নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণ খেলাপির অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বসে চুপ থাকাই ‘ভালো’।
তবে আর্থিক লেনদেনসহ নানা বিষয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানার প্রশংসা করেছেন তিনি।
শুক্রবার বিকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের সূত্র ধরে গভর্নরের খেলাপি হওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গটি ওঠে।
ওই সাংবাদিক ইসলামী ব্যাংকের চলমান অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি ব্যাংকটিতে অর্থ তুলতে গিয়ে অনেক গ্রাহক খালি হাতে ফিরছেন দাবি করে এক নারী গ্রাহকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সাংবাদিকের ভাষ্য, ওই নারী বলেছেন, বতর্মান গভর্নরও ঋণ খেলাপি; তিনি কীভাবে ব্যাংক ভালো করবেন!
সাংবাদিকের কথা বলা শেষ হয়ে এ বিষয়ে গভর্নরকে উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তখন মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘গভর্নর ঋণ খেলাপি— এটা চার মাসে অনেক শুনলাম। আমি কখনো ব্যাখ্যা দিইনি। কারণ, আমার সাংবাদিক বন্ধুদের প্রায়ই বলি যে, রেগুলেটরের কথা না বলাই ভালো।
অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে গর্ভনরের পদে বসায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।
দেশের ইতিহাসে সাবেক আমলা, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের বাইরে ব্যবসায়ী হিসেবে তিনিই প্রথম গভর্নরের পদ পান, যা অনেককে বিস্মিত করে।
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। নতুন গভর্নর হিসেবে তার নাম আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ঋণ খেলাপি হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) থেকে নেওয়া ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করায় খেলাপি হয় তার কোম্পানি হেরা সোয়েটার্স লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও এমটিবির কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময় ৮৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণটি এককালীন ২ শতাংশ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে পুনঃতফশিল করা হয়।
বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে খেলাপির অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা করেন গভর্নর।
তিনি বলেন, ‘‘যেখানে আমি ইনভল্ব, সেটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিড সার্টিফাইট। আজ পর্যন্ত সেই কারখানা এক দিনের জন্যও বন্ধ হয় নাই; এক দিনের জন্যও রপ্তানি বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই কারখানায় এক মাসের জন্য বেতন দিতে পারে নাই, এমন হয় নাই।’
গভর্নরের ভাষ্য, কারখানাটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪ শতাংশ হারে সুদে ঋণ নেয় ব্যাংকের কাছ থেকে। প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরে ব্যাংক পরবর্তীতে জানায়, সেই তহবিল শেষ হয়ে গেছে। ব্যাংক জানিয়ে দেয়, প্রচলিত বাণিজ্যিক সুদহারে ঋণ নিতে হবে।
গভর্নর বলেন, ‘হঠাৎ ১১ শতাংশ সুদ হয়, তাই স্বাভাবিকভাবে ঋণ পরিশোধ আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই।’
কোভিড মহামারীর প্রভাবসহ অন্যান্য সমস্যাও ছিল মন্তব্য করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘‘এইটা নিশ্চিত থাকেন যে, আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চাইনি। সুদ মওকুফ চাইনি। প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি টাকার উপরে ব্যাংকে পরিশোধ করে দিয়েছে।’’
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
এ নিয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন ডাকে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাতে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের পাশাশি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটাতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম আজ বাসসকে বলেন, ‘সরকার আমাদের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। গতকাল আমরা ওই অর্থ পেয়েছি।’ তিনি জানান, বিপিসির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বিপিসির ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়। গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিপিসিকে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে বলে এর আগে বাসসকে জানিয়েছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। ড. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, এ সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে জাহাজভাড়া প্রতি ব্যারেলে ৩ থেকে ৪ ডলারের মধ্যে ছিল, তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে উঠেছে। ফলে জ্বালানি আমদানিতে বিপিসির মাসিক অতিরিক্ত ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের মধ্যেও জ্বালানি তেল আমদানি চালিয়ে নিতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট বা ইআরএল-২সহ বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাবে রাখা ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির প্রথম বৈঠকে মঙ্গলবার উপস্থাপনের জন্য তৈরি বিপিসির কার্যপত্রে জ্বালানি তেল কেনায় এই টাকা ব্যবহারের তথ্য দেওয়া হয়। কার্যপত্রে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ রাখতে মার্চ থেকে অগাস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইআরএল-২ সহ বিভিন্ন প্রকল্প খাত থেকে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলে গত সাত মাস জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে বিপিসি। এমন পরিস্থিতিতে যেসব প্রকল্পের হিসাব থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কাজে এর প্রভাব পড়বে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বিপিসি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলছেন, এই অর্থ বিপিসির নিজস্ব। বিভিন্ন প্রকল্পে কখন কত টাকা প্রয়োজন হবে, সেই হিসাব করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে প্রকল্পগুলোর কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাবে রাখা অর্থ বিপিসিরই। প্রকল্পগুলোতে চলতি ও আগামী অর্থবছরে কখন কত টাকা লাগবে, সেই প্রয়োজন বিবেচনা করে অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে অর্থ নেওয়া হয়নি।” লোকসানের মধ্যেও জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখা এখন বিপিসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বর্ণনা করে তিনি দাবি করেন, প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনের সময় অর্থের ব্যবস্থা করা হবে। ছয় মাসে লোকসান ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই মাসের তেলের মূল্যের সমপরিমাণ ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। তবে ভর্তুকি মূল্যে তেল বিক্রির কারণে বিপিসির চলতি মূলধন কমে গেছে। সংস্থাটির হিসাবে, মার্চ থেকে অগাস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এই লোকসানের বড় অংশ ডিজেল থেকে এসেছে তথ্য দিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ ডিজেল। কার্যপত্র তৈরির সময়কার আন্তর্জাতিক বাজারদর ও ডলারের বিনিময় হার ধরে প্রতি লিটার ডিজেলের ব্যয় প্রায় ২০৫ টাকা পড়ছিল। তখন দেশে ডিজেল বিক্রি হচ্ছিল লিটারে ১১৫ টাকায়।” বিপিসির কার্যপত্র অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৮৬ ডলার। মার্চে তা বেড়ে ১৮৬ দশমিক ৫৯ ডলার হয়। এপ্রিলে ডিজেলের সর্বোচ্চ দাম ব্যারেল প্রতি ২৮৪ দশমিক ৯৫ ডলারে উঠেছিল। সেপ্টেম্বরে কার্যপত্র তৈরির সময় পর্যন্ত গড় দাম ছিল ১৬৫ দশমিক ৮২ ডলার। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর ডিজেলের যে দামে খরচ উঠে আসে, সেই পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি মূল্য হতে হবে ১১০ ডলার। ফলে বর্তমান মূল্যেও বিপিসির লোকসান হচ্ছে। পাঁচ মাস দাম বাড়ায়নি সরকার দেশে ২০২৪ সালের মার্চে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু হয়। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছিল। বিপিসির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়লেও জনস্বার্থে প্রায় পাঁচ মাস স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি অনুযায়ী দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। পরে ১ জুন কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা করা হয়। ডিজেল রাখা হয় ১১৫ টাকায়। সবশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। এখন ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপিসি কার্যপত্রে বলেছে, লোকসান কমানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতে সর্বশেষ দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে পাচারের পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কি না প্রশ্নে রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, বিপিসি সুনির্দিষ্টভাবে পাচারের পরিমাণ চিহ্নিত করতে পারেনি। দুই দেশের জ্বালানি তেলের দামের ব্যবধানের কারণে পাচারের ঝুঁকি ছিল এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা জানান তিনি। সেই ঝুঁকিও দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দেন বিপিসি চেয়ারম্যান। দাম বাড়তেই সংকট কাটল কীভাবে, জানতে চায় কমিটি এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ নিয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংকটের সময় এবং পরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরও শুধু দাম বাড়ানোর ফলে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। যদিও বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “এটি কমিটির প্রথম বৈঠক হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। মূলত বিপিসি ও এর কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, বর্তমান প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে দিতে বিপিসিকে সুপারিশ করা হয়। জনগণের জন্য জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরির সুপারিশও করেছে কমিটি। মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে নেওয়ার পরিকল্পনা বর্তমানে বিপিসি ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর ৬৪টি ডিপো ও স্থাপনায় ১৬ লাখ ২৭৩ টন জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে। বিপিসির হিসাবে, এই সক্ষমতায় পণ্য ভেদে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব। এই মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও কার্যপত্রে বলা হয়েছে। এ জন্য কত বিনিয়োগ লাগবে প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম বলেন, “মোট বিনিয়োগের অঙ্ক এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। বিপিসি কেন্দ্রীয়ভাবে সব অবকাঠামো নির্মাণ করবে না। আওতাধীন কোম্পানিগুলো নিজেদের বাজেটে মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। সব কোম্পানির পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে।” এ বিষয়ে পরবর্তী পর্যায়ে সংসদীয় কমিটিকেও তথ্য দেওয়া হবে বলে জানান বিপিসি চেয়ারম্যান।
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনা অনুযায়ী, এ কার্ড দিয়ে মদ, জুয়া, নাইটক্লাব, প্রচলিত বিমা, অবৈধ ডেটিং ও শূকরের মাংসসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করা যাবে না। এসব খাতে লেনদেন ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিগতভাবে নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্লক করতে হবে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের ভিত্তি হবে সুদমুক্ত ঋণ বা ‘কর্জে হাসানা’ এবং সেবামূল্য বা ‘উজরাহ’। কার্ডের বকেয়া, ঋণসীমা কিংবা বিল পরিশোধে দেরির ভিত্তিতে ব্যাংক কোনো মাশুল বাড়াতে পারবে না। গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিলম্ব জরিমানা ব্যাংকের আয় হিসেবে নেওয়া যাবে না। তবে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ দাতব্য খাতে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে গ্রাহককে। এ অর্থ ব্যাংকের মূল আয় থেকে আলাদা হিসাবে রাখতে হবে এবং শরিয়াহ কমিটির তত্ত্বাবধানে দান করতে হবে। কোনো গ্রাহক নিষিদ্ধ বা বেআইনি লেনদেন করলে ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। কার্ড ব্যবহারে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন কার্ড চালুর আগে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের (ওটিপি) মাধ্যমে সম্মতি নিতে হবে। পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হারানো বা চুরি হওয়া কার্ড ব্লকের অনুরোধ পাওয়ার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে অননুমোদিত লেনদেনের অর্থ ফেরত দিতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, কার্ড ইস্যু, নবায়ন, প্রতিস্থাপন, নেটওয়ার্ক সুবিধা ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ব্যাংক উজরাহ বা মাশুল নিতে পারবে। তবে, তা গ্রাহকের বকেয়া বা ঋণের পরিমাণের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকে নিবন্ধিত ইসলামি ব্যাংক এবং প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক শাখা বা উইন্ডো এ কার্ড ইস্যু করতে পারবে। বৈদেশিক মুদ্রা বা দ্বৈত মুদ্রার কার্ড চালুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, শরিয়াহসম্মত লেনদেন নিশ্চিত করা, ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই এ নীতিমালা করা হয়েছে।