ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সোনালী অধ্যায়ের দুই সারথী, মেগাস্টার শাকিব খান এবং গ্ল্যামার কন্যা পূর্ণিমা। দীর্ঘদিন পর রুপালি পর্দার এই জনপ্রিয় জুটিকে আবারও এক ফ্রেমে দেখা গেল।।
আজ চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে আকস্মিকভাবে মুখোমুখি হন তারা। দীর্ঘদিন পর এই দুই শীর্ষ তারকার দেখা হওয়ায় পুরো স্টুডিওজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং মেতে ওঠেন পুরোনো দিনের নানা স্মৃতিকথা ও আনন্দঘন খোশগল্পে।
দীর্ঘ এই সময় পর শাকিব খানকে সামনাসামনি দেখে পূর্ণিমা তাঁর চিরচেনা হাসিখুশি মেজাজে শাকিবের তারুণ্যদীপ্ত উপস্থিতির প্রশংসা করে সরাসরি বলেন, “তাকে আমি যা দেখেছি, তার থেকে তো ও এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে। আরও বেশি ছোট। আর তার যতগুলো ছবি আছে সেগুলো কিন্তু আমি দেখছি। ‘তুফান’ দেখেছি আমি পুরোটাই, আর বাকিগুলো সব দেখেছি।”
পূর্ণিমা আরও স্পষ্ট করেন যে, যদিও রুপালি পর্দায় এখন তাদের নিয়মিত একসঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠে না, তবুও শাকিব খানের ক্যারিয়ারের প্রতিটি বড় অর্জনের খবর তিনি সব সময় রাখেন। শাকিব খানের সাম্প্রতিক সাফল্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার উপস্থিতির খবরও তিনি নিয়মিত অনুসরণ করেন বলে জানান। তিনি এও বলেন, তার সঙ্গে যখন কাজ হয়েছিল, তখন এ লুকের শাকিবকে পেলে তিনি আরও খুশি হতেন।
একটা সময় ঢালিউডে শাকিব খান ও পূর্ণিমা জুটি দর্শকদের বেশ কিছু কালজয়ী ও ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ‘আই লাভ ইউ’, ‘মা আমার স্বর্গ’, ‘তুমি কত সুন্দর’ কিংবা ‘বাধা’র মতো চলচ্চিত্রগুলো আজও দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে আছে।
মাঝে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের মধ্যকার সেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নিখাদ বন্ধুত্ব আর চমৎকার রসায়ন যে বিন্দুমাত্র ফিকে হয়ে যায়নি, চ্যানেল আইয়ের প্রাঙ্গণে তাদের এই আড্ডাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
দীর্ঘ বছর পর দুই চিরসবুজ তারকার এই জমজমাট পুনর্মিলন দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভক্তদের মাঝে নতুন আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই অবধারিতভাবে প্রশ্ন তুলছেন—সিনেমার পর্দায় কি তবে আবারও ফিরতে যাচ্ছে এই কালজয়ী জুটি?
জানা যায়, একটি সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই চ্যানেল আই কার্যালয়ে যান শাকিব। শাকিব খানকে বরণ করে নিতে চ্যানেল আই প্রাঙ্গনকে বর্ণিল করে সাজানো হয়। দুষ্টু কোকিল গানে মুখর হয়ে ওঠে চ্যানেল আই। পূর্ণিমা রসিকতা করে বললেন, “আজকে কিন্তু দুষ্টু কোকিল আমি হবো, দুষ্টু দুষ্টু প্রশ্ন করবো।” শাকিব খানও হেসে বলেন, ‘যা ইচ্ছা করো।’
ফলাফল যাই হোক, দীর্ঘবছর পর দুই তারকার মুখোমুখি হওয়া ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম একটি সুন্দর মুহূর্ত হয়ে থাকবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনিরা আক্তার মিঠু। পর্দায় নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শক মাতিয়ে রাখেন সর্বদা। আর তাই তো দিনশেষে দর্শকের ভালোবাসাকেই অগ্রগণ্য ভাবেন এই তারকা অভিনয়শিল্পী। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান নিয়েও নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন তিনি। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে অভিনয় ক্যারিয়ার, পুরস্কার ও দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে একান্ত কিছু কথা বলেছেন মনিরা মিঠু। তার কথায়, আমি অ্যাওয়ার্ড পেলাম, কিন্তু দর্শক আমাকে ভালোই বাসলো না, এটা কেমন হয়? বর্তমানে যারা পুরস্কার পাচ্ছেন তাদের নিয়ে তিনি বলেন, আসলেই দেখি যারা অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছে তাদেরকে তো অনেক দর্শক চেনে না, আমার মতো ভালোবাসা পাওয়া তো দূরের কথা। সুতরাং দর্শকের ভালোবাসা এটাই অ্যাওয়ার্ড। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় কাজ উপহার দিয়েছেন মনিরা মিঠু। এখনো নিয়মিত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় মত্ত অভিনেত্রী। তার কাছে দর্শক ভালোবাসার চেয়ে বড় প্রাপ্তি অন্য কিছু নেই।
শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার। এটি খাদ্য হজমে সহায়তা এবং শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করে। লিভার শক্তিশালী হলে খাবার হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। লিভারের সাহায্যে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। অনেক সময় লিভার আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে পারে না, যার ফলে আমরা মাঝে মাঝে অলস এবং অসুস্থ বোধ করি। শরীরের ইন্দ্রিয় এবং শক্তির স্তরকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে লিভার ডিটক্স করা প্রয়োজন। প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন- রসুন খান রান্নাঘরে থাকা রসুন লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। এটি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এমন এক উপাদান যা এনজাইম সক্রিয় করতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা সহজ হয়। এতে থাকা অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা রান্নায় ব্যবহার করুন। বিষাক্ত খাবার বাদ দিন আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভেতরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস না করলে লিভারের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। লেবু যোগ করুন শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় লেবুর মতো সাইট্রাস ফল যোগ করুন। এসব ফল ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস। আপনার লিভারকে সক্রিয় করতে লেবু মেশানো পানি পান করুন। শরীর শোধনে প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু হয়, কারণ লেবুর পানি আপনার শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলোকে সংশ্লেষণ করতে পারে, যাতে সেগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান আমাদের সকলেরই প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। সমস্যা হলো, আমরা যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করি, তাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণটুকু ঠিকমতো পূরণ হয় না। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি লিভারের ঠিকমতো কাজ করতে না পারারও একটি কারণ। এ কারণে আপনার খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার কলা, মিষ্টি আলু, শিম এবং পালং শাক যোগ করুন। ক্রুসিফেরাস সবজি গুরুত্বপূর্ণ লিভার পরিষ্কার করার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ হলো খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ক্রুসিফেরাস সবজি যোগ করা, কারণ এগুলো লিভারের এনজাইমগুলোকে উদ্দীপিত করে খাবার ভাঙতে এবং এর সাথে শরীরে ঢোকা বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করে। ব্রকলি এবং ফুলকপি হলো দুটি সেরা ক্রুসিফেরাস সবজি যা লিভারকে পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। সূত্র: হেলদি বিল্ডার্স
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একসঙ্গে একাধিক তারকা সংসদ সদস্যের পদত্যাগের খবর। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষসহ মোট ১৯ জন সংসদ সদস্য রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এমন একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, একটি চিঠিতে এই ১৯ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় শুধু টলিউড তারকারাই নন, সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ‘গণপদত্যাগ’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক। চিঠির তারিখ ও জমা দেওয়ার সময় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। একটি পক্ষ দাবি করছে, চিঠিটি স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে আগেই। অন্যদিকে অন্য একটি পক্ষ এর আইনি বৈধতা ও তারিখ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। সূত্র অনুযায়ী, চিঠির তারিখে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া নথি ও স্বাক্ষর যাচাই নিয়েও চলছে আলোচনা। এদিকে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা গ্রহণযোগ্য পদত্যাগপত্রের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সব মিলিয়ে দেব-রচনা-সায়নীসহ তারকা সাংসদদের ‘গণপদত্যাগ’ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।