দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর)। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খবর এনডিটিভি।
গত রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা এক জরিপে এই মূল্যায়ন উঠে এসেছে। এতে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন কঙ্গো, গাজা, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাত নিরসনের চেষ্টা চালালেও ভারত-পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের উত্তেজনা উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।
প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, চলতি বছরের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিন দিনের একটি সামরিক সংঘাত ঘটে। ৬ মে রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে অভিযান চালায়। ভারতের দাবি, ওই অভিযানে সন্ত্রাসী শিবির লক্ষ্য করে ১০০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়।
পাল্টা হামলায় ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পাকিস্তান সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে ভারতের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে ট্রাম্প প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ১০ মে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
সিএফআর আরও জানায়, চলতি বছর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যেও সীমান্ত উত্তেজনা বেড়েছে। অক্টোবরে কাবুলে টিটিপি প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বাড়লে ২০২৬ সালে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যেও ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফ্রান্সে প্রবেশে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ–নোয়েল বারো। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (ত্রাণবাহী নৌবহর) অধিকারকর্মীদের উপহাস ও হেনস্তা করার একটি ভিডিও ফুটেজ আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়। ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন বেন–গভির। এরপর এই পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্রান্স। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, ‘আজ থেকে ইতামার বেন-গভিরের ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।’ তিনি আরও বলেন, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার যাত্রী ফরাসি ও ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রতি তাঁর নিন্দনীয় আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেন-গভির একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। বেন-গভিরকে তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে উপহাস করতেও দেখা যায় ভিডিওতে। গত সপ্তাহে সাইপ্রাস উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে আটকে দেয় এবং প্রায় ৪৩০ জন আরোহীকে অবৈধভাবে তুলে নিয়ে যায়। পরে গত বৃহস্পতিবার কয়েক শ আরোহীকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অধিকারকর্মীদের মেঝেতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার এই ছবিগুলো দেখার পর ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। তারা এ ‘অগ্রহণযোগ্য’ আচরণ এবং মানবিক মর্যাদা লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানায়। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ফরাসি নাগরিকের ওপর এভাবে হুমকি, ভয়ভীতি বা সহিংসতা বরদাশত করব না, বিশেষ করে তা যখন একজন সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটে। আমি লক্ষ করেছি, ইসরায়েলের অনেক সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এই আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন।’ বারো আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তাঁর (বেন-গভিরের) দীর্ঘদিনের উসকানিমূলক, বিদ্বেষী ও সহিংস বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতাতেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমার ইতালীয় সহকর্মীর মতো আমিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।’ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজগুলো ১৪ মে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তৃতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করে। এর আগে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য তাদের আগের দুটি প্রচেষ্টা ইসরায়েল ব্যর্থ করে দেয় এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্লোবাল সুমুদে অংশগ্রহণকারীদের আটক করে।
ভারতের তামিলনাড়ুতে ১০ বছরের এক নাবালিকাকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কোয়েম্বাটুর জেলার সুলুর এলাকার কান্নামপালায়ম হ্রদের ধারে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনাও তুঙ্গে উঠেছে। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে ক্ষমাহীন অপরাধ উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, নারী ও শিশু নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার কোনও ধরনের আপস করবে না। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির কাছের একটি দোকানে জিনিস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ওই নাবালিকা।পরে শুক্রবার (২২ মে) হ্রদের ধারে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে কার্তিক ও মোহন রাজ নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর বিরোধী দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম নতুন সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বিজেপি এই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতা নারায়ণন তিরুপতি দাবি করেছেন, আগের সরকারের সময় থেকেই আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বর্তমান পরিস্থিতি তারই ফল। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমন নৃশংস ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে। এখন সাধারণ মানুষের নজর, সরকার কত দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পারে।
সমালোচকদের উদ্দেশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক ও অদ্ভুত মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধীদের সমস্ত কটূক্তির মধ্যে ‘বোকা’ বা ‘জ্ঞানহীন’ শব্দটি তিনি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করেন। তবে কেউ যদি তাকে ‘বুদ্ধিমান একনায়ক বা স্বৈরাচারী শাসক’ বলে ডাকেন, তাতে তার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক সমাবেশে ৭৯ বছর বয়সী এই রিপাবলিকান নেতা তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে চিকিৎসকের সঙ্গে হওয়া এক গোপন কথোপকথন এভাবে প্রকাশ করেন। দ্রব্যমূল্য ও সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার ওপর আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প হঠাৎ করেই নিজের মূল বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে তার মানসিক ফিটনেস নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা তাকে নিয়ে সবচেয়ে খারাপ যে আক্রমণটি করে, তা হলো তাকে ‘বোকা’ বলা। এই অপবাদ তিনি এতটাই ঘৃণা করেন যে, সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে তিনি নিজের চিকিৎসকের কাছে বিশেষ পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। জনতাকে উদ্দেশ করে তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, আপনারা জীবনে যত মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, তাদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি। এরপর ট্রাম্প রসিকতা করে সমর্থকদের কাছে জানতে চান, আপনারা কি একজন বুদ্ধিমান মানুষকে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেতে চান না? সমাবেশে ট্রাম্প তার চিকিৎসকের সঙ্গে হওয়া সেই মজার কথোপকথন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি ডাক্তারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে কেউ তাকে একনায়ক বা স্বৈরাচারী বললে তিনি কিছু মনে করবেন না, কিন্তু বোকা বললে তা মেনে নেওয়া অসম্ভব। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি একটি বিশেষ ‘কগনিটিভ টেস্ট’ বা মানসিক দক্ষতা পরীক্ষা দেন। ট্রাম্পের দাবি, এই পরীক্ষার প্রশ্নগুলো শুরুতে সহজ হলেও শেষের দিকে বেশ কঠিন ছিল। তিনি কেবল এই পরীক্ষায় পাসই করেননি, বরং চিকিৎসকদের অবাক করে দিয়ে তার প্রেসিডেন্ট মেয়াদে মোট তিনবার এই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতিবারই শতভাগ সফল হয়েছেন, যা চিকিৎসকদের মতে একটি বিরল ঘটনা। এর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বারাক ওবামা বা জো বাইডেনের মতো নেতাদের ইঙ্গিত করে দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার আগে প্রত্যেকের জন্য এই মানসিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। অবশ্য ট্রাম্প তার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যতই বড়াই করুন না কেন, চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ তার এই দাবি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যে পরীক্ষার কথা বলছেন তা মূলত ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ শনাক্তকরণের একটি সাধারণ স্ক্রিনিং টেস্ট। টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মনোরোগবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. হেনরি ডেভিড আব্রাহাম জানান, এত কম সময়ের ব্যবধানে তিনবার এই পরীক্ষা দেওয়া মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয়, বরং এটি উদ্বেগের। অন্যদিকে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. জন গার্টনারের দাবি, ট্রাম্পের মানসিক ও জ্ঞানীয় ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা তার আচরণেই স্পষ্ট। তবে ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকদের এমন নেতিবাচক মন্তব্যের বিপরীতে পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। হেগসেথ ট্রাম্পকে আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ‘তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন’ এবং ‘সবচেয়ে দূরদর্শী’ কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে অভিহিত করে তার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি