অনলাইন বেটিং, জুয়া খেলা এবং ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে চলমান তদন্তের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি দিয়েছে।
দেশটির সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ বর্তমানে সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন লিমিটেড (এসএনজিপিএল)-এর পরিচালক ও প্রধান কোচ। এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন, তিনি পিসিবির ঘরোয়া বিভাগ থেকে একটি ইমেইল পেয়েছেন। এতে রিজওয়ানকে ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ‘প্রেসিডেন্টস কাপ’ প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
হাফিজ জানান, টুর্নামেন্টের পঞ্চম রাউন্ড আগামীকাল শুরু হয়েছে এবং রিজওয়ান এসএনজিপিএল দলের নেতৃত্ব দেবেন। আগস্ট মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের পর রিজওয়ান ও তার সতীর্থ ইমাম-উল-হককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁস এবং অনলাইন বেটিং ও জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম সেল (এনসিসিএ)-এর তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
রিজওয়ান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুবার এনসিসিএ-এর সামনে হাজির হয়েছেন। তবে সরকারি এই সংস্থাটি ঠিক কী ধরনের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের সময় পাকিস্তান দলের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা রিজওয়ান ও ইমামের ফোন জব্দ করেছিলেন। বর্তমানে ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য এনসিসিএ-এর কাছে রয়েছে।
ইমাম-উল-হক লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও, এই তদন্তের বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ার কারণে রিজওয়ান বারবার শিরোনামে এসেছেন। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর লাহোরে এনসিসিএ-এর সঙ্গে রিজওয়ানের সর্বশেষ সেশনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ হতে পারে।
৪৭টি টেস্ট, ১০৩টি ওয়ানডে এবং ১০৬টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রিজওয়ান লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের পর থেকে আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তিতে টুর্নামেন্টকে আরো বড় করার পরিকল্পনা ছিল ফিফার। ২০৩০ বিশ্বকাপে ৪৮ দলের পরিবর্তে ৬৪টি দল নিয়ে আয়োজনের প্রস্তাবও উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনর্নির্বাচিত হলে বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন না বলে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের নিয়ে গঠিত ফিফা ব্যুরোর সদস্যদের এ কথা জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। আগামী বছরের মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার কথা তার। ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দল রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কনমেবল)। বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ইউরোপসহ কয়েকটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল। বিশ্বকাপের স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। সেই চাপ কমাতেই তিনি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলে ধারণা দ্য টাইমসের। এ বিষয়ে ফিফার কাছে জানতে চেয়েছিল দ্য টাইমস। তবে সংস্থাটির কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ফিফা কাউন্সিল ও কাউন্সিল ব্যুরোর অভ্যন্তরীণ আলোচনা আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী গোপনীয়।’ ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। শতবর্ষ উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে দেখা যাবে না এই মহাতারকাকে। পর্তুগালের জার্সিতে অসংখ্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। এর মধ্যে এমন নয়টি রেকর্ড রয়েছে, যেগুলো অদূর ভবিষ্যতে ভাঙা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের মালিক রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে তার গোলসংখ্যা ১৪৬। তালিকায় তার পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি, যিনি ২০ গোল পিছিয়ে। আর সাবেক ইরানি ফুটবলার আলী দাইয়ি রয়েছেন রোনালদোর চেয়ে ৩৮ গোল পেছনে। বর্তমানে সক্রিয় ফুটবলারদের মধ্যে রোনালদোর সবচেয়ে কাছাকাছি বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। তার গোল ৯৪টি। ৩৩ বছর বয়সে এসে রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডোভস্কির গোলসংখ্যা ৯২। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনকেও রোনালদোকে ছাড়িয়ে যেতে আরও ৫০টির বেশি গোল করতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর দখলে। ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে পর্তুগালের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসি খেলেছেন ২০৮ ম্যাচ। রোনালদোর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ লুকা মদরিচও তার চেয়ে ২৮ ম্যাচ পিছিয়ে। সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে কাতারের হাসান আল হায়দোস ১৯৩ ম্যাচ নিয়ে রোনালদোর কাছাকাছি রয়েছেন। তবে শীর্ষস্থান পেতে তাকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ৩০ বছর বয়সের পর সর্বোচ্চ গোল বয়স বাড়ার সঙ্গে রোনালদোর গোল করার ধার কমেনি, বরং ক্যারিয়ারের পরের অংশে আরও বেশি গোল করেছেন তিনি। ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর পর্তুগালের হয়ে তার গোলসংখ্যা ৯৪। অথচ এর আগে করেছিলেন ৫২ গোল। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেসি ৩০ বছর বয়সের পর করেছেন ৬৮ গোল। ফলে রোনালদোর এই কীর্তি অতিক্রম করা সহজ হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরো ক্যারিয়ার মিলিয়েও মাত্র চারজন ফুটবলার ৯৪ বা তার বেশি গোল করেছেন। যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেই ম্যাচের সংখ্যায় শীর্ষে পর্তুগালের হয়ে ৯৬টি ভিন্ন ম্যাচে গোল করেছেন রোনালদো। দীর্ঘ সময় ধরে গোল করার ধারাবাহিকতারই প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে রোনালদো ছাড়াও লিওনেল মেসি ও আলী দাইয়ি এই কীর্তি গড়েছেন। সর্বাধিক ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল পর্তুগালের হয়ে ৪৯টি ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করেছেন রোনালদো। এ ক্ষেত্রে মেসির চেয়ে তিনটি বেশি দলের বিপক্ষে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও রোনালদোর এই রেকর্ডে ভাগ বসানো সহজ হবে না। টানা বিভিন্ন বছরে গোল করার কীর্তি রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হলো, ২৩ বছরের প্রতিটি বছরেই তিনি গোল করেছেন। অর্থাৎ দুই দশকের বেশি সময় ধরে গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন পর্তুগিজ তারকা। এই রেকর্ড ভাঙতে হলে কোনো ফুটবলারকে খুব অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে শুরু করতে হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যেতে হবে। মাঝখানে কোনো বছর গোলশূন্য থাকা চলবে না। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। ইউরোর বিভিন্ন আসরে তার গোলসংখ্যা ১৪। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি করেছেন ৯ গোল। স্পেনের আলভারো মোরাতা ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন সাতটি করে গোল নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন। রোনালদোর রেকর্ড ছাড়াতে তাদের আরও আটটি গোল করতে হবে। ইউরোতে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর। এই প্রতিযোগিতায় তিনি মোট ৩০টি ম্যাচ খেলেছেন। একটি আসরে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালে কোনো দল সর্বোচ্চ সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ফলে রোনালদোর রেকর্ড ভাঙতে হলে কোনো খেলোয়াড়কে একাধিক আসরে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে দলকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এ কারণে রেকর্ডটি অতিক্রম করা বেশ কঠিন। বিশ্বকাপের ছয় আসরেই গোল বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়ার কীর্তি রয়েছে রোনালদো ও মেসির। তবে প্রতিটি আসরেই গোল করার দিক থেকে রোনালদো এগিয়ে। এই রেকর্ড ছুঁতে হলে একজন ফুটবলারকে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে হবে। পাশাপাশি তার দলকে ছয়টি বিশ্বকাপেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং প্রতিটি আসরেই তাকে গোল করতে হবে। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রতিটিতে গোল করার কীর্তি গড়া যে আরও কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে দেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এত দিন টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের দখলে। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ২১৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দীর্ঘ আট বছর ধরে অক্ষত ছিল সেই রেকর্ড। তবে সিলেটের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন হৃদয়। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের সামাল দেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ইনিংসকে আরও সমৃদ্ধ করেন এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত মুশফিকের ২১৯ রানের মাইলফলক ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান। মুশফিকের রেকর্ড ভেঙে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। হৃদয়ের রান এখন ২২৩। এর আগে মুশফিকের ছিল ২১৯। বাংলাদেশের রানও এখন ৩৬২। প্রথম ইনিংসে ৬ রানের লিড পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।