খেলাধুলা

বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আনচেলত্তি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে মাঠের বাইরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কোচিং ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এখন বিজ্ঞাপন জগতেও ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে তার।

 

ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক শীর্ষ ব্র্যান্ড তাকে নিয়ে প্রচারণার আগ্রহ দেখালেও এখন পর্যন্ত সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এই ইতালিয়ান কোচ। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাহমা, ভক্সওয়াগেন এবং অ্যামাজন, যারা ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের স্পন্সরও।

 

সম্প্রতি তার একটি বিজ্ঞাপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা আনচেলত্তির পায়ের কাছে সংবাদপত্র দিয়ে তৈরি একটি বল এসে পড়ে। সেটি তুলে নিয়ে তিনি একটি শিরোনাম পড়েন যেখানে লেখা ছিল, ‘ষষ্ঠ শিরোপায় বিশ্বাস করে ব্রাজিল’। মাত্র ১২ সেকেন্ডের এই ভিডিওই ইউটিউবে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন জগতে আনচেলত্তির উপস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞাপন নির্বাহী বার্নার্দো পন্তেস বলেন, তার মতো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কাজ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উচ্চমানের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বিভিন্ন প্রচারণা মিলিয়ে আনচেলত্তিকে নিয়ে তৈরি কনটেন্ট ইতোমধ্যে ৮ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচ এখন ব্রাজিলে নতুন এক জনপ্রিয়তার অধ্যায় তৈরি করছেন।

 

পারিশ্রমিকের দিক থেকেও তিনি অনেক এগিয়ে। সাবেক কোচ তিতের তুলনায় আনচেলত্তির বিজ্ঞাপনী চুক্তির মূল্য অনেক বেশি বলে জানা গেছে। বিভিন্ন প্রচারণার জন্য তার চুক্তির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি রিয়াল পর্যন্ত পৌঁছেছে।

ভক্সওয়াগেনের প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিতই ব্র্যান্ডটির গাড়ি ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে ব্রাহমার প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে কার্নিভাল কার্যক্রমেও অংশ নেন। বিশ্বকাপের আগে মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও আলোচনায় রয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন মৌসুম শুরু, সঙ্গে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম

আজ শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুম। নতুন মৌসুমে ম্যাচ পরিচালনায় বেশ কিছু নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। সময়ক্ষেপণ কমানো থেকে শুরু করে খেলোয়াড় বদলি, চিকিৎসা, থ্রো-ইন, গোল কিক ও ভিএআর ব্যবহারে আনা হয়েছে পরিবর্তন। এর বেশ কয়েকটি নিয়ম বিশ্বকাপ ও ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। বদলিতে সময়ক্ষেপণ কমাতে কড়াকড়ি: বদলি হওয়ার সময় মাঠ ছাড়ার জন্য খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড সময় পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে নতুন খেলোয়াড়কে সঙ্গে সঙ্গে মাঠে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। খেলা পুনরায় শুরুর পর অন্তত এক মিনিট এবং পরবর্তী বিরতি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাকে। চিকিৎসার পর মাঠে ফিরতে অপেক্ষা: চিকিৎসার জন্য খেলা বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে খেলা পুনরায় শুরুর পর অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষকের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। গোলরক্ষক ও প্রতিপক্ষের আউটফিল্ড খেলোয়াড় সংঘর্ষে আহত হলে এবং সেই ঘটনায় ফাউলের জন্য প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় হলুদ বা লাল কার্ড দেখলে এ নিয়ম কার্যকর হবে না। থ্রো-ইন ও গোল কিকে ৫ সেকেন্ডের হিসাব: থ্রো-ইন কিংবা গোল কিক নিতে অযথা সময় নষ্ট করলে এবার শাস্তির মুখে পড়তে হবে। রেফারি খেলা পুনরায় শুরুর জন্য পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন দেবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা শুরু না হলে প্রতিপক্ষকে কর্নার কিক দেওয়া হতে পারে। ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দিলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে: রেফারি কোনো ঘটনায় ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দিলে ভিএআর সেই পরিচয় পুনর্বিবেচনা করতে পারবে। তবে এতে মূল ফাউলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না। ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ কেবল সঠিক অপরাধীকে শনাক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ভুল দ্বিতীয় হলুদ কার্ডও পর্যালোচনার সুযোগ: কোনো খেলোয়াড়কে স্পষ্টতই ভুলভাবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হলে ভিএআর সেটি পর্যালোচনা করতে পারবে। প্রয়োজন মনে করলে রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের জন্য ডাকা হবে। ভুল প্রমাণিত হলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বাতিল করে খেলোয়াড়কে মাঠে রাখার সুযোগ থাকবে। ফ্রি-কিক বা কর্নারের আগে আক্রমণভাগের ফাউলেও ভিএআর: ফ্রি-কিক বা কর্নার থেকে বল খেলা শুরু হওয়ার আগেই আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড় স্পষ্ট ফাউল করলে এবং সেই ঘটনার পর গোল, পেনাল্টি বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়া গেলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে গোল বা পেনাল্টি বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ফ্রি-কিক কিংবা কর্নার পুনরায় নেওয়া হবে। গোল কিকের পর ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবলে পেনাল্টি: গোল এরিয়ার মধ্যে বল স্থির থাকা অবস্থায় কোনো খেলোয়াড় সেটিতে কিক করলেই গোল কিক সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা হবে। এরপর গোলরক্ষকের দলের কোনো খেলোয়াড় ডি-বক্সের ভেতরে ইচ্ছাকৃতভাবে হাতে বা বাহু দিয়ে বল স্পর্শ করলে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি দেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষসেরা কোচ ও ক্লাবের মনোনয়ন ঘোষণা, স্প্যানিশদের দাপট

সংগৃহীত ছবি

শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর শাস্তির মুখে জ্যোতিরা

ছবি: সংগৃহীত

বিগ ব্যাশে নাহিদ রানাকে নিতে আগ্রহী দুই দল, এনওসি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত
২৩ বছর পর পাকিস্তানে ফিরছে সাফ গেমস, অংশ নেবে ভারত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে ফিরতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় আঞ্চলিক ক্রীড়া আসর সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন (এসএএফ) গেমস। আসন্ন ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে ভারত। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   দক্ষিণ এশীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আগামী বছরের ৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের সাফ গেমস। পাকিস্তানের তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবারের প্রতিযোগিতা। এতে মোট ২৮টি ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (পিওএ) সাধারণ সম্পাদক খালিদ মেহমুদ জানিয়েছেন, ভারত নীতিগতভাবে সাফ গেমসে অংশ নেওয়ার সম্মতি দিয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ভারত তাদের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তালিকা আয়োজকদের কাছে জমা দেবে।   এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে ইসলামাবাদে নবম সাফ গেমসের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। এরপর দীর্ঘ সময় দেশটিতে আর এই আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি।   এবারের আসর সফল ও নিরাপদভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।   ভারতের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানে আয়োজিত সাফ গেমসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতাটিতে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২৪ মাসে দ্বিতীয় অপরাধ, আইসিসির শাস্তি পেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের রেকর্ডের পর এবার ব্যালন ডি’অর চান এমবাপে

ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছরেই মেসি-ওয়েনের চেয়েও এগিয়ে ইয়ামাল!

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে নতুন ভূমিকায় কেভিন পিটারসেন

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে নতুন ভূমিকায় ফিরছেন সাবেক তারকা ব্যাটার কেভিন পিটারসেন। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের বিশেষজ্ঞ মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটিং তারকা।   ৪৬ বছর বয়সী পিটারসেনের নতুন দায়িত্ব শুরু হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের আসন্ন টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও দলের সঙ্গে কাজ করবেন তিনি। আগামী গ্রীষ্মে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে থাকবেন সাবেক এই ব্যাটার।   ইংল্যান্ডের সাদা বলের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম পিটারসেনের ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতাকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তার মতে, ইংলিশ ক্রিকেটে পিটারসেনের অবদান ও অর্জন অসাধারণ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি বর্তমান দলকে গুরুত্বপূর্ণভাবে সহায়তা করতে পারবেন।   ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে পিটারসেনের পরিসংখ্যানও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে তিনি টুর্নামেন্টসেরা হয়েছিলেন। ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ রান করেছেন তিনি, যেখানে তার ব্যাটিং গড় ৪১.৩২। এই সংস্করণে ইংল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি গড় রয়েছে শুধু জো রুটের।   টি-টোয়েন্টিতেও পিটারসেনের রেকর্ড উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ডের হয়ে এক হাজারের বেশি রান করা ব্যাটারদের মধ্যে ব্যাটিং গড়ের দিক থেকে তিনি এখনো শীর্ষে রয়েছেন।   তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বিতর্কও কম ছিল না পিটারসেনের। সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়কে বার্তা পাঠানোর ঘটনায় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। পরে তৎকালীন অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রসের কাছে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় দলে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান।   ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও পিটারসেন ছিলেন ব্যতিক্রমী চিন্তার অধিকারী। ইংলিশ ক্রিকেটারদের আইপিএলসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে তিনি ক্যারিয়ারের সময় থেকেই কথা বলে আসছিলেন। এ নিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে তার মতপার্থক্যও তৈরি হয়েছিল।   খেলা ছাড়ার পরও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন পিটারসেন। ধারাভাষ্য ও ক্রিকেটভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার জাতীয় দলের সঙ্গে তার সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে চায় ইংল্যান্ড।   নতুন দায়িত্ব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পিটারসেনও। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে যুক্ত হতে পারাকে নিজের জন্য বিশেষ সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর আবার ইংল্যান্ডের জার্সির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগকেও ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সাবেক এই তারকা।   ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে অভিজ্ঞ পিটারসেনের অন্তর্ভুক্তি ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াই হতে পারে এই নতুন দায়িত্বের অন্যতম লক্ষ্য।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিপক্ষে জিতে পাকিস্তানের সর্বনাশের শুরু

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ক্রিকেটকে কটাক্ষ করে যা বললেন ডি ভিলিয়ার্স

0 Comments