বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। এ সময় দুই নেতা জ্বালানি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ফোনালাপের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, আলোচনায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, আলোচনায় বাংলাদেশের চলমান প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ সংকট এবং তা মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়টি উঠে আসে।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়তা করা যায়।
ফেসবুক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম লিখেছেন, “আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।”
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, ফোনালাপে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিয়াটার চলমান বিনিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এমএমসি পোর্টের সঙ্গে সম্ভাব্য কৌশলগত সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আনোয়ারের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ফোনালাপে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন মাত্র এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেন।
গত ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে কুয়ালালামপুর যান তিনি। পরে সেখান থেকে চার দিনের সরকারি সফরে চীন সফরে যান।
মালয়েশিয়া সফরকালে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনি আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একাধিক সমঝোতা ও সহযোগিতা-সংক্রান্ত দলিলে স্বাক্ষর হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর এবং কোনও বিদেশি সরকারপ্রধানের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ শেষ হচ্ছে আজ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত বৈধ প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। তপশিল অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট। এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে দুটি রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী। বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোট রাষ্ট্রপতি পদে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর। গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সেই তফসিল অনুযায়ী আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমুদ্রসৈকত ঘিরে গড়ে উঠেছে আধুনিক পর্যটন নগরী। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরো, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ও পানামা সিটি, স্পেনের বার্সেলোনা, দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান, সিঙ্গাপুর ও দুবাই এর বড় উদাহরণ। এসব নগরীর আদলে কক্সবাজারকে এশিয়ার অন্যতম আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ জন্য ২০ বছর মেয়াদি নতুন মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। সম্প্রতি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কক্সডিএ) এ বিষয়ে মাটি পরীক্ষা করেছে। তবে গবেষণার বিস্তারিত প্রতিবেদন এখনো হাতে পায়নি তারা। এরই মধ্যে সরকারের দুই মন্ত্রী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো। গবেষণা বলছে, কক্সবাজার ও কুয়াকাটা অঞ্চলে বালু, পলি ও নরম সামুদ্রিক মাটির আধিক্য রয়েছে। ফলে ৩০ তলা বা তার বেশি ভবন নির্মাণে শক্ত ভারবহনক্ষম স্তর বা শিলা পর্যন্ত গভীর পাইল ফাউন্ডেশন প্রয়োজন হতে পারে। এতে হাইরাইজ ভবন নির্মাণ অসম্ভব নয়, তবে ব্যয় ও প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ দুটিই বেশি। গত ২৩ জুলাই সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়নে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তও হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও এ সময় সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। কক্সবাজারের ভূ-প্রকৃতি, বন, পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এলাকাভেদে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে সুউচ্চ ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১১-২০৩১ মেয়াদের প্রথম মাস্টারপ্ল্যানে এসব বিধিনিষেধ রাখা হয়। পরে ২০১৬ সালে কক্সডিএ প্রতিষ্ঠিত হলেও আগের মাস্টারপ্ল্যানের শর্ত অনুসরণ করেই নগর উন্নয়নের কাজ চলেছে। তবে ওই বিধিনিষেধের মধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কক্সবাজারে বহু হোটেল ও স্থাপনা গড়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট পরিবেশ ও বন আইনও উপেক্ষিত হয়েছে। এসব স্থাপনা অপসারণে কক্সডিএ উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি। পরে পুরনো মাস্টারপ্ল্যান সংশোধন করে নতুন ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ বলেন, ‘নতুন মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শেষ করতে আরও প্রায় এক বছর লাগবে। কক্সডিএর উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. তানভীর হাসান রেজাউল বলেন, ‘২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এবার সৈকতসহ বিভিন্ন এলাকা জোনিং করে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও বিজ্ঞানসম্মত হবে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ খান বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি মাটির প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। তাই মাটি পরীক্ষা ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। তবে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের উপযোগিতা পাওয়া গেলেও উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’ ১৯৯৯ সালে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার। এসব এলাকায় ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন, দূষণকারী শিল্প স্থাপন, আবাসস্থল ধ্বংস, বন ও গাছপালা কাটা এবং বন্যপ্রাণী শিকারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমিত ভূমির দেশে পরিকল্পিত বহুতল উন্নয়ন প্রয়োজন। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেল ও সড়ক যোগাযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর সমন্বয়ে আধুনিক পর্যটন নগরী গড়ে তোলা হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কক্সবাজারকে পর্যটন ও বাণিজ্যিককেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় এলাকার বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র, নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পানি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার করার লক্ষ্য সরকারের।
বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন সময়কাল করেছে সরকার। এতদিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এপ্রিল–মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।