ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির মায়ের পক্ষের পূর্বপুরুষরা আর্জেন্টিনার আগে কিছু সময় ব্রাজিলে বসবাস করেছিলেন। সেখানেই মেসির এক প্রপিতামহ (পরদাদা/পরনানা) জন্মগ্রহণ করেন।
তিন বছরের দীর্ঘ গবেষণায় মেসির পারিবারিক ইতিহাসের একটি অজানা অধ্যায় উন্মোচিত করেছেন ইতালীয় ইতিহাসবিদ এবং বংশানুক্রম গবেষক ফিওরেনজো সান্তিনি।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৯৯ সালে মেসির মাতৃপক্ষের প্রপিতামহ রানিয়েরি কোচ্চেত্তিনি তার স্ত্রী রোসা রিচ্চেজ্জাকে নিয়ে ইতালি থেকে ‘ওয়াশিংটন’ নামক একটি জাহাজে করে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান।
পরে পরিবারটি ব্রাজিলের সাঁও পাওলোর রিনকাও অঞ্চলের খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯০৪ সালে সাঁও পাওলোর রিবেরাও প্রেতো শহরে মেসির প্রপিতামহ আর্দেরিগো কোচ্চেত্তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আর্দেরিগোর জন্মের এক বছর পর, ১৯০৫ সালে পুরো পরিবারটি ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। যেখানে পরবর্তীতে লিওনেল মেসির জন্ম হয়।
সান্তিনির গবেষণা অনুযায়ী, ব্রাজিলে থাকার সময়ই মেসির মায়ের বংশের মূল পদবিটি পরিবর্তিত হয়ে যায়। ইতালীয় মূল পদবি কোচ্চেত্তিনি ব্রাজিলের স্থানীয় নথিপত্রে ভুলবশত পরিবর্তিত হয়ে কুচ্চিত্তিনি রূপ নেয়।
একই সাথে প্রপিতামহ আর্দেরিগোর নাম নথিপত্রে ফেদেরিকো হয়ে যায়। এই পরিবর্তিত ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবিটিই পরবর্তীতে মেসির মায়ের মাধ্যমে মেসির নামের অংশে যুক্ত হয়। এই গবেষণার পর ফুটবল বিশ্বে কৌতুকপূর্ণ আলোচনা তৈরি হয়েছে। মেসির পূর্বপুরুষ ব্রাজিলে থাকায় তাত্ত্বিকভাবে তার ব্রাজিলের হয়ে খেলারও একটি দূরবর্তী সুযোগ থাকতে পারত।
তবে ১৯০৫ সালের পর এই পরিবারের আর কোনো সদস্য ব্রাজিলে থেকে যাননি। বর্তমানে সেই শহরের একটি রাস্তার নাম ‘মার্তিনিকো প্রাডো’, যা মেসির পূর্বপুরুষদের আশ্রয় দেওয়া খামার মালিকের নামে রাখা হয়েছে। এটিই এখন মেসির সঙ্গে ওই শহরের একমাত্র প্রতীকী সংযোগ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
স্বপ্ন পূরণ করতে’ দল বদলের ইচ্ছার কথা হুলিয়ান আলভারেস জানানোর পর থেকেই আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে তার সম্পর্কের ‘অবনতি’ ঘটে। ক্লাবের সমর্থকদের কাছে ভীষণ অপছন্দের পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে তার বার্সেলোনার যাওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যপার মনে হলেও, বাস্তবে তা হয়নি। তাতে আতলেতিকো শিবিরে তার জন্য সবকিছু অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। দলটির কোচ দিয়েগো সিমেওনে অবশ্য আশাবাদী, আগের মতোই দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। আর্জেন্টিনাকে ২০২২ বিশ্বকাপ জিততে এবং গত জুলাইয়ে শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে সাহায্য করা আলভারেস এবারের আসর চলার মাঝে জানান, তিনি অন্য ক্লাবে যাওয়ার ইচ্ছার কথা ক্লাবকে জানিয়ে দিয়েছেন। সেই থেকেই ক্লাবের সমর্থকদের সঙ্গে তার সম্পর্কে চিড় ধরে। বিশ্বকাপ শেষে ছুটি কাটিয়ে অবশ্য ঠিক সময়েই ক্লাবে যোগ দেন আলভারেস। কিন্তু এখানে তার অবস্থান আগের মতো ছিল না। লা লিগায় ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে ২-২ ড্র ম্যাচের আগে ওয়ার্ম আপের সময় তাকে দুয়ো দেওয়া হয়। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তার নাম ঘোষণার সময়ও তাকে বিদ্রূপ শুনতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি মাঠে নামার পর আরও জোরাল হয় দুয়োধ্বনি। এই বিরূপ পরিস্থিতির প্রভাবও পড়ে তার ওপর; তাকে সেদিন খুবই বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। ওই ঘটনার পর, দলের তৃতীয় ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে খেলেননি আলভারেস। ওই সময় তিন দিন অনুশীলনও করেননি তিনি। ওই সময়ের মাঝেই ক্লাবের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনোভাবেই বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করা হবে না এই স্ট্রাইকারকে। তখন হঠাৎ করেই তার আর্সেনালে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শোনা যায়, যদিও তা বাস্তবতার মুখ দেখেনি। এবারের ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ হয়ে গেছে গত মঙ্গলবার, এরপর শনিবার প্রথম মাঠে নামতে যাচ্ছে আতলেতিকো, আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে। আগের দিন সিমেওনে জানালেন, এই ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত আলভারেস। “হুলিয়ান আরভারেস আগামীকালকের স্কোয়াডে থাকবে। সে ভালোমতো অনুশীলন করছে এবং আমরা তার থেকে সেরাটা প্রত্যাশা করি, ঠিক যেমনটা আমরা তার সব সতীর্থের কাছ থেকে চাই। আমার কাছে, জীবন অনেক সুযোগে ভরপুর। আর হুলিয়ানের সামনে এখন নতুন সুযোগ। ২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আতলেতিকোয় যোগ দিয়ে দলটির হয়ে ১০৭ ম্যাচ খেলে ৪৯টি গোল ও ১৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন আলভারেস। আগামীতেও এই ধারা তিনি ধরে রাখবেন, আশা প্রকাশ করেন কোচ। “জীবনের অনেকটা সময় আমরা বিচার করে কাটিয়ে দিই, আমাদের সেসব কম করা উচিত এবং বেশি বেশি শিক্ষা নেওয়া উচিত। আশা করি, এই ঘটনা তার জীবনে একটা শিক্ষনীয় অভিজ্ঞতা হবে। “আমি আশা করি, সে এখানে ভবিষ্যতে খুশি থাকবে, (পাওলো) ফুত্রে (আতলেতিকো মাদ্রিদের ফুটবল পরিচালক) যেমন তাকে গতকাল দারুণ একটা ভিডিওর মাধ্যমে সেই কথাই বলেছেন… যেন সে গোল করার মাধ্যমে এটা দেখায়।” কয়েকদিন আগেও সিমেওনে বলেন, সব টানাপোড়েন শেষে আলভারেস যেন এই ক্লাবে আগের মতোই নিজেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন মনে করে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবেন তিনি।
ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বয়সের নথিতে অসঙ্গতি পাওয়ায় বেঙ্গলের লেগস্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই যাচাই প্রক্রিয়ায় ভারতের ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য রবি কুমারের বয়সের তথ্যেও বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে সিরিজ খেলেছিলেন রোহিত। অস্ট্রেলিয়া যুব দলের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের স্কোয়াডেও ছিলেন তিনি। তবে নথিপত্র যাচাইয়ের পর বয়সসংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের যুব দলের পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি চারদিনের ম্যাচে খেলা হচ্ছে না তার। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) জানিয়েছে, প্রাক-মৌসুম কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্রিকেটারদের বিভিন্ন নথি যাচাই করার সময় রোহিতের বয়সে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বয়সের তথ্য ও মূল নথির মধ্যে প্রায় ২৭ মাসের পার্থক্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। রোহিতের বিরুদ্ধে নেওয়া দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিসিসিআইয়ের আওতাধীন বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে তদন্তে শুধু রোহিতের তথ্যেই সমস্যা পাওয়া যায়নি। বেঙ্গল ক্রিকেট সংস্থার যাচাইয়ে আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারের বয়সসংক্রান্ত অসঙ্গতি শনাক্ত হয়েছে। তাদের তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারও। ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বাঁহাতি পেসার রবি কুমারের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং করে তিনি ৩৪ রানে চারটি উইকেট নিয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে বেঙ্গল দলের হয়ে খেলেছিলেন রবি। রবি কুমারের ক্ষেত্রেও দেওয়া বয়সের সঙ্গে মূল নথিতে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেছে। এই ব্যবধান প্রায় ৪০ মাস বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত তার দেওয়া বয়সভিত্তিক তথ্যও এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে এর আগেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে বয়সসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা কমাতে ‘অ্যামনেস্টি’ বা সাধারণ ক্ষমা প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা স্বেচ্ছায় নিজেদের নথিতে থাকা ভুল বা অসঙ্গতি স্বীকার করে প্রকৃত জন্মতারিখ জানালে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সুযোগ পেতেন। তবে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধানও ছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বয়স যাচাইয়ের সময় ক্রিকেটারদের জন্মসনদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন নথিও জমা দিতে হয়। এত নথিপত্র যাচাইয়ের পরও বেঙ্গল ক্রিকেটে ৬৪ জনের বয়সে অসঙ্গতি শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মিতালি রাজকে ছাড়িয়ে নারী ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন ভারতের স্মৃতি মান্ধানা। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ‘গ্রুপ এ’-এর ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে খেলতে নেমে এই কীর্তি গড়েন ৩০ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার। নিজের ৩০৩তম আন্তর্জাতিক ইনিংসে মিতালি রাজের ১০ হাজার ৮৬৮ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান মান্ধানা। নিউ জিল্যান্ডের সুজি বেটসকে (১০ হাজার ৭৪০) পেছনে ফেলে এখন নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি। চার বছর আগে ক্রিকেটকে বিদায় নেওয়া মিতালির সামনে অবশ্য শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের সুযোগ নেই। হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ ওভারে রানআউট হওয়ার আগে মাত্র ৬৪ বলে ১৪টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১২৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন মান্ধানা। এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ১৮তম শতক। তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে ভারত ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের সংগ্রহ গড়ে। এই শতকের মধ্য দিয়ে নারী ক্রিকেটে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন মান্ধানা। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মেগ ল্যানিংয়ের ১৭টি শতককে পেছনে ফেলেছেন তিনি। একই সঙ্গে একমাত্র ভারতীয় নারী ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুটি শতক করার কীর্তিও গড়েছেন মান্ধানা। এদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ৯৩তম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেন মান্ধানা। এর ফলে মিতালি রাজের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখান তিনি। নারী টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য ৩৭টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস নিয়ে এককভাবেই শীর্ষে আছেন মান্ধানা। এই তালিকায় ৩৩টি ইনিংস নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মান্ধানার ক্যারিয়ারও বেশ সমৃদ্ধ। ৯ টেস্টে ৫২.৫৩ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৭৮৮ রান। ওয়ানডেতে ৪৭.৮৮ গড়ে করেছেন ৫ হাজার ৪১১ রান। আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১২৬.৫৫ স্ট্রাইক রেটে তাঁর রান ৪ হাজার ৬৮১। নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রাহক: স্মৃতি মান্ধানা: ১০,৮৮০ রান মিতালি রাজ: ১০,৮৬৮ রান সুজি বেটস: ১০,৭৪০ রান শার্লট এডওয়ার্ডস: ১০,২৭৩ রান স্টেফানি টেলর: ১০,০০৭ রান নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ শতক: স্মৃতি মান্ধানা: ১৮টি মেগ ল্যানিং: ১৭টি লরা উলভার্ট: ১৭টি হেইলি ম্যাথিউস: ১৫টি সুজি বেটস: ১৪টি ট্যামি বিউমন্ট: ১৪টি নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস: মিতালি রাজ: ৯৩টি স্মৃতি মান্ধানা: ৯৩টি শার্লট এডওয়ার্ডস: ৮০টি সুজি বেটস: ৭৯টি স্টেফানি টেলর: ৭৪টি লরা উলভার্ট: ৭৪টি