জাতীয়

কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে ‘জাতীয় শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার’ চালুর আশ্বাস দিলেন মির্জা ফখরুল

আক্তারুজ্জামান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের কৃষকদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানের কারণে কৃষি খাত আজও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং উৎসাহিত করতে বিশেষ স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

 

নিজের কৃষক পরিবারের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি কৃষকদের জীবনসংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং সবসময় তাদের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। অতীতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি স্মরণ করেন।

 

ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং খাল খননের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তাদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

 

তিনি আরও বলেন, স্বল্প বেতনে কর্মরত ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিজ নিজ জেলায় পদায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

 

সভায় কৃষি খাতের উন্নয়ন, কৃষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

প্রবাসীদের মেধা-দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।   শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ওই সম্মেলনের আয়োজন করে। মাহদী আমিন বলেন, ‘আমি মূলত ব্লু-কালার চাকরি নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু ভবিষ্যতে হোয়াইট-কালার চাকরির ক্ষেত্রেও আমরা নিশ্চিত করতে চাই , বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন। আর যে ‘ব্রেইন ড্রেন’ আমরা ঐতিহাসিকভাবে দেখেছি, সেটিকে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে চাই। যেখানে প্রবাসী ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশে আসতে পারেন, বিনিয়োগ করতে পারেন। তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের ইকোসিস্টেমে স্থানান্তর করতে পারেন এবং অবশ্যই বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ও বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। যদি আমরা তাদের সঠিক নীতি ও সঠিক উপকরণ দিয়ে সহায়তা করতে পারি, তাহলে তা বাংলাদেশের বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসন বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে, যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। আর যে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছি, সেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং, অভিবাসন শুরু হয়েছিল যখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিলেন এবং এটি বিকশিত হয়েছিল যখন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাই বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন বিএনপির রাজনৈতিক দল হিসেবে ডিএনএতেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা নির্বাচনের পূর্ববর্তী প্রচারণার দিকে তাকাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার সেই ভিশনের কথা তুলে ধরেছেন, যা আমরা আমাদের জনগণের বিদেশে গিয়ে কাজ করার বিষয়ে ধারণ করি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন আমাদের অভিবাসন নীতি হতে হবে সুশৃঙ্খল, যাতে আমরা যথাযথ যাচাই-বাছাই ও এমন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করি যা স্বচ্ছ, কার্যকর এবং যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। আমাদের ভিশন হলো বাজারের বহুমুখীকরণ।’  মাহদী আমিন বলেন, ‘শুধু অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া, যাতে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে আরও বেশি দক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ করতে পারে। শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে নয়, যদি আমরা সেই বাজারকেই বহুমুখী করতে পারি এবং একই সঙ্গে নারী অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে পারি, যা বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ। আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীকে বিদেশে পাঠাতে পারি, কারণ আমাদের দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশি নারী। তাই আমরা বাজারের বহুমুখীকরণ চাই, তারা যে ধরনের কাজে যাবে তার বহুমুখীকরণ চাই এবং জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্যও চাই।’ তিনি বলেন, ‘সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য আমরা “প্রবাসী কার্ড” বা “এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড” চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে যখন আমরা এটি চালু করব, তখন বিদেশে যাওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশিকে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এবং সেটি সরকারি অবকাঠামোর আওতায় থাকবে। পাশাপাশি আমরা ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’ উদাহরণস্বরূপ মাহদী আমিন বলেন, ভিসার জন্য আবেদনকারী প্রত্যেক বাংলাদেশির আর্থিক নথিপত্র কিউআর কোডের মাধ্যমে অনুসরণযোগ্য হবে, তাদের শিক্ষাগত সনদও অনুসরণযোগ্য হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে দুই মাস আগেএকটি নতুন কর্মসূচি চালু করেছি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি কোর্সের জন্য বিদেশে যেতে চায়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি এবং তারা ইতোমধ্যেই চাহিদা নিরূপণের কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশে একটি বিশাল জনমিতিক সুবিধা রয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী বিদেশে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। তাই সরবরাহ প্রচুর, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের বুঝতে হবে অন্যান্য দেশে কী ধরনের চাহিদা রয়েছে, তারা কী ধরনের দক্ষতা ও সক্ষমতা চায়। এরপর আমরা আমাদের মানুষদের সেই অনুযায়ী আমাদের টিভিইটি (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং) ব্যবস্থা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণ দেব।’  মাহদী আমিন বলেন, ‘সুতরাং, দেশভিত্তিক বৈশ্বিক চাহিদাকে আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করব এবং সেই অনুযায়ী আমাদের জনগণকে প্রশিক্ষণ দেব। তবে আমরা সনদের গুরুত্বও বুঝি। তারা যে সনদগুলো অর্জন করছে, সেগুলোকে বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার জন্য আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে আমাদের মানুষ বিদেশে গেলে তাদের সনদগুলো গ্রহণকারী দেশগুলোতে স্বীকৃত হয়।’  তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা অভিবাসনকে একটি বৃহত্তর ইকোসিস্টেমের অংশ হিসেবে দেখি, যেখানে আমরা আলাদাভাবে কাজ করতে পারি না। আমাদের গ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে হবে, বৈশ্বিক সমন্বয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে কীভাবে আমরা তাদের সঠিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা দিতে পারি এবং নিশ্চিত করতে পারি যে অভিবাসন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, যা শনাক্ত করা সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে আমরা বুঝি কিছু মানুষ নির্দিষ্ট কোনো দেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। আমরা সেটিও বন্ধ করতে চাই। এবং সুশৃঙ্খল অভিবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের জনগণের যে সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা তা উন্মোচন করতে পারব।’  মাহদী আমিন বলেন, ‘আরও একটি বিষয় আমি যোগ করতে চাই। অনেক দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রহণ করা একটি অগ্রাধিকার, কারণ তারা শৃঙ্খলা প্রদর্শন করেছে। অবশ্যই ব্যয়-সাশ্রয়িতা একটি বিষয়, কিন্তু কর্মদক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় মাত্রার সহায়তা ছাড়াই যদি তারা এভাবে সফল হতে পারে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি যে যখন নীতিগত সমন্বয় হবে, তখন তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবে এবং আরও বেশি সুযোগ পাবে। আর গ্রহণকারী বা আতিথ্যদানকারী দেশগুলোও আরও বেশি বাংলাদেশিকে গ্রহণ করবে।’  প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীন সফর শেষে ঢাকায় ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদীয় দল

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ খাতে কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার পাঁয়তারা

ছবি: সংগৃহীত

১০ জেলায় আজ থেকে চালু হচ্ছে আইসিইউ

ছবি : সংগৃহীত
বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো- এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিয়ে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা দেখাতে না পারলে সেগুলোকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। প্রথম ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে। এরপর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দেনা মূল্যায়ন করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার এফএএস ফাইন্যান্সের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে তাদের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা মূল্যায়ন করে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।   ধারাবাহিক পর্যালোচনার পর বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন বা বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত বছরগুলোতে অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে আলোচিত পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফুটপাতেও ব্যবহার করতে হবে বাংলা কিউআর : গভর্নর

ছবি: সংগৃহীত

সনি হত্যা: ২৪ বছর পরও অধরা দুই দণ্ডিত আসামি

ছবি: সংগৃহীত

কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে ‘জাতীয় শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার’ চালুর আশ্বাস দিলেন মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি নিরাপত্তায় ২০৩৫ পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর মওকুফের প্রস্তাব

পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এক বিশাল প্রণোদনার প্রস্তাব করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ খাতে আগামী ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এই প্রস্তাব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিদ্যুৎ বিলে রেয়াত ও শুল্ক সুবিধা বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, কেবল উৎপাদন খাতেই নয়, ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া সোলার প্যানেল সহ সৌরবিদ্যুৎ শিল্পসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ওপর প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা যেন শিল্পখাতকে বিকশিত করতে পারে, সেজন্য নতুন প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও কয়লা আমদানি তবে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু কড়াকড়িও রাখা হয়েছে। মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের মতো পণ্যের বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে এই সময়ের মধ্যে দেশে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ওঠে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃক কয়লা আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রভাব সরকার আশা করছে, প্রস্তাবিত এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের এক বড় দুয়ার উন্মোচিত হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাছাড়া নতুন এই স্কিমের আওতায় টেকসই জ্বালানি উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকির ব্যবস্থাও রাখছে। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমিয়ে দেশীয় সৌরশক্তির এই প্রসার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও টেকসই উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
সঞ্চয়পত্র। ছবি: সংগৃহীত

সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় অগ্রিম কর বাড়ল

ছবি : সংগৃহীত

‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ফোন পেয়ে ওসি বলেন ‘ভাইয়া বসেন’, তার আগে বলেন ‘চোখ নামিয়ে কথা বল

0 Comments