ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের গ্রীষ্মকালীন কোরআন তিলাওয়াত ও তাজবিদ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ট্রাস্টের দায়িত্বশীলদের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের প্রায় ৭০টি কেন্দ্রে এ বছরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের শাহজালাল লতিফিয়া বাংলাদেশ মসজিদে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকালীন কোরআন শিক্ষা কোর্স।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির তত্ত্বাবধানে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশু-কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াত শেখার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সাতজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পাঠদান: মাদ্রিদ শাখায় মোট সাতজন শিক্ষক পাঠদান করছেন। প্রধান ক্বারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ মো. উসমান খান শামীম। শাখা পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন হাফিজ আবুল কাসেম।
এ ছাড়া শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন:
হাফিজ মুজাহিদুল ইসলাম
ক্বারী মাওলানা মোফাচ্ছির আহমেদ
ক্বারী আতিকুর রহমান
ক্বারী মিজানুর রহমান
ক্বারীয়া খাদিজাতুল জান্নাত
চার সপ্তাহের কোর্স
আয়োজকরা জানান, শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোর্সের মেয়াদ চার সপ্তাহ। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত পরীক্ষা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেশন শেষ হবে।
দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান: দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা প্রদানে সুপরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জৌনপুরী সিলসিলার অন্যতম বুজুর্গ আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল লতীফ চৌধুরী (রহ.)। ১৯৫০ সালে ট্রাস্টটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
ট্রাস্টের অধীনে প্রতি বছর রমজান মাসে প্রায় দুই হাজারের বেশি শাখা কেন্দ্রের মাধ্যমে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষার সুযোগ পেয়ে থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, গ্রেট ব্রিটেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রেও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অস্ট্রেলিয়ায় নারী রোগীদের সঙ্গে যৌন অপরাধের ১০টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক শফিউল মিল্কি (৬২)। ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে এসব অপরাধের ঘটনা ঘটে। গত বছরের জুনে আদালতে দোষ স্বীকার করলেও আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ঘটনাগুলো সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৪ জুন মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টে হাজির হয়ে ১০টি যৌন অপরাধের দোষ স্বীকার করেন মিল্কি। আদালতে উপস্থাপিত বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসার সময় রোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করতেন মিল্কি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে যৌন আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসা নিতে আসা নারীরা এসব ঘটনার শিকার হন। ভুক্তভোগীদের একজন ফ্রান মিলিংটন নিজের পরিচয় প্রকাশ করে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে ভিক্টোরিয়ার ওশান গ্রোভের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি যৌন আক্রমণের শিকার হন। আদালতে জানানো হয়, চিকিৎসার সময় মিল্কি তার অন্তর্বাস নামিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এদিকে পৃথক এক নারী রোগীর করা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) মিল্কিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। পাঁচদিন ধরে চলা বিচার শেষে মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টের জুরিরা তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেননি। জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে জরায়ুমুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী। তবে মিল্কির আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে বলেন, পরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্রের কারণে রোগী যে অনুভূতির কথা বলেছেন, সেটি হয়ে থাকতে পারে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনার পর জুরিরা তাকে খালাস দেন। তবে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও অন্য চার নারী রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি যৌন অপরাধে তার দোষ স্বীকার বহাল রয়েছে। ওই অপরাধগুলোর তথ্য এতদিন আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। শফিউল মিল্কির বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মামলা চলছে কয়েক বছর ধরে। এর আগে ২০২৩ সালে ছয় নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অপরাধের ১৫টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ওই বছরের এপ্রিলে আদালত তাকে সাড়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে অন্তত ১১ বছর কারাভোগের নির্দেশ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুনে ভিক্টোরিয়ার আপিল আদালত আগের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি পাওয়ায় সেই দণ্ডাদেশ বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহারের বিষয়ে জুরিদের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের হাজির না করার বিষয়টিও বিচারে প্রভাব ফেলেছিল। পুনর্বিচারের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই চার নারী রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি অপরাধে দোষ স্বীকার করেন মিল্কি। অন্যদিকে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগে বিচার শেষে তিনি খালাস পান। তথ্য মতে, শফিউল মিল্কি বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে নিউজিল্যান্ডে যান। সেখান থেকে ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও তিনি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। দোষ স্বীকার করা ১০টি অপরাধের সাজা নির্ধারণের বিষয়ে আগামী ২৩ অক্টোবর আদালতে পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পৃথক ধর্ষণ মামলায় খালাস পেলেও চার নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অপরাধের ঘটনায় এখনো তাকে সাজা নির্ধারণের মুখোমুখি হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ও বিদেশি শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন মজুরির হার ২০২৭ সালের জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংসদে ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। নতুন মজুরি কাঠামোর ফলে ৪০ লাখের বেশি কর্মী উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করছে সরকার। দেশটির ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরাও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকারী হবেন। মালয়েশিয়ায় ২০১৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু হয়। সে সময় মাসিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০০ রিঙ্গিত। পরে ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতে উন্নীত হয়। প্রস্তাবিত নতুন হার কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তবে নতুন মজুরি কাঠামোর আওতা থেকে কিছু ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম, তারা এই ছাড়ের আওতায় থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমানো জরুরি। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া আধা-দক্ষ কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিমের মতে, ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের আয়ের একটি সর্বনিম্ন সীমা নিশ্চিত করলেও দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে করবিধি আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজুরি ব্যয়ের ওপর করছাড় পেতে কর্মসংস্থান আইনে অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হলে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের আয় বাড়তে পারে। তবে নতুন হার কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময় এবং কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড় থাকায় সব শ্রমিক একই সময়ে এর সুবিধা পাবেন না।
লাওসে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রম নিয়োগের কোটা অনুমোদন, শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রম নিয়োগের কোটা অনুমোদন, শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ে লাওসে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ ও প্রেরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া স্থগিতাদেশ চলাকালে লাওসগামী বাংলাদেশি কর্মীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়া এবং এ-সংক্রান্ত কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।