অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে চালু হচ্ছে একই দিনে লেনদেন নিষ্পত্তি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচনার প্রক্রিয়া নিষ্পন্নের সময় কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি লেনদেনের নিষ্পত্তিতে ‘টি+শূন্য’ চালুর কথা বলেছেন।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, “পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বর্তমানের ‘টি+২’ থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে ‘টি+০’ করা হবে।”

বর্তমানে জেড ক্যাটাগরি ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির  শেয়ারের লেনদেন হয় ‘টি+২’ পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিতে কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনলে তৃতীয় দিনে তার বিও হিসাবে ক্রয়কৃত শেয়ার জমা হয়। অন্যদিকে যিনি শেয়ার বিক্রি করেন, তার টাকাও একাউন্টে জমা হয় তৃতীয় দিনে।

অন্যদিকে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় টি+৩ পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিতে শেয়ার কেনাবেচার চতুর্থ দিনে এর নিষ্পত্তি হয়।

কেউ  কেনাবেচনা হওয়া শেয়ার বা শেয়ার বিক্রির টাকা ব্যবহার করা যায় লেনদেন হওয়ার দুদিন পর। ‘টি+শূন্য’ হলে সেটা দিনের দিন সম্পন্ন হয়ে যাবে।

শেয়ার নিষ্পত্তির সময় কমলে লেনেদেনে গতি বাড়বে। বর্তমানে কোনো শেয়ার বিক্রি করে বিক্রিত অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করতে হলে বিনিয়োগকারীকে ২ দিন অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে কোনো শেয়ার কিনলে সেটি বিক্রি করার জন্যেও ২ দিন অপেক্ষা করতে হয়। একই দিনে লেনেদেন নিষ্পন্ন হলে বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির টাকায় পরদিনই নতুন শেয়ার কিনতে পারবেন, একইভাবে কেউ শেয়ার কিনলে পরদিনই তা বিক্রি করতে পারবেন।

 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ অনেক দিন ধরেই লেনদেন নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ খান এক অনুষ্ঠানে লেনদেন নিষ্পত্তিতে ‘টি+০’ চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তরুণদের প্রিয় ব্র্যান্ড এয়ারটেলের নতুন পথচলা শুরু ‘সার্কেল’ নামে

মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেলের নাম বদলে গেছে। নতুন নাম এখন ‘সার্কেল’। সার্কেলের ব্র্যান্ড স্লোগান ‘আসল সংযোগ, সব সময় সচল’।       এয়ারটেলের গ্রাহকেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কেলের গ্রাহকে পরিণত হবেন। বিদ্যমান ০১৬ সিরিজের নম্বর, ব্যালান্স, সেবা আর প্যাকেজ একই থাকবে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ওয়ালেট, লেনদেন ও গ্রাহকের তথ্যেও কোনো পরিবর্তন আসবে না।     আজ সোমবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নতুন এই ব্র্যান্ডের ঘোষণা দেন রবি আজিয়াটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা।     জিয়াদ সাতারা বলেন, ‘বাংলাদেশে এয়ারটেলের পথচলা ১৬ বছরের। এ সময় আমরা সবার জন্য সবচেয়ে ভালো নেটওয়ার্ক, সেরা অফার আর সেবা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে সময়ের সঙ্গে পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তিত ও বিবর্তিত হয়। আমরা যেভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করি, সেটিও বদলে গেছে। এটি এয়ারটেলের বিবর্তন। তবে আমাদের প্রতিশ্রুতি একই থাকবে।’     এয়ারটেল ১৬ বছর ধরে একটা প্রজন্মের কাছে আবেগের জায়গা ছিল বলে মন্তব্য করেন রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি কর্মকর্তা সাহেদ আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের দেখিয়েছি, কীভাবে কানেক্টেড (যুক্ত) থাকতে হয়। এই প্রজন্ম কিন্তু এখন আর সেই কানেকটিভিটির মধ্যে নাই, প্রজন্ম পরিবর্তন হচ্ছে।’     সাহেদ আলম আরও বলেন, ‘সার্কেল আরও বেশি প্রাসঙ্গিক, আরও গতিশীল এবং আরও অনেক অনুপ্রেরণা আমাদের দেবে।’     এয়ারটেলের গ্রাহকদের সিম পরিবর্তন করতে হবে না জানিয়ে সার্কেলের হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড ডিজিটাল তাহসিনা রাফা বলেন, ‘রবি আজিয়াটার দুটো ব্র্যান্ড বাংলাদেশে। একটা রবি, একটা এয়ারটেল। এয়ারটেল ব্র্যান্ডটা আমাদের তরুণদের জন্য। এই ব্র্যান্ডটাকে আমরা এখন নতুন একটা পরিচয় দিচ্ছি। এটা আজ থেকে সার্কেল নামে পরিচিত হতে যাচ্ছে।’     সার্কেলে বাজারের সবচেয়ে ভালো অফারগুলো পাওয়া যাবে বলেও জানান তাহসিনা রাফা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬

ওমান থেকে কম দামে এলএনজি কিনছে সরকার, সাশ্রয় ৩৭০ কোটি

ছবি: সংগৃহীত

ঋণ সংক্রান্ত মামলা চলমান রাখলে নীতি সহায়তা পাবে না গ্রাহক

ছবি: সংগৃহীত

কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

জ্বালানি সংকটে নাজেহাল অর্থনীতি, রেমিট্যান্সে ভরসা

দেশ পরিচালনার ছয় মাস পার করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকারের এই ১৮০ দিনে অর্থনীতির সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব মিলছে নানা সূচকে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনীতির বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয় বাজারে। দ্রব্যমূল্য কমেছে কিনা, মূল্যস্ফীতি কতটা সহনীয় হয়েছে-তাদের কাছে সেটিই অর্থনীতির বড় মাপকাঠি।   ছয় মাস আগে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। জুলাইয়ে তা নেমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে। কিছুটা স্বস্তি এলেও, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো কাটেনি।   আর এই মূল্যস্ফীতির পিছনে অনেকটা দায়ী, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট ও দাম বৃদ্ধি। গেল অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় করতে হয়েছে। যদিও এর ফলে রিজার্ভে ততটা চাপ পড়েনি, কারণ দেশে বিনিয়োগ না থাকায় অন্য ক্ষেত্রে আমদানির চাহিদা ছিল কম। ফলে সরকারের ছয় মাসে আগস্টে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ না কমায় ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার আশপাশেই স্থিতিশীল আছে।   সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে যে ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে আমাদের বিনিয়োগকে চাঙ্গা করার জন্য, বন্ডেড ওয়্যার হাউস থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদেরকে স্বস্তি দেওয়ার মতো কার্যক্রম আছে। এগুলোকে ভালোভাবে বাস্তবায়িত করতে পারলেই কেবলমাত্র আমরা রাজস্ব আহরণের সূত্রগুলোকে আরও বিস্তৃতও করতে পারব এবং সেখান থেকে আমরা আদায়ও করতে পারব। আয় এটা যদি আমরা ঠিকভাবে না করতে পারি রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে, তাহলে কিন্তু একটা ঋণ ঝুঁকির দিকে আমরা পড়ে যাব।   সামষ্টিক অর্থনীতির এই পর্যায়ে স্বস্তি থাকলেও সবচেয়ে বড় খাত-রপ্তানি আয়ে হতাশা। অন্যদিকে জ্বালানি ও সারের আমদানি বাড়ায় মোট আমদানি বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ বিলিয়ন ডলার।   বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা ৪টি জায়গা আইডেন্টিফাই করেছিলাম। এই ৪টি জায়গা যদি সংস্কার করা না যায় তাহলে ইনভেস্টমেন্ট আসবে না। জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার না হওয়াতে ইনভেস্টমেন্ট কিন্তু একেবারে জিরোই বলতে পারেন। মানে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট তো আসেই নাই। বরঞ্চ আমরা যারা লোকাল ইনভেস্টর আছি আমাদেরও কিন্তু এখন সংগ্রামে টিকে থাকতে হচ্ছে।   তবে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ধরে রেখেছেন মূলত প্রবাসীরা। গেল অর্থবছরে তাদের পাঠানো সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাণিজ্য ঘাটতি মিটিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত রেখেছে ৬.৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এখানে সরকার কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও উদ্বেগ এখনও কাটেনি বলে মন্তব্য অর্থনীতিবিদদের।   সিপিডি এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট, সে বাজেটে অনেকগুলো ভালো পদক্ষেপ আছে। কিন্তু ৬ মাসের বাস্তবতা হলো, পুঞ্জিভূত যেসব চ্যালেঞ্জগুলো ছিল অর্থনীতিতে যা তারা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। সেগুলোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোন ব্যতিক্রম বা উন্নতি আমরা কিন্তু দেখিনি।   সরকারের ছয় মাসে সামস্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবণতা না থাকলেও দ্রুত জ্বালানি সংকট সমাধান করে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে এক সপ্তাহে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান, এমডি ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালকের একযোগে পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন এমডি, পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকেরা ফিরলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে

ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতিতে ২ মাসের বিল ১২ মাসে দিতে চায় বিকেএমইএ

গ্যাস-বিদ্যুতের বিল কিস্তিতে পরিশোধের দাবি জানিয়েছে নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন— বিকেএমইএ।   চলতি বছরের জুলাই ও অগাস্ট মাসের বিল ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।   বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ আবেদন জানান।   এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা বলেছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।   শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “চিঠিটি দেওয়ার পর আমাদের সভাপতি মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।”   গত ৯ অগাস্ট পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, জুলাই ও অগাস্ট মাসে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ‘গুরুতরভাবে’ ব্যাহত হয়েছে।   বিশেষ করে খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেড সিলিন্ডারের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি।”   গ্যাসের ঘাটতির কারণে উৎপাদন সচল রাখতে কারখানাগুলোকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে দাবি করে চিঠিতে বলা হয়, “অনেক প্রতিষ্ঠান নগদ অর্থে অতিরিক্ত দামে ডিজেল, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহ করেছে।   “এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কারখানাগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।”   বিকেএমইএ বলেছে, উৎপাদন কমে যাওয়া ও বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় একই সঙ্গে বহন করায় কারখানাগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।   “এ অবস্থায় জুলাই ও অগাস্ট মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।”   এসব পরিস্থিতি তুলে ধরে দুই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসে সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিকেএমইএ।   সংগঠনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।   বিকেএমইএর প্রত্যাশা, বিল পরিশোধে কিস্তি সুবিধা দেওয়া হলে জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং তারা উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারবে।   “এ ধরনের সহায়তা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর আর্থিক চাপ কমাবে না, বরং দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে,” বলা হয় চিঠিতে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ৪৯ কোটি ঘনফুট

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় চিরাচরিত ধারার বাইরে হাঁটছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, চালু হলো হবিগঞ্জের ৮১ শিল্পকারখানা

0 Comments