অর্থনীতি

ব্যাংক অনুদানের অডিট ২০১৫-২৪

ব্যাংক থেকে ১২৪৩ কোটি টাকা নেন হাসিনা ও পরিবার

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

২০১৫ সাল থেকে শুরু করে টানা এক দশকে ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতের বিপুল অর্থ গেছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল এবং শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।


একটি ফরেনসিক অডিটে দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) প্রত্যক্ষ প্রভাবে এসব অনুদান দেওয়া হয়। ওই সময়ে বিএবির চেয়ারম্যান ছিলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।


অডিট অনুযায়ী, এই সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে মোট ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা অনুদান গেছে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং সূচনা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।


এর মধ্যে বিএবি সরাসরি সদস্য ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠায়। আর বাকি ১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা ব্যাংকগুলো সরাসরি দেয় বিএবির পাঠানো অনুরোধপত্রের ভিত্তিতে।


অডিটররা আরও ৫৬৫ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছেন, যা একই ধরনের প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব অর্থ বিএবির অনুরোধে দেওয়া হয়েছিল কি না, তার পক্ষে কোনো চাহিদাপত্র বা দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


সব মিলিয়ে ১০ বছরে ২৯টি ব্যাংক ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। এটি ব্যাংকগুলোর মোট করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর ব্যয়ের প্রায় ২৪ শতাংশ।


অডিটে বলা হয়েছে, এসব অনুদান অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলোর নিজস্ব সিএসআর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, সিএসআর কার্যক্রমে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৩০ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু অভিযোজন খাতে ২০ শতাংশ ব্যয় করার নির্দেশনা রয়েছে।


এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আয়বর্ধক কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতেও অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।নীতিমালায় আরও বলা আছে, যোগ্য বিবেচিত হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানেও অনুদান দিতে পারবে।


অডিটে দেখা গেছে, ত্রাণ, বন্যা মোকাবিলা ও শিক্ষা সহায়তার নামে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টে ৩৭৪ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এর প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে।


সূচনা ফাউন্ডেশন পেয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা।


বাকি অর্থ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ এবং ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।


শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারপারসন ছিলেন। আর তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ছিলেন সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন।


২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে মামলা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদ পেতে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে এই মামলা করা হয়।


এ ছাড়া বিএবির সদস্য ব্যাংকগুলোকে চাপ দিয়ে সূচনা ফাউন্ডেশনের হিসাবে ৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা জমা করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেছিল।


এই উদযাপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অফিসে ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হয়। ব্যাংকগুলোও নানা কর্মসূচিতে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।অডিট অনুযায়ী, শুধু মুজিববর্ষ উদযাপনের জন্যই ১৭৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।এর বাইরে ৭৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে ক্রীড়া আয়োজন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ওপর নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের স্পন্সরশিপে। 


ফরেনসিক অডিটটি করেছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি প্রতিষ্ঠান ‘এ কাশেম অ্যান্ড কোং’। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নজরুল ইসলাম মজুমদারের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর গঠিত নতুন বিএবি বোর্ড এই অডিটের উদ্যোগ নেয়।


অডিটের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন অসঙ্গতি, সম্ভাব্য জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনা খুঁজে বের করা। এ জন্য প্রাপ্ত নথিপত্র এবং বিএবি ও সদস্য ব্যাংকগুলোর জবাব ব্যবহার করা হয়।


প্রতিবেদনটি মূলত বিএবি ও অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ৪১টি সদস্য ব্যাংকের মধ্যে ২৯টি পুরোপুরি তথ্য দিয়েছে। বাকি ১২টি ব্যাংক কোনো তথ্য জমা দেয়নি।


বিএবির তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম ২০১৪ সালে সীমিত আকারে শুরু হয়েছিল। পরে এটি বড় আকার নেয়।


মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, শুরুতে ব্যাংকগুলো এই অনুদান দিতে রাজি ছিল না। তবে পরে অনেক নির্বাহী বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়েন। কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হুমকি পেয়েছেন, আবার কাউকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে।


তিনি বলেন, তৎকালীন বিএবি চেয়ারম্যান নিজে অনুদান সংগ্রহের অগ্রগতি তদারকি করতেন। কেউ অনুদান না দিলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ পাঠানো হতো। ফলে ব্যাংকের নির্বাহী ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অনেক সময় এসব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি।


তিনি আরও বলেন, চাপের কারণে কিছু ব্যাংক তাদের সিএসআর ব্যয়ের নির্ধারিত সীমাও অতিক্রম করেছিল।


মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট খাতে টাকা দিতে বাধ্য করা না হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি ব্যয় করা যেত। এখন এসব অনুরোধ বাধ্যতামূলক নয় বলে আমাদের ব্যাংক একটি স্কুল পরিচালনা করছে।তিনি আরও বলেন, এখনও বিএবি থেকে সুপারিশপত্র আসে, তবে এখন আর অনুদান দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।


অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, আমি এসব নিজের চোখে দেখেছি। কিন্তু মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো মাঝেমধ্যে এসব অনুরোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলত, কিন্তু তাতে তারা সমস্যায় পড়ত।


তার মতে, একটি মাত্র তহবিলে এত বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার কারণে অন্য সিএসআর খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর পর্যাপ্ত মুনাফাও ছিল না, তারপরও অনুদান দিতে হয়েছে।


আনিস এ খান বলেন, অনুদানের অর্থ শেষ পর্যন্ত কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, তার ওপর ব্যাংকগুলোর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।


সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিএসআরের অর্থ অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে।তার মতে, এই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেশি উপকৃত হতে পারত।


তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সিএসআর তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মকানুন পুনর্বিবেচনার পরামর্শও দেন তিনি।


অন্যান্য অনিয়ম 

অডিটররা গত এক দশকে ৫৩৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন ও ব্যয়ের তথ্য পেয়েছেন।এসব ব্যয়কে ‘অযোগ্য’ বা ‘সমর্থনহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ এগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি অথবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিল না।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যয় সম্ভাব্য আর্থিক অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়।

এর মধ্যে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকার অনুদানের তথ্য সদস্য ব্যাংকগুলো দিলেও তা নথিপত্র দিয়ে যাচাই করা যায়নি।অডিটে আরও ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার অনুদানের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলোর পক্ষে প্রাপকের স্বীকৃতি বা ব্যাংকিং নথি নেই।


এ ছাড়া সমাপনী ব্যাংক হিসাব ১৪ লাখ টাকা কম দেখানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।


৯৯ লাখ টাকার নগদ অনুদান এবং অস্তিত্বহীন সরবরাহকারীর কাছ থেকে বা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া ৭৬ লাখ টাকার কেনাকাটার তথ্যও মিলেছে।


অডিটররা আরও কিছু অনিয়ম শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—নথিপত্রহীন ওভারটাইম বিল, ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠানো, একটি চেকে একাধিক ভেন্ডারকে অর্থ পরিশোধ করা, অনিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মিটিং খরচ, অনুমোদনহীন সম্মানি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ভুয়া ইনভয়েস বা বিল।


অডিটে আরও দেখা গেছে, অনুমোদন ছাড়াই ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এক খাত থেকে অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


এক ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের সহায়তার নামে তোলা অর্থ পরে অটিস্টিক শিশুদের একটি বিশেষায়িত স্কুলে দেওয়া হয়।


আরেক ঘটনায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সহায়তার কথা বলে অর্থ তোলা হলেও সেই অর্থের মধ্যে ১ কোটি টাকা এক জ্যেষ্ঠ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার কাছে অ্যাকাউন্ট-পেয়ি চেকের মাধ্যমে পাঠানো হয়।


পুরো সময়জুড়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার বিএবির চেয়ারম্যান ছিলেন।


নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নজরুলকে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে এক আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।


তার বিরুদ্ধে ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকার অজ্ঞাত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।


আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এর মাধ্যমে সেখানে নজরুলের দীর্ঘদিনের প্রভাবের অবসান ঘটে।


নজরুল কারাগারে থাকায় বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। আর সায়মা ওয়াজেদ বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।


বিএবির বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, অতীতে যা হয়েছে, আমরা এখন আর তা করছি না।


তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে অতীতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরা এখন পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে বিএবি পরিচালনা করছি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
আতিউরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বোর্ড সদস্যদের নথি তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ গত ১৫ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব নথি চাওয়া হয়েছে।   বুধবার (১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব নথি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে দুদক। তলব করা নথিপত্র বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদসহ পরবর্তী অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে দুদক।   দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে দুদক।    দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে নীতিমালা প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।    অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ছয় ধরনের তথ্য ও রেকর্ডপত্র চেয়েছে দুদক। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (ডিওএস) ও ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) থেকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট ও বড় ঋণ পুনঃতফসিল/পুনর্গঠনসংক্রান্ত জারি করা সব অনাপত্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।   এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা, দায়িত্বকালসহ বিস্তারিত তথ্য, ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার-৮ অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতে দেওয়া প্রণোদনা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও প্রণোদনার পরিমাণও চাওয়া হয়েছে।   চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপকে কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা প্রদানের অনুমোদনপত্র ও এ-সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি, সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি-সংক্রান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের কপিও দুদক চেয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংকিং লেনদেনে এলো নতুন নিয়ম, নির্দেশনা দিল কর্তৃপক্ষ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ব্যাংক হলিডে, বন্ধ সব ধরনের লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত

বাজেট পাস: কোন মন্ত্রণালয় কত বরাদ্দ পেল

ছবি : সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতিগত সুদের হার (রেপো রেট) ১০ শতাংশেই রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আগের মতোই কঠোর মুদ্রানীতি চালিয়ে যাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।   মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের নতুন মুদ্রানীতিতে নীতিসুদ ১০ শতাংশেই বহাল রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   সাধারণত যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয় তাকেই রেপো রেট বলা হয়। এই হার ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ১০ শতাংশে রয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি কমিয়ে স্থিতিশীল রাখা। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে অর্থনীতি ভালো থাকে, বিনিয়োগ বাড়ে, টাকার মান স্থিতিশীল থাকে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ হয়।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.৭ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এটি এখনও সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। তাই মূল্যস্ফীতি আরও কমাতে কঠোর মুদ্রানীতি চালিয়ে যাওয়া হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, রেপো রেট ১০ শতাংশ, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১.৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭.৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে।   তারা আরও বলেছে, দেশের অর্থনীতি এখনও বেশ কিছু সমস্যার মুখে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের সংকট, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা।   বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও সারের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৫ শতাংশে। এর কারণ হলো সুদের হার বেড়ে যাওয়া, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং সরকারের বেশি ঋণ নেওয়ার কারণে নতুন ঋণ নিতে আগ্রহ হারিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে অনেক ব্যাংক তাদের অতিরিক্ত টাকা সরকারি বন্ড ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করছে।   এদিকে, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত অর্থ থেকে দেওয়া হবে এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।    বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে। এমনকি শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদন বাড়াতে পারবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।   এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, টাকার বিনিময় হার বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারণের নীতি চালু থাকবে। এর ফলে রফতানি বাড়বে, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বাড়বে এবং বৈদেশিক খাত আরও শক্তিশালী হবে।   খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর তদারকি, উন্নত নিরীক্ষা এবং নতুন আইন কার্যকর করার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর লক্ষ্য হলো ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল হিসেবে গড়ে তোলা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সোনার বাজারে বড় পতন, দুই দিনে ভরিতে কমল সাড়ে ৬ হাজার

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত অর্থমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

স্থাপত্যে বৈশ্বিক ধারা ও স্থানীয় ঐতিহ্য নিয়ে শাহ্ সিমেন্টের সেমিনার

ছবি: সংগৃহীত
২০ দিনের ছুটি শেষে কাজে ফিরলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে অফিস শুরু করছেন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান।   সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি বিএসইসিতে এসেছেন। কমিশন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   বিএসইসিতে যোগদানের একদিন পরেই ছেলের স্নাতক শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। ২০ দিন ছুটি কাটিয়ে তিনি গতকাল রোববার (২৮ জুন) দেশে ফিরেছেন।   মাসুদ খানের অবর্তমানে কমিশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিশনার তানভীর হাবিব রহমানকে। তিনি নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্ব পালন করেন।   প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন। ওই দিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খান এবং কমিশনার হিসেবে ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের এমডি মো. নাফিজ আল তারিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব ও আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। একই দিনে তারা বিএসইসিতে যোগ দেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিল চীনের ১১ প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটমুক্ত রাখার আহ্বান দোকান মালিক সমিতির

ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দরপতন, বাজার মূলধন কমল ৯১৪ কোটি টাকা

0 Comments