বিশ্ব

কেন চিন পিং একসঙ্গে পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললেন?

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চীনের নেতা সি চিনপিং এই সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একের পর এক ফোন ও ভিডিও কল করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একই দিনে এমন দুইটি আলোচনার আয়োজন বিরল ও গুরুত্ববহ। এ ধরনের পদক্ষেপ চীনের স্থিতিশীল বৈশ্বিক ক্ষমতার অবস্থান শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়। 

বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

-একই দিনে কেন?-

বুধবার দুপুরে সি ও পুতিনের ভিডিও কলে আলাপের কয়েক ঘণ্টা পর সি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

দ্য এশিয়া গ্রুপের পার্টনার জর্জ চেন এক অনলাইন কমেন্টারিতে লিখেছেন ‘কলটি হওয়ার সময়টা বিরল ও বেশ দৃষ্টি আকর্ষণীয়। সি চিনপিং সাধারণত পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে একের পর এক দুইটি কল করেন না।’

ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সি ও পুতিনের ফোনালাপ চলেছে দেড় ঘণ্টা। 

অন্যদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাদের (সি ও ট্রাম্প) মধ্যে ‘দীর্ঘ ও বিস্তারিত’ আলাপ হয়েছে।

সিঙ্গাপুরের ন্যানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডিলান লোহ বলেন, ‘এটি দেখায় যে সি চিনপিং নিজের অঙ্গনে দখল রাখতে পারেন এবং সহজেই ফোন তুলে বিশ্বের দুই ‘শক্তিশালী’ নেতার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

লোহ বলেন, চীনের জন্য দুইটি সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কলের সময় ঠিক করা হয়তো শুধু একটি সাধারণ সময়সূচির বিষয়ও হতে পারে।

-কী আলোচনা হলো?—

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ও সি চিনপিং বাণিজ্য, রাশিয়ার ইউক্রেনে যুদ্ধ ও ইরান নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি আরও জানান, চীন এই মরশুমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোয়াবিনের ক্রয় ২০ মিলিয়ন টনে বাড়াতে অঙ্গীকার করেছে।

লোহ বলেন, এই ফোনালাপ নিশ্চিত করেছে যে ‘বিশ্বজুড়ে যা ঘটেছে, তা সত্ত্বেও, মার্কিন-চীনের সম্পর্ক সাময়িকভাবে কৌশলগত স্থিতিশীলতায় থাকবে।

সি ও পুতিন উভয়ই  চীনা-রাশিয়ার সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ার প্রশংসা করেছেন। তারা পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে একক সমর্থনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখানোর চেষ্টা করছেন।

রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন হামলার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ওই হামলার ফলে মস্কো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়েছে।

এই ফোনালাপের সময়ই আবুধাবিতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রায় চার বছর ধরে চলা সংঘাতের অবসান নিয়ে নতুন দফার আলোচনায় বসেন রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।

ক্রেমলিন জানায়, ফোনালাপে পুতিন ও সি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে নিজেদের ‘মতামত’ বিনিময় করেন। একই সঙ্গে ইরানের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

-কথোপকথন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?- এই ফোনালাপগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী বার্তা দিচ্ছে?-

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন আগামী ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে বেইজিং সফরের পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আগ্রহী।

এ ছাড়া, পুতিন আগামী নভেম্বর মাসে সি চিনপিংয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) আঞ্চলিক সম্মেলনেও অংশ নেবেন।

এই ফোনালাপগুলো এমন এক সময় করা হলো, যখন সি চিনপিং সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেছেন। এর উদ্দেশ্য একটাই— ওয়াশিংটনের বিকল্প হিসেবে চীনকে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং নিজেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প— দু’জনের কাছ থেকেই সম-দূরত্বে রাখার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষক হো।

তিনি এএফপিকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি যেভাবেই মোড় নিক না কেন, চীন যেন কোণঠাসা অবস্থায় না পড়ে— সে জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসর বাড়াতে চাইছে বেইজিং।

এদিকে চীন সাম্প্রতিক এক দুর্নীতি তদন্তে নড়বড়ে অবস্থায় আছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জাং ইউশিয়াকে ঘিরে তদন্ত শুরু হওয়ায় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপগুলোর সময় নির্বাচন সি’র জন্য অভ্যন্তরীণভাবে আত্মবিশ্বাস প্রদর্শনের কৌশল হতে পারে।

সি চিনপিংয়ের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে হো বলেন, দেশের ভেতরে অনিশ্চিত ও নাজুক পরিস্থিতির মুখে ‘দুই দিকেই যোগাযোগ’ বা তথাকথিত ‘টু-টাইমিং’ কলগুলো ছিল মূলত বিশ্বমঞ্চে অভ্যন্তরীণ বার্তা দেওয়ার প্রয়াস।

কয়েকজন বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ককে ‘অটুট’ বলা যাবে না। কারণ বেইজিং ও অনিশ্চিত ট্রাম্প প্রশাসন— উভয় পক্ষই পরস্পরের কাছে এমন কিছু দাবি তুলতে পারে, যা বাস্তবায়নযোগ্য নাও হতে পারে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ইউ সু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীন— কোনো পক্ষই রাশিয়ার প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিশীল হবে না। কারণ দু’দেশই মূলত নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় কোনো চুক্তি বিনিময় না করা হলে, চীনের অর্থবহ সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ট্রাম্পের বক্তব্যে জ্বালানি তেলের দামে নতুন করে ৫% বৃদ্ধি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকতে পারে- এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে।   অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুড ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬ দশমিক ৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মঙ্গলবার রাতের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রস্তুতির জন্য তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পরই জ্বালানি তেলের আরও ৫ শতাংশ বেড়েছে।  উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরানও। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইরান। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। একই সঙ্গে ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দেখা দেয় চরম অস্থিরতা। অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু কোনও চুক্তি হয়নি। পরে ২১ এপ্রিল অনেকটা একতরফাভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে; যা ইরানের আলোচনার প্রস্তাব পেশ করা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমেই শান্তিচুক্তি চেষ্টা করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: সিএনএন

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের একটি ভবন। ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার : পেন্টাগন

রাশিয়ার টি-৭২ ট্যাংক। ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার ট্যাংক বিশ্বসেরা স্বীকৃতি দিলো মার্কিন সাময়িকী

ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনে হামলা, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ২ ইহুদি ব্যক্তি

পাকিস্তান ও ইরানের ভৌগোলিক মানচিত্র। ছবি : সংগৃহীত
ইরানকে নিজ ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিল পাকিস্তান

পাকিস্তান সরকার দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের পণ্য ইরানে পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ট্রানজিট অব গুডস অর্ডার ২০২৬’ জারি করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।   এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫০ এর অধীনে এবং ২০০৮ সালের পাকিস্তান-ইরান সড়কপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন চুক্তির আলোকে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। এ আদেশের আওতায় তৃতীয় দেশ থেকে ইরানগামী পণ্য পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে পরিবহন করা যাবে। এ জন্য একাধিক নির্দিষ্ট করিডোর নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের প্রধান রুট হিসেবে গোয়াদার, করাচি এবং তাফতানকে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে ‘ট্রানজিট’ বলতে শুধুমাত্র পাকিস্তানের বাইরে থেকে অন্য দেশে গিয়ে শেষ হবে এমন পণ্য বোঝানো হয়েছে। এছাড়া, ‘ক্রস-স্টাফিং’ বলতে কাস্টমস নিয়ম অনুযায়ী এক কনটেইনার বা এক পরিবহন মাধ্যম থেকে অন্যটিতে পণ্য স্থানান্তরকে বোঝানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ট্রানজিট পণ্য পরিবহন কাস্টমস আইন ১৯৬৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে। পাশাপাশি প্রতিটি চালানের জন্য আর্থিক গ্যারান্টি প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা আরও জোরদার হবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের। ছবি : সংগৃহীত

ইতিহাসের সর্বনিম্নে ইরানি রিয়াল, ১ ডলারে ১৮ লাখ!

ছবি : সংগৃহীত

২০২৫ সালে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন উজাড় কিছুটা কমেছে, তবে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক : গবেষণা

ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের দাম কমায়, এপ্রিলে স্পেনের মূল্যস্ফীতি কমেছে

ছবি : সংগৃহীত
ব্যর্থ নিরাপত্তা মিশন শেষে হাইতি ছাড়ল কেনিয়ার পুলিশ

গ্যাং সহিংসতায় জর্জরিত হাইতিতে নিরাপত্তা সহায়তা মিশনের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা কেনিয়ার সব পুলিশ সদস্য দেশটি ছেড়ে গেছেন। মঙ্গলবার হাইতির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘের অনুমোদনে নতুন একটি অভিযান চালু হওয়ার মধ্যেই এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো। পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে গঠিত বহুজাতিক নিরাপত্তা সহায়তা মিশন (এমএসএস)-এর নেতৃত্ব দেয় কেনিয়া। উদ্দেশ্য ছিল হাইতির দুর্বল পুলিশকে সহায়তা করে, দেশটিকে শক্তিশালী গ্যাংদের কবল থেকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনও বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা দেশজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থ ও সরঞ্জামের ঘাটতিতে ভোগা এমএসএস মিশনে প্রত্যাশিত আড়াই হাজার সদস্যের অর্ধেকের মতোই মোতায়েন করা সম্ভব হয়েছিল। গত বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিশনটিকে আরও শক্তিশালী ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’ (জিএসএফ)-এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সর্বোচ্চ  সাড়ে পাঁচ হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্য থাকার কথা। যদিও এটি জাতিসংঘের কার্যক্রমগত সহায়তা পাচ্ছে, তবুও এটি সরাসরি জাতিসংঘের বাহিনী নয়। এ পর্যন্ত চাদের ৪০০ সেনা সদস্য পোর্ট-অ-প্রিন্সে পৌঁছেছেন। হাইতির জাতীয় পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সপ্তাহের শেষে এমএসএস মিশনের সমাপ্তি উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তারা একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানায়, কেনিয়ার শেষ পুলিশ দলটি সোমবার দেশটি ত্যাগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জিএসএফ কেনিয়ার বাহিনীকে সাহস ও অটল নিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানায়।  তারা বলেন, তারা এমন পরিস্থিতিতে কাজ করেছে, যা ছিল ‘কল্পনারও অতীত কঠিন’। আমেরিকার দরিদ্রতম দেশ হাইতি বহু বছর ধরেই অস্থিতিশীলতায় ভুগছে। দেশটিতে শক্তিশালী গ্যাংগুলো হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করে। গ্যাংদের হামলার মুখে দেশের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি পদত্যাগে বাধ্য হন। তার স্থলাভিষিক্ত হয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল।  তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর ক্ষমতা পান প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-এইমে। দেশটিতে ২০১৬ সালের পর আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় পুরোটা এখন গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে।  গত এক বছরে তাদের প্রভাব রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0

আগামী মাসে কারামুক্তি পাচ্ছেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ‘শিগগিরই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে’ পারমাণবিক চুক্তি মেনে নিতে হবে’ : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ সংকটে পানামা খালে জাহাজের চাপ, বাড়ছে পরিবহন খরচ

0 Comments