবাসী সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অনেক প্রবাসী শারীরিক ও মানসিকভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন। বিশেষ করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দ্রুত দেশে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন।

 

বাংলাদেশ হাইকমিশন বলেছে, তারা সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইউএস আর্মিতে যোগ দিলেন চাঁদপুরের তরুণ জুম্মান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইউএস আর্মিতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ জুম্মান তপদার। তার এই অর্জনে পরিবার-স্বজনের পাশাপাশি নিজ এলাকা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি হাজীগঞ্জ ও পুরো চাঁদপুরের জন্য গর্বের একটি ঘটনা।   জুম্মান তপদার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকার তপদার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মো. বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তার দুই বোন ও এক ভাই রয়েছেন।   পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জুম্মান। সেখানে যাওয়ার পর পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে যুক্ত হন তিনি। একই সঙ্গে ইউএস আর্মিতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে থাকেন।   দীর্ঘ পরিশ্রম ও বিভিন্ন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অবশেষে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার। বর্তমানে জুম্মানের পরিবারের অন্য সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   জুম্মানের এই সাফল্যে তার মা-বাবা ও স্বজনেরা অত্যন্ত আনন্দিত। ছেলের নতুন কর্মজীবন ও নিরাপত্তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।   স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা ও কর্মজীবনের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে জায়গা করে নেওয়া জুম্মানের এই অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণদের জন্যও এটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ায় নতুন অনলাইন ব্যবস্থা

মালয়েশিয়ায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আটকরা। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ৫৭ আটক

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-আমিরাতসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে মঙ্গলবার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ছবি: সংগৃহীত
হাইকমিশনের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় বকেয়া বেতনের প্রথম কিস্তি পেলেন ১২৬ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের হস্তক্ষেপে তিন মাসের বকেয়া বেতনের প্রথম কিস্তি পেয়েছেন ১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। দেশটির পাহাং রাজ্যের একটি প্লাইউড কারখানায় কর্মরত এসব শ্রমিক দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে আর্থিক সংকটে ছিলেন।   মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডি নামের প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশিসহ প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক কর্মরত। অভিযোগ ছিল, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছিল না। এতে মালয়েশিয়ায় থাকা শ্রমিকদের পাশাপাশি দেশে থাকা তাদের পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়ে।   সম্প্রতি ১২৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি হাইকমিশনের নজরে আসে। একই সময়ে কোম্পানির এক বাংলাদেশি কর্মী গত ১১ আগস্ট হাইকমিশনে ফোন করে তাদের সমস্যার কথা জানান।   খবর পাওয়ার পর দ্রুত নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর শ্রমিকদেরও শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।   পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট হাইকমিশন, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কোম্পানির পক্ষ থেকে তিন মাসের বকেয়া বেতন তিন কিস্তিতে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।   প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট প্রথম কিস্তির বেতন পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। দ্বিতীয় কিস্তি চলতি মাসের ২৮ আগস্ট এবং তৃতীয় কিস্তি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করার কথা রয়েছে।   প্রথম কিস্তির বেতন হাতে পেয়ে হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।   কোম্পানির বাংলাদেশি শ্রমিক টাঙ্গাইলের সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিন মাস বেতন না পাওয়ায় তারা নিজেরা এবং দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা চরম আর্থিক কষ্টে ছিলেন। হাইকমিশনের সহযোগিতা ছাড়া বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না বলেও জানান তিনি।   এদিকে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের যেকোনো সংকটের ক্ষেত্রে আন্দোলন বা ধর্মঘটে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বিশেষ করে বেতন-ভাতাসহ ন্যায্য দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে দেশটির শ্রম আইন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘন করে কোনো আন্দোলনে জড়ালে পরবর্তীতে ন্যায্য দাবি আদায় এবং আইনি প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদেরই সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়ালালামপুর না গিয়েই সেবা, মালয়েশিয়ায় ৬ শতাধিক প্রবাসীর পাশে দূতাবাস

ছবি: সংগৃহীত

সরকারিভাবে ১০০ ট্যাক্সি চালক নিচ্ছে সৌদি আরব, আবেদন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের সাঁড়াশি অভিযান, ৮৭ বাংলাদেশিসহ আটক ১১২

ছবি: সংগৃহীত
১ সেপ্টেম্বর থেকে কুয়েতে বন্ধ হচ্ছে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধি

কুয়েতে অবস্থানরত প্রবাসী ও বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য চালু থাকা ভিসা এবং ছুটির অনুমতিপত্রের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বন্ধ হতে যাচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিশেষ ব্যবস্থা বাতিল করে আগের নিয়মে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে চলতি বছরের শুরুতে সাময়িকভাবে এই সুবিধা চালু করেছিল কুয়েত সরকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এখন ভিসা ও ছুটির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে।   নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ভিজিট ভিসার মেয়াদ আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না। তাই যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।   বিশেষ করে কুয়েতের বাইরে ছুটিতে থাকা প্রবাসীদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য নিয়োগকর্তার মৌখিক আশ্বাস বা পুরোনো কাগজপত্রের ওপর নির্ভর না করে সরকারি ‘সাহেল’ অ্যাপের তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে অ্যাপে থাকা তথ্যই সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে।   নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো দর্শনার্থী কুয়েতে অবস্থান করলে বা ছুটিতে থাকা কোনো প্রবাসী সময়মতো দেশে ফিরে না এলে তা দেশটির প্রচলিত আবাসন আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।   তবে নতুন নিয়মের আওতায় জরিমানার নির্দিষ্ট কোনো অর্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা সংক্রান্ত তথ্যকে যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার জন্য প্রবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে।   প্রবাসীদের নিজেদের ভিসা ও ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ সম্পর্কে আগেভাগেই নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ওমানে ক্রিকেট খেলার সময় মাঠে লুটিয়ে পড়ে প্রবাসীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ন্যাশনাল ববি মুর অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় লন্ডনে ড. জাকির খানকে সংবর্ধনা

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

0 Comments