বিনোদন

সাকিবের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভাঙলেন পরীমনি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৮, ২০২৬
সাকিব ও পরীমনি। ছবি - সংগৃহীত
সাকিব ও পরীমনি। ছবি - সংগৃহীত

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক মাইলফলক গড়লেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় দেশের তারকাদের মধ্যে দীর্ঘদিন শীর্ষস্থান ধরে রাখা জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে এখন সবচেয়ে বেশি অনুসারীর মালিক হয়েছেন তিনি।

 

বর্তমানে পরীমনির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল মিলিয়ে অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি। অন্যদিকে সাকিব আল হাসানের অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফলে প্রায় ১০ লাখ বা ১ মিলিয়ন অনুসারীর ব্যবধানে দেশের সবচেয়ে বেশি ফেসবুক অনুসারীর রেকর্ড এখন পরীমনির দখলে।

 

জানা গেছে, গত বছর পর্যন্ত দুজনের অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় সমান। পরে কিছু সময়ের জন্য আবারও এগিয়ে যান সাকিব আল হাসান। তবে সময়ের সঙ্গে পরীমনির জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাওয়ায় সর্বশেষ পরিসংখ্যানে তিনি সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন।

 

ব্যক্তিগত জীবন, সিনেমার কাজ, দুই সন্তানকে ঘিরে নানা মুহূর্ত এবং বিভিন্ন সামাজিক বার্তা নিয়মিত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন পরীমনি। তার পোস্ট ও লাইভ ভিডিওগুলোও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেই ধারাবাহিক জনপ্রিয়তার প্রতিফলনই দেখা গেল অনুসারীর সংখ্যায়।

 

এর মধ্য দিয়ে ফেসবুকে বাংলাদেশের তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুসারীর নতুন রেকর্ড গড়ে আলোচনায় উঠে এলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
শাকিব ও সাবিলা। ছবি - সংগৃহীত
শাকিবের সঙ্গে রোমান্সে স্বাচ্ছন্দ্যের কথা জানালেন সাবিলা নূর

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর বড়পর্দায় অভিষেকের পর অল্প সময়েই দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় প্রথমবার ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। সেই সিনেমার ‘লিচুর বাগানে’ গানটিতে তাদের রসায়ন দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়। এরপর চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া ‘রকস্টার’ সিনেমায় দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বাঁধেন এই দুই তারকা।   সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং তাদের পর্দার রসায়নের রহস্য নিয়ে কথা বলেন সাবিলা নূর। তিনি বলেন, "এই কৃতিত্ব পুরোপুরি শাকিব খানের। উনি নিজেকে যেভাবে পরিবর্তন করেছেন, সেটা সত্যিই অসাধারণ। ‘প্রিন্স’-এর ট্রেইলার ও লুক দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম।"   মালয়েশিয়ায় ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের একটি স্মৃতিও ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, শুটিংয়ে যোগ দিতে এসে শাকিব খানকে দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। সাবিলা বলেন, 'মালয়েশিয়াতে শুটিংয়ের জন্য শাকিব ভাই যখন এলেন, কয়েক মুহূর্তের জন্য আমি চমকে গিয়েছিলাম। মাত্র সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে নিজেকে এমনভাবে বদলে ফেলেছিলেন যে, তাকে একেবারে তরুণ, টিনেজারদের মতো লাগছিল। এটার কৃতিত্ব পুরোপুরি তার এবং তার টিমের। আমাদের পুরো টিমই ছিল ভীষণ প্রাণবন্ত। সেই পরিবেশ থেকেই পর্দার রসায়নটা এত সুন্দর হয়েছে।'   সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে একাধিক রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করেছেন সাবিলা। এমন দৃশ্যে অভিনয়ের সময় কোনো অস্বস্তি হয়েছিল কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ক্যামেরা রোল হওয়ার পর উনি আর শাকিব খান থাকেন না, আমিও সাবিলা নূর থাকি না। তখন উনি ‘আগুন’ আর আমি ‘মীরা’। চরিত্রের সম্পর্কটাই তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই কোনো দ্বিধা বা অস্বস্তি কাজ করেনি। বরং উনি আমাকে এমন একটি কমফোর্ট জোন দিয়েছেন, যেখানে আমি খুব স্বস্তি নিয়ে রোমান্টিক দৃশ্যগুলো করতে পেরেছি।"   শাকিব খানের পেশাদারিত্বেরও প্রশংসা করেন সাবিলা। তিনি জানান, প্রতিটি দৃশ্যের শট দেওয়ার পর শাকিব তা মনোযোগ দিয়ে প্রিভিউ দেখেন এবং কোথায় কী উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন।   সাবিলা বলেন, 'উনার এই বিষয়টা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। প্রতিটি শটের পর উনি নিজের কাজ বিশ্লেষণ করেন, কোথায় পরিবর্তন দরকার তা খুঁজে বের করেন। এটা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। তাই উনার সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করাটা কখনোই বড় কোনো চ্যালেঞ্জ মনে হয়নি।'   উল্লেখ্য, ‘রকস্টার’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আজমান রুশো। এতে শাকিব খান ও সাবিলা নূরের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, তানজিয়া জামান মিথিলা, সুনিধি নায়েক, পান্থ কানাই এবং তারিক আনাম খান। সিনেমাটি গত ২৮ মে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৮, ২০২৬
জয়া আহসান। ছবি: সংগৃহীত

রিয়েলিটি শোতে অভিষেক হচ্ছে জয়া আহসানের

সাকিব ও পরীমনি। ছবি - সংগৃহীত

সাকিবের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভাঙলেন পরীমনি

গায়ক সৈয়দ অমি ও আঁচল আঁখি। ছবি: সংগৃহীত

আঁচল-অমির জুটিতে আসছে ‘আতা গাছে তোতা পাখি’

সংগৃহীত ছবি
মেয়েকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লক করলেন বলিউড অভিনেত্রীর বাবা

সাবেক স্ত্রী ও অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতা রাজা চৌধুরী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাদের অতীত বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খোলার পাশাপাশি বলিউড অভিনেত্রী মেয়ে পলক তিওয়ারির সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি।    বিয়ের সময় নিজেকে কেবল ‘বিনা বেতনের গৃহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজা। একই সঙ্গে তিনি জানান, মানসিকভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মেয়ে পলককেও ব্লক করে রেখেছেন তিনি।   একটি সাক্ষাৎকারে রাজা জানান, তাদের দাম্পত্যজীবনের শুরুর দিকে উপার্জনের মূল দায়িত্ব সামলাতেন শ্বেতা, আর ঘরের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা থাকত তার ওপর। রাজার কথায়, শ্বেতা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতেন আর তিনি কাজ করতেন একজন সাধারণ ম্যানেজারের মতো, যার কোনো মূল্যায়ন ছিল না। সম্পর্কের এই তিক্ততা এবং বিচ্ছেদের জন্য শ্বেতার মায়ের হস্তক্ষেপকেও দায়ী করেন রাজা। তার দাবি, শ্বেতার মা-ই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন এবং শ্বেতাকে বোঝাতেন যে তার জীবনে রাজার কোনো অবদান বা প্রয়োজন নেই।   বিচ্ছেদের পর জীবন যে কতটা কঠিন হয়ে পড়েছিল, সে কথা বলতে গিয়ে রাজা জানান যে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগেছেন। মেয়েকে দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাকে রিহ্যাবেও চিকিৎসা নিতে হয়। তিনি জানান, পলকের আট বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তাকে প্রতিপালন করেছিলেন, কিন্তু গত ১৮ বছরে তাদের মধ্যে মাত্র দুই থেকে তিনবার কথা হয়েছে। নিজের পুরোনো স্মৃতির কষ্ট এড়াতেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েকে ব্লক করে রেখেছেন, যাতে পলকের কোনো ছবি বা ভিডিও তার সামনে না আসে।   পলক তিওয়ারির ব্যক্তিগত জীবন এবং ইব্রাহিম আলি খানের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজা বেশ উদাসীন মনোভাবই প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তিনি এখন পলকের জীবনে কেবল একজন ‘বায়োলজিক্যাল ফাদার’ বা জন্মদাতা বাবা ছাড়া আর কিছুই নন, তাই পলকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই।   তবে এত দূরত্ব এবং বিবাদের পরও মেয়ের প্রতি দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি বলে দাবি করেন রাজা চৌধুরী। তিনি জানান, পলক তাকে কোনো দিন নিজের জীবনে জায়গা না দিলেও বা বাবা বলে না মানলেও, পলকের যদি কখনো তার প্রয়োজন হয় তবে তিনি দ্বিধা না করে পাশে দাঁড়াবেন। গভীর রাতেও যদি পলক কোনো বিপদে পড়ে তাকে ফোন করে, তবে তিনি সব কিছু ছেড়ে মেয়ের পাশে গিয়ে উপস্থিত হবেন।   উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে শ্বেতা তিওয়ারি ও রাজা চৌধুরীর বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, মদ্যপান ও উত্ত্যক্ত করার মারাত্মক অভিযোগ এনে ২০০৭ সালে আলাদা হয়ে যান শ্বেতা এবং ২০১২ সালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।   প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে সালমান খানের ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখেন পলক তিওয়ারি। এরপর তিনি ‘রোমিও এস৩’, ‘দ্য ভূতনি’ ছবিগুলোতে অভিনয় করেন। সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর ‘লুকখে’ নামক একটি জনপ্রিয় মিউজিক্যাল থ্রিলার ওয়েব সিরিজে তাকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে।  সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৮, ২০২৬

বিজয়-রজনীকান্তের পর এবার কি রাজনীতিতে পা রাখছেন ধানুশ?

বিচ্ছেদের গুঞ্জন উড়িয়ে একসঙ্গে নিউইয়র্কের রাস্তায় অভিষেক-ঐশ্বরিয়া

সংগৃহীত ছবি

মাকে হারালেন অস্কারজয়ী দুই অভিনেতা ভাই

আজমেরী হক বাঁধন ও 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' সিনেমার দৃশ্য । ছবি - সংগৃহীত
বিশ্বমঞ্চে দেশের সিনেমা: ভেনিস উৎসবে বাংলাদেশের 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ আরও একবার উজ্জ্বল করতে যাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের নতুন চলচ্চিত্র 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' এবার নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরের অরিজোন্তি কমপিটিশন বিভাগে। আর এই সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন।     এটি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান করে নিয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া উৎসবে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে।     দুই দশকের দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন নির্মাণ করেছেন 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'। ২০০৬ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে গল্পটি নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ দেন তিনি। চিত্রনাট্য নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক ফান্ড।     সিনেমার গল্পে উঠে এসেছে এক তরুণীর জীবনসংগ্রাম। রূপকথার মতো বিয়ের স্বপ্ন দেখা সেই তরুণী এক জটিল রোগে আক্রান্ত। সুস্থতার জন্য নানা ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেও ব্যর্থ হলে তার মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। একসময় একটি বিউটি পার্লারে গিয়ে সে কল্পনায় দেখতে শুরু করে লম্বা চুলের এক রহস্যময় নারীকে।     সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত জাইনীন করিম। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ তিনটি চরিত্রে রয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু এবং সুনেরাহ বিনতে কামাল। আরও অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী।     চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন পর্তুগিজ নির্মাতা লিওনর টেলস। বিভিন্ন বিভাগের কাজেও যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক কলাকুশলীরা। রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল ও নরওয়ের প্রযোজকেরা।     ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রুবাইয়াত হোসেন বলেন, ‘দেশের সিনেমা দিয়ে ভেনিসে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি, এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের। এটা আমার স্বপ্নপূরণের গল্প। আমি চাই, দেশের সিনেমা আরও ভালো জায়গায় যাক।‘     আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের অভিনীত সিনেমা জায়গা পাওয়াতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগেও নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এবার 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'–এর মাধ্যমে ভেনিসের মতো মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিনি, যা দেশের চলচ্চিত্রের জন্যও একটি নতুন মাইলফলক।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৫, ২০২৬
চীনা অভিনেত্রী তাং ওয়েই। ছবি - সংগৃহীত

দ্বিতীয়বার মা হলেন ৪৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আতিফ আসলামের সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক, আয়োজকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

আতিফ আসলামের ঢাকা কনসার্ট ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সংগীতশিল্পী মুহিন খান

0 Comments