এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘উনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) আমাদের (বর্তমান সরকার) কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না।’
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’
এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙরসহ (আউটার লাইটারেজ) সব জায়গায় পণ্য খালাস ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের ৪ নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে বন্দরে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচির ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন।
এনসিটি ইজারা বাতিলের পাশাপাশি পরিষদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘উনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) আমাদের (বর্তমান সরকার) কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না।’ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’ এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙরসহ (আউটার লাইটারেজ) সব জায়গায় পণ্য খালাস ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের ৪ নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে বন্দরে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।’ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’ এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচির ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। এনসিটি ইজারা বাতিলের পাশাপাশি পরিষদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ।
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম গত কয়েক মাস ধরে দ্রুত কমছে। চলতি সপ্তাহে এটি এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে প্রায় ৬৩ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত অক্টোবরে যেখানে বিটকয়েনের দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি ছিল, এখন তা বছর শুরুর পর থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। খবর আল জাজিরার। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ও স্বর্ণ-রুপার দামের ওঠানামা এই পতনের অন্যতম কারণ। বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়াও বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) থেকে গত কয়েক মাসে বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিপ্টো বাজার অনেকটাই ‘হাইপ’ বা অতিরিক্ত আগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে সেই আগ্রহ কমে যাওয়ায় লেনদেনের পরিমাণও কমেছে, ফলে বাজারে তারল্য কমে গিয়ে দাম দ্রুত ওঠানামা করছে। এ ধরনের দীর্ঘ সময়ের মন্দাকে ‘ক্রিপ্টো উইন্টার’ বলা হয়। স্বর্ণ ও রুপার দামের অস্থিরতাও বিনিয়োগকারীদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ডলারের শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনায় অনেক বিনিয়োগকারী বিক্রি বাড়িয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে ক্রিপ্টো বাজারেও। বিটকয়েনের পাশাপাশি দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথারের দামও এ সপ্তাহে প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রিপ্টো-বান্ধব নীতির কথা বলেছেন এবং জাতীয় ক্রিপ্টো রিজার্ভ তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তবুও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও একাধিকবার ‘ক্রিপ্টো উইন্টার’ দেখা গেছে এবং সাধারণত এ ধরনের মন্দা প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বর্তমান পতন সাময়িক এবং ভবিষ্যতে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
এলডিসি উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের জন্য দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিতকরণসহ নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ: নৈতিক চর্চার ইস্যু ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব মতামত উঠে আসে। দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) যৌথভাবে এ সভা আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে ‘বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সেবার মান ও কার্যগত গতি বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উদ্যোক্তাদের লাইসেন্স প্রাপ্তি, নবায়ন, নিবন্ধন, কাস্টমসসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার একটি সার্বিক চিত্রও উপস্থাপন করেন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সরকারি এজেন্সিগুলোর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তাঁরা। আইবিএফবি’র পরিচালক এম এস সিদ্দিকী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন ও বিধিমালা ব্যবসা সহজীকরণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোর পদ্ধতিগত কিছু জটিলতা রয়েছে। তবে সেগুলো সহজীকরণের যথেষ্ট সুযোগও আছে। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিলের জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান । এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একটি জটিল প্রক্রিয়া হলেও অন্তর্র্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বেশকিছু সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এখন আচরণগত সংস্কার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। সভায় স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবি’র সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন, তা কেবল আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ এবং অংশীদারিত্বমূলক দায়বদ্ধতা। সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণে বেসরকারি খাত থেকে যেসব সুপারিশ উঠে এসেছে, সেগুলো এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উদ্যোক্তাদের ন্যায্য মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা পালনের এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালকবৃন্দ, সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ, এফবিসিসিআই-এর মহাসচিব মো. আলমগীর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইংয়ের প্রধান মোঃ জাফর ইকবাল এনডিসি, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ, আইবিএফবি’র নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ।