সাধারণ হোটেল, রেস্তোরাঁ আর ক্ষুদ্র দোকানও করের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এসব দোকানদারদের করের আওতায় আনতে এবং কর কর্মকর্তাদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে বছরে একটি সহজ ‘ফ্ল্যাট রেট’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শিরোনোমে গোলটেবিল আলোচনায় মন্ত্রী এ কথা বলেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর সংক্রান্ত পরিবর্তন নিয়ে গত ১৫ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের আট ঘণ্টার বৈঠক হয় সচিবালয়ে। সেখানে মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) ক্ষেত্রে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালুর সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনতে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালুর এ প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে এনবিআর, যা আগামী অর্থবছরের বাজেট রাখার পরিকল্পনা তাদের। ভ্যাটের এ নিয়মে প্রতি মাসে ‘সামান্য পরিমাণ’ ভ্যাট দিতে হবে বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা বলেন। সেই কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা হল, একদম গরিব থেকে সবাই দেশটাকে ভালোবাসে, তারাই কর দেয়। তো বছরে ৫ কিংবা ৫০০ টাকা দিক, দিয়ে সে ওনারশিপটা (রাষ্ট্রের) নিক। মাসিক ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মত এ ভ্যাট হতে পারে বলে ওই কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন। ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ নামে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সেদিকেই ইঙ্গিত দিলেন অর্থমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি কর ফাঁকি রোধে কোকাকোলা, পেপসি বা বহুজাতিক ও বড় তামাক কোম্পানিগুলোর প্রকৃত মার্কেট শেয়ার যাচাই করে ‘ন্যায্য ট্যাক্স’ আদায় করা হবে বলে তুলে ধরেন। এছাড়া ‘কর নীতি প্রণয়নে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে’ দাবি করে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে একটি বিল পাস করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে কেবল কর আদায়কারী নয়, বরং গ্লোবাল অর্থনীতি, স্থানীয় বাণিজ্য এবং ‘হিউম্যান প্রফিটিবিলিটি’ বোঝেন এমন যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নীতি নির্ধারণী বডি গঠন করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার কর আদায়কারী সংস্থা এনবিআর দুই ভাগ করে কর নীতি ও কর আদায়ে দুটি আলাদা বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে। এ দুটি বিভাগে কারা দায়িত্ব পালন করবেন তা নিয়ে ক্যাডার দ্বন্দ্বের মধ্যে নানামুখী আন্দোলনও দেখা যায় এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে। পরে পিছুও হটে তখনকার সরকার। পরে এতে সংশোধন আা হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সংসদে এ অধ্যাদেশ পাস না করলে বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে কর নীতি প্রণয়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরের লোকদের যুক্ত করে একটা ‘বডি’ গঠনের কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী। যুগের পর যুগ ধরে বাজেটের বাইরে থাকা গ্রামীণ কামার-কুমার, তাঁতিসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির যেমন, থিয়েটার, কালচার, মিউজিক, পেইন্টিং ও আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি প্রসারে এবং একে মনিটাইজ করতে আগামী বাজেটে বিশেষ প্রজেক্ট ও ফান্ড বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। ঢাকার পাশাপাশি বড় শহরগুলোতে ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলা হবে। তার কথায়, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুরো অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদের সময় গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক সেবা চালু রাখা, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান এবং পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুথে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়মিত বুথ পরিদর্শনের কথাও বলা হয়েছে। পিওএস ও কিউআর কোড সেবাও সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে এমএফএস সেবায় সব ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন ও এজেন্ট পর্যায়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের ছুটিকালে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রাহক হয়রানি প্রতিরোধ, সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখা এবং যে কোনো অঙ্কের লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস এলার্টের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। রিটেইল, কৃষি ও জ্বালানি খাতে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার বিডা কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিয়াওয়াতি বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ সহযোগিতার বাস্তব উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত লিস্টিয়াওয়াতি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ইন্দোনেশিয়া আগ্রহী। তিনি বাংলাদেশে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগকারীদের বাড়তে থাকা আস্থার কথাও তুলে ধরেন। এই আস্থার অন্যতম উদাহরণ ইন্দোনেশিয়ার বড় খুচরা বিক্রয় চেইন আলফামার্টের বাংলাদেশে প্রবেশ। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশে ৫০টি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা করেছে। দীর্ঘমেয়াদে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে পাঁচ হাজারের বেশি আউটলেটে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। বৈঠকে কৃষি ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব খাতে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এদিকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর যৌথ ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। বিশেষ করে সরকারি অব্যবহৃত সম্পদকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হতে পারে বলে তিনি জানান। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই বিনিয়োগ উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং কর্মসংস্থান ও ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে ২৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে একদিনেই দেশে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অন্যদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২০ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৬৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রায় ১১ মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার ক্রয় করা হয়েছে। চলতি মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত মোট ৫৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৬২৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো (এসওই) ২০২৪ সালের এক বছরেই জাতীয় কোষাগার থেকে প্রায় ৮৮২ বিলিয়ন টাকা তুলে নিয়েছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমাবনতিশীল আর্থিক অবস্থা ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছে, এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই রাজস্ব আদায় হ্রাস, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারি অর্থের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসান এমন সম্পদ গ্রাস করছে যা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা যেত। আজ নগরীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক কর্মক্ষমতা ও রাজস্ব ঝুঁকি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির ওপর এক কর্মশালায় এই ফলাফলগুলো উপস্থাপন করা হয়। এই সমীক্ষাটি বাংলাদেশের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর সহায়তায় ‘উন্নত সেবার জন্য সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ (এসপিএফএমএস)’ প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অ-আর্থিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত লোকসান দাঁড়ায় ৪৪১ বিলিয়ন টাকা। একই সময়ে ভর্তুকি ও উন্নয়ন সহায়তাসহ সরকারের মোট নিট আর্থিক সহায়তা বেড়ে প্রায় ৮৮২ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছায়। গবেষণায় দেখা গেছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেই সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) একাই ৪৪৪ বিলিয়ন টাকার বেশি লোকসান করেছে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে উচ্চ ক্ষমতা ভাড়া পরিশোধ এবং উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম ট্যারিফ নির্ধারণকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবিত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, বিতর্কিত বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি এবং করপোরেট সুশাসনের দুর্বলতা খাতটির আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়। বড় লোকসানি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ। পাশাপাশি সার, চিনি ও পাট খাতের কয়েকটি উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও ধারাবাহিক লোকসানে রয়েছে। গবেষণায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় গভীর সুশাসন সংকটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। খ-িত আইন, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবকে দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংকট উত্তরণে প্রতিবেদনে বাণিজ্যিকভাবে সক্ষম প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, আর্থিক তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং একচেটিয়া খাতে ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়-এমন প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে বেসরকারিকরণ বা বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসান খালেদ ফয়সাল ও রাহিমা বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশীদ আলম।
দেশের পুঁজিবাজারে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ শিক্ষা বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কমিশন ভবনের মাল্টিপারপাস হলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগকারী ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীসহ মোট ৩৫ জন নারী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিএসইসির কমিশনার ফারজানা লালারুখ। তিনি বলেন, নারীদেরও বিনিয়োগ সম্পর্কে ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী শিক্ষার্থী, গৃহিণী বা পেশাজীবী যেই হোন না কেন, সঞ্চয়ের একটি অংশ জেনে-বুঝে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করলে তিনি লাভবান হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, গুজবে কান না দিয়ে জ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা উচিত। কর্মশালায় ‘ফান্ডামেন্টাল অব ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি’, ‘ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক অ্যান্ড ইনভেস্টরস প্রটেকশন’ এবং ‘ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং’ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। সমাপনী বক্তব্য ও সনদ বিতরণ করেন বিএসইসির কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন।
কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) জুতা ও জুতার আনুষঙ্গিক সামগ্রী উৎপাদনে ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে সামোয়া ও চীন (তাইওয়ান) মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এইজার স্যু পার্টস (বিডি) লিমিটেড। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বুধবার ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে চুক্তিটি সই হয়। বেপজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা ইপিজেডে ইনসোল, আউটসোল, মিডসোল এবং পিইউ জুতা উৎপাদন কারখানা স্থাপন করবে। এ খাতে তারা ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া রুইহং চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। বেপজা জানিয়েছে, কারখানাটি চালু হলে বছরে ৩০ লাখ জোড়া ইনসোল, ১২ লাখ জোড়া আউটসোল, ৩২ লাখ জোড়া মিডসোল এবং ১০ লাখ জোড়া পিইউ জুতা উৎপাদন করা হবে। এতে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস ও নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগের অতিরিক্ত দায়িত্ব) খাদিজা পারভীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে বেপজা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এইজার স্যু পার্টস (বিডি) লিমিটেডকে স্বাগত জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির নির্বিঘ্ন ব্যবসা পরিচালনায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে গ্রাহকের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম), পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ব্যবহারের ক্ষেত্রে পিন নম্বর গোপন রাখা এবং লেনদেন শেষে কার্ড সঠিকভাবে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ও কিউআর কোড ব্যবহারকালে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ব্যবহার এবং লেনদেনের তথ্য যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (টু এফ এ) নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপন পিন নম্বর কাউকে শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করতে গ্রাহকদের সচেতনতার পাশাপাশি আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সরকারের সঙ্গে সরকারের চুক্তির ভিত্তিতে চাল ও গম আমদানির নীতিগত অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় সময় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গাজীপুরের ধীরাশ্রম রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নির্মিত ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী ‘ধীরাশ্রম রেলওয়ে স্টেশনের নিকট একটি নতুন ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ‘ধীরাশ্রম ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেসময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রস্তাবের আওতায় সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে গম ও চাল কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধান প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় কমানোর অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি উভয় প্রস্তাবই নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
চলতি বছরের মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৪৭৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)। বুধবার (২০ মে) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৯০২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গত বছরের মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে তিন হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৬৩৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মরক্কো। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতার বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। গতকাল দেশটির রাজধানী রাবাতে এ বৈঠক হয়। আজ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও গভীর এবং মরক্কোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে সহযোগিতা, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সুযোগের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে আগ্রহী। দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের ঐতিহাসিক স্মৃতি তুলে ধরেন। রাবাতে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় মরক্কো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে|। চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং সম্ভাবনার নতুন খাত চিহ্নিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনেও সম্মত হয় তারা। শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতাকে আমন্ত্রণ জানান। পরে মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজ্জুরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জবাবে মরক্কোর মন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিদ্যমান কৃষি সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসফেটের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সরকারি পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। পাশপাশি মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি। দুই দেশ উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালী করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়|। একই দিনে মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ। বৈঠকে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন| দুই নেতা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকগুলোতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল। উল্লেখ্য, ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে মরক্কো সফরে রয়েছেন শামা ওবায়েদ। আজ রাবাতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশী পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখবে। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি দেশটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আজ রাজধানীর গুলশানে ডিসিসিআই সেন্টারে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঙ্গে শ্রীলংকায় নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইনের অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানানো হয়। এ সময় নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশের ডেইরি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খাদ্যপণ্যের সাপ্লাইচেইন ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ডেইরি, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডে নিউজিল্যান্ড বিশ্বমানের অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রাণিখাদ্য উৎপাদন, ডেইরি খামারের আধুনিকায়ন, গবাদিপশুর উন্নত জাত উন্নয়ন, মৎস, ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে সহায়তার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোগ্যপণ্য, খাদ্যপণ্যের সাপ্লাইচেইন ব্যবস্থাপনা, পানি ও জলবায়ু ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রভৃতি খাতের উন্নয়নে নিউজিল্যান্ডের বেসরকারি খাতকে একক ও যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বার সভাপতি। ২০২৫ অর্থবছরে দু’দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৯৭.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অধিকতর উন্নয়নে, বাংলাদেশ হতে তৈরি পোষাক, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সেবা প্রভৃতি পণ্য আরও বেশি আমদানির জন্য নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তাসকীন আহমেদ। জবাবে নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশী পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখবে। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশী পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি দেশটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মতো বাণিজ্য কাঠামোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে উভয় দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ডেভিড পাইন আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শুধু রপ্তানি বাজার নয়, আমদানি বাজারও বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। খাদ্যপণ্যের উচ্চমান, কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জিএমও-মুক্ত পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড বিশ্বব্যাপী পরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তুলতে তার দেশ আগ্রহী। এ সময় ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। আজ ঢাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘রেসপন্সিবল বিজনেস কন্ডাক্ট ফর রেজিলেন্স সাপলাই চেইনস এন্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় বাংলাদেশ একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শুধু উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে না বরং নির্ভর করবে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, শ্রমমান, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চার ওপর। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ভোক্তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন এবং ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়ার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে টেকসই উন্নয়ন-সম্পর্কিত নতুন বিধি-বিধান ও প্রত্যাশা বাড়ছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এখন কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সুশাসন এবং জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা শক্তিশালী করা গেলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও প্রতিযোগিতামূলক উৎস দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে উচ্চমূল্যের ও উদীয়মান বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে, টেকসই ও গুণগত বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পাবে। সরকার টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ সম্পর্কিত নীতি সমন্বয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার গুরুত্ব অনুধাবন করে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সবুজ শিল্পচর্চার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন, টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও সামাজিক কমপ্লায়েন্স কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণকেন্দ্রিক একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ ধরনের প্ল্যাটর্ফম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে এবং নীতিগত নির্দেশনা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যবসায়িক চর্চায় রূপান্তর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, শিল্প সমিতি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আমাদের এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে বড় ও ছোট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে দায়িত্বশীল চর্চা গ্রহণ করতে পারবে এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে। অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বাংলাদেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী, ইউএনডিপি এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, ইউএনডিপি এর ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালি দায়ারাত্নে, কান্ট্রি ইকনোমিক এডভাইজার ওয়াইস পেরি। অনুষ্ঠানে কী নোট পেপার উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার এখন জমজমাট। খুচরা দোকানি ও বনেদি পরিবারগুলো ভিড় করছেন খাতুনগঞ্জের পাইকারি মসলার বাজারে। চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি থাকায় বাজারে মসলার দাম কমছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, জিরার আমদানি হয়েছে দুই হাজার ৭৯৩ টন, লবঙ্গ এক হাজার ২৫৭ টন, এলাচ এক হাজার ৯৮ টন এবং জায়ফল আমদানি হয়েছে ৩৪৬ টন। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রধান চারটি মসলার আমদানি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, অন্যান্য বন্দর দিয়েও মসলা আসছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। একদিকে সরকারি হিসাবে মসলা আমদানি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ, অন্যদিকে ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের দাবি, এই ‘রহস্যময়’ দরপতনের নেপথ্যে রয়েছে সীমান্ত দিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য। এই অনুপ্রবেশের ফলে বৈধ আমদানিকারকরা এখন চরম সংকটে পড়েছেন। আমদানিকারক ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক জানান, সাধারণত কোরবানির আগে মসলার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই সুযোগে অসাধু সিন্ডিকেট দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও সেই জোগান বৈধ পথের নয়। খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, গত পনেরদিনে মসলার দামের গ্রাফ শুধু নিচের দিকেই নেমেছে। মে মাসের শুরুতে যে এলাচ পাইকারি পর্যায়ে চার হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, চলতি সপ্তাহে তা ২০০ টাকা কমে তিন হাজার ৯০০ টাকায় নেমে এসেছে। শুধু এলাচই নয়, লবঙ্গের দামও কেজিতে ৫০ টাকা কমে এক হাজার ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকায় ও গোলমরিচ এক হাজার ১০ টাকায়। চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, এলাচ ও জিরাসহ কিছু গরম মসলা চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়েও আমদানি হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই’ ২৫ থেকে ১০ মে’ ২৬ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এলাচ ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১৫০ টন, দারুচিনি ১৩ হাজার ২৯৬ টন, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০ টন, জিরা ৩ হাজার ১১৫ টন, জৈত্রিক ৩৫০ টন, জায়ফল ৩৩৬ টন, গোলমরিচ ১ হাজার ৯৫৯ টন, আদা ৪৫ হাজার ৫৩৮ টন ও রসুন ৫৩ হাজার ১০১ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলাচ এসেছিল ১ হাজার ৮৪৬ টন, দারুচিনি ১৫ হাজার ৭৩৯ টন, গোলমরিচ ১ হাজার ৬৫৯ টন আমদানি হয়েছিল। খাতুনগঞ্জের গরম মসলা ব্যবসায়ী মো. বাদশা বলেন, ডিউটি দিয়ে জিরা আমদানি মূল্য হচ্ছে কেজি ৫৩০ টাকা, সেই জিরা কিছু পাইকার বিক্রি করছে কেজি ৫শ টাকা। আবার এলাচ ডিউটি দিয়ে এলে (আমদানি হলে) প্রতি কেজি মূল্য হচ্ছে ৪১০০-৪২০০ টাকা। যারা ভিন্ন পথে আনছে, তারা ওই এলাচ বিক্রি করছে কেজি ৪০০০-৪০৫০ টাকায়। প্রতি কেজি ২শ টাকা কমে বিক্রি করছে অনেকে। এতে নিয়মিত আমদানিকারকরা মার খাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এপ্রিল মাসের শেষের দিকের তুলনায় সব ধরনের মসলার দাম কমেছে। এলএমজি এলাচ ছিল ৩৯০০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৭০০ টাকা। আগে লবঙ্গ ছিল ১৩০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৬০ টাকা। একইভাবে ৪৪০ টাকার দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়।’ মাংসসহ বিভিন্ন রান্নার উপকরণ উপাদেয় করতে মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার মতো সাধারণ মসলার পাশাপাশি ব্যবহৃত চিকন জিরা, লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও গোলমরিচসহ নানান মসলাকে গরম মসলা হিসেবে ধরা হয়। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানিতে গরম মসলার চাহিদা থাকে বেশি। খাতুনগঞ্জের ইলিয়াছ মার্কেট ও জাফর মার্কেটের মসলা ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে মোট চাহিদার গরম মসলার ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। চিকন জিরা, লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচÑ এ পাঁচ ধরনের গরম মসলা বেশি ব্যবহৃত হয়। সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী এলাকার সীমান্ত দিয়ে জিরা, এলাচ, কিশমিশ ও কাজুসহ সব ধরনের মসলা ঢুকছে দাবি করে আমদানিকারক ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক জানান, এতে খাতুনগঞ্জে মসলা বেচাকেনায় প্রভাব পড়ছে। বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জিরা কেজিতে ২২০-২৫০ টাকা শুল্ক, এলাচে কেজি প্রতি ৫৫০-৬০০ টাকা শুল্ক হারাচ্ছে সরকার। এলাচের দাম বেশি হওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, এলাচের ব্যবহার বহুমুখী। ওষুধ থেকে শুরু করে মাংস, চা, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবারে এলাচের ব্যবহার বাড়ছে। মধ্যবিত্তের প্রিয় মসলা হচ্ছে জিরা। তিনি জানান, ছোট আকারের এলাচ ৩ হাজার ৭০০ টাকা, বড় আকারের এলাচ ৪ হাজার টাকা ও লবঙ্গ ১ হাজার ২৬০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা বিক্রি করছি আমরা।
কর্পোরেট নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘উইমেন অন বোর্ডস’ শীর্ষক একটি অনবোর্ডিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) যৌথভাবে ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় এ সেশনের আয়োজন করে। গত ১৭ মে ঢাকার নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মশালায় আইসিএবি, আইসিএমএবি, এসিসিএ এবং বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় নারী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, পরিচালনা পর্ষদে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি সময়ের দাবি। বোর্ডে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি কর্পোরেট বোর্ডে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে দক্ষ নারী পেশাজীবীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও ডেটাবেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন পেশাগত ফোরামে সক্রিয় ভূমিকা পালন, সাহসিকতার সঙ্গে মতামত প্রকাশ এবং প্রশ্ন করার আহ্বান জানান। কর্মশালায় কর্পোরেট সুশাসন ও নেতৃত্ব বিষয়ে বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ সেশন পরিচালনা করেন খ্যাতনামা পেশাজীবী ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা। আইএফসি সাউথ এশিয়ার কর্পোরেট গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজরি লোপা রহমান পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা, পরিচালকদের দায়িত্ব ও আইনগত দায়বদ্ধতা বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি সুশাসন কাঠামো, সাসটেইনেবিলিটি স্ট্যান্ডার্ড, ইএসজি চর্চা এবং কার্যকর বোর্ড পরিচালনা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আর্থিক সুশাসন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের কাউন্সিল সদস্য, জেন্ডার ইনক্লুশন অ্যান্ড লিডারশিপ কমিটির চেয়ারম্যান এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’র স্বতন্ত্র পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘উইমেন অন বোর্ডস’ উদ্যোগটি আইএফসি’র ইন্টিগ্রেটেড এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রকল্পের অংশ। ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতে সুশাসন চর্চা জোরদার করা, টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ডিএসই’র প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মো. আবিদ হোসেন খান বলেন, দেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো দ্রুত অগ্রসর হলেও টেকসই উন্নয়নের জন্য বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, টেলিযোগাযোগ ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের সফল নেতৃত্ব ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন বোর্ডরুমে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে তাদের মেধা ও নেতৃত্ব দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে পারে।
'বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য' শীর্ষক এক হাজার, পাঁচশত ও দশ টাকা মূল্যমানের নতুন ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার থেকে এসব নোট মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও নোটগুলো ইস্যু করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন নোটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর সংবলিত থাকবে। এর আগে প্রচলনে আসা একই সিরিজের বিশ, পঞ্চাশ ও একশত টাকা মূল্যমানের নোটও পর্যায়ক্রমে গভর্নরের স্বাক্ষর ইস্যু করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নোটগুলোর রং, আকৃতি, ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে। পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রাও বৈধ এবং চালু থাকবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে। আগামী সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকবে। সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার (২৩ মে) ও রোববার (২৪ মে) তফসিলি ব্যাংকসমূহের সব শাখা ও উপ-শাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এরপর সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এসব শাখায় অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এবং লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপ-শাখা ও বুথসমূহে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সোমবার (২৫ মে) থেকে রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত (ঈদের দিন ছাড়া) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।
মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আগমনী বার্তার সাথে সাথে রাজশাহীর আম বাগানগুলো এখন পাকা আমের সুবাসে মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায়। চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমের বাম্পার ফলন এবং রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় আমচাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার জেলায় আম বিক্রি করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বিশাল অর্থনৈতিক লেনদেন হতে পারে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী জেলায় এ বছর মোট ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এরমধ্যে পবা উপজেলায় ৯২৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এ থেকে ১১ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। তানোর উপজেলায় আম চাষ হয়েছে ৫২১ হেক্টর জমিতে। আম উৎপাদন হবে ৬ হাজার ৬৬৯ মেট্রিক টন। মোহনপুর উপজেলার ৪২২ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৪০১ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। বাগমারা উপজেলায় ৫৭৫ হেক্টর থেকে ৭ হাজার ৩৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। দুর্গাপুর উপজেলায় ৭১০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যা থেকে ৯ হাজার ৮৮ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। পুঠিয়া উপজেলায় ১৫৪৭ হেক্টর জমি থেকে ১৯ হাজার ৮০২ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। গোদাগাড়ী উপজেলায় ১২২৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। আম উৎপাদন হবে ১৫ হাজার ৭০৫ মেট্রিক টন। চারঘাট উপজেলায় ৪৯০০ হেক্টর। যা থেকে ৬২ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। বাঘা উপজেলায় ৮০৭০ জমিতে আম চাষ হয়েছে। এ থেকে ১ লাখ ৩ হাজার ২৯৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। মতিহার থানায় ৯ হেক্টর। এই জমি থেকে ১১৫২ মেট্রিন আম উৎপাদন হবে এবং বোয়ালিয়া থানায় ৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এখান ৯৬০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। এই আমবাগান থেকে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আম বিক্রি করে ৮০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে রাজশাহীর বিখ্যাত গোপালভোগ, ল্যাংড়া, খিরসাপাত (হিমসাগর), ফজলি, আম্রপালি ও আশ্বিনাসহ ১৯টি জাতের চাষ হয়েছে। বিশেষ করে জেলার বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া এলাকার কয়েকজন আমচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন আগের তীব্র তাপদাহের পর সাম্প্রতিক হালকা বৃষ্টি আমের গুটি শক্ত হতে এবং দ্রুত বড় হতে দারুণ সাহায্য করেছে। চাষিরা এখন শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বাগান পাহারায় দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ১৫ থেকে গুটি আম দিয়ে আম পাড়া শুরু হয়েছে। গুটি ছাড়া অন্য আম বাজারে দেখা যাচ্ছে না। পবা উপজেলার রহিম নামে এক আমচাষি বলেন, এবার প্রথমের দিকে রোদ থাকায় কিছুটা আম ঝরে গেছে। তারপরও যে পরিমাণ আম আছে, তা যদি ঠিকঠাকভাবে বেচাকেনা করা যায় তাহলে লাভের মুখ দেখবো। তানোর উপজেলার আমচাষি সাইমুম বলেন, এ অঞ্চলের আম খুব সুস্বাধু। আশা করছি এবার আমের ব্যবসা ভালো হবে। সবাই লাভবান হবে। রাজশাহীর অর্থনীতি মূলত আমকেন্দ্রিক। প্রতি বছর মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত আমকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শুধু আম কেনাবেচায় নয়, এর সঙ্গে জড়িত প্লাস্টিক ক্যারেট ও বাঁশের ঝুড়ি তৈরি, কুরিয়ার সার্ভিস, পরিবহন খাত এবং হাজার হাজার দিনমজুরের কর্মসংস্থান মিলিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক বিশাল গতির সঞ্চার হয়। আমের এই বিশাল বাজারকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রতি বছরের মতো এবারও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ বা আম নামানোর সময়সূচি নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে, যাতে ভোক্তারা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও পরিপক্ব আম পেতে পারেন। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কালবৈশাখী ঝড় না হলে ৮০০ কোটি টাকার এই লক্ষ্যমাত্রা অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাবে এবং চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান মৌরী বাসসকে বলেন, রাজশাহী জেলায় এ বছর মোট ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। আম বাগান থেকে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আম বিক্রি করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে চাষিরা আমের ভালো দাম পাবে। এই অঞ্চলের অর্থনীতির গতি সঞ্চার হবে।
শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের চামড়া শিল্পখাতের সার্বিক উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘ-উভয় মেয়াদে কার্যকর করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিকের পক্ষ থেকে নীতিগত সহযোগিতাসহ এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। আজ রোববার রাজধানীর মতিঝিলে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘চামড়া শিল্পখাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স’-এর নবম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ আবদুর রহিম খানসহ টাস্কফোর্সের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চামড়া শিল্পখাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সরকার আন্তরিক। তিনি বলেন, পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে চামড়া খাতকে দেশের অন্যতম বড় আয়ের উৎসে পরিণত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, চামড়া সংরক্ষণের সুবিধা বাড়াতে হবে, যাতে কোরবানির মৌসুমে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়। চামড়া শিল্পকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী জানান, কোরবানির ঈদে সংগৃহীত পশুর চামড়া এতিমখানাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। এজন্য চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো, সংরক্ষণ এবং মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) প্রতিনিধিদের অনুরোধে চামড়া ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদানের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এ খাতের ব্যবসায়ীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্যও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি অনুরোধ জানান মন্ত্রী। এছাড়া, সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং চামড়া শিল্পনগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং লাগামহীন খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংক খাতে তীব্র মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। একের পর এক ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূলধন ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা পুরো খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ২০টি ব্যাংক বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ২৩টি ব্যাংকে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। যদিও সাম্প্রতিক প্রান্তিকে ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কমেছে, অর্থনীতিবিদদের মতে এটি প্রকৃত উন্নতি নয়, বরং নীতিগত সহায়তার কারণে কাগজে-কলমে সাময়িক পরিবর্তন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) ডিসেম্বর শেষে নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ লাগামহীন খেলাপি ঋণ। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০.৬০ শতাংশ। চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি জনতা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। ইসলামী ধারার সাতটি ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি, ৬৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এছাড়া বেসরকারি সাতটি ব্যাংকের ঘাটতি ৩৩ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত দুই ব্যাংক—বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—এও বড় ধরনের মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদন, দুর্বল পরিচালনা ব্যবস্থা এবং খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুনঃতফসিল নীতির মাধ্যমে কিছু ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছে, ফলে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ কমায় কাগজে-কলমে মূলধন ঘাটতি কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এবং ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা না ফিরলে এই সংকট আরও গভীর হবে, যা বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।