বিশ্ব

কেন চিন পিং একসঙ্গে পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললেন?

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬

চীনের নেতা সি চিনপিং এই সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একের পর এক ফোন ও ভিডিও কল করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একই দিনে এমন দুইটি আলোচনার আয়োজন বিরল ও গুরুত্ববহ। এ ধরনের পদক্ষেপ চীনের স্থিতিশীল বৈশ্বিক ক্ষমতার অবস্থান শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়। 

বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

-একই দিনে কেন?-

বুধবার দুপুরে সি ও পুতিনের ভিডিও কলে আলাপের কয়েক ঘণ্টা পর সি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

দ্য এশিয়া গ্রুপের পার্টনার জর্জ চেন এক অনলাইন কমেন্টারিতে লিখেছেন ‘কলটি হওয়ার সময়টা বিরল ও বেশ দৃষ্টি আকর্ষণীয়। সি চিনপিং সাধারণত পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে একের পর এক দুইটি কল করেন না।’

ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সি ও পুতিনের ফোনালাপ চলেছে দেড় ঘণ্টা। 

অন্যদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাদের (সি ও ট্রাম্প) মধ্যে ‘দীর্ঘ ও বিস্তারিত’ আলাপ হয়েছে।

সিঙ্গাপুরের ন্যানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডিলান লোহ বলেন, ‘এটি দেখায় যে সি চিনপিং নিজের অঙ্গনে দখল রাখতে পারেন এবং সহজেই ফোন তুলে বিশ্বের দুই ‘শক্তিশালী’ নেতার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

লোহ বলেন, চীনের জন্য দুইটি সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কলের সময় ঠিক করা হয়তো শুধু একটি সাধারণ সময়সূচির বিষয়ও হতে পারে।

-কী আলোচনা হলো?—

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ও সি চিনপিং বাণিজ্য, রাশিয়ার ইউক্রেনে যুদ্ধ ও ইরান নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি আরও জানান, চীন এই মরশুমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোয়াবিনের ক্রয় ২০ মিলিয়ন টনে বাড়াতে অঙ্গীকার করেছে।

লোহ বলেন, এই ফোনালাপ নিশ্চিত করেছে যে ‘বিশ্বজুড়ে যা ঘটেছে, তা সত্ত্বেও, মার্কিন-চীনের সম্পর্ক সাময়িকভাবে কৌশলগত স্থিতিশীলতায় থাকবে।

সি ও পুতিন উভয়ই  চীনা-রাশিয়ার সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ার প্রশংসা করেছেন। তারা পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে একক সমর্থনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখানোর চেষ্টা করছেন।

রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন হামলার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ওই হামলার ফলে মস্কো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়েছে।

এই ফোনালাপের সময়ই আবুধাবিতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রায় চার বছর ধরে চলা সংঘাতের অবসান নিয়ে নতুন দফার আলোচনায় বসেন রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।

ক্রেমলিন জানায়, ফোনালাপে পুতিন ও সি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে নিজেদের ‘মতামত’ বিনিময় করেন। একই সঙ্গে ইরানের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

-কথোপকথন কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?- এই ফোনালাপগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী বার্তা দিচ্ছে?-

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন আগামী ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে বেইজিং সফরের পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আগ্রহী।

এ ছাড়া, পুতিন আগামী নভেম্বর মাসে সি চিনপিংয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) আঞ্চলিক সম্মেলনেও অংশ নেবেন।

এই ফোনালাপগুলো এমন এক সময় করা হলো, যখন সি চিনপিং সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেছেন। এর উদ্দেশ্য একটাই— ওয়াশিংটনের বিকল্প হিসেবে চীনকে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং নিজেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প— দু’জনের কাছ থেকেই সম-দূরত্বে রাখার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষক হো।

তিনি এএফপিকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি যেভাবেই মোড় নিক না কেন, চীন যেন কোণঠাসা অবস্থায় না পড়ে— সে জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসর বাড়াতে চাইছে বেইজিং।

এদিকে চীন সাম্প্রতিক এক দুর্নীতি তদন্তে নড়বড়ে অবস্থায় আছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জাং ইউশিয়াকে ঘিরে তদন্ত শুরু হওয়ায় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপগুলোর সময় নির্বাচন সি’র জন্য অভ্যন্তরীণভাবে আত্মবিশ্বাস প্রদর্শনের কৌশল হতে পারে।

সি চিনপিংয়ের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে হো বলেন, দেশের ভেতরে অনিশ্চিত ও নাজুক পরিস্থিতির মুখে ‘দুই দিকেই যোগাযোগ’ বা তথাকথিত ‘টু-টাইমিং’ কলগুলো ছিল মূলত বিশ্বমঞ্চে অভ্যন্তরীণ বার্তা দেওয়ার প্রয়াস।

কয়েকজন বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ককে ‘অটুট’ বলা যাবে না। কারণ বেইজিং ও অনিশ্চিত ট্রাম্প প্রশাসন— উভয় পক্ষই পরস্পরের কাছে এমন কিছু দাবি তুলতে পারে, যা বাস্তবায়নযোগ্য নাও হতে পারে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ইউ সু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা চীন— কোনো পক্ষই রাশিয়ার প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিশীল হবে না। কারণ দু’দেশই মূলত নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় কোনো চুক্তি বিনিময় না করা হলে, চীনের অর্থবহ সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।   স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (২৫ জুন) দেশটির রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় পরপর দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।   ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভেরস (ইউএসজিএস) বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে; এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।   ইউএসজিএস বলছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছে যে মৃতের সংখ্যা সম্ভবত ১০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে হতে পারে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে রাজধানী কারাকাসে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
নরেন্দ্র মোদি ও আয়াতুল্লাহ খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্যই শান্তি বজায় রেখেছে : রাশিয়া

ছবি : সংগৃহীত

নিজের ৩ পরকীয়ার কথা জানালেন স্বয়ং বিল গেটস

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তন, যা জানা জরুরি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) একটি বিধিমালা তৈরি করেছে। এতে দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বাতিল করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অবস্থানের নিয়ম চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর হতে পারে। এ নিয়ম এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসাসহ অন্যান্য কিছু ভিসা শ্রেণির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।   বর্তমানে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে নিবন্ধিত থাকা সাপেক্ষে পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। ফলে তারা প্রয়োজনে কোর্সের সময় বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, বিষয় পরিবর্তন, স্নাতক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অগ্রসর হওয়া কিংবা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) ও স্টেম ওপিটি সম্পন্ন করার সুযোগ পান।   তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অনুমোদিত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। চার বছরের বেশি সময়ের কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে হলে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) কাছ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন নিতে হবে।   এ বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকান ইউনিভার্সিটিজ (এএইউ), আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশন (এসিই) এবং নাফসা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট মেয়াদের ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক চাপও বাড়াবে।   তবে আপাতত বর্তমান নিয়মই বহাল রয়েছে। চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আগের মতোই ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের আকাশে ঐতিহাসিক মুহূর্ত: যুদ্ধবিমানের কড়া পাহারায় নামলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ছত্তিশগড়ে খনিজ অনুসন্ধানে বড় সাফল্য, মিললো ৫টি হীরা

ছবি : সংগৃহীত

ইরান-শিয়া শক্তি নয়, সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোই ইসরায়েলের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ: দাবি শীর্ষ জায়নবাদী নেতার

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন চিপ ছাড়াই বিশ্বজয়: বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার বানালো চীন

প্রায় এক দশক ধরে চলে আসা যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের খেতাব ছিনিয়ে নিয়েছে একটি চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কম্পিউটার। নিজস্ব প্রযুক্তিতে উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের যে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, এই অর্জন তারই একটি বড় প্রমাণ।    জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত অন্যতম বৃহৎ কম্পিউটিং সম্মেলন ‘আইএসসি’-তে বহুল প্রতীক্ষিত ‘টপ৫০০’ তালিকার সর্বশেষ সংস্করণে ‘লাইনশাইন’ নামক এই সুপারকম্পিউটারটি শীর্ষস্থান দখল করেছে।    ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো চীনা সুপারকম্পিউটার এই তালিকার শীর্ষে এলো। ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার প্রকাশিত এই তালিকাটিকে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটিং পরাশক্তিদের শক্তির একটি অনানুষ্ঠানিক স্কোরবোর্ড বা মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে ‘লাইনশাইন’ মার্কিন জ্বালানি বিভাগের পূর্ববর্তী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সুপারকম্পিউটার এল ক্যাপিটান-কে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিয়েছে।    চীনের শেনঝেন শহরে স্থাপিত এই কম্পিউটারটি প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ২.২ ‘এক্সাফ্লপ্স’ গতিতে গণনা বা হিসাব-নিকাশ করতে সক্ষম। এই অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—‘লাইনশাইন’ সম্পূর্ণভাবে চীনের নিজস্ব নকশায় তৈরি প্রসেসর দিয়ে নির্মিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সুপারকম্পিউটারগুলো সচরাচর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি চিপের ওপর নির্ভর করলেও চীন এখানে কোনো মার্কিন চিপ ব্যবহার করেনি।   অবশ্য এই তালিকায় এখনো শীর্ষ চারটির মধ্যে তিনটি স্থানই ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি’তে স্থাপিত ‘এল ক্যাপিটান’ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানির ‘জুপিটার বুস্টার’ শীর্ষ পাঁচের একদম শেষ স্থানটি দখলে রেখেছে।    সূত্র: দ্য ডন 

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬

রহস্যে ঘেরা ২ হাজার বছরের পুরনো লোহাগড় দুর্গ

বিজয়কে ছেড়ে যাননি তৃষা!

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী

0 Comments