জাতীয়

কক্সবাজারের পথে তারেক রহমান, যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে হেলিকপ্টারে চড়ে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

 

রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতাবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।


সকাল সাড়ে ১০টায় মহেশখালীর মাতাবাড়ির গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন, বেলা সাড়ে ১২টায় মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লাম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সাক্ষাৎ, সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রা বিরতি, বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগদান।

 

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে এবং ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রামে যাবেন।

 

সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
পর্যটকের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, বাড়ছে পরিবেশের ওপর চাপের শঙ্কা

দীর্ঘ নয় মাসের বিরতির পর পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যটন চালুর খবরে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো এবং রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।   এবার পর্যটন মৌসুমে দৈনিক পর্যটকের সর্বোচ্চ সীমা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমের শুরু থেকেই দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হলেও পরিবেশবিদদের প্রশ্ন, বাড়তি পর্যটকের চাপ সামলানোর মতো সুপেয় পানির উৎস, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশগত অবকাঠামো দ্বীপে কতটা প্রস্তুত।   সম্প্রতি সরেজমিনে সেন্টমার্টিন ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ। রেস্তোরাঁগুলো খাবারের আয়োজন গুছিয়ে নিচ্ছে। দোকানপাটেও নতুন করে পণ্য তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর্যটক না থাকায় আর্থিক সংকটে পড়া ব্যবসায়ীরা নতুন মৌসুমে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন।   এবার পর্যটক পরিবহনে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাটকে কেন্দ্র করে জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগে টেকনাফ থেকেও দ্বীপে যাতায়াত করা যেত। তবে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিবেচনায় সেই পথ বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজার থেকে যাত্রার দূরত্ব বেশি হওয়ায় পর্যটকদের সময় ও খরচ বাড়ছে। এতে পর্যটকদের আগ্রহ এবং স্থানীয় ব্যবসায় কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।   সরকারের সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। দৈনিক সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। অনলাইন ভ্রমণ অনুমতিপত্র ও কিউআর কোডভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। পর্যটকেরা ১ নভেম্বর থেকেই দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।   পরিবেশ সুরক্ষায় পর্যটকদের জন্য কয়েকটি বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ। সৈকতে উচ্চ শব্দে গানবাজনা, রাতে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন আলো জ্বালানো এবং উন্মুক্ত স্থানে বারবিকিউ আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছেঁড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত থাকবে। তবে এসব বিধিনিষেধ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   সেন্টমার্টিনের পরিবেশগত সংকটের চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দ্বীপে স্থাপনা ও উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত এলাকার পরিমাণ ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দ্বীপের প্রবালপ্রাচীরের প্রায় ২৫ শতাংশ অবক্ষয়ের তথ্যও উঠে আসে।   পর্যটন নিষেধাজ্ঞার সময়ে দ্বীপের সামুদ্রিক পরিবেশে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৯ মে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দ্বীপের ১০৭টি স্থানের পানির গুণগত মান বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন নিষেধাজ্ঞার সময়ে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা বেড়েছিল। নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতি লিটার পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৬ থেকে ৬ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম; পরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ১ থেকে ৭ দশমিক ৪ মিলিগ্রামে পৌঁছায়।   তবে পানির গুণগত মানের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ পর্যটন নিষেধাজ্ঞা নয় বলে গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। পানির তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা ও নাফ নদীর পানির প্রবাহের মতো প্রাকৃতিক ও মৌসুমি বিষয়ও এতে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দ্বীপের পূর্বাংশের নমুনা সংগ্রহস্থলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই পানির মানের উন্নতির পুরো কৃতিত্ব পর্যটন নিষেধাজ্ঞাকে দেওয়া যাবে না। তবে পরিবেশ সংরক্ষণে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব এতে উঠে এসেছে।   সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্বীপের পরিবেশগত সংকটের অন্যতম বড় কারণ দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। পর্যটক বাড়লে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্যের পরিমাণও বাড়বে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ ও অপসারণ করা না গেলে সৈকত, সমুদ্র ও প্রবালপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তি পর্যটকের চাপে সীমিত সুপেয় পানির উৎসের ওপর চাপ তৈরি হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর না হলে অপরিশোধিত বর্জ্য সমুদ্রে মিশে সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।   এ ছাড়া পর্যটকদের চলাচল, নৌযানের শব্দ ও আলো, সৈকতে রাতের কর্মকাণ্ড এবং প্রবালের ওপর অনিয়ন্ত্রিত পদচারণা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মানুষের উপস্থিতিতে সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত তদারকি, বর্জ্য অপসারণ এবং পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।   স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, দোকান, নৌযানসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষের আয় কমে গেছে। পর্যটন চালু হওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।   সেন্টমার্টিনের কটেজ মালিক নুরুল আবছার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সব কটেজ বন্ধ থাকায় মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক কটেজ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেগুলো সংস্কার করতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। দ্বীপে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বেশিরভাগ কটেজে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়, আবার জ্বালানির দামও বেশি। তারপরও দীর্ঘদিন পর পর্যটক আসায় তারা আশাবাদী।   জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকেই দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও প্রশাসনিক অনুমোদনের কারণে এত দিন নৌযান চলাচল সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়েই জাহাজ চলাচল শুরু হবে।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ এবং পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। কিন্তু অনেক পর্যটক পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নন। তাদের অসচেতন আচরণে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   তার মতে, পর্যটকের চাপ সামলানোর মতো পরিবেশগত অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো এবং রাত্রিযাপনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা উচিত হয়নি। এতে দ্বীপের পরিবেশের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।   বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী মুনিরা পারভীন রুবা বলেন, সেন্টমার্টিন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থার অংশ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, পর্যটকের চাপ সামলানোর মতো সুপেয় পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশগত অবকাঠামো আগে নিশ্চিত করা জরুরি।   তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিনের অবৈধ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণ এবং প্রবালসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে ২০০৯ সালে বেলা জনস্বার্থে মামলা করেছিল। ২০১১ সালে এ বিষয়ে হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তবে এরপরও দ্বীপে অপরিকল্পিত স্থাপনা, পর্যটনের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   মুনিরা পারভীন রুবা বলেন, পর্যটক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশগত ধারণক্ষমতা নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। পর্যটন বন্ধ রাখা বা স্থানীয় মানুষের জীবিকা উপেক্ষা করা স্থায়ী সমাধান নয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে নিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।   টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশনের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কাজে দুটি বেসরকারি এনজিও কাজ করছে। দ্বীপের পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়েও প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় দ্বিখণ্ডিত কাভার্ডভ্যান, চালক নিহত

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রচারকে ঘিরে ডিবি কার্যালয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজিব ঘোষ

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত
মানদণ্ড পূরণ না করলে নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন নয়: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। চিকিৎসা শিক্ষার মান ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।   বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।   ডা. এম এ মুহিত বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত কোনো নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ সিদ্ধান্তের কারণে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে চাপ আসছে। তবে প্রয়োজনীয় মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না।   তিনি বলেন, পর্যাপ্ত হাসপাতাল ও রোগী দেখার বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকা উচিত নয়। হাসপাতাল ছাড়াই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং রোগী দেখার অভিজ্ঞতা ছাড়াই চিকিৎসক তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।   দেশে চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক বণ্টনে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। অন্য সাতটি বিভাগে এ ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। তাই রাজনৈতিক বক্তব্য বা জনপ্রিয় দাবির ভিত্তিতে নিজ জেলা কিংবা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্যশিক্ষার অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।   চিকিৎসা শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের (ডব্লিউএফএমই) মানদণ্ড অনুসরণ করে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও জনআস্থা ধরে রাখতেও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   বিদেশে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন।   এ প্রসঙ্গে অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও স্বীকৃতির বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক

ছবি: সংগৃহীত

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ: সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট

ছবি: সংগৃহীত

সরকারে কে আছে, তা বিবেচ্য নয়; সব দলের সঙ্গে সম্পর্ক চায় চীন

ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার থেকে চালু হচ্ছে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন জাহাজ চলাচল

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও পরিবেশগত অনুমোদন পাওয়ায় প্রথম দিন থেকেই তিনটি জাহাজ দ্বীপটির উদ্দেশে যাত্রা করবে।   বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।   তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় এতদিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নৌযান চলাচল করবে।   প্রথম দিনে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামের তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।   অনুমোদিত তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়া ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলী ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফ ৭১৬ জন যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম।   নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করবে।   ফেরার পথে এমভি কর্ণফুলী বেলা ২টা ১৫ মিনিটে, এমভি বার আউলিয়া বেলা ২টা ৩০ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।   সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ভ্রমণের সময় ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।   পর্যটন কার্যক্রম চালু হলেও দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে শব্দদূষণ এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং কেনাবেচার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।   প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিসাধন আইনত দণ্ডনীয়। একই সঙ্গে সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনের পর্যটন ব্যবসায় নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে হামলা, আহত ৮ সাংবাদিক

ছবি: সংগৃহীত

ভোলায় পাচারের সময় ২৯০ বস্তা সরকারি সার আটক, গোডাউন সিলগালা

সংগৃহীত ছবি

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪৪৫, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৮৬৬

0 Comments