আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বর্তমানে ফল প্রকাশের আগে চলছে শেষ ধাপের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফলে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি এড়াতে তথ্যগুলো একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
ডিপিইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ অধিদপ্তরের অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে ফল প্রস্তুতের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
ফলাফলা জানা যাবে যেভাবে
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তা জানতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) ছাড়াও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সারা দেশে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল।
এবার সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। তবে এবার সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়ের জন্য কোটা ভাগ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বাকি ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা থাকবে সমান (৫০ শতাংশ করে)।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’–এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে। উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীরাই প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা পাবে।
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা ভোগ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এ বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বৈঠকে মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহাল করা হলে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সর্বজনীন উপবৃত্তির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা খাবার যাতে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয় এবং কোনোভাবেই খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস না করা হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় রেখে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দু’টি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্রনাথের ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগের মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছেলে নক্ষত্র দেবনাথের নম্বর বাড়িয়ে ফলাফল ‘এ প্লাস’ (জিপিএ-৫) করা হয়। গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম সফিউল আজম মুন্সী আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। এতে নারায়ণ চন্দ্রনাথ, শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খান, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার ও নক্ষত্র দেবনাথকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জব্দ করা উত্তরপত্র, নম্বর ফর্দ ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনায় নক্ষত্রের ১৪টি উত্তরপত্রে ২ থেকে সর্বোচ্চ ২৪ নম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে তার ফলাফল ‘এ প্লাস’ এ উন্নীত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলা প্রথম পত্রের রচনামূলকে নক্ষত্র পেয়েছিলেন ৩১ নম্বর। সেটি বাড়িয়ে ৪১ করা হয়। নৈর্ব্যক্তিকে পাওয়া ২৪ নম্বরের সঙ্গে আরও ২ নম্বর যোগ করা হয়। ইংরেজি প্রথম পত্রের রচনামূলকে পাওয়া ৭০ নম্বর বাড়িয়ে ৯০ করা হয়। দ্বিতীয় পত্রে পাওয়া ৫৭ নম্বরের সঙ্গে ২৪ যোগ করে ৮১ নম্বর দেখানো হয়। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের রচনামূলকে ৩৪ নম্বরের সঙ্গে আরও ৮ নম্বর যোগ করা হয়। দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিকে ২০ নম্বর বাড়িয়ে ২২ করা হয়। রসায়ন প্রথম পত্রের রচনামূলকে পাওয়া ৩০ নম্বর বাড়িয়ে ৪০ করা হয়। একই পত্রের নৈর্ব্যক্তিকে ৩ নম্বর বাড়িয়ে ২৩ এবং দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিকে পাওয়া ১৯ নম্বরের সঙ্গে আরও ৪ যোগ করে ২৩ দেখানো হয়। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের রচনামূলকে পাওয়া নম্বরও ১০ বাড়িয়ে ৩৯ করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জালিয়াতিতে সহযোগিতার বিনিময়ে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানকে ২০২৪ সালের ফলাফল প্রস্তুতের কাজে যুক্ত করা হয়। এজন্য তাকে দৈনিক ২ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, নারায়ণ চন্দ্রনাথ ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিবরিয়া মাসুদ খানের সহায়তায় ছেলের ফলাফল পরিবর্তনে জড়িত ছিলেন। জব্দ করা উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দসহ তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পরে নক্ষত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য কে বা কারা আবেদন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে নক্ষত্রের মা বনশ্রী দেবনাথ পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে ফল জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপর ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই বছরের ৯ জুলাই নারায়ণ চন্দ্রনাথকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে সরিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে ওএসডি করা হয়। তদন্তের পর নক্ষত্রের ফলাফল বাতিল করা হয়। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ পাঁচলাইশ থানায় নারায়ণ চন্দ্রনাথসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন নক্ষত্র দেবনাথ, কিবরিয়া মাসুদ খান ও সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার। গত ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে নারায়ণ চন্দ্রনাথকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে চারজনকে আসামি ও ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আদেশ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ সময় তিনি আগামী জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় সম্ভাব্য ৫৪তম সমাবর্তনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদানে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ, বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচালিত যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিসহ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। উপাচার্য এসময় মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবময় অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ মর্যাদা প্রাপ্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফান্ড বৃদ্ধি, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক উন্নয়ন ও অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তৃতীয় ভাষা, জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি ও রোবোটিক্স বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রেও উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন আবাসিক হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অ্যালামনাইদের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সকল ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক, সিন্ডিকেট সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।