রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টানে ১৩-১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এবং নেপালের বাণিজ্য সচিব ড. রাম প্রসাদ ঘিমিরের নেতৃত্বে নেপাল প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। সভায় উভয় দেশের বাণিজ্য সচিব দু’দেশের মধ্যকার বিরাজমান চমৎকার সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, বাণিজ্য বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ট্যারিফ, প্যারাট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা হ্রাস, পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি ও পেমেন্ট ব্যবস্থার সহজীকরণ, উভয় দেশের পণ্যের পারস্পরিক বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ট্রানজিট সুবিধা কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া সভায় পর্যটন উন্নয়ন ও বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (টিপিএ) চূড়ান্তকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় উভয় পক্ষ পিটিএ’র ড্রাফট টেক্সট, রুলস অব অরিজিন টেক্সট ও পণ্যের তালিকা (রিকোয়েস্ট লিস্ট গেস অফার লিস্ট) দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পণ্যের আওতায় পিটিএ বাস্তবায়ন করে, পরবর্তীতে তা ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের বিষয়ে বাংলাদেশ পক্ষ তাদের অবস্থান তুলে ধরে। এ লক্ষ্যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটি (টিএনসি)’র সভার মাধ্যমে পিটিএ’র ড্রাফট টেক্সট, রুলস অব অরিজিন টেক্সট ও পণ্যের তালিকা চূড়ান্তকরণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকসমূহের (এমওইউ) বাস্তবায়ন এবং স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ও টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি) সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় দেশ একমত পোষণ করে। এ সময় ব্যবসায়িক ভিসা, পেশাজীবী ও তাদের পরিবারের জন্য ভিসা এবং পর্যটন ভিসা সহজীকরণের মাধ্যমে পারস্পরিক যাতায়াত, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন বৃদ্ধিতে উভয় দেশ একমত হয়। এছাড়াও ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার জন্য উভয় দেশ সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। উভয় পক্ষ পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পেমেন্ট সিস্টেম সহজীকরণ ও নির্ভরযোগ্য লেনদেন ব্যবস্থাপনা জোরদারে একমত হন। এছাড়াও সভায় নন-ট্যারিফ বাধা, পণ্যের মান পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য বিশেষ প্রচারণার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় দু’পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত পোষণ করে। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়ন জোরদারের লক্ষ্যে সরকারি (এ২এ) ও বেসরকারি (ই২ই) পর্যায়ে ট্রেড ফেয়ার, প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ নিয়মিত বাণিজ্য মেলা আয়োজন, বাজার সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও এমএসএমই (মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস) পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়। একই সঙ্গে নবম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে নেপালে আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্ট-২০২৬’ জার্মানির মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টে ৬ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বব্যাপী একটি প্রধান ওয়ান-স্টপ সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃত ‘অ্যাম্বিয়েন্তে’ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ভোগ্যপণ্য মেলা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। যা বিশ্বজুড়ে পণ্যের উৎপাদক, প্রদর্শক এবং পেশাদার ক্রেতাদের আকর্ষণ করে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বরাবরের মতো অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্ট ২০২৬-এ যথারীতি বাংলাদেশের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকবে। এ বছর মোট ৩৮ জন প্রদর্শক নিয়ে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ। যারা বিভিন্ন নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা দিয়ে পণ্য খাতে দেশের সক্ষমতা প্রদর্শন করবে এবং বিশ্বব্যাপী ভোক্তা বাজারে এর ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সম্ভাবনা প্রতিফলিত করবে। অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্টে গ্লোবাল সোর্সিং, ডাইনিং, লিভিং, গিভিং, বিউটি অ্যান্ড বাথ, অফিস অ্যান্ড স্কুল সাপ্লাই, গিফট, প্যাকেজিং এবং ডেকোরেশনসহ পণ্যের ব্যাপক পরিসর রয়েছে, যা প্রদর্শনকারীরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরে। মোট ৩২টি বাংলাদেশি কোম্পানি সরাসরি প্রদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফটস, অপরাজেও, আরএফএল প্লাস্টিকস, প্রকৃতি, বিডি ক্রিয়েশন, এএসকে হ্যান্ডিক্রাফটস, আকিজ সিরামিকস, সিওআরআর-দ্য জুট ওয়ার্কস, প্রতীক সিরামিকস লিমিটেড, সান ট্রেড, থানাপাড়া সোয়ালোস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, হাজীগঞ্জ হ্যান্ডিক্রাফটস লিমিটেড, মনি জুট গুডস অ্যান্ড হ্যান্ডিক্রাফটস, পিপলস সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আর্টিসান হাউস বিডি, জুলহাশ হ্যান্ডিক্রাফটস, সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ, প্যারাগন সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, হ্যান্ড টাচ, কনএক্সপো, গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফটস, আর্টিসান সিরামিকস, আর্থ বাউন্ড, এএসআইএক্স বিডি, ক্রিয়েশন, ক্রাফটস ভিলেজেস, আভা ক্লে টাইলস বাংলাদেশ, পারিজাত ট্রেডিং, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং এএস বাংলা জুটেক্স। এছাড়াও, টেকসই এবং কারুশিল্প-ভিত্তিক উৎপাদন খাতের প্রতিনিধিত্ব করে এরকম আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাধ্যমে এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবে। যার মধ্যে রয়েছে ইকো ক্রেভ, সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট ক্রাফটস, মাফ ক্রাফট বিডি এবং তারাঙ্গো। অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্টকে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপীয় এবং বৈশ্বিক বাজারের সাথে সম্পৃক্ততা জোরদার করতে, ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করতে, টেকসই এবং কারিগরের হাতে তৈরি পণ্যের প্রচার করতে এবং বিশ্বব্যাপী ভোক্তা, বাজার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার সাথে সেতুবন্ধনের একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিড স্থিতিশীল রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে আঞ্চলিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্যকে জাতীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নিজস্ব কার্যালয়ে ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি) : ২০২৬-২০৫০’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা সহযোগী মো. মেহেদী হাসান শামীম, আবরার আহমেদ ভূঁইয়া, আতিকুজ্জামান সাজিদ, সাবিহা শারমিন, প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মালিহা সাবাহ আলী এবং মো. খালিদ মাহমুদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি। মূল প্রবন্ধে হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি বলেন, প্রস্তাবিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ‘ন্যাশনাল সোলার রুফটপ প্রোগ্রাম’-এর ওপর ভিত্তি করে অঞ্চলভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ইউটিলিটি স্কেল থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট এবং জাতীয় রুফটপ কর্মসূচি থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রাথমিক হিসাব জোনাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে করতে হবে।’ দেশের যেসব এলাকায় সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের সম্ভাবনা বেশি, সরকারকে সেসব অঞ্চলে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কার্বন ক্রেডিট (যা কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস বা বায়ুমণ্ডল থেকে শোষণ নির্দেশ করে) প্রসঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ছাড়া কার্বন ক্রেডিটের অনুমতি দিলে তা জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই পর্যায়ে কার্বন ক্রেডিটকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হলে তা অনিচ্ছাকৃতভাবে কার্বন নিঃসরণকেই বৈধতা দেবে। তাই এ বিষয়ে কোনো কাঠামো তৈরির আগে গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘তাই একটি (কার্যকর) কাঠামো তৈরির আগে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।’ তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি রূপান্তর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিমাপে একটি তদারকি ও মূল্যায়ন কাঠামো প্রয়োজন। পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও দক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-র প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুপারিশও করেন তিনি। তিনি এলএনজি আমদানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে (স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগ) বড় ধরনের বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন। মাশিয়াত প্রিয়তি একইসঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাজের পরিধি ভাগ করা এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। ভরিতে ৪ হাজার ২০০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে এবং বুধবারও একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হবে। সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। ভরিতে ৪০৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এসব ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা জানান, শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি জটিল এবং শুধু বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। যাদের আমানত রয়েছে, তারা টাকা পাবেন। তবে শেয়ারধারীরা কী প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন—বাজারদরে কিনেছেন কি না এবং মালিকানা নেওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৫ আগস্টের আগে এই পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যেসব অডিটর অডিট করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে, তবে এখনই সব বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরানে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জ্বালানি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাওয়ার ও এনার্জি—এই দুই খাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অফশোর ড্রিলিং এবং কয়লার ব্যবহার। মধ্যপাড়া কয়লা খনির হার্ড রক কয়লা ব্যবহারের বিষয়টিও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত। পে-স্কেল প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কমিশনের ২১ সদস্য বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। খুব শিগগিরই তারা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। কমিশনের কাজ চলমান রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে লিখিত ও সরাসরি মতামত নেওয়া হয়েছে। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ-এর সুদহার কমানোর প্রত্যাশায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার চাহিদা বেড়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড। এদিন দুপুরে স্পট স্বর্ণ ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৬০১.৬৩ ডলারে লেনদেন হয়। আগের সেশনে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৪,৬২৯.৯৪ ডলার স্পর্শ করেছিল। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ০.১ শতাংশ কমে ৪,৬১০.৩০ ডলারে নেমে আসে। লন্ডনভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান অ্যাকটিভট্রেডস-এর বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ফেডারেল রিজার্ভের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কড়া মন্তব্যের পর ডলারের সামান্য ঘুরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই তথ্য—এই দুই বিষয় স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে। নিউইয়র্ক ফেড-এর প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস সোমবার বলেন, মুদ্রানীতির অবস্থান পরিবর্তনে নিকট ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর তেমন কোনো চাপ নেই। তবে বাজারে চলতি বছরে দুই দফা সুদহার কমানোর প্রত্যাশা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মতে, আসন্ন সিপিআই তথ্য ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা দিতে পারে। ভূরাজনৈতিক দিক থেকে মঙ্গলবার ভোরে রাশিয়া চলতি বছরের সবচেয়ে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনে। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, কম সুদহারের পরিবেশে এবং ভূরাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা আরও বলেন, স্বর্ণের দাম ৪,৫০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে। ডলারের দুর্বল প্রবণতা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ৫,০০০ ডলারের স্তর ক্রমেই নাগালের মধ্যে আসছে এবং বছরের প্রথমার্ধেই তা পরীক্ষা হতে পারে। এদিকে বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সচেঞ্জ অপারেটর সিএমই গ্রুপ জানিয়েছে, মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে পর্যাপ্ত জামানত নিশ্চিত করতে তারা মার্জিন নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৬.৯৪ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের রেকর্ড ৮৭.১৬ ডলারের কাছাকাছি। স্পট প্লাটিনাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ২,৩৫২.৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যদিও গত ২৯ ডিসেম্বর এটি ২,৪৭৮.৫০ ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করেছিল। প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৮৪৭.২৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৫৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছর একই সময়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৭১৭ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা ১৭ হাজার ৩৯২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৪ হাজার ৪৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন ২০২৬-২০২৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ভিশনারী এলায়েন্স নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। দুই বছর মেয়াদী এই নির্বাচনে মোট ২৮ জন প্রার্থী ২টি প্যানেল থেকে ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সরকারের বস্ত্র মন্ত্রণালয়, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বিজিএপিএমইএ, বাফা, এওএবি সহ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বয়ে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক টিম নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। রাত ৭টা ১৫ মিনিটে প্রাথমিক নির্বাচনি ফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়াম্যান নজরুল ইসলাম। এতে সবগুলো পদে ভিশনারী এলায়েন্স জয় পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদে ভিশনারী এলায়েন্সের আবদুল হামিদ পিন্টু ৪০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনাইটেড ফোরামের মফিজউল্লাহ পেয়েছেন ৮৪ ভোট। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ভিশনারী এলায়েন্সের মোহাম্মদ জাকির হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ভিশনারী এলায়েন্সের এ কে এম সাইফুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৪৭০ ভোট। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আরও নির্বাচিত হয়েছেন-রোমান মিয়া ৪৫৩ ভোট, এমদাদুল হক মিয়াজী ৪৪১ ভোট, ফজলুল হক ৪৬৪ ভোট, ইনামুল কবির ৪৪২ ভোট, আশিকুর রহমান ৪৩৪ ভোট, আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ৪৫৪ ভোট। তাদের সবাই ভিশনারী এলায়েন্সের প্রার্থী ছিলেন। ডিরেক্টর পদে কামরুল হাসান, মোকাদ্দেশ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, আবুল হোসাইন, এনায়েত হোসেন, রেজাওয়ানুল হক সিরাজী, আবুল হাসনাৎ মোহাম্মদ সালে উজ জামান, আহম কামরুজ্জামান চৌধুরী, ইসরাত জাহান, শাহীনুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান ও শাহাদাত খন্দকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই ভিশনারী এলায়েন্সের প্রার্থী ছিলেন।
ইসলামি সামাজিক অর্থায়নের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই জীবিকায়নের পথ তৈরি করার লক্ষ্যে ‘গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশন’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। জাকাত, সাদাকা, ওয়াকফ ও ক্বারযে হাসানাভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য। রাজধানীতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আজ শনিবার দেশের বিশিষ্ট আলেম, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মী, কর্পোরেট প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ড ও অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি ও অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য শেখ মো. শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ রাশিদ আল মাজিদ খান সিদ্দিকী মামুন, মুর্তজা জামান, মুহাম্মদ জুনায়েদুল মুনির, আরিফ বিন ইদ্রিস, কামরুজ্জামান, মো. জুলফিকার আলী সিদ্দিকী, আসিফ সাদ বিন শামস, সৈয়দ সাদিক রেজা, রেজা আহমেদ এবং আরিফুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ভিশন, মিশন ও পরিচালন কাঠামো উপস্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে “বাংলাদেশে জাকাত আন্দোলনকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ড. ওমর ফারুক, ড. আবুল কালাম আজাদ ও শাহ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে জাকাতের সম্ভাব্য বার্ষিক পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা হলেও এর খুব সামান্য অংশই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আসে। পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অর্থ দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনা দাননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই জীবনের পথে এগিয়ে নিতে পারে। তিনি বলেন, জাকাতকে একটি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও শরিয়াহসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট (www.givinggrace.org.bd) উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে সংস্থাটির স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকায়ন, মানবিক সহায়তা ও আয়বর্ধক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। জাকাতভোগী নির্বাচন ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় তথ্যভিত্তিক ও শরিয়াহসম্মত পদ্ধতির প্রয়োগের বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “জাকাত শুধু দান নয়; এটি সমাজে ন্যায় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এই আমানতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৫৯টি পরিবারসহ মোট ১১ হাজার ৪২৬ জন মানুষ উপকৃত হয়েছে। সংস্থাটি ১ হাজার ৪২৬টি চক্ষু অস্ত্রোপচারে সহায়তা দিয়েছে। চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ২৫ হাজার ১১৯ জন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অংশীদার হাসপাতালের মাধ্যমে ৭২ জন গুরুতর রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১১২টি পরিবার এবং শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিতে ৪১১ জন শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে। গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের শরিয়াহ তত্ত্বাবধান বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মানজুর ই এলাহি জানান, সংস্থাটির সব কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা শরিয়াহসম্মত কি না, তা নিশ্চিত করতে এই বোর্ড স্বাধীনভাবে তত্ত্বাবধান করছে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. জুবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম। কর্পোরেট জাকাত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বক্তব্য দেন আইএফএ কনসালটেন্সির পরিচালক ড. মুফতি ইউসুফ সুলতান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং ইসলামি আর্থিক নীতিমালার ভিত্তিতে টেকসই সামাজিক প্রভাব তৈরির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বর্তমানে গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশন দেশের পাঁচটি জেলা লালমনিরহাট, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বিশ্বাসভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে কাজ সম্প্রসারণ করছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিগত সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে একটি চ্যালেঞ্জিং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পাওয়ার পরও বাংলাদেশের অর্থনীতি সহনশীলতা দেখিয়েছে এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছিলাম, কিন্তু এখন ম্যাক্রো অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে; বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কিন্তু শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; সরবরাহ পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা ও বাজারে শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মুনাফালোভ ও মজুতদারি শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করা যায় না—এ জন্য পাইকার, ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ আজ (শনিবার) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ব্যাংকিং অ্যালম্যানাক’- এর সপ্তম সংস্করণের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা নীতিনির্ধারক, বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমের প্রতি সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জগুলোকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অব্যাহত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী ও সম্মানজনক অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকিং অ্যালম্যানাকের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং প্রকল্প পরিচালক আবদার রহমান বইটির পরিচিতি তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসি’র চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকিং অ্যালম্যানাকের বোর্ড অব এডিটরসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। ধন্যবাদ জানান ব্যাংকিং অ্যালম্যানাকের নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক। এছাড়া বক্তব্য দেন বোর্ড অব এডিটরসের সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত, প্রভিশনিং, ঋণ প্রবৃদ্ধি, সঞ্চিত মুনাফা ও ঋণ-আমানত অনুপাতসহ ব্যাংকিং খাতের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো বিদ্যমান চাপ ও চলমান সমন্বয়ের চিত্র তুলে ধরে। তিনি বলেন, ২০১০ সালের মত আগের সময়ের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিস্থিতি এখনও বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে তথ্য-উপাত্ত ইঙ্গিত দেয় যে সংশোধনী পদক্ষেপগুলো ধীরে ধীরে কার্যকর হচ্ছে। ঋণ প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ব্যাংকে ঝুঁকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও উন্নতি হয়েছে। বিশ্বস্ত আর্থিক তথ্যের সঠিক প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ তথ্যভাণ্ডার প্রকাশের পরিবর্তে প্রাসঙ্গিক সূচক বাছাই করে উপস্থাপন করলে ব্যাংকিং খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ সম্ভব হয়। তিনি বলেন, এসব তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার ভুল তথ্য প্রতিরোধে সহায়ক হবে এবং জনসাধারণের বোঝাপড়া জোরদার করবে। মুদ্রানীতির বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, সুদের হার কমানো একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে ট্রেজারি বিলের সুদহার, ব্যাংক আমানতের হার এবং সামগ্রিক তারল্য ব্যবস্থাপনা জড়িত। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রেজারি বিলের সুদহার কমেছে, তবে বাজারে এটির পূর্ণ প্রভাব পড়তে সময় লাগে। ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, কারণ সরকারি বিনিয়োগমুখী অতিরিক্ত ঝোঁক ব্যাংক থেকে তহবিল সরিয়ে নিতে পারে, যা আর্থিক মধ্যস্থতাকে দুর্বল করবে। মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এখনও একটি সংবেদনশীল বিষয় এবং কেবল মুদ্রানীতির মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, দক্ষ বাজার নজরদারি এবং ব্যবসায়ী ও পাইকারদের সহযোগিতা অপরিহার্য। শুধু অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফালোভ বা মজুতদারি ঠেকানো যায় না। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি দীর্ঘ সময়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বৈষম্য, দারিদ্র্য ও কৃষিপণ্যের মূল্য বিকৃতি এখনও চ্যালেঞ্জ হলেও দেশটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। অতিরিক্ত নেতিবাচক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে আস্থা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণ কখনোই জনপ্রিয়তাবাদ বা সংকীর্ণ স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না; সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজস্ব ও মুদ্রানীতিকে ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে। চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও স্থিতিশীল ও সহনশীল অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রস্তুত করা প্রাথমিক আর্থিক তথ্য ও বিশ্লেষণমূলক প্রকাশনা স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশন অর্থসংকটের মধ্যেও এসব কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, গত দেড় বছরে দেশের আর্থিক খাত একটি সংকটকাল অতিক্রম করলেও এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে এলসি পরিশোধেও সমস্যা নেই। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি সংকটাপন্ন ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, ব্যাংকিং অ্যালম্যানাক সংশ্লিষ্ট অংশীজন, নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের জন্য একটি ‘পরিসংখ্যানভিত্তিক হ্যান্ডবুক’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এটি অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা দিতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার বলেন, এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক ও শ্রমসাধ্য প্রকাশনা নীতিনির্ধারকদের ব্যাংকিং খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। বিএবি চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সুদের হার কমানো কোনোভাবেই সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং অ্যালম্যানাক দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা এবং এটি বাংলাদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের দিক নির্দেশনা দিতেও সহায়ক।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন আজ বলেছেন, ব্যাংক খাত সংস্কার ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। ঋণখেলাপি কমাতে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংক রেজুলেশন আইন বাস্তবায়ন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে আনতে হবে, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে আজ শনিবার সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং প্রবাসী আয় ধরে রাখার কৌশল ছাড়া ভবিষ্যৎ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সামনে অনেক সুযোগ রয়েছে, একই সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। অর্থাৎ একটা মিশ্র অবস্থায় রয়েছি। রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত-এই পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনীতির যে গতিময়তা, সেটা আবার ফিরে পাবে এবং মানুষের মাঝে আস্থা ফিরে আসবে। নির্বাচিত সরকারকে ব্যাংক খাতের সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নতুন সরকারের সময়ে সংস্কার কার্যক্রম যেন থেমে না যায়। সংস্কার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। ব্যাংক খাত নিয়ে স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিসেম্বর ২০২৫-এ সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৪৯ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক দাম কমলেও দেশের বাজারে তার সুফল প্রতিফলিত হয়নি। মজুতদারি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব মূল্যস্ফীতিকে কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত করেছে। শুধু সুদের হার বাড়িয়ে নয়, বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই কৌশলগত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আবারও গতিশীলতা ফিরে পাবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো-তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সঠিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে এই মানবসম্পদই দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে।
দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি হলেও তা পুরোপুরি দেশীয় উৎপাদনে মেটানো যায় না। এ কারণে সাধারণত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে এবার দেশের পেঁয়াজ চাষিদের স্বার্থ বিবেচনায় ভারত থেকে নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রেখেছে সরকার। আগের দেওয়া অনুমতির আওতায় আমদানিকারকেরা চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন। আমদানিকারকদের দাবি, রোজার আগে যদি আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আবারও বাড়তে পারে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত নতুন করে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির কোনো অনুমতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এদিকে পুরোনো অনুমতির বিপরীতে গত ২৪ ডিসেম্বরের পর থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আর কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এর আগে ১৫ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়টি চালানে ১৩টি ট্রাকে করে মোট ৩৯০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসে। বেনাপোলের পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলে সরকার আমদানির অনুমতি দেয়, এতে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর থেকে আবার আমদানি শুরু হলে দাম কমে আসে। এক সপ্তাহ আগেও কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু এখন আমদানি বন্ধ থাকায় দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন করে আমদানির অনুমতি না দিলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকার অজুহাতে দাম আবার ৮০ থেকে ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে। ইতিমধ্যে আমদানির অনুমতি বন্ধের খবরে বন্দরে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা দাম বেড়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। নতুন কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আগে ইস্যু করা অনুমতির বিপরীতে চলতি মাসের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করা যাবে। সব মিলিয়ে, আমদানি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সামনে পেঁয়াজের বাজারে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের বাজারে এক দফা কমার পর ফের বাড়ল সোনার দাম। এবার ভরিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। নতুন দরে এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (২২ ক্যারেট) সোনা বিক্রি হবে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। আগামীকাল রবিবার থেকে সারা দেশে এই দাম কার্যকর হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম বাড়ানোর তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। এদিকে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি পাঁচ হাজার ৫৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি পাঁচ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার ভরি চার হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি তিন হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক দেখাশোনার জন্য নতুন আইন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পুনর্গঠন দরকার। আমানতকারীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ইসলামিক ফাইন্যান্স কনফারেন্সে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে তিনি এমন তথ্য জানান। আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব আমানতকারীদের নিরাপত্তা দেয়া। আগে এক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকলেও বর্তমান কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকের ওপর আমানতকারীদের আস্থা আবারও ফিরে আসছে। পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে বড় ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীরাও ফিরে আসবেন। গভর্নরের মতে, তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইসলামী বন্ড মার্কেট দরকার। তবে এ বিষয়ে কাজ হয়নি। বেসরকারি উদ্যোগে যেসব সুকক বন্ড হয়েছে তা ছোট আকারের। এর মধ্যে বেক্সিমকোর সুকক বন্ড বাজারের সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। এটি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে চাল ও ডালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে দেশি মসুর ডালের কেজি দাম বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত। নতুন চাল আসার আগেই পুরোনো চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ বৃদ্ধি করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে গতকাল শুক্রবার ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম ৮৩ থেকে ৮৪ টাকা, রশিদ মিনিকেট ৭২ থেকে ৭৫ টাকা, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং দামি মিনিকেট মোজাম্মেল ৮৫ থেকে ৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি নাজিরশাইল চালের দাম ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, যা সপ্তাহখানেক আগে ৩-৪ টাকা কম ছিল। আমদানি করা নাজিরশাইল চাল কেজিতে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত নতুন চাল বাজারে আসার পর পুরোনো চালের দাম ১-২ টাকা বাড়ে, কিন্তু এবার নতুন চাল আসার আগেই দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে। আগামী এক সপ্তাহে নতুন চাল আসার পর দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবজির বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ফুলকপি ১৫-২৫ টাকার পরিবর্তে ৩৫-৪০ টাকায়, মুলা ১০-২০ টাকার পরিবর্তে ২৫-৩০ টাকায়, শালগম ৩০-৪০ টাকায়, বেগুন ৩০-৪০ টাকায়, শিম ও মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায়, পেঁপে ৪০ টাকায় এবং করলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, তীব্র শীতের কারণে কৃষক মাঠ থেকে সবজি সংগ্রহ করতে পারছেন না, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। মাছ ও মাংসের বাজারেও দাম তুলনামূলকভাবে চড়া। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০, ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৬৫, সোনালি মুরগি ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে পাঙাশ ১৭০-২০০, রুই, কাতলা ও শিং মাছের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে ডিম ও মুরগির বাজার গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। সংক্ষেপে, শীতকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
টানা দুই দফা মূল্য বৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানায়। নতুন এ মূল্যহার শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকা। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। সেদিন ভরিতে এক লাফে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। সব মিলিয়ে নতুন বছরে এখন পর্যন্ত তিন দফা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে এক দফায় দাম বাড়ানো হলেও দুই দফায় কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের আকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন বা ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। এতে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৪৩৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন বা ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন বা ২৭.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩৭৮৫ দশমিক ০২ মিলিয়ন বা ৩৩.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ২৯১৮৮ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন বা ২৯.১৮ বিলিয়ন ডলার।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৪২৯ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। এদিন মোট ৩৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়। ডিএসই সূত্র জানায়, আজ বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮২টির শেয়ারের দর। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৯১৪ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০ দশমিক ৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বাজারে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯২১ টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯১টি কোম্পানির মোট ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৪টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪২৯ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৩ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮৩টির শেয়ারের দর। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ছিল সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, ওরিয়ন ইনফিউশন, তৌফিকা ফুড, উত্তরা ব্যাংক, ফাইন ফুডস, যমুনা ব্যাংক, রবি এক্সিয়াটা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও ডমিনোজ স্টিল। দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ফাইন ফুডস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওয়াটা কেমিক্যাল, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, জিকেডব্লিউ ইলেক্ট্রোড, মুন্নু ফেব্রিক্স, আইএসএমজিএল, এক্সিম ব্যাংক প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আইবিএল প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড। অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে ছিল পিপলস লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস্ট ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, বিআইএফসি ও জিএসপি ফাইন্যান্স।
দেশ দ্রুত ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লেনদেন সংখ্যায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হচ্ছে। তবে প্রতারক চক্র আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ নয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে এমন তথ্য তুলে ধরেন গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা। এতে জানানো হয়, খুচরা পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস। ২০২৪ সালেই মোবাইল প্ল্যাটফর্মে ১৭ লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে; যেখানে সক্রিয় ব্যবহারকারী ৮ কোটিরও বেশি। পাশাপাশি মোবাইল ওয়ালেট এখন মানুষে মানুষে টাকা পাঠানো, দোকানে পেমেন্ট, রেমিট্যান্স গ্রহণ এবং সরকারিভাবে ভাতা ও সহায়তা বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ছোট ব্যবসায়ীরাও ডিজিটাল বাণিজ্যের আওতায় আসছেন। তবে এত অগ্রগতি সত্ত্বেও চীন ও ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের তুলনায় ক্যাশলেস অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও ততটা শক্তিশালী নয় যার অন্যতম কারণ প্রতারক চক্র ও নিরাপত্তাহীনতা।
বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য চলছে ৫ বছর ধরে। জটিলতার শুরু কোভিড সংক্রমণ নিয়ে। এরপর ডলার বাজারের ধাক্কা আর রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে চিড়ে চ্যাপ্টা হয় দেশের অর্থনীতি। এর সুবাদে কমে গেছে মানুষের প্রকৃত আয়। ৩০ শতাংশ ছুঁইছুই দারিদ্র্যের হার। এসব সংকটের বোঝা আসে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়েও। আগের চেয়ে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল আর অর্থ পাচার কমলেও বিনিয়োগে গতি বাড়েনি। তবে, হতাশ হতে রাজি নয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬০ শতাংশ। বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রস্তাব এসেছে ১৬১টি। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে পোশাক, বিদ্যুৎ ও ব্যাংক। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে রাসায়নিক খাতে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই ফ্লোতে সবচেয়ে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও চীন। যদিও বার্ষিক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, পুরোনো সমস্যায় আটকে আছে বিদেশি বিনিয়োগ। কাস্টমস, আদালত, লাইসেন্সিং ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা তদারকিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও দুর্বল। সমন্বয়ের অভাব আছে সরকারি দফতরের কাজেও। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, পুরনো বিদেশী বিনিয়োগকারী যারা আছেন, তাদের আত্মবিশ্বাসের একটি চিত্র পাওয়া যায় নিসন্দেহে। কিন্তু নতুন করে বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে নাই। বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান আহমেদ রোচি বলেন, এই অর্থবছরে গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অস্থিতিশীল ছিল। স্থিতিশীলতা না থাকার পরেও যে পুরো বছরে আমরা ইতিবাচক পর্যায়ে আছি, সেটা আমাদের জন্য একটি ভালো দিক। গ্লোবালি যেখানে এফডিআইয়ের পরিমাণ বা ইকুইটি ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ কমছে সেটার একটি ইমপ্যাক্ট বাংলাদেশের ওপর আছে। বিডার যুক্তি, বিনিয়োগে মন্দার মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। তাতে সায় দিচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতারাও। বলছেন, মার্কিন শুল্কনীতি বাংলাদেশের রফতানি ও বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অবকাঠামো, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আর নীতির ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে তাদের। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, নির্বাচিত সরকার না থাকলে বিদেশিরা ডিসকমফোর্ট ফিল করে। দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান না করে বিদেশিদের ডাকলে তো এটার কোনো সমাধান হবে না। এদিকে, বিনিয়োগ টানতে শুরু থেকেই মরিয়া ছিলো অন্তর্বর্তী সরকার। সবশেষ বিনিয়োগ সামিটে অংশ নেয় দেশ-বিদেশের সাড়ে ৩ হাজার প্রতিনিধি। গঠন হয় সাড়ে ৭ কোটি ডলারের ফান্ড। সাথে ৭১ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি আর ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সেবার সমস্যার কথা বলছে বিডা। কিন্তু এসব উদ্যোগ কি যথেষ্ট? নাহিয়ান আহমেদ রোচি বলেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিসে আমি একটি ব্যর্থতা বলবো যে কার্যক্রমের সুফলটা কোনোভাবে পাইনি। কারণ ওয়ান স্টপ সার্ভিসের পরও বিডা তাদের নিজেদের অনলাইন সেবাটা চালু রেখেছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, পাট ও আইটি খাতে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার পক্ষে বিডা।
দেশের বাজারে ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভরিতে ২,৯১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭,৮৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিক্রি শুরু হবে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী: ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৭,৮৫৬ টাকা ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৭,৫৩৪ টাকা ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৬,৪৪৯ টাকা সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৫,৪২৩ টাকা বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং ন্যূনতম মজুরি ৬% যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদ অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম বেড়ে ৫,৯২৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪,৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ৩,৬৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।