অর্থনীতি

প্রবীণদের ট্রেনের ভাড়া ফ্রি, মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড়

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও মেট্রোরেল ২৫ শতাংশ ছাড়।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকেরা ট্রেনে বিনা মূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেল ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।

 

ফলে প্রবীণ নাগরিকেরা যাতায়াতে খরচ কমবে। তাদের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও স্বস্তিকর হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ আমলের বাণিজ্যনীতির ছায়া এখনো বাংলাদেশে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রবেশ করতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিটিফিকেশন নাম্বার (টিআইএন), বিজনেস আইডেন্টিটিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন), ভ্যাট, কাস্টমস নিবন্ধনসহ ধাপে ধাপে নানা প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা পার হতে হয়।   এত সব কাগজপত্রের ঝামেলাই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আলাদাভাবে আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি) নিতে হচ্ছে। এসবই মূলত ব্রিটিশ আমলের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবশিষ্টাংশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান অর্থনীতিতে এগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই।   এই ব্যবস্থার শেকড় প্রোথিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে। বিশ্বযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক নৌ পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ায় যুদ্ধ সরঞ্জাম ও জরুরি পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ১৯৩৯ সালে ডিফেন্স অভ ইন্ডিয়া রুলস বা ভারত প্রতিরক্ষা বিধি জারি করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার।    দেশভাগের পর নবগঠিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বৈদেশিক মুদ্রার মারাত্মক অভাব দেখা দিলে আমদানি নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখতে ব্রিটিশদের জারি করা বিধি আরও বিস্তৃত করে ১৯৫০ সালে আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে পাকিস্তান সরকার। প্রায় আট দশক পরও সেই পুরোনো নিয়ন্ত্রণ কাঠামোরই বড় একটি অংশ বহন করছে বাংলাদেশ।    ওই আইনের আওতায় এখনও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রবেশ করতে ব্যবসায়ীদের আলাদাভাবে আইআরসি ও ইআরসি নিতে হচ্ছে। আগে এই সনদ প্রতিবছর নবায়ন করতে হতো, এখন পাঁচ বছর মেয়াদে নবায়ন করা যায়। এ সনদ ইস্যু ও নবায়নের জন্য ঢাকায় আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ সারা দেশে মোট ১৪টি আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে।   মজার বিষয় হলো, যে পাকিস্তান সরকার ১৯৫০ সালে আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আইন প্রণয়ন করেছিল, তারাই ২০০২ সালে আইনটি বাতিল করে দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানে আমদানি-রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের আইআরসি-ইআরসির মতো আলাদা সনদ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। দেশটির ব্যবসায়ীদের কাস্টমসের ওয়েবভিত্তিক ট্রেডার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হয়।   এ অবস্থায় আইআরসি ও ইআরসি সনদ গ্রহণ ও তা নবায়নের প্রয়োজনীয়তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান এ সনদগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   তিনি টিবিএসকে বলেন, 'যে আইনের আওতায় বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি সনদ ইস্যু করা হয়, সেই আইন দুই যুগ আগে পাকিস্তান বাতিল করেছে। শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের কোনো সনদ নিতে হয় না। ভারতে স্থায়ীভাবে একবার সনদ নিতে হয়, তা আর নবায়ন করতে হয় না।    'বাংলাদেশে ডি-রেগুলেশনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাই ইআরসি ও আইআরসি সনদ নেওয়া ও তা নবায়নের বদলে বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নাম্বার ব্যবহারের মাধ্যমেই আমদানি-রপ্তানির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।'   আইআরসি ও ইআরসির খরচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের এক গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে অন্তত ৪৯ ধরনের সনদ ও অনুমতিপত্র নিতে হয়।   আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য আমদানির জন্য আইআরসি ফি শুরু হয় ৫ হাজার টাকা থেকে, এর নবায়ন ফি ৩ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে এই আইআরসি ফি বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি হয় ৩২ হাজার টাকা।   রপ্তানিকারকদের জন্য রয়েছে ছয় ধরনের নিবন্ধন সনদ। এর প্রতিটির প্রাথমিক ফি শুরু হয় ১০ হাজার টাকা থেকে, নবায়ন ফি ৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে ইনডেনটিং সেবার ইআরসি নেওয়ার ফি ৫০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ২৫ হাজার টাকা।   ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ঝামেলা কেবল সনদ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, নির্ধারিত ফি দিয়ে এসব সনদ নবায়নের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানিকারকদের সময় ও পরিচালন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।   তারা বলছেন, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এই চাপ আরও বেশি। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে নিজস্ব কমপ্লায়েন্স ও প্রশাসনিক টিম রাখতে পারে, সেখানে ছোট ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষেত্রেই তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নিতে হয়। এতে আমদানি-রপ্তানির প্রকৃত খরচের বাইরে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় তৈরি হয়।   সনদ নেওয়া যেখানে বাধ্যতামূলক, সেখানে এগুলো ইস্যু ও নবায়নের জন্য সারা দেশে প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আঞ্চলিক দপ্তর আছে মাত্র ১৪টি। ফলে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের সনদ-সংক্রান্ত কাজের প্রয়োজনে অন্য এলাকায় ছুটতে হয়, যা তাদের বাড়তি সময় ও ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন চিত্র এশিয়ার বৃহৎ ও উন্নত দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সাধারণত এ ধরনের সনদ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক চীনেও বাংলাদেশের আইআরসি ও ইআরসির মতো সনদের ব্যবস্থা নেই। কেবল কাস্টমস নিবন্ধনের মাধ্যমেই দেশটির ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।  ভিয়েতনামেও সাধারণ পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পৃথক সনদের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিতেও বাংলাদেশের মতো পৃথক আইআরসি-ইআরসি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।   ফেডারেশন অভ বাংলাদেশ চেম্বারস অভ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, এখনকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় আইআরসি ও ইআরসি সনদের কোনো প্রয়োজন নেই।    ব্যবসা-বিনিয়োগ ও দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের ডি-রেগুলেশনে জোর দিতে হবে এবং পৃথিবীর বেস্ট প্র্যাকটিসগুলোকে অনুসরণ করতে হবে। সেটা না পারলেও অন্তত এই অঞ্চলের বেস্ট প্র্যাকটিস অনুসরণ করা জরুরি,' টিবিএসকে বলেন তিনি।   ফজলুল হক জানান, বাংলাদেশে কোন কোন পণ্য আমদানি করা যাবে না এবং কোন পণ্য আমদানি করতে হলে সরকারের কোন দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হবে, তা আমদানি নীতি আদেশে উল্লেখ আছে। 'কাস্টমস প্রসিডিউর অনুসরণ করেই আমদানি করতে হয়। তাই আমদানি করার জন্য পৃথক আমদানি সনদ গ্রহণের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।'   'একইভাবে, যেসব পণ্য রপ্তানি করা নিষিদ্ধ, তার তালিকা রপ্তানি নীতি আদেশে রয়েছে এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এক্ষেত্রে পুরো দায়িত্ব পালন করতে পারে। তাই পৃথকভাবে রপ্তানি সনদ নেওয়া বা আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রয়োজন নেই,' বলেন তিনি। ব্যয়বহুল বোঝা আইআরসি ও ইআরসি ব্যবস্থা এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছিল, যখন বৈদেশিক বাণিজ্য ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয়। কিন্তু বর্তমানের ডিজিটাল বাণিজ্যব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় কাস্টমস প্রক্রিয়া, ব্যাংকিং নজরদারি এবং কর ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়ীর পরিচয় ও লেনদেন সম্পর্কে সরকারের কাছে তথ্য সংগ্রহের অনেক বেশি কার্যকর উপায় রয়েছে।   এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, আইআরসি ও ইআরসি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা তুলে দিলে ব্যবসায়ী ও সরকার—উভয়েরই সুবিধা হবে। 'ব্যবসায়ীরা হয়রানি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে রক্ষা পাবেন, অন্যদিকে এই সনদ ইস্যু ও নবায়নের জন্য সরকার যে বিরাট দপ্তর পরিচালনা করছে, তারও প্রয়োজন হবে না।'   অপ্রয়োজনীয় বিধিবিধান পর্যালোচনা করছে সরকার বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান টিবিএসকে জানান, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুবিধার্থে সরকার ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি পর্যালোচনা করছে কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়মকানুন সহজ করা যায়।   তিনি বলেন, '১৯৫০ সালের আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইনও আইনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি বৈঠক করেছি। প্রথম ধাপে আমরা খতিয়ে দেখব এই আইনের অধীনে যেসব সনদ নিতে হয়, সেগুলোর কোনগুলোর এখন আর প্রয়োজন নেই। সেই বাধ্যবাধকতাগুলো তুলে দেওয়া হবে।'   বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, 'যদি দেখা যায়, এই আইনেরই কোনো প্রয়োজন নেই, তবে সরকার অবশ্যই বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবে। আর যদি আইনটি রাখা প্রয়োজনীয় মনে হয়, তবে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি সংশোধন ও সহজ করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ময়দা-চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে রুটির দাম, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে সোনার দাম ফের কমলো, অপরিবর্তিত রুপা

সংগৃহীত ছবি

আয়-ব্যয়ের গরমিল ধরবে এআই, কর ফাঁকিবাজদের হবে ডিজিটাল প্রোফাইল

রপ্তানি বহুমুখীকরণে হংকং ও শ্রীলঙ্কায় নতুন বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ

রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকে আরো প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে হংকংয়ের বাজারে ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় আলু ও পেঁয়াজের বাজার ধরতে বাণিজ্যিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।     একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসার খরচ কমানো, কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬’-এর বিভিন্ন সাইড ইভেন্ট ও সেমিনারে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন বাণিজ্য এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।     হংকংয়ে পোশাকের বাইরে নতুন পণ্য হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তাজা ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে।     ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে মোট বাণিজ্য হয়েছে ৪১৫ মিলিয়ন ডলার।     এর মধ্যে বাংলাদেশ হংকং থেকে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হংকংয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।     বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ বিভিন্ন প্রিমিয়াম ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে (বিটুবি) ম্যাচমেকিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।       এ ছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, ই-সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যৌথ লজিস্টিকস সুবিধা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।       শ্রীলঙ্কায় আলু-পেঁয়াজের সম্ভাবনা শ্রীলঙ্কার বাজারেও নতুন সম্ভাবনা খুঁজছে বাংলাদেশ। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাইয়ে শিগগিরই একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।     প্রতিনিধি দলে পটেটো অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তারা শ্রীলঙ্কার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।     পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের চাহিদা, সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। প্রয়োজনে শ্রীলঙ্কায় গুদামসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে শুধু পণ্য রপ্তানি নয়, স্থানীয় বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হতে পারে।       বিনিয়োগে কমাতে হবে ব্যবসার খরচ হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।     তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সরবরাহ, পরিবহন এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমানো জরুরি। একই সঙ্গে কাস্টমস অটোমেশন এবং ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে হবে।       মন্ত্রী জানান, কাস্টমসের অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানো, ঝুঁকিভিত্তিক পণ্য খালাস এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ডিজিটাল করার উদ্যোগ চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসার সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে।     বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বন্দরের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের লজিস্টিকস সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানান তিনি।     বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অবকাঠামো ও লজিস্টিকস সুবিধার পাশাপাশি নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।     তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে নীতির স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে বাংলাদেশ শুধু রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রতিযোগিতায়ও আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিসিসিসিআইর ৬ দফা প্রস্তাব পেশ

ছবি: সংগৃহীত

কাঁচামাল ও শক্তি সংকটে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ছে

সংগৃহীত ছবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অর্থ উত্তোলন অব্যাহত: তৃতীয় দিনে ৩৮১ কোটি

সংগৃহীত ছবি
হরমুজে ইরান-মার্কিন উত্তাপ: অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন জব্দের দাবি আইআরজিসির

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি আধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দের দাবি করেছে ইরান। এর আগে পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।     ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে ‘ডাইভ-এলডি’ নামে পরিচিত ওই আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকলটি আটক করা হয়।     আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করেছে, যানটিতে বিশ্বের আধুনিকতম সাবসারফেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে তারা।     পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।     কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র? অত্যাধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দে ইরানের দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমা জরিপের সময় একদিনেরও বেশি আগে তাদের একটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে সেটিই ইরানের হাতে পড়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি পেন্টাগন।     পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেন, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল। এটি পুরনো মডেলের ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না।       মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে পানির নিচে ও পানির ওপর চলাচলকারী চালকবিহীন বিভিন্ন ব্যবস্থা উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। বিশাল সমুদ্রাঞ্চল পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং শত্রুপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা ব্যবহারের পাশাপাশি এতে নাবিকদের ঝুঁকিও কমে।       ডাইভ-এলডি মূলত কী? প্রতিরক্ষাবিষয়ক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ডাইভ-এলডির প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ২৫ লাখ ডলার।      নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়ে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় ডুব দিতে সক্ষম।     মার্কিন চাপ বৃদ্ধি এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।     গত দুই দিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের দুটি হামলার প্রচেষ্টার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের। ইরানের ওপর চাপ আরো বাড়াতে দেশটির বাকি সব এয়ারলাইনসকে লক্ষ্য করে ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থাকে বিশেষভাবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় (এসডিএন) যুক্ত করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।      ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলো দেশটির ‘অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডে’ সহায়তা করে এবং আইআরজিসি অস্ত্র সংগ্রহ ও পরিবহন এবং সদস্যদের যাতায়াতে এসব বিমান সংস্থা ব্যবহার করে।     পাল্টা অবস্থানে ইরান দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আগ্রাসীদের’ সম্পূর্ণ অনুশোচনায় না আনা পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে ইরান।      সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান সব সময় যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইরান যেভাবে সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ করেছে, ভবিষ্যতেও শক্ত অবস্থানে সেই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।     প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করে।     এরপর গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে। চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনায় বসার কথা ছিল দুই দেশের। সেই সময়সীমা ১৭ আগস্ট শেষ হলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো স্পষ্ট নয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিইআরসি’র নতুন মূল্য নির্ধারণ: সেপ্টেম্বরে লিটার প্রতি বাড়ল ৬ টাকা

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

টানা ২ দফায় কত কমল স্বর্ণের দাম

0 Comments