সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামলেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে দাফনপূর্ব আনুষ্ঠানিকতা। জানাজাস্থলের শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) দেড় হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ বুধবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সদর দপ্তরের অপারেশন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, জানাজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বপরিকল্পিত ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মোট ১ হাজার ৫শ’ সদস্যকে দায়িত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়।
নিরাপত্তার দায়িত্বের আওতায় ৩শ’ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য, ১ হাজার অঙ্গীভূত আনসার এবং ২শ’ নগর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা জানাজাস্থল, আশপাশের সড়ক, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে জনসাধারণ নির্বিঘ্নে জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখানে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া, বাংলাদেশের জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতকে এ দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপলব্ধি করতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারার লেখা ‘উইন্ডস অব চেঞ্জ: জিওপলিটিক্স অ্যাট দ্য ক্রসরোডস অব সাউথ অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ বই নিয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন ও চীন-ভারত সম্পর্ক এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক, সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেরোম সি. গ্লেন এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। গ্লোবাল ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী প্যাটি মরিসের সঞ্চালনায় বইটির লেখক আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারাসহ সাংবাদিক, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট অতিথিরা আলোচনায় অংশ নেন মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ভারতকে আরও সচেষ্ট হতে হবে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলছে। তিনি বলেন, সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব একটি দেশের জনগণের সঙ্গে গড়ে তুলতে হয়, সেই সম্পর্ক কোনো একজন নেতা বা একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আনসারী বলেন, দেশের মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জবাবদিহিমূলক সরকারের আকাঙ্ক্ষা এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব পরিবর্তনে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জনগণ চায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের মতামত ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটুক। বাংলাদেশের প্রতি চীনের সহযোগিতামূলক মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, উন্নয়ন ও মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে এ অংশীদারত্বকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক লালগালিচা অভ্যর্থনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বড় শক্তিগুলোর মধ্যেও সংলাপ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্পর্কেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার এ মনোভাব অনুসরণ করা প্রয়োজন। আনসারী বলেন, ‘আমি ভারত ও চীন- উভয় দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্প্রসারণের পক্ষে। তবে সেই বন্ধুত্ব হতে হবে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতে। নিজ জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বাংলাদেশের থাকতে হবে।’ চীন বা ভারতের শিবির নয়, ভারসাম্য খুঁজছে দেশগুলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাশিয়াও এ অঞ্চলে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার গভীর জ্বালানি সম্পর্ক এবং পাকিস্তান ও নেপালের জ্বালানি খাতে দেশটির সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার প্রতি সরাসরি শত্রুভাবাপন্ন কোনো রাষ্ট্র নেই। ভারতের বাইরেও এ অঞ্চলে মস্কোর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কুগেলম্যান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসার পর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে এবং ভারত থেকে সরে যাচ্ছে- এমন আলোচনা প্রায়ই শোনা যায়। মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল সম্পর্কেও একই ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে তার মতে, এসব দেশের অবস্থানকে সরলভাবে চীন বা ভারতের শিবিরে যোগ দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা যথার্থ নয়। বরং তারা দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে আরও ভালো ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও বিশ্বব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকেও প্রভাবিত করছে বলে মন্তব্য করেন কুগেলম্যান। প্রতিযোগিতার মানসিকতা বদলানোর আহ্বান গ্লেনের দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জেরোম সি. গ্লেন বিশ্বরাজনীতিকে ‘জিরো-সাম’ প্রতিযোগিতা- অর্থাৎ এক পক্ষের লাভকে অন্য পক্ষের ক্ষতি হিসেবে দেখার প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও কূটনীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যত দিন এই ধারণাকে শেখাতে থাকবে, তত দিন বিশ্বও একই প্রতিযোগিতার চক্র থেকে বের হতে পারবে না। প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। গ্লেন বলেন, প্রযুক্তি আরও শক্তিশালী, বহনযোগ্য ও ক্ষুদ্র আকারের হয়ে ওঠায় ভবিষ্যতে একজন ব্যক্তির পক্ষেও এককভাবে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ভবিষ্যৎচিন্তক বাকমিনস্টার ফুলারের ‘সিনার্জি’ বা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাড়তি সুফল সৃষ্টির ধারণা তুলে ধরেন গ্লেন। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে চিন্তার ধরন বদলানোর আহ্বান জানান তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্মিলিত সুফল সৃষ্টি করে এমন সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে মনোযোগী উদ্যোগের প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি। ছোট রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীন সিদ্ধান্তের সুযোগ রক্ষা জরুরি অনুষ্ঠান-পরবর্তী প্রতিফলনে বইটির লেখক আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারা বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে আর বিচ্ছিন্নভাবে বোঝার সুযোগ নেই। পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং স্বাধীনভাবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রচেষ্টা এ দুই অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান আস্থার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বড় শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা কীভাবে ছোট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আসাঙ্গা বলেন, বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের মূল্য শুধু রাজনৈতিক প্রতীক দিয়ে বিচার করা যায় না। এসব চুক্তির বাস্তব ফলাফল, বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক সুফলকে গুরুত্ব দিতে হবে। চীনের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সফট পাওয়ার কূটনীতির মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়টিও তাঁর প্রতিফলনে উঠে আসে। পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রভাব, জ্বালানির দামের অস্থিরতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত মহাসাগরের সামরিকীকরণকে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, আঞ্চলিক সহযোগিতা, দূরদর্শিতা এবং আগাম প্রস্তুতিমূলক কূটনীতি এখন আরও জরুরি। মূল চ্যালেঞ্জ শুধু পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেওয়া নয়, ছোট রাষ্ট্রগুলো যেন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে, সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন রবার্ট এফ. কেনেডির কন্যা ক্যাথলিন কেনেডি এবং ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের মার্ক শোয়েফ জুনিয়র। আয়োজনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক, কূটনীতিক ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারা।
তুরস্ক সফর এবং সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে জামায়াত আমিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ দলের নেতারা। এর আগে, গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে ঢাকা ছাড়েন ডা. শফিকুর রহমান। সফরকালে ৮ অক্টোবর তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ৯ অক্টোবর ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা, নীতিনির্ধারণী আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তুরস্কে সফর ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন ডা. শফিকুর রহমান। এরপর রোববার সকালে ঢাকায় ফেরেন তিনি। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ, তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক এবং ওমরাহ পালন শেষে তার এই সফর সম্পন্ন হলো।
রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনগুলোর ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলের নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হওয়ায় খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকগামী সকালের পর্যটকবাহী গাড়ির বহর স্থগিত করা হয়। পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রশাসনের নির্দেশনায় দুপুর ১২টার দিকে খাগড়াছড়ি থেকে পর্যটকবাহী যানবাহন একসঙ্গে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বাঘাইছড়ি থেকে দুপুর ২টার নির্ধারিত বহরের মাধ্যমে পর্যটকদের সাজেকে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হঠাৎ সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেরা। বিশেষ করে যারা সকালে সাজেক ভ্রমণ করে বিকেলের মধ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের ভ্রমণসূচিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক শাকিব মামুন জানান, আগে থেকেই তাদের সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল। যাত্রাপথে অবরোধের বিষয়টি জানতে পারেন তারা। আটজনের একটি দল নিয়ে রাতভর ভ্রমণ শেষে খাগড়াছড়িতে পৌঁছালেও নির্ধারিত সময়ে সাজেকের উদ্দেশে রওনা হতে পারেননি। ফলে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক বাবু আহমেদ জানান, অবরোধ সম্পর্কে আগে কোনো তথ্য পাননি। সকালে সাজেক গিয়ে বিকেলে ফিরে আসার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্য পর্যটক মো. মিজানুর রহমানও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পরই পর্যটকবাহী গাড়ি ছাড়ার কথা জানিয়েছেন চালকেরা। খাগড়াছড়ি-সাজেক পর্যটকবাহী গাড়ির কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. আরিফ জানান, সড়ক অবরোধের মধ্যেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত বহরের মাধ্যমে পর্যটকদের সাজেকে পৌঁছে দেওয়া এবং পরদিন একই ব্যবস্থায় খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, রোববার সকাল পর্যন্ত সাজেকের কোথাও অবরোধকারীদের পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অবরোধের কারণে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠন দুটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যরা সাজেক এলাকায় অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতেই এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেকগামী পর্যটকদের যাত্রার আগে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ সময়সূচি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।