আগ্নেয়গিরি থেকে উত্তপ্ত লাভা, ছাই এবং ধোঁয়া বেরোনোর কথা সবাই জানেন। কিন্তু স্বর্ণ? দুর্মূল্য সেই ধাতুও বের হচ্ছে আগ্নেয়গিরি থেকে। দু-এক গ্রাম নয়, প্রতিদিন অন্তত ৮০ গ্রাম।
এন্টার্কটিকার দক্ষিণে রস সমুদ্রের ভেতরে রস দ্বীপে রয়েছে মাউন্ট এরেবাস আগ্নেয়গিরি। ভৌগোলিকভাবে চিহ্নিত পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু থেকেও আরও ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এটি। মাউন্ট এরেবাসকে পৃথিবীর দক্ষিণতম প্রান্তের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলা হয়। বরফের মধ্যে থেকেও এই পাহাড়কে ঘিরে রয়েছে ফুটন্ত লাভার হ্রদ। সেখানেই পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল থেকে প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে স্বর্ণ। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, একেবারে নিখাদ খাঁটি স্বর্ণ।
যে কোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকেই প্রায় অনবরত গ্যাস, ধোঁয়া, ধুলো এবং লাভা বেরোতে থাকে। মাউন্ট এরেবাসের গ্যাসের মধ্যে স্ফটিকাকার মৌলিক স্বর্ণের অতিসূক্ষ্ম কণাগুলো বিজ্ঞানীদের বহু দিন ধরে ভাবাচ্ছে। আগ্নেয়গিরিটি নিয়ে গবেষণা হয়েছিল ১৯৯১ সালে। তার ফল ‘জিয়োফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস’ নামে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সেখানেই প্রথম বলা হয়েছিল, দিনে ৮০ গ্রাম করে স্বর্ণ উগরে দেয় এরেবাস। আণুবীক্ষণিক সেই স্বর্ণকণা অন্তত এক হাজার কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, লেগে থাকে বরফের গায়ে।
তবে আগ্নেয়গিরি থেকে স্বর্ণ নিঃসরণ নতুন কিছু নয়। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কিলাউয়েয়া কিংবা ইতালির এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন কিংবা মেক্সিকোর এল শিশন আগ্নেয়গিরি থেকে নিঃসৃত পদার্থেও স্বর্ণের খোঁজ মিলেছে। সেখান থেকে প্রতিদিন আরও বেশি স্বর্ণ নির্গত হয়। তবে মাউন্ট এরেবাসের আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। এর আগে কখনো কোনো আগ্নেয়গিরি থেকে স্ফটিকাকারে মৌলিক স্বর্ণের কণা বেরোতে দেখা যায়নি। কীভাবে তা উত্তপ্ত ম্যাগমার স্তর পেরিয়ে অক্ষত অবস্থায় বাইরে আসছে, সেটাই রহস্য। বিজ্ঞানীরা এর একাধিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে একমত হতে পারেননি কেউ।
আমেরিকার নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির ভূ-রসায়নবিদ কিম্বারলি মিকার এবং তার দলের মতে, এরেবাসে স্বর্ণ এমন আচরণ করছে, যা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এই গবেষকদলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এরেবাসের জ্বালামুখের চারপাশের বরফ, লাভা হ্রদ থেকে ওঠা গ্যাসের কুণ্ডলী এবং আগ্নেয়গিরি থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে এন্টার্কটিকার ট্রপোস্ফিয়ার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। তিনটি ক্ষেত্রেই নমুনায় স্বর্ণের ক্ষুদ্র কণা পাওয়া গেছে।
গবেষকদের একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লাভার সঙ্গে বেরিয়ে আসা ক্লোরিনযুক্ত যৌগের মাধ্যমে স্বর্ণ বাইরে আসে। তারপর গ্যাস ঠান্ডা হলে স্বর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষমেশ এন্টার্কটিকার সুবিস্তৃত বরফের গায়ে জমা হতে থাকে।
নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কাইল পরে আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের গবেষকদলের সদস্য ছিলেন তিনি। তার মতে, লাভা হ্রদের ওপরের স্তরে স্বর্ণ ধীরে ধীরে জমা হয়। তারপর গ্যাসের সঙ্গে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই তত্ত্বের সঙ্গেও সবাই পুরোপুরি একমত হতে পারেননি। ৩০ বছর ধরে তাই রহস্যের নাম মাউন্ট এরেবাস। এখনো সমাধান খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আগ্নেয়গিরি থেকে উত্তপ্ত লাভা, ছাই এবং ধোঁয়া বেরোনোর কথা সবাই জানেন। কিন্তু স্বর্ণ? দুর্মূল্য সেই ধাতুও বের হচ্ছে আগ্নেয়গিরি থেকে। দু-এক গ্রাম নয়, প্রতিদিন অন্তত ৮০ গ্রাম। এন্টার্কটিকার দক্ষিণে রস সমুদ্রের ভেতরে রস দ্বীপে রয়েছে মাউন্ট এরেবাস আগ্নেয়গিরি। ভৌগোলিকভাবে চিহ্নিত পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু থেকেও আরও ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এটি। মাউন্ট এরেবাসকে পৃথিবীর দক্ষিণতম প্রান্তের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলা হয়। বরফের মধ্যে থেকেও এই পাহাড়কে ঘিরে রয়েছে ফুটন্ত লাভার হ্রদ। সেখানেই পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল থেকে প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে স্বর্ণ। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, একেবারে নিখাদ খাঁটি স্বর্ণ। যে কোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকেই প্রায় অনবরত গ্যাস, ধোঁয়া, ধুলো এবং লাভা বেরোতে থাকে। মাউন্ট এরেবাসের গ্যাসের মধ্যে স্ফটিকাকার মৌলিক স্বর্ণের অতিসূক্ষ্ম কণাগুলো বিজ্ঞানীদের বহু দিন ধরে ভাবাচ্ছে। আগ্নেয়গিরিটি নিয়ে গবেষণা হয়েছিল ১৯৯১ সালে। তার ফল ‘জিয়োফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস’ নামে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সেখানেই প্রথম বলা হয়েছিল, দিনে ৮০ গ্রাম করে স্বর্ণ উগরে দেয় এরেবাস। আণুবীক্ষণিক সেই স্বর্ণকণা অন্তত এক হাজার কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, লেগে থাকে বরফের গায়ে। তবে আগ্নেয়গিরি থেকে স্বর্ণ নিঃসরণ নতুন কিছু নয়। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কিলাউয়েয়া কিংবা ইতালির এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন কিংবা মেক্সিকোর এল শিশন আগ্নেয়গিরি থেকে নিঃসৃত পদার্থেও স্বর্ণের খোঁজ মিলেছে। সেখান থেকে প্রতিদিন আরও বেশি স্বর্ণ নির্গত হয়। তবে মাউন্ট এরেবাসের আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। এর আগে কখনো কোনো আগ্নেয়গিরি থেকে স্ফটিকাকারে মৌলিক স্বর্ণের কণা বেরোতে দেখা যায়নি। কীভাবে তা উত্তপ্ত ম্যাগমার স্তর পেরিয়ে অক্ষত অবস্থায় বাইরে আসছে, সেটাই রহস্য। বিজ্ঞানীরা এর একাধিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে একমত হতে পারেননি কেউ। আমেরিকার নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির ভূ-রসায়নবিদ কিম্বারলি মিকার এবং তার দলের মতে, এরেবাসে স্বর্ণ এমন আচরণ করছে, যা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এই গবেষকদলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এরেবাসের জ্বালামুখের চারপাশের বরফ, লাভা হ্রদ থেকে ওঠা গ্যাসের কুণ্ডলী এবং আগ্নেয়গিরি থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে এন্টার্কটিকার ট্রপোস্ফিয়ার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। তিনটি ক্ষেত্রেই নমুনায় স্বর্ণের ক্ষুদ্র কণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লাভার সঙ্গে বেরিয়ে আসা ক্লোরিনযুক্ত যৌগের মাধ্যমে স্বর্ণ বাইরে আসে। তারপর গ্যাস ঠান্ডা হলে স্বর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষমেশ এন্টার্কটিকার সুবিস্তৃত বরফের গায়ে জমা হতে থাকে। নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কাইল পরে আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের গবেষকদলের সদস্য ছিলেন তিনি। তার মতে, লাভা হ্রদের ওপরের স্তরে স্বর্ণ ধীরে ধীরে জমা হয়। তারপর গ্যাসের সঙ্গে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই তত্ত্বের সঙ্গেও সবাই পুরোপুরি একমত হতে পারেননি। ৩০ বছর ধরে তাই রহস্যের নাম মাউন্ট এরেবাস। এখনো সমাধান খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।
দাঁতের যত্ন সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দোকানে বা সুপারশপে পণ্যের সারিতে দেখা মেলে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্ট। এসব পণ্য বেছে নেওয়ার সময় অধিকাংশ মানুষ সাধারণত এর উপাদান, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং কখনো কখনো স্বাদের বিষয় বিবেচনা করেন। টুথপেস্টের গায়ে সাধারণত লেখা থাকে—দাঁত সাদা করা, দাঁতের ক্ষয় রোধ, টার্টার নিয়ন্ত্রণ, মুখের দুর্গন্ধ দূর করা ইত্যাদি। তবে টিউবের নিচে থাকা রঙিন দাগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভুল তথ্য ছড়িয়ে আছে। টুথপেস্টের টিউবের নিচে সাধারণত বিভিন্ন রঙের ছোট দাগ বা বার দেখা যায়। অনেকের ধারণা, এসব রঙ টুথপেস্টের উপাদান সম্পর্কে তথ্য দেয়। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য অনুযায়ী, টুথপেস্টের টিউবের নিচের ছোট রঙিন চিহ্ন দেখে এর উপাদান সম্পর্কে জানা যায়। এই দাবি অনুযায়ী—সবুজ রঙ মানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক; নীল রঙ মানে প্রাকৃতিক ও ওষুধযুক্ত; লাল রঙ প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ; কালো রঙ সম্পূর্ণ রাসায়নিক। কিন্তু বাস্তবে এই তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। টিউবের নিচের রঙিন চিহ্ন টুথপেস্টের ফর্মুলা বা উপাদানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় এই চিহ্ন তৈরি করা হয়। আলো শনাক্তকারী সেন্সর এই চিহ্ন পড়ে মেশিনকে জানায় কোথায় প্যাকেট কাটা, ভাঁজ বা সিল করতে হবে। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক পোর্টাল হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আসলে টুথপেস্টের টিউবের নিচের এই রঙিন দাগগুলোর সঙ্গে এর উপাদানের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো শুধু টুথপেস্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি চিহ্ন, যা প্যাকেজিংয়ের সময় মেশিনকে কাটিং, ভাঁজ বা সিল করার জায়গা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোলগেট জানিয়েছে, টুথপেস্টের কালার-কোডিং সিস্টেম বলতে বাস্তবে কিছুর অস্তিত্ব নেই। ওরাল কেয়ার কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে বা উপাদান লুকাতে এই চারকোনা দাগ ব্যবহার করে না। এগুলো কেবল উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র। বিশ্বজুড়ে গুজব ও ভুয়া খবর উন্মোচনকারী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম স্নোপস এবং বার্তা সংস্থা এএফপি ফ্যাক্ট-চেক এই দাবিটিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ইন্টারনেট হক্স’ বা গুজব হিসেবে প্রমাণ করেছে। তারা উৎপাদনকারী ডাই-কাটিং ও প্যাকেজিং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার নিয়ে দেখিয়েছে, প্যাকেজিং মেশিনের লাইট বিম সেন্সরকে সংকেত দেওয়ার জন্যই এই দাগ বা ‘আই মার্ক’ প্রিন্ট করা হয়। বিজ্ঞানভিত্তিক ম্যাগাজিন সায়েন্টিফিক আমেরিকান এই গুজবের একটি বড় বৈজ্ঞানিক ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। গুজবে বলা হয় ‘কালো মানে সম্পূর্ণ কেমিক্যাল’। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পৃথিবীর প্রতিটি প্রাকৃতিক উপাদানই (এমনকি পানি এবং বাতাসও) এক একটি রাসায়নিক বা কেমিক্যাল। তাই প্রাকৃতিক বনাম কেমিক্যালের এই বিভাজনটিই সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই চিহ্ন বিভিন্ন রঙের হতে পারে। শুধু সবুজ, নীল, লাল বা কালো নয়—বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিং, সেন্সর ও মেশিন অনুযায়ী আলাদা রঙ ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ এসব রঙের আলাদা কোনো অর্থ নেই। শিল্পখাতের সেন্সর উৎপাদনকারী ব্র্যান্ড এক্সএসজেডের মতে, সেন্সর মূলত মানুষের চোখের মতো রঙ চেনে না। এটি মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড এবং প্রিন্টেড মার্কের মধ্যকার ‘গ্রে-স্কেল কন্ট্রাস্ট’ বা আলোর তীব্রতার তারতম্য মেপে কাজ করে। টিউবের সাদা অংশ থেকে গাঢ় রঙের আই মার্কের ওপর আলো পড়া মাত্রই আলো প্রতিফলনের এই বড় পরিবর্তন বা ‘ব্রাইটনেস ডেল্টা’ দেখে সেন্সরটি তাৎক্ষণিকভাবে একটি ইলেক্ট্রিক্যাল সুইচিং সিগন্যাল তৈরি করে মেশিনের মূল প্রসেসরে পাঠিয়ে দেয়। ফলে প্রতি মিনিটে হাজার হাজার প্যাকেট নির্ভুলভাবে প্রসেস করতে সাহায্য করে। এএফপি ফ্যাক্ট-চেককে গ্লোবাল কসমেটিকস ফার্ম ‘অ্যাভন’-এর সিনিয়র প্যাকেজিং ইঞ্জিনিয়ার জোনাথন কুসু নিশ্চিত করেছেন, সিলিন্ডার আকৃতির টিউবগুলোর ডিজাইন যেন একদম ঠিক মাঝখানে থাকে এবং কাটিং রোবট যেন নিখুঁত পজিশন পায়, সেজন্যই এই অপটিক্যাল সেন্সর ট্র্যাকিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। টুথপেস্টে কী উপাদান রয়েছে তা জানতে হলে টিউব বা প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদানের তালিকা পড়তে হবে। বেশিরভাগ টুথপেস্টে সাধারণত নিচের উপাদানগুলো থাকে—টুথপেস্ট খোলার পর যাতে শক্ত হয়ে না যায়, সে জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ: গ্লিসারল ও সরবিটল। এছাড়া দাঁতের ময়লা ও খাবারের কণা দূর করা এবং দাঁত পালিশ করতে এটি ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ—ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও সিলিকা। টুথপেস্টের টিউবের নিচের রঙিন দাগের সঙ্গে এর উপাদানের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার সময় এই রঙ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। টুথপেস্ট কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদনের সিল, মেয়াদ, উপাদানের তালিকা এবং নিজের পছন্দের স্বাদের বিষয় বিবেচনা করা উচিত। টুথপেস্ট নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও হতাহতদের ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। অভিভাবকদের বক্তব্য হলো, এ ঘটনায় সরকার যে ক্ষতিপূরণ দিতে চাইছে, তা ‘অপ্রতুল’। আহত অনেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচই এর কয়েক গুণ। অন্যদিকে, সরকারের তরফ থেকেও নতুন করে এ নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সবমিলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দিন কাটছে হতাশা আর বিষণ্ণতায়। কী ঘটেছিল সেদিন ২০২৫ সালের ২১ জুলাই, দিনটি ছিল সোমবার। দুপুরে সোয়া ১টা নাগাদ ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের জঙ্গিবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহুর্তেই এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে যায় ছোট্টো শিশুদের কোমল শরীর। এ ঘটনায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু। সেদিন প্রাণ হারান উড়োজাহাজের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও। সরকারি হিসাবে অবশ্য নিহতের সংখ্যা ৩৫; আহতের সংখ্যা ৬৪। এ ঘটনার একদিন পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেন। এই রিট আবেদনে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারকে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। রিট আবেদন আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্তে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে নিহতদের পাঁচ কোটি করে এবং আহতদের এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করা হয়েছিল। কয়েক দফা বৈঠকের পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ, অর্থসহায়তা ও চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর একটি সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সভায় আহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ এবং নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা করে আহতদের ৬৪ জন পাবে ৩ কোটি ২০ লাখ এবং ২০ লাখ টাকা করে নিহতদের ৩৫ পরিবার পাবে সাত কোটি টাকা। ক্ষতিপূরণ ‘অপ্রতুল’ রিট চলাকালীন সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর বাধ সাধেন ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, ক্ষতিপূরণের এই অর্থ ‘বাস্তবসম্মত’ নয়। এ নিয়ে সরকারের তরফেও ‘দেন-দরবার’ চলে। তবে, পুরো বিষয়টি এখন পর্যন্ত অমীমাংসিত। মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির নিহত শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “না, আমরা সেটি (ক্ষতিপূরণের অর্থ) নিইনি। আমাদের পৃথিবী, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ চলে গেছে; তার বিনিময় কী ২০ লাখ টাকা হতে পারে? এটা আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন। “একটা আহত বাচ্চার মূল্য কী ৫ লাখ টাকা হইতে পারে বলেন? এটা কোনোভাবে হয়? এটা কি মানবিক? তাই আমরা নিইনি এবং আমরা আবেদন করেছি সরকারের কাছে।” তিনি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে চিঠি দিয়েছে, অনুরোধ করেছে যে, আমরা যেন এটা গ্রহণ করি। তো আমরাও উনাদেরকে অনুরোধ করেছি। অনুরোধের মাধ্যমেই আমরা অ্যাপ্লিকেশনটা দিয়েছি।” “সরকারের কাছে চেয়েছি যে আমাদের একটা রিট আবেদন হয়েছে, এই রিট আবেদনটা যেন সরকার বাস্তবায়ন করে দেন। আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া-পাওয়া হচ্ছে, আমাদের ‘মানবিক প্রধানমন্ত্রীর’ সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ। আমরা যেন উনার কাছে আমাদের কথাগুলো তুলে ধরতে পারি, এটা আমাদের বড় চাওয়া এখন। নিহত চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার কানন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু আমরা এক টাকাও ছুঁই নাই। স্কুলের ওই গাফিলতির পর তারা টাকার অঙ্ক ধরে মীমাংসা করতে চাইছিল। “কিন্তু টাকা দিয়ে আমি কী করব? সারা দুনিয়া এনে দিলেও কি আমার আয়মান ফিরে আসবে? আমি তো বলেছিলাম, আমি উল্টো টাকা দেই, আমার আয়মানকে এক সেকেন্ডের জন্য আমার বুকে এনে জড়িয়ে ধরতে দেন!” এ ঘটনায় আহত চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম আবিদের বাবা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসলে এটা অনেক আগে থেকেই সরকারের থেকে ঘোষণা আসছে, এবং লাস্ট ২৪ তারি খে আমাদের স্কুল থেকে ডেকেছিল যে, সরকার থেকে এই টাকাটা দেওয়া হবে। “আপনারা যদি নিতে চান, তাহলে আজকের মধ্যেই কনফার্ম করতে হবে। না হলে এটা আবার রিটার্ন যাবে, ব্যাক যাবে। তো যাইহোক, এটা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একটা সংগঠন আছে। তো আমাদের সবার পক্ষ থেকেই এইটা গ্রহণ করা হয়নি। সমস্ত অভিভাবকের পক্ষ থেকে এটা নেওয়া হয়নি।” কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আসলে ওদের ওদের ক্ষতির তুলনায় এটা সামান্য। এই যে পাঁচ লাখ টাকা, এটা হয়ত ওর কয়েক দিনের চিকিৎসার খরচ। এসব দিক বিবেচনা করে এটা নেওয়া হয়নি। কারণ আমাদের একটা টার্গেট ছিল যে, একটা রিট আবেদন যে করা আছে, সেটার বাস্তবায়ন আমরা চাচ্ছিলাম।” রিটে বিষয়গুলো আমলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তো আসলে সরকার এটা ঘোষণা করছে এটা এককালীন দেওয়া হবে। এককালীন সরকার দিয়েই এটা পার পেয়ে যাবে, আমরা আসলে এভাবে চাইনি। তো আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে, আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে একটা দাবি যে, এটা রিট আবেদনটা যেন বাস্তবায়ন হয়। রিট আবেদনের যেসব পয়েন্ট আছে, সেটা যেন বাস্তবায়ন হয়। একজনও ক্ষতিপূরণ নেয়নি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরুন নবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সবাই আন্তরিক ছিলেন এবং সহমর্মিতা, সমবেদনা সবকিছু জানিয়েছেন। কিন্তু একটা কমিটি করে দিয়েছিল, সেখানে আমি বেশ কয়েকবার উনাদের সঙ্গে দেখা করেছি। যে আর্থিক সাহায্যটা করা হয়েছে, সেটা পর্যাপ্ত নয়। অভিভাবকরা তো সন্তুষ্ট হয় নাই, বিশেষ করে আহত বাচ্চাদের বেলায়।” তিনি বলেন, “যে এয়ারক্রাফটটা ক্র্যাশ করেছে, এটার ডিজেল ইজ সো পাওয়ারফুল। যেখানে লেগেছে, জ্বলে গেছে একবারে। একবার অপারেশন করলে ঠিক হয়ে গেল, তিন মাস পরে আবার ওই জায়গায় পচন ধরে, আবার অপারেশন করা লাগে। ইটস ভেরি এক্সপেন্সিভ, ভেরি এক্সপেন্সিভ।” তিনি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদেরকে অনেকবার বলেছে টাকাটা গ্রহণ করার জন্য, কিন্তু অভিভাবকরা যেহেতু টাকাটা নিতে রাজি হয় নাই, যার ফলে আমরা টাকাটা গ্রহণ করি নাই। একজনও গ্রহণ করে নাই।” ক্ষতিপূরণ দেবে কোন মন্ত্রণালয়? দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে যে কমিটি হয়েছিল, তাতে নেতৃত্ব দেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার জানামতে আমাদের ধার্য্য করা ক্ষতিপূরণ কম বিবেচনায় ভুক্তভোগীরা তা নিতে চাননি। তাদের সঙ্গে আমাদের শেষ পর্যায়ে আর আনুষ্ঠানিকভাবে বসা হয় নাই। ফলে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে গিয়েছিল। নতুন সরকার এই বিষয়ে আর কিছু করেছে কিনা আমার জানা নেই। আমরা কিন্তু চিকিৎসার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” প্রাথমিকভাবে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থছাড়ের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে অভিভাবকরা নিতে না চাওয়ায় সেটি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েই যায়৷ কোন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে কারা ক্ষতিপূরণের অর্থ দেবেন জানতে চাইলে রিজওয়ানা বলেন, “কে দিবে এটা নিয়ে কনক্লুসিভ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অভিভাবকরা শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিল। আমার নেতৃত্বে সেসময় শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এটুকু দেওয়া হবে। “কিন্তু, টাকাটা কোন মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে, সেরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে আমার মনে পড়ছে না। প্রথম তো আর্থিক অঙ্কটাতে সম্মতিতে দিতে হবে, তারপরে তো সিদ্ধান্ত হবে। নতুন সরকারও কোনো উদ্যোগ নেয়নি ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার’ নামে নিহত-আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের একটি সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “আমাদের চাওয়াটা হচ্ছে মূলত, এখন যদি বলি, যে রিট আবেদনটা করা আছে, রিটের বাস্তবায়নটা করুক সরকার। অথবা তদন্ত কমিশন থেকে যে রিপোর্টটা দিয়েছিল, ওটা পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশ করুক এবং ওখানেও কিন্তু কম্পেনসেশনের বিষয়টা আছে।” তিনি বলেন, “সেটাও তো আমাদেরকে যদি ডাকে, ডেকে যদি বলে যে আমাদের দেশের এই পরিস্থিতিতে আপনাদেরকে আমরা এইটা দিচ্ছি বা এই এই সুযোগ সুবিধাগুলো দিতে পারব, এগুলা দিতে পারব না। সেটা আলাপ-আলোচনার ভিতরেও তো অনেকে বুঝাতে পারে, তাই না? এখন আপনি আমার সঙ্গে কথাই বললেন না, কিছুই না। আপনি বললেন যে, আচ্ছা তোমার জন্য আমি ২ টাকা রাখছি, এটা নিয়ে যাও।” নাজমুল বলেন, “এটা তো আসলে কেমন দেখায় না? একটা সমবেদনার জায়গাটাও তো দরকার আছে। ৮ থেকে ১০ জন বাচ্চা এরকম আছে যাদের অবস্থা গুরুতর। দফায়-দফায় অপারেশন করা লাগছে। পাঁচ লাখ টাকায় তো ওর কিছুই হবে না। “অনেকে এরকম আছে যে, যার একটাই বাচ্চা ছিল, তার কেউই নাই আর পৃথিবীতে। এমন সিঙ্গেল মাদারও আছে, যেমন আরিয়ান আফিফ, ওর মা একা, তার একটাই ছেলে। আফিফ কিন্তু এখনো ভালো করে দাঁড়াইতে পারে না, ও হাঁটতেও পারে না। ওকে আপনি ৫ লাখ টাকা দিলে ওর জীবন কি চলবে এই ৫ লাখ টাকায়?” নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বিষয়ে কেউ যোগাযোগ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে এই নতুন সরকার আসার পর ওভাবে কেউই যোগাযোগ করে নাই। আমরা চেষ্টা করেছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের এই কমিটি থেকেও একজনকে নিয়ে এবং স্কুলের উপদেষ্টা যে আছে নূরন্নবী স্যার, উনাকে নিয়ে পর্যন্ত একাধিক মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পর্যন্ত গিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি।” সার্বিক বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।