বিশ্ব

ইউরোপে চার বছরে দাবানল ৫৭ শতাংশ বেড়েছে: ডব্লিউএইচও

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

ইউরোপজুড়ে দাবানলের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে ইউরোপ অঞ্চলে দাবানলের ঘটনা ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে দাবানল আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

 

এ গ্রীষ্মে ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, স্পেন ও পর্তুগালে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স ও ইতালিতে আগুন নেভানোর সময় কয়েকজন দমকলকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে।

 

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জুলাই পর্যন্ত ইউরোপে ১ হাজার ২৫৪টি দাবানল শনাক্ত হয়েছে। এসব আগুন থেকে ৮৩ লাখ ১০ হাজার টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়েছে।

 

পর্তুগাল ও স্পেনে চলতি বছর একই সময়ের তুলনায় দাবানলের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ইউরোপীয় বন দাবানল তথ্যব্যবস্থা (ইএফএফআইএস) জানিয়েছে, গত বছর প্রায় ২২ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে যায়। আর চলতি বছরের ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ডব্লিউএইচও ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক হান্স হেনরি পি. ক্লুগে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব আরও উষ্ণ হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ দাবানলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

 

তিনি বলেন, দাবানলের ক্ষতি শুধু আগুনে পুড়ে যাওয়া এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আগুনের ধোঁয়া শত শত কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়ে বায়ুদূষণ বাড়ায় এবং হৃদ্‌রোগ, শ্বাসকষ্ট ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

 

ডব্লিউএইচও সরকারগুলোর প্রতি দ্রুত দাবানল, আবহাওয়া ও বায়ুর মান সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং ধোঁয়ার মধ্যে বাইরে যেতে হলে সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর কানাডার শুল্ক কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।   মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হয়। পণ্যের ধরন অনুযায়ী শুল্কের হার ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ। যন্ত্রপাতি, বস্ত্র ও ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।   নতুন পাল্টা শুল্কের আওতায় রয়েছে ইস্পাত, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম ও দুগ্ধজাত পণ্যসহ ৭০০টির বেশি পণ্য।   আগস্টের শেষ দিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছিলেন, কানাডা ওয়াশিংটনের নতুন শুল্কের সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে। কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতেই ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   এর আগে জুলাইয়ে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের সঙ্গে কানাডার ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।   এরপর আগস্টে দুই দেশ বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা শুরু করে। তবে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে।   কানাডা সরকার জানিয়েছে, নতুন পাল্টা শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও মাঝারি ব্যবসা এবং শ্রমিকদের জন্য ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ দেওয়া হবে।   কানাডার শুল্ক কার্যকরের আগের দিন ট্রাম্প কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ার বিমান যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিমান উৎপাদন শুরু না করলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।   দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ এখন শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এরই মধ্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারের জন্য অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশও দিয়েছেন।   কানাডার পাল্টা শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতাদের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির সবচেয়ে বড় ক্রেতা।   এদিকে কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে দেশটির ৫৫০ ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির এক প্রতিবেদনের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, শুল্কের মোট আর্থিক বোঝার প্রায় ৯৬ শতাংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক ও ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

রাশিয়ার ককেশাসে তুষারধসে নিহত ১১, নিখোঁজ ৬

৭৫০ মিলিয়ন ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স কিনছে সুইডেন

শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগেই চীনের বাণিজ্যে জোয়ার

‘বাঙালি মাছ-মাংস খাবেই’, বাঘেশ্বর বাবাকে রাজ্য বিজেপির জবাব

দুর্গাপূজার সময়ে বাঙালিদের আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে ধর্মীয় বক্তা বাঘেশ্বর বাবা বা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পূজার সময়ে বাঙালিরা কী খাবেন তা ঠিক করে দেওয়ার কোনও অধিকার এই ধর্মীয় বক্তার নেই।   তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার অনুমতি না পাওয়া বাঘেশ্বর ধাম-এর প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে সম্প্রতি বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে বেশ জাঁকজমকভাবে স্বাগত জানানো হয়। রবিবার হাওড়ায় এক ধর্মীয় আলোচনায় তিনি উৎসব চলাকালে মণ্ডপের কাছাকাছি আমিষ খাবার বিক্রি বন্ধের দাবি জানান এবং রাজ্যবাসীকে নবরাত্রি পালনের আহ্বান জানান।   সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল লাইট জ্বালিয়ে জনসমর্থন চেয়ে বাঘেশ্বর বাবা বলেন, কারা আমিষ বিক্রি বন্ধ দেখতে চান? মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে তা দেখান। এই বার্তাটি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার এবং সরকারকে সচেতন করা প্রয়োজন। দুর্গাপূজার সময় পশ্চিমবঙ্গে মাংস ও মদের দোকান বন্ধ থাকা উচিত। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘যারা দুর্গাপূজার সময় আমিষ খাবার খান, তারা অপবিত্র’।   ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্যজুড়ে চরম বিতর্কের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টিকে বাঙালির দীর্ঘদিনের খাদ্যভ্যাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেন।   বিতর্কের মুখে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বাঘেশ্বর বাবা ‘অন্য দুনিয়া’ থেকে এসেছেন এবং তার কথায় বাঙালিদের বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, বাঘেশ্বর বাবার কোনও অধিকার নেই যে তিনি ঠিক করবেন বাংলার মানুষ কী খাবেন আর কী খাবেন না। বাঙালি মাছ ও মাংস খাবেই। স্বামী বিবেকানন্দও বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। বাঘেশ্বর বাবার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে, তবে তার এই মন্তব্যে বাঙালিদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।   বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায় প্রশ্ন তুলে বলেন, বাইরে থেকে এসে কেউ যদি সব ঠিক করে দিতে চায়, তবে বাংলার মানুষের স্বাধীনতা কোথায় থাকবে? দুর্গাপূজা কমিটিগুলো মান্যতানুযায়ী যেভাবে পূজা করতে চায় সেভাবেই করবে। এখানে বাঘেশ্বর বাবা কোত্থেকে আসেন?   পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির মুখপাত্র সুমন রায় চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজার সময়ে বাঙালি কী খাবে, তা বিজেপির কোনও ‘বাবা’ ঠিক করে দিতে পারেন না। আমরা এটি হতে দেব না।    সূত্র: এনডিটিভি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ভলকার তুর্ক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ভলকার তুর্ক

আসাদ আমলের ‘গোপন’ পরমাণু স্থাপনা প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল: গ্রোসি

ইরানের বিরুদ্ধে জয়ের পর তেলের দাম ‘হু হু করে’ কমবে: ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি
কঠোর শর্তে ১৬ দেশের কর্মীদের সহজ কর্মসংস্থান সুবিধা দিচ্ছে ডেনমার্ক

বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন একটি অভিবাসন পথ চালু করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।     এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ১৬টি দেশের নাগরিকদের ডেনমার্কে কাজের সুযোগ দিতে পারবেন যোগ্যতাসম্পন্ন নিয়োগকর্তারা। খবর এনডিটিভি     অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থাটি বিদেশি কর্মী নিয়োগে ডেনিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ আরো বাড়াবে। চীন, জাপান, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, মলদোভা, মন্টেনেগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়ার নাগরিকরা এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেনের নাগরিকরাও এই কর্মসংস্থান ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।     তালিকায় রয়েছে আলবেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও কানাডার নামও। এসব দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য ডেনমার্কে চাকরি ও ক্যারিয়ার গড়ার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।     নতুন এই অভিবাসন পথ ডেনমার্কের সব নিয়োগকর্তার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে হলে প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।     প্রথমত, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাসঙ্গিক কোনো যৌথ শ্রমচুক্তির আওতায় থাকতে হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অন্তত দুই বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ডেনমার্কে ওই প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০ জন পূর্ণকালীন কর্মীও থাকতে হবে।   শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের ডেনিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণের একটি সনদ পাবেন।     সনদ পাওয়ার পরই নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা যাবে। নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগ পাওয়া বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বার্ষিক বেতন ৩ লাখ ২২ হাজার ড্যানিশ ক্রোনার হতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

দিল্লিতে ভবন ধসের কারণ জানাল কর্তৃপক্ষ

নেপালে জাতীয় শোক, বন্যায় উদ্ধার ১,৩৪২ মরদেহ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে এই প্রথম কট্টর ডানপন্থি দল এএফডির জয়

0 Comments