অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই: গভর্নর

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। বন্ধ হতে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে।

 

আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর বোর্ডের সর্বশেষ সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ সম্মিলিত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই আমানতকারীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে প্রয়োজনে জরুরি তারল্য সহায়তা দেয়া হবে। আমানতকারীদের কোনো সমস্যা হবে না।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর প্রসঙ্গে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সম্মিলিত ৫টি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

পাচারকৃত টাকা ফেরানোর বিষয়ে গভর্নর বলেন, পাচারের টাকা ফেরানোর নজির কম, তবে অর্থপাচারকারীদের আমরা শান্তিতে থাকতে দেব না। পাচারের টাকা ফেরাতে চেষ্টা চলছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে এক সপ্তাহে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের দামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদার করায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে আন্তঃব্যাংকে এর দাম কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা।   ৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের গড় দাম ছিল গড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। রোববার পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৭৮ পয়সায়। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার ক্ষেত্রেও এর দাম কিছুটা কমেছে।   ৬ আগস্ট এলসিতে গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৯৭ পয়সা। রোববার তা কমে গড় দাম দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সায়। এলসিতে ডলারের দাম কমেছে গড়ে ৩২ পয়সা।   সূত্র জানায়, সাম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক ডলারের দামে বেশ কারসাজি করে। তারা পরিকল্পিতভাবে এর দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘটনাটি জানতে পেরে কয়েকটি ব্যাংকে বিশেষ তদন্ত করে। এতে ডলার নিয়ে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলো বিষয়টি অবহিত হয়ে তারা পর্যায়ক্রমে এর দাম কমাতে শুরু করে। ৬ আগস্টের পর থেকে রোববার পর্যন্ত আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা। এদিন আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ১২৩ টাকা ৫ পয়সা ছিল। সর্বনিম্ন দাম ছিল ১২২ টাকা ৬৩ পয়সা। গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা কমেনি বরং আরও বেড়েছে। চাহিদা বাড়ার পর যেখানে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, সেখানে এর দাম কমছে। ৯ আগস্ট ব্যাংকগুলোতে ডলার সোয়াপ (স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ) হয়েছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার।   গত সোমবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। মঙ্গলবার তা কমে দাঁড়ায় ৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার ও বুধবার ৫ কোটি ডলার সোয়াপ হয়।   ব্যাংকগুলোতে আমদানির এলসি খোলার প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের মাত্রাও বেশি। রেমিট্যান্স কেনার ডলারের দামও কমেছে। আগস্টের প্রথম দিকে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় ওঠেছিল।   এখন তা কমে ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় নেমে এসেছে। তবে কিছু দুর্বল ব্যাংকে এখনো ডলার সংকট আছে। তারা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান, এমডি ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালকের একযোগে পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন এমডি, পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকেরা ফিরলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতিতে ২ মাসের বিল ১২ মাসে দিতে চায় বিকেএমইএ

ছবি: সংগৃহীত
দেশে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ৪৯ কোটি ঘনফুট

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ২৬ শতাংশ বেড়েছে; যদিও সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও অনেক বেশি।   পেট্রোবাংলার জনসংযোগ শাখার উপমহাব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল ৪টার হিসাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক ২ হাজার ৪২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশিয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তরের পর এসেছে ৮১০ মিলিয়ন বা ৮১ কোটি ঘনফুট।   এক দিন আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পেট্রোবাংলার দৈনিক প্রতিবেদনে গ্যাসপ্রাপ্তি ছিল ১ হাজার ৯৩১ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে শনিবার বিকালের তথ্য অনুযায়ী সরবরাহ বেড়েছে ৪৯৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন বা ৪৯.৩ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।   বৃহস্পতিবার-শুক্রবার এলএনজি থেকে গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল ৩০০ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট। শনিবার বিকালে তা বেড়ে হয়েছে ৮১০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সময়ে দেশিয় গ্যাস উৎপাদন ১ হাজার ৬৩১ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে সামান্য কমে হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।   অর্থাৎ এলএনজি সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় মোট গ্যাসপ্রাপ্তির পরিমাণ বেড়েছে।   শনিবার বিকাল ৪টার হিসাবে মহেশখালী এক্সিলারেট এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৫১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল।   ৫ দিনে এলএনজি কমেছে ৬০ শতাংশ পেট্রোবাংলার পাঁচটি দৈনিক উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ৯ অগাস্ট সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৭৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৩ অগাস্ট সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তা নেমে দাঁড়ায় ৩০০ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুটে।   অর্থাৎ পাঁচ দিনে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে ৪৪৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ৬০ শতাংশ। এর ফলে মোট গ্যাস পাওয়ার পরিমাণও কমে যায়।   ৯-১০ অগাস্ট দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৭৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৩-১৪ অগাস্ট তা কমে দাঁড়ায় ১৯৩১ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ মোট গ্যাসপ্রা্িত কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ।   পাঁচ দিনে দেশিয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের চিত্র খুব বেশি বদলায়নি। দেশিয় উৎপাদন দৈনিক ১ হাজার ৬২৬ থেকে ১ হাজার ৬৪২ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে ছিল। ফলে এলএনজি কমার ঘাটতি দেশিয় উৎস থেকে পূরণ করা যায়নি।   বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বেড়েছে মোট গ্যাস সরবরাহ কমলেও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বাড়ানোর তথ্য রয়েছে। ৯-১০ অগাস্টে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পেয়েছিল দৈনিক ৬৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ১৩-১৪ অগাস্টে তা বেড়ে হয় ৯৫৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট। পাঁচ দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ।   সরবরাহ বাড়ানো হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চাহিদা মেটেনি। পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে এ খাতের দৈনিক চাহিদা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫২৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৩-১৪ অগাস্টের হিসাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পেয়েছে চাহিদার ৩৮ শতাংশেরও কম।   সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ১২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট। দৈনিক ৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে শেষ দিনের সরবরাহ ছিল প্রায় ৪৩ শতাংশ।   বিদ্যুৎ ও সার কারখানার বাইরে থাকা ‘অন্যান্য’ খাতে সবচেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ কমেছে। ৯-১০ অগাস্টে এ খাতে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৫২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৩-১৪ অগাস্টে তা নেমে আসে ৮৫৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ পাঁচ দিনে এ খাতে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৬৬৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট, বা প্রায় ৪৪ শতাংশ।   পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে ‘অন্যান্য’ খাতের আলাদা হিসাব নেই। ফলে শিল্প, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতের মধ্যে কোনটিতে কী পরিমাণ গ্যাস কমেছে, তা ওই তথ্য নেই।   কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির, আরেকটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানির। তাদের দৈনিক ‘রিগ্যাসিফিকেশন’ সক্ষমতা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।   গত ২১ জুলাই এমএলএনজি (এক্সিলারেট) টার্মিনালে আগুন লাগার কথা বলা হয়। ওই দুর্ঘটনার কারণে দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর টার্মিনালটির একটি ইউনিট আংশিক চালু হয়। তবে সেটি এখনও পুরো সক্ষমতায় ফেরেনি।   সামিটের টার্মিনালও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই দিনে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়। তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহে চাপ পড়ে।   বাংলাদেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। দেশিয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।   মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে স্পট বাজার ও সরাসরি কেনার দিকে যেতে হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় চিরাচরিত ধারার বাইরে হাঁটছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, চালু হলো হবিগঞ্জের ৮১ শিল্পকারখানা

সামিট এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু, বাড়ছে চাপ

তেলের দাম ফের বাড়ল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ সেন্ট বা ০.১ শতাংশ বেড়ে ৮৭.১৬ ডলার হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ ডলার।   এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। তবে ব্রেন্ট ক্রুড টানা ছয় সেশন এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড টানা পাঁচ সেশন বাড়ার পরও চলতি সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।   ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   যদিও চলতি সপ্তাহে ওপেক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ্তাহিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এটিও তেলের দাম বৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে।   কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের বাজারে বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী শক্তি কাজ করছে। একদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দামকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে দুর্বল চাহিদার পূর্বাভাস দামকে বেশি বাড়তে দিচ্ছে না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

করপোরেট সুশাসন জোরদারে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

ছবি: সংগৃহীত

আবারও বাড়ল স্বর্ণালঙ্কারের দাম

ছবি: সংগৃহীত

ফের ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

0 Comments