মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) শিগগিরই সই হতে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন, তার আওতায় কোনও ধরনের শুল্ক ছাড়াই অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলার ওপর ভিত্তি করে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই দেওয়া হবে। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের একজন কূটনীতিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বৃদ্ধি পাবে। এই ৬০ দিন মেয়াদের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। খসড়া চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত মোকাবিলার একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যেকোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ মূলত পরবর্তী সময়ে হতে যাওয়া দ্বিতীয় এবং আরও বিস্তারিত একটি চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও খসড়া চূড়ান্তের দাবি
চুক্তির সর্বশেষ খসড়া বুঝিয়ে দেওয়া মধ্যস্থতাকারী দেশের ওই কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির খসড়া নিয়ে একমত হয়েছে। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেছেন যে চুক্তিটিতে এখনও চূড়ান্ত স্বাক্ষরের প্রয়োজন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খসড়া চুক্তিটি ইরানের উচ্চপর্যায়ে অনুমোদিত হলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত এখনও এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি চলতি সপ্তাহের শেষেই একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আশা করছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তেহরান ‘এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি’।
গত দুই মাসে হোয়াইট হাউজ বেশ কয়েকবার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করলেও প্রতিবারই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। তবে এবার এই খসড়াটি টিকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ওই কূটনীতিক।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর চারটি সি-১৭ বিমান গত বৃহস্পতিবার ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে জেনেভায় সম্ভাব্য চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সফরের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে এই বিমানগুলো মূলত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে গেছে।
নেপথ্যের আলোচনা ও অন্ধকারে নেতানিয়াহু
দুই মধ্যস্থতাকারী দেশের দুজন কূটনীতিক এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারী আলী আল-থাওয়াদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর বুধবার রাতে এই সাময়িক চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। বৈঠক চলাকালীন আল-থাওয়াদি বেশ কয়েকবার ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় বিস্ময় হিসেবে এসেছে। এই বিষয়ে সরাসরি অবগত একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নেতানিয়াহু এই আলোচনার বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছে ফোনও করেছিলেন।
চুক্তির মূল শর্তাবলি
এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে ইরান নিজের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেবে। যার মধ্যে প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে যে অচলাবস্থা রয়েছে সেটির সমাধান করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের তত্ত্বাবধানে ইরানের অভ্যন্তরেই তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে আনা এই সমস্যা সমাধানের একটি অন্যতম বিকল্প হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী যেকোনও পদক্ষেপ কেবল দ্বিতীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার পরই কার্যকর হবে। এই সমঝোতা স্মারকের চেয়েও দ্বিতীয় চুক্তিটির কারিগরি দিকগুলো অনেক বেশি জটিল হওয়ায় এটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অবশ্য কূটনীতিকের দাবি, এই সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক বিষয়ের সব খুঁটিনাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে।
হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, কোনও টোল ছাড়াই অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের মতো জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক সংখ্যায় ফিরে যাওয়া হবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধও প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর ইরানকে ৬০ দিনের জন্য তেল বিক্রির সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধা দেওয়া হবে। এর ফলে তেহরান অত্যন্ত জরুরি ও মূল্যবান রাজস্ব আয়ের সুযোগ পাবে। ইরান যদি প্রাথমিক চুক্তি মেনে চলে এবং পরবর্তী আলোচনাগুলোতে ‘সদ্ব্যবহার’ দেখায়, তবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা আরও বাড়বে।
কূটনীতিক বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি, এটি পুরোপুরি চুক্তির বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত থাকবে।
অবরুদ্ধ তহবিল নিয়ে ধোঁয়াশা
বিদেশের মাটিতে আটকে থাকা ইরানের শত কোটি মার্কিন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিলের বিষয়ে এই খসড়ায় কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছে যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তাদের কিছু অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ছাড়তে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চুক্তি মানার ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে এই অর্থ অবমুক্ত করা হবে।
প্রশাসনের বাইরের একটি মার্কিন সূত্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে যে অবরুদ্ধ তহবিলের বিষয়টি হয়তো কোনও গোপন পার্শ্ব-চুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা হতে পারে। তবে সম্প্রতি এক মার্কিন কর্মকর্তা এই ধরনের সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করেছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিটি যদি শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষ সই করতে রাজি হয়, তবে একে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে অভিহিত করা হবে।
মধ্যস্থতাকারী দেশের ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা পক্ষগুলোর সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি এবং স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করছি।’
সূত্র: অ্যাক্সিওস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারত তাদের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। এখন থেকে রেস্তোরাঁ, হোটেল ও খাদ্য কারখানায় ব্যবহৃত রান্নার তেল সংগ্রহ করে তা থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের জৈব জ্বালানি তৈরি করবে দেশটি। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ এই ব্যবহৃত তেল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ে। এই চাপ সামলাতেই সরকার কৃষি, শিল্প ও শহরের নানা বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই ভারত ছেড়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোতে অন্তত ১ শতাংশ ‘টেকসই বিমান জ্বালানি’ বা এসএএফ (SAF) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি সড়ক পরিবহনেও বায়োডিজেলের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের। ভারতের এসএএফ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন ব্যবহৃত রান্নার তেল উৎপাদিত হয়। তবে এর মাত্র ৫ শতাংশ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। বাকি বিপুল পরিমাণ পোড়া তেল পুনরায় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, যা বেআইনি এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই তেল সংগ্রহের সবচেয়ে বড় বাধা হলো গুছানো কোনো সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকা। উদাহরণস্বরূপ, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে সংগ্রাহকেরা ছোট ছোট পাত্র নিয়ে তিন চাকার যানে (অটোরিকশা বা ভ্যান) করে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করেন। এরপর তা নির্দিষ্ট ডিপোতে জমা করে পরিশোধন ও জ্বালানি তৈরির জন্য পাঠানো হয়। তবে এই উদ্যোগে জালিয়াতির একটি বড় ঝুঁকিও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক সময় নতুন তেলের চেয়ে ব্যবহৃত রান্নার তেলের দাম বেশি থাকে। ফলে বেশি লাভের আশায় ব্যবহৃত তেলের সঙ্গে নতুন তেল মিশিয়ে বিক্রির মতো প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে সংগৃহীত তেলের মান যাচাই ও উৎস নজরদারির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বিশ্বজুড়েই এখন পরিবেশবান্ধব টেকসই বিমান জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। ভারতের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াও ব্যবহৃত রান্নার তেল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নিজেদের তৎপরতা বাড়িয়েছে।
বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির সংঘাতের মধ্যে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরেছেন। সার্বিয়ায় দীর্ঘদিনের নেতা আলেক্সান্দার ভুচিচের পরাজয় ঘটেছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের কাছে। এবার নজর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণে এই চার নির্বাচনকে বিশ্বরাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশ্লেষণটির মূল প্রশ্ন ছিল- বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী ডানপন্থীদের অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে, নাকি গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে? ব্রাজিল ও সার্বিয়ার ফলাফলে ইতোমধ্যে সেই প্রশ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তর পাওয়া গেছে। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভি-ডেম ইনস্টিটিউটের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বে একজন সাধারণ নাগরিকের ভোগ করা গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার মাত্রা ১৯৭৮ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে চার দেশের নির্বাচনকে শুধু সরকার গঠনের প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রাজিলে লুলার প্রত্যাবর্তন, ধাক্কা ট্রাম্পের মিত্রদের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ৮০ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিওর ভোট ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় এই জয় লুলার রাজনৈতিক জীবনে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ফল ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিক ধাক্কা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্রাজিলে ফ্লাভিওর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিত্র ছিলেন। ফ্লাভিওর বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করার অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ফ্লাভিও নির্বাচনে জয়ী হলে বাবাকে ক্ষমা করার এবং সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। লুলার জয়কে ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ভোটের ফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ফ্লাভিও প্রথমে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্বাচন বাতিলের দাবি তোলার কথা বলেছেন; পরে তার দল ফলাফল স্বীকার করেছে। সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের জয়, ১৪ বছরের আধিপত্যের অবসান সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের কাছে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা আলেক্সান্দার ভুচিচ। প্রায় দুই বছর ধরে চলা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর এই ফল দেশটির রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলন শুরু হয়। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা পরে নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রার্থী তালিকা গঠন করেন। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের সমর্থিত প্রার্থীরা প্রায় ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টের ২৫০ আসনের মধ্যে প্রায় ১৪০টি আসন অর্জন করেছেন। ভুচিচের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে প্রায় ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। ভুচিচ নিজেও পরাজয় স্বীকার করেছেন। এই বিজয়কে দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে নাগরিক আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নির্বাচনে জয়ের পর আন্দোলনকারীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর অভাব রয়েছে। দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পরীক্ষা ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালের পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন। গাজায় যুদ্ধ, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতি- সব মিলিয়ে এবারের ভোট বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির। তবে বিরোধীদের মধ্যে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও ফিলিস্তিন প্রশ্ন ও নিরাপত্তানীতি নিয়ে তাদের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়। ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনও একটি দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করলে সরকার গঠনের জন্য জোট করতে হয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির এগিয়ে থাকলেও তাদের পক্ষে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। আরব দলগুলোর সমর্থনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের ফল যাই হোক, ইসরায়েলের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করবে নতুন সরকার গঠনের সমীকরণের ওপর। নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালেও ফিলিস্তিনিদের অধিকার, গাজার ভবিষ্যৎ ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে বিরোধী শিবিরের অবস্থান কতটা বদলাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন তার নীতির প্রতি জনসমর্থন এবং রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সাম্প্রতিক জরিপ ও নির্বাচনী পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষে ভিন্ন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইনপ্রণেতাদের সংঘাত বাড়তে পারে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত, সরকারি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বাজেট বরাদ্দের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবেন। এর ফলে অভিবাসন, শুল্কনীতি ও নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে ট্রাম্পের প্রশাসনকে আরও বেশি জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে কংগ্রেসের একটি কক্ষে জয় পেলেই ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের নীতি থামিয়ে দিতে পারবেন না। প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে, আর গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস ও ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়ালেও রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কোন দিকে? চার নির্বাচনের রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়। ব্রাজিলে লুলার জয় এবং সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিজয় দেখিয়েছে, ক্ষমতাসীন বা কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার নেতাদের পরাজিত করা সম্ভব। তবে ইসরায়েলে সরকার গঠনের সমীকরণ এখনও অনিশ্চিত, আর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল জানা যাবে আগামী ৩ নভেম্বরের পর। এই নির্বাচনের তাৎপর্য শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্ষমতার পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ নয়। ব্রাজিলে পরিবেশনীতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সার্বিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার, ইসরায়েলে নিরাপত্তা ও ফিলিস্তিননীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ- প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফলাফলের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার যে প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তা থামাতে শুধু নির্বাচনে জয় যথেষ্ট নয়। নির্বাচিত সরকারগুলোকে আইনের শাসন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। ব্রাজিল ও সার্বিয়ার ফল পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে; এখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভোট নির্ধারণ করবে এই পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, আল-জাজিরা
ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটগ্রহণে বিলম্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক ভোটার ভোট দিতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, এবার রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ভোট দিতে বের হয়েছেন। আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। ইচ্ছাকৃত বিলম্বের অভিযোগ ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল’ জানিয়েছে, আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটগ্রহণে বিলম্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেকের ভোট দেওয়ার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতির কারণে অনেক আরব ইসরায়েলি নাগরিক শেষ পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। এ পরিস্থিতিতে সংস্থাটি ইসরায়েলের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোতে দ্রুত পর্যবেক্ষক পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। একাধিক শহরে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ জেরুজালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহাত, তেল শেভা, লাকিয়া, সেগেভ সালোম, আবু তুলুল, উম বাতিন, ইকসাল, জালজুলায়া, কাফর কারা, জিসার ই-জারকা, কাফর মান্দা, আর’আরা, তামরা, কাফর কান্না, তিরা ও দাবুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। আরব ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুর উদ্বেগ এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, অনেক আরব ভোট দিতে বের হয়েছেন। তাদের ভোট নির্বাচনের ফলাফলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি ইহুদি ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ভোটগ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ এবং ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সম্ভাব্য বাধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।