দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, লাখো মামলা, অমানবিক নির্যাতন আর জেল-জুলুম পার করে অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ।
রাজপথের অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা আজ নিজেদের দলেই ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তরুণদের প্রভাব বাড়তে থাকায় অভিজ্ঞরা পড়ছেন ছিটকে। তবে হতাশার এই ঘোর অন্ধকারের মাঝেই উঁকি দিচ্ছে নতুন আশার আলো।
জানা গেছে, ঈদুল আজহা ও বাজেট অধিবেশনের পর মন্ত্রিসভার যে সম্প্রসারণ হতে যাচ্ছে, সেখানে দলের এই ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের মূল্যায়নের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারির বিপুল নির্বাচনী বিজয়ের পর যখন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়, তখন অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন। দলের যে প্রবীণ নেতারা বিগত দেড় যুগ ধরে বুক চিতিয়ে দলকে আগলে রেখেছিলেন, তাঁদের অনেকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।
২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ছয়জন পূর্বে বিএনপি সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা প্রথম দফার মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে মির্জা আব্বাসকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি। প্রবীণ নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার করে কার্যত দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে তিনি স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগও করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণীতে এখন লন্ডনভিত্তিক তরুণ নেতাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সরকার বা দল পরিচালনার মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এখন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। অনেক সিনিয়র নেতার মতে, তারেক রহমান বিশ্বাস করেন বিদেশ থেকে শিক্ষিত এই তরুণরা আরও আধুনিক ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা নিয়ে এসেছেন এবং দলের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তাঁরাই বেশি যোগ্য। একসময় প্রভাবশালী থাকা সিনিয়র নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অস্বস্তিবোধ করেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতার ভাষায়, 'পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, চেয়ারম্যান নিজেই বয়স্কদের অবসরে পাঠাচ্ছেন'। এই পরিবর্তনের আভাস পেয়ে খোদ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বয়সের কারণ দেখিয়ে শিগগিরই অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, 'আমার বয়স বাড়ছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছি। এখন একটি পরিবর্তন দরকার।'
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে দেড় লাখ মামলায় আসামি করা হয়েছে। যাদের অনেকেই আজ নিস্ব। বাড়িঘর, জমিজমা, এমনকি গবাদিপশু বিক্রি করে, ঢাকায় রিকশা চালিয়েও অনেকে আন্দোলনের খরচ জুগিয়েছেন। আতঙ্কে অসংখ্য রাত কেটেছে ধানখেতে, খোলা আকাশের নিচে, সুপারি বাগানে কিংবা কবরস্থানে।
দলের অনেক ত্যাগী নেতার অভিযোগ, দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলে ত্যাগের স্বীকৃতি মিলবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও সরকার গঠনের পর তাঁদের ভাগ্য বদলায়নি। বরং আন্দোলনের সময় যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীই এখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নিচ্ছে।
ত্যাগী নেতাদের বঞ্চনার অন্যতম উদাহরণ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা রিজভীকে মন্ত্রী না করে কেবল উপদেষ্টা করা অনেকেই বিস্মিত। সাড়ে চারশ মামলার আসামি হাবিব উন নবী খান সোহেল দীর্ঘ সময় কারাগার ও আদালতে কাটালেও তাঁকে এখনো কোনো পদে মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিন শতাধিক মামলার আসামি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিনা চিকিৎসায় তাঁর একটি কিডনি অকেজো হয়েছে। ২০০১ সালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিদ্ধ আলাল এখনো শরীরে গুলির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। মায়ের মৃত্যুর সময় কারাগারে থাকায় শেষবার মায়ের মুখটাও দেখতে পারেননি। এত ত্যাগের পরও সরকারে তাঁকে মূল্যায়ন না করায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
অবশ্য আলাল এখনো আশাবাদী। তিনি বলেন, 'তারেক রহমান নিজে আমাদের ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি সবকিছু অবগত রয়েছেন। চেয়ারম্যান যথাসময়েই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।'
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'আমাদের দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর ত্যাগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সবেমাত্র সরকার গঠন হয়েছে। দেশ গঠনের কাজ চলমান। আশা করি একটা সময় কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়িত হবেন।'
সরকারের পাশাপাশি দলের ভেতরেও বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। এ বছরের শেষের দিকে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে দলের প্রভাবশালী মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরবর্তী মহাসচিব হতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
স্থায়ী কমিটি থেকেও বয়স্ক ও অসুস্থ নেতাদের সরিয়ে তরুণদের জায়গা দেওয়া হতে পারে। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং সেলিমা রহমানকে স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ী কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া নব্বইয়ের দশকের ছাত্র আন্দোলনের অনেক নেতা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে জায়গা পেতে পারেন।
সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মূল্যায়নের সম্ভাবনা প্রাথমিক বঞ্চনা ও হতাশার মধ্যেই দলের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য সুসংবাদ হিসেবে আসছে আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ। সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, জনবান্ধব ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে ঈদুল আজহা এবং বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে যাচ্ছে। আর এই সম্প্রসারণেই দলের পোড়খাওয়া ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।
সূত্রমতে, নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েক দশকের অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের দেখা যাবে। নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মন্ত্রিসভায় কোনো প্রতিনিধি না থাকায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ছয়বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।
এছাড়া তৃণমূলের দাবি মেনে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের মতো হেভিওয়েট নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকেও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
এর বাইরে হুইপের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পাবনার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং কুমিল্লার অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তরুণ ও উদীয়মান নেতাদেরও সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছেন খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল এবং ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম বাবুল। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও দুই-একজনকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার পরিচালনার শুরুতেই প্রবীণ ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে তরুণদের ওপর নির্ভরতা দলে কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের সৃষ্টি করেছিল। তবে তারেক রহমান খুব ভালো করেই জানেন, শুধু তারুণ্যের উচ্ছ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র চালানো সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রবীণদের মেধা, প্রজ্ঞা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ সেই ভারসাম্য রক্ষারই একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। রাজপথে রক্ত ঝরানো এই প্রবীণ ও ত্যাগী নেতারা যদি সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় যথাযথভাবে মূল্যায়িত হন, তবে দলের ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশা যেমন দূর হবে, তেমনি দেশ গঠনেও তা এক নতুন মাত্রার যোগ করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ১০ নেতা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে যোগদান করেছেন। রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। এ সময় নবাগত নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরআগে বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে তারা পদত্যাগ করেন। সদ্য যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি জামালুদ্দীন মাহমুদ, মহিলা ও পরিবারবিষয়ক সম্পাদক, পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কারী আব্দুল কাদির। এছাড়াও হাফেজ এমদাদুল হক, হাফেজ আসাদুজ্জামান মারুফ, হাফেজ ফয়জুর রহমান, হাফেজ উসমান গনি, মোহাম্মদ সুধীন মিয়া, হাফেজ শাহ আলম এবং মাওলানা আনসারুল হক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে যোগদান করেন। এসময় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও অপসারিত ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা হারুনুর রশীদ তালুকদার ফারুকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ আলী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি হাবিবুল্লাহ সিদ্দিকী, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আলমগীর হোসেন ও যুব জমিয়ত কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। যোগদানকারী মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, দলের দায়িত্বশীলদের আচার-আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে দল ত্যাগ করেছি। ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পতাকা তলে থেকে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম একটি প্রাচীন সংগঠন। তারা স্বেচ্ছায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে পদত্যাগ করে আমাদের দলে যোগদান করায় তাদেরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমরা তাদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ ইসলামের খেদমতে কাজ করে যাব।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিক পরিচয়ে যারা গণহত্যা, ভোট চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা এবং সম্মতি উৎপাদন করেছেন, সেসব সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জাতীয় সংসদে জানতে চান এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (৭ জুন) সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন। জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কেউ আইনের বিপক্ষে কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় সাংবাদিকতা করা খুবই কঠিন ছিল। সেই সময়েও অনেক পেশাদার সাংবাদিক পেশাদারি দায়িত্ব পালন করে গেছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যারা গণহত্যা, যারা ভোট চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতি—সেগুলোর বৈধতা এবং সম্মতি উৎপাদন করেছে মিডিয়াগুলোতে এবং যারা আজকে সরকার দলে আছে বিএনপি, বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উনাকেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারী, দেশদ্রোহী হিসেবে...আমরা দেখেছি বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া বিভিন্ন সময় নিউজ করেছে এবং আজকে যারা বিএনপি এবং জামায়াত আছে আমাদের এই সংসদে, তাদেরকেও বিভিন্ন সময় হত্যা করার সম্মতি উৎপাদন করেছে কিছু মিডিয়া এবং কিছু নামধারী সাংবাদিক।’ এই সাংবাদিকদের এখন আবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন টিভি’ থেকে জুলাইয়ের পক্ষের যারা সাংবাদিক ছিলেন তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সময় টিভিকে দখল করা হয়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া অর্থাৎ বসুন্ধরা গ্রুপের যে মিডিয়াগুলো রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যাচ্ছে। গতকাল নোয়াখালীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে পিটিয়েছে, সেটাকে উদ্যাপন করতে দেখা গেছে বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়াকে এবং কিছু ‘টক-শোজীবী’কে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীর কাছে প্রশ্নটি হচ্ছে, যারা এই গুম–খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, ভোট চুরির বৈধতা উৎপাদন করেছে; গণতন্ত্রের পক্ষে যারা ছিল, তাদের হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছে—এই সব নামধারী সাংবাদিক এবং এই মিডিয়াদের বিপক্ষে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আইনি ব্যবস্থা আদৌ নেওয়া হয়েছে কি না? কেন তাদের আবার পুনর্বাসন করা হচ্ছে? সেটির আইনগত ব্যাখ্যাটি কী?’ জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করার কাজ করবে, কোনো সন্ত্রাসের কাজ করবে; সে যে–ই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘এখন উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংবাদিকের কার্ড পাওয়া যায়। সে রিপোর্টারও না, ম্যাট্রিক পাসও না। ইউটিউবের মাধ্যমে যা ইচ্ছা তা প্রচার করছে।’ তিনি জানতে চান, ‘এ ধরনের ব্যক্তিদের কে সাংবাদিকের কার্ড দেয়, এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না।’ জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সরকার মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) এবং ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) নিয়ে কাজ করছে। যারা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রকম মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন। এ বিষয়ে একটি টিম করা হয়েছে। মনিটরিং করে তাদের আইনের আওতায় আনা যায় কি না, সে বিষয়ে কাজ চলছে। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালার আলোকেই ভবিষ্যতে সব অনলাইন মিডিয়া ও অনলাইন পোর্টালকে অনুমতি দেওয়া হবে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ৫৮৫টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ৩৬৩টি এবং মাসিক পত্রিকা ২৯৬টি। এর মধ্যে মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক ২৮৮টি, সাপ্তাহিক ৫৬টি ও মাসিক ২৩টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের প্রায় ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা অনুমোদন করেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও আনুষঙ্গিক পারিশ্রমিক এক ধাক্কায় সর্বোচ্চ ১৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য ভর্তুকি দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক মজুরিও বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে একই সময়ে বিমানের প্রধান আয়ের খাত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম জাপানি একটি সংস্থার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে, যা থেকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোশরা ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তার দাবি, বেতন-ভাতা কম থাকায় অনেক কর্মী অন্য এয়ারলাইন্সে চলে যাচ্ছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়বে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেনের স্বাক্ষরিত ২ জুনের এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এতে বলা হয়, গত ২০ মে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমান, বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) এবং বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্সে (বিপিসি) কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো হয়েছে। পে ডিভিশন-৬ ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এভিয়েশন, ট্রেড, ওয়াশিং/কিট, এক্সিকিউটিভ ও এন্টারটেইনমেন্ট ভাতা বিদ্যমান হারের তুলনায় ১৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইভাবে পে ডিভিশন-১ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মচারীদের ভাতাও একই হারে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে উপস্থিতির ভিত্তিতে দৈনিক ২০০ টাকা হারে দেওয়া খাদ্য ভর্তুকি দ্বিগুণ করে ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বকেয়া ভাতাও পরিশোধ করতে হবে। পর্ষদের সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে, বিপিসিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও একই ভাতা কাঠামো প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি বিমান, বিএফসিসি ও বিপিসিতে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক মজুরি অতিরিক্ত ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভাতা বৃদ্ধির আওতায় প্রায় ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরে ভাতা অপরিবর্তিত থাকায় কর্মী সংগঠনগুলো এর পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিন ভাতা অপরিবর্তিত থাকার কারণে এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা, সেবার মান ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না গেলে অতিরিক্ত ব্যয় ভবিষ্যতে আর্থিক চাপে ফেলতে পারে।