সারাদেশ

রাঙামাটিতে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার আম

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কেবল সংরক্ষণের অভাবে রাঙামাটিতে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার আম। পাকা আম দ্রুত পচে যায়; কিন্তু রাঙামাটিতে দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে পরিবহণ ও বাজারজাত সম্ভব হয় না। সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোথাও নেই হিমাগার, গড়ে ওঠেনি কৃষিজাত খাদ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা। ফলে প্রতি বছর আমসহ রাঙামাটিতে উৎপাদিত বিপুল ফলমূল পচে নষ্ট হয়ে যায়।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, মৌসুমি ফল উৎপাদনে দেশের পার্বত্য অঞ্চলের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে কাঁঠাল, লিচু ও আনারসের পাশাপাশি এখন বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে আমের উৎপাদন। চলতি মৌসুমে রাঙামাটি জেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা ৪০ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে; কিন্তু অধিক ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের কপালে ভাঁজ। বিশেষ করে জেলার কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পরিবহণ ও বাজারজাতের সংকটে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না স্থানীয় বাগান মালিক ও কৃষকরা।

 

অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলমূল সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোথাও গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় হিমাগার ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা। ফলে প্রতি মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত কয়েকশ কোটি টাকার আম নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় সঠিক সময়ে পরিবহণ করতে না পারায় বাগানেই বিপুল পরিমাণ আম পচে নষ্ট হয়ে যায়, যা স্থানীয় চাষিদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ। মৌসুমে ভালো ফলন হলেও সংরক্ষণের অভাবে বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম পান না। অথচ অধিক ফলনে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আম বিদেশেও রফতানি শুরু হয়েছে। ঢাকায় চলতি মৌসুমে পাহাড়ের ফলমূল নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ফলের মেলা।

 

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার টন। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ইতোমধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ২৮৫ টন। ফলন বেশি হওয়ায় রাঙামাটিতে বিদেশি জাতের আম আবাদে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা। কমছে দেশি জাতের আমের আবাদ।

 

বর্তমানে রাঙামাটিতে রাংগুয়াই (মিয়ানমারের জাত), আম্রপালি (ভারতের জাত), বারি-৪, মিয়াজাকি বা সূর্যডিম, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ব্রুনাই কিং ও কাটিমনের মতো বিশ্বখ্যাত ও দামি বিদেশি জাতের আমের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠছে। তবে দেশি জাতের মধ্যে হাড়িভাঙা আমের আবাদও যথেষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে সুস্বাদু আম্রপালি বাজারের শেষভাগে আসায় এর চাহিদা ও কদর সবচেয়ে বেশি বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা।

 

জেলা সদরের বনরুপা সমতাঘাটে গিয়ে দেখা যায়, আমের দাম কম। উৎপাদন বেশি হলেও পরিবহণ সংকট ও সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় এ বছর আমের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে জানান বাগান মালিকরা। বর্তমানে স্থানীয় হাটে খুচরা দামে রাংগুয়াই আম ১০০ টাকায় ৪-৫ কেজি পাওয়া যাচ্ছে। আর আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায় ২-৩ কেজি। পাইকারি দাম আরও অনেক কম। তবে ব্যানানা ও সূর্যডিম জাতের আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০-১৫০ টাকায়।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটির অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) অরুণ চন্দ্র রায় জানান, পাহাড়ে সাধারণত আম চাষে কেমিক্যাল বা হরমোনের ব্যবহার খুবই সীমিত। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত আমগুলো নিরাপদ রাখতে কৃষি বিভাগ ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির সম্প্রসারণ করছে।

 

পাইকারি আম ব্যবসায়ী মো. জালাল হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে রাঙামাটি থেকে আম কিনে বাইরে নিয়ে বিক্রি করছেন। চলতি বছর ৩০ মণ আম কিনেছেন। এবার মৌসুমে রাঙামাটির বাজারে প্রচুর আম আসছে, তাই দামও কিছুটা কমে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় কৃষকরা আমের ভালো দাম পেতেন। আর সরকার বাগানিদের বালাইনাশকে ভর্তুকি দিলে পরিচর্যা খরচ কমত।

 

রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের সুমেত চাকমা বলেন, তিনি গত প্রায় এক দশক ধরে আম চাষ করছেন। তার প্রায় ৫০-৬০ একর জমিতে আমসহ মিশ্রফলের বাগান রয়েছে। এবারও ফলন খুব ভালো হয়েছে, তবে দাম নিয়ে হতাশ তিনি। আম বাজারে নেওয়ার ঝামেলা এড়াতে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বাগানেই বিক্রি করেছেন।

 

তিনি জানান, রাঙামাটির বেশিরভাগ আম বাগান কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক। ওই সব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ থাকায় পরিবহণ ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি উৎপাদনেও বেশি খরচ হয়। তাই কৃষক অনেকেই বাগানসহ আম বেচে দেন।

 

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে আমসহ প্রচুর মৌসুমি ফলের উৎপাদন হয়; কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে এবং পরিবহণ সংকটের কারণে বিপুল ফলমূল পচে নষ্ট হয়ে যায়। কেবল আম নষ্ট হয় কয়েকশ কোটি টাকার। এতে কৃষকদের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটির বর্তমান উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাঙামাটিতে এখন বিদেশি জাতের আম ব্যাপকহারে আবাদ হচ্ছে। অধিক ফলনে কৃষকরা এতে ঝুঁকছেন। এবার মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে; কিন্তু পরিবহণ ও বাজারজাতের সংকটে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। যদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকত তাহলে তারা ভালো দাম পেতেন। জেলায় কোথাও হিমাগার বা কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

 

তিনি বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ গড়ে উঠলে পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূল থেকে কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের উন্নয়ন হতে পারত। তাই তিন পার্বত্য জেলায় উৎপাদিত ফলমূলসহ কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের জন্য আমরা সরকারের কাছে বারবার প্রস্তাবনা দিয়ে আসছি। কেবল সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর আমসহ কোটি কোটি টাকার ফলমূল নষ্ট হয়ে যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
১৯ বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাব, শুরু হয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাই

সারাদেশের বিভিন্ন জেলার ১৯টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আধা সরকারি পত্রের মাধ্যমে পাওয়া এসব প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলেজগুলো জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।   ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত কলেজগুলোর বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাউশি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয়করণের প্রস্তাব পাওয়া কলেজগুলোর অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী সংখ্যা, আর্থিক অবস্থা, একাডেমিক কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের পর জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা নিয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।   যে ১৯ কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাবে জাতীয়করণের লক্ষ্যে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে—এমন কলেজগুলোর মধ্যে রয়েছে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ; শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ, বরিশাল; আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম; সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, মাদারীপুর; গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ, নাটোর; আবদুল করিম মৃধা কলেজ, পটুয়াখালী; হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজ, সিরাজগঞ্জ; বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ, বরিশাল; মহাস্থান মহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ, বগুড়া; নবকাম পল্লী কলেজ, ফরিদপুর; করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ, ভোলা; কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজ, মাগুরা এবং আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, মাগুরা।   এ ছাড়া রয়েছে কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, বেড়া, পাবনা; ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ, ঈশ্বরদী, পাবনা; সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি/অনার্স কলেজ, সুজানগর, পাবনা; সুজানগর নিজাম উদ্দিন আসগর আলী ডিগ্রি কলেজ, সুজানগর, পাবনা; কালিয়াকৈর কলেজ, কালিয়াকৈর, গাজীপুর এবং আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, নবপঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।   জরুরি ভিত্তিতে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সম্প্রতি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিচালকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মাউশি। চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী অঞ্চলভিত্তিক প্রয়োজনীয় তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।   মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো এসব তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।   এখনই চূড়ান্ত নয় জাতীয়করণ তবে প্রস্তাব পাওয়ার অর্থ এই নয় যে কলেজগুলো ইতোমধ্যে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয়করণ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির কাঠামো এবং সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে জাতীয়করণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাকসুর ভিপি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

ছবি: সংগৃহীত

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী লিংকন: গাইবান্ধার উন্নয়নে জেলাবাসীর নতুন প্রত্যাশা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরায় ২ দিনে ১৬ লাখ জরিমানা

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক শুক্রবার রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট, মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে।   যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজীরবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারী বাজার, চাঁনখারপুল ও গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ।   যেসব মার্কেট বন্ধ আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তানবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাঁটারা, বড় কাঁটারা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট ও সান্দ্রা সুপার মার্কেট।   বন্ধ থাকে যেসব দর্শনীয় স্থান এছাড়াও শুক্রবার রাজধানীর বেশকিছু দর্শনীয় স্থানও বন্ধ থাকে। এদের মধ্যে-  সামরিক জাদুঘর : এটি বিজয় সরণিতে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর : বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির আগারগাঁও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর জন্য বন্ধ থাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

ট্রেনের ধাক্কায় গাইবান্ধায় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি-আ.লীগের নাম ভাঙিয়ে সিন্ডিকেটের দখল নদী-বালুমহালে

ছবি: সংগৃহীত

‘গাড়ি চালাতে গিয়ে নারী চালকদের একটু সমস্যা হতেই পারে’

ছবি: সংগৃহীত
ভোলার দৌলতখানে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৯ স্থাপনা

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী স্রুইঘাট এলাকায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তেলের গোডাউন, বসতঘর, মুদি দোকান, খাবার হোটেলসহ মোট নয়টি স্থাপনা। এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।   বৃহস্পতিবার (২০ গস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দৌলতখান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইজঘাট এলাকার বেড়িবাঁধে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে দুটি তেলের গোডাউন, দুটি বসতঘর, দুটি মুদি দোকান, দুটি খাবার হোটেল এবং একটি জালের গোডাউন পুড়ে গেছে।   ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় তেল ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনের গোডাউন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শাহাবুদ্দিনসহ কয়েকজন স্রুইঘাটের বেড়িবাঁধে চোরাই গোডাউন বানিয়ে তেল মজুত করে ব্যবসা করতেন। তাদের কারণে আজ দুটি বসতঘর, দুটি মুদি দোকান ও দুটি খাবার হোটেল পুড়ে গেছে।    দৌলতখান উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মেরাজুর ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দৌলতখান ও ভোলা সদরের ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চুরির অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেফতার ১

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ছয় মাসে ৩২৯ উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় বিয়ের কথা বলে ডেকে নারীকে হত্যা, গ্রেফতার ২

0 Comments