জাপানের নান্দনিক মাউন্ট ফুজিকে পটভূমিতে রেখে চেরি ব্লসম বা সাকুরা উৎসবের যে চোখজুড়ানো দৃশ্য পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ছিল, তা এবার বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠায় কর্তৃপক্ষ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জাপানের মধ্যাঞ্চলীয় ইয়ামানাশি অঞ্চলের ফুজিইয়োশিদা শহর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হওয়া এই জনপ্রিয় উৎসবটি এ বছর হচ্ছে না। সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে এই উৎসবে। শহর কর্তৃপক্ষের মতে, পর্যটকদের ভিড়ে স্থানীয়দের ‘শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা হুমকির মুখে’ পড়েছে।
জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান কমে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটকদের কাছে দেশটি ভ্রমণের আকর্ষণ বেড়েছে। ফলে ২০২৫ সালে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ পর্যটক জাপান সফর করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালেও দেশটিতে রেকর্ড প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ পর্যটক এসেছিলেন।
তবে এই পর্যটক জোয়ারের কারণে কিয়োটোর মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানে ছবি তোলার জন্য পর্যটকদের বিরুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পরিহিত গেইশাদের বিরক্ত করার অভিযোগও উঠেছে।
ফুজিইয়োশিদা শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশি পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ে শহরে সবসময় যানজট লেগে থাকছে। যত্রতত্র সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলা হচ্ছে। এমনকি নাগরিকদের ব্যক্তিগত বাগানে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং সেখানে মলমূত্র ত্যাগের মতো বিব্রতকর ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে।
এক বিবৃতিতে ফুজিইয়োশিদার মেয়র শিগেরু হোরিউচি বলেন, ‘মাউন্ট ফুজির এই সুন্দর দৃশ্যের পেছনে লুকিয়ে আছে নাগরিকদের বিপন্ন জীবনের এক রূঢ় বাস্তবতা। আমরা গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিকদের মর্যাদা এবং বসবাসের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আমরা ১০ বছরের পুরোনো এই উৎসবটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তবে শহর কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, উৎসব বাতিল হলেও বসন্তের আগমনে পর্যটকদের ভিড় পুরোপুরি থামানো যাবে না। কারণ উৎসবের মূল কেন্দ্র পার্কটি থেকে মাউন্ট ফুজি, চেরি গাছ এবং একটি পাঁচতলা প্যাগোডার যে চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়, তা পর্যটকদের টানেই।
মাউন্ট ফুজি বরাবরই পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। ভিড় সামলাতে নিকটবর্তী শহরগুলো এর আগে ছবি তোলার জায়গায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এছাড়া পাহাড়ে ওঠার জন্য ফি নির্ধারণ এবং প্রতিদিন আরোহীদের সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসের পক্ষে একাধিক নতুন ও ব্যয়বহুল সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়া কঠিন বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বড় পরিসরে ও সাহসী উদ্যোগ নেওয়াই সংকট কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে ভালো পথ। এরই অংশ হিসেবে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি মহাদেশে দুটি নতুন অপেরার বিশ্ব-প্রিমিয়ারের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এই উচ্চাভিলাষী আয়োজনের শেষ ধাপ হিসেবে সোমবার মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’। জর্জ সন্ডার্সের বুকার পুরস্কারজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই অপেরায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ব্যক্তিগত শোকের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা লিংকন কীভাবে তার ১১ বছর বয়সী ছেলের মৃত্যুশোক সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন, তা-ই এই গল্পের মূল বিষয়। উদীয়মান মার্কিন সুরকার মিসি মাজোল্লির লেখা ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ মঞ্চস্থ হওয়ার আগে ওয়ারশতে মেট অপেরার অর্থায়নে নির্মিত ‘দ্য মাদার্স অব খেরসন’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে। ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের সেই মায়েদের গল্প নিয়ে অপেরাটি নির্মিত, যারা রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অপহৃত সন্তানদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। ১৪৩ বছরের পুরোনো মেট অপেরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ বর্তমান বিভক্ত মার্কিন সমাজের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি কাজ। অন্যদিকে, ‘দ্য মাদার্স অব খেরসন’ এমন একটি যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরে, যা এখনো বিশ্বরাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। মেট অপেরার মহাব্যবস্থাপক পিটার গেল্ব এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সংকট ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো সাহসী উদ্যোগ নেওয়া এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেট যে অপরিহার্য, তা প্রমাণ করা।’ তিনি বলেন, নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার অর্থ হবে ‘নিশ্চিত ব্যর্থতা’। পিটারের ভাষায়, ‘এই মহান প্রতিষ্ঠানকে চিরস্থায়ী করে রাখাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এসব পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। শনিবার সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করলে বিশ্ব অর্থনীতি, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করতে প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের সময় নিতে চান।’ তিনি উল্লেখ করেন, এসব অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের প্রভাব শুধু রাশিয়ার ওপর নয়, আরও কয়েকটি দেশের ওপরও পড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাত জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন রুবিও। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। রুবিও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাতগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব শুধু বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের দামেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।’ শনিবার রাতে ট্রাম্প বলেন, তার এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তবে এ বিষয়ে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বুঝে নেব, আপনারাও জানতে পারবেন। এটি একটি খুব ভালো সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য ভালো হবে, এমনকি বিশ্বের জন্যও ভালো হবে।’ গত মাসে কংগ্রেসে পাস হওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ থেকে দেশটিকে অব্যাহতি দিয়ে গত শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতারাই ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অথচ গত মাসেই কংগ্রেসে গৃহীত আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাগুলো চলতি মাসে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া এবং ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ওই আইনে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ধনকুবের এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছিল। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সমর্থকদের অর্থের জোগান বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এসব পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে, শুক্রবার রাতে ট্রাম্প রাশিয়াকে এসব অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের আওতামুক্ত করেন। ট্রাম্পের নিয়মিত সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ পদক্ষেপকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা রয়েছে। টিলিস লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যদি সত্যিই জ্বালানির দাম কমাতে চান, তাহলে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেখানোর পরিবর্তে ইরান-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারেন।’ টেক্সাসের জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজও ফক্স নিউজে দেওয়া মন্তব্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ক্রেমলিন প্রধান পুতিনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ট্রাম্প এই নির্বাহী আদেশ দেন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। আগামী মাসে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও বাড়ছে। জনমত জরিপগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির বিষয়ে রুবিও বলেন, ‘পুতিন যে ডিজেল বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন, সেটি কোনো না কোনোভাবে বিশ্ববাজারে আসত। পার্থক্য শুধু এতটুকু—যুক্তরাষ্ট্র সেই ডিজেলের কতটা পেত।’ যুক্তরাষ্ট্রের সড়কপথে পণ্য পরিবহন, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ পুতিনকে পুরস্কৃত করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।
কৃষ্ণসাগরে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন দ্বিগুণ করে ২০২৭ সালে দৈনিক ২ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রথম ভাসমান গ্যাস উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম ‘ওসমান গাজি’ চালুর মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে এগোচ্ছে আঙ্কারা। শনিবার ফিলিওস বন্দর থেকে প্ল্যাটফর্মটি কৃষ্ণসাগরে নির্ধারিত স্থানের উদ্দেশে যাত্রা করে। এ উপলক্ষে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, দেশের জ্বালানি ইতিহাসে এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ‘ওসমান গাজি’তে গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করার ২১টি ইউনিট রয়েছে। সাকারিয়া গ্যাসক্ষেত্রের কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস এই প্ল্যাটফর্মে প্রক্রিয়াজাত করে সমুদ্রের তলদেশের পাইপলাইনের মাধ্যমে ফিলিওসে পাঠানো হবে। তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারস্লান বায়রাকতার বলেন, এটি দেশটির প্রথম ভাসমান প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সাকারিয়া গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস জ্বালানোর টাওয়ার চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তুর্কি পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের দৈনিক তেল উত্তোলন ১০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। সূত্র: শাফাক নিউজ