বিশ্ব

চীনকে ঠেকাতে ফিলিপাইনকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে জাপান

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিপাইনের কাছে ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি করতে যাচ্ছে জাপান। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব মোকাবেলায় সক্রিয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির বিষয়টি বিবেচনা করছে টোকিও। শুক্রবার জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

 

সম্প্রতি জাপান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতির পরিবর্তন ঘোষণা করে। নতুন নীতির আওতায় যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানির পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছে টোকিও।

জাপানের এই নতুন প্রতিরক্ষা নীতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। বিশেষ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত নভেম্বরে মন্তব্য করেছিলেন, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীনের কোনো হামলা যদি জাপানের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে, তাহলে টোকিও সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এরপর থেকেই আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুই দেশের সম্পর্ক।

এদিকে, একদিন আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে ভুল পদক্ষেপ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে’ নিয়ে যেতে পারে। জাপান এর আগে ফিলিপাইনের কাছে আবুকুমা-শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র এবং টিসি-৯০ নজরদারি বিমান সরবরাহের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির খবর নিয়ে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই দেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক মহড়ায় জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স টাইপ-৮৮ অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালায়। বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইন ও জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ তথাকথিত ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইনের’ অংশ, যা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সামুদ্রিক প্রবেশ সীমিত রাখতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে জাপানের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইন্দোনেশিয়া ও পোল্যান্ডও।

সূত্র: রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সংগৃহীত ছবি
কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ৭০-এর বেশি

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা, ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পথচারী রয়েছেন।   আগামী ২৭ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাগরিক সংগঠন যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর আগে প্রশাসন সংগঠনটিকে বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।   সোমবার সকালে পুলিশের গুলিতে নিহত এক সমাজকর্মীর মরদেহকে কেন্দ্র করে রাওয়ালকোটের একটি হাসপাতালের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।   প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ প্রথমে পুলিশের ওপর গুলি চালায়, এতে চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে পাল্টা অভিযানে ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হন।   তবে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি। তারা আরও দাবি করেছেন, বহু মানুষকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।   স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, উদ্বাস্তুদের জন্য অতিরিক্ত আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ সংকট ও রাজনৈতিক বঞ্চনার মতো বিষয়ও আন্দোলনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।   ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। একই সঙ্গে কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের ওই অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর কমেছে তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়নি : নেতানিয়াহু

সংগৃহীত ছবি

রুশ ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৪, আহত ১০

ছবি : সংগৃহীত
তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালু

ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরব থেকে হাজিদের বহনকারী কয়েকটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণও করেছে। মঙ্গলবার ভোরে দেশটির বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ইরানের মেহের বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর কোম্পানির বিমান পরিচালনা বিভাগের উপপ্রধান জানিয়েছেন যে, এ বিমানবন্দরে পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে এবং হাজিদের বহনকারী উড়োজাহাজও অবতরণ করছে।    গত রোববার ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তেহরানের এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব আগত ফ্লাইটের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরে ইসরাইলও পাল্টা হামলা চালায়।   সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দরটি দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হওয়ার ঘটনা এটি। ইরানের রাজধানীকে সেবা দেওয়া দুটি প্রধান বিমানবন্দরের একটি হলো ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এটি পুনরায় চালু করা হয়েছিল।

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিদেশি কম্পানিকে সম্পত্তি কেনার সুযোগ দিচ্ছে সৌদি, মানতে হবে যেসব শর্ত

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান ট্রাম্পের, নেতানিয়াহুকে সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

বেড়ার এপারে চলে আসবে মেঘালয়ের গ্রাম, বিচ্ছিন্ন হওয়া ঠেকাতে ঢাকার দ্বারস্থ দিল্লি

ছবি: সংগৃহীত
পুতিনের কাছে শান্তি আলোচনার বার্তা পাঠাতে আব্রামোভিচকে ব্যবহার করেছিলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিক থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছেন রুশ ধনকুবের আব্রামোভিচ।   ইউক্রেইনে শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু করতে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের সাহায্য চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   তিনি আব্রামোভিচকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।   মে মাসে তাদের মধ্যে এই আলাপ হয় বলে রোববার প্রকাশ করা এক খবরে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) । সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানিয়েছে।   আর রোববার স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্রামোভিচের সঙ্গে ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কি নিজেই।   ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আব্রামোভিচ এসেছিলেন আর তিনি আমাকে এই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে, আমরা (ইউক্রেইন) কী করতে প্রস্তুত, তা তারা (রাশিয়া) জানতে চায়।”   জেলেনস্কি জানান, তিনি আব্রামোভিচকে পুতিনের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে বলেন যে ‘ইউক্রেইন কখনোই দনবাস অঞ্চল সমর্পণ করবে না’।   পাশাপাশি রাশিয়া বা বেলারুশের বাইরে যেকোনো দেশের এক শহরে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানান।   জেলেনস্কি বলেন, “আমি বলেছি আপনি আগামীকাল থেকে যেকোনো সময়, যেকোনো দিন এবং যেকোনো ফরমেট বেছে নিতে পারেন।”   অবশ্য এই বৈঠক নিয়ে জেলেনস্কির বক্তব্য এবং ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্যের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে বলে জানিয়েছে কিইভ ইনডিপেন্ডেন্ট।   ইনডিপেন্ডেন্টের সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেলেনস্কিই মে মাসে আব্রামোভিচকে কিইভে আমন্ত্রণ জানান এবং পুতিনের কাছে একটি বার্তা পাঠাতে বলেন, যেখানে ইউক্রেইনীয় প্রেসিডেন্ট মুখোমুখি শীর্ষ বৈঠকে বসার বিষয়ে তার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ভিন্ন দিকে থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেইন যে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিইভ মূলত সেটিই দেখাতে চেয়েছিল।   তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, গত ২১ মে কিইভ সফর শেষে আসা রাশিয়ার ব্যবসায়িক মহলের এক প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। পুতিন জানান, তিনি সেই প্রতিনিধিকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, ওই ব্যবসায়ী (নাম উল্লেখ করেননি) কোনো দাপ্তরিক বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাবলে এই বার্তা বহন করেননি। অন্যদিকে, ইউক্রেইনীয় সরকারের একটি সূত্র দেশটির সংবাদমাধ্যম 'সুসপিলনে'-কে ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছে, তা জেলেনস্কির বক্তব্যের সঙ্গেই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই সূত্রটি জানায়, যুদ্ধ অবসানে ইউক্রেইনের শর্তগুলো কী, তা জানতেই মূলত রাশিয়ার পক্ষ থেকে জেলেনস্কি ও আব্রামোভিচের মধ্যকার এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রোমান আব্রামোভিচ হলেন রাশিয়ার একজন বিলিয়নেয়ার এবং ফুটবল ক্লাব চেলসির সাবেক মালিক। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে যুক্তরাজ্য তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাকে চেলসি ক্লাবটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য করা হয়। জেলেনস্কি-পুতিন শীর্ষ বৈঠক আয়োজনে আব্রামোভিচের এই মধ্যস্থতার চেষ্টাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার মাত্র তিন দিন আগে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন জেলেনস্কি।   ওই চিঠিতে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার জনগণকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছিল, এই যুদ্ধ মস্কোর জন্য একটি কানাগলি। ২০২২ সালের পর পুতিনের কাছে এটিই ছিল জেলেনস্কির প্রথম কোনো সরাসরি বার্তা।   এফটি-কে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আব্রামোভিচের মাধ্যমে পুতিনের কাছে পাঠানো বার্তাটির মূল কথা খোলা চিঠির মতোই ছিল, তবে এর ভাষা ছিল তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক।   অবশ্য খোলা চিঠিটিকে ‘অশোভন’ আখ্যা দিয়ে পুতিন ইতিমধ্যেই জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব পুনরায় নাকচ করে দিয়েছেন।   ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিক থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছেন আব্রামোভিচ। তিনি এর আগে বন্দী বিনিময় এবং কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তির আলোচনা সফল করতে সহায়তা করেছিলেন।   আব্রামোভিচের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডনাল্ড ট্রাম্প ফের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রাশিয়া সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করায় এই ধনকুবেরের ভূমিকা কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও, তিনি এখনো কিইভ ও মস্কোর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।  

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র সংঘাত শুরু, নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ ভারতের

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

0 Comments