অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
পে-স্কেলের অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না: এফবিসিসিআই

সরকার ঘোষিত নতুন পে-স্কেলের প্রভাব দেখিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো না হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   সভায় ব্যবসায়ীদের কাছে চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, আটা, ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মজুত, আমদানি ও বর্তমান বাজারদর সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।   পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং নিত্যপণ্য আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা জানান, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ নেই। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।   মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা জানান, জ্বালানি সংকটের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন তারা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম বাড়লেও দেশে এখনো চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।   মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, আমদানি কার্যক্রম এবং মিল পর্যায়ের উৎপাদন সচল রাখা না গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হবে। এ জন্য জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনের পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রে এলসি-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের দাবি জানান তিনি।   দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ফুটপাতের হকার ও অনিবন্ধিত ব্যবসায়ীদেরও তদারকির আওতায় আনার দাবি জানান কাওরান বাজার কাঁচামাল আড়ত ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সুজন।   বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন সরবরাহ ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় হাতবদল কমানোর পরামর্শ দেন। তার মতে, পণ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত হাতবদল হলে দাম বেড়ে যায়।   সভায় বিভিন্ন বণিক সমিতির নেতারা সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজার এবং মিলগেটে পণ্যের দাম নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দেন তারা।   কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।   সভায় মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে আমদানির ক্ষেত্রে এলসি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তারা।   ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিনিধি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি পরিবারের কাছে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে কম দামে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।   ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য সংগ্রহের পাশাপাশি টিসিবির সরাসরি আমদানি ও বিকল্প উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো হলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হবে।   সভা শেষে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, নতুন পে-স্কেলের প্রভাব যেন নিত্যপণ্যের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ না হয়, সেদিকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে হবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডিএসইতে চালু হচ্ছে ডেরিভেটিভস, লেনদেন শুরু হতে পারে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে

দেশের শেয়ারবাজারে প্রথমবারের মতো ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।   অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ইনডেক্স ফিউচার চালুর মাধ্যমে ডেরিভেটিভস বাজারের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অবকাঠামো সম্পন্ন হলে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডিএসইতে এ পণ্যের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হতে পারে।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ২৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর জন্য ডিএসই যে কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়েছে, তা কমিশন অনুমোদন করেছে। পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্রেডিং সিস্টেম উন্নয়ন, অবকাঠামো তৈরি, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   এ ছাড়া ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর জন্য ডিএসইর গৃহীত কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।   কমিশন জানিয়েছে, ডিএসইর প্রস্তুতি ও ডেরিভেটিভস চালুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়মিতভাবে মনিটর করা হবে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।   বিএসইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম ধাপে ইনডেক্স ফিউচার চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে বাজারের প্রয়োজন ও সক্ষমতার ভিত্তিতে অন্যান্য ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   সব প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সম্পন্ন হলে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্যের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হবে বলে আশা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
অর্থনীতির আগাম সংকেত দিতে পারে পিএমআই

অর্থনীতির গতি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত বুঝতে পারচেজিং ম্যানেজারস’ ইনডেক্স (পিএমআই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশের আগেই ব্যবসা খাতের কর্মকাণ্ডের পরিবর্তনের আভাস পাওয়ায় অর্থনীতির স্বল্পমেয়াদি গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এ সূচক কার্যকর ‘আর্লি-ওয়ার্নিং’ বা আগাম সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে।   সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত পিএমআই-সংক্রান্ত এক সেমিনারে উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এমসিসিআই ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।   সেমিনারে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডাম অ্যাস্পডেন, এমসিসিআইয়ের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক আহাম্মাদ এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ও সিনিয়র ম্যানেজার হাসনাত আলম উপস্থিত ছিলেন।   সেমিনারে বলা হয়, পিএমআই মূলত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের গতি ও পরিবর্তনের একটি সূচক। নতুন অর্ডার, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ইনপুটের দাম, সরবরাহকারীদের সরবরাহের সময়, মজুত, অসম্পন্ন অর্ডার এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এ সূচক তৈরি করা হয়।   জরিপে প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মাসের তুলনায় পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে, অপরিবর্তিত রয়েছে নাকি অবনতি হয়েছে— তা জানায়। সাধারণভাবে পিএমআই-এর স্কোর ৫০-এর বেশি হলে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে হলে সংকোচন বোঝায়।   তবে পিএমআই-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর দ্রুত প্রকাশ। সরকারি জিডিপি, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশে সময় লাগলেও পিএমআই তুলনামূলকভাবে দ্রুত পাওয়া যায়। ফলে অর্থনীতিতে পরিবর্তনের প্রাথমিক সংকেত আগে থেকেই পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   ধাক্কা সামলানোর চিত্রও মেলে   বাংলাদেশের পিএমআই-এর সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতিতেও অর্থনীতির বিভিন্ন ধাক্কার প্রতিফলন দেখা গেছে বলে সেমিনারের প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়।   ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশব্যাপী আন্দোলন, কারফিউ ও ১০ দিনের ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাবে পিএমআই আগের মাস জুনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট কমে ৩৬ দশমিক ৯-এ নেমে আসে। অর্থাৎ ওই সময় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সংকোচনের চিত্র পাওয়া যায়।   ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে দীর্ঘ সরকারি ছুটি, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কসংক্রান্ত চাপ এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার প্রভাবে পিএমআই ৮ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে যায়। একই বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হওয়া, রপ্তানি প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া এবং জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিনিয়োগ স্থগিত রাখার কারণে সূচক ৭ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে।   ২০২৬ সালের মে থেকে জুনেও পিএমআই কমেছে। দীর্ঘ ঈদের ছুটি, বর্ষার শুরু, ঈদের আগে চাহিদা কমে যাওয়া এবং নতুন ১৫ শতাংশ ভ্যাটের প্রভাবে এ সময় পিএমআই ৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ৫২ দশমিক ৯-এ দাঁড়ায়। যদিও সূচক ৫০-এর ওপরে থাকায় এ সময় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্প্রসারণের ইঙ্গিতই ছিল।   ৪০০ প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ   বাংলাদেশের পিএমআই তৈরির জন্য প্রতি মাসে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা— এই চার খাতের মোট ৪০০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে কৃষি খাতের ৪৬টি, উৎপাদন খাতের ৯২টি, নির্মাণ খাতের ৫০টি এবং সেবা খাতের ২১২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   নতুন অর্ডার, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ইনপুটের দাম, সরবরাহকারীদের সরবরাহের সময়, অসম্পন্ন অর্ডার এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সূচক এতে বিবেচনা করা হয়। ফলে ব্যবসার বর্তমান অবস্থা যেমন বোঝা যায়, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ প্রত্যাশারও একটি ধারণা পাওয়া যায়।   জিডিপির সঙ্গে সম্পর্ক   সেমিনারে আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, পিএমআই-এর সঙ্গে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। ইউরোজোনের ক্ষেত্রে পিএমআই এবং সর্বশেষ জিডিপি অনুমানের মধ্যে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত সম্পর্ক পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। মহামারির আগের সময়ে ত্রৈমাসিক পিএমআই এবং প্রথম জিডিপি অনুমানের মধ্যে এ সম্পর্ক ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত ছিল বলেও জানানো হয়।   এর ফলে সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশের আগেই অর্থনীতির সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পেতে পিএমআই ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে নাকি কমছে, চাহিদার অবস্থা কেমন এবং মূল্য ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে কি না— এসব বিষয়ে দ্রুত ধারণা পাওয়া সম্ভব।   নীতিনির্ধারণে সহায়ক হতে পারে   পিএমআই-এর তথ্য অর্থনীতির সম্ভাব্য দুর্বলতা বা ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। কোনো সময়ে নতুন অর্ডার, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে ধারাবাহিক দুর্বলতা দেখা দিলে তা অর্থনীতিতে সম্ভাব্য মন্দার সংকেত দিতে পারে। আবার উৎপাদন ও নতুন অর্ডারে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।   একইভাবে ইনপুটের দাম বেড়ে যাওয়া বা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিলে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও আগেভাগে বোঝা যেতে পারে। এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নীতিনির্ধারকদের মুদ্রানীতি, শিল্প ও বাণিজ্যনীতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।   ব্যবসায়ীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ   পিএমআই কেবল সরকারের নীতিনির্ধারণের জন্য নয়, বেসরকারি খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সরবরাহকারী নির্বাচন ও দরকষাকষি, উৎপাদন পরিকল্পনা, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, ব্যবসার ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানগুলো এ তথ্য ব্যবহার করতে পারে।   এ ছাড়া, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শেয়ার ও বন্ডবাজার, বৈদেশিক মুদ্রা ও পণ্যবাজারের প্রবণতা বিশ্লেষণেও পিএমআই সহায়ক হতে পারে। বাজারে চাহিদা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য ব্যয়চাপ সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি কাজে আসতে পারে।   খাতভিত্তিক পিএমআই-এর ওপর গুরুত্ব   বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি খাতগুলো সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট ধারণা পেতে খাতভিত্তিক পিএমআই-এর পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেমিনারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি), ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং সেবা খাতের জন্য আরও বিস্তৃত ও নির্ভরযোগ্য পিএমআই তথ্য তৈরি করা গেলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাসের সক্ষমতা বাড়বে বলে প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়।   এর পাশাপাশি ব্যবসায়িক আস্থা সূচকের সঙ্গে পিএমআই সমন্বয় করা গেলে অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা-দুই দিক থেকেই আরও কার্যকর চিত্র পাওয়া সম্ভব হতে পারে।   দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন   সেমিনারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক তথ্যের প্রাপ্যতা, সময়ানুবর্তিতা এবং বিশ্লেষণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত ও দ্রুত জরিপের মাধ্যমে অর্থনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণ আরও তথ্যনির্ভর করা সম্ভব।   বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোজোন, চীন, ভারত ও জাপানের মতো প্রধান অর্থনীতিতে পিএমআই নিয়মিত প্রকাশ ও ব্যবহার করা হয়। এসব দেশে সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বল্পমেয়াদি গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য এ সূচক অনুসরণ করেন।   বাংলাদেশের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতিতে তাই পিএমআই-এর গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে অর্থনীতিতে কোনো ধাক্কা দেখা দিলে সরকারি পরিসংখ্যানের জন্য অপেক্ষা না করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দ্রুত পরিস্থিতির ধারণা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে খাতভিত্তিক পিএমআই-এর পরিধি ও তথ্যের মান উন্নত করা গেলে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণের সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আগস্টের ৩০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার

চলতি আগস্টের প্রথম ৩০ দিনে দেশে ২৮৩ কোটি বা ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।   সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি আগস্টের প্রথম দিন থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৩ কোটি ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে দেশে ২২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসে হয়রানি ও অযথা বিলম্ব বন্ধের নির্দেশ এনবিআরের

আমদানি-রপ্তানি পণ্যচালান পরীক্ষার ক্ষেত্রে অযথা হয়রানি ও পণ্য খালাসে বিলম্ব না করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে অনলাইনে দাখিল করা নথি পুনরায় ম্যানুয়ালি জমা না নেওয়া এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাগজপত্র না চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৩০ আগস্ট এ বিষয়ে ১৩টি নির্দেশনা দেশের সব কাস্টম হাউসের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া আমদানি-রপ্তানিকারকদের কাছে অতিরিক্ত কোনো কাগজপত্র চাওয়া যাবে না। অনলাইনে জমা দেওয়া নথি আবার ম্যানুয়ালি নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।   এ ছাড়া যেসব পণ্যচালান ঝুঁকিপূর্ণ নয় এবং এ বিষয়ে এনবিআরের পৃথক কোনো নির্দেশনা নেই, সেসব চালানের নথি অপ্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।   এনবিআর আরও জানিয়েছে, শুল্ক ফাঁকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলে একই পণ্যচালান একাধিকবার সরেজমিনে পরীক্ষা করা যাবে না। পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে রাজস্ব ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে চালান নির্বাচন করতে হবে।   সরেজমিন পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য পণ্যচালান বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাস্টমসের পণ্য মূল্যায়ন ও শুল্ক নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় ধাপ এড়িয়ে চলতেও বলা হয়েছে।   একই পণ্যচালান যাতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মাধ্যমে বারবার পরীক্ষা করতে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর।   বন্দরে পণ্যজট কমাতে নিলাম কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এনবিআরের এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও হয়রানি কমিয়ে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করা।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম

দর অপরিবর্তিত রেখে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার। এতে করে সেপ্টেম্বর মাসেও ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের সর্বশেষ নির্ধারিত খুচরা মূল্যই বহাল থাকবে। ফলে নতুন মাস সেপ্টেম্বরজুড়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা ও পেট্রোল ১৪০ টাকায় বিক্রি হবে।   সোমবার বিকেলে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সমন্বয়কৃত এই দর সেপ্টেম্বরজুড়ে বলবৎ থাকবে।   সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ৩১ মে এর প্রজ্ঞাপনমূলে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও কেরোসিন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ওই মূল্যহার সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হলো। অর্থাৎ, সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যহার ১ সেপ্টেম্বর থেকেও বলবৎ থাকবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩১, ২০২৬
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
ভিয়েতনাম বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিয়েতনাম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে উদ্ভিজ্জ খাদ্য রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ভিয়েতনামে তিল, আলুসহ অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যপণ্য রপ্তানি করতে পারবে।   সংশ্লিষ্ট দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশকে উদ্ভিজজাত খাদ্য রপ্তানির জন্য নিবন্ধিত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ভিয়েতনামের উদ্ভিদ সুরক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন বিভাগ নিশ্চিত করেছে ‘উদ্ভিজজাত খাদ্য’ রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের নানা প্রচেষ্টার পর এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিয়েতনাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় বাজার। সেখানে উদ্ভিজজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। তিল বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য। আগে নিবন্ধনজনিত জটিলতার কারণে এই বাজারে প্রবেশ করা কঠিন ছিল। এখন সেই বাধা দূর হওয়ায় রপ্তানিকারকরা নতুন সুযোগ পাচ্ছেন।   শুধু তিল নয়, আলুসহ অন্যান্য উদ্ভিজজাত পণ্যের রপ্তানির পথও খুলে যাওয়ায় বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানির পরিধি বাড়বে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, রপ্তানি আয় বাড়বে এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে মান নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সার্টিফিকেট প্রাপ্তি এবং প্যাকেজিংয়ের মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।   এর আওতায় রপ্তানির কিছু শর্তাবলি প্রেরণ করা হয়েছে, ভিয়েতনাম পক্ষ দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যতামূলক ফাইটোস্যানিটারি শর্ত মানতে হবে।   ভিয়েতনামে শস্য পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের জাতীয় উদ্ভিদ সুরক্ষা সংস্থা (এনপিপিও) থেকে ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এছাড়া চালানে ক্ষতিকর জীবজন্তু, ভিয়েতনাম নিয়ন্ত্রিত ক্ষতিকর জীবজন্তু বা বিদেশি ক্ষতিকর জীবজন্তু থাকতে পারবে না এবং কাঠের প্যাকেজিং বা ডানেজ ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক মান (আইএসপিএম ১৫) অনুযায়ী তা প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে। এই শর্তগুলো মেনে চললে রপ্তানি সম্ভব হবে।   সংশ্লিষ্টরা এটিকে বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে নতুন বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নতুন ঋণের চেয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বেশি, জুলাইয়ে ঘাটতি ২৭৩ মিলিয়ন ডলার

নতুন করে পাওয়া বৈদেশিক ঋণের তুলনায় পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় পেলেও আগের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার।   অর্থাৎ, জুলাই মাসে নতুন ঋণের চেয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধে ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় হয়েছে।   রোববার (৩০ আগস্ট) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের অর্থের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ অর্থ আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।   কমেছে নতুন ঋণের অর্থছাড়: চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীরা ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় করেছিল। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে তা নেমে এসেছে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলারে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।   অন্যদিকে, নতুন ঋণ ছাড় কমলেও পুরোনো ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করেছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে জুলাই মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।   বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ: সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের নেওয়া বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার দিকে থাকায় কিস্তি পরিশোধের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রকল্পের অর্থছাড় প্রত্যাশিত গতিতে না হওয়ার বিষয়টি। ফলে একদিকে বৈদেশিক ঋণ থেকে অর্থপ্রবাহ কমছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামগ্রিক অর্থপ্রবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা ইসলামী লাইফে আর্থিক চাপ, জীবন বিমা তহবিলে ঘাটতি ৩২৭ কোটি টাকা

আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। সর্বশেষ আর্থিক হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির জীবন বিমা তহবিলের ঘাটতি আরও বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে এ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।   রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে এ বিষয়টি জানিয়েছে কোম্পানিটি।   কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে জীবন রাজস্ব হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রান্তিকভিত্তিক ঘাটতি কমেছে প্রায় ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে জীবন রাজস্ব হিসাবে কোম্পানিটির ঘাটতি হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে জীবন রাজস্বের ঘাটতি কমেছে।   তবে জীবন রাজস্বের ঘাটতি কমলেও জীবন বিমা তহবিলের সামগ্রিক নেতিবাচক স্থিতি বেড়েছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন জীবন বিমা তহবিলে ঘাটতি ছিল ৩০৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এক বছর পর ২০২৬ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে হয়েছে ৩২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।   তহবিলের বড় ধরনের ঘাটতির কারণে গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটির কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিমা দাবি বকেয়া থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। ফলে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   পদ্মা ইসলামী লাইফের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত হিসাবেও উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কোম্পানিটির ভবিষ্যতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।   দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে কোম্পানিটি। প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের ওপরও।   কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি।   ২০১২ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২৭২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে অন্যান্য শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির ৬৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এক ধাক্কায় ভরিতে সোনার দাম কমল ৭ হাজার ১১৫ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১১৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও।   শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের বাজারে সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   নতুন দামে ২২ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে প্রতি ভরি এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। অর্থাৎ, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমেছে। এ ছাড়া নতুন দাম অনুযায়ী— ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৪ টাকা সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা কমেছে রুপার দামও সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী— ২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩০৭ টাকা ২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৪ টাকা ১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাজুসের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ায় দেশের জুয়েলারি বাজারে সোনা ও রুপা কিনতে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালের মধ্যেই অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই সময়ের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। কানাডার সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।   আইএমএফএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতির আকার আরো বড় হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসবে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো থেকে।   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন, দেশটির জিডিপি হতে পারে ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকবে জার্মানি, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার।   ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির সম্মিলিত অর্থনীতি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়তে পারে। এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে চীনের।   তবে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়ে জার্মানির সঙ্গে ভারতের ব্যবধান খুব সামান্য। ২০৩০ সালে জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারতের ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। অর্থাৎ দুই দেশের ব্যবধান মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার।   বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নামমাত্র জিডিপির হিসাবে ভারত জার্মানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী হিসাব করলে ভারত ইতিমধ্যে জার্মানির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড় অর্থনীতি।   এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি বাড়বে ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ৫৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি হবে বৈশ্বিক অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশের বেশি।   চীন ও ভারতের পর এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে জাপান। দেশটির জিডিপি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এরপর থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশ দুটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ও ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার।   একসময় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ছিল জাপান। তবে কয়েক দশক ধরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে। ২০১০ সালে জাপানকে ছাড়িয়ে যায় চীন। এরপর ২০২৪ সালে জার্মানিও জাপানকে ছাড়িয়ে যায়।   ইউরোপে থাকবে তুলনামূলক ভারসাম্য ২০৩০ সালে ইউরোপের সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থাকবে ইউরোপের দখলে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত নামমাত্র জিডিপি ২৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হবে জার্মানি। এরপর থাকবে ফ্রান্স ও ইতালি। দেশ তিনটির সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২, ৪ ও ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।   ইইউর বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে থাকবে যুক্তরাজ্য। ২০৩০ সালে দেশটির জিডিপি ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। এরপর থাকবে রাশিয়া, যার অর্থনীতির আকার হতে পারে ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।   তবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রাশিয়া হবে এমন কয়েকটি দেশের একটি, যাদের অর্থনীতি এ সময়ে সংকোচনের মুখে পড়তে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফের বড় পূর্বাভাস

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৬৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশের অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইএমএফের এই পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। আইএমএফএর পূর্বাভাসে ২০৩০ সালে মালয়েশিয়ার জিডিপি ৬৭২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভিয়েতনামের অর্থনীতি ৬৬৭ দশমিক ৫, ডেনমার্ক ৫৮৯ দশমিক ২ ও থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ৬৪৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। দেশগুলোর জিডিপির ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়। অন্যদিকে, ২০৩০ সালেও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে শীর্ষে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট জিডিপি বেড়ে প্রায় ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন। যার অর্থনীতির আকার হতে পারে প্রায় ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থান নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতার আভাস মিলেছে রিপোর্টে। ২০৩০ সালে জার্মানি ও ভারত— এই দুই দেশের অর্থনীতির ব্যবধান মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার হবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়। জার্মানি, ভারত ও যুক্তরাজ্যের জিডিপি হবে যথাক্রমে ৬ হাজার ১৭৮, ৬ হাজার ১৭৩ ও ৫ হাজার ১৪৮ বিলিয়ন ডলার। পাঁচটি দেশ বৈশ্বিক জিডিপির ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎপাদন করে। এর মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। আর জাপান, ফ্রান্স, ব্রাজিল, ইতালি ও কানাডা- এই পাঁচটি দেশ হবে বিশ্বের ১০টি বৃহত্তম অর্থনীতির। আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।  ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার প্রায় ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির মোট আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৮, ২০২৬
বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৪১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেবে ১৭ ব্যাংক

বন্ধ কলকারখানা চালু এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে ১৭টি ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।   প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থ দিতে সম্মত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, ব্র্যাক, সিটি, যমুনা, ডাচ্-বাংলা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, উত্তরা, প্রাইম, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি, পূবালী, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট ও সাউথইস্ট ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৩ মে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কলকারখানা চালু, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থবির অর্থনীতিকে সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে।   সে সময় এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, এই প্যাকেজটি মূলত একটি ‘উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার’ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   প্রণোদনা প্যাকেজের ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।   প্যাকেজের সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এ তহবিল থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৭, ২০২৬
২৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৩ শতাংশ

চলতি মাসের (আগস্ট) প্রথম ২৬ দিনে দেশে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ থেকে ২৬ আগস্ট দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে।   তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ আগস্ট-এই দুই দিনে প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন।   এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৪৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।   ফলে চলতি অর্থবছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে টানা তিন দিন পর কমল স্বর্ণের দাম

টানা তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক বন্ড ‘বাইব্যাক’ ঘোষণার পর মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম ১৪ মে এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। তবে, বুধবার স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলারে নেমে আসে।   মার্কিন গোল্ড ফিউচার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৭৩ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে এসেছে।   জেফরিসের মালিকানাধীন ট্রাডু ডট কমের সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট নিকোস জাবোরাস বলেন, আজ স্বর্ণের দাম কমেছে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর আগে বাজারের সবাই সতর্ক অবস্থানে থাকে।       ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, ইরান বলেছে– বৃহত্তর সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন হওয়ায় তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করেছে।   অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমেছে, প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৪ দশমিক ৫১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আইএমএফের শর্ত থেকে দূরে সরছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মৌলিক শর্তগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছে সরকার। ডলারের দাম পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, মূল্যস্ফীতির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে আসার আগ পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ, মুদ্রানীতি ও সুদের হার শিথিল না করার শর্ত মানছে না সরকার।    আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় করা এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর শর্তগুলোও এখন পর্যন্ত মেনে চলার জোরালো পদক্ষেপ নেই। বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ ও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। উলটো এসব শর্ত থেকে সরে গিয়ে জনবান্ধব কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। আইএমএফের শর্ত মানলে সরকারকে জনবিরোধী পদক্ষেপ নিতে হবে।   সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো শর্ত মেনে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তি করবে না সরকার।   সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয়। পাশাপাশি আগের ঋণচুক্তিটি বাতিল করে নতুন ঋণচুক্তির দিকে এগোতে থাকে। এরই অংশ হিসাবে আইএমএফের একটি মিশন ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করেছে। ওই মিশনটি বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির চিত্রের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গেছে। এর আলোকে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের নতুন ঋণের জন্য নতুন শর্ত নির্ধারণ করবে। এগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বার্ষিক সভার সাইডলাইনে আলোচনা হবে। মূলত ওই বৈঠকেই ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।   বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে কোনো ঋণচুক্তি বিদ্যমান নেই। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার যে চুক্তিটি করেছিল, সেটি নতুন সরকার এসে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করে বাতিল করেছে। ফলে এখন আইএমএফের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।   তবে আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী, সংস্থাটির দেওয়া ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ বকেয়া থাকা পর্যন্ত তাদের আরোপিত শর্তগুলো মেনে চলতে হয়। যে কারণে আগের ঋণের শর্ত এখনো মানতে বাধ্য বাংলাদেশ। তবে শর্ত না মানলে নতুন ঋণচুক্তিতে সমস্যা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।   আইএমএফের শর্ত ছিল, ডলারের দাম পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। ডলারের দামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কিন্তু ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাঝেমধ্যেই হস্তক্ষেপ করছে। আগস্টের শুরুর দিকে ডলারের দাম যখন বেশি বাড়ছিল, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল, আন্তঃব্যাংকে এর দাম ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি করা যাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির পর এখন আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৭৭ পয়সায় নেমে এসেছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, ডলারের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। পাশাপাশি ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাও কমবে। এ ছাড়া কারসাজি করেও ডলারের দাম বাড়ানোর একটি প্রবণতা রয়েছে। যে কারণে বাজারে তদারকি বাড়াতে হচ্ছে।   আইএমএফের শর্ত ছিল, মূল্যস্ফীতির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে আসার আগ পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করতে হবে। এই শর্ত মানছে না সরকার। আগস্টের শুরুর দিকে নীতি সুদের হার কমানো হয়েছে। ঋণের সুদের হার কমাতেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুদের হার কমানোর জন্য উদ্যোক্তারা চাপ দিচ্ছেন। কারণ সুদের হার না কমালে তারা বিনিয়োগ করতে পারছেন না। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।   আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় করার শর্ত ছিল আইএমএফের। এ শর্তগুলো পুরোপুরি মানছে না সরকার। কারণ আইএমএফের এসব শর্ত মানলে দাম বাড়াতে হবে। তখন ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর বিষয়েও জোরালো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নেই।   সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ ও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে নিট রিজার্ভ প্রকাশ করা হচ্ছে না। কেবল বিভিন্ন তহবিলে বিনিয়োগ করা অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভের একটি হিসাব ও গ্রস রিজার্ভ প্রকাশ করা হচ্ছে। এ হিসাবে গ্রস রিজার্ভ এখন ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার এবং বিনিয়োগ করা অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভ এখন ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।   খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপ এখনো কার্যকর হচ্ছে না। বরং আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটের ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে এখন এর পরিমাণ আরও বাড়ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৬, ২০২৬
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের (একীভূত পাঁচ ব্যাংক) গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজ নিজ হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে আমানতের মুনাফায় কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন করা হবে না— বিষয়টি গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে অবহিত করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।     মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করতে গেলে এ নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।   যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।     গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তাদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।   তিনি আরও জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ চলতি হিসাব, ‘মুদারাবা’ সঞ্চয়ী হিসাব এবং ‘মুদারাবা’ মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।     এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছয় মাস কারখানা লে-অফের সিদ্ধান্ত ফুয়াং ফুডের

গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকা এবং কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কারখানা ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফুয়াং ফুডস লিমিটেড।   কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত ২২ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কারখানা লে-অফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সঠিক বা প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়া এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে ছয় মাসের জন্য কোম্পানিটির কারখানা লে-অফ থাকবে। অর্থাৎ নির্ধারিত এই সময়জুড়ে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।   কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত না হওয়া এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিই কারখানা লে-অফের মূল কারণ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারত থেকে আসছে ২০টি আধুনিক ব্রডগেজ বগি, যুক্ত হচ্ছে যাত্রীবাহী রেলের বহরে

ভারত থেকে আনা আধুনিক ২০টি ব্রডগেজ বগি এ মাসেই যুক্ত হচ্ছে যাত্রীবাহী রেলের বহরে। এসব কোচ পাবনা ও খুলনা রুটের ট্রেনে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিব রশিদ। তবে দেশে যাত্রী সেবা নিশ্চিতে প্রয়োজন শতাধিক নতুন কোচ। এজন্য আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই বগি তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি নতুন রেলপথ চালু হলেও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে বড় বাধা কোচ বা বগির সংকট। এই একটি কারণেই অনেক রুটে চাহিদামতো পরিচালনা করা যাচ্ছে না ট্রেন।   বিভিন্ন রুটে যেসব ট্রেন চলছে সেগুলোর বেশিরভাগ কোচ পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।   ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ৫৬টি আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য ৪৭৬টি নতুন বগি দরকার। মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের জন্য লাগবে আরও ২৩৮টি নতুন কোচ। সংকট কাটাতে দেড় হাজারের বেশি নতুন কোচ সংগ্রহের পরিকল্পনা সরকারের। এ মাসেই ভারত থেকে আসছে প্রথম চালানের আধুনিক ব্রডগেজ কোচ। থাকছে এসি স্লিপার ও চেয়ার কার, নন-এসি চেয়ার এবং পাওয়ার কার।   রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকা, পাবনা ও খুলনা রুটে আমরা দুইটা নতুন ট্রেন চালু করতে পারব ব্রডগেজের। ভারতের কোচগুলো আসার পরই বোঝা যাবে এগুলো মানসম্মত কি না।   যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই কোচ তৈরি করতে হবে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে বগি তৈরির কারখানার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।   যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ২০টা কোচ আসছে, কিন্তু কয়েকশ কোচ লাগবে। কিছুটা সেবা বাড়াবে এসব কোচে। কিন্তু রেলওয়ের যে চাহিদা, এর জোগান দিতে গেলে অবশ্যই আমাদের সৈয়দপুরের, পাবর্তীপুরের,পাহাড়তলীর কারখানা– তাদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি বিষয়।   মন্ত্রণালয় বলছে, চাহিদা ও দক্ষ জনবলের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশে রেলের বগি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হবে।   রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, যৌথভাবে কোনো দেশের সঙ্গে যাতে চুক্তি করে এখানে আমরা যেন দেশের চাহিদা মিটিয়ে পরবর্তীতে বাইরেও যাতে এক্সপোর্ট করা যায়, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা আছে।   ২০২৪ সালের ২০ মে ১ হাজার ২০৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আরআইটিইএসের সাথে চুক্তি হয়। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কোচগুলো যুক্ত হওয়ার কথা রেলওয়ের বহরে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬
বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ১১০ কোটি টাকা

বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।   রোববার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এক দেশ, এক কিউআর’ উদ্যোগের আওতায় গত ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে একটি একক বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   জুলাই মাসের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন সম্পন্ন হতো। এসব লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রতিদিন প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। তবে গত এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের গড় সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।   এদিকে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ থেকে বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে।   বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও বাংলা কিউআর সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আরও সুবিধাজনক, কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আগস্টের ২২ দিনেই ২১৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

চলতি আগস্টের প্রথম ২২ দিনে দেশে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৬ হাজার ৪২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।   রোববার (২৩ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি আগস্টের ২২ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের ১-২২ আগস্ট দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭১ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর চলতি বছরে একই সময়ে এসেছে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ২৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।   এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫০০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের শুরু থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৮১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।   ব্যাংকারদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হওয়ায় দেশে প্রবাসী আয় বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
খেলা

এমবাপ্পের জাদুকরী হ্যাটট্রিকে সোসিয়েদাদকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬