বিশ্ব

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি (বাঁয়ে) ও আইআরজিসির হামলার দৃশ্য (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত
জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি (বাঁয়ে) ও আইআরজিসির হামলার দৃশ্য (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২৫তম ধাপে জর্ডানের কিং ফয়সাল ও প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে চালানো হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার।

 

বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত আইআরজিসির ৪২তম বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইয়া হাসান ইবনে আলী’ কোডনামে পরিচালিত এই অভিযান মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবা বিদ্যালয়ের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।

 

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে কিং ফয়সাল ও প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

 

আইআরজিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলায় এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতি হ্যাঙ্গারে আঘাত হানা হয়। পরবর্তী হামলায় ড্রোন সংরক্ষণাগারে থাকা সংযোজনের আগের অবস্থায় থাকা আটটি নতুন এমকিউ-৯ ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও দুটি ড্রোন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ।

 

এছাড়া হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে হামলায় দুটি ভারী মার্কিন হেলিকপ্টার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন সেনাদের আবাসন ভবনে হামলায় আগ্রাসী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছে। তবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

 

আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে চালানো হয়েছে। অথচ আগের রাতে কোনো জাহাজ দক্ষিণ রুট দিয়ে চলাচলের সাহস করেনি এবং কোনো বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেনি।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, তবুও শিশুহত্যাকারী মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের আগ্রাসী চরিত্র থেকে সরে আসেনি এবং আমাদের সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা এখন কঠোর প্রতিশোধের মুখোমুখি হচ্ছে।

 

আইআরজিসি জানিয়েছে, আগ্রাসীর শাস্তি অব্যাহত থাকবে। তাদের মতে, হামলার যথাযথ মূল্য না পরিশোধ করলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও যুদ্ধ শুরু, আলোচনা এবং পুনরায় যুদ্ধের একই কৌশল অনুসরণ করবে।

 

বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান জবাব যথেষ্ট না হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে এমন একটি অভিযান চালানো হবে, যার পরিণতিতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শোক ঘোষণা করতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলে আকস্মিক সফর: নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশটিতে হঠাৎ গোপন সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সফরে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এই খবর সামনে এসেছে।     সংবাদমাধ্যমের তথ্য, সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে নেতানিয়াহু ও হেগসেথের মধ্যে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এই সফরের ব্যাপারে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সরাসরি কিছু বলতে রাজি হয়নি, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করার কথা স্বীকার করেছেন হেগসেথ।       ইসরাইলে আগামী সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ঠিক এমন সময়েই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই আকস্মিক সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।       ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, নেতানিয়াহুর ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরাইলের নির্বাচনে কাউকে সরাসরি সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।   সূত্র: আল-জাজিরা

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬

বাণিজ্য কূটনীতির লক্ষ্য নিয়ে ভারতে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

রয়টার্স ছবি

ফ্রান্সের বিক্ষোভকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাতিয়ার করছেন ট্রাম্প

ফের তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত আড়াই লক্ষাধিক মানুষ: জাতিসংঘ

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর আড়াই লাখের বেশি মানুষ নিজ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।    মঙ্গলবার জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে।   জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   জেনেভায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখন আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে ইয়েমেনের অভ্যন্তরেই এসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২০, ২০২৬

লুলা ও বলসোনারোর প্রতি সমান আচরণের প্রমাণ দিতে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিল ব্রাজিলের আদালত

ফিলিপাইনে রেকর্ড গড়ল ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান মাইন্টের আইপিও

ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতেও বিক্ষোভ-সহিংসতা, মিলানে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি

হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপত্তাহীনতার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপত্তাহীনতার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। শত্রু দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ।    তেহরান থেকে এএফপি জানায়, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে সোমবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাকচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী (ইসরাইল) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আমাদের অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান উৎস।’   এর আগে তিনি ‘উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির’ নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন।   মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো সোমবার তেহরানে পৌঁছান ল্যাভরভ। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে মস্কো।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী রোববার বলেন, ল্যাভরভের এ সফরে ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হবে।   রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে ল্যাভরভের ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার ইরানি প্রতিপক্ষ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।   অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক এর আগে বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মস্কোর প্রচেষ্টা ‘বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর’ লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।   অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, মস্কো মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত। এর পরই ল্যাভরভের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও ইরান অন্যতম। দেশ দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে।   গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে শত্রুতা বন্ধ হয়নি।   ইরান কৌশলগত এ জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের অনুমোদন ছাড়া এ পথ অতিক্রম করা জাহাজগুলোকে দেশটি নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।   এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে পাল্টা নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।   রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ল্যাভরভের সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায়’ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ যুদ্ধ শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপরও আঘাত হেনেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানে ইরান-রাশিয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা

গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপ ও ইসরাইলের বহু বছরের সম্পর্কে টানাপোড়েন

ছবি : রয়টার্স।

ইতালির মিলানে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: ২৭১ তরুণ আটক

0 Comments