ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো যখন তাদের ইশতেহার প্রকাশ করছে সে সময় একটি গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধান দলগুলোর ইশতেহারসমূহ একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
এতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্যে ইতোমধ্যে প্রকাশিত ইশতেহারগুলোও যুক্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রকল্পের গবেষক হচ্ছেন আলী রীয়াজ এবং এম এম মুসা।
ওয়েবসাইটটির এ্যাড্রেস https://www.votemanifesto.com/
ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কী প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন এবং কী কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন গবেষক, সাংবাদিক এবং নাগরিকদের তা বিবেচনা করতে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই ডাটাবেজে বিভিন্ন দলের প্রকাশিত ইশতেহার একত্রিত করা হয়েছে।
গবেষণা প্রকল্পের বর্ণনায় বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি প্রধান অঙ্গ হচ্ছে নির্বাচন। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নাগরিকরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। অবাধ, সুষ্ঠূ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন একটি দেশের শাসনব্যবস্থায় নাগরিকের অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে। নির্বাচনে একাধারে রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় প্রত্যেকটি দল ‘নির্বাচনী ইশতেহার’ প্রকাশ করে যাতে দলের আদর্শিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচী সন্নিবেশিত হয়। নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে নাগরিকদের কাছে দলের প্রতিশ্রুতি। সেই বিবেচনায় ইশতেহার হচ্ছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের পরবর্তী কার্যক্রম বিচারের মাপকাঠি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আমেরিকান ইন্সিটিটিউট অব বাংলাদেশ (এআইবিএস)-এর প্রেসিডেন্ট। ড. রীয়াজ বর্তমানে উপদেষ্টা পদ-মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে কর্মরত।
এম এম মুসা লেখক ও গবেষক, পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি নিয়মিতভাবে উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন বিষয়ে লেখালেখি করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনোভাবেই বাসের ভাড়া না বাড়াতে পরিবহণ মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি। বুধবার (২২ এপ্রিল) সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে বাসভাড়া বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বর্তমানে প্রচলিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না। দেশের সব রুটে চলাচলকারী পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের এই নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাসভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও পরিবহণ খাতের সংকটের কথা তুলে ধরেছে মালিক সমিতি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহণ পরিচালনা ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ ছাড়া ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় গাড়ির যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) খরচ এখন আকাশচুম্বী। এই পরিস্থিতিতে পরিবহণ খাতকে লোকসান থেকে বাঁচাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবসম্মতভাবে ভাড়া সমন্বয় করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান ও জোর দাবি জানিয়েছে সমিতি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির পর কাজে ফিরেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সংবাদ সম্মেলনের পর তারা স্বাভাবিক কর্মস্থলে যোগ দেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় হেনস্তার শিকার হওয়ার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এই কর্মবিরতির ডাক দেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিলে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা কর্মসূচি পালন করেছিলেন। কর্তৃপক্ষের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে ফিরেছেন এবং তাদের দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের দ্বারা দুইজন পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক হেনস্তা ও মবের শিকার হন। এসব ঘটনার পর Intern Doctor’s Society, RMCH মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত যুবক মো. শাহিনের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমানে তিনি রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে জুলাইযোদ্ধা শাহিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। প্রতিনিধি দলটি শাহিনের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সিরাজুস সালেহীন, নিটোর ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা. শামসুল আলম, সেক্রেটারি ডা. শেখ আতিকুর রহমান সুজনসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। ডা. আমান উল্লাহ জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন রয়েছে—এমন সব ‘জুলাই যোদ্ধা’র পাশে সরকার রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, আগামী বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শাহিনের অস্ত্রোপচার করা হবে। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর থানার সামনে সংঘটিত ঘটনায় মো. শাহিন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে রাজধানীর শ্যামলী মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি ক্রাচে ভর করে উপস্থিত হন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করান। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।