হজ ইস্যুতে আলোচনার জন্য সম্প্রতি ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে গিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। স্বাগতিক দেশের একজন মন্ত্রীর সরাসরি বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করার এ ঘটনায় কূটনৈতিক অঙ্গনে অলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন প্রটোকল ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী এটি ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা।
তারা বলছেন, কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী কোনো দাপ্তরিক বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন হলে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদেরই মন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার কথা; মন্ত্রীর রাষ্ট্রদূতের কাছে যাওয়ার রীতি নেই। ‘মহৎ উদ্দেশ্যে’ হলেও প্রথা ভেঙে এভাবে বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে সাক্ষাৎ করা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের অবস্থান দুর্বল করে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য ‘ব্যাকআপ আবাসন’ ১ শতাংশ বহাল রাখার অনুরোধ জানাতে গত ২০ জুলাই রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে যান ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় আবাসন ২ শতাংশ নির্ধারণ করায় হজের খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা রোধ করতে মন্ত্রী সৌদি রাষ্ট্রদূত আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রচলিত কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজনে বৈঠকের প্রয়োজন হলে স্বাগতিক দেশের মন্ত্রীর দপ্তরে বিদেশি দূতদের আমন্ত্রণ জানানো বা ডেকে পাঠানোই নিয়ম। বিশেষ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু কোনো বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা একচন মন্ত্রীর জন্য কূটনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়।
এ ছাড়া ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক বা সাক্ষাতের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয়। এরপর মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ কীভাবে সম্পাদন করা যায় সে সিদ্ধান্ত নেয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্মমন্ত্রী সৌদি দূতাবাসে যাবেন বা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ করবেন, এ ধরনের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পেরেছে, এ ধরনের একটি বৈঠক হয়েছে এবং হজ সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তারাও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সরকারের এক কূটনীতিক বলেন, একজন মন্ত্রী যখন বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন, সেটা প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়। কূটনৈতিক একটি প্রটোকল আছে, সেটা মানা উচিত। যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই হোক, রাষ্ট্রদূত যদি মন্ত্রীর অফিস বা অন্য কোনো ভেন্যুতে দেখা করতেন, তবে সমস্যা হতো না। অফিশিয়াল বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার জন্য মন্ত্রীর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসে গিয়ে বৈঠক করা খুবই বেমানান এবং কূটনৈতিক যে প্রটোকল আছে তার বিচ্যুতি। মন্ত্রী গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছেন, লবিং করছেন, এটা তো নজিরবিহীন ঘটনা!
এ কূটনীতিক আরও বলেন, একজন মন্ত্রী চাইলে বিদেশি দূতাবাসের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে যেতে পারেন, শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতে যেতে পারেন, চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন বা কোনো রাষ্ট্রদূতের বাসায় আমন্ত্রণ জানালেও যেতে পারেন। কিন্তু দূতাবাসে গিয়ে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করতে পারেন না। এগুলো কূটনৈতিকভাবে আমাদের দুর্বল করে।
আরেক কূটনীতিক বলেন, মন্ত্রী হাজিদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলতে গেছেন। বাংলাদেশিদের স্বার্থ নিয়ে আলাপ করতে দূতাবাসে গেছেন। এই আলাপটা ওনার দপ্তরে হতে পারত। মন্ত্রী হয়তো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গেছেন, কিন্তু আমাদের প্রটোকলটা মাথায় রাখতে হবে। একজন মন্ত্রী যখন বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন, সেটা প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়। সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রীকে এই বার্তা দিতে পারতেন, মনে করিয়ে দিতে পারতেন।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে সাবেক এক রাষ্ট্রদূত বলেন, সাধারণত নিয়ম হলো, যে দেশে রাষ্ট্রদূতরা থাকবেন তারা এসে মন্ত্রী বা সচিবের সঙ্গে দেখা করবেন। যদি অফিশিয়াল কোনো বিষয় হয় তাহলে রাষ্ট্রদূতরা এসে দেখা করবেন এবং সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে করা হয়। যদি সোশ্যাল কোনো প্রোগ্রাম হয়, সেখানে যেতে বাধা নেই। অফিসিয়াল কোনো আলাপ থাকলে সেটা অফিসে হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো মিশনে গিয়ে মন্ত্রীর বৈঠক করার কথা না বা এ রকম হয় না। সাধারণ প্রটোকল অনুযায়ী এটা হওয়ার কথাও না। এটা দৃষ্টিকটু হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি তো জানি না, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি আমাদের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের (পশ্চিম এশিয়া অনুবিভাগ) সঙ্গে কথা বলেন।
জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, মিশনের লোকজন মন্ত্রীর কাছে আসবেন, মন্ত্রী সাধারণত মিশনে যান না। এটা সাধারণ অনুশীলনে নেই। কাজেই প্রচলিত কূটনৈতিক যে অনুশীলন, সেই অনুযায়ী এটা ঠিক কাজ হয়েছে বলে মনে করা যায় না। জ্ঞানের অভাব থেকে হয়তো না জেনেই করা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের যেটা জানা নেই, সেটা জানার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা যেত। হয়তো সেটা জরুরি মনে করেন না বলেই এ ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য সৌদি আরব। দেশটির সঙ্গে হজ, ওমরাহ ছাড়াও নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। বৃহৎ স্বার্থ থাকার পরও স্বাগতিক দেশের একজন মন্ত্রী প্রটোকল ভেঙে বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে সাক্ষাৎ বা বৈঠক করতে পারেন না। একজন মন্ত্রী যখন এ ধরনের কাজ করেন, তখন কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়, কূটনীতিকদের জন্য দরকষাকষি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কূটনৈতিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সংযুক্ত আরব-আমিরাতের দুবাইয়ে অর্থপাচার করে অর্জিত সম্পদ গড়ার অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ ৭৩ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সরকারের কাছে তথ্য ও নথি চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়েছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। মূলত এই মাধ্যমেই দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও নথি আদান-প্রদান করা হয়। তদন্ত চলছে এমন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন বলে তথ্য পেয়েছে দুদক। তাদের কেউ কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও নিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম বলেন, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্তকারী দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দুদক ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাদের অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সদস্য হিসেবে একটি বিশেষ দল তদন্তটি পরিচালনা করছে। তদন্তাধীন ৭৩ ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন—সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এইচবিএম ইকবাল, চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, আহসানুল করিম, আনজুমান আরা শহীদ, হুমায়রা সেলিম, জুরান চন্দ্র ভৌমিক, মো. রাব্বি খান, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ ওলিউর রহমান, এসএ খান ইখতেখুরুজ্জামান, সৈয়দ ফাহিম আহমেদ, সৈয়দ হাসনাইন, সৈয়দ মাহমুদুল হক, সৈয়দ রুহুল হক, গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হাজি মোস্তফা ভূঁইয়া, মনোজ কান্তি পাল, মো. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মো. মাহবুবুল হক সরকার, মো. সেলিম রেজা, মোহাম্মদ ইলিয়াস বজলুর রহমান, এসইউ আহমেদ, শেহতাজ মুনশি খান, একেএম ফজলুর রহমান, আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, গুলজার আলম চৌধুরী, হাসান আশিক তাইমুর ইসলাম, হাসান রেজা মাহিদুল ইসলাম, খালেদ মাহমুদ, এম সাজ্জাদ আলম, মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী, মোস্তফা আমির ফয়সাল, রিফাত আলী ভূঁইয়া, সালিমুল হক ঈসা/হাকিম মোহাম্মদ ঈসা, সৈয়দ একে আনোয়ারুজ্জামান/সৈয়দ কামরুজ্জামান, সৈয়দ সালমান মাসুদ, সৈয়দ সাইমুল হক, আবদুল হাই সরকার, আহমেদ সামির পাশা, ফাহমিদা শবনম চৈতি, মো. আবুল কালাম, ফাতেমা বেগম কামাল, মোহাম্মদ আল রুমান খান, মাইনুল হক সিদ্দিকী, মুনিয়া আউয়াল, সাদিক হোসাইন মো. শাকিল, আবদুল্লাহ মামুন মারুফ, মোহাম্মদ আরমান হোসাইন, মোহাম্মদ শওকত হোসাইন সিদ্দিকী, মোস্তফা জামাল নাসের, আহমেদ ইমরান চৌধুরী, বিল্লাল হোসাইন, এমএ হাসেম, মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন চৌধুরী, নাতাশা নূর মুমু, সৈয়দ মিজান মোহাম্মদ আবু হানিফ সিদ্দিকী, সায়েদা দুররাক সিন্ডা জারা, আহমেদ ইমফজাল চৌধুরী, ফারহানা মোনেম, ফারজানা আনজুম খান, কে এইচ মশিউর রহমান, এমএ সালাম, মো. আলী হোসাইন, মোহাম্মদ ইমদাদুল হক ভূঁইয়া, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ রোহেন কবির, মঞ্জিলা মুর্শেদ, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ সারফুল ইসলাম, সৈয়দ রফিকুল আলম ও আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এসব ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক। ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদের অভিযোগ দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ নিয়ে এই অনুসন্ধানের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনায়। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সিফোরএডিএসের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলা হয়েছিল। গবেষণায় বলা হয়, এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনায় এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহতে রয়েছে। বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্যও পাওয়া যায়। এ ছাড়া চার-পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি। বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ এ দেশের মানুষ কখনো দেবে না।’ শুক্রবার রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহুদিনের। রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অপচেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষের ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক কখনো ভেঙে পড়েনি।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও দেশে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভেদের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি হলো সম্প্রীতি। এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানই প্রাধান্য পায়।’ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিভাজনের রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্ম, বয়স, পেশা ও মতের পার্থক্য ভুলে সবাইকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা, ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা কিংবা অন্য যেকোনো উপাসনালয়—সব ধর্মের মানুষের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল ইসলাম খান টিপু, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস, হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস, যুগধর্ম দাস ও শুভ নিতাই দাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস। সভাপতিত্ব করেন স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের সংশ্লিষ্ট সব নথি চেয়েছে সংস্থাটি। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, অভিযোগটি বর্তমানে ‘অনুসন্ধান পর্যায়ে’ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাতের সই করা চিঠিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব নথি চাওয়া হয়। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নথিগুলো সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অনুসন্ধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’ দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় থাকা চারজন হলেন- সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটার নথির পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোয় নিয়োগ ও পদায়নসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিভিন্ন স্মারক ও আদেশের নথিপত্রও চেয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। দুদকের চিঠিতে দেশের আট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে অনুসন্ধান দল। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠ পর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন- গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহীম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নকিমউদ্দিন, আলী হোসেন ও আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই) এবং আলী হোসেন (নরসিংদী)। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শুরুতে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।