বিশ্ব

ইরানের ভেতরে ‘নতুন শক্তি’ তৈরি হয়েছে: সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৯, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক হামলা মোকাবিলা করার পর ইরানের মধ্যে ‘নতুন ধরনের শক্তির অনুভূতি’ তৈরি হয়েছে।

 

এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন কেরি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন আলোচকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। খবর আল জাজিরার।

 

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে সামরিক হামলা হয়েছে, তা মোকাবিলা করতে পারায় ইরানের মধ্যে নতুন এক ধরনের শক্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে।’


কেরি আরও বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ কৌশল খুব ভালোভাবে বোঝে এবং বিশ্বের যেকোনো দেশের মতোই দক্ষতার সঙ্গে তা ব্যবহার করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহেও আমরা সেটিই দেখেছি।

 

২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা কেরি। তিনি ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির প্রধান আলোচকও ছিলেন। বর্তমানে ওই চুক্তি প্রায় অকার্যকর।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ভেতরে ‘নতুন শক্তি’ তৈরি হয়েছে: সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক হামলা মোকাবিলা করার পর ইরানের মধ্যে ‘নতুন ধরনের শক্তির অনুভূতি’ তৈরি হয়েছে।   এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন কেরি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন আলোচকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। খবর আল জাজিরার।   তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে সামরিক হামলা হয়েছে, তা মোকাবিলা করতে পারায় ইরানের মধ্যে নতুন এক ধরনের শক্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে।’ কেরি আরও বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ কৌশল খুব ভালোভাবে বোঝে এবং বিশ্বের যেকোনো দেশের মতোই দক্ষতার সঙ্গে তা ব্যবহার করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহেও আমরা সেটিই দেখেছি।   ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা কেরি। তিনি ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির প্রধান আলোচকও ছিলেন। বর্তমানে ওই চুক্তি প্রায় অকার্যকর।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জার্মানিতে বন্দুকধারীর তাণ্ডব, নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফ্যান জোনে গুলি, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বৈঠক কবে? জানালেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
চার মাসে ইসরায়েলে ৪ হাজার ৮০০ সাইবার হামলা চালিয়েছে ইরান

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর গত চার মাসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি সাইবার হামলা চালিয়েছে ইরানি হ্যাকাররা বলে দাবি করেছেন দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টোরেটের পরিচালক ইয়োসি কারাদি।   জার্মান দৈনিক দাই ওয়েল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে কারাদি বলেন, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ইরানি হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল সিস্টেমকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক সাইবার হামলা চালিয়েছে।   তিনি বলেন, “অনেক ইসরায়েলি কোম্পানি তাদের কম্পিউটারে সংরক্ষিত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়েছে। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওয়েবসাইট লক্ষ্য করে চালানো বড় ধরনের হামলাগুলো আমরা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছি।”   কারাদির ভাষ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর সময়ই প্রথমবারের মতো ইরানি হ্যাকাররা সমন্বিতভাবে ইসরায়েলের সরকারি ওয়েবসাইট ও সাইবার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। সে সময় ১২ দিনের সংঘাতে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছিল।   তিনি আরও বলেন, “এবার হামলা চালানো কয়েকটি হ্যাকার গোষ্ঠী অত্যন্ত দক্ষ। তাদের মোকাবিলা করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে, তবে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ বাস্তব যুদ্ধের মতো সাইবার জগতে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।”   ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি সাইবার অঙ্গনেও সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং বেসরকারি খাতকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।   সূত্র: রয়টার্স

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে নিহত ২৯

ফাইল ছবি

কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও ইসরায়েল থেকে যুদ্ধাস্ত্র কিনেছে সৌদি ও কাতার!

উদ্ধার হওয়া শিশু মোইসেস। ছবি: সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮৫ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই শিশু

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি : সংগৃহীত
সেনা প্রত্যাহারের সুস্পষ্ট সময়সূচি ছাড়া চুক্তি টেকসই হবে না: ইরান

লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, স্থায়ী শান্তি চুক্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এটি একটি অপরিহার্য শর্ত। রোববার (২৮ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। তিনি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রথম ধারা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন। বাঘাই বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি তার অবস্থান স্পষ্ট করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, লেবাননের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং দেশটির সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোন স্থায়ী শান্তি চুক্তির মৌলিক শর্ত। তিনি আরও বলেন, ইরানের এই অবস্থান জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। লেবাননের সার্বভৌমত্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান ছাড়া কোনো চুক্তিই টেকসই হতে পারে না। বাঘাই জানান, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এবং ১৮ জুনের সমঝোতা স্মারক উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের অবস্থান একই ছিল। তিনি বলেন, ইরান শুরু থেকেই লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধকে মূল শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে আসছে এবং এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও আহ্বান জানান, যাতে ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইসরায়েলকে লেবাননে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধে বাধ্য করে। প্রসঙ্গত, ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১৪ দফা একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার লক্ষ্য সীমান্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসন। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৪৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৯০ জন আহত হয়েছেন।

মারিয়া রহমান জুন ২৮, ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এএফপি

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ঘোষণা ইরানের

ইসরায়েল-লেবানন চুক্তিকে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

আফগানিস্তানে ৪০০ একর পপি ক্ষেত ধ্বংস, জব্দ সাড়ে ৩ কেজি হাশিশ

0 Comments