অন্যান্য

এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে দুর্যোগ, সতর্কবার্তা জাতিসংঘের

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবী যেন ধীরে ধীরে এমন এক বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমানের কঠিন সত্য। বিশ্বের কোথাও ভয়াবহ দাবদাহে প্রাণহানি ঘটছে, কোথাও দীর্ঘ খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে নদী-নালা, আবার কোথাও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে—পৃথিবী শিগগিরই নতুন একটি এল নিনো পর্বে প্রবেশ করতে পারে, যা ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা এবং খাদ্য সংকটের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

 

এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, নদীনির্ভর জীবনব্যবস্থা এবং উচ্চ জনঘনত্বের কারণে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনও দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলে।

 

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠছে। ডব্লিউএমও মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে এল নিনো ‘আগুনের ওপর ঘি ঢালার’ মতো প্রভাব ফেলতে পারে।

 

২০২৩-২৪ সালের এল নিনো পৃথিবীকে ইতিহাসের উষ্ণতম বছরের রেকর্ড উপহার দিয়েছিল। এবারও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেল সম্ভাব্য শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’র ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এর তীব্রতা নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, বিজ্ঞানীরা একমত যে বিশ্বের বহু অঞ্চলে এর প্রভাব হবে ব্যাপক।

 

বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব সাধারণত তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে দেখা যায়। কখনো স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়, আবার কখনো অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তাপপ্রবাহের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, শ্রমজীবী মানুষ কর্মঘণ্টা কমাতে বাধ্য হয়েছেন এবং হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। নতুন এল নিনো পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

 

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় কৃষি খাত। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো কৃষির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ধান, গম, ভুট্টা, শাকসবজি ও ফল উৎপাদন সরাসরি আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডব্লিউএমও ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

 

বর্তমানে কৃষকরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। এর সঙ্গে যদি খরা ও অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে ফসল উৎপাদন কমে যায়, তবে খাদ্য নিরাপত্তা এবং বাজারমূল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা-সহনশীল ফসল, আধুনিক সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং কৃষি বীমা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।

 

পানিসংকটও বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গেলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। এতে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলেও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ চাপে পড়তে পারে।

 

স্বাস্থ্য খাতেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রোগবাহী মশার বিস্তার ও প্রজনন মৌসুমের পরিবর্তন ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

উপকূলীয় অঞ্চলের জন্যও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বিস্তার এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি আগে থেকেই বিদ্যমান। এল নিনোর প্রভাবে এসব ঝুঁকি আরও জটিল হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং উপকূলীয় জনজীবনের ওপর।

 

তবে আশার বিষয় হলো, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত সাফল্য অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো মোকাবিলা কেবল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি কৃষি, স্বাস্থ্য, পানি, জ্বালানি, নগর পরিকল্পনা এবং অর্থনীতির সমন্বিত চ্যালেঞ্জ। তাই এখনই প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি এবং সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।

 

এল নিনো কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে হয়তো এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি যে বাস্তব এবং ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাধাহীন লংমার্চ, রাজনীতিতে সহনশীলতার ইঙ্গিত

জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের মধ্যেই বিশাল গাড়িবহর নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। তবে জ্বালানি সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে করা এ কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, দেশে যখন জ্বালানি সংকট তীব্র তখন শত শত গাড়ির বহর নিয়ে দীর্ঘ পথের এই লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়া কতটা যৌক্তিক?   লংমার্চ কর্মসূচি থেকে নানান উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কর্মসূচি ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। তারপরও সরকার লংমার্চে কোনো প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করেনি। বরং অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এটিকে ‘সহনশীল রাজনীতির বার্তা’ হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   তারা বলছেন, অতীতে এমনটি দেখা যায়নি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর সরকারের কোনো রকম বাধা ছাড়া বিরোধীদল এত বড় একটি কর্মসূচি পালনের সুযোগ পেলো। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের চিত্র ছিল পুরো উল্টো। তখন বিরোধী দল ও মতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও দমন-পীড়ন চালানো হতো। যা রাজনীতির জন্য ছিল খুবই নেতিবাচক ধারা।   কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সুস্থ রাজনীতির চর্চা শুরু করে। অতীতের পথে হাঁটছে না বর্তমান সরকারের প্রশাসন। বিশ্লেষকরা এ বিষয়টিকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির লংমার্চ, রোডমার্চ, সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়ন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। কর্মসূচির আগে থেকেই চলেছে গণগ্রেফতার। অনেক ক্ষেত্রে কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে লংমার্চ করে ১১-দলীয় ঐক্য। এ লংমার্চে সরকার কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, চেষ্টাও করেনি। এজন্য সরকারকে সাধুবাদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, এটি তো একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমার মনে হয় এ সরকারের নীতিটাই এমন যে, ভিন্ন মত দমন করা হবে না। এখানে ভিন্ন মত প্রচার ও প্রকাশের অবাধ সুযোগ রয়েছে।   তিনি বলেন, তারা (১১-দলীয় ঐক্য) লংমার্চ করেছে, এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকার কোনো বাধা দেয়নি, বাধা দেওয়ার কোনোরকম চেষ্টাও করেনি। আমি এটিকে খুব ভালো লক্ষণ মনে করি। গণতন্ত্রে এটিই হওয়া উচিত। এজন্য আমি সরকারকে সাধুবাদ জানাই। বিরোধীদলকে বলবো, আপনারা প্রতিবাদ করেন; তবে তা সুশৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে করেন।   লংমার্চের আগে জোটের নেতারা ধারণা করেছিলেন হয়তো অতীতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সরকার হয়তো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সেজন্য তারা কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকারও তাদের যাত্রাপথে কোনো রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি। তারা পথসভা করেছে, সরকারের সমালোচনা করেছে এবং নির্ধারিত সমাপনী কর্মসূচিও পালন করেছে।   জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, জামায়াত আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। তারা ছয় মাসের একটি সরকারকে পতন ঘটানোর দাবি তুলছে। এটি তো দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।   তিনি বলেন, তবে বিএনপি সরকার লংমার্চ করার জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে ও কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে উদারতার প্রমাণ দিয়েছে। যেটি আমরা বিগত সরকারের সময় দেখিনি।   অতীত কী বলে? ১৯৯৮ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে বিএনপির লংমার্চ কাঁচপুরে আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, ২০২৩ সালের ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি এবং ২০২৪ সালের কালো পতাকা মিছিলেও বাধার মুখে পড়তে হয় বিএনপিকে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয় হামলাও।   ২০১০ সালে বিএনপি চট্টগ্রামে লংমার্চ করে। ওই লংমার্চে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বড় রকমের বাধা দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করা হয়। ২০১২ সালে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে করা লংমার্চে গাড়ি বহরে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। কয়েক জেলার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। ২০১৪ সালে তিস্তা লংমার্চেও সরকার বাধা দেয়। ২০২৪ সালে সিপিবি-বাসদের লংমার্চেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সরকার।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকার সমালোচনা নিতে পারতো না। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী দল যেসব লংমার্চ ও রোডমার্চ করেছে সেগুলোয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করতো। যার মধ্যে রয়েছে, গণগ্রেফতার, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, রেল-নৌ-সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া।   এমনকি তখন কর্মসূচি ঘিরে নির্ধারিত তারিখের আগে-পরে অঘোষিত সরকারি হরতাল চলতো। চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির নামে হয়রানি করা হতো। গোয়েন্দা নজরদারির নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। এছাড়া সমাবেশস্থল বারবার পরিবর্তন করানো হতো। সমাবেশের জন্য সরকারের অনুমিত মিলতো না। অনুমতি মিললেও স্থান পরিবর্তনের নামে চলতো নানান টালবাহানা।   সেই অভিজ্ঞতার বিপরীতে ১১ দলের লংমার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে কোনো বাধার মুখে পড়েনি। ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া লংমার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন জোটের নেতারা। সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য, দাবি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির কর্মসূচি হওয়া সত্ত্বেও তা প্রশাসনিক বা দলীয় শক্তি দিয়ে ঠেকানো হয়নি।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই লংমার্চ অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে—রাজনৈতিক বিরোধিতার জবাব বাধা বা হামলা দিয়েই দিতে হবে, এমন নয়। সরকার বিরোধী দলের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেও তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ দিতে পারে। এ চর্চা অব্যাহত থাকলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও সহনশীল সংস্কৃতি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৪ বোয়িং কেনার চুক্তি জনসম্মুখে আনার দাবি, সরকারকে নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ বিএনপির নসিহত আমাদের লাগবে না: সারজিস আলম

ছবি: সংগৃহীত

লংমার্চ রাজপথের ষড়যন্ত্র, গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।   রোববার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠক শেষে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হলো। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে অলি আহমদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়। জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদ ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদই রাষ্ট্রপতি পদে জোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই প্রবীণ রাজনীতিক এর আগে মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জোটের নেতাদের বৈঠকের পর তার প্রার্থিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসে। জোটের পক্ষ থেকে তাকে একক প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ঘোষণা করায় নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা তৈরি হয়। একই সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্বাচন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। ফলে সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং প্রার্থীর প্রতি দলীয় সমর্থন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের নাম ঘোষণার ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। ফলে ২০ আগস্টের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার মেয়ে শামারুহ মির্জা। ফাইল ছবি

বাবাকে নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া বার্তা দিলেন ফখরুলকন্যা

ছবি: সংগৃহীত

জনগণ এই সরকারকে আর ছাড় দেবে না: গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগৃহীত

দুই-তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ ‘গাড়িগুলো কি পানিতে চলে’ : শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি : জামায়াতে ইসলামীর আমির

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।   শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ শেষে সমাপনী সমাবেশে তিনি বলেন, “জনগণের যখন প্রয়োজন হবে, ডাক তখনই আসবে।”   বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এতগুলো মানুষ মারা গেল। তাদের দলেরও প্রচুর লোক মারা গেছে। গুম হয়েছে। আয়নাঘরে বন্দি হয়েছে। এই মানুষগুলোর রক্ত আর জীবনের প্রতি কি আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই?   “আফসোস, ক্ষমতায় বসেছেন ছয় মাস। বলেন যে, আমাদের সরকার শিশু সরকার। জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দেয় নাই। প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আপনারা ভোট নিয়েছেন। কথা দিয়েছেন। এখন সবকিছু লঙ্ঘন করছেন।”   জামায়াতের আমির বলেন, “আপনারা উল্টাপাল্টা করবেন। আর বিরোধী দল বসে বসে আঙ্গুল চুষবে এটা হবে না। এখন পর্যন্ত আঙ্গুল আমাদের সোজা। প্রয়োজনে এটা বাঁকা হবে। আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরাতো চাই নাই। আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে এবং সংসদের ভিতরেই তার ফয়সালা হবে।   “আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছেন। প্রতারণা করেছেন। বিরোধী দল জনগণের সাথে প্রতারণা করবে না।”   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এদিন ‘লং মার্চ’ করছে ১১ দলীয় ঐক্য।   শনিবার সকালে ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এ লং মার্চ রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে পাশে রেখে মির্জা আব্বাসের আবেগঘন বক্তব্য, ‘দলের ভেতরে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তা

আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালে আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে গেলেন রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

আপনি যত চোর নিয়ে বিদেশে গেছেন সবাইকে নিয়ে আসেন: গয়েশ্বর

0 Comments