অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
সরকার বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে চায়: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে চায়।   তিনি বলেন, ‘নতুন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্ব, সমতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে আগ্রহী।’   মন্ত্রী আরও বলেন, উভয় দেশের জনগণ যাতে বাস্তব ও প্রত্যক্ষ উপকার লাভ করতে পারে, সে রকম টেকসই সম্পর্ক সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তারই প্রতিফলন এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।   তিনি বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন, কারণ আমরা আতিথেয়তাপূর্ণ ও উষ্ণ শহর কুনমিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করছি। চীনের মাটিতে এমন উদযাপন করতে পারা আমাদের দুই দেশের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার এক উজ্জ্বল প্রতীক, যা বছরের পর বছর ধরে লালিত ও বিকশিত হয়েছে। আমরা গর্বের সঙ্গে আমাদের দেশকে সম্ভাবনার এক অনন্য ভূমি হিসেবে অভিহিত করি। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়; বরং একটি উন্মুক্ত আমন্ত্রণ।   অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর লিউ ইয়াং, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং চীনের কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট লিউ কী লিন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা খেলাপির অভিযোগ নিয়ে যা বললেন গভর্নর

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণ খেলাপির অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বসে চুপ থাকাই ‘ভালো’।   তবে আর্থিক লেনদেনসহ নানা বিষয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানার প্রশংসা করেছেন তিনি।   শুক্রবার বিকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের সূত্র ধরে গভর্নরের খেলাপি হওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গটি ওঠে।   ওই সাংবাদিক ইসলামী ব্যাংকের চলমান অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি ব্যাংকটিতে অর্থ তুলতে গিয়ে অনেক গ্রাহক খালি হাতে ফিরছেন দাবি করে এক নারী গ্রাহকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   সাংবাদিকের ভাষ্য, ওই নারী বলেছেন, বতর্মান গভর্নরও ঋণ খেলাপি; তিনি কীভাবে ব্যাংক ভালো করবেন!   সাংবাদিকের কথা বলা শেষ হয়ে এ বিষয়ে গভর্নরকে উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   তখন মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘গভর্নর ঋণ খেলাপি— এটা চার মাসে অনেক শুনলাম। আমি কখনো ব্যাখ্যা দিইনি। কারণ, আমার সাংবাদিক বন্ধুদের প্রায়ই বলি যে, রেগুলেটরের কথা না বলাই ভালো।   অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে গর্ভনরের পদে বসায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।   দেশের ইতিহাসে সাবেক আমলা, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের বাইরে ব্যবসায়ী হিসেবে তিনিই প্রথম গভর্নরের পদ পান, যা অনেককে বিস্মিত করে।   নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। নতুন গভর্নর হিসেবে তার নাম আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ঋণ খেলাপি হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে।   এ বিষয়ে তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) থেকে নেওয়া ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করায় খেলাপি হয় তার কোম্পানি হেরা সোয়েটার্স লিমিটেড।   বাংলাদেশ ব্যাংক ও এমটিবির কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময় ৮৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণটি এককালীন ২ শতাংশ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে পুনঃতফশিল করা হয়।   বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে খেলাপির অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা করেন গভর্নর।   তিনি বলেন, ‘‘যেখানে আমি ইনভল্ব, সেটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিড সার্টিফাইট। আজ পর্যন্ত সেই কারখানা এক দিনের জন্যও বন্ধ হয় নাই; এক দিনের জন্যও রপ্তানি বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই কারখানায় এক মাসের জন্য বেতন দিতে পারে নাই, এমন হয় নাই।’   গভর্নরের ভাষ্য, কারখানাটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪ শতাংশ হারে সুদে ঋণ নেয় ব্যাংকের কাছ থেকে। প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরে ব্যাংক পরবর্তীতে জানায়, সেই তহবিল শেষ হয়ে গেছে। ব্যাংক জানিয়ে দেয়, প্রচলিত বাণিজ্যিক সুদহারে ঋণ নিতে হবে।   গভর্নর বলেন, ‘হঠাৎ ১১ শতাংশ সুদ হয়, তাই স্বাভাবিকভাবে ঋণ পরিশোধ আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই।’   কোভিড মহামারীর প্রভাবসহ অন্যান্য সমস্যাও ছিল মন্তব্য করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘‘এইটা নিশ্চিত থাকেন যে, আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চাইনি। সুদ মওকুফ চাইনি। প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি টাকার উপরে ব্যাংকে পরিশোধ করে দিয়েছে।’’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।   এ নিয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন ডাকে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাতে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের পাশাশি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিও উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সমন্বয়ের উদ্যোগ দুর্নীতি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়নি। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। এই বাস্তবতায় বেতন সমন্বয় করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।   তিনি আরও বলেন, মানুষের অভাব-অনটন থাকলে অনেক সময় দুর্নীতির দিকে ঝোঁকার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারলে দুর্নীতির প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান প্রমুখ।   অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল হয়নি। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তাই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয় করা দরকার।   তিনি আরও বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থান বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব না হলেও তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং স্বনিয়োজিত খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দের উদ্দেশ্যও দক্ষতা উন্নয়ন, যাতে দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ বাড়ে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই: গভর্নর

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।   শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। বন্ধ হতে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে।   আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর বোর্ডের সর্বশেষ সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই আমানতকারীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে প্রয়োজনে জরুরি তারল্য সহায়তা দেয়া হবে। আমানতকারীদের কোনো সমস্যা হবে না।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর প্রসঙ্গে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সম্মিলিত ৫টি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।   পাচারকৃত টাকা ফেরানোর বিষয়ে গভর্নর বলেন, পাচারের টাকা ফেরানোর নজির কম, তবে অর্থপাচারকারীদের আমরা শান্তিতে থাকতে দেব না। পাচারের টাকা ফেরাতে চেষ্টা চলছে।   সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামোয় ৮ বড় পরিবর্তন

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্রস্তাবিত বাজেটের দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি আসবে রাজস্ব আদায় থেকে। অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা হবে এবং কর ব্যবস্থায় জনগণের হয়রানি নিরসন করে আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়েছে সরকার। এর বাইরেও কর, রাজস্ব আদায় ও শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কী কী প্রস্তাব আনা নেওয়া হয়েছে, সেটি তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়, যার সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বৃহস্পতিবার ঘোষিত বাজেট ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে পৌনে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে এই সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা। করমুক্ত আয়সীমা পৌনে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত শুধু ২০২৬-২৭ অর্থ বছরেই থাকবে না। সেটি অব্যাহত রাখা হবে পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৭-২৮ সাল পর্যন্ত। শুধু এই দুই অর্থ বছর নয়, আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমার হার কেমন হবে, সেটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ব্যক্তি শ্রেণি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা হবে ৪ লাখ টাকা। পরের অর্থ বছর অর্থাৎ ২০৩০-৩১ অর্থ বছরে করমুক্ত আয়সীমা হবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে আগামী অর্থ বছর ও তার পরের অর্থ বছরে নারী করদাতা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বাৎসরিক করমুক্ত আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের ক্ষেত্রে আগামী দুই অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই আন্দোলনকারীদের করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হচ্ছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। করে ছাড় প্রদান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও কৃষিপণ্যে কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার দেশের প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নতির লক্ষ্যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর হ্রাসের একটি বড় জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য, যেমন-ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর উৎসে করের হার হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড়ের অংশ হিসেবে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফেরও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের ওপর উৎসে কর ও ভ্যাট কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরি হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ৩০শে জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরিবর্তিত থাকছে কর্পোরেট কর ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে আরো শক্তিশালী, প্রতিযোগিতাসক্ষম এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে এবং করদাতাদের হয়রানি কমাতে নীতিগত কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছ। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যমেয়াদী নিশ্চয়তা দিতে এবং পলিসি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যমান কর্পোরেট করের হার আগামী অর্থবছরে অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে করের আওতা বাড়িয়ে করের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এত দিন করযোগ্য আয় না থাকলেও উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক 'ন্যূনতম কর' ধরা হতো, যা ব্যবসার সচল মূলধন আটকে দিত। নতুন প্রস্তাবে এই সনাতন পদ্ধতি বাতিল করে উৎসে করকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী 'অগ্রিম কর' হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অতিরিক্ত পরিশোধিত কর সরাসরি রিফান্ড (ফেরত) করা হবে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অটোমেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কনটেন্ট তৈরি ও ফ্রিল্যান্সারদের ভ্যাট কনটেন্ট তৈরিতে কর মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের লাখ লাখ তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করে আয় করছেন, তারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তরুণ প্রজন্মের উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহ প্রদান এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরো সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি। ফলশ্রুতিতে আগামী অর্থবছরে মোট ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হ্রাস হবে। রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে সারা বছর আয়কর ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিশেষ প্রণোদনা পাবেন। বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তাই ছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন যা কর তা দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের দুই শতাংশ বা তিন হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এছাড়া এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের পাঁচ শতাংশ বা পাঁচ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস বিএনপি সরকারের অধীনে প্রথম বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে। এছাড়া জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় পাঁচ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।খেজুর আমদানিতে পাঁচ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে খেজুরের। এছাড়া আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।   ওষুধ শিল্প ও জনস্বাস্থ্য খাত দেশের ওষুধ শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের নতুন উপকরণ এবং ওষুধ তৈরির মূল উপাদান এপিআইসহ মোট ৭৭টি নতুন মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার প্রজ্ঞাপনে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে আরো ৯টি উপকরণ যুক্ত করে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’ ওষুধ শিল্পের অধিকতর প্রসারকল্পে স্থানীয়ভাবে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়াও বিশ্ববাজারে দেশি ওষুধের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে আরো ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়ি ও বাইক শুল্ক ছাড় দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি, বাস, ট্রাক ও ই-বাইক খাতে শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখা হবে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে করভার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে তিন শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রেখে অন্যান্য শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুই লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

মারিয়া রহমান জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে চালু হচ্ছে একই দিনে লেনদেন নিষ্পত্তি

পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচনার প্রক্রিয়া নিষ্পন্নের সময় কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি লেনদেনের নিষ্পত্তিতে ‘টি+শূন্য’ চালুর কথা বলেছেন।   আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, “পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বর্তমানের ‘টি+২’ থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে ‘টি+০’ করা হবে।” বর্তমানে জেড ক্যাটাগরি ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির  শেয়ারের লেনদেন হয় ‘টি+২’ পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিতে কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনলে তৃতীয় দিনে তার বিও হিসাবে ক্রয়কৃত শেয়ার জমা হয়। অন্যদিকে যিনি শেয়ার বিক্রি করেন, তার টাকাও একাউন্টে জমা হয় তৃতীয় দিনে। অন্যদিকে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় টি+৩ পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিতে শেয়ার কেনাবেচার চতুর্থ দিনে এর নিষ্পত্তি হয়। কেউ  কেনাবেচনা হওয়া শেয়ার বা শেয়ার বিক্রির টাকা ব্যবহার করা যায় লেনদেন হওয়ার দুদিন পর। ‘টি+শূন্য’ হলে সেটা দিনের দিন সম্পন্ন হয়ে যাবে। শেয়ার নিষ্পত্তির সময় কমলে লেনেদেনে গতি বাড়বে। বর্তমানে কোনো শেয়ার বিক্রি করে বিক্রিত অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করতে হলে বিনিয়োগকারীকে ২ দিন অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে কোনো শেয়ার কিনলে সেটি বিক্রি করার জন্যেও ২ দিন অপেক্ষা করতে হয়। একই দিনে লেনেদেন নিষ্পন্ন হলে বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির টাকায় পরদিনই নতুন শেয়ার কিনতে পারবেন, একইভাবে কেউ শেয়ার কিনলে পরদিনই তা বিক্রি করতে পারবেন।   ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ অনেক দিন ধরেই লেনদেন নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ খান এক অনুষ্ঠানে লেনদেন নিষ্পত্তিতে ‘টি+০’ চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি ঋণের সুদের ওপর কমছে উৎস কর

বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎস করের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে এই প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের ব্যয় কমানোর স্বার্থে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎস করের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।   বাজেটে শিল্প খাতে আরও কিছু সুবিধা প্রস্তাব করেছেনব অর্থমন্ত্রী। যার মধ্যে রয়েছে- উৎস করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসাবে বিবেচনা করা।   দেশীয় ভোজ্য তেল উৎপাদন ব্যবসার করহার প্রথম ৫ বছরের জন্য সম্পূর্ণ অব্যাহতি এবং পরবর্তী ৩ বছর ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২ বছর ২৫ শতাংশ অব্যাহতি দিয়ে ১০ বছরের জন্য সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব। পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহ প্রদানের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ কর হার প্রস্তাব।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক সম্মানী ভাতা বাড়াতে যাচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।     বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি।     মাসিক সম্মানী ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম পরিবারের ৩০ হাজার টাকা, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারের ২৫ হাজার করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। তবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত থাকছে। এ ছাড়া উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, চিকিৎসাসেবা, দাফনে অনুদানসহ বিভিন্ন সুবিধা অব্যাহত থাকবে।     মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের তথ্যমতে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর গেজেটের মাধ্যমে সাতজনকে বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জনকে বীর উত্তম, ১৭৫ জনকে বীর বিক্রম এবং ৪২৬ জনকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়া হয়।     অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।     অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারদের মাসিক যে টাকা দেয়া হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে শহীদ পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এ, বি, সি ক্যাটাগরিতে আহত ব্যক্তিদের যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেয়া হচ্ছে। তবে আগামী বাজেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৭ জন বাড়িয়ে মোট ১৬ হাজার ৫১৩ জনকে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
১৫ লাখ জেলে পরিবার ভিজিএফ সুবিধা পাবে, চালু হচ্ছে মৎস্য বিমা

দেশের প্রান্তিক ও জলজীবী জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৫ লাখ জেলে পরিবার ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) সুবিধার আওতায় খাদ্য সহায়তা পাবে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো চালু করা হচ্ছে ‘মৎস্য বিমা’ কর্মসূচি।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাছ ধরা নির্ভর জীবিকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন ও মৌসুমি ঝুঁকির কারণে জেলেরা প্রায়ই আয় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ভিজিএফ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি আর্থিক সুরক্ষার নতুন মাধ্যম হিসেবে বিমা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।   মৎস্য বিমা চালু হলে দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতে তাদের জীবিকা আরও স্থিতিশীল হবে এবং দারিদ্র্য ঝুঁকি কমবে।   সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, সুবিধাভোগী নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা এই সহায়তা পান। এ উদ্যোগকে দেশের মৎস্য খাত ও উপকূলীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ক্যান্সার, কিডনিসহ ৬ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তরা পাবেন বছরে ১ লাখ টাকা

ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ মোট ৬টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বছরে ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসায় বিপর্যস্ত রোগী ও তাদের পরিবার কিছুটা হলেও আর্থিক স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত ৬টি গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীরা বছরে একবার করে এই সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে ক্যান্সার ও কিডনি রোগ ছাড়াও অন্যান্য জীবনঝুঁকিপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসংক্রান্ত রোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।   সরকার জানিয়েছে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত রোগীরা যাতে সুবিধা পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ডাটাবেস ও যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও সম্প্রসারিত করবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক

ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) লাগবে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় তিনি ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন নেয়ার বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব দেন।     এটি বাজেটের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত। নতুন প্রস্তাব অনুসারে, যেকোনো ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দেখাতে হবে।     তবে এক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেয়া হয়েছে। যেমন, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব নেয়ার সময় এই টিআইএন সনদ দেখাতে হবে না। আবার নো ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট যেমন- ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব, সরকারি ভাতা সুবিধা নেয়ার জন্য যত হিসাবসহ পেনশন ভোগীদের হিসাবের ক্ষেত্রে টিআইএন দেখানোয় অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।     দেশে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব আছে। নতুন করে যারা হিসাব খুলবেন তাদের টিআইএন খোলার প্রয়োজন হতে পারে। মূলত করের জাল বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন হবে আগামী ৭ বছরে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে।     বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এই প্রস্তাব রাখেন।   আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। উক্ত প্রকল্পে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে; চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা সুবিধা ভোগ করবে। এছাড়াও, আমাদের সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।     বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সমন্বিত ও সার্বিক পানি সম্পদ ব্যাবস্থাপনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেচ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, লবণাক্ততা প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।     তিনি বলেন, সরকার দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ৫ বছরে ২০,হাজার কিলোমিটার “নদী-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন” কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়লো

২০২৬-২৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। এই হিসেবে এই খাতে বরাদ্দ বেড়েছে।   বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।   তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) খাতে ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ১ হাজার ৪৫৪ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে আরও জানানো হয়, ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার ক্রয় করা হয়েছে।   এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) জন্য ১০০ ভাগ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রবীণদের ট্রেনের ভাড়া ফ্রি, মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড়

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও মেট্রোরেল ২৫ শতাংশ ছাড়।   বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   অর্থমন্ত্রী বলেন, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকেরা ট্রেনে বিনা মূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেল ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।   ফলে প্রবীণ নাগরিকেরা যাতায়াতে খরচ কমবে। তাদের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও স্বস্তিকর হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার: সংসদে অর্থমন্ত্রী

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করা এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।     বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় এ তথ্য জানান তিনি।     তিনি বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা।     অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করা এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। এজন্য ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।     এছাড়া ব্যাংক খাতে অনাদায়ী ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।     সরকার লুট হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে এবং ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অনিয়ম বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।     নতুন নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করা হবে, যেন দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলো স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে, বলেন তিনি।     এছাড়া নারী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সেবা প্রাপ্তি বাড়িয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রস্তাবিত অর্থবিলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২২.৫%, অ-তালিকাভুক্তের ২৭.৫%

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত অর্থবিলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য করহার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে কোম্পানিকে আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার জনসাধারণের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মতো ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর দিতে হবে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি তাদের সব আয় ও লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে, তাদের করহার আরও কমে ২০ শতাংশে নেমে আসবে। অন্যদিকে ১০ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের শর্ত পূরণ না করা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করলে করহার হবে ২৫ শতাংশ।   ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক করহার বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অ-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য ৪৫ শতাংশ করহার বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট শর্তে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরদের করহার ৪০ শতাংশে নেমে আসতে পারে।   কর প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্ত ও গোয়েন্দা ইউনিটের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কর ফাঁকি অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, তল্লাশি, জব্দ এবং প্রয়োজন হলে মামলা দায়েরের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।   ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রথমবারের মতো “ফ্রিল্যান্সিং” ও “কনটেন্ট ক্রিয়েশন”-এর আইনি সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ খাতের জন্যও নতুন কিছু সংজ্ঞা ও বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।   করদাতাদের সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কর রেয়াত পাওয়া যাবে, আর বিলম্বে জমা দিলে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা দিতে হবে।   এছাড়া নতুন অর্থবিলে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে সম্পূরক শুল্ক, বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও বিলাসপণ্যের শুল্ক পুনর্বিন্যাস, বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য শুল্ক সুবিধা এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল) গঠনের নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   সরকারের মতে, এই অর্থবিলের মূল লক্ষ্য হলো করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা, বিনিয়োগ ও রপ্তানি উৎসাহিত করা এবং কর প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।

আক্তারুজ্জামান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অর্থমন্ত্রীর হাতের ব্রিফকেসে কী থাকে, কেন এই প্রথা?

বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। এটিই হবে গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় এই বাজেট ঘোষণা করবেন, যার সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস। বাজেট অধিবেশনে বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থমন্ত্রীই ব্রিফকেস নিয়ে ঢোকেন পার্লামেন্টে। বাংলাদেশেও এই রেওয়াজ আছে, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তবে এই ব্রিফকেস নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। কী থাকে সেই ব্রিফকেসে?  জানতে আগ্রহ থাকে সবারই। অর্থমন্ত্রীর হাতের ব্রিফকেসে কোটি কোটি টাকা থাকে না। সেখানে থাকে বাজেট বক্তৃতার ড্রাফট, যেখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকে। অর্থমন্ত্রীদের এই ব্রিফকেস বহনের রীতি কবে থেকে শুরু হয়েছিল?  এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খান তার বই ‘বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’তে লিখেছেন— শিল্পবিপ্লবের পর ইংল্যান্ডের অর্থনীতি অনেক বড় হয়ে যায়। বাজেটবিষয়ক প্রস্তাবগুলো শুধু একটা মানিব্যাগে সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছিল না। মানিব্যাগের জায়গায় তাই আসে ব্রিফকেস।   আকবর আলি খানের বইটিতে বাজেট প্রস্তাবের দিন ব্রিফকেস ব্যবহারের আরেকটি কারণ উল্লেখ করা হয়। সেটি হচ্ছে— বাজেটে কোন কর বাড়বে বা কোন কর কমবে, তার গোপনীয়তা বজায় রাখা অপরিহার্য। বাজেটের কোনো তথ্য জেনে ব্যবসায়ীরা রাতারাতি তার ব্যবহার করতে পারেন। তাই প্রস্তাবগুলো গোপন রাখার স্বার্থে ব্রিফকেসে করে আনা হয়।  জানা যায়, বাজেট ব্রিফকেসের এই রীতি শুরু হয় ১৮ দশক থেকে। প্রথম শুরু হয় যুক্তরাজ্যে থেকে। বাজেটপ্রধানকে এ ব্রিফকেস খুলে বাজেট পেশ করতে বলা হতো।   ভারতে ব্রিটিশ সরকারের প্রথম বাজেট বক্তৃতা দেন জেমস উইলসন এবং ১৮৬০-৬১ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন। দিনটি ছিল ১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল, কলকাতায়। এই উপমহাদেশে উইলসনই প্রথম গণতান্ত্রিক ওয়েস্ট মিনিস্টার টাইপের সরকার পদ্ধতির আওতায় সরকারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনার বাজেট পেশ করেন, যা আজও বিদ্যমান বাংলাদেশ ও ভারতে। ভারতীয় উপমহাদেশ ভাগের পর ১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ পূর্ববাংলা প্রদেশে প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন বসে। জানা যায়, হামিদুল হক চৌধুরী সে অধিবেশনেই ১৯৪৮-৪৯ সালের বাজেট পেশ করেন। সেই সময়ও ‘ব্রিফকেস রীতি’ মানা হয়েছিল।  স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন ১৯৭২ সালের ৩০ জুন। একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। তখনো তার হাতে ছিল ‘বাজেট ব্রিফকেস’। প্রথা অনুযায়ী ‘লাল ব্রিফকেস’ হাতে নিয়ে বাজেট পেশকারী সংসদে প্রবেশের আগে চিত্র-সাংবাদিকদের সামনে এসে ছবি তোলেন। দেখা গেছে, এ রহস্যময় ব্রিফকেসের রঙ সবসময় লাল ছিল না, তা বছর বদলেছে। কখনো কালো আবার কয়েক বছর মেরুন রঙেরও দেখা গেছে। রীতি অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী এ বাজেট ব্রিফকেস বহন করে নিয়ে আসেন। এর ভেতরে থাকে বাজেট সম্পর্কিত বিভিন্ন ফাইল ও কাগজপত্র। সবচেয়ে বেশি বাজেট পেশকারী সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও এম সাইফুর রহমানকেও এই ব্রিফকেস নিয়ে আসতে দেখা গেছে। এর মধ্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যবহার করেছেন মেরুণ ও কালো রঙের ব্রিফকেস।  বাজেট ব্রিফকেসের এ রীতি শুরু হয়েছিল ১৮ দশক থেকে। ব্রিটেনের বাজেট প্রধানকে এ ব্রিফকেস খুলে বাজেট বলতে বলা হতো। ১৮৬০ সালে ব্রিটেনের বাজেট প্রধান উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোন লাল স্যুটকেসে করে বাজেট সংক্রান্ত নথি নিয়ে আসেন। সেই স্যুটকেসের ওপর সোনা দিয়ে রানির ছাপ দেওয়া ছিল। তিনি পরে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ওই একই ব্যাগ এর পর বহু সরকারের আমলেই ব্যবহার করা হয়। তবে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির বর্ণনায় বলা হয়েছে, ষোড়শ শতাব্দীতে ‘একজনের বাজেট খোলার’ কথাটি ব্যবহৃত হয় এমন অর্থে— কেউ এমন কিছু প্রকাশ করছে, যা গোপন, সম্ভবত কিছুটা সন্দেহজনকও। অনেকটা থলে থেকে কৌশল বের করা হয় এমন।

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন বাজেটের লক্ষ্য

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এবারের জাতীয় বাজেটের সব দিক নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন।   বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন ও রূপরেখা তুলে ধরতে পৌঁছান তিনি। বাজেট উপলক্ষে ওইদিন বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন হতে যাচ্ছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা, চিন্তা-ভাবনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সব মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তার মধ্যেই বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।   আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টাই এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।   তিনি জানান, এবারের বাজেটে দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে জাতীয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সবাই অংশ নিতে পারে এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছে যায়।   অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাজেট বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ব্যাংক থেকে ১২৪৩ কোটি টাকা নেন হাসিনা ও পরিবার

২০১৫ সাল থেকে শুরু করে টানা এক দশকে ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতের বিপুল অর্থ গেছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল এবং শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। একটি ফরেনসিক অডিটে দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) প্রত্যক্ষ প্রভাবে এসব অনুদান দেওয়া হয়। ওই সময়ে বিএবির চেয়ারম্যান ছিলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অডিট অনুযায়ী, এই সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে মোট ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা অনুদান গেছে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং সূচনা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে বিএবি সরাসরি সদস্য ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠায়। আর বাকি ১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা ব্যাংকগুলো সরাসরি দেয় বিএবির পাঠানো অনুরোধপত্রের ভিত্তিতে। অডিটররা আরও ৫৬৫ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছেন, যা একই ধরনের প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অর্থ বিএবির অনুরোধে দেওয়া হয়েছিল কি না, তার পক্ষে কোনো চাহিদাপত্র বা দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে ১০ বছরে ২৯টি ব্যাংক ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। এটি ব্যাংকগুলোর মোট করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর ব্যয়ের প্রায় ২৪ শতাংশ। অডিটে বলা হয়েছে, এসব অনুদান অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলোর নিজস্ব সিএসআর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, সিএসআর কার্যক্রমে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৩০ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু অভিযোজন খাতে ২০ শতাংশ ব্যয় করার নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আয়বর্ধক কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতেও অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।নীতিমালায় আরও বলা আছে, যোগ্য বিবেচিত হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানেও অনুদান দিতে পারবে। অডিটে দেখা গেছে, ত্রাণ, বন্যা মোকাবিলা ও শিক্ষা সহায়তার নামে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টে ৩৭৪ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এর প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে। সূচনা ফাউন্ডেশন পেয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা। বাকি অর্থ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ এবং ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারপারসন ছিলেন। আর তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ছিলেন সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন। ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে মামলা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদ পেতে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে এই মামলা করা হয়। এ ছাড়া বিএবির সদস্য ব্যাংকগুলোকে চাপ দিয়ে সূচনা ফাউন্ডেশনের হিসাবে ৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা জমা করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেছিল। এই উদযাপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অফিসে ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হয়। ব্যাংকগুলোও নানা কর্মসূচিতে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।অডিট অনুযায়ী, শুধু মুজিববর্ষ উদযাপনের জন্যই ১৭৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।এর বাইরে ৭৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে ক্রীড়া আয়োজন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ওপর নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের স্পন্সরশিপে।  ফরেনসিক অডিটটি করেছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি প্রতিষ্ঠান ‘এ কাশেম অ্যান্ড কোং’। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নজরুল ইসলাম মজুমদারের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর গঠিত নতুন বিএবি বোর্ড এই অডিটের উদ্যোগ নেয়। অডিটের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন অসঙ্গতি, সম্ভাব্য জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনা খুঁজে বের করা। এ জন্য প্রাপ্ত নথিপত্র এবং বিএবি ও সদস্য ব্যাংকগুলোর জবাব ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনটি মূলত বিএবি ও অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ৪১টি সদস্য ব্যাংকের মধ্যে ২৯টি পুরোপুরি তথ্য দিয়েছে। বাকি ১২টি ব্যাংক কোনো তথ্য জমা দেয়নি। বিএবির তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম ২০১৪ সালে সীমিত আকারে শুরু হয়েছিল। পরে এটি বড় আকার নেয়। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, শুরুতে ব্যাংকগুলো এই অনুদান দিতে রাজি ছিল না। তবে পরে অনেক নির্বাহী বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়েন। কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হুমকি পেয়েছেন, আবার কাউকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, তৎকালীন বিএবি চেয়ারম্যান নিজে অনুদান সংগ্রহের অগ্রগতি তদারকি করতেন। কেউ অনুদান না দিলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ পাঠানো হতো। ফলে ব্যাংকের নির্বাহী ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অনেক সময় এসব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, চাপের কারণে কিছু ব্যাংক তাদের সিএসআর ব্যয়ের নির্ধারিত সীমাও অতিক্রম করেছিল। মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট খাতে টাকা দিতে বাধ্য করা না হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি ব্যয় করা যেত। এখন এসব অনুরোধ বাধ্যতামূলক নয় বলে আমাদের ব্যাংক একটি স্কুল পরিচালনা করছে।তিনি আরও বলেন, এখনও বিএবি থেকে সুপারিশপত্র আসে, তবে এখন আর অনুদান দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, আমি এসব নিজের চোখে দেখেছি। কিন্তু মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো মাঝেমধ্যে এসব অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলত, কিন্তু তাতে তারা সমস্যায় পড়ত। তার মতে, একটি মাত্র তহবিলে এত বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার কারণে অন্য সিএসআর খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত মুনাফাও ছিল না, তারপরও অনুদান দিতে হয়েছে। আনিস এ খান বলেন, অনুদানের অর্থ শেষ পর্যন্ত কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, তার ওপর ব্যাংকগুলোর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিএসআরের অর্থ অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে।তার মতে, এই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেশি উপকৃত হতে পারত। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সিএসআর তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মকানুন পুনর্বিবেচনার পরামর্শও দেন তিনি। অন্যান্য অনিয়ম  অডিটররা গত এক দশকে ৫৩৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন ও ব্যয়ের তথ্য পেয়েছেন।এসব ব্যয়কে ‘অযোগ্য’ বা ‘সমর্থনহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ এগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি অথবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিল না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যয় সম্ভাব্য আর্থিক অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকার অনুদানের তথ্য সদস্য ব্যাংকগুলো দিলেও তা নথিপত্র দিয়ে যাচাই করা যায়নি।অডিটে আরও ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার অনুদানের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলোর পক্ষে প্রাপকের স্বীকৃতি বা ব্যাংকিং নথি নেই। এ ছাড়া সমাপনী ব্যাংক হিসাব ১৪ লাখ টাকা কম দেখানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। ৯৯ লাখ টাকার নগদ অনুদান এবং অস্তিত্বহীন সরবরাহকারীর কাছ থেকে বা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া ৭৬ লাখ টাকার কেনাকাটার তথ্যও মিলেছে। অডিটররা আরও কিছু অনিয়ম শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—নথিপত্রহীন ওভারটাইম বিল, ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠানো, একটি চেকে একাধিক ভেন্ডারকে অর্থ পরিশোধ করা, অনিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মিটিং খরচ, অনুমোদনহীন সম্মানি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ভুয়া ইনভয়েস বা বিল। অডিটে আরও দেখা গেছে, অনুমোদন ছাড়াই ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এক খাত থেকে অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের সহায়তার নামে তোলা অর্থ পরে অটিস্টিক শিশুদের একটি বিশেষায়িত স্কুলে দেওয়া হয়। আরেক ঘটনায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সহায়তার কথা বলে অর্থ তোলা হলেও সেই অর্থের মধ্যে ১ কোটি টাকা এক জ্যেষ্ঠ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার কাছে অ্যাকাউন্ট-পেয়ি চেকের মাধ্যমে পাঠানো হয়। পুরো সময়জুড়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার বিএবির চেয়ারম্যান ছিলেন। নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নজরুলকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে এক আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকার অজ্ঞাত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এর মাধ্যমে সেখানে নজরুলের দীর্ঘদিনের প্রভাবের অবসান ঘটে। নজরুল কারাগারে থাকায় বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। আর সায়মা ওয়াজেদ বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। বিএবির বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, অতীতে যা হয়েছে, আমরা এখন আর তা করছি না। তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে অতীতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরা এখন পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে বিএবি পরিচালনা করছি।

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকের চলমান অস্থিরতার কারণে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি, ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, পর্যবেক্ষক হিসেবে মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পর্যবেক্ষণ প্রদান করবেন।   বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এ উদ্যোগ ব্যাংকটির কার্যক্রমে আস্থা, শৃঙ্খলা ও সুশাসন আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে একদল গ্রাহকদের মধ্যে মতবিরোধ এবং বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। টানা বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে আতঙ্কে ব্যাংকটি থেকে আমানত তোলা শুরু করেছেন গ্রাহকরা।   জানা গেছে, গত ১ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে, যার কারণে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা বা সিআরআর রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চাওয়া হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব বাজারে ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।   বুধবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২৮ ডলারে নেমে আসে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণবাজারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।   সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে ইরানও পাল্টা হামলার দাবি করে।   এদিকে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা কমে যায়।   স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রূপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ৩ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম আরও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০ ডলারের নিচে নামলে বছরের শেষ নাগাদ তা ৩ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।   সূত্র : রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১০, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ

ভুটানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশ

আক্তারুজ্জামান জুন ০৭, ২০২৬