সারাদেশ

রাঙামাটিতে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার আম

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কেবল সংরক্ষণের অভাবে রাঙামাটিতে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার আম। পাকা আম দ্রুত পচে যায়; কিন্তু রাঙামাটিতে দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে পরিবহণ ও বাজারজাত সম্ভব হয় না। সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোথাও নেই হিমাগার, গড়ে ওঠেনি কৃষিজাত খাদ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা। ফলে প্রতি বছর আমসহ রাঙামাটিতে উৎপাদিত বিপুল ফলমূল পচে নষ্ট হয়ে যায়।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, মৌসুমি ফল উৎপাদনে দেশের পার্বত্য অঞ্চলের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে কাঁঠাল, লিচু ও আনারসের পাশাপাশি এখন বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে আমের উৎপাদন। চলতি মৌসুমে রাঙামাটি জেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা ৪০ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে; কিন্তু অধিক ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের কপালে ভাঁজ। বিশেষ করে জেলার কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পরিবহণ ও বাজারজাতের সংকটে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না স্থানীয় বাগান মালিক ও কৃষকরা।

 

অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলমূল সংরক্ষণের জন্য জেলায় কোথাও গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় হিমাগার ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা। ফলে প্রতি মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত কয়েকশ কোটি টাকার আম নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় সঠিক সময়ে পরিবহণ করতে না পারায় বাগানেই বিপুল পরিমাণ আম পচে নষ্ট হয়ে যায়, যা স্থানীয় চাষিদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ। মৌসুমে ভালো ফলন হলেও সংরক্ষণের অভাবে বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম পান না। অথচ অধিক ফলনে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আম বিদেশেও রফতানি শুরু হয়েছে। ঢাকায় চলতি মৌসুমে পাহাড়ের ফলমূল নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ফলের মেলা।

 

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার টন। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ইতোমধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরের মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ২৮৫ টন। ফলন বেশি হওয়ায় রাঙামাটিতে বিদেশি জাতের আম আবাদে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা। কমছে দেশি জাতের আমের আবাদ।

 

বর্তমানে রাঙামাটিতে রাংগুয়াই (মিয়ানমারের জাত), আম্রপালি (ভারতের জাত), বারি-৪, মিয়াজাকি বা সূর্যডিম, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ব্রুনাই কিং ও কাটিমনের মতো বিশ্বখ্যাত ও দামি বিদেশি জাতের আমের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠছে। তবে দেশি জাতের মধ্যে হাড়িভাঙা আমের আবাদও যথেষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে সুস্বাদু আম্রপালি বাজারের শেষভাগে আসায় এর চাহিদা ও কদর সবচেয়ে বেশি বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা।

 

জেলা সদরের বনরুপা সমতাঘাটে গিয়ে দেখা যায়, আমের দাম কম। উৎপাদন বেশি হলেও পরিবহণ সংকট ও সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় এ বছর আমের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে জানান বাগান মালিকরা। বর্তমানে স্থানীয় হাটে খুচরা দামে রাংগুয়াই আম ১০০ টাকায় ৪-৫ কেজি পাওয়া যাচ্ছে। আর আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায় ২-৩ কেজি। পাইকারি দাম আরও অনেক কম। তবে ব্যানানা ও সূর্যডিম জাতের আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০-১৫০ টাকায়।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটির অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) অরুণ চন্দ্র রায় জানান, পাহাড়ে সাধারণত আম চাষে কেমিক্যাল বা হরমোনের ব্যবহার খুবই সীমিত। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত আমগুলো নিরাপদ রাখতে কৃষি বিভাগ ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির সম্প্রসারণ করছে।

 

পাইকারি আম ব্যবসায়ী মো. জালাল হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে রাঙামাটি থেকে আম কিনে বাইরে নিয়ে বিক্রি করছেন। চলতি বছর ৩০ মণ আম কিনেছেন। এবার মৌসুমে রাঙামাটির বাজারে প্রচুর আম আসছে, তাই দামও কিছুটা কমে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় কৃষকরা আমের ভালো দাম পেতেন। আর সরকার বাগানিদের বালাইনাশকে ভর্তুকি দিলে পরিচর্যা খরচ কমত।

 

রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের সুমেত চাকমা বলেন, তিনি গত প্রায় এক দশক ধরে আম চাষ করছেন। তার প্রায় ৫০-৬০ একর জমিতে আমসহ মিশ্রফলের বাগান রয়েছে। এবারও ফলন খুব ভালো হয়েছে, তবে দাম নিয়ে হতাশ তিনি। আম বাজারে নেওয়ার ঝামেলা এড়াতে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বাগানেই বিক্রি করেছেন।

 

তিনি জানান, রাঙামাটির বেশিরভাগ আম বাগান কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক। ওই সব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ থাকায় পরিবহণ ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি উৎপাদনেও বেশি খরচ হয়। তাই কৃষক অনেকেই বাগানসহ আম বেচে দেন।

 

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক কৃষিবিদ পবন কুমার চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে আমসহ প্রচুর মৌসুমি ফলের উৎপাদন হয়; কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে এবং পরিবহণ সংকটের কারণে বিপুল ফলমূল পচে নষ্ট হয়ে যায়। কেবল আম নষ্ট হয় কয়েকশ কোটি টাকার। এতে কৃষকদের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাঙামাটির বর্তমান উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাঙামাটিতে এখন বিদেশি জাতের আম ব্যাপকহারে আবাদ হচ্ছে। অধিক ফলনে কৃষকরা এতে ঝুঁকছেন। এবার মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে; কিন্তু পরিবহণ ও বাজারজাতের সংকটে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। যদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকত তাহলে তারা ভালো দাম পেতেন। জেলায় কোথাও হিমাগার বা কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

 

তিনি বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা কৃষিজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ গড়ে উঠলে পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূল থেকে কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের উন্নয়ন হতে পারত। তাই তিন পার্বত্য জেলায় উৎপাদিত ফলমূলসহ কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপনের জন্য আমরা সরকারের কাছে বারবার প্রস্তাবনা দিয়ে আসছি। কেবল সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর আমসহ কোটি কোটি টাকার ফলমূল নষ্ট হয়ে যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
পহেলা নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন

আগামী পহেলা নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন দ্বীপটিতে যেতে পারবেন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক। পর্যটকদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।   পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্ট মার্টিনে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল অব্যাহত থাকবে।   পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলোও বহাল থাকবে।   প্রজ্ঞাপনে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে নভেম্বর মাসে সেন্ট মার্টিনে রাত যাপন করা যাবে কিনা প্রজ্ঞাপনে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু বলা হয়নি।   পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. জমির উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'নভেম্বর মাসে রাত যাপন করা যাবে কিনা এ ব্যাপারে আমারও জানা নেই।'   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ সীমিত করা হয়। গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ওই মাসে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারেননি। নভেম্বরে দ্বীপে রাত্রিযাপনেরও সুযোগ ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই দুই মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ ও সেখানে রাত্রিযাপনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তেজগাঁওয়ে আমার দেশ পত্রিকার প্রেসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ২

ন্যানো ইউরিয়া

কৃষিতে বিপ্লবের সম্ভাবনা: অনুমোদন পেল যবিপ্রবির ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

কাল থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলবে মহানগর এক্সপ্রেস

ছবি: সংগৃহীত
খিলক্ষেতে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের ঘটনায় ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি, মুক্তির দাবি

রাজধানীর খিলক্ষেতে একটি বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ২৬ জন নারীসহ অন্তত ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার ও সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা আটক ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি, অভিযানের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইন লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।   রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাঁরা এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর ভোরে খিলক্ষেতের ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। কাদের নির্দেশে, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে, কারা গ্রেপ্তার ও দণ্ডাদেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে হবে। তদন্তে আইন লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।   বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার পুরুষদের ৩০ দিন এবং নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তার পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।   বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানের’ নামে পুলিশ ক্যামেরা নিয়ে ব্যক্তিগত আয়োজনে হাজির হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে তাঁদের ছবি ও পরিচয় সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাঁদের মাদকসেবী হিসেবে উপস্থাপন করে শনাক্তযোগ্য ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করছে। জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের জন্য এসব ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ কতটা প্রয়োজনীয়, তা বিবেচনা না করে এমন প্রচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষায় গুরুতর হস্তক্ষেপ।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নাগরিককে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য নির্বিচারে প্রকাশের অনুমতি দেয় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থী। কাউকে জনসমক্ষে হেয় করা কার্যত বিচারের আগেই সামাজিক শাস্তি দেওয়ার শামিল।   বিবৃতিদাতারা উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত পরিসরে আড্ডা দেওয়া, গান শোনা, নাচ করা কিংবা নারী-পুরুষের একসঙ্গে সামাজিক আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের আইনে কোনো অপরাধ নয়। কারও পোশাক, জীবনযাপন বা বিনোদনের ধরন নিয়ে ব্যক্তিগত অপছন্দকে রাষ্ট্রীয় শাস্তির ভিত্তি করা যায় না। আইন প্রয়োগের অজুহাতে নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিকভাবে হেয় করার এই চর্চা ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নৈতিকতার নামে স্বেচ্ছাচারী হস্তক্ষেপের প্রকাশ।   বিবৃতিতে সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, এসব অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ, ব্যক্তিস্বাধীনতা, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ এবং বিচার ও দণ্ডের ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৪৩ অনুচ্ছেদে নির্ধারিত সীমার মধ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ ও তল্লাশির বিরুদ্ধেও সুরক্ষা রয়েছে। আইন প্রয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে এসব সাংবিধানিক নিশ্চয়তা মানতে হবে।   বিবৃতিতে চার দফা দাবি বিবৃতিদাতাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, আটক ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া; এজাহার, জব্দতালিকা ও দণ্ডাদেশের অনুলিপি অবিলম্বে সরবরাহ এবং দণ্ডাদেশের জরুরি বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করা। আইনগত ভিত্তি বা প্রয়োজনীয় প্রমাণের অভাব কিংবা আইন লঙ্ঘন প্রতিষ্ঠিত হলে দণ্ডাদেশ বাতিল ও মুক্তিসহ উপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।   এ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের ছবি, ভিডিও ও পরিচয়সহ ব্যক্তিগত উপাত্ত বেআইনিভাবে সংগ্রহ, সরবরাহ বা প্রকাশের জন্য দায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং সংবাদমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব তথ্যের প্রচার বন্ধ এবং ইতিমধ্যে প্রকাশিত শনাক্তযোগ্য ছবি, ভিডিও ও পরিচয় অপসারণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযান ও ৮৫ জনকে কারাবন্দি করার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার বা অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা দ্রুত, স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। কাদের নির্দেশে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারণ করে দায়ী নির্দেশদাতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।   বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, নাগরিকের স্বাধীনতা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নৈতিকতার অজুহাতে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রতিষ্ঠা ছাড়াই গণহারে শাস্তি দেওয়ার চর্চা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।   বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন শিক্ষক ও নাট্যকর্মী ড. সামিনা লুৎফা, শিক্ষক ও লেখক ফাহমিদুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শর্মি হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা, শিক্ষক ও সংগঠক নির্ণয় ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ এম শাহান, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক প্রাপ্তি তাপসী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী লায়েকা বশীর, শিক্ষক মিথিলা মাহফুজ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফজিলা বানু লিলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. তাসলিমা ইয়াসমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রুশাদ ফরিদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তানজীমউদ্দিন খান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা।   বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল, প্রিয়া আহসান চৌধুরী, ফারান মোঃ আরাফ, অনামিকা হক, দিলরুবা শরমিন, মাঞ্জুর আল মতিন, আবেদা গুলরুখ ও মোহাম্মদ আব্দুল হালিম; আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী নাফিউল আলম সুপ্ত; আইনজীবী আবিদ হোসেন আনসারি ও আব্দুল কাদের জিলানী; সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, ড. শরীফ ভূঁইয়া ও আনিতা গাজী রহমান।   লেখক ও সাংবাদিক বাধন অধিকারী, সাংবাদিক রঞ্জন কুমার দে ও সাদিক মাহবুব ইসলাম, কবি ও সাংবাদিক রহমান মুফিজ, সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ, সর্বজনকথার সম্পাদক আনু মুহাম্মদ, গণমাধ্যমকর্মী তানজিনা ইসলাম এবং লেখক ও সাংবাদিক মনোরম পলক।   উন্নয়ন গবেষক ড. ইমরান মতিন, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট অরুণিমা তাহসিন, গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট আবু রায়হান, গবেষক ফাহাদ বিন সিদ্দিক, গবেষক ইসাবা শুহ্রাত, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও লেখক ড. তীব্র আলী, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী নাদিরা নওশের, গবেষক আদিবা আফরোজ, গবেষক ও নাট্যকর্মী হাসনে আরা ডালিয়া, জার্মান ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ মেট্রলজির পিএইচডি গবেষক নাফিসা রায়হানা, চিকিৎসক, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট শাহেদ ইকবাল, গবেষক ও শিল্পী তারান্নুম নিবিড়, গবেষক মিম আরাফাত মানব, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী নওশিন নূর, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী মোঃ জারিফ রহমান ও শেখ মজিবুল হক, লেখক ও সংগঠক সুস্মিতা পৃথা, লেখক রেহনুমা আহমেদ ও কল্লোল মোস্তফা, প্রকাশনা ও থিয়েটারকর্মী নাজিফা তাসনিম খানম তিশা, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা সজীব তানভীর, সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহদি সায়ান, শিল্পী ও কিউরেটর কাজী তাহসিন আগাজ অপূর্ব, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, সংস্কৃতিকর্মী তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, শিল্পী শাহেলা আক্তার উমামা, মানবাধিকারকর্মী মো. সাইফুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, তাসাফফী হোসেন ও জয়া সিকদার, উন্নয়নকর্মী দূর্দানা ফরিদ, মানবাধিকারকর্মী সামিনা ইয়াসমিন, নাদিয়া নওশের, ইজাজুল ইসলাম, উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকর্মী ওয়ারদা আশরাফ, মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী মোশফিকুর রহমান জোহান, মানবাধিকারকর্মী আমিনা সুলতানা ও নূর খান লিটন, অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মী সুমাইয়া ইসলাম, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা, রেড ফেমিনিস্ট ব্লকের সদস্য সুরাইয়া ইয়াসমিন পলি, এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, নারীবাদী সংগঠক ও ফিউচারিস্ট তৃষিয়া নাশতারান, গ্রীণ বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট সুলতানা বেগম, ভয়েস ফর রিফর্মের ফাহিম মাশরুর, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক স্কাইয়া ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ, অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের আহ্বায়ক জাকিয়া শিশির, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবা কামাল, বহ্নিশিখার পরিচালক আনিকা টি করিম, মেহনাজ রহমান, রুকসাত আলম, নাশিতা শরীফ ও নিউ নকরেক, এমপাওয়ারিং আওয়ার ফাইটার্সের সভাপতি কলি আখতার, অভয়ারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন রুবাইয়া আহমেদ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নাফিস ফুয়াদ, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নারীবাদী ও মানবাধিকারকর্মী এবং নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চুয়েটে শাটডাউন প্রত্যাহার, শর্তসাপেক্ষে ক্লাসে ফিরছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম। ফাইল ছবি

কুবির সাবেক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পাশে চিরকুট

ছবি: সংগৃহীত

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজের কাজ উদ্বোধনের পরিকল্পনা

হোসেনপুর থানা, কিশোরগঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত
ইউপি নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ ও মো. আজহারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে হোসেনপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম রহিদ বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান কুদ্দুছের লোকজন ও নতুন চেয়ারম্যান প্রার্থী আজহারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পুর্নবাসন করা হবে: রাসিক প্রশাসক

সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ২ কোটি টাকার পাট

সংগৃহীত ছবি

রাজউকের ডিজিটাল পারমিট সেবায় ৭ মাসে ১১ হাজারের কাছাকাছি আবেদন

0 Comments