অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত
ছুটি না নিয়েই অস্ট্রেলিয়া, চাকরিচ্যুত এনবিআরের প্রথম সচিব

ছুটি না নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ায় কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার তানজিনা রইসকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই এই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তানজিনা রইস সর্বশেষ এনবিআরের প্রথম সচিব (মূসক পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তানজিনা রইসকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর এক মাসের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে ছুটি ভোগ করা শুরু করেন। ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করায় ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এনবিআর থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। জবাবে তিনি ই-মেইল যোগে জানান যে, তিনি আগেই ছুটির মেয়াদ আরও ৩ মাস বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি সঠিক নিয়ম ও বিধি মেনে আবেদন করেননি। ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তার ছুটির আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৯ জুলাই তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময়ে লিখিত জবাব না দেওয়ায় এনবিআরের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিককে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্তে তানজিনা রইসের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু ৭ কার্যদিবসের মধ্যেও তিনি কোনো জবাব দেননি। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতিও এই গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের কর্মকর্তার স্বামী অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছেন। এই কর্মকর্তা ২০১৮ সালে যুগ্ম কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এ কর্মরত ছিলেন। ওই বছরের শেষ দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটিতে ‘মাস্টার্স অব কমার্স উইথ এ স্পেশালাইজড ইন ফাইন্যান্স কোর্ড’ কোর্স করতে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যান। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই মাস্টার্স করতে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষা ছুটি মঞ্জুরি করে। মাস্টার্স শেষে তিনি দেশে চলে আসেন। সূত্র জানায়, অস্ট্রেলিয়া থেকে আসার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সন্তানের চিকিৎসা করাতে থাইল্যান্ড গিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে সন্তানের চিকিৎসা করাতে তাকে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনের ছুটি দেওয়া হয়। সেখান থেকে দেশে না ফিরে ছুটি না নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন। আর ফিরে আসেননি। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ছুটি না নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়া পড়তে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইউএস-বাংলার ডানায় রেকর্ড বিনিয়োগের হাওয়া, বিদেশিদের টেক্কা দিতে চায়

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমানের জন্য যখন একযোগে বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ সংগ্রহের কথা চলছে, একই সময়ে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলাও।   বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে টেক্কা দিয়ে দেশীয় বাজার ধরতে মরিয়া ইউএস-বাংলা প্রতিষ্ঠার ১২ বছরের মাথায় নতুন করে ১৪ হাজার কোটি টাকা (১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার খবর দিয়েছে।   দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে এটা রেকর্ড। সবচেয়ে কম টাকায় হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্যও সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে এয়ারলাইন্সটি।   একটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কাঠমান্ডু রুটও নতুন করে শুরু করার কথা বলা হয়েছে ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে।   দেশের এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করা ৪১টি এয়ারলাইন্সের মধ্যে মাত্র চারটি দেশি। দেশের ৮০ শতাংশের বেশি যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো।   এখানে যাত্রী চাহিদা এত বেশি যে বাজে সার্ভিস দিয়েও দিনের পর দিন টিকে যাচ্ছে একেকটি এয়ারলাইন্স। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো বাজার ধরতে পারলে বিদেশি মুদ্রা বাঁচবে।   দেশের চারটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে ইউএস-বাংলার বহরে সবচেয়ে বেশি ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ।   বিমান সম্প্রতি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের জন্য চুক্তি করেছে। পাশাপাশি এয়ারবাস থেকেও বিমানের জন্য উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার ‘ড্রাই লিজে’ তিনটি সিঙ্গেল আইল বোয়িং সংগ্রহের জন্য দরপত্র প্রকাশ করেছে বিমান।   ইউএস-বাংলাও গত সপ্তাহে ২১টি নতুন বোয়িং সংগ্রহের ঘোষণা দেয়। গত ১২ জুলাই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো একটি চিঠিতে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বা ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ২১টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টি জানায় এয়ারলাইন্সটি।   চিঠিটি মূলত দেওয়া হয়েছিল বোয়িং ও এয়ারক্রাফট লিজিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আগামী ২৯ জুলাই অনুষ্ঠেয় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিডার চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।   নতুন উড়োজাহাজে বিনিয়োগের অর্থ পাঁচটি আন্তর্জাতিক লিজিং কোম্পানির মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে জানিয়ে ইউএস-বাংলার চিঠিতে বলা হয়, ২০২৭ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হবে।   অন্যদিকে বিমানের অর্ডার করা উড়োজাহাজগুলো আসতে আসতে ১০ বছর গড়িয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বহর সম্প্রসারণে ইউএস-বাংলা এগিয়ে থাকবে।   প্রচুর যাত্রী, টানছে বিদেশিরাই বর্তমানে দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ প্রবাসী। মূলত তাদের যাতায়াতের কারণেই ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিন-রাত ব্যস্ততা।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে প্রধান এ বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন অন্তত ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী। আগের বছর যাত্রী সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ।   এই বিমানবন্দরে বর্তমানে যাত্রীসেবা দিচ্ছে ৪১টি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স। যার মধ্যে মাত্র চারটি দেশি। এবং এই চারটির মধ্যে কেবল বিমান ও ইউএস-বাংলা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।   মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং বিমান চলাচল ও যাত্রীসংখ্যার বিষয়ে পূর্বাভাস দেয় তাদের কমার্শিয়াল মার্কেট আউটলুক (সিএমও) ম্যাাগাজিন।   ‘কমার্শিয়াল মার্কেট আউটলুক ২০২৫- ২০৪৪’ এ বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এভিয়েশন (বিমান পরিবহন) বাজার। আগামী বিশ বছরে, গড় বার্ষিক এয়ার ট্রাফিক (বিমান চলাচল) প্রবৃদ্ধি জিডিপিকে প্রায় তিন শতাংশ পয়েন্টে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   “এছাড়া সাম্প্রতিক সরকারি সংস্কার এবং উদার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ নীতি দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর মূলধন পাওয়ার সুযোগ উন্নত করতে সহায়তা করছে এবং এ অঞ্চলে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর বিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত করছে।”   বোয়িং কমার্শিয়ালের এশিয়া প্যাসিফিক ও ভারতের মার্কেটিং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেভ শাল্টে ২০২৩ সালে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সিএমওর বরাত দিয়ে বলেছিলেন, “পশ্চিম এশিয়া ও ভারতে আঞ্চলিক ট্র্যাফিক বিবেচনায় আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিমান ভ্রমণ দ্বিগুণ হবে বলে আমরা মনে করি।”   সিএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, যাত্রী ভ্রমণ এবং এয়ার কার্গোর জোরালো চাহিদা মেটাতে, দক্ষিণ এশিয়ার ক্যারিয়ারগুলোকে আগামী ২০ বছরে ২ হাজার ৩০০টির বেশি নতুন বাণিজ্যিক বিমান বহরে যুক্ত করতে হবে, যা এখনকার তিনগুণ।   এর মধ্যে সিঙ্গেল-আইল বা ৭৩৭ এর মত ন্যারোবডি উড়োজাহাজ থাকবে ক্যারিয়ারগুলোর বহরের ৯০ শতাংশ। বোয়িং ৭৮৭ এর মত ওয়াইডবডি থাকবে ১০ শতাংশ।   এই দৌড়ে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে বিমান ও ইউএস-বাংলা ছাড়া আর কেউ অংশ নিতে পারছে না। যাত্রী প্রবাহ বৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণেই বিদেশি লিজিং কোম্পানিগুলো ইউএস-বাংলার সঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।   বেসরকারি এয়ারলাইন্সের আসা-যাওয়া   গত তিন দশকে দেশে ১০টির মত বেসরকারি এয়ারলাইন্স ব্যবসা শুরু করেছে; এর মধ্যে ছয়টিই বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠার এক দশকের মধ্যে।   দেশের বিমানবন্দরের অতিরিক্ত চার্জ, নানা সুবিধায় থাকা ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার বিমানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে না উঠতে পারাসহ নানা কারণে এ এয়ারলাইন্সগুলো বিপুল দেনা রেখে অকালেই ঝরে গেছে।   ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট শুরু করে ‘অ্যারো বেঙ্গল এয়ারলাইন্স’। চার বছরের মাথায় ব্যবসা গুটিয়ে নেয় তারা।   ১৯৯৭ সালে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছিল ‘এয়ার পারাবত’। তারাও চার বছরের মধ্যে ২০০১ সালে বন্ধ হয়ে যায়।   ২০০৫ সালে চালু হয় ‘এয়ার বাংলাদেশ’ এবং ২০০৭ সালে চালু হয় ‘রয়েল বেঙ্গল এয়ারলাইন্স’। অব্যাহত লোকসানের কারণে এ দুটি এয়ারলাইন্সও বন্ধ হয়ে যায়।   ২০০৭ সালে আত্মপ্রকাশ করা ‘বেস্ট এয়ার’ ফ্লাইট অপারেশন শুরু করে ২০০৮ সালে। এক বছরের মধ্যেই এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।   ২০০৫ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অপারেশন বন্ধ করে দেয়।   ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা জিএমজি এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে যায় ২০১২ সালে।   ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করা রিজেন্ট এয়ার ২০২০ সালে কোভিডে মহামারীর সময় বন্ধ হয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ দেনার দায়ে তখন তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের কথাও সংসদে জানান তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।   এখন যেসব বেসরকারি কোম্পানি চালু আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো এয়ারলাইন্স নভোএয়ার ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে। গত বছর একবার কার্যক্রম স্থগিত করে তারা আবার ফিরে এসেছে। তবে তাদের আন্তর্জাতিক রুটে কোনো ফ্লাইট নেই।   এমন পরিস্থিতির মধ্যে বেসরকারি খাতে রীতিমত রেকর্ড গড়ে ২৫টি এয়ারক্রাফটের বহর চালাচ্ছে ইউএস-বাংলা। আরও ২১টি তাদের বহরে যোগ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।   ইউএস-বাংলার মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বলেন, নতুন এয়ারক্রাফট দিয়ে ইউএস-বাংলা পশ্চিম এশিয়ার কুয়েত, বাহরাইন, মদিনার মত গন্তব্যের পাশাপাশি হংকং, মালয়েশিয়ার পেনাং, জহরবারুর মত পর্যটক আকর্ষণকারী গন্তব্যে ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা করছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সঙ্গে পণ্যগুলোর সব ধরনের বিপণন ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসব পণ্য ক্রয় বা গ্রহণ না করার জন্য ভোক্তাদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ আদেশ জারি করে।   নিষেধাজ্ঞা পাওয়া খাদ্যপণ্য ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইষ্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইষ্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’, ইষ্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইষ্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং আরবোটিং ফুড কোম্পানি লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’।   বিএফএসএ জানায়, ল্যাব পরীক্ষায় এই তিনটি খাদ্যপণ্যে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মাত্রায় প্রিজারভেটিভের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে তাদের নির্দিষ্ট পণ্যগুলো বাজার থেকে দ্রুত তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানায় সরকারি এই সংস্থাটি।   বিএফএসএ বলেছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৭, ২০২৬
শেয়ার বাজারে কারসাজি: কীভাবে কাজ করে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’

শেয়ার বাজারে কোনও কোম্পানির শেয়ারের দাম হঠাৎ কয়েক দিনে ৩০, ৫০ কিংবা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অথচ কোম্পানির ব্যবসা, মুনাফা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় দৃশ্যমান কোনও পরিবর্তন থাকে না। আবার অনেক সময় লোকসানি, উৎপাদন বন্ধ কিংবা দীর্ঘদিন লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানির শেয়ারও অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়। প্রশ্ন ওঠে—এমনটা কীভাবে সম্ভব?   পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে কাজ করে শেয়ার বাজারে কারসাজি (মার্কেট ম্যানুপুলেশন)। এটি এমন একটি অবৈধ প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তি বা একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিমভাবে কোনও শেয়ারের চাহিদা, সরবরাহ কিংবা মূল্যকে প্রভাবিত করে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।   সাম্প্রতিক সময়ে ঝিল বাংলা সুগার মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, সোনারগাঁও টেক্সটাইলসহ কয়েকটি দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে কারসাজির বিষয়টিকে আলোচনায় এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—শেয়ার বাজারে কারসাজি আসলে কী, কীভাবে এটি পরিচালিত হয় এবং কেন এটি রোধ করা কঠিন?   কারসাজি আসলে কী   শেয়ার বাজারে প্রতিটি শেয়ারের দাম স্বাভাবিকভাবে নির্ধারিত হওয়ার কথা ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রকৃত চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে। কিন্তু যখন কোনও ব্যক্তি বা চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য, গুজব, কৃত্রিম লেনদেন বা গোপন তথ্যের অপব্যবহার করে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, তখন সেটিই বাজার কারসাজি।   অর্থাৎ বাজারে যে মূল্য দেখা যাচ্ছে, সেটি প্রকৃত ব্যবসায়িক অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা একটি মূল্য। এই কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যপতনের সুযোগ নিয়ে কারসাজিকারীরা বিপুল মুনাফা করে, আর শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।   কীভাবে কাজ করে কারসাজির চক্র?   বাজার-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি কারসাজি চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে। প্রথমে তারা এমন একটি কোম্পানি নির্বাচন করে, যার বাজার মূলধন তুলনামূলক কম, শেয়ারের সংখ্যা সীমিত অথবা কোম্পানিটি দীর্ঘদিন লোকসান করছে। এরপর ধীরে ধীরে কম দামে বিপুল পরিমাণ শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।   পরবর্তী ধাপে শুরু হয় কৃত্রিম চাহিদা তৈরির খেলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ, মেসেজিং অ্যাপ কিংবা ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় নানা গুঞ্জন—কোম্পানিতে বড় বিনিয়োগ আসছে, নতুন প্রকল্প চালু হচ্ছে, বড় লভ্যাংশ আসবে কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনছে।   এই গুজবে প্রভাবিত হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা শুরু করলে দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। দাম যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন কারসাজি চক্র তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বিপুল মুনাফা নিয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর কৃত্রিম চাহিদা শেষ হয়ে গেলে শেয়ারের দাম দ্রুত পড়ে যায় এবং ক্ষতির ভার বহন করতে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।   সবচেয়ে পরিচিত কৌশল ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’   বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে পরিচিত কারসাজির কৌশল হলো ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’। এ পদ্ধতিতে প্রথমে একটি শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে সেই শেয়ার নিয়ে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়, যাতে সাধারণ মানুষ শেয়ারটি কিনতে উৎসাহিত হন। যখন দাম অনেক বেড়ে যায়, তখন কারসাজিকারীরা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এরপর বাজারে বিক্রির চাপ বাড়লে শেয়ারের দাম ধসে পড়ে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অতীতের অনেক আলোচিত কারসাজির ঘটনায় এই কৌশলের মিল পাওয়া গেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।   ওয়াশ ট্রেডিং: নিজেরাই কেনেন, নিজেরাই বিক্রি করেন   আরেকটি বহুল ব্যবহৃত কৌশল হলো ওয়াশ ট্রেডিং বা সার্কুলার ট্রেডিং। এ ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কোনও মালিকানা পরিবর্তন হয় না। একই ব্যক্তি বা একই সিন্ডিকেটের সদস্যরা একাধিক বিও হিসাব ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যেই একই শেয়ার বারবার কেনাবেচা করেন।   ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, ওই শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এই ভুয়া চাহিদা দেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কিনতে শুরু করেন।   ইনসাইডার ট্রেডিং: গোপন তথ্য দিয়ে মুনাফা   শেয়ার বাজারে সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মগুলোর একটি হলো ইনসাইডার ট্রেডিং। কোম্পানির পরিচালক, কর্মকর্তা, অডিটর বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক সময় মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, যেমন- বড় লভ্যাংশ, বড় চুক্তি, একীভূতকরণ, লোকসান কিংবা নতুন প্রকল্পের তথ্য—সাধারণ মানুষের আগে জেনে যান।   যদি সেই তথ্য প্রকাশের আগেই তারা নিজেরা বা তাদের ঘনিষ্ঠরা শেয়ার কেনাবেচা করেন, তাহলে তা ইনসাইডার ট্রেডিং হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সমান তথ্য পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।   ভুয়া অর্ডারের ফাঁদ   আধুনিক পুঁজিবাজারে আরেকটি পরিচিত কারসাজির কৌশল হলো স্পুফিং ও লেয়ারিং। এ ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের শেয়ার কেনা বা বিক্রির ভুয়া অর্ডার দেওয়া হয়, যাতে অন্য বিনিয়োগকারীরা মনে করেন বাজারে বড় ধরনের চাহিদা বা বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। বাজারে কাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ভুয়া অর্ডার বাতিল করে দেওয়া হয়।   কেন টার্গেট হয় দুর্বল কোম্পানি?   বিশ্লেষকদের মতে, কারসাজিকারীরা সাধারণত শক্তিশালী নয়, বরং দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিকেই বেশি টার্গেট করে। বিশেষ করে জেড শ্রেণিভুক্ত, উৎপাদন বন্ধ, দীর্ঘদিন লোকসান করা বা কম মূলধনি কোম্পানির শেয়ার সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কারণ এসব কোম্পানির বাজারে অবাধে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। ফলে তুলনামূলক কম অর্থ দিয়েই একটি চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ঝিল বাংলা সুগার মিলসের মতো দীর্ঘদিনের লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। কোম্পানিটির ব্যবসায়িক অবস্থার কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন না থাকলেও মাত্র কয়েক কার্যদিবসে শেয়ারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। পরে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সাময়িকভাবে শেয়ারটির লেনদেন স্থগিত করে।   পুরোনো কৌশল, নতুন রূপ পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কারসাজির ধরন বদলালেও মূল কৌশল একই রয়েছে। আগে গুজব ছড়ানো হতো মুখে মুখে, এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গ্রুপ ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে মুহূর্তেই হাজারো বিনিয়োগকারীর কাছে পৌঁছে যায়।   কখনও দাম আগে বাড়ে, পরে কোম্পানি কোনও ইতিবাচক তথ্য প্রকাশ করে। আবার কখনও তথ্য প্রকাশের আগেই একটি নির্দিষ্ট চক্র সেই তথ্যের সুবিধা নিয়ে অবস্থান তৈরি করে ফেলে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সব সময়ই পিছিয়ে থাকেন।   এ প্রসঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অতীতে শেয়ার বাজারে কারসাজির ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটলেও বর্তমানে অটোমেশন ও কম্পিউটারভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সেই সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু চক্র এখনও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো বা কমানোর চেষ্টা করতে পারে।   তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান কমিশন যেকোনও ধরনের কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে শুধু কারসাজি দমন করলেই হবে না, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’’   আবু আহমেদের মতে, শেয়ার বাজারকে শক্তিশালী ও গভীর করতে হলে বাজারে আরও বেশি মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও সুশাসনসম্পন্ন কোম্পানি আনতে হবে। বিশেষ করে বড় ও ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলে চলবে না। প্রয়োজন হলে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মতো বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ভালো কোম্পানিগুলোকে দ্রুত বাজারে আনা উচিত। এতে বাজারের গভীরতা বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।’’   নিয়ন্ত্রকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ   পুঁজিবাজারে কারসাজি রোধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নজরদারি জোরদারের কথা বলছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়েল-টাইম নজরদারি, কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধিতে দ্রুত ব্যবস্থা, জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির ওপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক লেনদেন স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া সরকারও শেয়ার বাজারে অতীতের বড় ধরনের কারসাজির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষার মতো উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে।   বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা   বিশ্লেষকদের মতে, কোনও শেয়ারের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেই সেটিকে ভালো বিনিয়োগ মনে করার সুযোগ নেই। বরং এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, মুনাফা, লভ্যাংশ, নগদ প্রবাহ, মূল্য-আয় অনুপাত (পি/ই), ব্যবসার প্রকৃত অবস্থা এবং মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ যাচাই করা জরুরি।   কারণ, শেয়ার বাজারে কারসাজির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—শুরুর দিকে এটি লাভের সুযোগ বলে মনে হলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীই ক্ষতির মুখে পড়েন। আর এ কারণেই একটি স্বচ্ছ, তথ্যনির্ভর ও কঠোর নজরদারির পুঁজিবাজার গড়ে তোলাই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৭, ২০২৬
দামও কমছে, অর্ডারও কমছে—ইউরোপের বাজারে দ্বিমুখী চাপে বাংলাদেশের পোশাক খাত

  বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) তৈরি পোশাক রফতানিতে উদ্বেগজনক প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। শুধু রফতানি আয়ই নয়, একইসঙ্গে রফতানির পরিমাণ (ভলিউম) এবং ইউনিট মূল্য—তিনটি সূচকেই ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সাময়িক বাজার মন্দার প্রভাবের চেয়ে বেশি; বরং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও পণ্যের মূল্যসংযোজন নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।   ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে বড় ধাক্কা   মূল্য, পরিমাণ ও ইউনিট দাম—তিন সূচকেই পতন; প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ   দেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমেছে। শীর্ষ ১০টি পোশাক সরবরাহকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই আমদানি কমেছে সবচেয়ে বেশি।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৮৯৭ কোটি ১৩ লাখ ইউরোর পোশাক আমদানি করেছিল ইইউ। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭২৭ কোটি ৬৯ লাখ ইউরোতে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৬৯ কোটি ৪৪ লাখ ইউরোর রপ্তানি আয় হারিয়েছে বাংলাদেশ।   একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৭৫৮ কোটি ইউরো থেকে ৩ হাজার ৩৮৪ কোটি ইউরোতে নেমে এসেছে। তবে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের পতনের হার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৈশ্বিকভাবে ইইউর পোশাক আমদানি কমার পেছনে চাহিদা হ্রাস এবং কিছুটা মূল্যহ্রাস—দুই কারণই কাজ করেছে। বিশ্ববাজার থেকে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।   কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ, একই সঙ্গে রফতানির পরিমাণ এবং ইউনিট মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পতন হয়েছে। জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউর আমদানির পরিমাণ ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১৫ দশমিক ৪১ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরোতে নেমেছে, যা ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ হ্রাস।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত কোনো দেশ কম দামে বেশি পণ্য বিক্রি করে বাজার ধরে রাখে, অথবা উচ্চমূল্যের পণ্য বিক্রি করে আয় ধরে রাখে। কিন্তু বাংলাদেশ এখন এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে একদিকে রফতানির পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে কমছে পণ্যের দামও। ফলে আয় কমার চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।   শুধু মে মাসের চিত্রও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ থেকে ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ ইউরোর পোশাক আমদানি করেছিল ইইউ। চলতি বছরের একই মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১৮ কোটি ২৬ লাখ ইউরোতে, যা ১৭ দশমিক ১২ শতাংশ কম। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং ইউনিট মূল্য ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ কমেছে।   প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   চীন থেকে ইইউর পোশাক আমদানি কমেছে মাত্র ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। বরং দেশটি আমদানির পরিমাণ প্রায় ২ শতাংশ বাড়িয়ে বাজার ধরে রেখেছে, যদিও ইউনিট মূল্য কিছুটা কমেছে।   ভিয়েতনামের রফতানি মূল্য কমেছে মাত্র ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। দেশটি উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি করে ইউনিট মূল্য ১২ শতাংশের বেশি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, যদিও রফতানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।   তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রে রফতানির পরিমাণ কমলেও ইউনিট মূল্য বেড়েছে। পাকিস্তানের রফতানি মূল্য ১৭ শতাংশ কমলেও দেশটির রফতানির পরিমাণ বরং বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ; সেখানে মূল ধাক্কা এসেছে ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ায়। ভারতের ক্ষেত্রেও মূল্য ও পরিমাণ—দুই সূচকেই পতন রয়েছে, তবে বাংলাদেশের তুলনায় তা অনেক কম। অপরদিকে, ইন্দোনেশিয়ার রফতানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি কমলেও মূল্যহ্রাস বাংলাদেশের মতো তীব্র নয়।   খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই তুলনামূলক চিত্রে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে একই সঙ্গে রফতানির পরিমাণ এবং ইউনিট মূল্য—উভয় ক্ষেত্রেই এত বড় মাত্রার পতন ঘটেছে। ভিয়েতনাম মূল্য ধরে রাখতে পেরেছে, চীন পণ্যের পরিমাণ ধরে রেখেছে; কিন্তু বাংলাদেশ দুই ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছে।   বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এপ্রিলে যে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, মে মাসেও তা অব্যাহত রয়েছে। এটি আর এক মাসের সাময়িক ওঠানামা নয়; বরং বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতায় একটি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে, বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু কম দামে পণ্য বিক্রির কৌশল নয়, বরং উচ্চমূল্যের ও মূল্যসংযোজিত পোশাক উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং নতুন বাজার কৌশলের দিকে আরও জোর দিতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় এই ধারাবাহিক পতন দীর্ঘমেয়াদে দেশের রফতানি আয়, শিল্পের প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিযোগী দেশগুলোর পরিবর্তিত কৌশল বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৭, ২০২৬
দেশে আরও বাড়ল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বর্তমানে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার।   বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।   এর আগে গত ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৫৪৬ দশমিক ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ৯০৭ দশমিক ০৩ মিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।   চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ (১ দশমিক ৫৪২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। এরমধ্যে শুধু ১৪ জুলাই একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ৫০ লাখ (১১৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নতুন ঋণের আলোচনা শুরু: রাজস্ব ও ব্যাংকিং সংস্কারে জোর আইএমএফের

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈদেশিক চাপ বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব সংকট মোকাবিলায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, কঠোর মুদ্রানীতি এবং ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার ও সংস্কার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। সরকারের অনুরোধে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফর করে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। আইএমএফ জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির আকার, ঋণের পরিমাণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো আগামী কয়েক মাসে আলোচনা হবে। আইএমএফের কর্মকর্তা আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সফরের শেষদিন বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে আইএমএফ জানায়, এই তথ্য-সংগ্রহমূলক সফরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সম্ভাব্য আইএমএফ কর্মসূচির পরিধি, অর্থায়নের আকার এবং এর সঙ্গে যুক্ত সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আইএমএফের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এসব চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্র করেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে দেশে আবারও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আগেই সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক খাতেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রয়েছে, তারপরও উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে বহিঃখাতের ভারসাম্য রক্ষায় চাপ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। আইএমএফ জানিয়েছে, এবারের আলোচনা ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ প্রতিবেদনে চিহ্নিত নীতিগত অগ্রাধিকারকে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর জন্য রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থা যৌক্তিক করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের প্রভাব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিবৃতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিময় হার আরও নমনীয় করা এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে সুশৃঙ্খলভাবে খাতটির দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে এবং বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মীদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। আইএমএফের মতে, ব্যাংকিং খাতের চাপ, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক খাতের ঝুঁকি একে অপরকে আরও তীব্র করতে পারে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। সফর শেষে বাংলাদেশের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আন্তরিক আতিথেয়তা ও খোলামেলা, গঠনমূলক আলোচনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
স্বপ্নে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা এসিআইর

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্লুচিপ কোম্পানি এডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডে (ব্র্যান্ড নাম স্বপ্ন) ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।   আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত এসিআই পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিনিয়োগ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।   কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।   সূত্র অনুসারে, বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি এসিআই পিএলসির এক হাজার টাকা মূল্যের ৭০ লাখ কনভার্টিবল প্রেফারেন্স শেয়ার কিনবে। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এই বিনিয়োগ করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বেড়ে ৫ শতাংশ

স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল, বিশেষ করে সুতা ও কাপড় সংগ্রহ করে প্রস্তুত করা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নগদ সহায়তার হার তিন গুণের বেশি বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করল সরকার। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে এতদিন বিকল্প নগদ সহায়তা ছিল দেড় শতাংশ। রপ্তানিকারকদের দাবির মুখে এই হার বাড়ানো হয়েছে। এতে স্পিনিং মিল ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান উভয়ে উপকৃত হবে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের মাধ্যমে গত ১ জুলাই থেকে জাহাজীকৃত পণ্যে নতুন হারে নগদ সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের বস্ত্র খাতের সুতার উল্লেখযোগ্য আমদানি হয় ভারত থেকে। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রে উৎসাহিত করতে ২০২৪ সালের আগে এ ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিন ধাপে কমিয়ে দেড় শতাংশে নামানো হয়। এরপর দেশীয় সুতা ব্যবহার ব্যাপক কমে স্পিনিং মিলগুলো সংকটে পড়ে। সর্বশেষ অর্থবছর রপ্তানি আয়ও কমে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আগের অর্থবছর যা ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।   তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সমকালকে বলেন, এক থেকে দুই সেন্ট দরের পার্থক্যের কারণে রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে চলে যায়। সরকারের সাড়ে ৩ শতাংশ প্রণোদনা বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তের ফলে রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অনেক বাড়বে। আবার দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে নগদ সহায়তা কমানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে সরকার থেকে বের হতে আরও তিন বছর সময় চেয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে। আগের সূচি অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ হওয়ার কথা ছিল। এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়া যাবে না। এ কারণে চলতি অর্থবছরে নগদ সহায়তার হার কোনো ক্ষেত্রে কমানো হয়নি; বরং তৈরি পোশাকের একটি ক্ষেত্রে বাড়ানো হলো।   গতকালের সার্কুলারে বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারককে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে হবে। আর প্রণোদনার জন্য দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল, বিশেষ করে সুতা ও কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। গত ১ জুলাই থেকে জাহাজীকৃত পণ্যে এ হারে নগদ সহায়তা দিতে পারবে ব্যাংকগুলো।   তৈরি পোশাকসহ বর্তমানে ৪৩ ধরনের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা দেয় সরকার। গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত থাকবে জানিয়ে একটি সার্কুলার জারি করে। এখন কেবল দেশীয় বস্ত্র ব্যবহার করে রপ্তানিতে প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। দেশীয় বস্ত্রে বিকল্প নগদ সহায়তার বাইরে ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিতে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং নিট, ওভেন, সোয়েটারসহ তৈরি পোশাকের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বহাল থাকছে। বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা নতুন বাজার সম্প্রসারণ সুবিধা ২ শতাংশ এবং তৈরি পোশাকের বিশেষ নগদ সহায়তা শূন্য ৩ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে প্রণোদনার হার আপাতত একই থাকছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৪,৩৭৪ টাকা

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয়, যা আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজুস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে গ্রাহককে এখন খরচ করতে হবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আজ ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানোর মাধ্যমে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবারও সোনার দাম কমানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনায় মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা দাম কমেছে।   বাজুসের নতুন তালিকা অনুযায়ী, মানভেদে অন্যান্য সোনার দামও হ্রাস পেয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা (কমেছে ২ হাজার ৯৯ টাকা)। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা, যা আগের চেয়ে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কম।     গতকালের দামের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ১৩ জুলাই সকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের ভরি ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই পুরাতন মূল্যতালিকা কার্যকর ছিল।   সোনার পাশাপাশি রূপার দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার গহনার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গহনা ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের এই দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ব্রয়লার মুরগির খামার। ছবি : সংগৃহীত
ব্রয়লার উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে, বাংলাদেশ ৫৩তম

দেশের অভ্যন্তরে পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বিশ্বে ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে শীর্ষ ৫০-এর বাইরে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উৎপাদনের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৩তম। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং খামারিদের সঠিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এই খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।   জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্রয়লার বা পোলট্রি মাংস উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশই আসে দেশটি থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, তৃতীয় ব্রাজিল, চতুর্থ রাশিয়া এবং পঞ্চম ভারত।   বাংলাদেশে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পোলট্রি শিল্প বর্তমানে দেশের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস এবং এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের জীবিকা জড়িত। তবে বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে আরও এগিয়ে যেতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্যের উচ্চ মূল্য। একটি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের মোট ব্যয়ের বড় অংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। পাশাপাশি আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।   খাতসংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারি সহায়তা, প্রযুক্তির বিস্তার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক উৎপাদনের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও উন্নত হবে।   এদিকে বিশ্বজুড়ে ফার্মের মুরগি উৎপাদনের ১ম স্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) সর্বশেষ ২০২৫ সালের পূর্ণ বছরের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে প্রায় ২১.৭৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। এই উৎপাদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালেও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। দেশটিতে ২০২৫ সালে প্রায় ১৬.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার উৎপাদিত হয়েছে। চীনের বিশাল জনসংখ্যার মাংসের চাহিদা মেটাতে দেশটির সরকার পোলট্রি শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আসছে।   অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটি ২০২৫ সালে ১৫.৪৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদন করেছে। শুধু উৎপাদনেই সেরা নয়, তারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মুরগির মাংস রপ্তানিকারকও বটে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশে ব্রাজিলের হিমায়িত মুরগির মাংস নিয়মিত রপ্তানি হয়।   চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ পোলট্রি শিল্পকে বেশ শক্তিশালী করে তুলেছে। ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদন করেছে। বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ২০২৫ সালে প্রায় ৫.৪৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন ব্রয়লার (চিকেন) মাংস উৎপাদিত হয়েছে। তাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং পোলট্রি ফিড বা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা তাদের এই অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
৮১ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক বাবদ আদায়কৃত অর্থের মধ্যে ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার প্রকাশিত বাজেট পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।     মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুল্ক ফেরতের এই বিপুল উল্লম্ফন পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কারণে হয়েছে। বেশিরভাগ অর্থই ফেরত দেওয়া হয়েছে গত মে ও জুন মাসে।    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে গত বছর আমদানিকৃত পণ্যের ওপর একতরফাভাবে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত শুল্কের বড় অংশ বাতিল করেন। ফলে শুল্ক প্রদানকারী কোম্পানিগুলোকে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় সরকার।   যুক্তরাষ্ট্রের চলতি অর্থবছর শুরু হয়েছে গত অক্টোবরে। বাজেট পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে।    ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, দেশের অভ্যন্তরে কারখানা চালু, ভালো বাণিজ্য চুক্তি এবং ফেডারেল বাজেটের ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শুল্ক নীতিকে সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এ থেকে আসা আয়ের কারণে গত বছর বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমলেও এখন তা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঘাটতির পরিমাণ ২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।   যুক্তরাষ্ট্র কেবল তার ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটির সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৫ শতাংশ।   মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান সাময়িক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। তবে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইনের শিথিল প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   এ সংক্রান্ত সবশেষ প্রস্তাবটি যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত, তাইওয়ান ও চীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় অংশীদার দেশগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি ট্রাম্পকে তাঁর সুরক্ষাবাদী নীতির ওপর আদালতের জারি করা আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়ানোর সুযোগ দেবে। নতুন এই শুল্ক ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিকাশ অ্যাপে ন্যানো ঋণ: সাড়ে চার বছরে ৩৫ লাখ গ্রাহক

সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন বা ক্ষুদ্রঋণ দ্রুতই সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে নিজের স্মার্টফোনে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটেই কোনো ধরনের জামানত ছাড়া এই ঋণ নেওয়া যাচ্ছে। বিকাশ থেকে গত সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন ৩৫ লাখ মানুষ।   সিটি ব্যাংক-বিকাশের উদ্যোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু হয়। এই সেবা চালুর প্রথম বছরে ১০১ কোটি টাকার ঋণ নেন গ্রাহকেরা। দ্বিতীয় বছরে এসে ঋণ বিতরণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯৪ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে ৮৫৫ কোটি টাকার ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন গ্রাহকেরা। গত বছর সেই ঋণ প্রায় সাড়ে ৪ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায়। আর চলতি বছরের ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার ডিজিটাল ঋণ নিয়েছেন গ্রাহকেরা। সব মিলিয়ে গত সাড়ে চার বছরে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের বিতরণ করা ন্যানো ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়েছে।   এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ যখন বড় উদ্বেগের বিষয়, তখন দেখা যাচ্ছে ছোট অঙ্কের ডিজিটাল ঋণে পোর্টফোলিওর মান ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। এই ঘটনা থেকে পুরো ব্যাংক খাতের শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা নেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে।’   নতুন এই ঋণসেবা চালুর সাড়ে চার বছরে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। সিটি ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ৩৫ লাখ গ্রাহক গত সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ঋণ হিসাবে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক গ্রাহক গড়ে এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়েছেন ৯ বারের বেশি। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বিকাশ গ্রাহকের জন্য এই ঋণ সুবিধা উন্মুক্ত রয়েছে।   সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের এই ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছেন। প্রতিটি ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার টাকা, আর মাসিক ঋণ বিতরণ পৌঁছেছে ৯০০ কোটি টাকায়। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা সিটি ব্যাংক থেকে তিন ধরনের ঋণ নিয়ে থাকেন। সেগুলো হচ্ছে নগদ ঋণ, পণ্য কিনতে ‘বাই নাও পে লেটার’ এবং মোবাইল রিচার্জে পে লেটার। তার মধ্যে নগদ ঋণই ৯৯ শতাংশ।   সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ নেওয়া গ্রাহকের মধ্যে ৬৩ শতাংশ শহরাঞ্চলের। বাকি ৩৩ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন। আবার ঋণগ্রহীতাদের ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ২২ শতাংশ নারী।   ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ খেলাপি হওয়ার হারও খুবই নগণ্য। মোট বিতরণ করা ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ মাত্র ৫৩ কোটি টাকা বা দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিতরণ করা ঋণের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়মিতভাবে ব্যাংকে ফেরত এসেছে।   জানতে চাইলে বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, অত‍্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিকল্প তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ মূল্যায়ন এবং দূরদর্শী ব্যাংকিং ও সুশাসনের সমন্বয়ে বিকাশ, সিটি ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কার্যকর ডিজিটাল ঋণ বিতরণ মডেল তৈরি করেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের এই মাইলফলক লাখো গ্রাহকের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিজিটাল ঋণ পরিষেবা পৌঁছানোর এক সফলতার প্রমাণ।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে আসছে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং, স্টক এক্সচেঞ্জকে অনুমোদন দিল বিএসইসি

দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন আরও গতিশীল করতে বহুল আলোচিত স্ক্রিপ নেটিং (ইন্ট্রাডে ট্রেডিং) চালুর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে একই দিনে শেয়ার কেনাবেচার এই ব্যবস্থা চালু করা যাবে।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১,০২০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও কার্যকর করতে স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালুর বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ সুবিধা চালুর আগে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সব ধরনের প্রস্তুতি ও শর্ত পূরণ হওয়ার পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং কার্যক্রম চালু করতে পারবে।   বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, একই দিনে শেয়ার কেনা ও বিক্রির সুযোগ চালু হলে লেনদেনের গতি বাড়বে, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বিনিয়োগ কৌশল প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৪, ২০২৬
বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ

  নির্ধারিত নিট মূলধনের শর্ত পূরণে দীর্ঘদিন ব্যর্থ হওয়া এবং আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশের ছয়টি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ (রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত এবং ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, সেগুলো হলো— ফাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড; ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড; এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড; রিভারস্টোন ক্যাপিটাল লিমিটেড; হাল ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং রুটস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।   বিএসইসির একাধিক কমিশন সভার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সক্ষমতার ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি এবং অনেক ক্ষেত্রেই কার্যক্রম অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।   বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার শর্ত প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত নিট মূলধন বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানের নিট মূলধন ঘাটতির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’   তদন্ত ও ব্যাখ্যা তলব   নিট মূলধন ঘাটতির কারণ অনুসন্ধানে ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এসব তদন্ত পরিচালনা করবে বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।   অন্যদিকে, ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের নিট মূলধন ঘাটতির বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা ও নিট মূলধন বৃদ্ধির অগ্রগতি পরবর্তী কমিশন সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   কী বলে বিধিমালা   সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬ অনুযায়ী, কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হতে হবে। নির্ধারিত সীমার নিচে নিট মূলধন নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কমিশন ব্যাখ্যা তলব, কার্যক্রম পর্যালোচনা কিংবা নিবন্ধন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিতে পারে।   বাজারে কী বার্তা দিচ্ছে   বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিট মূলধনের ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিএসইসির এই পদক্ষেপ পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থাও স্পষ্ট হবে।   বর্তমানে দেশে বিএসইসির নিবন্ধনপ্রাপ্ত মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা ৬৬টি। এর আগে প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন সনদ বাতিলের কার্যক্রমও শুরু করেছে কমিশন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৩, ২০২৬
ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মাসটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৫৮২ মিলিয়ন ডলারে।   তবে বছরের প্রথম পাঁচ মাসের চিত্র এখনো নেতিবাচক। জানুয়ারি-মে ২০২৬ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।   এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)।   তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ (ভলিউম) ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে গড় ইউনিট মূল্যও কমেছে ২ শতাংশ। ফলে কম পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রির প্রভাবও পড়েছে রপ্তানি আয়ে।   বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা দুর্বল থাকায় ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমতে থাকে। তবে এ সময় প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ক্রয়-উৎসে (সোর্সিং) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত মিলেছে।   চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।   একই সময়ে আমদানির পরিমাণ (ভলিউম) ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। তবে গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, আমদানি কমার প্রধান কারণ ছিল ক্রয়ের পরিমাণ হ্রাস।   প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়া সবচেয়ে ভালো করেছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।   ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। একই সঙ্গে ভিয়েতনামের রপ্তানির পরিমাণও ৩ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়েছে।   প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে চীনের পতন ছিল সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে।   এছাড়া ভারতের রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।   ওটেক্সার তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ধীরে ধীরে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন। এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম।   যদিও জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি চাপের মধ্যেই ছিল, তবে মে মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হলে রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।  

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে সরকার।   গেল ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে জানায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আগের আর্থিক বছরের মতই রপ্তানিমুখী দেশি বস্ত্র ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।   দু্ই সপ্তাহের মাথায় সেই নির্দেশনা পরিবর্তন করে রোববার নতুন সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তাতে বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ‘ডিউটি ড্র-ব্যাকের’ পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হল।   এর মানে হচ্ছে—যেসব তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করবেন, তারাই বাড়তি এই নগদ সহায়তা পাবেন।   বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে নগদ সহায়তার হার বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।   নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই জারি করা সার্কুলারে রপ্তানিমুখী দেশি বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ‘ডিউটি ড্র-ব্যাক’ এর পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে এই খাতে বিদ্যমান নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হল।   এক্ষেত্রে রপ্তানিকারককে (বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ বা অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য) প্রণোদনা গ্রহণের পূর্বে দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল (সুতা/কাপড়) সংগ্রহের প্রমাণক দাখিল করতে হবে।”   বর্ধিত এই সুবিধা গত ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে সার্কুলারে তুলে ধরা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ ডিসেম্বরের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।   নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা নেওয়ার আগে দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। সুবিধাটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ ডিসেম্বরের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়।   বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমইএ এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সে দিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।   এ সময় তারা দেশি সুতা ব্যবহার উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ ছয় দফা দাবি জানান।   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই ব্যবসায়ে টিকে থাকতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধির দাবি করেছিলেন বস্ত্রকল মালিকেরা। আলাপ-আলোচনার পর নীতিগতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সেই সরকার। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের কাছে বিটিএমএ এর নেতারা দেনদরবার শুরু করেন।   সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবুজ সংকেত দেন। তারপরই মূলত বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়।   সেই নির্দেশনার পরিপেক্ষিতে রোববার নতুন সার্কুলার জারি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   আড়াই বছর আগে স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়।   ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণচুক্তি ছিল ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা ঋণ চুক্তি থেকে সরে এসে নতুন কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   রোববার সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সাথে নতুন প্রোগ্রাম হবে। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না।”   নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় আসা ১২ সদস্যের আইএমএফ প্রতিনিধিদল এদিন অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।   সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া আইএমএফ-এর আগের প্রোগ্রামটি ছিল সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”   আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আর্থিক সংকট সামাল দিতে কয়েক দফা আলোচনা শেষে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি (৪.৭০ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ।   এর মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। শর্ত পূর্ণ না হওয়ায় ষষ্ঠ কিস্তির অবশিষ্ট অর্থ আইএমএফ ছাড় করেনি। সরকারও এখন আর ওই কর্মসূচিতে থাকতে আগ্রহী নয়।   তার বদলে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চেয়ে গত জুন মাসে আবেদন করে বাংলাদেশ। এর আওতায় তিন বছরে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   অর্থমন্ত্রী এর আগে একাধিকবার বলেছিলেন, আগের ঋণ কর্মসূচি নেওয়ার সময়ের অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা বদলে গেছে।   রাজনৈতিক পালাবদল, অর্থনীতির নীতিগত কাঠামো পরিবর্তন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, যা নতুন করে বাস্তবায়নের কথা ভাবছে সরকার।   নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকা আসায় আইএমএফ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থার মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশনের প্রধান ইভো ক্রজনার।   রোববার সকালে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও কবির আহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে আলোচনার সূচনা করেন। সেখানে অধা ঘণ্টার মত বৈঠক করে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান।   তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।   আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা বাড়াতে বর্তমান ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে।   তিনি বলেন, একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের বর্তমান ভিসা নীতি রিভাইজ বা সংশোধন করা দরকার। এই নীতিকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হবে।   বাংলাদেশের ভিসা নীতি আধুনিকীকরণের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভিসা নীতি আধুনিকীকরণের ফলে দেশে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
২৩ মাসের রেকর্ড ভাঙল ডিএসইর লেনদেন

বিনিয়োগ খরায় ভুগতে থাকা দেশের বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়েছে, যা ২৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।   এর আগে ২০২৪ সালের ১১ অগাস্ট ২ হাজার ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেটিই ছিল সর্বোচ্চ লেনদেন।   রোববার লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শেয়ার দর বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও।   দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪৯ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক ছিল ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্ট।   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি পরপর তিন দিন ১২০০ কোটি টাকার বেশি করে লেনদেন হয়। এরপর ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।   কোরবানির ঈদের ছুটি শেষে গেল কয়েকদিন লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই করছিল। বাজেটের মাসের শুরুতে ২ জুন থেকে লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে মাঝে ২২, ২৩ ও ২৪ জুন লেনদেন হাজার কোটির নিচে হয়।   রোববার ডিএসইর ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয় ৩৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার।   এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৯টির, কমেছে ১৫৬টির এবং আগের দরে লেনদেন করে ৩৭টি।   এদিন বিমা, বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়।   দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় ডিএসইতে সর্বোচ্চ শেয়ার দর বেড়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের। কোম্পানিটির দর ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হাতবদল হয় ৪১ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আগের দিন শেয়ারটির দর ছিল ৩৭ টাকা ৮০ পয়সা।   দাম বৃদ্ধিতে এর পরের অবস্থানে ছিল সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।   অন্যদিকে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় শেয়ার দর হারানোর শীর্ষে ছিল অ্যাপোলো ইস্পাত, জাহিন টেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইনটেক লিমিটেড।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   রোববার (১২ জুলাই) সংসদে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।   মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।   কর ফাঁকি প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, কাস্টমস-সংক্রান্ত কর ফাঁকির অভিযোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০২টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১ হাজার ২৯২টি মামলার নিষ্পত্তিও সম্পন্ন হয়েছে।   রাজস্ব আদায় আরও বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কর অব্যাহতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা, বকেয়া রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়া, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট শক্তিশালী করা এবং ঝুলে থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডভিত্তিক কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং এবং স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিলাসবহুল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর শুল্ক ও করহার যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় শুল্ক-কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের মাধ্যমেও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক খাতে দুর্নীতির তদন্ত চলমান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনিয়মও খতিয়ে দেখা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অতীতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনাগুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।   রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রভাব, ঘুষ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়, যার ফলে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু একটি ব্যাংক নয়, পুরো আর্থিক খাতের অনিয়ম তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আর্থিক খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।   প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ফারহানা কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ তহবিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এ তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   পরবর্তীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিপুল খেলাপি ঋণ নিয়ে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থ পাচার ও ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সম্পদ জব্দের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় পরিচালিত হতে দেবে না। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।   এদিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, উপজেলায় ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এসব উদ্যোগ গ্রামীণ যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

আমরা হরমুজ প্রণালির নাম দেব ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’: ট্রাম্প

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬