রাজনীতি

চাঁদাবাজ ও দখলদারদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই: আমিনুল হক

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, দলের নাম কিংবা তার নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব করলে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে জানালে তিনি নিজেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর রূপনগরে রূপনগর থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃহত্তর রূপনগর ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮টি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক এসব কথা বলেন।

 

আমিনুল হক বলেন, ‘কোনো চাঁদাবাজ ও দখলদার আমাদের লোক হতে পারে না। কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে কিংবা আমার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা দখলদারত্ব করলে সবার আগে তাকে ধরে পুলিশে দেবেন। আপনারা না পারলে আমাকে জানাবেন, আমি তাদের আইনের হাতে তুলে দেব।’

 

সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাত্ররাই পারে আগামীর বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে। সমাজের নানা সমস্যা সমাধান, মাদক নির্মূল এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

 

আমিনুল হক বলেন, পল্লবী-রূপনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় পর্যায়ক্রমে স্পোর্টিং ক্লাব, ক্রীড়া একাডেমি ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে। তাদের লক্ষ্য শুধু ডাক্তার, প্রকৌশলী বা সরকারি চাকরিজীবী তৈরি করা নয়; একজন খেলোয়াড় হিসেবেও যেন তরুণেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করা।

 

তিনি জানান, পল্লবী ও রূপনগরে ইতোমধ্যে ১২টি স্পোর্টিং ক্লাব উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার রূপনগরে আরও ১৮টি ক্লাব উদ্বোধন করা হলো। আগামী শুক্রবার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১২টি ক্লাব উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এলাকার সব ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

 

এলাকার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, পল্লবী ও রূপনগরে পাঁচটি ফুটসাল মাঠ এবং দুটি সুইমিং পুল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রূপনগরের মুকুল ফৌজ মাঠও রয়েছে। মাঠটিতে কৃত্রিম ঘাস, চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী, আলোর ব্যবস্থা এবং হাঁটার পথ তৈরি করা হবে। যাতে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীরাও মাঠটি ব্যবহার করতে পারেন।

 

তিনি বলেন, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দুটি সুইমিং পুল শিশুদের সাঁতার শেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উদ্বোধন করা প্রতিটি স্পোর্টিং ক্লাবের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ও খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার বিষয়েও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

 

বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ারগিভিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, মোবাইল সার্ভিসিং ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের দক্ষ করে নিজেদের ও পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

 

বৃহত্তর মিরপুরে সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় অসুস্থ রোগীদের কুর্মিটোলা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী বা শিশু হাসপাতালে যেতে হয়। এতে রোগীদের অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

 

তিনি জানান, পল্লবী সরকারি কলেজের পেছনে সাগুফতা মোড় এলাকায় প্রায় ১০ একর জমি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

এছাড়া এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য সরকারিভাবে চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা গেলে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, একটি বিরোধী দল জনগণের কাছে না গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

নিজেকে এলাকার সন্তান ও সাধারণ মানুষের একজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে তিনি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন। জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হবে।

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাদককে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পারলেই সত্যিকার অর্থে একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

রাজনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, প্রতিবাদে চাঁদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।   শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ৯টায় শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।    মিছিলে নেতৃত্ব দেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার।   মিছিলে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ মাঝি, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শামছুল আলম সূর্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।   মিছিল শেষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার কড়া প্রতিবাদ জানান নেতারা। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।   এর আগে, আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটায় চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তির উৎস ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজ ও দখলদারদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই: আমিনুল হক

সংগৃহীত ছবি

এনসিপিকে টিকে থাকতে হলে জামায়াত ছাড়তে হবে: রাশেদ খাঁন

চট্টগ্রামে লিফলেট বিতরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রামে লিফলেট বিতরণ করলেন রিজভী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে চট্টগ্রামে লিফলেট বিতরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।   বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় তিনি এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।    এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।   তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জীবন রক্ষায় এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।    এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি এরশাদ উল্লাহ প্রমুখ।   এ সময় চমেক হাসপাতালের আশপাশের দোকানপাট, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।   লিফলেটে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়। হাসপাতালের সামনে থাকা দোকানদার, পথচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যেও এসব প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।   কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চসিকের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। চট্টগ্রামে পরিবেশবান্ধব বিটিআই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ঢাকার তুলনায় সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা কম। ডেঙ্গু সেলগুলোতে বিনা মূল্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন ও সিবিসি পরীক্ষা, প্রতিটি শয্যায় মশারির ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওষুধের মজুত রাখা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য প্রশ্নে এনসিপিতে অস্থিরতা, দল ছাড়লেন ৩ নেত্রী

সামান্তা শারমিন। ছবি: সংগৃহীত

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

ছবি সংগৃহীত

গার্মেন্টসে আগুন ও হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন রিজভী

রুহুল কবীর রিজভী
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শক্তিশালী এবং গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেবল দুই দেশের সমৃদ্ধিই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় অর্থবহ অবদান রাখতে পারে।      বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।   রিজভী বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির দ্বারা পরিচালিত। বাংলাদেশে আপনাদের এই সফর আমাদের দুই দেশ এবং দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং স্থায়ী অংশীদারত্বকেই প্রতিফলিত করে। বিএনপি সরকার একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করতে বদ্ধপরিকর, যেখানে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।     চলতি বছরের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফরের বিষয়টি স্মরণ করে রিজভী বলেন, ওই সফরের মধ্যদিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।   এই সফরের সুফল আগামী দিনে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   এক চীন নীতি’র প্রতি বিএনপির দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, বিশ্বে একটাই চীন এবং তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ–এই নীতিতে বাংলাদেশ অবিচল।     বাংলাদেশে উৎপাদন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩০টি চীনা কম্পানির ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্ভাব্য বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়, যা দেশে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।     একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের প্রসারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিবেচনা করতে চীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান রিজভী। 

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান যুবদল নেতার

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্যের অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের কারণে জনগণের রান্নাঘরেও ভোগান্তি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

0 Comments