সর্বশেষ

সেই উপদেষ্টারা এখন কোথায়?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার সাড়ে তিন মাস পরও তাদের সময়ের নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক উপদেষ্টারা। হামে পাঁচ শতাধিক মায়ের বুক খালি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনা ঘটছে।

 

কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা গণমাধ্যমে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ নিয়ে মুখ খোলায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ আলোচিত ও সরব উপদেষ্টা এখনো অন্তরালে সময় পার করছেন। কেউ বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। কেউ আবার আগের পেশায় ফিরলেও নিয়মিত অফিস করছেন না। জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। সংশ্লিষ্ট্র সূত্রে জানা গেছে, এত দিন পরও অনেক উপদেষ্টার মধ্যে মব আতঙ্ক কাজ করছে। তবে বিতর্কের বাইরে থাকা কয়েকজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন।

 

অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর তাঁদের দুর্নীতি তদন্তের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানও কিশোরগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী আমলে দুর্নীতির তদন্ত দাবি করে বলেছেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার চারটি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছে। যাঁদের বয়স ৩০ হয়নি, তাঁরা উপদেষ্টা হয়ে দেশবিদেশে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন। এ বিষয়ে গত এপ্রিলে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এরপরই সাবেক উপদেষ্টাদের বিদেশযাত্রা নতুন করে আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অধিকাংশ উপদেষ্টাই দেশে আছেন।

 

দায়িত্ব ছাড়ার পর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে ওঠেন। অসুস্থ স্ত্রীর সেবায় মন দেন। একই সঙ্গে ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) রূপকল্প এবং নতুন সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। গত ২৭ মে ঈদের আগের দিন দীর্ঘদিনের সহকর্মী লামিয়া মোরশেদকে সফরসঙ্গী করে ফ্রান্সের প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। পরে নেদারল্যান্ডসেও নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ৩১ মে ড. ইউনূস ও লামিয়া মোরশেদ জার্মানিতে ‘বার্লিন স্টোরি বাঙ্কার’ মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের হিটলার ও তাঁর প্রেমিকা ইভা ব্রাউনের শোবার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

 

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন ঢাকায় অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক কিচেন ক্যাবিনেট ছিল, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বিদায়ের ঠিক তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর মন্ত্রণালয়ে অন্য উপদেষ্টাদের অনাকাক্সিক্ষত হস্তক্ষেপের কারণে তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন গবেষণা ও লেখালিখিতে সময় কাটাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফেরার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার নিজের প্রতিষ্ঠান উবিনীগে ফিরেছেন। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করে তা সংসদে আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন।

 

লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ক্যান্টনমেন্টের বাসায় নিরিবিলি অলস সময় কাটাচ্ছেন। গতকাল তিনি জানান, সারা দিন টিভিতে সংসদ অধিবেশন দেখেছেন। লেখালিখি এখন আর করছেন না। বিশ্রামে আছেন।

 

খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার লেখালিখি করে সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি তিনিও গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূসের কিচেন ক্যাবিনেট বিষয়টি জানান, যেটি ক্যাবিনেট প্রতি মঙ্গলবার বসত। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ দীর্ঘদিন পর গতকাল উত্তরায় তাঁর নিজের কর্মস্থল ব্রতীর কার্যালয়ে যান বলে তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন। গিয়েই সহকর্মীদের সঙ্গে নানা পরিকল্পনা নিয়ে দিনভর বৈঠক করেন। এখন থেকে নিয়মিত অফিস করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর অফিসের কর্মীরা।

 

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১৭ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ফের বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজে যোগ দেন। তবে পরিবেশ রক্ষায় এখনো কোনো নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে দেখা যায়নি তাঁকে। গত পরশু ফোনে জানান, অসুস্থ খালাকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে কাজ করেন এমন কয়েকজন জানান, আগে নিয়মিত দেখা হলেও এখন শুধু হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়।

 

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই অন্তরালে ছিলেন। সম্প্রতি অনেকটা নীরবে স্ত্রী তিশাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া সমালোচনা করেন এবং ফারুকী আর ফিরবেন না বলে মন্তব্য করেন।

 

ফারুকী প্রতিদিন ফেসবুকে প্রচুর লেখালিখি করলেও বিদেশ সফরের বিষয়ে কিছুই না বলায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। অবশেষে গতকাল ফেসবুক পোস্টে গুঞ্জনের জবাব দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয়, এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবি নাই। আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলতেছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকে না। এদের নিয়া কথা বলা তো দূরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন উচ্চারণ করেনি। আর এখন সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইবো আমার? এটাই কাফফারা! যাই হোক, এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বলে দেয় আমি আমার কাজটা ঠিকমত করতে পারছি।’ তবে তিনি কবে দেশে ফিরবেন এবং কেন অস্ট্রেলিয়া গিয়েছেন এ ব্যাপারে কিছু লেখেননি।

 

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গেছেন। নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। ব্যাংকিং খাত সংস্কার নিয়ে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছেন।

 

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বারিধারা পার্ক রোডে থাকছেন। দুইটা বই লেখার কাজে হাত দিয়েছেন। খুব একটা বাইরে যান না। অবসর সময়ে ছবি আঁকাআঁকিতে সময় পার করছেন।

 

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নিজ ব্যবসা আকিজ-বশির গ্রুপে ফিরেছেন। তবে তাঁকে বাইরে, এমনকি মন্ত্রণালয়েও দেখা যায় না। নিজস্ব আকিজ-বশির অ্যাভিয়েশন নিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর পুরোনো কর্মস্থল গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরলেও হামে শিশুমৃত্যু শুরু হওয়ার পর থেকে অনেকটা আত্মগোপনে আছেন। রাজধানীতে নিজের ফ্ল্যাটে অনেকটা বন্দি জীবন যাপন করছেন। এড়িয়ে চলছেন মানুষজন ও গণমাধ্যম। অনেক নিকট আত্মীয়কেও জানাননি ঠিকানা। ফোন দিলে রিসিভ করছেন না। সহকর্মীদেরও নিষেধ করে দিয়েছেন কাউকে ঠিকানা দিতে। শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তাঁর পুরোনো এনজিও ‘অধিকার’-এ ফিরেছেন। তবে জনসমক্ষে কোনো কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। ২৩ মে গুম ভিকটিমদের স্মরণে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ উপলক্ষে অধিকারের পক্ষ থেকে ২৩টি জেলায় সভা-সমাবেশ করলেও তাঁকে দেখা যায়নি।

 

গতকাল গুলশানের ১১৭ নম্বর সড়কে অধিকারের অফিসে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তাপ্রহরী জানান, সকালে বেরিয়েছেন, কখন আসবেন জানা নেই। তবে ভিতরে বিদেশিদের সঙ্গে অন্যদের মিটিং চলছে, প্রবেশ নিষিদ্ধ।

 

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে শিক্ষকতায় ফিরেছেন। প্রথম দিকে মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও এখন নিয়মিত হয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে বর্তমান সরকারের নজরে আসার চেষ্টা করছেন।

 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আবারও শিক্ষকতা শুরু করেছেন। তাঁর নতুন কর্মস্থল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে পাঠদানের পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘সেন্টার ফর এনার্জি অ্যান্ড লজিস্টিকস’ পরিচালনার দায়িত্বও নিয়েছেন।  জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরেছেন। এ ছাড়া শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আববার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা দেশেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসূত্রে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
বিগ-বি সম্প্রসারণে বঙ্গোপসাগর ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

বঙ্গোপসাগর ঘিরে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে চীন, জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ। এমন প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়াতে দীর্ঘদিনের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) উদ্যোগ নতুন কাঠামোয় সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। এরই অংশ হিসেবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে শিল্প, জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা কথা জানিয়েছে জাপান। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি খাতের এক লাখ কোটি ইয়েন (৬৩০ কোটি ডলার) বিনিয়োগের প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও আশা করছে দুই দেশ।   গত মঙ্গলবার টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বিগ-বির নতুন নাম ঘোষণা করা হয়– ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা।   এতে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ২০১৪ সালে শুরু, এবার নতুন রূপ   বিগ-বি উদ্যোগের সূচনা ২০১৪ সালে। ওই বছরের মে মাসে টোকিওতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বৈঠকে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক শিল্প ও যোগাযোগ উন্নয়নের এ পরিকল্পনা সামনে আসে। এর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো।   শুরুতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ঘিরে যোগাযোগ ও শিল্প উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিগ-বি কোনো একক অবকাঠামো প্রকল্প নয়। এটি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বৃহত্তর উদ্যোগ। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প এ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   ২০২৩ সালে জাপান বঙ্গোপসাগর ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে শিল্পভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সামনে আনে। এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ানো।   বিগ-বিকে নতুন কাঠামোয় সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।   মাতারবাড়ী নিয়ে আগ্রহ   বিগ-বির সম্প্রসারণে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কক্সবাজারের মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকাকে কেন্দ্র করে জ্বালানি, শিল্প ও পণ্য পরিবহনের সমন্বিত কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দরটির সক্ষমতা বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের পাশাপাশি আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনেরও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।   প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর শুরুর আগে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানির চাহিদা পূরণে মাতারবাড়ী বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে তা অন্য কাজে ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।   মাতারবাড়ীকে ঘিরে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব জাপানকে দেওয়ার বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।   ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে বাংলাদেশের বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামো ব্যবহারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিগ-বির নতুন কাঠামোয় ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার ঘোষণা যৌথ বিবৃতিতে নেই।   আঞ্চলিক স্বার্থের জটিল সমীকরণ   বঙ্গোপসাগর ঘিরে চীন, জাপান ও ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। অন্যদিকে, জাপান বিগ-বির মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পরিবেশ শক্তিশালী করতে চায়। ভারতের আগ্রহের অন্যতম দিক হলো, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সমুদ্রবন্দর ও আঞ্চলিক বাজারের যোগাযোগ বাড়ানো।   এই তিন দেশের উদ্যোগের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে চীন ও জাপান পৃথক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিকল্পনায় যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে জাপান বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে শিল্পভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সামনে আনে। এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।                 বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ হলো, কোনো একটি দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে নিজেদের স্বার্থ সীমাবদ্ধ না রেখে সবার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা এবং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা সব ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রকল্পের অর্থায়ন, ঋণের শর্ত, স্থানীয় কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা চীনের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নয়। একইভাবে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কও জাপানের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বের বাধা হওয়া উচিত নয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬

বাংলাদেশিদের নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যা বলা হলো

ছবি: সংগৃহীত

নতুন সচিবালয়ের সয়েল টেস্টিংয়ে বাধা, মালামাল নিয়ে গেলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমেছে ১৭ ডিগ্রিতে, বাড়ছে শীতের অনুভূতি

ছবি: সংগৃহীত
প্রাণ বাঁচাতে পানিতে লাফ, বাড়িতে ঢুকে কাওসারকে কুপিয়ে হত্যা; গ্রেপ্তার ৯

বরিশালের উজিরপুরে প্রাণ বাঁচাতে ব্রিজ থেকে পানিতে লাফ দিয়েও রক্ষা পাননি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক কাওসার হাওলাদার (৩৭)। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে পরে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। তবে সেখানেও হামলাকারীরা পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ধারালো কুড়াল ও স্টিলের পাইপসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয়েছে আসামিদের ব্যবহৃত একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলমদী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে একটি সাদা হাইয়েস মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল ব্যক্তি আলমদী এলাকার একতা বাজারসংলগ্ন শাহ আলম সরদারের বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে আসেন। সেখানে কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ ওরফে আমিন হাওলাদারকে পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।   হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কাওসার ও রাশেদ পানিতে লাফ দেন। পরে তারা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ওই বাড়িতে ঢুকে দরজা ভেঙে কাওসারকে চাপাতি ও ধারালো কুড়াল দিয়ে কোপান এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।   পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন কাওসারকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় রাশেদ ওরফে আমিন হাওলাদারও গুরুতর আহত হন।   পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর উজিরপুর মডেল থানার একটি বিশেষ দল জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তের পর শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উজিরপুরের আলমদী গ্রামের সজল মোল্লা (৩৮), শামীম মোল্লা (৩৬) ও তারিকুল ইসলাম (৩০); মুলাদী উপজেলার দড়িচর গ্রামের সোহাগ হোসেন (৩০); গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খাগবাড়িয়া গ্রামের সাগর শেখ (২৬); গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভূষিদিয়া গ্রামের হাসিব শেখ (৩০) ও হাবিব শেখ (১৮); বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মানিকখালী গ্রামের মাহাবুবুর রহমান (৫০) এবং ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের শরিফ হোসাইন (৩০)।   সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সজল মোল্লার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত একটি চাপাতি, কাঠের হাতলযুক্ত একটি ধারালো কুড়াল এবং কালো কসটেপ দিয়ে প্যাঁচানো একটি স্টিলের পাইপ। এ ছাড়া সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত হাইয়েস মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।   নিহত কাওসার হাওলাদার আলমদী গ্রামের মোনাসেফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি যুবদলের কর্মী ছিলেন। একই ঘটনায় আহত রাশেদ আমিনও যুবদলের কর্মী বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।   উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শ্যামলীতে অটোরিকশায় থাকা নারীর ব্যাগ ছিনতাই, আঙুলে আঘাত

ছবি: সংগৃহীত

সাইবার হামলার সতর্কতায় দ্বিতীয় দিনও বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

মানবতার সেবায় পথশিশুদের পাঠদান থেকে বৈশ্বিক অঙ্গনে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মিশনের উদ্যোগ পর্যালোচনার দাবি মানবাধিকার ফোরামের

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ‘যথাযথ উদ্যোগ’ নিয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।   সংগঠনটি বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ মিশনকে সৌদি কর্তৃপক্ষের অবহিত না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা দিয়ে কনস্যুলেটের নিজস্ব ভূমিকা ও দায়িত্বের প্রশ্নের ‘নিষ্পত্তি হয় না’।   বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে আগে অবহিত না করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।   মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দুজনেই সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। একজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, অপরজনের টাঙ্গাইলে।   একজন সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের এবং আরেকজন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি ছিলেন।   ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের গত ১৮ অক্টোবরের এক চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পুরুষটি ২০২৩ সালের ১ অগাস্ট গ্রেপ্তার হন। তাকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা সংশোধনাগারে। আর ওই বছরের ২ অগাস্ট গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নারীকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা মহিলা কারাগারে।   শ্রম কল্যাণ উইং বলছে, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত’ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।   তবে ওই ঘটনার আগে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় নানা অপরাধের অভিযোগে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়েছিল জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই অনুরোধের পর চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের নাম-পরিচয় থাকলেও শাস্তির কোনো তথ্য ছিল না।   সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া এসব তথ্য তুলে ধরে এইচআরএফবি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল- ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকাটি পাওয়ার পর কনস্যুলেট এই দুই নাগরিকের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে কী উদ্যোগ নিয়েছিল?   “অন্য বন্দিদের সাজার তথ্য উল্লেখ থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে ঘর ফাঁকা থাকার কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছিল কি না। সেইসঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ কনসুলেট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তথ‍্য সংগ্রহসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় স্বপ্রণোদিত কোনো উদ্যোগ নিয়েছিল কিনা, না হলে কেন কোন পদক্ষেপ নেয়া হল না?”   তাদের বিরুদ্ধে কী রায় দেওয়া হয়েছিল এবং কী সাজা দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে সংগঠনটি।   একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা সংগ্রহ করার দাবি জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।   বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কূটনৈতিক মিশনগুলোর ‘সক্রিয় ভূমিকা’ রাখার কথা বলছে এইচআরএফবি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে প্রাণ গেল ৩ পর্যটকের, নিখোঁজ আরও ২

ছবি: সংগৃহীত

সাজেকে ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, পর্যটকদের এলাকা ছাড়ার অনুরোধ

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ড: ময়নাতদন্তে মাথা থেকে বের হলো গুলি

0 Comments